তখনকার সময় গ্রামে কারেন্ট ছিল না, কেরোসিনের জ্বালানি ব্যবহার হতো ঘরে ঘরে, সন্ধ্যা নামলেই সবাই ভাত খেয়ে, ঘুমিয়ে পড়তো আর ফজরের আগে ঘুম থেকে উঠতো।
সত্যিকার অর্থে এটাই হচ্ছে প্রকৃতির নিয়ম।
আল্লাহ তাআলা মানুষের কল্যাণে, ক্লান্তি দূর করে বিশ্রাম নেওয়ার জন্যই রাত সৃষ্টি করেছে।
আর জীবিকা উপার্জনের সুবিধার জন্য সৃষ্টি করেছে দিন।।
রাতের ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক কানে ভেসে আসছে, হালকা হাওয়ায় গাছের পাতা গুলো নড়ছে, রাতের এই মোহনীয় শব্দ দুটো যারা গ্রামে থাকে তারাই শুধুমাত্র উপভোগ করতে পারে।
মিলন বিড়িতে টান দিয়ে ধুয়া উড়িয়ে, বুকের বা পাশের হৃদয়ের, নতুন তৈরি হওয়া হালকা যন্ত্রনা টুকু রাতের অন্ধকারের এই মোহনীয় শব্দের সঙ্গে উপভোগ করছিল।
তখনি পেছনে কারো উপস্থিতি টের, বিড়ি ধরে রাখা হাতটা পেছনে লুকিয়ে ,উল্টো ঘুরে দাঁড়ায় দেখে,কলি দাঁড়িয়ে তার পাশেই বদনা হাতে রেবেকা দাঁড়িয়ে।
তাদেরকে দেখে মিলনের স্বাভাবিক হয়ে যায়, পেছন থেকে বিড়ি ধরা হাতটা সামনে এনে, বিড়িটা দু ঠোঁটের মাঝখানে রেখে জোরে টান দেয়, এক টানেই বিড়ি শেষ। সে ভেবেছিল তার বাবা বাদল মাস্টার হয়তো এসেছে তাই লুকিয়ে ছিল।
গুরুজনদের সামনে বিড়ি টানা বেয়াদবি, আর মিলন বেয়াদবি পছন্দ করেনা।
রেবেকা তাকিয়ে দেখে মিলনের ধোয়া উড়ানোর দৃশ্য।
মিলন ও তার দিকেই তাকিয়েই ধোয়া উড়ায়,বিবির কাছে কিসের লুকোচুরি।দেখছে দেখুন সারা জীবন তো দেখবোই। কলি ঘুমে চোখ ঠিকভাবে খুলতে পারছে না, মেয়েটি সন্ধ্যা হলেই ঘুমিয়ে পড়ে।
মিলন::: এনে কি করছ?
কলিকে জিগ্গেস করে মিলন
কলি::: ভাই সাব_ ভাউ পায়খানায় যাইবো, তাই পুসকুনি তনে পানি নিবার আইলো।
মিলন::: তা তুই কেল্লেগা আইছোস?
কলি::: ভাউ ঢরাই একলা, তাই লগে আইছি পাহাড়া দিতাম।
মিলন::: চোখ বন্ধ কইরা! তুই যা আমি আছি।
কলি চলে গেলে ঘুমাতে, মিলন বিড়ি ফেলে রেবেকার হাত থেকে বদনা নিয়ে বলে।
মিলন::: ভাত খাইছো পেট ভইরা, লাল কাপড়ে তোমায় ভালা মানায়।
রেবেকা::: হ খাইছি, মায়ায় দিছে কাপড়ডা দুপুরে নেওয়ার বেলা।
মিলন মাথা ঝাঁকায় বদনা নিয়া পুকুর ঘাটে নেমে, এক বদনা পানি এনে রেবেকার হাতে দেয়। রেবেকা বা হাতে বদনা ধরতেই, মিলন রেবেকার ডান হাতের কব্জি আঁকড়ে হাটা ধরল বাড়ির, পশ্চিমের একদম কণার দিকে, ওখানেই তাদের বাড়ির পা য় খা না।
গ্রামেরর পা য় খা না র অবস্থা তেমন একটা ভালো না। গ্রামের লোকরা সচরাচর জঙ্গলে,ক্ষেতের কোনায়, ঝোপঝাড়ে আবার অনেকে খোলা মাঠেই প্রাকৃতিক কাজ সারে।
মিলনদের পা য় খা না য় আগে শুকনো কলা পাতার বেড়া ছিল, নিচে ছিল বড় গর্ত ,দুপাশে পা রাখার স্থানে ছিল মাটির তৈরি ইট, সেটা নষ্ট হওয়ার পর বাদল মাস্টার মোটা পলেথিনের কাগজ আর বাঁশ দিয়ে পা য় খা না তৈরি করে।
কিন্তু মিলন যখন কাপড়ের ব্যবসায় নামে, ব্যবসার কারণে শহরে যাওয়ার আসা হয়,কলির তখন বিয়ে ছিল, মিলন মফস্বল শহর থেকে টিন কিনে আনলো, সাথে পায়খানা তৈরির জিনিসপত্র আর মিস্ত্রি ও আনে। তারপর টেনের তৈরি পাকাপোক্ত শক্ত একটা পা য় খা না তৈরি করে। এখন তাদের গ্রামে সবথেকে ভালো পা য় খা না তাদের বাড়িতেই।
বাঁশ ঝাড়ের পাশে আম গাছ গাছেন নিচে এসে মিলন দাঁড়িয়ে লুঙ্গির কোছা থেকে বিড়ির প্যাকেট বের করে একটা বিড়ি ধরায়, যদিও এখন আর একটা প্রয়োজন নেই তবে মুরুব্বীরা বলে, বিয়ের আঠারো মাস না হওয়া পর্যন্ত নতুন জামাই বউয়ের রাতে বাহিরে সাবধানে চলতে, খারাপ জিন-ভূত আসর করতে পারে, তাদের বিয়ের নয় মাস হয়েছে তাই সাবধানতার জন্য আগুন দরকার।
অন্ধকারে মেসের বারুদ ঘষা দিতেই মিলনের চোখের সামনে রেবেকার মুখটা হালকা হয়ে ভাসে।
মিলন টিনের দরজা টেনে খুলে রেবেকাকে ইশারা করে ভেতরে যেতে বলে।
মিলন::: যাও আমি এইনোই আছি, ডরাইয়োনা।
রেবেকা ভেতরে যেতেই মিলন টিনের দরজা বন্ধ করে, বাহির থেকে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে।আর ভাবে
পা য় খা না দিয়ে ভালো উপকার হয়েছে নয়তো তার বিবির তো অসুবিধা হতো।
এক মিনিট পর, রেবেকা ভেতর থেকে শব্দ করে
রেবেকা::: আছুইন।
মিলন:::: হ হ আছি, ডরাইয়োনা।
বলেই মিলন হেসে বিড়িতে জোরে টান দেয়।
তার দুমিনিট পর রেবেকা দরজা ধাক্কা দেয়, মিলন দরজা খুলে দেয়।
মিলন::; কাজ শেষ?
রেবেকা::; আমার তো মু তে ধরছিল, আইজ নতুন সায়া পড়ছি তাই দেরি হইলো।
মিলন রেবেকাকে নিয়ে আবারো পুকুর ঘাটের দিকে হেঁটে যেতে যেতে বলে,
মিলন:::এহন থেইকা প্রত্যেকদিন পড়বা
রেবেকা::: কোমরে কেমন চাইপা থাহে।
মিলন পুনরায় বদনা হাতে নিয়ে পুকুর ঘাটে নামে এক বদনা পানি তুলে রেবেকার পায়ে -হাতে ঢালে, রেবেকা কাপড়ের আঁচল দিয়ে দুহাত মুছতেই, মিলন রেবেকার দিকে ঝুঁকে, তার কোমর দুহাতে চেপে ধরে বলে
মিলন::: এমনে চাইপা থাহে?
রেবেকা::: আহ্ দুক্কু পাই!
মিলন::: পাও ।
তখনি বাড়ির উঠোনে বাদল মাস্টারের কাশির শব্দ শুনতে পায়, মিলন দ্রুত রেবেকা কে ছেড়ে দেয়।
মাস্টার হয়তো প্রকৃতির টানে বাহিরে এসেছে, এখন নিশ্চয়ই পুকুর ঘাটে আসবে, পানি নেওয়ার জন্য, মিলন একটু হতাশ হলো রেবেকার মাথার ঘোমটা টেনে দিয়ে বলল।
মিলন::: যাও ঘরে যাও।
রেবেকা চলে যায়। মাস্টার দেখলো রেবেকাকে তার পরে পুকুর ঘাটে এসে দেখল ছেলেকে, ভুরু কুঁচকে বলল।
বাদল::: রাইবিরাইতে বাইরে কি ঘরে যাও।
মিলন শুনলো বাবার কথা,ঘরে চলে গেলো।
************************************
গত দিনের মতোই মিলন আজকেও সকালে তার খাওয়া প্লেটটাই দিলো রেবেকা কে খেতে। এবং গত দিনের মতো হুকুম করল,খাওয়া শেষ করে তার ঘরে যেতে।
আমেনা বেগম লক্ষ্য করলো সব, কিছু বলতে চাইলো, কিন্তু খালেদা খাতুন ইশারায় না করল। তাই আমেনা বেগম কিছু বলেনা ।
তবে সে অসন্তুষ্ট হল, সাবালিকা হওয়ার আগে এক ঘরে থাকা খুব অলক্ষণে কাজ ,আর সবাই তা মানে,সে নিজেও মেনেছে, তার ছেলের বউ মেনেছে, কই তার সময় তো তার সোয়ামি পরিপক্ক অবস্থায়ও দিনে দুপুরে একলা ঘরে ডাকে নাই। খালেদা খাতুনের বেলাও দেখে নাই, তাহলে নাতি এত বেশরম কেন। যেখানে রেবেকা এখনো অপরিপক্ক।
এসব ভেবে আজকে সে কোন কারণ ছাড়াই বারান্দায় বসে থাকলো।
*********************
রেবেকা ঘরে ঢুকতেই মিলন দু হাতে তার কোমর জড়িয়ে ধরে বিছানায় বসলো। অস্থির ভঙ্গিতে রেবেকার মাথা থেকে ঘোমটা খুলে দিল,
খোঁপাটাও খুলে দিল নিজের হাতে। সময় ব্যয় না করে বিসমিল্লাহ বলে পুরোশালী ঠোঁট দুটো ছুঁয়ে দিল রেবেকার নরম ঠোঁটে ,গালে ,কপালে নাকের ডগায়। রেবেকা ছটফটে উঠল মুখ দিয়ে শব্দ করল
রেবেকা:::: উহহহহহ্
মিলন:::: চুপ থাহো বিবি শব্দ কইরো না।
রেবেকা চুপ হলো,মিলন মন ভরে অনেক চুমু খায় রেবেকার মুখে, সে যে সারারাত এই সময়টার জন্য অপেক্ষায় ছিল ,তবে অবুঝ রেবেকা তা বুঝতে পারে না কিছুই। চুমু থামিয়ে মিলন রেবেকাকে কোলে বসায়। কালকে রাতে আনা খাবারগুলো রেবেকার সামনে রাখে,
মিলন::: এইডি সব তুমি খাইবা বিবি,একলা খাইবা।
দেয়ালের সাথে ঝুলিয়ে রাখা কলা গুলো আঙুল দিয়ে ইশারায় দেখিয়ে বলে।
মিলন::: সকাল বিকাল আর সন্ধ্যায় তিন বেলা তিনটা কলা খাইবা। আর ওই যে দেখো ঢেক্সর (বড় কাঠের ট্রাঙ্ক)উপরে ঝুড়ি ভর্তি কমলাআছে, ও গুলাও তিন বেলা খাইবা পচেনা যেন, তুমি একলা খাইবা এই ঘরে বইয়া।কেউরে দিও না ঠিক আছে,আর বইলোও না গোপনে খাইয়।
রেবেকা কলা কমলা গুলোর দিকে তাকিয়ে থেকে মাথা নাড়ায়।
মিলন:::আর খিদা যখন লাগবো, নিমকি,বিস্কুট, চানাচুর খাইবা। আর হনো প্রত্যেকদিন ঘুম থেকে উইঠাই এই ঘরে আইবা, তা আমি ঘুমায়া থাকলেও আইবা, এই যে মিষ্টির প্যাকেট, সকালে দুইডা মিষ্টি খাইয়া দিন শুরু করবা।মনে থাকবো বিবি।
রেবেকা::: আচ্ছা মনে রাহুল।
মিলন::: তুমি কি হাঁসের ডিম পছন্দ করো না মুরগির।
রেবেকা::: মুরগির কেন।
মিলন ভাবল বাড়িতে যদি তার আম্মাকে বলে, রেবেকা কে প্রতিদিন একটা করে ডিম সিদ্ধ দিতে,তাহলে তার দাদি কেচকেচ করবো, তাছাড়া কেউ শুনলে তাকে কিছু না বললেও,উল্টাপাল্টা নানান কথা শোনাবো রেবেকাকে, তাকে সবাই ভাববে সে বউ পাগল। কিন্তু মিলন পড়াশোনা জানা, ভালো ছাত্র ছিলো, পড়ালেখা চালিয়ে গেলে এতদিন বড় অফিসার হতো, তাছাড়া এখন সে শহরে যাতায়াত করে অনেক কিছুই সে বোঝে, এই উঠন্ত বয়সেই তার বিবির পুষ্টিকর খাবার খাওয়া দরকার, রাতে তো দুধ ভাত খায় নিয়ম করে তা সবাই খায় বাড়ির, কিন্তু প্রতিদিন একটা ডিম খাওয়া উচিত ।কিছুদিন পর পরিপক্ক হয়ে গেলে তো তার সাথে থাকবে, দুইজনের সংসার হবে পাকাপোক্তভাবে, তখন তার বড় বড় আদর সহ্য করতেও শক্তির প্রয়োজন হবে। অনেক কিছু চিন্তা করে মিলন বলে।
মিলন::: তোমার পরিপক্ক হওয়ার জন্য ভালো ভালো খাওনের দরকার আছে, হনো সন্ধ্যার যখন আমি বাড়ি ফিরুম, তুমি প্রতিদিন মনে কইরা উঠানে আমার কাছে আইবা, আমি তোমার লাইগা বাজার থেকে সিদ্ধ ডিম কিনা আনুম, চুপচাপ খাইয়া নিবা,কাউরে দেখাইতে লাগবো না, কেউ যেন না জানে।
মিলনের কথায় রেবেকা বোকার মত মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।
মিলন হাসে, বিছানায় রাখা শপিং ব্যাগ ভর্তি, কিনে আনা কসমেটিকসগুলো ঢেলে দেয় বিছানায়। তারপর রেবেকাকে ইশারা করে দেখিয়ে বলে।
মিলন::: এডি সব তোমার,এই ঘরেই থাকুক, যহন যেঢা প্রয়োজন হইবো এনে আইয়া গায়ে মাখবা।
এবার রেবেকা খুব খুশি হয়ে যায়, মিলনের কোলে ভালোভাবে চোরে বসে, উপর হয়ে বিছানায় হাত বাড়িয়ে সবকিছু ছুঁয়ে দেখে মুখে তার মিষ্টি হাসি।।
হাসিটা দেখে মিলনের কলিজাটা ঠান্ডা হয়ে গেল মুহূর্তেই, গতরাত থেকেই তো এই প্রতিক্রিয়াটা দেখার জন্য ছটফট করছিল।
রেবেকা::: এডি সাজনপাতি সব আমার লাইগা।?
মিলন::: তয় কার লাইগা, তুমি ছাড়া আমার কি আর বিবি আছে???
রেবেকা::: সত্যি সত্যি সত্যিই আমার !!!!
মিলন হাসে বিছানা থেকে লাল টকটকে লিপস্টিক হাতে নিয়ে রেবেকা কে উদ্দেশ্য করে বলে।
মিলন::: বিবি এইডা ঠোঢে মাইখা দেহাও দেখি কেমন লাগে।
রেবেকা ছোট আয়নাটা হাতে তুলে মিলনের কোলে বসেই ঠোঁটে লিপস্টিক মাখে গাড় করে। মিলন অপলক তাকিয়ে দেখে তার মুখভঙ্গি, লিপস্টিক দেওয়া শেষ হতেই রেবেকা এক গাল হেসে তাকায় মিলনের দিকে।
রেবেকা::: কেমন লাগে।
মিলন::: আমার বিবি সবার তে সুন্দর।
রেবেকা হাসে বলে
রেবেকা:::: আন্নে দেহি আমার আব্বা মতো কথা কন, আব্বায়ও কয় আমার রেবু সবার তনে সুন্দর
কথাটি বলে রেবেকার লিপস্টিক দেওয়া ঠোঁটে খিল খিল করে হাসলো, মিলন তার ঠোঁটের দিকে তাকিয়ে আছে,সত্যিই তার বিবি সুন্দরী এখুনি তার বুক কাঁপে ওর চোখ, মুখ, ঠোঁট আর এই মিষ্টি হাসি দেখে, যখন পুরোপুরি যুবতী হবে তখন তার কি দশা হবে।
মিলন:::: বিবি লিবিস্টিক মুছো একটা চুমা দেই ঠোঁটে।
রেবেকা:::: না! মুজতাম না, থাহুক না।
মিলন:::: আমি দোকানে যামু গা,পরে আবার মাইখো বিবি।
রেবেকা:::: আইছা।
শাড়ির আচলের কোনা দিয়ে রেবেকা ঠোঁট মুঝে দিলো, মিলন বিসমিল্লাহ বলে।
থেমে থেমে অসংখ্য চুমু বাসালো বিবির ঠোঁটে। জড়িয়ে ধরল একটু পরপর, রেবেকা আজ অনেকটা সহজ হলো মিলনের সাথে।
*******************
মিলন অগোচরে লুকিয়ে খুব যত্ন করতে শুরু করল তার ছোট্ট বিবির, পছন্দ-অপছন্দ প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিস এমনকি পুষ্টিকর খাবার। সব দিক লক্ষ্য রাখলো। আর মনে মনে অপেক্ষা করলো রেবেকার পরিপক্ক হওয়ার।
***********************
নিজের চালে ফুটা রেখে অন্যের চালে কয়টা
ফুটা সেটা গুনতে যাওয়া হচ্ছে গ্রামের মানুষের কাজ। নিজেদের এতো এতো সমস্যা রেখে অন্যর ঘরে কি ঘটেছে সেসব নিয়েই যেন তাদের বেশি আগ্রহ ।
সকাল সকাল পাশের বাড়ির নসিমন এলো মুক্তা বেগম এর কাছে,কোলে তার ৭ মাসের নাতি ছেলে,এসেই প্রথম কথা হলো
নসিমন::::: কি গো চাচি রেবেকার কি এহনো আবু- দুবাইন( বাচ্চাকাচ্চা) হয় নাই,দেহুন আমার জরিনার পোলা এইডা আমার নাতি , রেবেকা তনে এক বছরের ছুডো আমার মাইয়া জরিনা বিয়াও দিলাম পরে,তয় মা হইলো রেবেকার আগে,চাচি রেবেকার কি কুনো রোগ আছিল নাহি,না জামাইয়ের অক্ষমতা আছে।!?
এতোটুকুই কথা তাতেই যেন গরম সীসা কানে ঢালার মতো কাজ হলো/ মুক্তা বেগম আগে থেকেই বিচলিত ছিল, আশেপাশের মানুষ এতদিন দূর থেকে এসব কথা বলেছে,তবে আজ প্রকাশ্যে বাড়ি বয়ে এসে বলল, এভাবে চললে পুরা গ্রাম কথা শোনাবে। রেবেকা কে অপয়া অলক্ষী বলবে, শরীরে দোষ আছে বলবে। মুক্তা বেগম অস্থির হল, বউ রাবেয়াকে ডেকে বলল
মুক্তা বেগম:::: কি লো বউ রেবেকা ১২ বছরের হইতে আর কয় দিন আছে
রাবেয়া:::: আম্মা ৬ দিন আছে
মুক্তা::: শইলেরডা হইলো কি না জানো নি কিছু?
রাবেয়া:::: কেমনে জানুম ওয় তো হোরবাইত (শশুর বাড়ি) আছে, এইনো থাকলে বুঝতাম জানতাম।
মুক্তা::: তয় জালাল রে কও ওরে আনবার যাইতে, আহুক কয়ডা দিন থাইহা যাক,বিহা দিছি ১২ বছর হইবো এখনো শইলেরডা হয় না কে, এমনে চুপচাপ আর কতো কিছু তো করন লাগবো।
রাবেয়া চুপ করে ভাবে সত্যিই তো বিয়া হইছে এখন (মা সি ক) হওয়া উচিত,বেডা মানুষ এমনেই বসাইয়া খাওয়াইবো কয়দিন,শইলেরা চাওয়া পাওয়া আছে।বেডাগো খুশি করার তো ঐ একটা জায়গাই।