বৈশাখী ঝড়ের আগমনে প্রকৃতি যেন এক অদ্ভুত রূপে সেজে ওঠে। দিনের প্রখর রোদ হঠাৎ করেই ম্লান হয়ে আসে, আকাশে জমতে থাকে কালো মেঘের ঘন স্তর। দূর আকাশে বিদ্যুতের ঝলকানি আর মেঘের গর্জন প্রকৃতিকে করে তোলে ভয়ংকর অথচ মোহময়।
গরমে ক্লান্ত মানুষ যখন একটু স্বস্তির আশায় থাকে, তখনই দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা ঝড়ো হাওয়া গাছের পাতাগুলোকে কাঁপিয়ে তোলে। ধুলোর ঝড় উঠতে থাকে, চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়। তাল, নারকেল আর কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো ঝড়ের তীব্রতায় দুলতে থাকে, যেন প্রকৃতির সঙ্গে এক অদ্ভুত খেলায় মেতে উঠেছে।
হঠাৎ করেই ঝড়ের সঙ্গে নেমে আসে বৃষ্টি। বড় বড় ফোঁটায় শুরু হয়ে মুহূর্তেই তা রূপ নেয় মুষলধারে বর্ষণে। শুকিয়ে যাওয়া মাটি জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে সোঁদা গন্ধ, যা মনকে করে তোলে প্রশান্ত। গরমের দহন থেকে মুক্তি পেয়ে প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
সুন্দরীর মা এগারোটি ছেলে-মেয়ের জননী, তাদের মধ্যে চারজন মেয়ে ও এগারোজন ছেলে।কিন্তু কি লাভ এতো সন্তান জন্ম দিয়ে সেই তো তাকে নিঃসন্তান জীবনযাপন করতে হচ্ছে, মুরুব্বিরা বলে বেশি সন্তান হলে বেশি লাভ কই তার বেলায় বিষয়টা একদম ভিন্ন , বেঁচে থাকার জন্য অসহায়ের মতো মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে হচ্ছে তাকে। সুন্দরীর মায়ের নামটাই সুন্দরী কিন্তু দেখতে কালো তবে মেয়েগুলো দেখতে ভালো ছিল তাই অন্যের বাড়ি বিদায় হয়েছে অনেক সহজেই,তবে ছেলেরা নিজেদের মতো বিয়ে করে যার তার মত জীবন যাপন করছে, কেউ মানুষের জমিতে কাজ করে, কেউ রিক্সা চালায় ,অন্যের দোকানে কাজ করে খায়, তবে তারা এখন আর মায়ের পরিচয় দেয় না,মাকে এখন তাদের প্রয়োজন নেই।
তার বাবার বাড়ি সেনপুর, কিন্তু সেখানেও তার কোনো আশ্রয় হয়নি, কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে বর্তমানে সে সেনপুরের মেম্বরের বাড়িতে আশ্রিতা হিসেবে থাকে, বৃদ্ধা বুড়ি কাজ করতে পারে না
গ্রামের মানুষের দয়ায় জীবন চলে, মাঝে মাঝে ভিক্ষা করার জন্য লাঠি হাতে এদিক-ওদিকে ছুটে।
গ্রামে ভিক্ষা করা মানুষগুলো দিনবার দেখে ভিক্ষা করতে যায়, সুন্দরীর মার স্থান হয়েছে তাদের কাতারেই, শুক্রবার এই গ্রাম তো শনিবার অন্য গ্রাম ,মঙ্গলবার আবার আরাক গ্রাম, এভাবেই চলে তাদের জীবন।
ঠিক তেমনি মঙ্গলবার সুন্দরীর মা বীরপুর ভিক্ষা করতে যায়, বাপের বাড়ি এক গ্রামে থাকায় রেবেকা তার পরিচিত,হবেই বা না কেন মাঝে মধ্যে দাদী মুক্তা এটা ওটা দিয়ে পাঠাতেন তাকে,তাই সুন্দরীরমা রেবেকা কে চেনেন আর যতোদিন বীরপুর গেছেন দেখে এসেছেন তাকে খালেদা খাতুন নরম মনের মহিলা সেও সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করেন অসহায়দের।
__________________________
বিকেলের আকাশে হঠাৎ মেঘের ডাকে মনটা কেমন অচেনা হয়ে ওঠে সুন্দরীরমার
চারপাশে আলো ম্লান হয়ে আসে, যেন দিনটা ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে।
দূরে বিদ্যুতের ঝলকানি, আর হাওয়ার ঝাপটায় গাছের পাতা কেঁপে ওঠে বারবার।
মনে হয়, আর একটু পরেই নামবে বৃষ্টি, ভিক্ষা করতে এসে একি বিপদে পরেছেন তিনি, সঙ্গে সাথীগুলোও গ্রামের এই বাড়ি ও বাড়ি ঢুকেছে ভিক্ষা করতে, সুন্দরীরমা তাদের রেখেই ঝড়ের ভয়ে আশ্রয়ের জন্য উঠল মিলনদের বাড়িতে, কিন্তু একি কান্ড বাড়িতে প্রবেশ করেই তার নাকে বিশ্রী দুর্গন্ধ এসে বারি খায়, সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধা হায় হায় করে ওঠে।
তাকে দেখেই আমেনা বেগম ঘাবড়ে যায়, বৃদ্ধ বুড়িটা যে রেবেকার বাপের বাড়ির, তা আমেনা বেগম জানে, তখনো রেবেকা ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার করছে, আমেনা বেগম বিরক্ত হয়ে সুন্দরীর মাকে বলে
আমেনা::::: আন্নের এইনো কি,বৌউ বাড়িত নাই যানগা
রেবেকা তখনো ঘরের ভেতর থেকে দরোজা ধাক্কাচ্ছে। সুন্দরীরমা ঘাবড়ে গেল প্রথমে তবে, বৃদ্ধ হওয়ায় বিজ্ঞ অনেক মুহূর্তে বুঝে নিলো কিছু একটা সমস্যা আছে। তাছাড়া উনি লক্ষ্য করলেন রেবেকার ঘরে দরজা বাহির থেকে বন্ধ। তাছাড়া মুক্তা বেগম আর রাবেয়া তাকে সব সময় বলে দেয় এদিকটাতে ভিক্ষা করতে আসলে রেবেকার খবরটা নিতে। আজকেও তো মুক্তা বেগম তার কাছে হাতের তৈরি বাঁশের চুরি বানিয়ে পাঠিয়েছে নাতনির জন্য,সাথে খোঁজ খবরটাও নিতে বলেছে, বিনিময়ে তাকে শোল মাছ ভুনা দিয়ে ভাত খাওয়াবে বলেছে। তার ভাবনার মাঝে রেবেকার কন্ঠ আবারও ভেসে আসে।
রেবেকা::::: কেউকি নাই দর খোলো আমার দম বন্ধ হইয়া যাইতাছে,খোলো দর খোলো
আমেনা বেগম বারান্দা থেকে নেমে সুন্দরীরমা সামনে এসে দাঁড়ানোর আগেই, সুন্দরীরমা লাঠি ভর দিয়ে যাবে কার বারান্দায় উঠে পড়ে,
সুন্দরীরমা:::: হায় হায় কিতা কিতা হইতাছে এনো,কিতা হইতাছে ভিত্তরে।
আমেনা:::: খারান খারান কইতাছি দর খুলবাইন না,ওরে পিশাচে ধরছে খুলবাইন না দর
আমেনা বেগমের কথা বুঝলোই না বৃদ্ধা তার কানে শুধু রেবেকার চিৎকার ভাসছে,সে দ্রুত দরজা খুলতেই রেবেকা হুমড়ি খেয়ে তার গায়ের উপর পড়ে যায়, বৃদ্ধা তাকে ভালোভাবে ধরতেও পারেনি, তার আগেই বারান্দায় পড়ে গড় গড় করে বমি করতে শুরু করে। রোজিনা ঘরের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল এই অবস্থা দেখে দৌড়ে আসে, আমিনা বেগম তাদেরকে দেখেও দমলো না, সে ভাঙ্গা কলসিতে গোলানো শিয়ালের মলের শরবত হাতে রেবেকার দিকে এগিয়ে যায়,আরো কেউ আসার আগে এটা রেবেকা কে খাওয়াতে হবে,তবেই তো পিশাচ পালাবে।
কিন্তু বৃদ্ধা তা না জানলেও রোজিনা যানে, নিজেকে আর দমাতে না পেরে রোজিনা উচ্চস্বরে বলে ফেলে
রোজিনা:::::ভাউজ এই শরবত খাইন্নাজে (খাবেন না) আন্নে, এডি হিয়ালের গু দিয়া গোলাইন্না পানি বু আন্নের শইলের তে পিশাচ খেদানের লাইগা ঘুলাইছে।
ব্যাস আমেনা বেগমকে আর ছাড়ে কে?
অত্যাচারের আগুনে দগ্ধ হলে মানুষের হৃদয়ে জমে ওঠে নিঃশব্দ ঝড়,রাগ তখন শুধু অনুভূতি নয়, হয়ে ওঠে প্রতিবাদের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ।
নীরবতার দেয়াল ভেঙে সে খুঁজে নেয় নিজের কণ্ঠস্বর,অন্যায়ের অন্ধকার চিরে জ্বালায় সাহসের দীপশিখা।
রেবেকার সরল নিষ্পাপ মনটাও বিক্ষোপ ডাকলো, মাটি থেকে উঠে দাঁড়ালো বহুকষ্টে, খপ করে আঁকড়ে ধরল আমিনা বেগমের হাত, ভাঙ্গা কলসি টা আমেনা বেগমের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে, শরীরের সব শক্তি প্রয়োগ করে ঠেসে ধরলো আমরা বেগমের মুখে, হিতাহিত জ্ঞান শূন্য আমেনা বেগম পরিস্থিতি বুঝতে পারল না। তার আগেই ঘটে গেল সব, এক প্রকার ধস্তাধস্তি শুরু হলো দুজনের মধ্যে, রেবেকার শরীর দুর্বল তবে হৃদয়টা ক্ষিপ্ত , সেটাই যেন তার সকল শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে, আমেনা বেগম চিৎকার করছে কিন্তু রেবেকা ছাড়ছে না কিছুতেই, তাদের ছাড়াতেও আসছে না কেউ, সুন্দরীরমা ও রোজিনা দাঁড়িয়ে দেখছে সব টা।
রেবেকা:::: বুড়ি তুই আমারে বাচবার দিতি না, আমারে পিশাচ ধরছে হু, হিয়ালের গু খাওয়াইবি,নে বুড়ি খা তুই খা তোর গুয়ের পানি
আমেনা:::: ঐ ঐ ছাড়া ছাড়া আমারে, আমি কেন খাইতাম এডি,তোরে পিশ্শাইচা ধরছে তুই খাবি,ঐ রোজিনা খারই আছোস কেন ধর এই পিশ্শাইচা মা গী রে দেহছ না পিশাচ চেতছে
রোজিনা বিরক্ত আমেনা বেগমের উপর,সে মুখ কালো করে আমেনা বেগমের মতো করেই, বললো
রোজিনা::::: আন্নে এতো সাহস কইরা গুয়ের ধুঁয়া উড়াইছুন,গুয়ের পানি বানাইছুন,এহন আন্নেই সাহস কইরা বাইচা লন আমি পারতাম না আমার ডর লাগে।
বাড়ির পূর্ব দিকের রাস্তা দিয়ে ততক্ষণে খালেদা বাড়িতে প্রবেশ করেছে আর উত্তরের দিক দিয়ে মিলন,মা ছেলে একই সময় উঠানে পা রেখেছে, দুজনেই বিস্ফোরিত চোখে রেবেকার দিকে তাকিয়ে আছে,যে এখন আমেনা বেগমকে বারান্দার মাটিতে ফেলে হাতের ভাঙ্গা কলসের পানি খাওয়াতে ধস্তাধস্তি করছে, আর রাগান্বিত উচ্চস্বরে বলছে:
রেবেকা::::: নডি বুড়ি খবিশ বুড়ি, কিছু কইনা দেইহা মাথাত উইঠা পরছোস,আইজ তোরে ছাড়তাছি না, আইজ তোরে ছাড়তাম না আমি,আমারে খেদাইয়া তোর নাতিরে হাঙ্গা করাইবি,যা করতাম না ঐ বেডার ঘর তয় তোর চুল ছিইড়া হাগ রাইন্ধা খাইবান পরে যাইবাম,এতো দিন সব সহ্য করছি কাউরে কিছু কইনাই এহন আর না, আর না,আর না, খা খা কইলাম খা
কথাটা বলতে বলতে মাটির পাত্রের অর্ধেক পানি আমেনা বেগমকে খাওয়ালো রেবেকা আর বাকিটুকুও ধস্তাধস্তিতে মাটিতে পড়ে গেল, খালেদা খাতুন বিচলিত হয়ে এগিয়ে যেতে লাগলো তাদের দিকে, কিন্তু মিলন মায়ের হাত আঁকড়ে ধরে ওখানেই দাঁড় করিয়ে দিল। সে যানে না বাড়িতে কি ঘটেছে, তবে এটা বুঝতে পারছে তার দাদি কিছু একটা উল্টাপাল্টা ঘটিয়েছে নয়তো তার বিবি এভাবে রেগে যাওয়ার পাত্রী না, খুব গুরুতর কিছু না ঘটলে রেবেকার এই রুপ বাহিরে আসেনা, এর আগে গুলনাহার এর ওপর এভাবেই একবার ক্ষেপে ছিল রেবেকা। তখন রেবেকার ঐ রুপ দেখে মিলন ভয় পেয়েছিল, কারণ তখনকার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন তবে আজকে মিলনের ভালো লাগছে।
কিছু কিছু পরিস্থিতিতে চুপ করে থাকা কোনো সমাধান নয়, বরং তা অন্যায়কে আরও শক্তিশালী করে তোলে। যখন আমরা নিজের অধিকার বা সত্যের পক্ষে কথা বলি না, তখন তা আমাদের ভেতরের আত্মসম্মানকেই আঘাত করে। প্রতিবাদ করা মানে সবসময় ঝগড়া করা নয়, বরং ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো। নীরবতা অনেক সময় ভুলকে সমর্থন করার মতোই কাজ করে। তাই যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সাহস করে নিজের কথা বলা উচিত—কারণ নিজের ক্ষতি ঠেকাতে এবং সত্যকে রক্ষা করতে প্রতিবাদই হতে পারে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।
আমেনাকে গুয়ের পানি খাইয়েই ছাড়ে রেবেকা, আমেনার ততক্ষণে বমি করার উপক্রম, তবুও তার তেজ কমছে না ওয়াক ওয়াক করতে করতেই রেবেকার চৌদ্দগুষ্টি ধরে গালাগালি করলো, তেরে গিয়ে পুনরায় রেবেকার চুলের মুঠি ধরতে চাইলো,
রেবেকা ক্লান্ত হয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বারান্দার মেঝেতেই বসে পড়েছিল, আমেনা বেগমকে তেরে আসতে দেখে রেবেকা আবার ক্ষেপ উঠলো
নিজেকে বাঁচাতে এক ধাক্কা মারলো আমেনা বেগম কে
কান্না করতে করতে অভিযোগ করে বলে
রেবেকা:::: আম্মা আর দাদি কয় যাই হক না কেন স্বামীর বাইত কাউর লগে উচাস্বরে কথা কওন যাইতো না, সবার বাধ্য হইয়া থাকতে হবে, হোড় হোওড়ির সেবা করন লাগবো স্বামীর কথা হুনুন লাগবো, গুরুজনের মুহে তর্ক করুন যাইতো না,
আমি সব মানছি সব হুনছি কিন্তু লাভ কি হইছে, আর না, আর হুনবার পারতাম না। আমি আর থাকতাম না এইনো থাকতাম না।
বলেই রেবেকা উচ্চস্বরে কান্না করতে লাগে, ঘসেটি বেগম ততক্ষণে বাড়িতে ঢুকেছে এবং বিধ্বস্ত রেবেকার কথাগুলো শুনছে, মিলন তার বিবিকে এলোমেলো রুপে কান্না করতে দেখে অস্থির তবে,থাকবেনা কথাটা তাকে স্থির করে রেখেছে একটা জায়গায়। পা দুটো তার নড়ছে না, ঠোঁট নাড়িয়ে কথা বলার শক্তি টুকু পাচ্ছে না।
ঘসেটি বেগম এগিয়ে গিয়ে আঁকড়ে ধরে রেবেকা কে, এত সময়ের ধস্তাধস্তিতে শাড়ির আঁচল জায়গা থেকে সরে গেছে তার , ব্লাউজটাও ছিঁড়ে গেছে, ভাগ্যিস এই সময়টায় বাড়িতে কোন পুরুষ ছিল না। ঘসেটি বেগম জড়িয়ে ধরল রেবেকা কে বলল:
ঘসেটি::::: কাইন্দোনা মিলনবৌ কিতা হইছে খুইল্লা কও
আমেনা বেগম কাঁশতে কাঁশতে রাগান্বিত কন্ঠে বলে::
আমেনা::::: কি হইবো এই খবিশের বাচ্চারে পিশ্শাইচা ধরছে আর কি,হের লাইগা চেইতা যাইয়া আমারে মারতাছে ধইরা
কান্নারত কন্ঠে কথাটি বলেই আমেনা বেগম পুনরায় কাঁশতে শুরু করলো, দূরে মিলনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই পিলে চমকে গেছে তার তাই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, তা দেখে রেবেকা প্রচুর রেগে যায়,রেগে গিয়ে কান্না করতে করতে বলে:
রেবেকা:::::যেই সহালে আমি পায়খানার সামনে পইড়া গেলাম, হেইদিন বিহালে খালি ঘরে একলা পাইয়া আমার চুল ধইরা ইচ্ছা মতো টানছে এই বুড়ি ,আমি কাইন্দা ছাড়বার কইলাম কতো দুক্কু পাইলাম ছাড়লো না,উল্ডা কইলো এইডা পিশাচ তাড়ানের টোটকা, তিনডা দিন একটানা এই টোটকা করন লাগবো,আর করতেও, আমার মাতা শেষ বেদনায় আমি খারইবার পারি না,
আমেনা::::: ও মায়া মায়া গো মায়া ওরে ছিনাল রে ছিনাল মিছ কতা কইছ না
মিলন আশ্চর্য রাগান্বিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দাদির দিকে!সেই বৃষ্টি পরোক্ষ করে আমেনা বেগম আরো বিলাপ পরছে যেন সে কিছু করেনি
ঘসেটি:::::এই খফিসের নাতিনের দ্বারা সব সম্ভব,তয় তুমি এডি তোমার সোয়ামি ধারে কও নাই?
রেবেকা::::: আমারে ডর দেহাইছে,কয় এডি কারোলগে কইলে, আমার হতিন আনবো বাইত,হতিন দিয়া আমারে মাইর খাওয়াইবো, আমারে কয় আমি যেন লাল,হইলদা, কমলা কাপুড় না পিন্দি,ঘরেরতনে না বাইর হই আর আইজ,হিয়ালের গু আ গু ন পুড়রা ধুয়া বানাইয়া ঘরে দিয়া দরজা বন্ধ কইরা দিছে, আমি ধম বন্ধ হইয়া ম র তাম যদি সুন্দরীবু দর না খুলত,আর এহন হিয়ালের গুয়ের পানি খাওয়াইতে চাইছিল এই বুড়ি
মিলন তা শুনে চিৎকার করে উঠল
মিলন::::: কি____য়
আমেনা বেগম এবার গর গর করে বমি করে ভাসিয়ে দিল পুরা বারান্দা, মিলনের ভয়ে কাঁপছে তার শরীর,তাতেও দমছে না তার তেজ চিৎকার করে বলছে
আমেনা:::::মিছা কতা সব মিছা কতা,এই খা ন কি র ছেড়ি তুই এডি বানাইয়া কইতাছোস আমি কিছু করি নাই
রেবেকা রেগে চিৎকার করে কাঁদল বলল
রেবেকা::::: খবরদার আমার আম্মারে গালি দিবি না খারাপ বুড়ি,মিছা কথা কইতাছি তয়
শইলেরডা হয়না দেইহা, আমারে পাগারের (পুকুরের) ঠান্ডা পানিত খাড়া করাইয়া তিতা বিশ্রী রস খাওয়াইছে কেডা?আর হেই রাইতে ঘরে ডাইকা আবু দুবাই হইবো কইয়া দুইডা বড়ি গিলাইলো কেডা? এই বুড়ির লাইগাই আইজ আমার এতো খারাপ অবস্থা হইছে শইলের, আবার আইজ হিয়ারের গু, আমারে খেদানের লাইগাই তো এতো কিছু,ঠিকাছে থাকতাম না আমি এই বাইত আর করতাম না ঐ বেডার ঘর।
মিলন আবারো চেঁচিয়ে উঠলো
মিলন:::::কি কও বিবি!?
মিলনের চিৎকারে কেঁপে উঠল রেবেকা,ভয়ে কাঁপতে লাগলো আমেনা বেগম, বমি করে যতটা না খারাপ হয়েছে শরীর, তার থেকেও দ্বিগুণ খারাপের অভিনয় করতে শুরু করলো। এই পর্যায়ে নাতির হাত থেকে অভিনয় ছাড়া কেউ বাঁচাতে পারবে না তাকে।
মিলন তাকিয়ে আছে রেবেকার দিকে, এতো সময় সাহস দেখালেও এখন রেবেকা ভয়ে আছে খুব,কি করতে কি করে ফেলেছে,কি কি সব বলে ফেলেছে,ভেবেই পা দুটো কাঁপছে তার। রাবেয়া বলে দিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির ভাত খেতে হলে অনেক কিছু সহ্য করতে হয় ,মুখ বুঁজে থাকতে হয়, অনেক ক্ষেত্রে স্বামীর কাছেও মুখের কথা তিতা লাগতে পারে, তাই বুঝে শুনে কথা বলতে হয়। কিন্তু সে আজ দাদি শাশুড়ির সাথে ঝগড়া করেছে হাতাহাতিও করেছে তাকে কি মেনে নেবে এই বাড়ির মানুষ অথবা তার স্বামী, ভাবনাটা মাথায় আসতেই রেবেকার চিৎকার করে কান্না করতে ইচ্ছা করছে তবে শরীরে একটুও শক্তি পাচ্ছে না। তারপরও রেবেকা ভয়ে কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল:
রেবেকা::::: আইজ তো আমি হেরে ধাক্কা দিছি ঐ খাপশা (খারাপ)পানি খাওয়াইছি,এহনতো আমার এই বাড়িত যায়গা হইবো না আর, সুন্দরীবু তুমি বাইর যাও ,আব্বারে গিয়া কও আমারে নিবার আইতে আমার আর এইনো থাহা হইবো না।
মিলন::::: চুপ রেবেকা আর একটা কতাও কইবা না।
মিলন উচ্চসুরে কথাটি বলে মাথা দুই হাতে চেপে বারান্দার মাটিতে বসে পরলো।
সুন্দরীরমা বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল, তার পেছনে ছুটলো রোজিনা।
আমেনা অস্থির হয়ে বারান্দায় শুয়ে পড়েছে, খালেদা খাতুন কি করবে বুঝতে পারছে না,সে কাকে ধরবে কাকে সান্তনা দিবে, ঘসেটি বেগম রাগান্বিত দৃষ্টিতে আমেনা বেগমের দিকে তাকিয়ে,সে ভালোই বুঝতে পারছে তার নাটক।
রেবেকার শরীর আগে থেকেই দুর্বল ছিল , ধুঁয়ার কারনে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল তখন, রাগের মাথায় ধস্তাধস্তিতে করেছে ঠিক তবে , মিলনের রাগ তার মস্তিষ্কে খারাপ প্রভাব ফেলছে ,এতো চাপ তার ছোট্ট শরীর সইতে পারলো না, শরীর ছেড়ে দিয়ে আস্তে করে লুটিয়ে পরল মাটিতে, জ্ঞান হারালো রেবেকা।
ঘসেটি বেগম তা দেখে চেঁচিয়ে উঠলো
ঘসেটি::::: মিলন বৌ !
মিলন মাথা ঘুরিয়ে তাকায় রেবেকাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে উঠে
মিলন::::: বিবি!