ফন্ট সাইজ:
থিম:
অপরিপক্ক

অপরিপক্ক পর্ব ২০

লেখক: যাজিবা জাবিন

তুমুল বর্ষণে গ্রামের মেঠো পথে যাতায়াতের দুর্ভোগ

বর্ষাকাল এলেই গ্রামের প্রকৃতি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায়। চারদিকে সবুজের সমারোহ, খাল-বিল ও পুকুর পানিতে ভরে ওঠে। কিন্তু এই সৌন্দর্যের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের কষ্টের গল্প।

ভোর থেকেই আকাশ কালো মেঘে ঢেকে ছিল। কিছুক্ষণ পর শুরু হলো তুমুল বর্ষণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টি চলতে থাকায় গ্রামের মেঠো পথ কাদায় একাকার হয়ে গেল। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, কোথাও আবার পানি জমে ছোট ছোট খালের মতো হয়ে গেছে। মাসুদ লুঙ্গি হাঁটু পর্যন্ত উঁচু করে ছোট বাঁশের সাঁকো পারি দিয়ে জমিদার বাড়ি যাওয়ার ছোট রাস্তা ধরেছে, দ্রুত হাঁটছে সে, আকাশ ডাকছে গুড় গুড় শব্দ তুলে যে কোনো সময় মেঘ ভেঙে বৃষ্টি নামতে পারে।

**************************

"এক বছর আগে"

বর্ষার শেষ সন্ধ্যা। পশ্চিম আকাশে রক্তিম সূর্য ডুবে যেতেই জমিদার বাড়ির বিশাল প্রাসাদ আলোয় ঝলমল করে উঠল।উঠানে সারি সারি কাঁসার প্রদীপ জ্বলছে। দূর-দূরান্ত থেকে অতিথিরা এসেছিন জলসা দেখতে। কারও গায়ে মসলিন, কারও গায়ে বেনারসি, আবার কেউ পরেছেন জমকালো শেরওয়ানি। সানাইয়ের সুরে ধীরে ধীরে মুখর হয়ে উঠল নাচঘর।

সে রাতে জলসার প্রধান আকর্ষণ—নর্তকী চাঁদনী।

চাঁদনীর পায়ে নূপুর, পরনে গাঢ় নীল ঘাগরা আর রুপালি ওড়না। তার নাচ যেন নদীর ঢেউ, তার চোখের ভাষা যেন অগণিত অজানা গল্প। অতিথিরা মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু কেউ জানে না—এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক "মরিচিকা ভরা জীবন"।

মাসুদ ছোট থেকেই সভাবে মিলনের বিপরিত ছিলো, মেয়েদের প্রতি তার আগ্রহ অন্য ধাঁচের। একবছর আগে আমেনা বেগমের সঙ্গে মাসুদ মুক্তাগাছায় এসেছিল, তখন কৌতুহলবশত এবং স্বভাবগত কারণে মাসুদ সবার অগোচরে লুকিয়ে জমিদার বাড়ির জলসা দেখতে যায়, এবং সেখানে চাঁদনীকে সে প্রথমবার দেখে,তার পরে একটানা তিনদিন তাকে দেখতে জলসায় উপস্থিত হয় মাসুদ।

তখনি এক বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় চাঁদনীর সঙ্গে তার প্রথম সামনাসামনি কথা হয়।সে দি রাতে চাঁদনীর পায়ের নূপুর ছিঁড়ে গিয়েছিল। মাসুদ নীরবে নূপুরটি কুড়িয়ে দিয়ে বলেছিল,

মাসুদ:: যেই নূপুর এত্তো সুনদর সুর উডাইবার পারে , তা মাডিতে প‌ইড়া থাহা মানায় না।

প্রতিউত্তরে চাঁদনি শুধু মৃদু হেসেছিল মাসুদের মুখের দিকে তাকিয়ে।

সেদিনের সেই ছোট্ট কথোপকথনই ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছিল গোপন ঘনিষ্ঠতায়। তখন

প্রতি জলসার রাতে, নাচ শেষ হলে, সবাই যখন ভোজ আর আড্ডায় ব্যস্ত হয়ে পড়ত, তখন চাঁদনী নিঃশব্দে পিছনের বাগানে চলে যেতো। পুরোনো কদমগাছের নিচে মাসুদ অপেক্ষা করত তার জন্য।

মাসুদ:: আজকা তোমার নাচ দেইহা হগলের( সবাই) মেলা ভালা লাগছে।

মাসুদ মৃদু হেসে বলল।চাঁদনী দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

চাঁদনী:: হগল মাইনষে আমার নাচ দেহে, কিন্তু কেউ আমার মনডা দেখে না।

মাসুদ তার দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল,

মাসুদ:: কিন্তু আমি দেহি,ঐ জলসায় নাচতে থাহা মাইয়া চাঁদনীরে না, মানুষ চাঁদনীরে।

চাঁদনী লাজুক হেসে মাথা নিচু করল। রাতের বাতাসে কদমফুলের গন্ধ ভেসে আসছিল।

মাসুদের মিষ্টি কথায় গলে গিয়ে তখন চাঁদনী আর মাসুদের মধ্যে শা রী রি ক ঘনিষ্ঠতা বাড়ে।

তারপর থেকে যতোদিন মাসুদ মুক্তাগাছা ছিল তাদের গোপন মেলামেশা চলেছে গোপনেই।

যা মাসুদকে বাজে ভাবে আসক্ত করে।তাই পড়াশোনা বাদ দিয়ে এখন সে শুধু চাঁদনী কেই ভাবে।

********************* বর্তমান

রাতে জমিদার বাড়ির জলসা আগের চেয়ে আরও জাঁকজমকপূর্ণ হ‌ওয়ার কথা থাকলেও আবহাওয়ার কারণে বেশি রাত পর্যন্ত তা হয়নি, তবে শেষের নাচটা চাঁদনী নাচলো।

চাঁদনী নাচছে, অতিথিরা করতালি দিচ্ছে। কিন্তু নাচের ফাঁকে তার দৃষ্টি চলে গেলো নাচঘরের খোলা জানালার দিকে।

সেখানে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছে মাসুদ।তাকে দেখেই চাঁদনী নাচের খেই হারায়, এতো দিন পরে মাসুদ কে দেখে উত্তেজনায় শরীর শিহরিত করে উঠে, মাসুদ অপলক দৃষ্টিতে তাকেই দেখছে,

তাদের চোখে চোখ পড়ল মাত্র কয়েক মুহূর্তের জন্য। কোনো কথা হলো না। তবু সেই নীরব দৃষ্টিতেই যেন অসংখ্য ভাব বিনিময় আদান প্রদান হয়ে গেল।

সানাই বাজতেই থাকল, করতালি চলতেই থাকল। আর আলো-ঝলমলে জমিদার বাড়ির মাঝখানে, সকলের অগোচরে, দুই মানুষের গোপন সম্পর্ক গভীরায় যেনো হারিয়ে গেলো— মাসুদ চাঁদনী কে বিয়ের কথা বললেও চাঁদনী যানে তার মতো নাচনেওয়ালি আর কোন দিন কারো ব‌উ বা ভালোবাসার মানুষ হতে পারে না, এমন ভালোবাসা ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

_____________________

বেশ কিছু সময় পার হয়ে গিয়েছে, মাসুদ বসে আছে চাঁদনীর ছোট মাটির ঘরের পেছনে,পিঠ তার মাটির ঘরের দেয়ালে ঠেকানো, চোখ বন্ধ করে আরো কিছু সময় অতিবাহিত হ‌ওয়ার অপেক্ষায় আছে। চাঁদনী ঘরে খদ্দের নিয়ে সময় কাটাচ্ছে।

এগুলো নতুন না মাসুদের কাছে, তবে আজ তার মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে,মনে হচ্ছে ঘরে ঢুকে চাঁদনীর চুল ধরে টেনে বের করতে,তবে তা সম্ভব না। জমিদার বাড়ির বিশেষ অতিথি ভেতরে, তাদের সম্মুখে এমন ঘটনা অসম্ভব।তাই অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নেই।

এদিকে রাত ভালোই গভীর হচ্ছে,বুড়ো আমেনা বেগম রাতের খাবার নিয়ে ছোট নাতির অপেক্ষা করেছে বেশ সময় ধরে,তবে তাকে ফিরিয়ে না দেখে, প্রথমে বিরক্ত হলো খুব পরক্ষণেই ভাবল ছেলেটা হয়তো কোন মসজিদে বসে তালিম দিচ্ছে তাই সময়ের খেয়াল নেই।আমেনা বেগম আর অপেক্ষা করতে পারছে না, তাই ক্লান্ত শরীরে ঘুমের দেশে পাড়ি জমান।

************************

বাহিরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে থেমে থেমে আকাশ গর্জন দিয়ে ডাকছে, ঠান্ডা পরিবেশে,রাত হয়েছে অনেক খালেদা খাতুন মিলনের খারাপ গুছিয়ে রেবেকার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো ঘরে নিয়ে রাখতে। রেবেকা শুনলো শাশুড়ির কথা।

রাতের খাবার খেয়ে ঘষেটি বেগম রোকেয়ার সঙ্গে রেবেকার ঘরেই আড্ডায় বসে, কলিও তাদের পেছন পেছন আসলো। রেবেকার সাথে আমেনা বেগম যা করেছে তা স্বশরীরে উপস্থিত থেকে কলি দেখেছে কিন্তু বাঁধা দেয়নি,দিতে পারেনি তাই তার মনটা খারাপ,সে বললেই কি তার দাদি তার কথা শুনতো কখনো।মন মরা হয়ে কলি বলে

কলি:: ভাউজ আন্নে কি আমার উপর রাইগা আছুন ? আমি হেই সব কিছুতেই নিরুপায় আছিলাম, দাদি ঘাউড়া সভাব জনুনি তো।

রেবেকা:: আমি কিছুই মনে নেইনাই কলি আফা, আন্নে এইতা কতা বাদ দেইন।

রেবেকার কথা শুনে কলি খুশি হয় সাথে ঘষেটি বেগম ও ভালো লাগে , রেবেকা খুব সরল মনের একদম তার নাতনি খালেদা খাতুনের মতোই।

ঘষেটি:: মিলন বৌ তুমি মেলা লক্ষ্মী মাইয়া গো,আমাগো মিলন একখান রতন ঘরে তুলেছে।

কলি:: হ আমার ভাউজ খাঁটি সোনা আর আমার ভাইজানেও।

রেবেকা লাজুক হাসে তাদের কথা শুনে, সরল মনে বলে।

রেবেকা:: তোমার ভাইজান মেলা ভালা, আমার লাইগা মেলায় তে মেলা জিনিস আনছে

ঘষেটি বেগম রেবেকা সরল কথা শুনলো চুপচাপ, রেবেকার আচরণ ও সরলতা দেখে বোঝাই যাচ্ছে যে মিলন এখনো মধু খায়নি,যদি মধু আহরণ করত তবে রেবেকা খোলামেলা স্বামীর প্রশংসা করতে লজ্জা পেতো।তাই ঘষেটি বেগম নিজের মনের কথা না লুকিয়ে সরাসরি জিজ্ঞাসা করলো।

ঘষেটি:: তোমার আর মিলনের মধ্যের সম্পর্ক কি সব ঠিকঠাক চলতাছে বৌ, বিয়ার অনেক দিন হ‌ইছে এহন তোমারো কলির মতো মা হ‌ওয়ার সময় হ‌ইছে। তাই হেই কামের লাইগা বেশি সময় নিও না, সোয়ামি কাছে টানলে বাঁধ দিওনা।

রেবেকা বোকার মতো প্রশ্ন করে

রেবেকা:: মানে

কলি:: ভাউজ বড়মা হেডির কতা ক‌ইতাছে

রেবেকা অবুঝের মতো তাকিয়ে থাকে,কলি কথা থামিয়ে রেবেকার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে

কলি::স হ বা সে র কতা,জামাই ব‍উ যা করে তা।

রেবেকা দুই দিকে মাথা নাড়িয়ে না করে ,ঘষটি বেগমের ভাবনা সঠিক হলো,কলি হতাস হলো। মনে মনে ভাবল তার ভাইজান কত ভালো মানুষ ভাইজানের জায়গায় যদি তার স্বামীর মত কেউ থাকতো এতদিনে রেবেকারো তার মতো পেট হ‌ইতো।

ঘষেটি:: ব‌উ এহন তো তোমার শ‌ইলেরডা হ‌ইছেই , সোয়ামির লগে সম্পর্ক সহজ করো, আবু দুবাই আনো সংসারে খুঁটি মজবুত করো,নাইলে তোমার যেই দাদি শাশুড়ি কোনদিন আমার কোন ঘটনা ঘটাইবো কে জানে।

রেবেকার মনে পরে আমেনা বেগম তাকে আবু দুবাই (বাচ্চার) কথা বলে কি খাওয়াই ছিলো। সেসব মনে পরতেই রেবেকা চুপ হয়ে যায় তা দেখে ঘষটি বলে

ঘষেটি:: হে গো মিলন বৌ ,মিলন এহনো আইয়ে কেন? রাইত তো বহুত হ‌ইছে।

রেবেকা:: যাইবার কালে ক‌ইয়া গেছে শহর যাইবো,দোহানের কি কাম আছে হের।

ঘষেটি বেগম মাথা দুলিয়ে কলির দিকে তাকায়, মেয়েটা আগের থেকে গোলগাল চেহারার হয়েছে, স্বাস্থ্য হয়েছে বেশ।তার দিকে তাকিয়ে ঘষেটি বেগম বলে।

ঘষেটি:: এহনো ব‌ইয়া আছোস কেন এই শ‌ইলে,যাইয়া হুইতা পরগা।

কলি:: বু ছাড়া আমার একলা হুততে ডর করে বড়মা (বড় আম্মা) রাইতে একটু পরপর মুতে ধরে,বু‌ইতো লগে যাইতো

ঘষেটি:: হ হ বুঝছি ঐ খবিশ এর কতা আর ক‌ওন লাগতো না, ল‌ও ল‌ও আমি হুততাছি লগে, বু পাগল মাইয়া ঐ শয়তান বেডির লগে হুতা এতো ভালা লাগে কে ? সোয়ামির লগে হুততে মন চায় না।

কলি:: হেয় তো নাই এহন এইনো, থাকলে তো এতক্ষণে হুইতাই পরতাম।

কথাটি বলতে বলতে কলি মনটা খারাপ করে ফেলে, তা বুঝে ঘষেটি বেগম বলে।

ঘষেটি:: দেখ দেখ মিলন বৌ নন্দেরে দেইখা কিছু শেখ , সোয়ামির লাইগা মন খারাপ ক‌ইরা লাইছে, মাইয়া মাইনষের কাছে সোয়ামি যে কি জিনিস তা যার কাছে নাই সে বুঝে, আর যাগো এক্কারেই নাই তাগর তো বাইচা থাকতেই দুনিয়াতে মরন যন্ত্রণার সমান।

আরো বেশ কিছু সময় এটা ওটা নিয়ে তিনজন গল্প করলো, বাহিরে বৃষ্টি থামার নাম নেই,যত সময় যাচ্ছে বৃষ্টি বেড়েই চলেছে। কলির ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেখে ঘষটি বেগম তাকে নিয়ে অন্য কক্ষে ঘুমাতে চলে যায়।

রেবেকারো ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে , কিন্তু সে বসেই আছে মিলন এর অপেক্ষায়, যাওয়ার সময় তাকে বলে গিয়েছে না ঘুমাতে,তবে রেবেকার চোখে ঘুম থাকলেও মনের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করছে, লোকটা সকালে গেছে সারাদিন দেখা হয়নি, আর এখন এতো রাতে হয়েছে আসছে না বাহিরে প্রচুর বৃষ্টি,এতো সময় কলি আর ঘষেটি বেগম ছিলো তাই কিছু অনুভব হয়নি কিন্তু এখন মনটা অস্থির হয়ে উঠেছে তাই জানালা খুলে অন্ধকারে দূর রাস্তার দিকে তাকিয়ে আছে মিলনের ফেরার অপেক্ষায়।

**********************

মিলন চেষ্টা তো করেছে খুব তাড়াতাড়ি কাজ শেষ করে বাড়িতে ফেরার, কিছু বৃষ্টির কারণে শহর থেকে ফিরবে অনেক সময় বিলম্ব হয়েছে, বাজারে দোকানে ফিরতেই "এশারের আজান" পরে যায়।

চারজন কর্মচারীকে নিয়ে দোকানের কাজ গোছাতে গোছাতে অনেকটা সময় পার হয়ে যায় বৃষ্টির কারণে কেউ বাড়ি ফিরতে পারছিল না, যেখানে কর্মচারীরা বৃষ্টির জন্য আটকে আছে ,সেখানে মালিক হয়ে সে কিভাবে আগে বাড়ি ফিরে আসতো, দায়িত্ববোধ তাকে আটকে রাখে,তবে পুরোটা সময় তার মন রেবেকা রেবেকা করেই জপতে থাকে।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর অবশেষে বৃষ্টি একটু কমলে, দোকানের ছেলেগুলো হালকা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যার তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলো, মিলন ও তার ব্যতিক্রম না সেও হাঁটা ধরে তবে আজকে আর কোন প্রকার ভ্যান পাওয়া গেলো না, কাদা- পানিতে মাটির রাস্তার অবস্থা খারাপ, মিলন লুঙ্গি হাঁটু পর্যন্ত উঁচু করে বাঁধলো, এক হাতে তুলে নিলো চামড়ার স্যান্ডেল আর অন্য হাতে বিবির জন্য শহর থেকে নতুন কিনে আনা স্নো-পাউডার, নারিকেল তেল, সাবান, লিপস্টিক, কাজল আর নানান ধরনের চটপটে খাবার এর ব্যাগ ধরে, ব্যাটারির মাধ্যমে চালিত ছোট টর্চ লাইট চালু করে নিলো, তারপর খুব সাবধানে মাথার উপর ঝিরিঝিরি বৃষ্টি আর পায়ের নিচে কাদা মাটি মাড়িয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে হাঁটা ধরল।

তখনকার সময়ে গ্রামে এশার আজান পড়লেই যেনো অনেক রাত, এশারের নামাজের পর মানুষজন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পরে। মিলনদের বাড়ির লোকেরাও তার ব্যতিক্রম না।

প্রতিদিন তো সে সন্ধায় বাড়ি ফিরে তবে আজ এশারের আজান দিয়েছে অনেক সময় হয়ে গেছে, আধা ঘন্টা রাস্তা পায়ে হেঁটে আসতেও ঘন্টাখানেক সময় লাগলো।

রেবেকা তখনো জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলো, মিলনের পথ চেয়ে, তখন দূরে গোলাকৃতির একটা আলো দেখতে পেলো সে,তা দেখেই উত্তেজিত হয়ে দ্রুত গিয়ে ঘরের কাঠের দরজা খুলে বারান্দায় এসে দাঁড়ায়, মিলন তখন বাড়ির উঠানে পা রেখেছে ,ঘরের দরজা খোলা হারিকেনের আলোয় বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা ছায়া মানবটাকে দেখেই তার অশান্ত হৃদয়ে প্রশান্তির হাওয়া বয়। এতটা পথ হেঁটে আসাতেও তার শরীরটা এত ভারী লাগেনি যতটা এখন তার বিবির সান্নিধ্য অগ্রসর হয়ে ভারী লাগছে। ভেজা উঠান থেকে বারান্দার মধ্যকার ১০ কলমের রাস্তা যেন ফুরাতেই চাইছে না, পা দুটোতে কেমন ভার অনুভব হচ্ছে। রেবেকা আর একটু এগিয়ে বারান্দার বাঁশ আঁকড়ে ধরে

রেবেকা::আন্নের এতো দেরি হ‌ইলো যে, আমি কহন থেইকা পথ চাইয়া আছি

অন্ধকারে হাসলো মিলন রেবেকার কন্ঠস্বর শুনেই যেনো গোটা দিনের সকল ক্লান্তি দূর হয়ে গেল এক মুহূর্তেই। মিলন ততক্ষণে বারান্দার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, একটু ঝুঁকে হাতের স্যান্ডেল জোরা বারান্দায় রাখল সে, তারপর অন্য হাতে থাকা ব্যাগটা রেবেকার দিকে বাড়িয়ে ধরে বলল

মিলন:: কেন আমার লাইগা কি আমার বিবি চিন্তা হ‌ইছে ?

রেবেকা ব্যাগ হাতে নিয়ে বললো;

রেবেকা:: হ মেলা চিন্তায় আছিলাম

মিলন গায়ের ভেজা শার্ট খুলতে খুলতে বলে;

মিলন:: কেন এতো চিন্তা বিবি ?

রেবেকা বারান্দায় তারে মেলে রাখা মিলনের লুঙ্গি আর গামছা নিয়ে, মিলনের দিকে এগিয়ে ধরে বলে;

রেবেকা:: কতো রাইত হ‌ইছে তার উপর এতো মেঘ পরতাছে চিন্তা হ‌ইবোনা আমার !

বারান্দায় সামনে বৃষ্টির পানি আটকাতে যে বালতি পাতা ছিলো , মিলন সেই বালতির পানি শরীরে ঢালে, পুকুরে যাওয়ার ইচ্ছা করছে না এমনিতেই বৃষ্টিতে গোসল হয়েছে ভালোই,পানি দিয়ে পায়ের কাদাপানি পরিষ্কার করে গামছা দিয়ে মাথা শরীর মুছতে মুছতে রেবেকাকে বলে;

মিলন:: তা তুমি টের পাইলা কেমনে আমি আ‌ইছি?

রেবেকা:: জানলা দিয়া দেখলাম আন্নে বারিত ঢুকতাছুইন।

মিলন বুঝে রেবেকা তার অপেক্ষায় ছিলো ,তবে এটা তার জন্য নতুন বিষয়, রেবেকা তো তার ফিরতে দেরি হলে ঘুমিয়ে পরে, মিলনের মনে পরে সে রেবেকাকে জেগে থাকতে বলেছিলা, কিন্তু রেবেকার তো তা মনে রাখার কথা না। মিলন লুঙ্গি পরে বারান্দায় উঠে রেবেকা সামনে দাঁড়িয়ে বলে;

মিলন:: তা তুমি জাইগা আছো কেল্লাইগা,হুইতা পারোনাই কেন?

রেবেকা সহজ কথা

রেবেকা:: আন্নে যে ক‌ইয়া গেলেন যতোই রাইত হক যাইগা থাকবার।

কথাটা শুনেই মিলন রেবেকার গা ঘেঁষে দাঁড়ায়,তার বৃষ্টিতে ভেজা ঠান্ডা অঙ্গ রেবেকার অঙ্গে ছোঁয়া লাগতেই হালকা নড়েচড়ে উঠলো রেবেকা একটু পেছাতে চাইলে মিলন তার ঠান্ডা দুহাতের তালুর দ্বারা চেপে ধরল রেবেকার গাল

একটু শক্ত করেই।

রেবেকা:: উহ্ আস্তে ধরুইন না দুক্কু পাই তো !

মিলন:: খালি কি যাইগা থাকবার ক‌ইছি আর কিচ্ছু ক‌ই নাই বিবি ?

রেবেকা কাঁদো কাঁদো গলায়;

রেবেকা:: আর কি ক‌ইছুইন ?

মিলন:: ভুইল্লা গেছো বিবি !

কথাটি বলেই মিলন হাতের চাপ শক্ত করে, রেবেকা তার দুহাত দ্বারা মিলনের হাত খামচে ধরে সরাতে চেষ্টা করে বলে।

রেবেকা:: আহ্ ছাড়ুইন না এতো শক্তে ধরছুইন কেন লাগতাছে তো।

মিলন:: ছাড়তাম না লাগুক দুক্কু, তুমি আগে ক‌ও বিবি আর কি ক‌ইছিলাম

রেবেকা গালের ব্যাথায় এবার নাকমুখ কুঁচকে নিয়েছে, যেন কেঁদেই ফেলবে চোখেও জল জমেছে মিলন হারিকেনের হালকা আলোতে দেখলো তা, তবুও ছাড়ছে না।

মিলন:: সব‌ইতো মনে রাহো বিবি আসল জিনিস বাদে, এইডা তো এক প্রকার প্রতারনা আমার লগে।

রেবেকা:: আ আমার আসলেই মনে পরতাছে না হাচা কতা বিশ্বাস করুইন।

মিলন এবার কিছুটা মনঃক্ষুণ্ণ হলো , বিরক্তি নিয়ে ছেড়ে দিলো রেবেকার গাল,ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো

মিলন:: দুয়ার খিল লাগাইয়া হুইতা পরো বহুত রাইত হ‌ইছে।

মিলন ঘরে চলে গেলো তবে রেবেকা ওভাবে দাঁড়িয়ে থাকলো, তার মনে আছে কি বলেছিলো মিলন। কিন্তু কিছু সময় আগের কলি আর ঘষেটি বেগমের কথায় এখন সে আন্দাজ করতে পারছে মিলন সকালে তাকে কি বুঝিয়েছে। তবে রেবেকা ওসব ভয় পাচ্ছে, গতবার কলির কাছে শুনেই তো গা কাঁপিয়ে জ্বর উঠেছিল। তখন তো সে অপরিপক্ক ছিলঝ তাই বেঁচে গেছে। কিন্তু এখন তো সে পরিপক্ক এখন কোথায় পালাবে,তাই ভয়ে অবুঝ সাজার ভান করছে।

রেবেকার ভাবনার মাঝেই মিলনের ডাক ভেসে আসলো।

মিলন::বাহিরে খাড়াই আছো কেন ঘরে আ‌ইয়ো

⛔রেড এলার্ট

⚠️ সবাই নিজ দায়িত্বে পড়বেন⚠️

রেবেকা ঘরে ঢুকে দেখে মিলন শুয়ে পরেছে বিছানায়, রেবেকা ঘরে ঢুকেছে তা বুঝতে পেরে মিলন বলে।

মিলন::দুয়ার দিয়ে হারিকেন কমাইয়া হুতো আইয়া।

চোখ বন্ধ করে শুয়ে কথা বলছিল মিলন,

রেবেকা তাকিয়ে দেখলো তাকে,দরজা বন্ধ করে বিছানায় কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে খুব ধীরো সুরে বলে।

রেবেকা:: হুইতা পরলাইন যে ভাত খাইতাইন না?

মিলন:: না

রেবেকা:: কেন?

মিলন:: খিদা নাই ।

রেবেকা:: কেন খিদা নাই?

মিলন:: ভাত খাইবার ইচ্ছা করতাছে না।

রেবেকা::তো কি খাইবার ইচ্ছা করে?

মিলন চোখ খুলে রেবেকার আগাগোড়া চোখে মাপে।সোনালী পাড়ের সবুজ কাতান শাড়ি গায়ে তার বিবিকে এই মুহূর্তে দুনিয়ার সবচেয়ে লোভনীয় খাবার মনে হচ্ছে তার কাছে।মিলন সেই ভাবনায় কামুক কণ্ঠে বলে।

মিলন::যা খাইবার চাইবাম খাওয়াইবা বিবি ?

রেবেকার সহজ কথা।

রেবেকা::তা যদি ঘরে থাহে তয়।

বাকি কথা শেষ করতে দিলোনা মিলন,হাত বাড়িয়ে একা থাবায় রেবেকার আঁচল নামিয়ে দেয় বু ক থেকে, রেবেকা কিছু ভাববার সময় পায় না, তার আগেই মিলনের বাহুতে এসে ঠেকে যায় গোটা অঙ্গ। জড়ানো গলায় রেবেকার কানের কাছে ফিসফিস করে মিলন বলে।

মিলন:: তোমারে খাওয়া ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোঊন খাউন চাইতাছি না সোনাবিবি

"বিসমিল্লাহ"

কথাটা বলেই মিলন হাতের স্পর্শে দুর্ঘটনা ঘটাতে শুরু করে,যা রেবেকার কাছে সম্পূর্ণ নতুন।রেবেকা ছটফট করে উঠে , মিলনের থেকে নিজেকে ছাড়াতে মরিয়া হয়ে বলে।

রেবেকা:: আহ্ আ আ আমি কি খাওনের জিনিস নাকি,দেহুইন না ঢেক্সুর উপর ভাত তরকারি আছে হেডি খান।

মিলন রেবেকার গলায় চুম্বন আঁকে শক্ত, রেবেকা ফসফস করে নিঃশ্বাস ছাড়ে নিজের ছাড়াতে চায়, মিলন তাকে বিছানায়র সাথে শরীর দ্বারা আটকে রেখেই বলে।

মিলন:: ছল চাতুরি কান্দে কান্দি যা ইচ্ছা করো বিবি তয় আইজ আমি খাইলে তোমারেই খামু

কথাগুলো বলতে বলতেই রেবেকার ব্লা উ জে র বোতাম খুলে দিলো মিলন, রেবেকার যেন বিদ্যুতের ছটকা লাগলো, গোটা অঙ্গ অদ্ভুত শিহরণ বয়ে যাচ্ছে তার,রেবেকার উ ন্মু ক্ত ব ক্ষ প্রথমবারের মতো মিলনের রুক্ষ হাতের স্পর্শ পায়, লজ্জা আর ভয়ে আপত্তিকর বুলি বলতে থাকে রেবেকা

"" আহ্ কি করতাছুইন ছাড়ুইন,খবিশ বেডা উহ্ এইনো ধরুইন কেন শয়তান ধরছে আন্নেরে,আমার দুক্কু লাগে, ইস্ আন্নের হাত বহুত শক্ত।

মিলন হাত সরায় না, উল্টো রেবেকার মুখ বন্ধ করে দিলো নিজের সিগারেটে পোড়া বাদামি ওষ্ঠাধর দ্বারা। রেবেকার চোখ বন্ধ হয়ে গেলো, ভিন্ন ভিন্ন অনুভুতির সঙ্গে লড়াই করতে মরিয়া তার গোটা অস্তিত্ব।তার নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার পূর্বে মিলন অধর ছাড়ে রেবেকা মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে,

মুখমণ্ডল কিছুটা উজ্জ্বল বা লালচে হয়ে উঠেছে, চেহারায় আকর্ষণের ছাপ ফুটে উঠতে, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন দ্রুত হচ্ছে এবং স্ত নে রক্তপ্রবাহ বেড়ে সামান্য পূর্ণতা বা সংবেদনশীলতা লাগছে।

রেবেকার এইরূপ দেখে মিলনের পেশিগুলো কিছুটা টানটান অনুভূত হচ্ছে এবং শরীরের বিশেষ অ ঙ্গে র ক্ত প্রবাহ বেড়ে উত্থান ঘটেছে।

মিলনের কণ্ঠস্বর আবেগপ্রবণ। একই সঙ্গে হৃদস্পন্দন ও শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হচ্ছে,

শ্বাস-প্রশ্বাসে গতি এত দ্রুত যেন নিশ্বাস নিতেই পারছে না। রেবেকা এখনো স্থির হতে পারছে না।

মিলন মুখ নামালো রেবেকার গলায় ভারী কন্ঠে রয়ে সয়ে বললো

মিলন:: আ আমার সোনা বিবি, আ আমার চান্দের টুকরা বিবি,এ এই রাইতের অপেক্ষায়,আ আমি হাজার রাইত ছটফটাইয়া পার করছি সোনা, তোমার পরিপক্ক হ‌ইবার অপেক্ষা করছি সোনা।আইজ আমার ধৈর্যের বাঁধ ভেইনঙ্গা চুরমার হইয়া গেছে, এখন আমার বাচন ম র ন তোমার হাতে সোনা,আর আমি বাঁচবার চাই বিবি তোমার লগে, তোমারে ভালোবাইসা।আমারে ভালোবাসবার দেও বিবি।

মিলনের স্পর্শ ভাটায় নামলো, চোখ বন্ধ করেই সেখানে পুরুষালী বাদামি ঠোঁট জোড়া দ্বারা নিজের আধিপত্য স্থাপন করতে ব্যস্ত হল, তখনি অনুভব করল তার চুল দুহাতে খামচে ধরেছে টানছে তার‌ই বিবি, এতে যেন আরো উন্মাদনা বাড়লো তার,মিলন অনুভব করছে সময়ের তালে তালে তাল মিলিয়ে তার বিবির ছটফটানি বেড়েই চলেছে। মিলন দ্রুত পদক্ষেপ নিলো বাহিরে ততক্ষণে মুষলধারায় বৃষ্টি পড়ছে বৃষ্টির শব্দে রেবেকার আপত্তিকর কথা চিৎকার কোনো কিছুই ভালোভাবে সে শুনতে পারছে না। মূলত শুনতেই চাইছে না এতদূর এগিয়ে এখন পেছানোর ইচ্ছা নাই মিলনের। সে ওই অবস্থানে থেকেই টেনেটুনে খুলে দিল শাড়ি, অনুভব করলেও তার বিবির গোটা অঙ্গ থরথর করে কাঁপছে, কোমল দুই হাত দ্বারা ধাক্কা মেরে তাকে সরানোর চেষ্টাও, ঘটনার আকস্মিকতায় মিলনকে সরাতে না পেরে দু'চারটা থাপ্পড় দিয়েছে তার গালে,খামচি দিচ্ছে নাকে মুখে, তবে মিলন আজ বেশ উগ্র , যাই হয়ে যাক না কেন আজ তার বিবিকে তার চাই।

রেবেকার ছটফটানি আর মিলনের ভালোবাসা প্রকাশের লড়াই যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে,তখন মিলন অনুভব করে ভেজা কিছুর। অনুভব করে রেবেকার আর হাত পা মুখ চালাচ্ছে না, বিষয়টা কি বোঝার আগেই রেবেকার শরীরের অস্বাভাবিক কাঁপুনি লক্ষ্য করে, সাথে শব্দ পায় কান্নার।

দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না করছে মেয়েটা,কি ঘটেছে বুঝার জন্য মিলন হাত বাড়িয়ে এবার হারিকেনের আলোটা পুরোপুরি বারিয়ে দিলো, তাতেই তার চোখে দৃশ্যমান হলো তার বিবির নারী সৌন্দর্যের আকর্ষণীয় শা রী রি ক গঠন।

এত সময় অন্ধকারে যা এতোটা স্পষ্টভাবে সে দেখতে পারেনি, মিলন পুনরায় কামুক হয়ে দিক দিশা ভুলে বিবিকে কাছে টানে, দুহাত বাড়িয়ে দু বাহু আঁকড়ে ধরে কোলে বসাতে নিলেই দেখতে পায় রেবেকার কোমরের অংশের বিছানাটা ভেজা, সঙ্গে তার পরনের কাপড় ও। মুহুর্তেই বিদ্যুতের একটা ঝটকা খেলে মিলন, তার হাত থেকে অদ্ভুতভাবে ছুটে গেলো রেবেকার বাহু, রেবেকা চিত হয়ে‌ পরে বিছানায়,শব্দ তুলে কান্না করে। মিলন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে অপরিপক্ক পর্ব ২০ শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন