নিষিদ্ধ অনুভূতি
লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা
পর্ব সংখ্যা: ৪
সকাল, ৮টা বেজে ২৫ মিনিট।
জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে রাফা। রাতের সেই মেসেজটার কথা এখনো তার মাথা থেকে যাচ্ছে না।
'আদিব, আমি ফিরে এসেছি। এবার তোমার জীবনে সবকিছু বদলে যাবে।'
কে এই মানুষটা? আদিবের জীবনে এমন কী ঘটেছিল, যার জন্য সে এতটা ভয় পেয়ে গেল?
রাফা ফোন হাতে নিয়ে আদিবের নম্বর বের করল। কয়েকবার কল করার কথা ভেবেও শেষ পর্যন্ত করল না।
নিজেকেই বলল,
— ধুর! আমি কেন ওর ব্যাপারে এত ভাবছি? আমার কী দরকার!
ঠিক তখনই তার মা ঘরে প্রবেশ করলেন।
— কী রে মা, একা একা কী ভাবছিস?
রাফা ফোনটা পাশে রেখে বলল,
— কিছু না আম্মু।
— আজ বিকেলে তোর বাবার এক বন্ধুর মেয়ে আসবে। মেয়েটার সঙ্গে একটু সময় কাটাস।
রাফা হাসল।
— ঠিক আছে আম্মু।
দুপুর ১২টা।
আদিব নিজের ঘরে বসে আছে। তার সামনে বসে আছেন তার মা।
মা বললেন,
— আদিব, তোর সঙ্গে একটা কথা ছিল।
— বলো মা।
— তানিয়া কি আবার যোগাযোগ করেছে?
আদিব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— হ্যাঁ।
— এবার কী চায় সে?
আদিব বিরক্ত হয়ে বলল,
— মা, প্লিজ! এই বিষয়টা নিয়ে আর কথা বলতে চাই না।
মা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— তুই যতই এড়িয়ে চলিস, অতীত তো আর এভাবে মুছে যাবে না।
আদিব জানালার দিকে তাকিয়ে রইল।
তার মনে পড়ে গেল কয়েক বছর আগের কিছু ঘটনা। সেই সময়ের কিছু ভুল সিদ্ধান্ত আজও তাকে কষ্ট দেয়।
বিকেল ৪টা।
রাফাদের বাড়িতে নতুন অতিথি এসেছে। মেয়েটির নাম নুসাইবা। রাফার সঙ্গে অল্প সময়েই তার বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল।
দুজন বারান্দায় বসে গল্প করছিল।
নুসাইবা হঠাৎ বলল,
— আচ্ছা, তোমার কি কোনো বিশেষ বন্ধু আছে?
রাফা অবাক হয়ে বলল,
— হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?
— এমনি। তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে, কারও কথা ভাবছ।
রাফা হেসে বলল,
— তোমার মাথায় শুধু এসবই ঘোরে?
নুসাইবা মুচকি হেসে বলল,
— আচ্ছা, আর বললাম না!
ঠিক তখনই রাফার ফোনে একটি মেসেজ এল।
আদিব লিখেছে,
'আজ বিকেলে একটু দেখা করতে পারবেন? জরুরি কথা আছে।'
রাফা মেসেজ দেখে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
নুসাইবা জিজ্ঞেস করল,
— কী হয়েছে?
— কিছু না।
— কার মেসেজ?
— একজন বিরক্তিকর মানুষের।
নুসাইবা হেসে ফেলল।
সন্ধ্যা ৬টা।
রাফা বাড়ির সামনের বাগানে দাঁড়িয়ে ছিল। কিছুক্ষণ পর আদিব সেখানে এসে উপস্থিত হলো।
আদিব বলল,
— আপনি এসেছেন?
রাফা ঠান্ডা গলায় বলল,
— আপনার জরুরি কথা কী?
আদিব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— কাল রাতে আপনি কি কোনো অচেনা নম্বর থেকে মেসেজ পেয়েছেন?
রাফা অবাক হয়ে তাকাল।
— আপনি জানলেন কীভাবে?
— কারণ আমিও একটা মেসেজ পেয়েছি।
— কে পাঠিয়েছে?
আদিব দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— তানিয়া।
রাফা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে জিজ্ঞেস করল,
— তানিয়া কে?
আদিব উত্তর দেওয়ার আগে একটু সময় নিল।
— আমার অতীতের একজন পরিচিত মানুষ।
রাফা বলল,
— শুধু পরিচিত?
আদিব তার দিকে তাকিয়ে বলল,
— সব সম্পর্কের নাম দেওয়া যায় না, রাফা।
রাফা এবার একটু গম্ভীর হয়ে গেল।
— তাহলে আমাকে কেন এসবের মধ্যে জড়াচ্ছেন?
আদিব শান্ত গলায় বলল,
— আমি আপনাকে কোনো ঝামেলায় জড়াতে চাই না। শুধু চাই, কেউ যেন আপনাকে আমার সম্পর্কে ভুল কিছু না বোঝায়।
রাফা কিছু না বলে চলে যেতে লাগল।
আদিব পেছন থেকে ডাকল,
— রাফা!
রাফা থেমে গেল।
— জি?
— আপনি কি আমাকে একটুও বিশ্বাস করেন না?
রাফা পেছনে ফিরে বলল,
— বিশ্বাস করার মতো কারণ তো এখনো দেননি।
এই কথা শুনে আদিব চুপ হয়ে গেল।
রাত ৯টা।
তানিয়া নিজের ঘরে বসে আয়নার সামনে চুল ঠিক করছিল। তার ফোনে একটি কল এল।
ওপাশ থেকে একজন বলল,
— তুমি কি সত্যিই আদিবের জীবনে ফিরে যেতে চাও?
তানিয়া মুচকি হেসে বলল,
— শুধু ফিরে যেতে চাই না। আমি চাই, আদিবের জীবনে নতুন করে যে মেয়েটি এসেছে, সে যেন দূরে সরে যায়।
— মেয়েটির নাম কী?
— রাফা।
ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর কণ্ঠটি বলল,
— তাহলে সাবধানে এগোতে হবে।
তানিয়া হাসল।
— চিন্তা করো না। এবার আমি কোনো ভুল করব না।
অন্যদিকে রাফা নিজের ঘরে বসে ডায়েরি লিখছিল।
হঠাৎ ফোনে একটি ছবি এল।
ছবিতে আদিবের সঙ্গে তানিয়া দাঁড়িয়ে আছে। দুজনের মুখেই হাসি।
ছবির নিচে লেখা—
'যাকে নিয়ে এত ভাবছেন, তার জীবনে আপনার আসার অনেক আগে থেকেই অন্য কেউ ছিল।'
রাফার বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।
সে ছবিটার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল,
'আদিব, আপনি আসলে কে? আর আমার কাছেই বা এত কিছু লুকাচ্ছেন কেন?'
ঠিক তখনই আদিবের কল এল।
রাফা কিছুক্ষণ ফোনের দিকে তাকিয়ে থেকে কল ধরল।
আদিব উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
— রাফা, আপনি কি ছবিটা দেখেছেন?
রাফা শান্ত গলায় উত্তর দিল,
— হ্যাঁ, দেখেছি।
— আপনি যা ভাবছেন, ব্যাপারটা তা নয়।
— আমি কিছুই ভাবছি না, আদিব সাহেব।
আদিব বলল,
— অন্তত একবার আমার কথা শুনুন।
রাফা উত্তর দিল,
— সব কথা শোনার পরও যদি সত্যিটা বদলে না যায়, তাহলে কী হবে?
কথাটা বলেই রাফা ফোন কেটে দিল।
আদিব ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল,
— এবার মনে হচ্ছে, সব সত্যি বলার সময় এসে গেছে।
কিন্তু সে জানত না, পরদিন এমন একজন মানুষ তার সামনে আসবে, যার পরিচয় শুনে রাফা নিজেই অবাক হয়ে যাবে।
এটি একটি কাল্পনিক উপন্যাস। এটি কেউ কপি করবেন না। আশা করি আপনাদের কাছে ভালো লাগবে।
চলবে...