ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমার নামেই রাত জাগে

পর্ব 1

লেখক: Kabita Rahman Murtaja

তোমার নামেই রাত জাগে  

গ্যাংস্টার  ফিকশন  

writer : (Kabita Rahman Murtaja ) 

কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ (🚫🚫🚫)

part :1 

“কে সেই কিং মাফিয়া?”

স্যার :সে মেক্সিকো, তিজুয়ানা শহরের কিং মাফিয়া বস  যার নাম শুনলে শুধু মেক্সিকো country  নয় পুরো পৃথিবী কাঁপতে থাকে। 

“নাম কী তার?”

 মাফিয়া বস “জারভেক্স  নওরেইন!”

*****************★

“কিছু পুরুষের আগমনে বসন্ত নামে, আর কিছু পুরুষের আগমনে শহরের সমস্ত জানালা বন্ধ হয়ে যায়। পৃথিবীতে এমনও একজন পুরুষ আছে, যার নাম উচ্চারণ করার আগে মানুষ নিজের চারপাশে একবার তাকিয়ে নেয়। অথচ সেই মানুষটিই একদিন এমন এক নারীর নামের কাছে পরাজিত হবে, যে নারী আজও জানে না—তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর রাতটি দরজায় কড়া নাড়তে চলেছে।”___

_______________________

মেক্সিকো তিজুয়ানা শহর, রাত ১১টা ৪৭ মিনিট

রাতের তিজুয়ানা শহরটা দেখতে যতটা সুন্দর, তার অন্ধকার ঠিক ততটাই রহস্যময়। শহরের বুক চিরে ছুটে চলেছে দামি গাড়ির সারি, দূরের কোনো নাইটক্লাব থেকে ভেসে আসছে অস্পষ্ট সংগীতের সুর, আর রাস্তার দুপাশের রঙিন আলোগুলো রাতের আকাশে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিচিত্র সব ছায়া। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, শহরটা বুঝি কখনো ঘুমায় না। কিন্তু এই শহরের কিছু রাস্তা আছে, যেখানে মধ্যরাতের পর বাতাসও যেন পা ফেলে চলে। কিছু দরজা আছে, যেগুলোর ওপাশে কী ঘটে, তা জানার সাহস কেউ দেখায় না। আর কিছু নাম আছে, যেগুলো মানুষের মুখে উচ্চারিত হওয়ার আগেই ঘরের ভেতর নেমে আসে অস্বাভাবিক নীরবতা।

সেই নামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ংকর নামটি—জারভেক্স নওরেইন।

তিজুয়ানার কিং মাফিয়া বস।

যে নাম শুনলে শহরের অপরাধজগতের বহু প্রভাবশালী মানুষও নিজেদের হিসাব নতুন করে মেলায়। যার ক্ষমতার সীমা কোথায়, তা নিয়ে হাজারো গল্প আছে; অথচ সত্যিটা জানে হাতে গোনা কয়েকজন। কেউ তাকে বলে নিষ্ঠুরতার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি, 

কেউ বলে কালো সাম্রাজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি। আবার কেউ কেউ মনে করে, জারভেক্স নওরেইন মানুষ নয়, যেন রাতের বুক থেকে উঠে আসা এমন এক অভিশাপ, যার সঙ্গে শত্রুতা করার অর্থ নিজের ভাগ্যকে অন্ধকারের হাতে তুলে দেওয়া।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই মানুষটির গল্পের সবচেয়ে বিপজ্জনক অধ্যায়টি এখনো শুরুই হয়নি।

কারণ আজকের রাতেই তার জীবনে প্রবেশ করতে চলেছে এমন এক নাম—

প্রিন্সেস ইমরিজা খান।

আর সেই নাম একদিন তার সমস্ত অহংকার, সমস্ত নিয়ম, সমস্ত হিসাবকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে।

কিন্তু তার আগে জানতে হবে সেই মানুষটিকে, যার একটিমাত্র সিদ্ধান্তে তিজুয়ানার রাতের চেহারা বদলে যেতে পারে।

_____________________

 নোয়ার ম্যানর হাউস।

শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে, উঁচু দেয়াল আর বিশাল কালো লোহার ফটকে ঘেরা এক রাজকীয় প্রাসাদ। দূর থেকে বাড়িটিকে দেখলে মনে হয়, আধুনিক কোনো রাজ্যের রাজা বুঝি এখানে বাস করেন। কালো পাথরের দেয়াল, ধূসর মার্বেলের সিঁড়ি, বিশাল কাচের জানালা, ছাদের কারুকাজ আর বাগানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন গাছগুলো পুরো বাড়িটিকে দিয়েছে এক অদ্ভুত গম্ভীর সৌন্দর্য। প্রবেশপথের দুপাশে জ্বলছে উষ্ণ সোনালি আলো। সেই আলোয় প্রাসাদটির সৌন্দর্য ফুটে উঠলেও তার ভেতরে জমে থাকা রহস্যের পর্দা একটুও সরে না।

প্রাসাদের মূল ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের চোখে সতর্কতা। প্রত্যেকের মুখ গম্ভীর, প্রত্যেকের চলাফেরায় নিয়মের ছাপ। এখানে কেউ নিজের ইচ্ছেমতো প্রবেশ করতে পারে না। আর যার অনুমতি ছাড়া এই বাড়ির একটি দরজাও খোলে না, সে এখন অবস্থান করছে প্রাসাদের দ্বিতীয় তলার বিশাল অফিসকক্ষে।

জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একজন পুরুষ।

না, শুধু পুরুষ বললে যেন তার উপস্থিতির সম্পূর্ণ পরিচয় দেওয়া হয় না। তাকে দেখলে প্রথমেই চোখ আটকে যায় তার উচ্চতায়, তারপর মুখের গড়নে, তারপর সেই স্থির দৃষ্টিতে—যে দৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে অনেকে নিজের বলা কথাটিও ভুলে যায়।

তার নাম জারভেক্স নওরেইন।

বয়স সাতাশ।

উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট চার ইঞ্চি।

ধবধবে ফর্সা ত্বকে জানালার পাশের মৃদু আলো পড়ে তার মুখটিকে দিয়েছে এক ধরনের তীক্ষ্ণ, রাজকীয় আভা। তার গায়ের রং শুধু ফর্সা নয়, বরং পরিষ্কার আলোয় তার মুখের গড়ন এত স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে প্রথম দেখায় চোখ সরিয়ে নেওয়া কঠিন। প্রশস্ত কপাল, সুচারুভাবে গড়া নাক, সুস্পষ্ট চোয়াল, ঠোঁটের ওপর সর্বদা লেগে থাকা গম্ভীরতার সূক্ষ্ম রেখা—সব মিলিয়ে তার মুখে এমন এক ব্যক্তিত্ব, যেখানে সৌন্দর্য আর কঠোরতা পাশাপাশি অবস্থান করে।

তার সৌন্দর্যে কোমলতার চেয়ে আত্মবিশ্বাসের ছাপ বেশি। সে এমনভাবে তাকায়, যেন পৃথিবীর প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর তার জানা; আবার এমনভাবেও নীরব থাকে, যেন পৃথিবীর কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় তার নেই।

তার চুল ঘন কালো, সামনের দিকে সামান্য এলোমেলো করে সাজানো। কপালের ওপর নেমে আসা দু-একটি চুল তার নিখুঁত সাজের মধ্যে অদ্ভুত এক স্বাভাবিকতা এনে দিয়েছে। তার চোখ দুটো গাঢ় ধূসরাভ বাদামি—আলোর পরিবর্তনে কখনো গাঢ়, কখনো হালকা দেখায়। চোখের দৃষ্টিতে কোনো অস্থিরতা নেই। বরং এমন এক স্থিরতা আছে, যা দেখে মনে হয়, সে কথা বলার আগেই সামনের মানুষটির প্রতিটি অভিব্যক্তি লক্ষ করে ফেলেছে।

তার চোখে হাসি খুব কম আসে। ঠোঁটে হাসি ফুটলেও সেই হাসির অর্থ বোঝা সহজ নয়। সেটি আনন্দের, ব্যঙ্গের, নাকি নিছক কোনো গোপন চিন্তার—তা অনুমান করার চেষ্টা করাই যেন বৃথা।

আর তার কণ্ঠস্বর?

গভীর, ভারী, অথচ অস্বাভাবিক রকমের সংযত।

সে কখনো চিৎকার করে নিজের ক্ষমতা বোঝাতে চায় না। তার কণ্ঠের স্বাভাবিক দৃঢ়তাই যথেষ্ট। একটি ছোট বাক্য, সামান্য বিরতি, তারপর কয়েকটি শব্দ—কখনো কখনো এতটুকুই ঘরের পরিবেশ বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হয়ে ওঠে।

জারভেক্সের পোশাকেও তার ব্যক্তিত্বের স্পষ্ট ছাপ। আজ তার পরনে নিখুঁত কাটের কালো স্যুট, ভেতরে কালো শার্টের ওপরের বোতামটি খোলা, গলায় কোনো টাই নেই। কবজিতে দামি ঘড়ি, হাতে কালো চামড়ার ব্রেসলেট। পোশাকের কোথাও বাড়তি চাকচিক্য নেই, অথচ প্রতিটি খুঁটিনাটিতে অভিজাত রুচির পরিচয়। তার কাছে আড়ম্বর করে নিজের পরিচয় দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। সে যেখানে দাঁড়ায়, তার উপস্থিতিই যেন আলাদা করে পরিচয় তৈরি করে।

তার হাঁটার ধরনটিও অন্যদের থেকে আলাদা।

জারভেক্স তাড়াহুড়ো করে হাঁটে না। তার প্রতিটি পদক্ষেপ মেপে রাখা, দৃঢ় এবং স্বাভাবিক। লম্বা পায়ে করিডোর ধরে এগিয়ে গেলে তার পালিশ করা জুতার শব্দ মার্বেলের মেঝেতে প্রতিধ্বনিত হয়। সে হাঁটার সময় অকারণে এদিক-ওদিক তাকায় না, কারও মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য নিজের ভঙ্গি বদলায় না। তার কাঁধ সোজা, মাথা উঁচু, দৃষ্টি সামনের দিকে স্থির। মনে হয়, সে কোথায় যাচ্ছে তা শুধু সে নিজেই জানে—আর তার গন্তব্য নিয়ে অন্য কারও প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই।

কেউ তার সামনে এলে সে অযথা থেমে যায় না; প্রয়োজন হলে সামান্য থামে, চোখ তুলে তাকায়, তারপর সংক্ষিপ্ত নির্দেশ দিয়ে আবার এগিয়ে যায়। তার প্রতিটি আচরণে আত্মনিয়ন্ত্রণের এমন একটি ছাপ আছে, যা তাকে শুধু সুদর্শন নয়, স্মরণীয় করে তোলে।

এই মানুষটি নিজের আবেগকে প্রকাশ্যে আসতে দেয় না। রাগ হলে তার কণ্ঠ আরও নিচু হয়ে আসে। বিরক্ত হলে চোয়ালের পেশি শক্ত হয়ে ওঠে। আর কোনো বিষয়ে সত্যিই আগ্রহী হলে তার চোখের স্থিরতা বদলে যায় সামান্য—এতটাই সামান্য যে তাকে ভালো করে না চিনলে কেউ তা ধরতেই পারবে না।

তার ব্যক্তিগত সহকারী রাফায়েল দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। হাতে একটি কালো ফাইল। বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর সে নিচু স্বরে বলল,

“বস?”

জারভেক্স জানালা থেকে দৃষ্টি না সরিয়েই বলল,

“স্পিক।”

রাফায়েল এক মুহূর্ত থামল।

“আপনার নির্দেশ অনুযায়ী সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে একটা বিষয় আছে।”

এবার জারভেক্স ধীরে ধীরে মুখ ফেরাল।

“আমি কি তোমাকে অপ্রয়োজনীয় কথা বলার অনুমতি দিয়েছি?”

রাফায়েলের গলা শুকিয়ে গেল।

“নো, বস।”

“তাহলে প্রয়োজনীয় কথাটা বলো।”

“আজ রাতের পরিকল্পনা সম্পর্কে একটা তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। প্রিন্সেস ইমরিজা খান এখনো কিছুই জানেন না।”

নামটি উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জারভেক্সের চোখে ক্ষণিকের জন্য অদ্ভুত এক পরিবর্তন দেখা গেল। পরিবর্তনটা এত দ্রুত ঘটল যে রাফায়েল নিশ্চিত হতে পারল না—সে সত্যিই কিছু দেখেছে, নাকি নিজের কল্পনায় ভুল করেছে।

জারভেক্স কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।

তারপর বলল,

“সে জানবেও না।”

রাফায়েল মাথা নিচু করল।

“আন্ডারস্টুড, বস।”

“আরেকটা কথা।”

“জি, বস?”

জারভেক্স এবার পুরোপুরি তার দিকে ফিরল। ধূসরাভ বাদামি চোখে এমন এক শীতল দৃঢ়তা, যা দেখে রাফায়েল নিজের অজান্তেই সোজা হয়ে দাঁড়াল।

“আজ রাতের ব্যাপারে কোনো ভুল আমি সহ্য করব না।”

“নেভার, বস।”

রাফায়েল চলে গেল।

দরজা বন্ধ হওয়ার পর ঘরটিতে আবার নীরবতা নেমে এল। জারভেক্স টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। তার পদক্ষেপের সঙ্গে কালো স্যুটের কাপড়ে সামান্য ভাঁজ পড়ছে, কবজির ঘড়িতে প্রতিফলিত হচ্ছে ঘরের আলো। টেবিলের ওপর রাখা একটি ফাইল খুলে সে কয়েকটি কাগজ দেখল। তারপর ফাইলের ভেতর থেকে একটি ছবি বের করল।

ছবির দিকে কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল সে।

তার মুখে কোনো বিস্ময় নেই, কোনো দৃশ্যমান আবেগও নেই।

শুধু নিচু স্বরে বলল,

“প্রিন্সেস ইমরিজা খান।”

নামটা যেন সে মনে গেঁথে নিচ্ছে।

“দেখা যাক, তোমার পৃথিবীটা আমার পৃথিবীর সঙ্গে কতক্ষণ দূরত্ব বজায় রাখতে পারে।”

তারপর ছবিটি টেবিলে রেখে দিল।

বাইরে তখন বাতাসের গতি বেড়েছে। প্রাসাদের বিশাল জানালায় এসে ধাক্কা খাচ্ছে রাতের হাওয়া। দূরে কোথাও বজ্রপাতের আলো এক মুহূর্তের জন্য আকাশ উজ্জ্বল করে আবার সবকিছু অন্ধকারে ডুবিয়ে দিল।

জারভেক্স ঘড়ির দিকে তাকাল।

রাত ১১টা ৫৮ মিনিট।

আর মাত্র কয়েক মিনিট পর শুরু হবে এমন একটি অধ্যায়, যার পরিণতি সে নিজেও এখনো জানে না।

কারণ মানুষের জীবনকে বদলে দেওয়ার জন্য সব সময় যুদ্ধের প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো একটি নাম, একটি অপ্রত্যাশিত সাক্ষাৎ, কিংবা একটি ভুল সিদ্ধান্তই যথেষ্ট।

কিন্তু জারভেক্স নওরেইন নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়ার মানুষ নয়।

অন্তত সে এত দিন সেটাই বিশ্বাস করে এসেছে।

 অন্যদিকে, মেক্সিকোরই এক শান্ত আবাসিক এলাকায়…

বাংলাদেশ,,,,, 

একটি বিশাল বাড়ির দোতলার ঘরে জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল এক তরুণী। তার পরনে হালকা রঙের পোশাক, খোলা চুল কাঁধ ছুঁয়ে নেমে এসেছে পিঠের ওপর। জানালার বাইরে ছড়িয়ে থাকা রাতের আলো তার মুখে পড়ে তৈরি করেছে নরম ছায়া। এক হাতে ফোন, অন্য হাতে ছোট্ট একটি ডায়েরি। ডায়েরির পাতায় কয়েকটি অসমাপ্ত লাইন লেখা।

মেয়েটির নাম প্রিন্সেস ইমরিজা খান।

নামের সঙ্গে ‘প্রিন্সেস’ শব্দটি জুড়ে থাকলেও তার জীবন কোনো রূপকথার গল্প নয়। তারও আছে নিজস্ব স্বপ্ন, কিছু অপ্রকাশিত কষ্ট, কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা। পৃথিবীর অনেক মানুষ তার নাম জানে, অনেকেই তার পরিচয় নিয়ে কথা বলে; কিন্তু তার মনের ভেতরে কী চলে, তা জানার সুযোগ খুব কম মানুষেরই হয়েছে।

এই মুহূর্তে সে জানালার বাইরে তাকিয়ে নিজের ভাবনায় ডুবে ছিল।

হঠাৎ ফোনের পর্দায় একটি অপরিচিত নম্বর ভেসে উঠল।

ইমরিজা ভ্রু কুঁচকে নম্বরটির দিকে তাকাল।

এত রাতে কে ফোন করছে?

প্রথমবার সে ফোনটি ধরল না।

কয়েক সেকেন্ড পর আবার ফোন বেজে উঠল।

এবারও সেই একই নম্বর।

ইমরিজা বিরক্ত হয়ে কলটি রিসিভ করল।

“হ্যালো?”

ওপাশ থেকে কোনো উত্তর এল না।

“হ্যালো? কে বলছেন?”

নীরবতা।

তারপর একটি পুরুষকণ্ঠ শোনা গেল। কণ্ঠটি এতটাই শান্ত যে প্রথমে ইমরিজার বিরক্তি আরও বেড়ে গেল।

“প্রিন্সেস ইমরিজা খান?”

ইমরিজা সোজা হয়ে দাঁড়াল।

“আপনি কে?”

“এখনো এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর তোমার অজানা, প্রিন্সেস।”

“দেখুন, আপনি যদি কোনো মজা করার জন্য ফোন করে থাকেন, তাহলে ”

“জানালার কাছ থেকে সরে দাঁড়াও।”

কথাটা শুনে ইমরিজার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।

“কী?”

ওপাশের কণ্ঠ এবারও শান্ত।

“আমি একই কথা দুবার বলতে পছন্দ করি না।”

ইমরিজা দ্রুত জানালার দিকে তাকাল। বাইরে অন্ধকার রাস্তা, দূরে কয়েকটি বাতি, গাছের পাতায় বাতাসের দোলা। তেমন কিছুই চোখে পড়ল না।

সে আবার ফোনে বলল,

“আপনি কী চান?”

কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকার পর উত্তর এল,

“আজ রাতে তোমার সঙ্গে দেখা হবে।”

“আমার আপনার সঙ্গে দেখা করার কোনো ইচ্ছা নেই।”

ওপাশ থেকে মৃদু একটা হাসির শব্দ ভেসে এল।

“ইচ্ছা আর বাস্তবতা সব সময় এক হয় না, প্রিন্সেস।”

ইমরিজা এবার স্পষ্ট বিরক্ত হলো।

“আপনি কি জানেন, আপনি কার সঙ্গে কথা বলছেন?”

“খুব ভালো করেই জানি।”

“তাহলে আমার নম্বর কোথায় পেলেন?”

“তোমার সব প্রশ্নের উত্তর আজ রাতেই পাবে।”

“আপনার নামটা অন্তত বলুন!”

কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা।

তারপর সেই পুরুষকণ্ঠ এমন একটি নাম উচ্চারণ করল, 

“জারভেক্স নওরেইন।”

ইমরিজা নামটা শুনে চুপ করে গেল।

“মনে রেখো, প্রিন্সেস। আজকের রাতটা ভুলে যাওয়ার মতো রাত হবে না।”

কলটি কেটে গেল।

ফোনের পর্দায় আবার নিস্তব্ধ আলো।

ইমরিজা কয়েক সেকেন্ড ফোনটির দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে গেল।  ফোনের ওপাশের মানুষটি কে। শুধু বুঝতে পারছিল, অচেনা কণ্ঠটির মধ্যে এমন এক অদ্ভুত নিশ্চয়তা ছিল, যা তার বুকের ভেতর অকারণ অস্বস্তি তৈরি করেছে।

সে দ্রুত নিজের ঘরের দরজা খুলল।

“মা?”

কোনো উত্তর নেই।

“মা, তুমি কোথায়?”

নিচতলা থেকে কারও কথা বলার শব্দ ভেসে এল। ইমরিজা সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু সিঁড়ির মাঝামাঝি পৌঁছাতেই বাড়ির বাইরের দিক থেকে ভেসে এল গাড়ির শব্দ।

একটি নয়।

একাধিক।

সে থমকে দাঁড়াল।

বাড়ির প্রধান ফটকের বাইরে কালো রঙের কয়েকটি গাড়ি এসে থেমেছে। গাড়িগুলোর হেডলাইটে সামনের পথ উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত নিজেদের অবস্থান বদলাচ্ছে। নিচতলার কথাবার্তার শব্দ থেমে গেল।

ইমরিজার বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল।

“এত রাতে কারা এসেছে?”

ঠিক তখনই বাড়ির মূল দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো।

একবার।

দুবার।

তারপর দরজার বাইরে থেকে একজনের কণ্ঠ ভেসে এল,

“প্রিন্সেস ইমরিজা খান। আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।”

ইমরিজা সিঁড়ির ওপর দাঁড়িয়েই বলল,

“কোথায়?”

কেউ উত্তর দিল না।

পরের মুহূর্তেই তার ফোনে একটি বার্তা এসে পৌঁছাল।

অপরিচিত নম্বর।

বার্তায় মাত্র একটি বাক্য,

“আমি অপেক্ষা করছি, প্রিন্সেস।”

ইমরিজা ফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর ধীরে ধীরে চোখ তুলে সামনের অন্ধকার করিডোরের দিকে তাকাল।

 ইমরিজা কিছুই বুঝতে পারছে না তার সাথে এসব কী হচ্ছে! 

সে জানত না, তিজুয়ানার সেই প্রাসাদে একজন মানুষ তার জন্য অপেক্ষা করছে,

যে মানুষ নিজের ইচ্ছাকে কখনো প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়নি।

ইমরিজা একটা নাম মুখ দিয়ে উচচারণ করল, 

“জারভেক্স নওরেইন।”

কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়,

“কে এই জারভেক্স  নওরেইন?”

চলবে... 

(https://amipoddoja.com/admin/open/book.php?type=html&id=20767)যারা এই উপন্যাস টা পদ্মজা আ্যপ থেকে পড়তে চাইছেন তাদের জন্য লিংক 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন