হৃদয়ের ঠিকানা__*
লেখিকা:সৃতি নূর হালিযা*"
পর্ব ১
জোর করে ১২ বছরের মেয়ের সাথে বিয়ে দেওয়ায় রাগে দেশ ছেরেছিলো সাগর। সে সিন্ধাত নিয়েছে দেশে ফিরে আগে তার বউ কে ডিভোর্স দিবে। ''
কারন তার জাকে পছন্দ না তাকে সে চায় না'তার সাথে সারা জিবন কাটাতে। ডিভোর্স দিয়ে সে নিজেও মুক্তি হতে চায়। আর তাকেও মুক্তি দিতে চায়''?....
যাতে নতুন করে জিবন টা কে সুন্দর করে গোছাতে পারে এবং সেও চায় কারণ তার কাছে জোর করে এই চাপিয়ে দেওয়া সম্পর্কে র কোনো মানে হয় না?.....
সাগর মাঝে মাঝে বাড়ি তে ফোন দেয় তাদের খবরাখবর রাখার জন্য ভূঁইয়া বাড়ির বড় তিন কর্তা টেবিলে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। তাদের মধ্যে সিজান ভূঁইয়া" নাবিল ভূঁইয়া "নাহিদ ভূঁইয়া..... আর তাদের এক মাত্র বোন নাবিলা ভূঁইয়া ও তাদের ছেলে-মেয়েরা সকলে। আজ শুক্রবার বলে বাড়ির সবাই উপস্থিত। প্রতি শুক্রবারে ভূঁইয়া বাড়িতে বড় সোরো আয়োজন করা হায়".। ওই দিনে সবাই উপস্থিত থাকে।.....
সিজান ভূঁইয়ারা তিন ভাই এক বোন... বোনও এই দিনে এই বাড়িতে উপস্থিত হন স্বামী সন্তান নিয়ে..। শুধু শুক্রবারেই না। হুট হাট রাত তিন টা বা চারটা বাজেও উনাকে পরিবার নিয়ে আসতে হয় ভূঁইয়া বাড়িতে......।ওই যে ভাই ভাতিজারা পাটি আয়োজন করে যে। আর এদিকে খাওয়া -দাওয়া পর্ব শেষে.. উর্ষা নিজের ঘরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই ওভেনের উপর বড় আব্বু মানে সিজান ভূঁইয়ার চার্জে ফোন টা বেজে উঠলো। সিজান ভূঁইয়া উর্ষা কে বলেন:উর্ষা আমার ফোন টা দিয়ে যা তো মা উর্ষাও ডান দিকে গেলো..?। ফোন টা নেওয়ার জন্য হাত বাড়াতেই চোখ গেলো স্ক্রিনে ভেসে উঠা নাম টার দিকে। তাকিয়ে রইল সেই দিকে।
বুকে কেমন চিন চিন ব্যথা অনুভব করল উর্ষা।
কিরে ফোনটা নিয়ে আয় '' সিজান ভূঁইয়ার ডাকে ধ্যান ভাঙলো উর্ষার।...."ততক্ষনে ফোনটাও কেটে গেছে।
হাতে ফোন নিতে নিতে আবারও কল আসলো।
তারাতারি ফোনটা এনে বড় আব্বুর হাতে দিলো উর্ষা।
ফোন দিয়ে চেয়ারের পিছনে দারিয়ে রইল উর্ষা।
পাশে থেকে উর্ষার বাবা নাহিদ ভূঁইয়া জিজ্ঞাস করলো কিরে মা কে কল দিলো.....?
উর্ষা বলল:সাগর ভাই। কথা টা বলেই মাথাটা নিচু করে নিল উর্ষা"!
এই নাম টা নিতে গেলেও তার অন্তর শরীর জুড়ে অন্যরকম এক যন্ত্রনা অনুভূত হয়।" শরীর টা কেমন হয়ে আসে……? সিজান ভূঁইয়া বলেন: তা রিসিভ করলে ই পারতে। "" উর্ষা মাথা নিচু করে আছে!'"" বড় আব্বুর কথা শুনে প্রতি উত্তর করলো না।
ফোন টা রিসিভ করেই লাউডস্পিকারে দিলেন সিজান ভূঁইয়া।
সাগর বলল:আসালামু আলাইকুম কেমন আছো আব্বু ……?বাড়ির সবাই ভালো আছে…? সিজান ভূঁইয়া বলল:আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আমরা তা তুমি কেমন আছো…? তোমার খালা খালু কেমন আছে…? সাগর বলল:আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। সাগর আবারও বলল:আব্বু"!সিজান ভূঁইয়া বলল:হ্যাঁ কিছু বলবে সাগর তুমি…? সগার বলল:হ্যাঁ বাবা বলবো। তোমরা সবাই কি এখন একসাথে …?
মানে এখন তো খাওয়ার সময়…?
সিজান ভূঁইয়া বলল: হ্যাঁ বাবা সবাই আছে সবাই খাবার খাচ্ছি শুধু উর্ষার খাওয়া শেষ।
উর্ষার কথা বলায় সাগর খুব বিরক্ত বোধ করলো।
সে কি তার কথা জানতে চেয়েছে? যত সব ফালতু..? আব্বু একটু স্পিকার টা অন করে দেও।
সবাই যেন শুনতে পায়। আমি কিছু বলতে চাই।
সিজান ভূঁইয়া বলল:তুমি বলো ফোন স্পিকারেই আছে!"
সাগর বলল:আব্বু আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখানেই সেটেল হবো।
কথা টা শোনা মাএই সকলের মুখটা অন্ধকার হয়ে গেলো…"!
বিশেষ করে নাহিদ ভূঁইয়া আর উর্ষা। উর্ষার মনে
হচ্ছে কেউ খগ্জ্ঞর দিয়ে অবিরত তার বুকে আঘাত করছে সিজান ভূঁইয়া বলল:আমাদের ব্যবসাটা কে দেখবে সাগর…? তুমি পরিবারের বড় ছেলে তোমারই তো দায়িত্ব বেশি। তুমি দেশে না আসলে কিভাবে কি হবে …?
সাগর বলল:দেশে আসবো আব্বু। এক বছরের সময় নিয়ে আসবো। উর্ষা কে মুক্তি দিতে হবে তো। আর ১৮বছর পূর্ণ হলেই আসবো। আমি এখানে নতুন করে কারো সাথে জীবন শুরু করতে চাই আর উর্ষার নিজের লাইফটাও তো গোছাতে হবে। একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশায় বসে থেকে তো লাভ নেই। আমি চাই সে ভালো থাকুক। হাজার হোক সব কিছু উর্ধে সে আমার ছোট বোন…"!
কথাটা শোনা মাএ এখানে উপস্থিত প্রতেকর মাথায় আকাশ ভেঙে পরল"!. নাহিদ ভূঁইয়ার অন্তর টা ধক করে উঠলো। কলিজাটা কেঁপে উঠলো।
নিজের চোখে নিজের মেয়ের এই করণ পরিণতি সে দেখতে চায় না। মুখ ঘুরিয়ে তাকালেন এক কোণে
দাড়িয়ে থাকা উর্ষার পানে …"।
উর্ষার মনে হচ্ছে তার পায়ের নিচে মাটি সরে গেছে।
মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো। পরে যাওয়ার আগে একজন হাত বাড়িয়ে কোমর জড়িয়ে ধরলো।
উর্ষা ডানে তাকিয়ে দেখল আলিফ ভাইয়া ধরে আছে ওকে। কোনো কথা না বলেই মাথা এলিয়ে দিল আলিফের বুকে। আলিফ ও হাত বাড়িয়ে বোনকে ধরল। সিজান ভূঁইয়া একবার তাকালেন উর্ষার দিকে।
ভিতরে অপরাধ বোধ কাজ করছে। ফুলের
মতো সুন্দর আর প্রবিত্র মেয়েটা এখন বিনা অপরাধে
কেন শাস্তি ভোগ করছে…? লিপি বেগম তেঁতে উঠলেন ছেলের কথায়। রেগে মেগে বলল:সাগর অনেক শুনেছি তোর কথা"!
গত পাঁচ বছর ধরে তুই যা বলেছিস তাই শুনছি আমরা"'।
অনেক শুনেছি তোর কথা বাড়াবাড়ি করবি না এর ফল কিন্তু ভালো হবে না। সাগর বলল:বাড়াবাড়ি র কি আছে আম্মু …?
তখন তো আমার অনুমতি নিয়ে কিছু করোনি।
আমিও তো তোমাদের অনুমতি নিব না এখন। পাশ থেকে সাগরের চাচি মারিয়া রহমান বলল:দেখো সাগর কেন এমন করছো…? যা হবার তো হয়েই গেছে বলো আমাদের মেয়ের কি কোনো কমতি আছে…?
বদনাম হলে তো এ বাড়িরই হবে। এ বাড়ির মেয়ের ই হবে। আর ওকে ডিভোর্স দেয়ার একটা যুক্তি যুক্ত কারণ তো বলো"।
ডিভোর্স শব্দটা কর্নখোর হতেই বাবা-মেয়ে দুজন দুজনের দিকে তাকায়!"
বাবার দৃষ্টিতে ছিল অপরাধ বোধ আর মেয়ের দৃষ্টিতে ছিল অসহায়ত্ব। সাগরের চাচা নাবিল ভূঁইয়া বলল:
দেখো সাগর এত ফাস্ট চিন্তা না করে দেশে আসো।
তার পরে দেখা যাবে। সাগর কোনো প্রতি উত্তর করল না। সময় দিচ্ছে যার যা বলার বলুক। নাবিল ভূঁইয়া জিজ্ঞাসা করলেন বাবা সাগর তুই কি চাচ্ছিস …?
ক্লিয়ার করে বলতো।
সাগর বলল:আমি সংসার করবো না ওর সাথে!"
আর বলতে পারলো না। তার আগেই সিজান ভূঁইয়া টেবিলে থাকা ফোনটা হাতে নিয়ে কল কেটে দিল'!।
পরে পাট…………………
(সবাই যদি পরের পাট দেখতে চাও তাহলে বেশি বেশি সাপোর্ট করেন আর বানান বা লেখা ভুল হলে ক্ষমা কর দৃষ্টিতে দেখবেন🙏) আর ছোট করে দেওয়ার জন্য সরি পর পাট বড় দিবো
হৃদয়ের ঠিকানা
লেখিকা সৃতি নূর হালিযা
পর্ব 1
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান