রাণীক্ষেত নামের মতোই সুন্দর গ্রামটি,পাশে বয়ে চলেছে গ্রামের প্রান নামক রাণিখাল নদীটি। আল্লাহর অশেষ রহমতে এই গ্রামে সোনা ফলে।পানির ও কোনো অভাব নেই।তাই গ্রামটিকে সকলেই ভীষণ ভালোবাসে ।
বিষন্ন দুপুরে নদীর পাশের বটগাছের ছায়ায় চাষিরা ক্লান্তি দূর করে,নদীর কলরব শব্দে আর শান্ত ঢেউয়ে যেন সকল গ্লানি মুছে যায়।
বিকেলের ঠান্ডা শীতল হাওয়া মনকে মাতিয়ে তোলে ,,,পড়ন্ত সন্ধ্যার আগে সূর্যের রক্তিম রশ্মি যেন প্রকৃতিকে অন্যরূপ দেয়।আর রাতে হাজারো জোনাকি আর নিরব হাওয়া যেন নতুন ভোরের নতুন গল্প বুনতে শুরু করে -------
ঠিক তেমনি এক ভোরে পাখির কিচিরমিচির ও নদীর ক্লান্তি ধ্বনিতে ঘুম ভেঙ্গে যায় ষোড়শি কন্যার ,,,,শান্ত নরম পায়ে জানালার কাছে এসে দাঁড়ায় । জানালার ফাঁক গলে সূর্যের চিকন আলোকরশ্মি ঘরে ঢুকছে।জানালাটা আস্ত করে পুরোটাই খুলে দেয় সে কাঠের দুই পাল্লার বড় খোলামেলা জানালাটা ।জানালাটা বেশ বড় ।ষোড়শি কন্যার গ্রিল বিহীন বড় জানালা ভীষণ পছন্দের।তাইতো বাবাকে বলে ব্যবস্থা করেছে সে । কিন্তু বাড়ির গিন্নির সে কি রাগ শেয়ানা মেয়ের ঘরে কিনা এমন খোলামেলা জানালা থাকবে; যদি তোর কোন কোনো ক্ষতি করে তখন কি হবে ? একমাত্র আদরের কন্যার আবদার কি ফেলা যায়?
উহুহ..,,
একদমই না তাইতো মিস্ত্রীকে ডেকে আড়াআড়ি আটটা গ্রিল দিয়ে বড় করে জানালা টা বানানো হয়েছে ।মা মেয়ে দুজনেই খুশি "...
জানালা দিয়ে তাকালে এই গ্রামের প্রান মানে রাণিখাল নদীটি দেখা যায় ,,,
ষোড়শী কন্যা এসব চিন্তা মাথা ছেড়ে ফেলে সময়টাকে উপভোগ করতে থাকে তাদের বাড়িটা একদম নদীর কাছে আশেপাশে বাড়ি নেয় সব একটু আগে দিকে আরকি ঘরের পেছনে ফসলি আবাদি জমি তারপরেই নদীটি আর ষোড়শি কন্যার ঘর ঠিক এই বরাবর করা তাই সে জানালা দিয়ে সব দেখতে পায় ।আর নদীর কাছেই বড় বটগাছ আছে সেখানে অনেক ঝুরি তাতে করে একসময় দোল খেতে অবশ্য এখনো খায় তবে মাকে লুকিয়ে তার প্রাণপ্রিয় সখিকে নিয়ে তার সগির বাড়ি একটু আগে তার বাড়ি থেকে ১৫ মিনিট লাগে আরকি ।
মা এখন সবসময় তাকে নিয়ে চিন্তায় থাকেন মেয়ে যে এবার বড় হয়েছে কলেজে উঠেছে লোকের চোখে ধরার মতো হয়েছে তাইতো এত সাবধানতা মায়ের....
আর গ্রামেতো অল্পতেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এতেই তাদের মঙ্গল তাছাড়া মেয়েমানুষ যদি কোনো কেলেঙ্কারি বা দূর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলে তখন কি হবে?
ষোড়শি কন্যার মায়ের দুশ্চিন্ত বোঝে তাই এখন আর পারায় যায় না যখন তখন মাথায় ওড়না থাকে সবসময় বড়দের দেখলে সালাম দেয় , পড়াশোনায় ভালো হওয়ায় বাবা মা ও চায় অনেক দূর পরাতে এইতো এবার SSC তে A+ পেয়ে পাশ করেছে এবার কলেজে উঠেছে ।....
তবে এতকিছুর মাঝেও ষোড়শি কন্যার বটগাছের দোল খাওয়ার নেশা ছাড়তে পারেনি বটগাছের ঝুরি দিয়ে দোলনার মতো বানিয়ে দুহাত মেলে সে দোলনা খেতে আনন্দ পায় মেয়ের এমন আদুরে পনা দেখে বাবা নিজের একটা দোলনা এনে ছাদে দিয়েছেন যেন মেয়ে আনন্দ করতে পারে কিন্তু এই কৃত্রিম জিনিসে সে কি আর আনন্দ পায় তাইতো সে মা যখন দুপুরে ভাত ঘুম দেয় তখন সে লুকিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় নদীর উদ্দেশ্য।,,,
নদীর কাছে গিয়েই সে নেশাগ্রস্তর মতো বুক ভরে শ্বাস টানে অথচ তার বাড়ি থেকে সবসময় এই নদীটি কে দেখা যায় তবুও তার যেন মন ভরে না,,দুহাত মেলে শ্বাস নেয় তাহলে এটাকে কি নেশা বলে না ?
এইসময় ষোড়শি কন্যা ধ্যানচূত হয় হঠাৎ দরজার কড়াঘাতে....
আম্মাজান ,,,
,,, আপনার কি ঘুম ভাঙ্গে নি বাবার তো কাজে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে ,,
আব্বুর সাথে নাস্তা করবেন না ?
ষোড়শি উত্তর করলো না তবে তরিঘরি করে ফ্রেশ হয়ে দরজা খুলল সামনে ভদ্রলোক দাঁড়িয়েছিলেন মেয়েকে দেখে তার চোখ সবসময়ই জুরিয়ে যায় ,,,
বিয়ের দীর্ঘ নয় বছর পর সন্তান লাভ করেছেন তো তাই ,
কত ডাক্তার কবিরাজ দেখিয়েছেন তার পর তার এই কন্যা তাইতো বাবার বড় আল্লাদের ,,,
মেয়েকে যেদিন প্রথম কোলে নিলেন ভদ্রলোক কেঁদেছিলেন অথচ মেয়ের হাসি যেন মুখ থেকে সরছিল না ,,
শায়মা ও প্রতিবেশীরা বলে উঠল কি গো আকবর তোমার তো মা হয়েছে আমাদের মিষ্টি খাওয়াবার না !
ভদ্রলোক সেদিন পুরো গ্রামে সত্যি মিষ্টি বিলিয়েছিলেন ,,,
আর নিজের মেয়ের মায়াবি মিষ্টি মুখখানা দেখে মেয়ের নাম মিষ্টি রাখলেন ,,তবে নিজে কখনো নাম ধরে ডাকে না সে তার মেয়েকে আম্মাজান বলে ডাকে সবসময় ।
নিজের বাবাকে ওভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে মিষ্টি বলে ওঠে " কি দেখছো আব্বু?
ভদ্রলোক ভাবনা ছেদ হয়ে বলে আপনাকে দেখছিলাম আম্মাজান "
ভদ্রলোক এবার বললেন চলুন এবার খেয়ে নিয় না হলে কাজে যেতে দেরি হয়ে যাবে তো ।
মিষ্টির এবার নিজের আব্বুর সাথে পা মেলাই খাবার টেবিলের কাছে যাওয়ার জন্য চার চেয়ারের ছোট এক টেবিল কিন্তু একটাতেই যেন তারা পরিপূর্ণ।
সালেহা বেগম রুটি আলু ভাজি ডিম ভাজি ও ডিম সিদ্ধ করেছেন মেয়ের দিকে এক প্লেটে দুটো রুটি আলু ভাজি আর একটা ডিম সিদ্ধ এগিয়ে দিলেন ,,,এটা দেখে মিষ্টি সাথে সাথে নাক সিঁটকায় আম্মু আমি ডিম সিদ্ধ খাবো না প্লিজ,,,,,
সালেহা বেগম চোখ গরম করে তাকায় ওমনি বাবার আল্লাদি মেয়ে বাবার কাছে নালিশ ঠোঁটে :
আব্বু আব্বু দেখো তোমার গিন্নি কেমন তোমার এক আর এক মাত্র মেয়েকে চোখ রাঙানি দিচ্ছে।,,
মেয়ের বচনভঙ্গিতে আকবর মিয়া এবার হেসে ফেললেন ,, আকবর মিয়ার হাসি দেখে সালেহা বেগম আরো রেগে গেলেন,,
ভদ্রলোক এবার মেয়েকে বোঝানোর ভঙ্গিতে বললেন দেখো আম্মাজান তুমিতো এখন রাত জেগে পড়াশোনা করো ডিম দুধ না খেলে স্ট্রং হবে কি করে ,,,
বাবার আল্লাদে আল্লাদি কন্যা ডিম এক কামড়েই শেষ করে ফেলল ,,
সেটা দেখে সালেহা বেগম এবার বললেন আমি বললাম তখন তো খেলি না আর এখন এক কামড়েই শেষ মিষ্টি মিষ্টি করে হেসে বলে কারন আমি আমার আব্বুর আম্মাজান তাই আব্বুর সব কথা শুনে চলি বুঝলে,,,
চলবে.......... ইনশাআল্লাহ
( এটা আমার প্রথম গল্প আশা করছি সবার ভালো লাগবে সবাই সাপোর্ট করে পাশে থাকবেন আর কেউ অনুমতি ব্যতীত কপি করবেন না )