ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ে তোর আগমন

পর্ব 1

লেখক: রাইসা সিকদার

🫀 হৃদয়ে তোর আগ‌মন 💓
পর্ব ১
: I love you mihu 💗🌹
চারদিকে কালো আস্তরণে ঢেকে আছে মনে হচ্ছে | অন্ধকারের মধ্যে দূরে চাঁদ তার আলো ছড়িয়ে রেখেছে |চাঁদের চারদিকে তারারা তাদের ঝিকমিক আলো ছড়িয়ে নিজস্ব স্থানে দাড়িয়ে আছে | আজ আকাশটা যেন নতুন আলোয় হেসে উঠেছে | চাঁদ তারার আলোর মিশালে আকাশটা দেখতে অপূর্ব সুন্দর লাগছে |

এই অপূর্ব সৌন্দর্যের মাঝে দূরে একটি দোতালা বাড়ি দেখা যাচ্ছে | বাড়িটি অনেক সুন্দর | কিন্তু আজ বাড়ির সাদ যেন অন্যরকম আলোয় মেতে উঠেছে | সাদটা দারুন আলোয় লাইটিং করা |চারদিকে ফুল দিয়ে সাজানো | সাদের মাঝ বরাবর খুব সুন্দর করে গোলাপ ফুল দিয়ে একটি হার্ট বানানো আছে |হার্টের চারদিকে ক্যান্ডেল জ্বালানো | আর সেই হার্টের মধ্যে দুইজন রমন - রমনী আছে | রমনটি এক হাঁটু ভাজ করে বসে আছে হাতে একটা গোলাপ ফুল যা রমনীর দিকে করে রেখেছে আর রমনীটি স্থির দাড়িয়ে আছে | তার বিশ্বাস হচ্ছে না এটা সত্য নাকি মিথ্যা |

ভালোবাসা কি তা সবাই জানে না | ভালোবাসা এমন জিনিস যা সবার সাধ্যের নয় | কেউ ভালোবেসে তার সর্বত্র হারাই আবার কেউ ভালোবাসা কে আগলে বেঁচে থাকে |
ভালোবাসায় জিতলে তুমি সর্ব শুখী
ভালোবাসায় হারলে তুমি সর্ব দুখী
ওয়ান সাইড লাভ অনেক সুন্দর | ওয়ান সাইড লাভের কথা আলাদা | ওয়ান সাইড লাভ দ্বারা বোঝা যায় যে একজন মানুষ কীভাবে গপোনে একজন মানুষ কে ভালোবাসতে পারে | সে জানে যে তার ভালোবাসা পূর্ণতা না পেতেও পারে তবুও তাকে নিজের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসে | সে তাকে নিয়ে সপ্ন বুনে, তাকে দেখলে তার মনে ভালোবাসার ঢেউ উঠে, ওয়ান সাইড লাভ আসলেই অনেক সুন্দর | আমিও একজন কে ওয়ান সাইড লাভ করি, আর সে হলো আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানবটি|

এসব ভাবছিল রমনীটি | সে বিশ্বাস করতে পারছে না যে সামনে থাকা ব্যক্তিটি তাকে ভালোবাসে, প্রপোজ করছে|তার চোখে পানি চিকচিক করছে দুঃখের নয় খুশির পানি এটা, তখনই পেছন থেকে একজন ডাক দেয়:
:মিহু এই মিহু
:মিহু উঠ বলছি

তখনই রমনীটির ঘুম ভেঙ্গে যায় | সে আধো আধো চোখে সামনে তাকায় সে বুঝতে পারছে না যে সে কথায়, সে তো কিছুক্ষণ আগে সাদে ছিল তার ভালোবাসার মানুষ তাকে প্রপোজ করছিল, ৫ সেকেন্ড পর তার ঘোর কাটে | সে যখন বুঝতে পারে সে সপ্ন দেখছিল তখন একটা বালিস নিয়ে সামনে থাকা ব্যক্তিকে ছুড়ে মারে আর রাগি সুরে বলতে থাকে

:- ইনুর বাচ্চা তুই আমার এতো সুন্দর সপ্ন ভেঙ্গে দিলি | আমার জিরান ভাই আমাকে প্রপোজ করছিল আর তুই সেই সপ্ন ভেঙ্গে দিলি তোকে আমি ছাড়বো না |

দাঁড়িয়ে থাকা রমনীটি ক্ষেপে যায় তেজি স্বরে বলে
:- তুই তোর সপ্ন নিয়েই পড়ে থাক, আজ কলেজে যাওয়া লাগবে না, কলেজের সময় যে পার হয়ে সে যাচ্ছে খেয়াল আছে তোর |

মিহু কখাটা শুনে শোরু চোখে ঘড়ির দিকে তাকায় দেখে ৯:৩৫ বাজে, ১০ টায় তাদের ক্লাস আসে |
সে খাট থেকে ঝাঁপ দিয়ে ওয়াশরুম এর দিকে দৌঁড় দেয় আর বলতে থাকে

:- ইনুর বাচ্চা আগে ডাক দেস নি কেন
ইনায়া তা দেখে মুখ ভাঙ্গায় আর বলতে থাকে
:- এখনই বললো যে তাকে কেন ডাকলাম!, তার নাকি সপ্ন ভেঙ্গে গেছে, তার জিরান ভাই থাকে প্রপোজ করছে আর এখন বলছে তাকে কেন ডাকলাম না যতসব ঢং|

এসব বলে সে নিচে চলে যায় | কিছুক্ষণ পর মিহু ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে ব্যাগ নিয়ে চলে যায় | যখন সে গেট পার হবে তখন তার মা ডাক দেয়
:- মিহু নাস্তা করে যা
মিহু সাহসা পিছনে ঘুরে তার মাকে কোমল স্বরে বলে
:- না আম্মু দেরি হয়ে যাচ্ছে, ক্যান্টিনে খেয়ে নিবোনি

বলে সে বাইরে চলে যায়,যেয়ে দেখে ইনায়া গাড়ির সামনে দাড়িয়ে আছে | সে ওখানে গিয়ে কোমল স্বরে বলে
:-আমি চলে এসেছি চল
ইনায়া তার দিকে না তাকিয়ে মুখ ঘুড়িয়ে গাড়িতে উঠে গেল | তা দেখে মিহুর মনটা খারাপ হয়ে গেল |
সে মনে মনে ভাবতে লাগলো
:- আমার পাখিটা রাগ করেছে
বলে সে গাড়িতে উঠে গেল | গাড়িতে উঠে সে ইনায়া কে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগল
:- সরি ইনু পাখি আমি ঘুমের ঘরে এসব বলে বলে ফেলেছি আই এম সো সরি ইনু

ইনায়া মিহুর দিকে না তাকিয়ে ওভাবেই রাগি স্বরে বলে
:- তুই তোর জিরান ভাইকে নিয়েই পড়ে থাক আমার সাথে কথা বলবি না
বলে সে মিহুর হাত ছাড়িয়ে নেয় | মিহু আবার ইনায়াকে জড়িয়ে ধরে আর চোখ ছোট করে বলতে থাকে
:- সরি জানু,আমি আর জিরান ভাইকে নিয়া ভাববো না তুই আমার ক্রাশ, দেখ আমার চোখ দিয়ে কিন্তু পানি বের হবে এখন সরি রে জানু|

ইনায়া এবার মিহু কে জড়িয়ে ধরে আর কোমল স্বরে বলতে থাকে

:- থাক তোর জিরান ভাইকে তোর ভুলতে হবে না জানু দেখি তোর চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে কিনা |

বলে মিহুর মুখটা উপরে তুলে আর দেখতে, এক পর্যায়ে দুইজনেই হেসে উঠে | গাড়ি তার আপন গতিতে চলছে |এসবের মাঝে আমার পরিচয়টা দেওয়া হলো না
( আমি তাসফিয়া সিকদার মিহি ডাকনাম মিহু)
( আমি যাকে জড়িয়ে ধরে আছি সে হলো আমার প্রাণ প্রিয় বান্ধবী ইনায়া চৌধুরী)( আমার বাবারা ৩ ভাই ২ বোন বড় ভাইয়ের নাম আশরাফ সিকদার তার স্ত্রী সাহেনা সিকদার তাদের দুইটা সন্তান বড় সন্তান জিরান সিকদার বয়স ২৭ তারপর কিয়ারা শিকদার জারা বয়স ১৭
মেজো ভাই তাহসাফ সিকদার স্ত্রী তানহা সিকদার তাদের দুইটা সন্তান আয়ান সিকদার বয়স ২৫ তাসফিয়া সিকদার মিহি বয়স ১৮ ছোট ভাইয়ের নাম আলহাজ সিকদার স্ত্রী হালিমা সিকদার তাদের তিনটা সন্তান ইনহা সিকদার মায়া বয়স ২০ ইরহাম সিকদার বয়স২১ লামিয়া সিকদার বয়স ১৮ মেজো বোনের নাম রুকাইয়া সিকদার স্বামী আজম খান তাদের দুইটা সন্তান নিবিড় সিকদার বয়স ২৫ ইলা সিকদার বয়স১৮ অন্য বোনের নাম নীলিমা সিকদার স্বামী রেজাউল প্রামাণিক তাদের দুইটা সন্তান নিহাল বয়স 15 থাকিয়া বয়স 13
মিহুর যৌথ ফেমিলি)🫀 হৃদয়ে তোর আগমন 🌸

পর্ব :- ২

আজ সূর্য তার কিরণ ভলোই ছড়িয়ে রেখেছে | ঠান্ডা হাওয়া বইছে চারদিকে | এই সুন্দর আবহাওয়ার মাঝে চট্টগ্রামের সিটি কলেজের মাঠে মিহু আর ইনায়া বসে আছে | মিহুর আজ একটা ক্লাস করার মন ছিল না তাই তারা দুজন মাঠে বসে বসে গল্প করছিল | এরই মাঝে মিহু ইনায়ার দিকে তাকিয়ে বলে

:- আজকের আবহাওয়া টা অনেক সুন্দর তাই না ইনায়া |

ইনায়া অন্যমনস্ক হয়ে কি যেনো একটা ভাবছিল | মিহুর কথায় ইনায়া তার দিকে তাকিয়ে বলে

:- হুম , আবহাওয়া টা অনেক সুন্দর
ইনায়া
কিছু সময় পার হয়ে যায় | ইনায়া হঠাৎ মিহুর দিকে তাকিয়ে অল্প স্বরে বলে

:- আচ্ছা তোর নিবিড় ভাইকে কেমন লাগে

ইনায়ার এমন প্রশ্নে মিহু ইনায়ার মুখের দিকে তাকায়, সে দেখে ইনায়ার মুখে হালকা হাসি| সেও বলে উঠে

:- হঠাৎ এই প্রশ্ন
:- এমনি
মিহু মুখের ভাব পরিবর্তন করে বলে
:- কেমন যেনো একটা, বেশিই একটা ওভাররিয়েকটিং করে|

:- ওহ
ইনায়া আবার তীক্ষ্ণ স্বরে প্রশ্ন করে
:- এমন ব্যবহার যদি জিরান ভাই করতো

মিহু মুখে মুচকি হেসে তার জবাব দেয় |

:- এই পৃথিবীতে আমার চেয়ে আর কেউ খুশি হবে হবে না |

ইনায়া নিচু স্বরে বলে
:- ওহ

কিছুক্ষণ পার হয়ে যায় | হঠাৎ মিহু হাত উঁচিয়ে ইশারা করে বলে

:- ওই যে ওখানে ফুচকার স্ট্রোল চল, ফুচকা খেয়ে বাড়িতে চলে যাব |

ইনায়া মিহুর ইশারা করা হাত অনুশরণ করে ফুচকার স্ট্রোল এর দিকে তাকিয়ে বলে

:- আচ্ছা চল

তারপর তারা দুইজন ফুচকার স্টোল এর দিকে যেতে থাকে | হঠাৎ মিহু কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে যায় | মেয়েটা কোমরে অনেক ব্যাথা পেয়েছে | মিহু আস্তে আস্তে মাথা উপরে তুলে তাকায় আর দেখে একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে | ছেলেটা দেখতে সুন্দর আছে ফর্সা গায়ের রং, ছেলেটা সাদা টি শার্ট পড়েছে তার উপর একটা কালো শা

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন