ফন্ট সাইজ:
থিম:
রাজপুত্রের বেয়াড়া বউ

পর্ব 1

লেখক: রহস্য কন্যা

👑 রাজপুত্রের বেয়াড়া বউ
✍️ লেখিকা: রহস্যকন্যা
পাঠ ১ — প্রথম দেখাতেই মহাযুদ্ধ! 😂❤️
🌸 অচেনা দুজনের প্রথম দেখা
সকাল ১০টা। আরভেনিয়ার রাজধানী ভ্যালেরিয়া। বিশাল সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে আজ রাষ্ট্রপতির বিশেষ অনুষ্ঠান।
কালো গাড়ি থেকে নামল সুদর্শন যুবক আরহাম ভলকভ। বয়স ২৮। কালো স্যুট, গম্ভীর মুখ আর আত্মবিশ্বাসী চোখ। সে রাষ্ট্রপতি ভিক্টর ভলকভের বড় ছেলে। রাজনীতি ও আইন নিয়ে পড়াশোনা করা আরহামের স্বপ্ন নিজের যোগ্যতায় একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া।
তার পাশে নামল ড্যানিয়েল ক্রস, বয়স ২৭। সে আরহামের ব্যক্তিগত সহকারী ও সবচেয়ে কাছের বন্ধু।
ড্যানিয়েল বলল,
— স্যার, আজ একটু হাসবেন। আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে সবাই আপনার কাছে ঋণী!
আরহাম চোখ রাঙাল।
— ড্যানিয়েল, চুপ করো।
— জি স্যার! আমার নীরবতার জন্য আলাদা বেতন চাই!
আরহাম সামনে এগোতেই বিপরীত দিক থেকে দৌড়ে এল একটি মেয়ে। হাতে কাগজ, কাঁধে ব্যাগ। সামনে না তাকিয়েই সে আরহামের সঙ্গে ধাক্কা খেল।
ধপাস! কাগজগুলো মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল।
— এই যে! চোখে দেখতে পান না? মেয়েটি রেগে বলল।
আরহাম অবাক হয়ে বলল,
— ধাক্কা দিলেন আপনি, আবার দোষও আমার?
— রাস্তার মাঝখানে পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন কেন?
ড্যানিয়েল মুখ চেপে হাসছে।
আরহাম গম্ভীরভাবে বলল,
— নিজের ভুল স্বীকার করতে শিখুন।
মেয়েটি কাগজ তুলে বলল,
— আগে আপনি শিখুন! কালো স্যুট পরলেই কেউ ভদ্রলোক হয় না!
— আপনি সব সময় এত কথা বলেন?
— আর আপনি সব সময় এত অহংকারী থাকেন?
ড্যানিয়েল এবার হেসেই ফেলল।
মেয়েটি চলে যাওয়ার আগে বলল,
— অসভ্য কোথাকার!
আরহাম পেছন থেকে বলল,
— কী বললেন?
— বলেছি, আপনি খুব ভালো মানুষ!
মেয়েটি চলে গেল। ড্যানিয়েল বলল,
— স্যার, প্রথমবার কেউ আপনাকে কথায় হারিয়ে দিল!
আরহাম বিরক্ত হয়ে সামনে এগিয়ে গেল। কিন্তু মেয়েটির সাহসী কথাগুলো তার মনে রয়ে গেল।

🌷 নায়রার পরিবার
মেয়েটির নাম নায়রা রহমান। বয়স ১৭ বছর। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। সে চঞ্চল, সাহসী, জেদি ও আত্মসম্মানবোধে দৃঢ়। তার বান্ধবী তিথি তার সব দুষ্টুমির সঙ্গী।
নায়রার বাবা মাহমুদ রহমান (৪৭) একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা নাজনীন আক্তার (৪২) সংসার সামলান। ছোট ভাই আয়ান (১৫) দশম শ্রেণিতে পড়ে, আর ছোট বোন ইশা (১০) পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের দাদা আবদুল করিম রহমান (৭৫) অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। নায়রার পরিবারে দাদি নেই।
নায়রার চাচা কামাল রহমান (৪৫) ও চাচি শারমিন আক্তারের (৪০) সন্তান সাদমান (২০) ও নুসরাত (১৬)। সাদমানের বন্ধু ফাহিম, নুসরাতের বান্ধবী জান্নাত।

ফুফু সাবিনা রহমান (৪৩) স্পষ্টভাষী এবং পারিবারিক বিষয়ে খুব সচেতন। ফুফা মিজানুর রহমানের (৪৮) সঙ্গে তাদের সন্তান রাফসান (২১) ও মুনিয়া (১৪)। রাফসানের বন্ধু রিফাত, মুনিয়ার বান্ধবী তিশা।

মামা রাশেদ আহমেদ (৪২) ও মামী ফারজানা বেগমের (৩৮) সন্তান তানভীর (১৯) ও তাসনিম (১৩)। তানভীরের বন্ধু সিয়াম, তাসনিমের বান্ধবী মিতু।

খালা রিমা আক্তার (৪০) ও খালু সাইফুল ইসলামের (৪৪) সন্তান আরমান (১৮) ও মেহজাবিন (১২)। আরমানের বন্ধু আদিব, মেহজাবিনের বান্ধবী রিয়া।

👑 ভলকভ পরিবারের রাজকীয় পরিচয়
আরহামের বাবা ভিক্টর ভলকভ (৫৮) আরভেনিয়ার রাষ্ট্রপতি। মা এলিনা ভলকভ (৫০) মার্জিত, বুদ্ধিমতী ও স্নেহশীল। ছোট ভাই রিদান (২৩) বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে পড়ে। ছোট বোন রুহি (১৬) একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। রিদান ও রুহি দুজনেই ভীষণ দুষ্টু, কিন্তু আরহাম সামনে এলে মুহূর্তে চুপ হয়ে যায়!
আরহামের দাদা আলেকজান্ডার ভলকভ (৮২) ও দাদি এলিজাবেথ ভলকভ (৭৮) পরিবারের প্রবীণ অভিভাবক।

চাচা রবার্ট ভলকভ (৫৪) ও চাচি সোফিয়া ভলকভের (৪৯) সন্তান লিও (২৬), ক্যাথরিন (২২) ও নোয়া (১৮)। তাদের বন্ধু রায়ান, সেরেনা ও ইথান।

ফুফু ভিক্টোরিয়া ভলকভ (৫২) ও ফুফা জেমস ব্লেকের (৫৫) সন্তান অ্যাড্রিয়ান (২৫) ও এমিলি (১৯)। তাদের বন্ধু জেসন ও অলিভিয়া।
মামা অ্যালবার্ট হেইস (৫১) ও মামী মারিয়া হেইসের (৪৭) সন্তান ড্যামিয়ান (২৪) ও লিলি (১৭)। তাদের বন্ধু কেভিন ও মিয়া।
খালা ইসাবেলা রোজ (৪৮) ও খালু রিচার্ড রোজের (৫০) সন্তান অ্যালেক্স (২৩) ও সোফি (১৬)। তাদের বন্ধু নাথান ও ক্লোয়ি।
⚡ আবার মুখোমুখি!

বিকেলে অনুষ্ঠান শুরু হলো। নায়রা বন্ধু তিথির সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করছিল। হঠাৎ আরহামকে দেখে তার মুখ কালো হয়ে গেল।
— আরে! সকালের সেই অহংকারী লোকটা!
তিথি ফিসফিস করে বলল,
— চুপ! উনি রাষ্ট্রপতির ছেলে!
নায়রা অবাক হলেও দমল না।
আরহাম কাছে এসে বলল,
— এবার নিশ্চয়ই বুঝেছেন আমি কে?
নায়রা মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— পরিচয় জানলাম, কিন্তু ব্যবহার এখনো ভালো হলো না!
ড্যানিয়েল হাসি চেপে দাঁড়িয়ে রইল।
ঠিক তখন একজন কর্মকর্তা রাষ্ট্রপতির হাতে একটি পুরোনো নথি দিলেন। তাতে লেখা নাম দেখে ভিক্টরের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
মাহমুদ রহমান।
ভিক্টর আরহামকে ডেকে নিচু স্বরে বললেন,
— এই মানুষটির সঙ্গে আমাদের পরিবারের বহু বছরের পুরোনো একটি রহস্য জড়িয়ে আছে।
আরহাম বিস্ময়ে নথির দিকে তাকাল। সে জানত না, সকালের সেই বেয়াড়া মেয়েটির পরিবারই একদিন তার জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে।
সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে নায়রা জানালার পাশে বসে সকালের ঘটনাটি ভাবছিল। লোকটার অহংকারী মুখ মনে পড়তেই সে বিরক্ত হয়ে বালিশে মুখ গুঁজল।
— আল্লাহ! আবার যেন ওই লোকটার সঙ্গে দেখা না হয়!
অন্যদিকে প্রাসাদে আরহাম নথিটি হাতে নিয়ে বাবার ঘরে বসেছিল। ড্যানিয়েল দরজায় দাঁড়িয়ে বলল,
— স্যার, আজকের মেয়েটির সঙ্গে আপনার আবার দেখা হলে কী করবেন?
আরহাম গম্ভীরভাবে বলল,
— কিছুই না।
ড্যানিয়েল মুচকি হেসে বলল,
— আপনার মুখ কিন্তু অন্য কথা বলছে!
আরহাম নথির দিকে তাকাল। মাহমুদ রহমানের নামের নিচে লেখা একটি পুরোনো তারিখ দেখে সে থমকে গেল। রহস্যটা কী?

আরহাম নথি হাতে রহস্যের সন্ধানে এগিয়ে গেল।

চলবে.

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন