ফন্ট সাইজ:
থিম:
ইতিহাস পরীক্ষার খাতায় রান্নাবান্না

পর্ব 1

লেখক: রহস্য কন্যা

🤣 ইতিহাস পরীক্ষার খাতায় রান্নাবান্না

✍️ লেখিকা: রহস্যকন্যা

পাঠ ১ — আকিকা নাকি রান্নার অনুষ্ঠান? 🌶️

সকাল ১০টা।

স্কুলের দশম শ্রেণির পরীক্ষার হল। সবাই নিজের নিজের খাতা নিয়ে ব্যস্ত। কেউ ইতিহাসের সাল মনে করার চেষ্টা করছে, কেউ আবার প্রশ্ন দেখে মাথা চুলকাচ্ছে।

ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্টু মেয়ে মেহু বসে আছে একদম পেছনের বেঞ্চে।

তার পাশে বসেছে তার বান্ধবী পিউ।

পিউ ফিসফিস করে বলল,

— মেহু, তিন নম্বর প্রশ্নের উত্তর লিখেছিস?

মেহু গম্ভীর মুখে বলল,

— হ্যাঁ।

— কী লিখেছিস?

— সেটা এখন বলা যাবে না। এটা আমার গবেষণা!

পিউ অবাক হয়ে তাকাল।

— ইতিহাস পরীক্ষায় আবার গবেষণা কীসের?

মেহু চোখ টিপে বলল,

— সময় হলে বুঝবি!

এদিকে স্যার খাতার মাঝখান দিয়ে হাঁটছেন। হঠাৎ একটা খাতার দিকে তাকিয়ে থমকে গেলেন।

প্রশ্ন ছিল:

আকিকা কেন করা হয়?

এক ছাত্রী উত্তর লিখেছে—

'গরু জবাই করে রান্না করে খাওয়ার জন্য।'

স্যার কিছুক্ষণ খাতার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর বললেন,

— বাহ! কী সুন্দর! আমার ছাত্রীরা ইতিহাস পরীক্ষায় এসব লেখে!

পুরো ক্লাস চুপ।

স্যার আবার বললেন,

— তোমাদের খাতা দেখে আমি নিজেই হাসি!

পেছন থেকে মেহু বলে উঠল,

— স্যার, রান্না করলে কিন্তু আমাকে ডাকবেন। তবে ঝাল একটু বেশি দিতে হবে!

ব্যস! পুরো ক্লাস হাসিতে ফেটে পড়ল।

পিউ বলল,

— আমার জন্য একটু গরুর মাংস রেখে দিস!

আরেকজন বলল,

— আমি কিন্তু বিরিয়ানি ছাড়া খাবো না!

স্যার এবার হেসে বললেন,

— তোমরা পরীক্ষা দিতে এসেছ, নাকি বিয়ের দাওয়াতে?

মেহু গম্ভীর মুখে উত্তর দিল,

— স্যার, দুটোই একসঙ্গে হয়ে যাচ্ছে!

স্যার কপালে হাত দিয়ে বললেন,

— হে আল্লাহ! এই ক্লাসের ভবিষ্যৎ কী!

পরীক্ষা শেষ হলো। সবাই খাতা জমা দিয়ে বেরিয়ে গেল।

কিন্তু মেহু তখনো হাসছে।

পিউ বলল,

— দোস্ত, তুই আজকে স্কুলের ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেলেছিস!

মেহু গর্ব করে বলল,

— আমার প্রতিভা সবাই বুঝতে পারে না!

ঠিক তখনই পেছন থেকে স্যারের আওয়াজ এল—

— মেহু! কাল তোমার বাবাকে নিয়ে স্কুলে আসবে!

মেহুর হাসি মুহূর্তেই উধাও।

— স্যার! আমি কি ইতিহাসের বদলে ভূগোল পরীক্ষা দিতে পারি?

স্যার বললেন,

— আগে তোমার ইতিহাসের চিকিৎসা করি, তারপর ভূগোল!

— বাবাকে নিয়ে স্কুলে হাজির! 😂

পরদিন সকাল ৯টা।

মেহু বিছানায় শুয়ে আছে। স্কুলে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাই তার নেই। কারণ গতকাল স্যার তাকে বাবাকে নিয়ে স্কুলে আসতে বলেছেন।

মা রান্নাঘর থেকে ডাক দিলেন,

— মেহু! তাড়াতাড়ি স্কুলে যাও। দেরি হয়ে যাচ্ছে!

মেহু কম্বল টেনে মুখ ঢেকে বলল,

— মা, আজ আমার শরীরটা ভালো নেই।

মা ঘরে এসে বললেন,

— কাল তোকে বিরিয়ানি খেতে দেখে মনে হয়নি শরীর খারাপ!

মেহু চুপ করে গেল।

— মা, মানুষ কি একদিনেই অসুস্থ হতে পারে না?

মা হেসে বললেন,

— পারে। কিন্তু তোর অসুস্থতা শুধু স্কুলের দিনেই কেন হয়?

অবশেষে মেহু স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হলো।

স্কুলের গেটে পিউ দাঁড়িয়ে ছিল।

পিউ মেহুকে দেখে বলল,

— কিরে, তোর বাবা কোথায়?

মেহু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

— বাবা আসতে চায়নি। বলেছে, আগে জানতে হবে আমি কী অপরাধ করেছি!

পিউ হেসে বলল,

— তোর অপরাধ তো ইতিহাসের বইয়েও লেখা নেই!

মেহু বলল,

— বেশি হাসিস না। তোকে নিয়েও স্যারের কাছে যাব!

দুজন ক্লাসে ঢুকতেই স্যার বললেন,

— মেহু, তোমার বাবা এসেছেন?

মেহু মাথা নিচু করে বলল,

— না স্যার, বাবা কাজে গেছেন।

স্যার বললেন,

— তাহলে আজ বিকেলে নিয়ে আসবে।

মেহু মনে মনে বলল, আজ বুঝি আমার শেষ দিন!

কিছুক্ষণ পর ইতিহাসের ক্লাস শুরু হলো।

স্যার বোর্ডে লিখলেন, 'আকিকা'।

তারপর জিজ্ঞেস করলেন,

— বলো তো, আকিকা কী?

পুরো ক্লাস চুপ।

মেহু আস্তে করে পিউকে বলল,

— সাবধানে থাকিস। আজ আবার রান্নার প্রশ্ন আসতে পারে!

পিউ মুখ চেপে হাসল।

স্যার শুনে ফেললেন।

— মেহু! দাঁড়াও তো। বলো, আকিকা কী?

মেহু উঠে দাঁড়িয়ে বলল,

— স্যার, আগের দিনের উত্তরটা কি আজও বলা যাবে?

স্যার হেসে বললেন,

— না, আজ সঠিক উত্তর চাই।

মেহু বলল,

— স্যার, তাহলে আজ থেকে আমি পড়াশোনা করব। রান্নাবান্না বন্ধ!

পুরো ক্লাস হেসে উঠল।

স্যারও হাসতে হাসতে বললেন,

— তোমাদের দিয়ে একদিন স্কুলে রান্নার প্রতিযোগিতা করাব!

পিউ সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— স্যার, বিচারক কিন্তু আপনাকেই হতে হবে!

স্যার বললেন,

— কেন?

পিউ উত্তর দিল,

— কারণ আমাদের রান্না খেয়ে বেঁচে থাকবেন কি না, সেটা আপনিই বুঝবেন!

এবার স্যারও হাসি থামাতে পারলেন না।

ছুটির ঘণ্টা বাজতেই মেহু দৌড়ে বেরিয়ে গেল।

পিউ পেছন থেকে চিৎকার করল,

— এই মেহু! কাল আবার কী রান্না হবে?

মেহু ঘুরে বলল,

— কালকের মেনু গোপন! আগে বাবাকে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করি!

বাড়ি ফিরে মেহু বাবার কাছে গিয়ে মিষ্টি হেসে বলল,

— বাবা, কাল একটু স্কুলে যাবে?

বাবা খবরের কাগজ নামিয়ে বললেন,

— কেন? আবার কী করেছিস?

মেহু বলল,

— কিছু না বাবা! স্যার তোমাকে একটু দেখতে চেয়েছেন।

বাবা সন্দেহের চোখে তাকিয়ে বললেন,

— তুই কি পরীক্ষার খাতায় প্রেমপত্র লিখেছিস?

মেহু চিৎকার করে বলল,

— ধুর বাবা! আমি কি এত খারাপ নাকি?

মা পাশ থেকে বললেন,

— ওর ইতিহাস পরীক্ষার খাতা দেখলেই সব বুঝতে পারবে!

মেহু মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,

— মা! তুমি আমার নিজের মানুষ হয়েও আমাকে ফাঁসিয়ে দিলে?

বাবা হেসে বললেন,

— কাল স্কুলে গিয়েই সব শুনব।

মেহু মনে মনে ভাবল, কাল বুঝি নতুন ইতিহাস তৈরি হবে!

মেহু বিড়বিড় করে বলল, — হায় আল্লাহ! কাল যেন স্যার ছুটিতে থাকেন!

কী যে বিপদ! 🤣

চলবে.

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন