ইংলিশ_টিচার
সুমনা হক
২পর্ব
এভাবে মিলি আর শুভর বিয়েটা হয়ে যায়।
বিয়ের পর মিলি একটা মিষ্টি নিয়ে শুভকে খাওয়াতে যায় আর শুভ খাবে না বলে দেয়।
মিলি জোর করে একটা মিষ্টি খাইয়ে বলে "করলা স্যার নেন মিষ্টি খান আর আপনার তিতো মুখটা মিষ্ট করেন।"
শুভ বেচারা রেগে আগুন হচ্ছিল।মিলি মনে মনে বলছিলো "করলা স্যার এইটা মাত্র ট্রেলার ছিলো ফুল মুভি তো বাকি"
এবার মিলির বিদায় এর পালা কিন্তু মিলি তো কান্নাকাটি করছেনা অন্য মেয়েদের মতো বরং সে হাসিহাসি মুখ করে গাড়িতে উঠে যাচ্ছে। ঠিক তখন মিলির বাবা শুভর হাতে ধরে বলে "বাবা প্লিজ আমার মেয়েটা দেখো, ও একটু পাগলাটে স্বভাব এর কিন্তু মেয়ে ভালো। আর বাবা আমার মেয়ের পড়াশুনা কিন্তু এবার তোমার দায়িত্ব,আমি চায়না সবাই ভাবুক একটা অযোগ্য মেয়েকে আমি তোমার ঘাড়ে ঝুলিয়ে দিয়েছি।
শুভ ও তাকে শান্তনা দিয়ে বললো টেনশন না করতে।
শুভ মিলির বাবাকে টেনশন করতে না বলে সে নিজেই টেনশন এ পরে গেছে।সে যে কলেজ এর টিচার সেখানকার সবচেয়ে খারাপ ছাত্রী হলো মিলি যে কিনা এখন তার স্ত্রী।
মিলি আর শুভ এবার শুভদের বাসায় চলে আসলো। মিলির শাশুড়ির তেমন মিলিকে পছন্দ হয়নি।
সব নিয়মাদি পালন করে অবশেষে এবার মিলিকে শুভর রুমে নিয়ে গেলো। মিলি তার শাশুড়ি কে বললো
-শাশুড়ি আন্টি আপনি আমাকে লাইব্রেরি তে কেন নিয়ে আসছেন? আপনার ঘরে কি আর রুম নাই থাকার মতো?
-লাইব্রেরি তে কেন নিয়ে আসবো? এইটা শুভর রুম আর আজ থেকে তোমাদের দুজনের রুম।আর হ্যা আম্মু বলবা আর না বলতে পারলে আন্টি বলবা এভাবে বলবেনা ঠিক আছে?
-আচ্ছা ঠিক আছে শাশুড়ি আন্টি না ইয়ে মানে আম্মু।
এরপর এক এক করে সবায় রুম খালি করে চলে গেলো।এক ননদ তো মজা করে রুমের লাইট ও অফ করে চলে গেছে।এদিকে এত্ত বই দেখে মিলির তো মাথা ঘুরপাক খাচ্ছে,মনে হচ্ছে যেন বইয়ের মধ্যে এলার্জি আছে মিলির।এরিমধ্যে শুভ এসে হাজির,রুমে লাইট অফ তাই সে বলে উঠলো
"মিলি "
মিলি বলে উঠলো "প্রেজেন্ট প্লিজ" থুক্কু জ্বী আছি।
শুভ বললো
-লাইট তুমি অফ করেছো?
-না আমি করিনি, আম্মুর সাথে আসছিলো তাদের মধ্যে কেউ একজন অফ করেছে।
শুভ লাইট অন করে মিলির পাশে বসেছে একটু কথা বলবে বলে ঠিক তখনি মিলি কাচের গ্লাসে রাখা দুধটা শুভর মাথায় ঢেলে দিলো।
শুভ মিলিকে ধমকের সুরে বললো
-এই মেয়ে শয়তানে ধরেছে নাকি?
-আপনার এক বোন আমাকে কানে কানে বলে গেলো তাই করলাম।
-আমার কোন বোন বলে গেছে? মিথ্যা বলা টা তো তোমার অভ্যাস।
-আসলে কানেকানে বলছে তো ঠিক বুঝি নাই।আর হ্যা আমাকে কিন্তু একবার জ্বিনে আছর করছিলো।আসলে মিথ্যা বলা আমার স্বভাব এ নাই তাই সব সত্যটা বলছি,এখনো মাঝেমধ্যে আমি দেখতে পায় তাদের। আসলে ঐ জ্বিন টা আমাকে পছন্দ করতো তো এখন আমার বিয়ে হয়ে গেছে শুনলে আল্লাহ না করুক আপনার সাথে খারাপ কিছু না হয়ে যায়।
-এই মেয়ে আমি তোমার টিচার। তাই এসব আলতো ফালতু গল্প বলে আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করবেনা। আর এসব জ্বিন আমাদের বাসায় চার পাঁচটা সেই ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি,আমার দাদা জ্বিন পোষে জানতে না তুমি?
-কি? জ্বিন আছে এ বাসায়। ও আল্লাহ কি বলে এসব না না আমি থাকছিনা এ বাসায়। শ্বশুর আংকেল কে ডাক দিন আমি বাসায় যাবো।
বাসরঘরে বসে মিলি শ্বশুর আংকেল, শ্বশুর আংকেল বলে চিৎকার করছে। শুভ ব্যাপার টা আর বেশিদূর যেতে না দিয়ে মিলির মুখ চাপা দিয়ে ধরে ধমকের সুরে বললো
-চুপ,একদম চুপ।তোমার সাথে না জ্বিনেরা দেখা করে? তাহলে তুমি অযথা ভয় পাচ্ছো কেন? এসব তো তোমার অভ্যাস হয়ে যাওয়ার কথা।
মিলি এবার চুপ হয়ে গেলো।সে ভাবছে সত্যিটা কি বলে দিবে যে সে কোনো জ্বিন দেখেনি, শুধু ভয় দেখাতে চেয়েছিল শুভকে নাকি আপাতত চুপ থাকবে আর সকাল সকাল বাসায় চলে যাবে।
মিলির খুব ইচ্ছা ছিলো শুভকে তার বাসর রাতে রুম থেকে বের করে দিবে যেমন টা শুভ মিলির সাথে কলেজ এ করেছে। আপাতত মিলি এই ইচ্ছে টা পূরণ করতে পারছেনা কারন একা থাকা আজ আর তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছেনা।মিলি মুখ গোমরা করে বসে আছে কিছুই বলছেনা, আসলে মিলি নিজেই নিজের করা ফাঁদে আটকে গেছে।
শুভ মিলিকে বললো
-মিলি একটু এদিকে এসে বসবে, কথা আছে আমার।
-দেখেন স্যার আমি আপনার ছাত্রী, আর আপনি আমার শিক্ষক।
-তো?
-শিক্ষক কিন্তু বাবার সমান।
-আমি তোমার বাবার সমান? তাহলে আমাকে বিয়ে করছো কেন? ওয়েট এক সেকেন্ড এই মিলি তোমার মনে হচ্ছে আমি এখন তোমাকে ১৮+ এমন কিছু কথা বলবো?
-না মানে বলতে ও তো পারেন।
-মাইর চিনো? আচ্ছা এসব বাদ দেও এবার এটা বলো তোমার বোন কোথায়?
-আমি কি জানি, আপনি তো স্যার জানেননি আমি মিথ্যা কথা বলিনা।
-তুমি যে কত সত্যবাদী তা আমি জেনে গেছি। এখন বলো তোমার বোন কোথায়?
-আচ্ছা এসব শাড়ী পড়ে আর থাকতে পারছিনা আপাতত আমি একটু ফ্রেস হয়ে আসি তারপর বলছি।
-মিলি তুমি কিন্তু কথা ঘুরানোর চেষ্টা করছো।
মিলি শুভর কথা পাত্তা না দিয়ে ওয়াশরুম এ যায়।সেখান থেকে এসে মিলি এবার শুভকে বলে
-আমার খিদা লাগছে।আপনার জন্য সারাদিন কিছুই খাওয়া হয়নি।আর রাতেও তেমন কিছু খাওয়া হয়নি।
-তো আমি কি করবো?
-আমার জন্য খাবার নিয়ে আসেন।
-এই রাতে আমি তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসবো? মাথা খারাপ হয়েছে?
-না খাবার পেলে তো বলবো না। খিদা রেখে আমি এত্ত কথা বলতে পারবোনা।
বেচারা শুভ বাসর রাতে বিড়াল এর মতো নিজের বাসায় নিজে খাবার চুরি করে।কেউ দেখলে তো শুভর আজ কপাল খারাপ হয়ে যাবে ।
দুপুর হয়ে গেলো সবাই খাবার টেবিলে এসেছে আজ নতুন বউ রান্নাবাড়া করেছে। শুভ শিওর যে আজ মিলি তার মায়ের কাছে বকা শুনবেই।
সবাই আসার পর মিলি যখন খাবার পরিবেশন করলো শুভ জাস্ট হা হয়ে ছিলো।
শুভ ঠিক বুঝতেই পারছেনা যে মেয়ে মাছটাই ধরতে পারছিলনা সে কিভাবে এই রান্না করলো।শুভর প্রশ্ন একটাই মিলি কিভাবে পারলো?
চলবে,,,,