ইংলিশ টিচার
সুমনা হক
পর্বঃ৭
-এই যে ডিভোর্স পেপার নেন সিগনেচার করেন,আর আমাকে বিয়ে করেন।
-কি বলছেন এসব! মাথা ঠিক আছে তোমার রিমি??
-মাথা খারাপ হওয়ার মতো কি আমি কিছু বলেছি??
- তোমার কি মনে হচ্ছেনা তা রিমি?
-কই না তো।আমার বোন আপনাদের বাসার যোগ্য না তাই তাকে এত্ত কথা বললেন তাই আমার বোন তার ভুল বুঝতে পেরেছে, আমার সাথে তো আপনার বিয়ে হওয়ার কথা তাই না এখন কি প্রবলেম?
-কথা ছিলো রিমি কিন্তু সেটা তো আর হয়নি?
-তাতে কি আমি তো এখন রাজি আপনাকে বিয়ে করতে।আপনার তো আমাকে পছন্দ আর আমি শিক্ষিত ও। আর মিলি ও এইটাই চাচ্ছে দেখেন সে ডিভোর্স লেটার এ সিগনেচার করে দিয়েছে,সে এখন এইটাই চাচ্ছে যাতে আমরা আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারি যা ভুল সে করেছে তা পরিশুদ্ধ করতে পারে।
আসলে সেই রাতে মিলি নিজের যোগ্যতা, নিজের স্থান এই বাসায় কোথায় তা বুঝতে পেরেছিলো আর তখনি সে সিদ্ধান্ত নেয় আপনার সাথে আমার বিয়ে টা দিয়ে দিবে আর তাই সে চলে গেছে।
আমিই আসতে একটু সময় নিয়েছি, সব কিছু আবার নতুন করে শুরু করতে একটু তো সময় লাগেই।
শুভ মনে হয় আকাশ থেকে পরেছে, শুভর কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা।
কি বা বলা যায় তখন,রিমি তো আর কিছু ভুল বলেনি।
শুভ অনেকটা রেগে গিয়ে বলে
-তোমরা দুই বোন কি শুরু করছো?
একজন জোর করে বিয়ে করছে আর অন্যজন জোর করে ডিভোর্স দিতে বলতেছে।আমার কি কোনো মতামত নেই??
-আপনার মতামত ছাড়া বিয়েটা কি হয়েছিলো?
-না।
-তাহলে?
-দেখো রিমি আমি এখন ডিভোর্স নিয়ে কিছুই চিন্তা করছিনা।
-আচ্ছা এখন দিতে হবেনা,কিছুদিন সময় দেয় তাহলে।কত দিন সময় লাগবে?
-আজব তো! কি শুরু করলে?
-কি করলাম? আচ্ছা আপনাকে ১ সপ্তাহ সময় দিচ্ছি ভেবে বলেন।আর এই ১ সপ্তাহ আমি এখানেই থাকবো।
শুভ চুপ আসলে হয়তো কি বলবে ভেবে পাচ্ছেনা।
রিমি মিলির শাশুড়ি কে গিয়ে বলে
-আন্টিজি আপনি এত্ত পড়ালেখা করে কি করলেন?
চাকরি তো করলেন না।আচ্ছা বাদ দেয় এসব, আপনি এটা বলেন কি কি রান্নাবাড়া করতে পারেন?
আসলে আমি তো চাকরি করবো আমাকে তো আপনার রান্নাবাড়া করে খাওয়াতে হবে আর শুধু আমাকে না আমার বাচ্চাকাচ্চা সব তো আপনাকেই রাখতে হবে।
আমি যদি জব করি আপনি আপনার পাড়াপড়শিদের কাছে কত গর্ভ করে বলতে পারবেন আমার বউমা তো বিসিএস ক্যাডার তাই না? পড়ালেখা না পারলে হয় বলেন তো আন্টিজি, হয়না তো একদম হয়না তাই না আন্টিজি।
মিলির শাশুড়ি বুঝে গেলো রিমি কেন এসব বলছে তাই সে আর প্রতিবাদ করেনি।
রাতে রিমি মিলি যে রুমে ঘুমাতো সে রুমে গেলো থাকতে আর শুভ তো গেস্ট রুমেই থাকে।
শুভ আসলো রিমির সাথে দেখা করতে।
শুভ বললো
-রিমি আসবো?
-অনুমতি নেওয়ার কিছু নেই আর মাত্র কিছুদিন তারপর এই রুম দুজনের।
-রিমি তুমি কি চাচ্ছো??
-দেখেন আমার বোনকে আপনি বিয়ে করেছেন যেখানে আমার বিয়ে করার কথা, আমি কিন্তু মিলি বিয়ে করেছে বলে রাগ করিনি কিন্তু রখন যখন মিলি যোগ্য না বলে আপনারা তার সাথে খারাপ আচরণ করলেন তার মানে আপনি মিলির থাকে সংসার করবেন না।
তাহলে মাঝখানে আমি কেন সব ছেড়ে দিবো? বিয়ে যেহেতু আবার করবেন তাহলে আমাকেই কেন নয়?
-রিমি আপাতত আমি আবার বিয়ে করবো এমন কিছু ভাবিনি।
-ভাবেননি কেন? আর তাছাড়া ভাবার কিছু নেই এখানে আপনি এই ১ মাসে মিলির খবর নিয়েছেন?
নেননি তো তাহলে? এখন মিলির সাথে আপনার বিয়েটা শুধু নামমাত্র বিয়ে হয়ে গেলো।
তাই আমি চাচ্ছি যা হয়েছে সব ভুলে আমরা আবার নতুন করে সব শুরু করবো।
শুভ চুপ করে আছে দেখে রিমি বললো
-আচ্ছা এই বাসায় নাকি ভুত আছে?
আমার অনেক শখ ভুত দেখার, আসেন দুজন ছাদে গিয়ে ভুতের সাথে আমাদের বিয়ের কথাটা বলে আসি।
শুভ রুম থেকে কিছু না বলে চলে আসলো।
রিমি দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে গেলো।
তার পরদিন রিমি মিলির শাশুড়ি কে বললো
-আচ্ছা আন্টিজি, এই যে বাংলাদেশ নতুন স্যাটেলাইট পাঠালো মহা আকাশে তা নিয়ে আপনার মতামত টা একটু বলেন।
মিলির শাশুড়ি মায়ের মুখটা পাকা আম গাছ থেকে পরলে যেমন হয় ঠিক তেমন হয়ে গিয়েছিলো।
আচ্ছা এইসব বাদ দেই চলেন আমরা সাহিত্য নিয়ে একটু আলাপ করি।
আচ্ছা আন্টিজি আপনি রবীন্দ্রনাথ এর শেষের কবিতা উপন্যাস টা পড়েছেন??
লাবণ্য কে ভালো লেগেছে?
না না আপনার তো লাবণ্য কে ভালো লাগার কথা না।
মিলির শাশুড়ি কথা না বলে বাংলার পাঁচের মতো মুখ করে কি জানি বিড়বিড় করতে করতে রান্নাঘরে চলে গেলো।
রিমি এবার শুভর রুমে গেলো গিয়ে বললো
-শুভ আপনি কি করছেন?
-কিছুনা।
-কলেজ গেলেন না কেন?মুড ঠিক নেই?আচ্ছা এখন তো মিলি নেই, সে আপনাকে বিরক্ত করছেনা তাও আপনার মুখে হাসি নেই কেন?
-রিমি আপনি কিছু বলতেন?
-নাহ আমি তো আপনার সাথে পড়তে আসছি।আচ্ছা আপনি পথেরপাঁচালি পড়েছেন?
-না পড়িনি আর এখন পড়বো ও না।
-না কেন? এখনি পড়বেন আর ভালো কিছু বই এর নাম বলেন যেগুলো আমি পড়তে পারি।
-রিমি সব সময় সব কিছু করতে তো ভালো লাগেনা।
-কক্সবাজার এ বসে ইংলিশ পাঠ্যবই পড়তে ভালো লাগে আর ছুটির দিনে গল্পের বই পড়তে আপনার ইচ্ছে হচ্ছেনা??
না না আমি তো এসব বিশ্বাস করিনা।
চলেন বই পড়ি।
শুভ আবারো কিছু না বলে রুম থেকে চলে গেলো।
এভাবেই ১ সপ্তাহ কাটার পর রিমি সবাই কে ডেকেছে।
বাসার সবাই উপস্থিত শুধু একজন কে দেখা যাচ্ছেনা আর সে মিলির শ্বশুর আংকেল, সে বেশ কিছুদিন হলো অফিসের কাজে দেশের বাহিরে আছে।
চলবে,,