উপন্যাস : আদ্রিয়নের অর্ধাঙ্গিনী 🌹🫀
লেখিকা জয়নব মাশা
পর্ব ১
সিজন ১
“কুট কুট কুট কুট! ও পুষ্প! ও পুষ্প! তোগো বাড়ি আজ শহর থেইকা কেডা কেডা আইবো রে?”
উঠানের এক কোণে বসে আপন মনে খেলতেছিল পুষ্প। সামনে কয়েকটা পুতুল, পাশে মাটির হাঁড়ি-পাতিল, আর মুখে একগাদা বকবকানি। পুতুলের বিয়ে দিতেছিল সে। পুতুলের বরকে পুতুলের বউয়ের পাশে বসাইয়া নিজেই আবার দুই পক্ষের ঝগড়া মিটমাট করতেছিল।
এমন সময় নানার গলার আওয়াজ শুনে পুষ্পর হাত থাইমা গেল। পুতুলের বরকে মাঝপথে ফালাইয়া সে ধামাইয়া উঠানের দিকে আইল।
“ওই নানা! কী হইছে? এমন কইরা ডাকতাছো ক্যান? বাড়িতে কি চোর আইছে নাকি?”
নানা চোখ বড় বড় কইরা কইল, “চোর আইলে কি তোরে ডাক দিতাম? তুই কি চোর ধরবি, নাকি চোর তোরে ধইরা নিয়া যাইবো?”
পুষ্প কোমরে দুই হাত দিয়া কইল, “চোর আমারে ধরবো ক্যান? আমি তো চোরের চাইতেও চালাক!”
নানা একবার পুষ্পর দিকে তাকাইল, আরেকবার নিজের মাথায় হাত বুলাইয়া কইল, “হ, তুই যে কত চালাক, সেইডা তো দুনিয়ার মানুষ জানে! তোর চালাকি দেইখা তো আমার মাথার চুল পর্যন্ত পলাইতে চায়!”
পুষ্প দাঁত বাইর কইরা হাসল।
“আচ্ছা নানা, এখন কও কী হইছে?”
নানা গলা খাঁকারি দিয়া কইল, “ছোট বাবা কইল, আমরাও নাকি তোগো বাড়ি যামু। শহর থেইকা মানুষজন আইবো। তা, ওরা কী করতে আইবো জানস কিছু?”
পুষ্পর মুখের হাসি এক মুহূর্তে মিইল্যা গেল। সে কোমরে হাত দিয়া এমন ভঙ্গিতে দাঁড়াইল, যেন গ্রামের সব খবর তার পেটের ভিতর জমা আছে।
“ওই নানা! আমি কী জানি? আমি কি তোগো বাড়ির খবরের কাগজ নাকি? আমারে কি কেউ কিছু কয়? আইজ বড় আপারে দেখলাম, মন খারাপ কইরা বইসা আছে। কিছু একটা হইছে মনে হয়।”
নানা মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে কইল, “তাই নাকি? তা তুই কিছু জিগাইছস?”
“জিগামু ক্যান? বড় আপার মন খারাপ, আমার মন খারাপ। আমি আবার জিগাইলে উনি কইবো, ‘পুষ্প, তুই চুপ কর!’ তখন আমার মন আরও খারাপ হইবো। তার চাইতে না জিগানোই ভালো!”
নানা পুষ্পর কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ কইরা রইল। তারপর দীর্ঘশ্বাস ফালাইয়া কইল, “তোর মাথায় যে কী চলে, আল্লাই জানে!”
পুষ্প সঙ্গে সঙ্গে কইল, “আমার মাথায় বুদ্ধি চলে নানা! তোগো মাথায় তো খালি বাতাস চলে!”
নানা চোখ রাঙাইয়া কইল, “এই মাইয়া! বেশি পাকনামি করিস না। যা, খেলগা। আমি যাই।”
পুষ্প মিষ্টি হাসি দিয়া কইল, “আচ্ছা নানা, যাও। আমারে আবার ডাক দিও, যদি কোনো মজার খবর পাও!”
নানা বিড়বিড় করতে করতে চলে গেল। আর পুষ্প দাঁড়ায়া দাঁড়ায়া নানার যাওয়া দেখল।
তারপর নিজের মনেই কইল, “শহর থেইকা মানুষ আইবো! কী জানি, শহরের মানুষজন আবার কী রকম হয়! কথা কয় ইংরেজিতে, নাকি হাঁটে ইংরেজিতে?”
এই ভাবতে ভাবতেই সে আবার খেলতে বসল। কিন্তু তার মন আর খেলায় বসে না। পুতুলের বরকে সে একবার বসায়, একবার শোয়ায়, একবার আবার হাঁড়ির ভিতর ঢুকাইয়া দেয়।
শেষমেশ পুতুলের বউর দিকে তাকাইয়া কইল, “তোর বররে আমি আর সহ্য করতে পারতাছি না। এই লোকের কোনো কাজ নাই! খালি বইসা থাকে!”
পুতুলের বউ তো আর কথা কয় না। তাই পুষ্প নিজেই তার পক্ষ থেইকা কইল, “হ, তোরও মনে হয় একই কথা!”
কিছুক্ষণ পর পুষ্পর দুই বান্ধবী শারমিন আর জান্নাত আইল।
শারমিন কইল, “কী রে পুষ্প? আজ তোর পুতুলের বিয়ে নাকি?”
পুষ্প মুখ বাঁকাইয়া কইল, “বিয়ে তো দিছি, কিন্তু বরটা একেবারে অকর্মা। কোনো কাজ করে না। খালি বউয়ের পাশে বইসা থাকে!”
জান্নাত হেসে কইল, “তোর পুতুলের বরও তোর মতোই কপাল কইরা জন্মাইছে!”
পুষ্প চোখ পাকাইয়া কইল, “তোরে আমি পরে দেখতাছি!”
কিন্তু পুষ্পর মাথায় তখন অন্য চিন্তা। সে পুতুলগুলারে একপাশে সরাইয়া কইল, “এই শোন, চল তেঁতুল খাইগা আসি।”
শারমিন চোখ বড় বড় কইরা কইল, “এখন? তোর ছোট বাবা তো বাজারে গেছে। এই পথ দিয়াই আইবো। দেখলে আবার বকবো!”
পুষ্প এমনভাবে হাত নাড়াইল, যেন এই কথার কোনো দামই নাই।
“বকলে বকবো! তেঁতুল খাইতে কি আর অনুমতি লাগে নাকি? তেঁতুলগাছ কি ওনার বাপের?”
জান্নাত কইল, “তোর ছোট বাবা যদি তোরে গাছের উপর দেইখা ফেলে, তখন কী হইবো?”
পুষ্প বুক ফুলাইয়া কইল, “তখন কইমু, গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতাছিলাম!”
শারমিন আর জান্নাত একসঙ্গে হেসে উঠল।
পুষ্প হাত নাড়াইয়া কইল, “হইছে, হইছে! হাসা বন্ধ কর। চল, তেঁতুলগাছের দিকে যাই। আমার পেটের ভিতর তেঁতুলের জন্য একটা আলাদা ঘর আছে!”
তিনজন রওনা দিল। পুষ্প হাঁটতেছিল সবার আগে, এমন ভাব যেন তেঁতুলগাছ তার নিজের জমিদারি।
গাছের কাছে আইসা পুষ্প একবার চারপাশে তাকাইল। তারপর শারমিনরে কইল, “এই শারমিন, তুই আগে উঠ। তুই উঠলে গাছটা বুঝবো, মানুষ উঠতাছে!”
শারমিন কইল, “তুই উঠবি না?”
পুষ্প গম্ভীর মুখে কইল, “আমি উঠলে গাছের ডাল ভেঙে যাইতে পারে। আমি তো অনেক ভারী মানুষ!”
জান্নাত নিচে দাঁড়ায়া কইল, “তুই ভারী মানুষ না, তুই ভারী পাগল!”
পুষ্প আর কথা বাড়াইল না। এক লাফে গাছের নিচের ডাল ধরল। তারপর এমনভাবে উঠতে লাগল, যেন গাছের ডালগুলা তারে দাওয়াত দিয়া উপরে নিয়া যাইতাছে।
গাছে উঠেই সে চিৎকার দিল, “এই জান্নাত! নিচে দাঁড়ায়া কী করস? পাহারা দে! ছোট বাবা আইলে আগে চিল্লাইবি!”
জান্নাত কইল, “ছোট বাবা আইলে তুই কী করবি?”
পুষ্প তেঁতুল পাড়তে পাড়তে কইল, “আমি গাছের ডালে লুকাইয়া যামু!”
শারমিন হাসতে হাসতে কইল, “তোরে গাছে দেখলে ছোট বাবা চিনবো না?”
পুষ্প কইল, “চিনলে কইমু, আমি পুষ্প না। আমি তেঁতুলের পাতা!”
তিনজনের হাসিতে তেঁতুলগাছের পাখিরাও যেন চমকাইয়া উঠল। পুষ্প একের পর এক তেঁতুল পাড়তেছিল। তার আঁচল তেঁতুলে ভইরা গেল। শারমিনও কম যায় না। জান্নাত নিচে দাঁড়ায়া তেঁতুল খাইতে খাইতে পাহারা দিতেছিল।
কিছুক্ষণ পর পুষ্প কইল, “এই শারমিন, তেঁতুলটা একটু টক হইছে না?”
শারমিন মুখ কুঁচকাইয়া কইল, “টক না হইলে তেঁতুল খাইতাছি ক্যান?”
পুষ্প মাথা নাড়াইয়া কইল, “ঠিক কথা! মিষ্টি তেঁতুল খাইলে তো দাঁত ব্যথা করবো!”
তেঁতুল খাইতে খাইতে তিনজনের আর খেলার কথা মনে রইল না। শেষমেশ গাছ থেইকা নামার সময় পুষ্পর পা একবার পিছলাইয়া গেল। সে তাড়াতাড়ি ডাল আঁকড়াইয়া ধরল।
নিচে দাঁড়ায়া জান্নাত চিৎকার দিল, “ওই পুষ্প! পড়ে যাস না!”
পুষ্প ডাল ধইরা ঝুলতে ঝুলতে কইল, “আমি পড়তাছি না! গাছের লগে একটু কোলাকুলি করতাছি!”
শারমিন হাসতে হাসতে বলল, “তুই নাম, তোরে দেইখা আমারই ভয় লাগতাছে!”
পুষ্প শেষমেশ নিচে নামল। তারপর আঁচল ঝাড়তে ঝাড়তে কইল, “চল, এবার পুকুরপাড়ে যাই। এই গাছের লগে আর কোলাকুলি করমু না!”
তিনজন হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের বড় পুকুরের পাড়ে আইল। পুকুরের চারপাশে গাছপালা, পাখির ডাক, আর মাটির পথ। পুষ্প খালি পায়ে হাঁটতেছিল। কাদামাটির উপর পা ফেলতেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
“আহা! গ্রামের মাটির মজাই আলাদা! শহরের মানুষজন এই মজা বুঝবো না!”
জান্নাত কইল, “তুই শহরে গেছস কবে?”
পুষ্প এক মুহূর্ত থামল। তারপর গম্ভীর মুখে কইল, “যাই নাই তো কী হইছে? আমার বুদ্ধি দিয়া সব বুঝি!”
শারমিন কইল, “তোর বুদ্ধি দিয়া তুই একদিন নিজেরে তেঁতুলের গাছ মনে করবি!”
পুষ্প কইল, “তখন তুই আমার ডালে উঠবি!”
তিনজন আবার হেসে উঠল।
ঠিক সেই সময় পুষ্পর চোখ পড়ল পুকুরের পাশের পথ দিয়া হাঁটতে থাকা একজন মানুষের দিকে। সাদা পাঞ্জাবি পরা, হাতে ব্যাগ, পাশে এক নতুন মাইয়া।
পুষ্প চোখ কুঁচকাইয়া তাকাইল। তারপর হঠাৎ চিৎকার দিল,
“আরে! এইডা তো ডাক্তার লালু কাকা!”
ডাক্তার লালু মিয়া গ্রামের পরিচিত ডাক্তার। কারও জ্বর হইলে, কারও পেট ব্যথা হইলে, কারও মাথা ঘুরলে—সবাই তার কাছেই যায়। কিন্তু পুষ্পর কাছে লালু ডাক্তার শুধু ডাক্তার না, তার একেবারে প্রিয় কাকা।
আর আজ কাকার পাশে নতুন এক মাইয়া!
পুষ্পর চোখ চকচক কইরা উঠল। সে শারমিন আর জান্নাতরে কইল, “এই দাঁড়া! আজ তো মজার খবর পাইছি!”
শারমিন কইল, “কী খবর?”
পুষ্প ঠোঁটে আঙুল দিয়া কইল, “চুপ! আগে খবরটা নিশ্চিত করি!”
তারপর সে এক দৌড়ে গিয়া ডাক্তার লালুর হাত ধরল।
“আরে কাকা! তুমি ডাক্তার হইছো হুদাই গো!”
লালু ডাক্তার চমকাইয়া উঠল।
“আরে পুষ্প! কী হইছে? আবার কী রোগ ধরছে তোর?”
পুষ্প এমনভাবে মুখ বাঁকাল, যেন তার বুকের ভিতর দুনিয়ার সব দুঃখ জমা হইয়া আছে।
“কাকা, তোমার ডাক্তারি বিদ্যা সব ফালতু!”
লালু ডাক্তার অবাক হইয়া কইল, “কী কস রে? আমি কি মানুষ সুস্থ করতে পারি না?”
পুষ্প বুক চাপড়াইয়া কইল, “না কাকা! তুমি সবার বেলায় পারো, খালি আমার বেলায় পারো না!”
লালু ডাক্তার এবার একটু চিন্তায় পড়ল। পুষ্পর মুখের দিকে তাকাইয়া কইল, “কেন রে? তোর আবার কোন রোগ হইল?”
পুষ্প গম্ভীর মুখে কইল, “রোগ তো অনেক দিন ধরেই আছে কাকা!”
“কী রোগ?”
পুষ্প এক হাত বুকের উপর রাখল, আরেক হাত দিয়া লালু ডাক্তারের হাত শক্ত কইরা ধরল।
“মনের রোগ!”
লালু ডাক্তার কপাল কুঁচকাইয়া কইল, “মনের রোগ আবার কী?”
পুষ্প দীর্ঘশ্বাস ফালাইয়া কইল, “আহা কাকা! তুমি ডাক্তার মানুষ, এইডাও বুঝো না? আমি যে তোমারে মন দিয়া ফেলছি!”
এই কথা শুনে শারমিন আর জান্নাত মুখ চেপে ধরল। তাদের হাসি এমনভাবে আটকা পড়ল, যেন মুখের ভিতর দুইটা হাঁস ডানা ঝাপটাচ্ছে।
লালু ডাক্তার এবার হেসে কইল, “তুই আবার আমারে মন দিলি কবে?”
পুষ্প চোখ মুছার ভান কইরা কইল, “কাকা, এইডা কি আর মুখে কওয়ার কথা? তুমি আমার দিকে তাকাইলা না, আমার ভালোবাসার দাম দিলা না। উল্টা পলাইয়া পলাইয়া আরেকখান গ্রামের মাইয়া নিয়া আইলা!”
পাশে দাঁড়ায়া থাকা নতুন বউর মুখের হাসি একটু একটু কইরা উধাও হইতে লাগল।
লালু ডাক্তার তাড়াতাড়ি কইল, “আরে পুষ্প! এইডা কী কস? উনি আমার বউ!”
পুষ্প সঙ্গে সঙ্গে কইল, “তাই তো কইতাছি! আমারে না জানাইয়া বউ নিয়া আইছো ক্যান?”
লালু ডাক্তার মাথায় হাত দিয়া কইল, “তোরে জানাইতে হইবো নাকি?”
পুষ্প এবার এমনভাবে বুক ফুলাইল, যেন সে গ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
“অবশ্যই জানাইতে হইবো! আমি কি তোমার পর মানুষ নাকি?”
শারমিন আর জান্নাত এবার আর হাসি আটকাইতে পারল না। দুইজন একসঙ্গে হেসে উঠল।
লালু ডাক্তার পুষ্পর দিকে তাকাইয়া কইল, “আচ্ছা, তোর আবার কী হইছে? তুই কি আমারে সত্যি সত্যি ভালোবাসস?”
পুষ্প এক মুহূর্তও দেরি করল না।
“হ কাকা! তোমারে আমি অনেক ভালোবাসি। তুমি আমারে ভালোবাসো না, তাতে আমার কী? আমি তো একতরফা ভালোবাসার মানুষ!”
লালু ডাক্তার এবার হেসে কুটিকুটি।
“আরে পাগলি! আমার দ্বিতীয় বউ তো তুই-ই! এইডা তো তোর কাকি!”
পুষ্পর চোখ গোল হইয়া গেল। তারপর সে নতুন বউর দিকে তাকাইয়া এমন মিষ্টি হাসি দিল, যেন একটু আগের সব কথাই সে ভুলে গেছে।
“ওই কাকি গো! আমার মিষ্টি কাকি! তুমি কিছু মনে কইরো না। আমি তো খালি একটু মজা করলাম!”
নতুন বউ বিরক্ত মুখে কইল, “এই মাইয়া, তুমি সব সময় এমন করো?”
পুষ্প সঙ্গে সঙ্গে কইল, “না কাকি! সব সময় করি না। মাঝে মাঝে করি। আজকে একটু বেশি হইয়া গেছে!”
লালু ডাক্তার মাথা নাড়াইয়া কইল, “তুই আমারে একদিন পাগল কইরা ছাড়বি!”
পুষ্প হেসে কইল, “কাকা, তুমি তো ডাক্তার! পাগল হইলে নিজের চিকিৎসা নিজেই কইরো!”
এই কথা শুনে শারমিন আর জান্নাত আবার হেসে উঠল।
নতুন বউ এবার একটু বিরক্ত হইয়া লালু ডাক্তারের দিকে তাকাইল। লালু ডাক্তারও বুঝতে পারল, পুষ্পর দুষ্টুমি আর বেশি বাড়াইলে আজকে বাড়ি গিয়া নিজেরই চিকিৎসা লাগতে পারে।
সে তাড়াতাড়ি কইল, “আচ্ছা পুষ্প, আমরা যাই। তুইও বাড়ি যা।”
পুষ্প মাথা নাড়াইয়া কইল, “আচ্ছা কাকা, যাও। কাকি গো, ভালো থাইকো। আর কাকার দিকে একটু খেয়াল রাইখো। মানুষটা কিন্তু খুব সহজ-সরল!”
লালু ডাক্তার মুখ বাঁকাইয়া কইল, “এই মাইয়া! আমারে আর কত ছোট করবি?”
পুষ্প হেসে কইল, “আমি তো তোমারে ছোট করতাছি না কাকা! তুমি তো এমনিতেই ছোট!”
লালু ডাক্তার আর কথা বাড়াইল না। নতুন বউরে লইয়া হাঁটা ধরল।
পুষ্প কিছুক্ষণ তাদের যাওয়া দেখল। তারপর শারমিন আর জান্নাতের দিকে ফিরল।
“চল, এবার বাড়ি যাই। আজকে অনেক মজা হইছে!”
জান্নাত হাসতে হাসতে কইল, “তুই একদিন না একদিন সত্যি সত্যি কারও মাথা খারাপ করবি!”
পুষ্প গর্বের সঙ্গে কইল, “এইডাই তো আমার কাজ!”
চলবে...