লেখকের নাম: জান্নাত ইসলাম বর্ষা
গল্পের নাম: শেষ বিকেলের চিঠি:
1 পর্ব, অচেনা চিঠি)
শহর খুব বড় নয়,ছোট একটা নদী শহরটা দুই ভাগে ভাগ করে রেখেছে। নদীর পাড়ে দাঁড়ালে দূরে দেখা যায় সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছ। বসন্ত এলেই গাছগুলো লাল ফুলে ফুটে উঠে,।
এই শহরেই থাকতো মায়া।
ষোলো বছরের মায়া খুব শান্ত স্বভাবের মেয়ে।
ইস্কুল, পড়াশোনা, তার প্রিয় ডাইরি আর বিকেলের বারান্দা -এই নিয়েই তার ছোট পৃথিবী।-
প্রতিদিনের মত সেদিনও ইস্কু থেকে ফিরে এসে মায়া বারান্দায় বসে ছিল। হাতে তার পুরুনো ডাইরি।পাতা গুলো উল্টোতে উল্টাতে হঠাৎ একটা নামের ওপর এসে তার আঙ্গুল থেমে গেল।
আরিয়ান।-
নামটা দেখলেই মায়ার মনে পড়ে যেত তিন বছর আগের কথা।
আরিয়ান ছিল তার ছোটবেলার বন্ধু।একই ইস্কুলে পড়ত তারা। প্রতিদিন একসঙ্গে ইস্কুলে যেত নদীর পাড়ে বসে গল্প করতো, আর মায়ার লেখা গল্পগুলো পড়ে আরিয়ান বলতো -একদিন তুমি অনেক বড় লেখিকা হবে।"
কিন্তু একদিন হঠাৎ আরিয়ান শহর ছেঁড়ে চলে গিয়েছিলো।
কোন বিদায় নয়,।
কোন ফোন নয়,।
কোন চিঠিও নয়,।
তিন বছর ধরে মায়া অনেকবার ভেবেছে, হয়তো আরিয়ান তাকে ভুলে গেছে।
তবুও তার ডায়েরির পাতায় নামটা রয়ে গেছে।
ঠিক তখনই নিচ থেকে মায়ার মা ডাকলেন
মায়া" তোমার নামে চিঠি এসেছে মায়া অবাক হয়ে ডায়েরী বন্ধ করল। আমার নামে চিঠি?সে নিচে নেমে দরজার দিকে গেল।
ডাকপিয়ন তার হাতে একটা ছোট সাদা খাম দিয়ে চলে গেল।
খামের উপর শুধু লেখা -
মায়ার জন্য ";
প্রেরকের কোন নাম নেই।
তারপর তার বুকটা কেঁপে উঠলো।
এই হাতের লেখাটা সে তিন বছর পরও ভুলতে পারেনি।
আরিয়ান"
মায়া কিছুক্ষণ চুপ করে দাড়িয়ে রইলো। তারপর দৌড়ে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল। কাঁপা হাতে খামটা খুলল। ভিতরে মাত্র একটা কাগজ,
চিঠির প্রথম লাইন!
মায়া, তুমি হয়তো আমাকে ভুলে গেছো। কিন্তু আমি তোমাকে ভুলিনি।
মায়ার চোখে আটকে পরের লাইনে।
তিন বছর আগে আমি কেন চলে গিয়েছিলাম,সেটা তোমাকে কখনো বলা হয়নি।"
আর নিচে
কাল বিকেলে পাঁচটায় পুরুনো কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে এসো একা।"
পরদিন বিকেলে ।
ঘড়িতে তখন পাঁচটা বাজতে আর মাত্র দশ মিনিট বাকি আছে
মায়া বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলো। সকাল থেকে তার মাথায় একটা কথাই ঘুরছিলো
আরিয়ান কেন ফিরে এসেছে?
তিন বছর আগে যে মানুষ টা কথা না বলে চলে গিয়েছিলো,সে আজ হঠাৎ চিঠি পাঠিয়েছে,।
মায়া শেষ পর্যন্ত একটা হালকা নিল পোশাক পরে বাড়ি থেকে বের হলো। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তার মনে হচ্ছিল, প্রতি টা পা যেন তাঁকে তিন বছর আগের সেই দিনগুলির কাছে তাকে নিয়ে যাচ্ছে কৃষ্ণচূড়া গাছটার নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল,মায়া দূর থেকেই গাছটার দিকে তাকালো।কেউ নেই,সে গাছটার নিচে দাঁড়ালো। পাঁচটা বেজে গেল। তারপর পাঁচটা দশ
মায়ার মনে সন্দেহ জাগলো।হয়তো আরিয়ান আসবে না হয়তো চিঠিটাও কোন ভুল ছিলো ।
ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা পরিচিচ কন্ঠ ভেসে এলো।-
তুমি এখনো অপেক্ষা করতে যানো।মায়া ধীরে ধীরে পেছনে ফিরলো।তার চোখ থেমে গেলো
একজনের ওপর।
তিন বছর আগের সেই পরিচিত মুখ।
শুধু আগের চেয়ে একটু বদলে গেছে।
"আরিয়ান "
মায়া কিছু বলতে পারলো না।
আরিয়ানও কিছুক্ষণ চুপ রইল।
তারপর মৃদু হেসে বলল -
অনেক বদলে গেছো তুমি।
মায়া চোখ নামিয়ে বললাম
-তুমিও _;
দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ নিরবতা নেমে এলো। নদীর পানি দিরে দিরে বয়ে যাচ্ছিলো। কৃষ্ণচূড়ার কয়েকটা ফুল বাসাতে দুলছিলো।
মায়া শেষ পর্যন্ত বলল তুমি চলে গিয়েছিলে কেন আরিয়ানের মুখের হাঁসি মিলিয়ে গেল -সে নদীর দিকে তাকিয়ে বলল _সবকিছু এখন বলা যাবে না।
মায়া অবাক হলো
তাহলে আমাকে এখানে ডেকেছো কেনো।
আরিয়ান পকেট থেকে একটা ছোট পুরুনো বাক্স বের করল ।
বাক্স টার দিকে তাকিয়ে রইল।
_আমার !?
_ হ্যাঁ তিন বছর ধরে এটা আমার কাছে ছিল ।
মায়া বাক্স টা খুলতে যাচ্ছি লো
আরিয়ান হঠাৎ বলল,।
কিন্তু এখনই খুলবে না,
কেন?!
-কারন ভেতরের জিনিস টা জানলে তুমি অনেক প্রশ্ন করবে,।আর সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য আমার একটু সময় দরকার।"
মায়া চুপ করে হাতে বাক্স টা দরে রইলো।
হঠাৎ দূরের মসজিদ থেকে আজানের শব্দ ভেসে এলো।
আরিয়ান ধীরে ধীরে বলল
মায়া আমি আবার চলে যাবো।
মায়ার বুকটা ধক করে উঠলো।
(আবার)
আরিয়ান মাথা নাড়লো। কিন্তু এবার তোমাকে না যানিয়ে যাবো না।
মায়া কিছু বলল না।
শুধু বাক্স টা শক্ত করে ধরে রইলো।
আরিয়ান চলে যাওয়ার পর সে কৃষ্ণচূড়ার নিচে একা দাঁড়িয়ে রইলো।
তারপর ডায়েরিটা বের করে ছোট একটা গান লিখলো _,
ফিরে এলে তুমি
তবু কেন দুরে?
কথারা হারিয়ে যায়।
নিরবতার সূরে।
যদি আবার যাও,
একবার ফিরে চেয়ো -
শেষ বিকেলের পথে,
আমাকে মনে রেখো।
মায়া কখনো যানতো না, সেই ছোট বাক্সের বেতরে এমন একটা সত্য লুকিয়ে আছে,যা তার আর আরিয়ানের পুরো জীবন বদলে দেবে...।
বাড়ি ফিরে মায়া সোজা নিজের ঘরে চলে গেল। মায়ার মা কয়েকবার ডাকলেও সে কোন উত্তর দিলো না।তার মনোযোক ছিল হাতে থাকা বাক্স টার দিকে বাক্স টা দেখতে খুব সাধারণ।
পুরুনো কাঠের তৈরি, উপরে ছোট একটা তালা।
মায়া বাক্স টা টেবিলের উপর রাখলো।
তারপর ডায়েরিটা খুলে লিখলো -
আজ আরিয়ান কে দেখলাম।
তিন বছর পর।
কিন্তু মনে হলো -,এই তিন বছর আমাদের মাঝখান থেকে কিছু একটা চুরি হয়ে গেছে।
মায়া কলমটা থামিয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো ।
তারপর আবার লিখলো _।
সে বলছে, বাক্স টার ভিতরে আমার জন্য কিছু আছে কিন্তু খুলতে নিষেধ করছে ।
ঠিক তখনই মায়ার চোখে পড়লো বাক্স টার নিচের দিকে'সেখানে খুব ছোট করে একটা খোদাই করা _(M+A )
মায়ার বুকটা কেমন করে উঠলো
M
মানে মায়া,।
Aমানে আরিয়ান।
চলবে,,,