ফন্ট সাইজ:
থিম:
নির্বাসিত চোখের কাজলছায়া

পর্ব 1

লেখক: নাজিফা বিনতে নাছির

উপন্যাস : "নির্বাসিত চোখের কাজলছায়া"

বাড়িটার অন্দরমহলে এমন একটা সংকীর্ণ দালান আছে, যেটা বাইরে থেকে দেখলে নিতান্তই তুচ্ছ মনে হয়, অথচ তার পরতে পরতে জমে আছে কয়েক প্রজন্মের নিঃশ্বাস, কোলাহল আর নৈঃশব্দ্যের স্মৃতি।

দুই ধারে মৃত্তিকা লেপা প্রাচীর। সেই প্রাচীরের গাত্রে কালের করাল দংশন, বর্ষার আর্দ্রতার ফলে সৃষ্ট শ্যাওলার আস্তরণ, আর শৈশবের অনিয়ন্ত্রিত অঙ্গুলির আঁচড়ে তৈরি অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। ঊর্ধ্বে বংশদণ্ড নির্মিত আচ্ছাদন। তার রন্ধ্র দিয়ে অপরাহ্নের তির্যক, ম্লান, অথচ মায়াবী রৌদ্ররশ্মি এসে মৃত্তিকার মেঝেতে খণ্ড-বিখণ্ড আলোকের জ্যামিতিক আল্পনা অঙ্কন করে।

দালানের প্রান্তসীমায় একটা জীর্ণ, বিবর্ণ কাষ্ঠদ্বার। সেটাই স্নানাগারের দ্বার। তার কপাটদ্বয় দীর্ঘকালের ব্যবহারে ঈষৎ বক্রতা প্রাপ্ত হয়েছে, লৌহ নির্মিত অর্গলটি মরিচার কবলে আবৃত হয়ে তার দ্যুতি হারিয়েছে। দ্বারের সম্মুখবর্তী মেঝেটা অপরাপর স্থান অপেক্ষা অধিক মসৃণ ও পিচ্ছিল, কারণ অনন্তকাল ধরে অগণিত চরণের নিরন্তর সঞ্চালনে তা ক্ষয়প্রাপ্ত ও মসৃণতা প্রাপ্ত হয়েছে।

দালানটার এক পার্শ্বে শুষ্ক লঙ্কার গুচ্ছ ঝুলছে। বাতাসের মৃদু স্পর্শে সেগুলো থেকে একটা তীক্ষ্ণ, ঝাঁঝালো ঘ্রাণ নির্গত হচ্ছে। অপর পার্শ্বে তুলসী বেদির সন্নিকটে একটা মৃৎপাত্রে রক্ষিত জল ঈষৎ কম্পিত হচ্ছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সিক্ত মৃত্তিকার সোঁদা সৌরভ, সর্ষপ তৈলের উগ্র গন্ধ আর সদ্য প্রক্ষালিত বস্ত্রের নির্মল সুবাস মিশ্রিত এক চিরপরিচিত, অথচ অনির্বচনীয় ঘ্রাণ।

বহির্ভাগ থেকে ভেসে আসছে বিহঙ্গের কলকাকলি, গাভীর কণ্ঠে বাঁধা কাংস্য ঘণ্টিকার মৃদু নিনাদ, আর দূরবর্তী শস্যক্ষেত্রের উপর দিয়ে প্রবাহিত বাতাসের শনশন ধ্বনি। সবকিছু মিলিয়ে একটা অদ্ভুত, জীবন্ত, অথচ গম্ভীর নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।

এই নির্জন, অথচ প্রাণচঞ্চল দালানেই সেদিন ভাগ্য তার নির্মম কৌতুকটা করেছিল।

দালানটা এতটাই সংকীর্ণ ছিল যে, পাশ কাটিয়ে অতিক্রম করার কোনো অবকাশ ছিল না। পলায়নের কোনো মার্গ ছিল না। মনে হচ্ছিল, বিধাতা যেন সচেতনভাবেই স্থানটাকে এতটা সংকুচিত করে নির্মাণ করেছিলেন, যাতে দুটো মানুষের মুখোমুখি সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে।

একজন স্নানাগার থেকে নির্গত হতে যাচ্ছে — মস্তক অবনত, কেশরাশি থেকে তখনো জলবিন্দু স্খলিত হচ্ছে, দৃষ্টি নত, আচরণে সেই চিরন্তন লাজুকতা, সংকোচ আর আত্মগোপনের প্রবণতা।

আর অপরজন জলপূর্ণ বালতি হস্তে অগ্রসর হচ্ছে — পদক্ষেপে দ্রুততা, মুখমণ্ডলে বিরক্তি আর ঔদাসীন্যের মিশ্রণ, নয়নে চঞ্চলতা, যেন সমস্ত গৃহের কোলাহল, উচ্ছ্বাস আর প্রাণপ্রাচুর্য একাকী তার মধ্যেই পুঞ্জীভূত হয়েছে।

দুজনের কেউই অপরকে অবলোকন করেনি।

আর ঠিক সেইখানেই — সেই সংকীর্ণ দালানে, সেই জীর্ণ কাষ্ঠদ্বারের সম্মুখে, সেই সিক্ত মৃত্তিকার মেঝের উপর — তাদের প্রথম সাক্ষাৎ ঘটলো। কোনো পুষ্পোদ্যানে নয়। কোনো নদীতীরে নয়। কোনো রোমান্টিক প্রেক্ষাপটে নয়।

একটা অতি সাধারণ, অথচ ভাগ্যনির্ধারিত স্থানে — ধাক্কা দিয়ে, জল ছিটিয়ে, চিৎকার করে।

-----------------------

জল ছিটকে পড়ার পর মুহূর্তকাল নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল। ভূপতিত বালতিটা তখনো মেঝের উপর গড়াগড়ি খাচ্ছে। সিক্ত মৃত্তিকার উপর জলের ধারা এঁকেবেঁকে বয়ে যাচ্ছে।

ইতি তখনো ভূমিতে উপবিষ্ট। তার পরিধেয় বস্ত্রের একাংশ সিক্ত, কেশরাশি থেকে জলবিন্দু স্খলিত হচ্ছে। সে তখনো নাহিয়ানের মুখের দিকে তাকায়নি। তার দৃষ্টি নিবদ্ধ ছিল ছড়িয়ে পড়া জলের দিকে।

আর সেই দৃষ্টি থেকেই বিস্ফোরণটা হলো।

ইতি চোখ বন্ধ করেই চিৎকার করে উঠলো —

_"এই যে! চোখ কি পকেটে নিয়ে ঘুরেন? মানুষ দেখেন না? একটা আস্ত মানুষ বালতি নিয়ে আসতেছে, দেখতে পান না? সকাল সকাল আমার পুরা দিনটা পানিতে ডুবায় দিলেন! আপনি কি মানুষ নাকি চলন্ত দেওয়াল?"_

নাহিয়ান তখনো নির্বাক না। সে একদম নরমাল। সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়ে নিজের ভেজা শার্টটা ঝাড়তে ঝাড়তে বললো —

_"আরে বাহ! আমি তো ভাবছিলাম ধাক্কা লাগছে। এখন দেখি মাইক লাগছে। এত জোরে চিল্লাইতেছেন, বাড়ির মুরগিগুলাও তো ডিম পাড়া বন্ধ করে দিবে।"_

ইতি চোখ বড় বড় করে তাকালো।

_"কী বললেন? আমি মাইক?"_
_"না না, মাইক বলি নাই। বলছি মাইকের চেয়েও জোরে। আপনার গলার ভলিউমটা একটু কমান, নাইলে দালানের চাল উড়ে যাবে।"_

ইতির মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠলো।

_"আমি ভিজে একাকার হয়ে গেলাম, আর আপনি মজা করতেছেন? আপনার মধ্যে কি লজ্জা-শরম বলে কিছু নাই?"_
_"লজ্জা-শরম আছে। কিন্তু সকাল সকাল বালতির পানি দিয়ে গোসল করার পর লজ্জা-শরমটাও ধুয়ে গেছে। এখন আমি একদম ফ্রেশ।"_

ঠিক তখনই দালানের অপর প্রান্ত থেকে একটা চেনা কণ্ঠ ভেসে এলো।

_"কী হইছে রে ইতি? এত চিল্লাইতেছিস কেন? পাড়ার লোকজন ভাববে আমাদের বাড়িতে মাইক ভাড়া করে আনছি।"_

তিথি।

ইতির ছোট বোন। ইতির চেয়ে একটু বেশিই যেন চঞ্চল আর ঝগড়ার সময় তো একদম সেয়ানা।

তিথি এসে দৃশ্যটা দেখেই সব বুঝে গেলো। বোন ভিজে মেঝেতে বসে আছে, সামনে একটা অচেনা ছেলে ডোন্ট কেয়ার ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে, মাঝখানে উল্টানো বালতি।

তিথি আর এক মুহূর্তও দেরি করলো না। সে একদম কোমর বেঁধে ইতির পাশে এসে দাঁড়ালো।

_"এই যে মিস্টার! আপনি কে? এই বাড়িতে নতুন আইসাই আমার বোনরে ভিজায় দিলেন? আপনার সাহস তো কম না! দেখে চলতে পারেন না? নাকি চোখ দুইটা বাড়িতে রেখে আসছেন?"_

নাহিয়ান হাসতে হাসতে বললো —

_"চোখ বাড়িতে রেখে আসি নাই। চোখ ছিল। কিন্তু আপনার বোন এত স্পিডে আসতেছিল, আমি ভাবছি ট্রেন আসতেছে। সাইড দিবো তার আগেই ধাক্কা লেগে গেছে।"_

ইতি : _"আমি ট্রেন? আমি ট্রেন হইলে আপনি কী? আপনি তো রেললাইনের উপর দাঁড়ায় থাকা ছাগল!"_

তিথি হাসতে হাসতে বললো — _"হ, আপু একদম ঠিক বলছিস। ভাব দেখলে মনে হয় উনি জমিদারের ছেলে! অথচ শার্টের অবস্থা দেখ, ভেজা কাকের মতো লাগতেছে!"_

নাহিয়ান : _"ভেজা কাক হইলেও আমি সুন্দর কাক। আর আপনি? আপনি তো ভেজা বিড়াল।"_

ইতি : _"কী! আমি বিড়াল?"_
_"হ্যাঁ, রাগী বিড়াল। একটু পানি পড়লেই ফোঁস ফোঁস করে।"_

এইবার ইতি আর নিজেকে আটকাতে পারলো না। সে চোখ বন্ধ করে, নাহিয়ানের দিকে মুখ করে, এক নাগাড়ে বকতে শুরু করলো। চোখ বন্ধ, হাত নাড়িয়ে, গলা উঁচিয়ে —

" ভুল করছেন আপনি, সরি বলবেন আপনি, পানি মুছবেন আপনি! আমি কিন্তু দাদিকে ডাক দিবো! দাদি আসলে আপনার খবর আছে! বুঝছেন? আপনি..."_

_"আপনি..."_

_"আপনি..."_

হঠাৎ ইতির মনে হলো, সামনে থেকে কোনো সাড়া আসছে না। কোনো নিঃশ্বাসের শব্দ নেই। কোনো উপস্থিতি নেই।

সে ধীরে ধীরে চোখ খুললো।

সামনে কেউ নেই।

নাহিয়ান নেই। চলে গেছে। কখন গেছে, কিভাবে গেছে, কোনো শব্দ না করেই — ইতি টেরই পায়নি। সে এতক্ষণ শূন্য দালানের দিকে মুখ করে, শূন্য বাতাসকে বকছিল।

দালানে তখন কেবল ভেজা মেঝে, উল্টানো বালতি, আর হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইতি।

আর পাশ থেকে তিথির হাসির শব্দ।

তিথি তখন পেট চেপে হাসতে হাসতে মেঝেতে বসে পড়েছে।

_"আপুউউউ! তুই এতক্ষণ কাকে বকতেছিলি? লোকটা তো কখন চলে গেছে! তুই বাতাসের সাথে ঝগড়া করতেছিলি! হায়রে আমার বোন! তোর তো নাটকে চান্স পাওয়া উচিত, একা একাই ডায়লগ দিতে পারিস!"_

ইতি তখন রাগে ফুঁসছে। তার নাসারন্ধ্র দিয়ে যেন ধোঁয়া বের হচ্ছে। মুখটা লাল হয়ে গেছে।

_"তিথি! চুপ কর! একদম চুপ! তুই হাসবি না!"_
_"আমি হাসবো না তো কে হাসবে? তুই চোখ বন্ধ করে ভূতের সাথে ঝগড়া করছিস! এটা আমি দাদিকে বলবোই! দাদি শুনলে হাসতে হাসতে শেষ হয়ে যাবে!"_
_"তিথি, তোরে আমি..."_

ইতি এবার তিথির পেছনে ছুটলো। তিথি হাসতে হাসতে দৌড়ে পালালো। আর পেছনে পড়ে রইলো ভেজা দালানটা।

আর দালানের কোণায়, দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে নাহিয়ান তখনো মিটমিট করে হাসছে। সে যায়নি। সে কেবল সরে দাঁড়িয়েছিল, যাতে ইতির এই রাগে ফোঁসফোঁস করা মুখটা সে আড়াল থেকে দেখে মজা নিতে পারে।

---------------------

নাহিয়ান প্রভাতে অন্তর্ধান করছিল এক চরম নির্লিপ্ত, ঔদাসীন্যে পরিপূর্ণ, ডোন্ট কেয়ার ভঙ্গিমায়। কিন্তু অর্ধপ্রহর অতিক্রান্ত হতে না হতেই সে পুনরায় উঠানে আবির্ভূত হইলো। হাতে ধূমায়িত চায়ের পেয়ালা। মুখমণ্ডলে প্রশান্তি, দৃষ্টিতে নির্বিকার ঔদ্ধত্য। যেন প্রভাতের সংঘর্ষটা ছিল নিতান্তই তুচ্ছ, অবহেলার যোগ্য একটা সামান্য ঘটনা।

ইতি তখন উঠানের এক প্রান্তে উপবিষ্ট। আম্র কর্তনে ব্যস্ত। তার অঙ্গুলি সঞ্চালনে দ্রুততা, নয়নে বিরক্তির সুস্পষ্ট ছাপ, মুখাবয়বে রোষানলের আভা।

তিথি দূর হইতে এই দৃশ্য অবলোকন করেই বুঝে গেলো — অচিরেই একটা প্রলয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটতে যাচ্ছে। সে চপল গতিতে ছুটে এসে ইতির কর্ণকুহরে ফিসফিস করে বললো —

_"আপু, দেখ, তোর নয়াশত্রু আসতেছে।"_
ইতি মাথা না তুলেই বললো — _"আসুক। আমার কী আসে যায়? ওই ভেজা কাক আবার আসছে?"_

তিথি এবার গলা উঁচিয়ে বললো, যাতে নাহিয়ান শুনতে পায় —

_"আপু, সকালের ভেজা জামাটা শুকাইছে?"_

ইতি বুঝে গেলো তিথি আগুনে ঘি ঢালতেছে। তবুও সে বললো — _"শুকাইছে। কিছু মানুষের মাথা ভেজা থাকলে অবশ্য শুকাইতো না।"_

নাহিয়ান চায়ে একটা চুমুক দিয়ে একদম নরমালভাবে বললো —

_"আমার মাথা একদম শুকনা, পরিষ্কার। সমস্যাটা হলো, কিছু মানুষ পানি ভরা বালতি নিয়ে হাঁটার সময় সামনে তাকায় না। তাদের মন থাকে অন্য কোথাও।"_

ইতি আম কাটা থামিয়ে দিলো।

_"ওহ, তাই নাকি? তো কিছু মানুষ গোসলখানা থেকে বের হওয়ার সময় দরজা খুলে বের হয়, চোখ বন্ধ করে বের হয় না। এইটা জানেন?"_

নাহিয়ান : _"জানি। কিন্তু কিছু মানুষ বালতির পানি দালানে ফেলে দালানটাকে নদী বানায় ফেলে। এইটা কি স্বাভাবিক? আপনার বাড়িতে কি নদী বানানোর প্র্যাকটিস চলে?"_

ইতি : _"দালান তো রাস্তা না। আর দালানে পানি পড়তেই পারে। দালান কি আপনার ঘর?"_

নাহিয়ান : _"না। কিন্তু দালান আপনারও ঘর না, যে আপনি চোখ বন্ধ করে শূন্য বাতাসের সাথে কথা বলবেন। ওইটা দেখার পর থেকে আমার মনে হইতেছে, আপনি বাতাসের সাথেও ঝগড়া করতে পারেন।"_

এই কথা শুনেই তিথি হাসতে হাসতে মাটিতে বসে পড়লো।

তিথি : _"আপু, ধরা খাইছিস! লোকটা শুনে ফেলছে তুই বাতাসের সাথে ঝগড়া করছিলি! মান-সম্মান সব শেষ!"_

ইতি : _"তিথি, তুই চুপ থাক। তুই তো সকাল থেকে শুধু ঝগড়া লাগাইতেছিস। তুই হইলি আগুন লাগানো পার্টি।"_

নাহিয়ান : _"একদম ঠিক বলছেন। আপনার বোন আপনার চেয়ে অনেক বেশি বুদ্ধিমতী, অনেক বেশি চালাক।"_

ইতি : _"আমার বোন বুদ্ধিমতী, আর আপনি? আপনি তো সকাল আবোল তাবোল বকতেছেন। আপনি কি আবোল তাবোল বকার মেশিন?

নাহিয়ান : _"কারণ আপনার প্রশ্নগুলো এমন ছিল, যার উত্তর আবোল তাবোল ছাড়া আর কিছু হয় না।

তিথি এবার দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বললো —

_"আচ্ছা থামেন। আমি একটা নিরপেক্ষ সমাধান দেই। সকালে ধাক্কা লাগছে দুজনের। দোষ দুজনেরই সমান সমান। তো এখন দুজন মিলে একসাথে চা খান। ঝগড়া শেষ হোক।"_

ইতি : _"আমি এই লোকের সাথে চা খাবো না। চা খাইলে আমার পেট খারাপ করবে।"_
নাহিয়ান : _"আমিও খাবো না। কারণ উনি চায়ে চিনি বেশি খান, আমার ডায়াবেটিস হয়ে যাবে। আর উনার রাগ দেখলে তো চায়ের চিনিও ভয় পায়।"_

ইতি : _"আপনার তো আগে থেকেই ডায়াবেটিস। ভাবের ডায়াবেটিস। অহংকারের ডায়াবেটিস।"_

নাহিয়ান চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে বললো —

_"ভাব না। এইটাকে বলে আত্মবিশ্বাস। যেটা আপনার মধ্যে বেশি, আমার মধ্যে ঠিকঠাক।"_

ইতি : _"আমার মধ্যে বেশি? আপনার মধ্যে তো এত বেশি যে উপচে পড়তেছে। বন্যা হয়ে যাবে।"_

তিথি এবার হাততালি দিয়ে বললো —

_"বাহ! কী সুন্দর যুক্তির ঝগড়া! আমি তো ভাবছিলাম তোরা মারামারি করবি। তোরা তো দেখি কোর্টে উকিলের মতো ঝগড়া করতেছিস! একদম সমানে সমান! তোদের বিয়ে দিয়ে দিলে কোর্টের দরকার হবে না, বাড়িতেই কোর্ট বসে যাবে।"_

দুজন একসাথে তিথির দিকে তাকিয়ে বললো —

_"তুই চুপ থাক!"_

তিথি : _"দেখছো দাদি! দেখছো! দুজন একসাথে আমারে বকলো! এদের মধ্যে মিল আছে! একদম ভেতরে ভেতরে মিল! নাইলে দুজন একসাথে একই কথা বলে কেমনে?"_

আর দরজার আড়াল থেকে দাদি চমৎকারুন্নেছা বাতাসি বেগম মৃদু হাসতেছেন । কারণ তিনি জানেন যারা এইভাবে যুক্তি দিয়ে ঝগড়া করে, তারা কেউ কারো থেকে কম না। আর যারা সমানে সমান হয়, তারাই শেষ পর্যন্ত একসাথে থাকতে পারে।

---

*[ চলবে... ]*

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন