পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি বউ
লিখিকা: রিশিতা ইসরাত রিমি
পর্ব: ০১
"করবো না বিয়ে আমি। তোমরা সবাই পাগল হয়ে গেছো। আমার হাঁটুর বয়সী একটা মেয়ের সাথে বিয়ে ঠিক করে বলছো আমরা তোর খারাপ চাই না। তোমরা জানো এর জন্য আমার এমপি পদ বাতিল হয়ে যেতে পারে?"
প্রেম রাগে রিরি করতে করতে বললো কথাগুলো। রাগে তার শরীর কাপছে। তার চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের সবচেয়ে রাগী ও ভিলেন এমপি প্রেম চৌধুরীকে দেখলে এখন যে কেউ ভয় পাবে। ৩২ বছর বয়সে সে এমপি হয়েছে, জীবনে কোনো দিন কারো কথা শোনেনি।
তার বাবা তার বিয়ে ঠিক করেছে তার চাইতে তেরো বছরের ছোট একটা মেয়ের সাথে। এইটা সে কিভাবে মানবে?
প্রেম ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়েছিল এক সপ্তাহের জন্য একটা জরুরি পার্টির কাজে। বাড়িতে ফিরতেই একটা অনুষ্ঠানের কথা বলে তার বাবা মা তাকে পাঞ্জাবি পরিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে এখানে এনে তার গলায় বাচ্চা ঝোলাতে চাচ্ছে। নাহ্, এটা সে কখনোই মেনে নেবে না। সে তো ঠিক করেছিল সে বিয়েই করবে না। আর করলেও কোনো ম্যাচিউর মেয়েকে করবে, কোনো বাচ্চা মেয়েকে না।
প্রেম রাগে রুমের বাইরে বেরিয়ে যেতে চাইলে হঠাৎ একটা মেয়ের সাথে আচমকা ধাক্কা লাগে। এমনিতেই প্রেমের মাথা গরম হয়ে আছে, তার উপর আবার এই পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চির মেয়ে এসে তার দামি পাঞ্জাবিতে পুরো শরবত ফেলে দিয়েছে। সাদা পাঞ্জাবিটা একদম নষ্ট হয়ে গেছে।
"চোখে দেখো না? অন্ধ নাকি? এই মেয়ে, তোমার সাহস কি করে হয় আমার গায়ে শরবত ফেলার?" প্রেম রাগে চেঁচিয়ে উঠল। তার গলার আওয়াজে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল।
কিন্তু মেয়েটা একটুও ভয় পেল না। বরং কোমরে হাত দিয়ে চোখ পাকিয়ে বলল, "এই যে মিস্টার, চোখ আপনার অন্ধ। আমি এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি, আপনি এসে আমাকে ধাক্কা দিলেন! আর এখন আমাকেই বকছেন? আপনি নিজেকে কি মনে করেন? এমপি বলে যা ইচ্ছা তাই করবেন?"
"তুমি কে? এই বাড়িতে কী করছো? তোমাকে তো আগে দেখিনি।"
মেয়েটা ভ্রু কুঁচকে বলল, "আমি মিহি। আপনার নাকি হবু বউ। যদিও আপনাকে দেখে বর মনে হচ্ছে না, মনে হচ্ছে রাগী একটা ষাঁড়। আর আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে আপনি আমাকে বিয়ে না, জেলে নিতে এসেছেন।"
প্রেমের মাথায় যেন আকাশ থেকে বাজ পড়ল। এই-ই সেই পিচ্চি! যার সাথে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে! এতটুকু একটা মেয়ে, পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি হবে হয়তো। গায়ে একটা হালকা গোলাপি জামা। চুলগুলো খোলা।
"তোমার বয়স কত? সত্যি করে বলো।"
মিহি বলল, "উনিশ। সামনে মাসে বিশ হবে। কেন? এখন আবার পুলিশ ডাকবেন নাকি বাল্যবিবাহ বলে? ডাকুন, আমিও বলবো আপনি আমাকে জোর করে বিয়ে করছেন।"
তখনই ভেতর থেকে তার মা ডাক দিল, "প্রেম, ওইটাই আমাদের মিহি মা। দেখেছিস কত মিষ্টি মেয়ে?"
প্রেম দাঁতে দাঁত চেপে মিহির দিকে তাকিয়ে বলল, "শোনো মিহি, আমি তোমাকে বিয়ে করব না। তুমি এখনো বাচ্চা। তোমার সাথে আমার যায় না।"
মিহি তার হাতে শরবতের গ্লাসটা ধরিয়ে দিয়ে বলল, "আমিও আপনাকে করব না। আপনি এমপি তো কী হয়েছে? আমি ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ফার্স্ট গার্ল। আমার অনেক স্বপ্ন। আমি ডাক্তার হবো। আমি কোনো বুড়ো এমপিকে বিয়ে করব না।"
বলেই সে হনহন করে চলে গেল। তার যাওয়ার দিকে প্রেম তাকিয়ে রইল। মেয়েটার মধ্যে একটা জেদ আছে, যেটা প্রেমের নিজের মতো।
মিহি চলে যাওয়ার পর প্রেমের বাবা এসে প্রেমের কাঁধে হাত রাখল। বলল, "মিহি তোর চাচার মেয়ে। মানে তোর চাচাতো বোন। ওর মা মানে তোর চাচি খুব অসুস্থ। ক্যান্সারের লাস্ট স্টেজ। তার শেষ ইচ্ছা মিহির বিয়েটা দেখে যাবে। তুই যদি ৬ মাসের জন্য হলেও এই বিয়েটা করিস, তারপর মিহি যা চাইবে তাই হবে। তুই ওকে ডিভোর্স দিয়ে দিস। শুধু এই ৬ টা মাস।"
ওদিকে মিহিকেও তার মা একই কথা বলেছে। তার মা কান্না করতে করতে বলেছে, "মা, শুধু ৬ টা মাস। তোর খালার শেষ ইচ্ছাটা রাখ।"
দুজনেই ফেঁসে গেল। দুজনেই বাধ্য হয়ে রাজি হলো। কিন্তু মনে মনে দুজনেই ঠিক করল, ৬ মাস পর ডিভোর্স।
সন্ধ্যায় বিয়ে হয়ে গেল। খুব ছোট করে, বাড়ির লোকজন নিয়েই। কাজী যখন বলল, "কবুল বলুন", প্রেম এমনভাবে কবুল বললঅতিরিক্ত অংশ:
মিহি খাটের এক পাশে শুয়ে পড়ল। প্রেম সোফায় বসে রইল। তার ঘুম আসছে না। সে ভাবছে তার জীবনটা কি থেকে কি হয়ে গেল। সে একজন এমপি, তার কত ক্ষমতা, কত সম্মান। আর আজ একটা পিচ্চি মেয়ে তাকে সোফায় ঘুমাতে বলছে। তার রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু তার বাবার কথা ভেবে সে কিছু বলতেও পারছে না।
মিহিও ঘুমায়নি। সে ভাবছে তার মায়ের কথা। তার মা তাকে বলেছে এই বিয়েটা করতে। সে তার মাকে খুব ভালোবাসে, তাই সে রাজি হয়েছে। কিন্তু এই লোকটাকে তার একদম পছন্দ না। লোকটা খুব রাগী, খুব বদমেজাজি। তার সাথে ৬ মাস কিভাবে থাকবে সে?
হঠাৎ মিহি বলল, "আপনার যদি ঠান্ডা লাগে তাহলে বলবেন, আমার কাছে একটা চাদর আছে।"
প্রেম অবাক হয়ে বলল, "তোমার হঠাৎ আমার জন্য এত দরদ উথলে উঠল কেন?"
মিহি বলল, "দরদ না, মানবতা। আপনি বুড়ো মানুষ, ঠান্ডা লেগে গেলে আবার আমার দোষ দেবেন।"
প্রেম রেগে বলল, "আমি বুড়ো? আমি বুড়ো হলে তুমি কি? তুমি তো বাচ্চা।"
মিহি বলল, "আমি বাচ্চা না, আমি বড় হয়েছি। আর আপনি বুড়োই।"
এইভাবে তাদের ঝগড়া চলতেই থাকল। ৬ মাসের এই চুক্তির বিয়ের প্রথম রাতটা তাদের ঝগড়া করেই কেটে গেল।,,,,
(চোলবে.....)
আপনারা যদি সাপোর্ট করেন তাহলে খুব তাড়াতাড়ি পরের পর্ব দেওয়ার চেষ্টা করেবো আশা করি
পর্ব 1
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান