#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_৩০(এর ১ম অংশ)
#লেখিকা_আরিফা_তাসনিম_তামু
___কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌🚫___
বোকার মতো পড়ে থেকে রৌদ্রের মুখের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে ইয়ানা।বেচারিকে রৌদ্র এমন ছড়া শুনিয়েছে পড়ে যে ব্যথা পেয়েছে বেমালুম সেটা ভুলে গিয়েছে।ইয়ানা বুঝতেই পারছে না পড়ে কী তার মাথার স্মৃতি শক্তি বেড়ে গেছে নাকি। যে সকাল সকাল এই লোককে দেখছে তাও আবার অদ্ভুত ছড়া বলছে।বেচারি হাবিজাবি ভাবতে ভাবতে একপ্রকার ঘোরের মধ্যে চলে গিয়েছে।
ইয়ানার অবস্থা দেখে রৌদ্র খুব হাসি পেলো।বাড়িয়ে দাওয়া হাত দিয়ে দিকে তাকালো একবার আরেকবার ইয়ানার দিকে।বেচারিকে সে এমন শকড খাইয়েছে যে বেচারি বাড়িয়ে দাওয়া হাতের দিকে ফিরেও তাকায়নি।রৌদ্র ইয়ানার হা করা মুখটা হাত দিয়ে বন্ধ করে দিয়ে বলল
—এমন হা করে থাকলে সকাল সকাল মশা দিয়েই ব্রেকপাস্ট করতে হবে।অবশ্য সামনে যদি আমার মতো এমন হ্যান্ডসাম চার বাচ্চার বাপ দাড়িয়ে থাকে তাহলে তো মেয়েরা উষ্ঠা খেয়ে পড়েও ব্যথা ভুলে হা করে তাকিয়ে থাকবে।
এই বলে ইয়ানাকে একটান দিয়ে তুলে ধার করায়। বেচারি মাএই ঘোর থেকে বের হয়ে আসলো।রৌদ্র সরে দাঁড়ায়।এবার ব্যথা অনুভব হচ্ছে একটু একটু ঠিক মতো দাঁড়াতে পারছে না। তবুও রৌদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকল।না হলে দেখা যাবে বাঁদর মুখো লোকটা আরো মজা নিবে।রৌদ্র হেঁয়ালি কন্ঠে আবার বলল
—চাইলে আবার হা করে তাকিয়ে থাকতে পারো আমি মাইন্ড করব না।
বলেই রৌদ্র হাঁটা দিলো। ইয়ানাকে আবারও চারশো বোল্ডের শকড খাইয়ে দিলো রৌদ্রের গানে। যেতেে যেতে রৌদ্র গলা ছেড়ে গেয়ে উঠলো—
"এই পথে আমি যখনি যাই"
~মাঝে মাঝে একটা মেয়ে দেখতে পাই~
"হাঁটতে হাঁটতে যায় আবার উষ্ঠা খেয়ে পড়েছে"
"হাঁটতে হাঁটতে যায় আবার উষ্ঠা খেয়ে পড়েছে"
~উষ্ঠা খাওয়া মেয়ে পাগল করেছে~
পিছনে থাকা ইয়ানা সত্যি সত্যি আবারও হা করে তাকিয়ে রয়েছে রৌদ্রের যাওয়ার পথে!
_________
কিছুক্ষণ আগেই আদ্রের ঘুম ভেঙ্গেছে।বিচানায় এখনো চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। আজকে সকালটা তার জন্য কেমন শান্তি ময় লাগছে। তবে তার শান্তি বেশিক্ষণ স্থীর হলো না।শুনা গেলো সেই বাঁদরের কন্ঠ।রৌদ্র দরজা ঠেলে মাথা ঢুকিয়ে হাসি মুখে বলল
—মে আই কামিন বেইবি?
সঙ্গে সঙ্গে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে আদ্র।রৌদ্র ভিতরে ঢুকে আদ্রের মুখের রিয়াকশন দেখে দুষ্ট হেঁসে বলল
—এই কিরে সোনা সকাল সকাল কী করলার জুস খেয়েছিস নাকি?মুখটা এমন হুতুমপেঁচার মত করে আছিস যে। এই দিকে আয় একটা চুমু দি।আমার চুমুতে নাকি আবার মধু আছে তোর বোন বলেছে।
শেষের কথাটা এমন ভাবে বলেছে যেন রৌদ্রের চেয়ে সত্যবাদী মানুষ পৃথিবীতেই নেই।আদ্র তড়াক করে তাকিয়ে দাঁত দাঁত পিষে বলল
—আমার আর তোর বোনের বাসর ঘরে তোকে পাহারাদাী হিসেবে রাখব বাঁদর কোথাকার"
রৌদ্র একটু ভাব নিয়ে উওর দিল
—সম্মান দে সমন্দী লাগি তোর।
—ওমা তাই নাকি আপনি না বললে আমি জানতামই আপনি আমার সমন্দী লাগেন।আমি তো ভাবছি সুন্দর বন থেকে বাঁদর ছুটে চলে এসেছে।যাই হোক আপনি যেহেতু বলেছেন আপনি আমার সমন্দী তাহলে একদিন পার্সোনাল ভাবে দেখা করিয়েন। আপনাকে এমন সম্মান দিবো যে আপনার বোনকে নিজ হাতে আমার হাতে তুলে দিবেন। আপাতত এই দিকে আসেন সমন্দী সাহেব একটু আদর যত্ন করি।
রৌদ্র ভাব নিয়ে এগিয়ে বিচানায় বসতেই আদ্রে রৌদ্রের কান টেনে ধরে।
—আমার ভোলাভালা বোনটার পিছনে পরেছিস কেন?
রৌদ্র নিজের কান ছাড়িয়ে শার্টের কলার ঠিক করতে করতে বলল
—ওটা তোর ভোলাভালা বোন?আমার তো ইচ্ছে করে তোর বাপ কে জিজ্ঞেস করতে কী খেয়ে ওটা ডাইনলোড দিয়েছে।
কী ডেঞ্জারাস মেয়েরে বাবা
—কেন ও আবার কী করেছে?
কথাটা বলতে বলতে ফাইজ ভিতরে ডুকল।আদ্রও চেয়ে আছে। কী করেছে তার বোন শুনার জন্য। রৌদ্র তাকে চার বাচ্চার বাপ বানিয়ে দাওয়া কাহিনি টা বলতেই।বেচারা ফাইজ হাসতে হাসতে নিচে বসে পড়েছে।আদ্রের মনে মনে হাসি পেলেও বিরবির করে বলল
—বাঁদরে সাথে বাঁদরেরই দেখা হয়।
________
কাল রাতে আহি দাদির সাথে ঘুমিয়েছে।ফারদিনা নেওয়াজ তো যেন আহি কে পেয়ে। আরো কয়েক বছর বাঁচার শক্তি পেয়ে গেলো। এই নাতনি উনার অনেক শখের।এই নাতনিকে হারিয়ে তিনি মারার মতো বেঁচে ছিলো।কাল সারারাত দাদি নাতনি দু'জনেই গল্প করেছে।এই কয়েক বছরে ঘটে যাওয়া এমন কোনো কথা দাদি নাতনি বাদ রাখেনি।আহি খান পরিবারের সবাই কেমন তাকে কতটা ভালোবাসে সব বলছে।
বেলা ৮ টা বাজে আহির ঘুম ভাঙ্গার খবরই নেই।রৌদ্র সেই সকালে এসেছে এখনো পর্যন্ত বোনের দেখা সে পায়নি।আদ্রের রুম থেকে বের হয়ে ফারদিনা নেওয়াজের রুমে গেলো ফাইজের সাথে।গিয়ে দেখে তাদের আদরের বোন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।দু'জনে উঠেয়ে ঠেলে ঠুলে ফ্রেশ হতে পাঠায়।
_________
খাবার টেবিলে সবাই থেকে বসেছে।আদ্র"কে ধরে ফাইজ আর রৌদ্র নিয়ে এসেছে।আদ্রের পায়ে ওতটা চোট লাগে নি।তবুও ভালো ভাবে হাটতে পারে না। কেউ ধরলে তবেই হাঁটতে পারে।আর ডান হাত ভালোই আছে বাম হাত বেন্ডেজ করা।রৌদ্র এক পাশে আহি অন্যপাশে আদ্র। আহির একপাশে রৌদ্র অন্যপাশে ফাইজ।আতিয়া নেওয়াজ আর পারুল নেওয়াজ সবাইকে খাবার দিচ্ছে।আদ্র, রৌদ্র ফাইজ তিন জনেই আহি কে খাবার তুলে দিচ্ছে। আতিয়া নেওয়াজও দিচ্ছে। সবাই অতটা মাথা ঘাটায়নি ভাবছে আদ্র আর ফাইজের বন্ধু রৌদ্র এরই জন্য হয়তো দুজনেই বেড়ে দিচ্ছে। তবে ফুঁসে উঠল ফিহা। তার এই মেয়েকে সহ্য হয় না। কোথায় থেকে উড়ে এসে জুড়ে বসছে। তাকে দিতে দেরি হচ্ছে দেখে।রেগে বলে উঠল
—কী হচ্ছে এসব তোমরা সবাই এমন বাইরের মানুষের পিছনে পড়ে আছো কেন? আমাকে কী চোখে পড়ছে না? আমার যে দেরি হচ্ছে যাচ্ছে সে দিকে দেখি কারোই খেয়াল নেই।
#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_৩০এর(বাকি অংশ)
#লেখিকা_আরিফা_তাসনিম_তামু
___কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ🚫❌___
—কী হচ্ছে এসব তোমরা সবাই এমন বাইরের মানুষের পিছনে পড়ে আছো কেন? আমাকে কী চোখে পড়ছে না? আমার যে দেরি হচ্ছে যাচ্ছে সে দিকে দেখি কারোই খেয়াল নেই।
এই কথায় যেন পুরো নেওয়ার বাড়ি নিস্তব্ধ হয়ে গেছে।সকলে খাওয়া বাদ দিয়ে চুপ করে আছে।আহির চোখ টলমল করছে।মাথা নিচু করে বসে আছে সে।সে বাইরের মেয়ে?হাহ্ কী কপাল তার নিজের বাড়িতে নিজেরই মানুষের মুখে শুনতে হয় সে বাইরের মানুষ। আদ্রের রাগে শরীর জ্বলছে।রৌদ্র স্থীর হয়ে বসে আছে।কথাটা একদম তার বুকে লেগেছে।থতমত পরিবেশ একদম নীরব সব কিছু।
"ঠাসস"
নীরব পরিবেশে থাপ্পড়ে আওয়াজে চমকে সবাই সামনে থাকায়। ফাইজ রাগে ফোঁস ফোঁস করছে।রাগ কন্ট্রোল না করতে পেরে ফিহার গালে সজোড়ে থাপ্পড় বসিয়ে দেয়।ফিহা যেন নিজের চোখে বিশ্বাস করতে পারছে না। তার ভাই তাকে থাপ্পড় মেরেছে তাও একটা বাইরের মেয়ের জন্য?
—ভাইয়া তুমি আমাকে থাপ্পড় মেরেছো?তাও এই বাইরের মেয়ের জন্য?
সঙ্গে সঙ্গে কোনো কথা ছাড়ায় থাপ্পড় দাওয়া গালে আবারও থাপ্পড় বসালো ফাইজ।পারুল নেওয়াজ এগিয়ে এসে চোখ গরম করে ছেলেকে বলল
—কী হচ্ছে ফাইজ ও'কে এভাবে মারছিস কেন?
—এটা ওর প্রাপ্প যেটা দাওয়া উচিত তোমার কি়ংবা আব্বুর।এত পড়ালেখা করেও ওর ভিতর শিক্ষার অভাব আছে।
—ও ছোট মানুষ না বুঝে বলে ফেলেছে বুঝিয়ে বললেই হতো তাই বলে এভাবে মারবি?
—ও ছোট মানুষ? আম্মু তোমার আশকারা পেয়ে পেয়ে দিন দিন ও বেয়াদব হচ্ছে। যেখানে তোমার উচিত ও'কে আরো দুটা থাপ্পড় দিয়ে শিখে দাওয়া কখন কোথায় কাকে কীভাবে কী বলতে হয়। মানুষকে কেমনে সম্মান করতে হয়। সেখানে তুমি ও'কে ছোট বলে লায় দিচ্ছো?শুনো আম্মু তোমার শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্যি তোমার জন্য ও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আজকে যেটা ও করেছে না এটাতে ওর কোনো দোষ নেই সব দোষ তোমার কিছুটা আব্বুরও আছে। কারণ তোমরা ওকে ভালো শিক্ষা দিতে পারো নি।
কিছুটা তাচ্ছিল্য করে কথা গুলো বলে ফাইজ।পারুল নেওয়াজের কিছুটা লজ্জা লাগছে সবার সামনে ছেলে তাকে এভাবে বলতে পারলো?তাও একটা বাইরের মেয়ের জন্য? তার মেয়ে ভুল কোথায় বলেছে?মেয়েটাতো বাইরেরই।
এতক্ষণ টলমল করতে থাকা পানিটা এবার ঝরঝর করে পরতে লাগলো আহির চোখ দিয়ে ব্যস এতেই যেন রৌদ্র ধৈর্য্য বাদ ভাঙ্গল।বোনের হাত ধরে দাড়িয়ে গেলো।কোনো কথা ছাড়াই আহির হাত হাঁটতে নিলে আদ্র রৌদ্রের হাত চেপে ধরে।সঙ্গে সঙ্গে রৌদ্র গম্ভীর কন্ঠে বলে
—যে বাড়িতে আমার বোনকে অপমানিত হতে হয়েছে। সে বাড়িতে আর এক সেকেন্ডও আমি থাকবো না। যে বাড়িতে আমার বোনের জন্য ভালোবাসা নেই। সে বাড়ির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।থাকতে পারেও না। আমার বোনের জন্য আমি একাই যথেষ্ট।
সাথে সাথে আদ্রের বুক ধুপ করে উঠে। রৌদ্র এটা বলতে পারলো?ওদের এত বছরের বন্ধুত্বও ভেঙ্গে দিতে চাইছে?না রৌদ্র কখনোই এটা করতে পারে না আদ্র জানে তার ভাই কখনো মন থেকে এটা বলতে পারে না।আদ্র রৌদ্রের হাতে ছেড়ে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। পড়ে যেতে নিলে রৌদ্র ধরে নেয়।আদ্র হালকা হাসে।
—ও তোর বোন তোর বোন হিসেবে আছে এবং সারাজীবন থাকবে। তবে এটা ভুলে যাস না তোর বোনের আরো একটা না দু"দু'টো পরিচয় আছে।
রৌদ্র তাকায় আদ্রের দিকে যার চোখ মুখ এখন শক্ত রৌদ্র আর বুঝতে বাকি নেই এখন এখানে কী হবে।হাতে গুনা ২-৩ জোড়া চোখ ছাড়া বাকি সবাই আদ্রের দিকে কৌতূহল চোখ নিয়ে তাকিয়ে আছে।আদ্র ফিহার দিকে তাকয় আদ্রের এমন ভয়ংকর ভাবে তাকানো দেখে ফিহার বুক কেঁপে উঠে।আদ্র যেন চোখ দিয়েই ধ্বংস করে দিবে সব।
—ও কোনো বাইরে মেয়ে না। প্রথমত ও এই বাড়ির মেয়ে ফাহিরা নেওয়াজ আহিয়া। দ্বিতীয় ও এই বাড়ির বড় ছেলের বউ মিসেস আদ্র নেওয়াজ।আমার অর্ধাঙ্গিনী। আমার সম্মান। আর আজকে পর থেকে আমার অর্ধাঙ্গিনীকে নিয়ে যে আজেবাজে এ্কটা কথা বলবে তার সাথে সবার আগে আমার বোজা পড়া হবে।
আদ্রের কথায় যেন বাজ পড়ল পুরো নেওয়াজ বাড়িতে।ফিহার তো বিশ্বাসই হচ্ছে না সে বার বার আহিকে দেখছে।পারুল নেওয়াজের মুখটায় আঁধার নেমে এসেছে যেন। তরিকুল নেওয়াজ এক দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
এটা উনার মেয়ে? উনার সেই ছোট্ট আহি? আজ কত বড় হয়ে গেলো।বাবা হয়েও চোখের সামনে নিজের মেয়ে থাকার শর্তেও উনি চিনতে পারে নি।আজ নিজেকে সত্যিই একজন ব্যর্থ বাবা বলে মনে হচ্ছে। ব্যর্থই তো এই মেয়ের জন্য তিনি কখনো কিছু করেছেন বলে মনে হয় না।পারুল নেওয়াজের জন্য মেয়েটার কাছেও যেতে পারতেন না।শত হোক নিজের অস্তিত্ব তো নিজের রক্ত একটু হলেও টান আছে।মেয়েটা হারিয়ে যাওয়ার পর উনার বুক হাহাকার করে ছিলো অনেক কিন্তু তিনি সেটা কাউকে দেখাতে বা বুঝাতে পারেন নি।রিসাকে তিনি ভালোবেসে বিয়ে করেন। পারুল নেওয়াজের সাথে বাবা জোর করে বিয়ে দেয়।পুরোনো ভাবনায় তিনি আর গেলেন না।এত বছর পর মেয়েকে পেয়েও কাছে যেতে পারছে না।তিনি দোটানায় ভুগছেন কোন মুখে নিজের মেয়ে বলে দাবি করবেন।কখনো তো তিনি বাবার দায়িত্ব পালনই করেন নাই।
আহি আড়চোখে বাবার দিকে একবার তাকিয়ে।ভেজা চোখে কেমন করে জানি হাসল।যা তরিকুল নেওয়াজ এর চোখে এড়ালো না।মেয়ের মুখের এমন হাসির মানে কী তিনি বুঝলেন।উনার বুকে হালকা ব্যথা অনুভব হল।
—আব্বু তুমি চুপ করে আছো যে?
আদ্রের কথায় আজিজ নেওয়াজ ইশারায় আহি'কে ডাকলেন। আহি এগিয়ে গেলো।আজিজ নেওয়াজ আহিকে বুকে নিয়ে মাথা হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ছেলের উদ্দেশ্য বললেন
—আমি দেখতে চাইছি আমার ছেলে তার দাওয়া কথা রাখতে পারে কিনা।আদৌ কী সে একজন আদর্শ স্বামী হতে পেরেছে কিনা।আহি আমার আরেক মেয়ে। ইয়ানার থেকে কম ভালোবাসি না ও'কে। বাবারা কখনো মেয়েকে চিনতে ভুল করে না।ওকে হসপিটালে প্রথম বার দেখেই চিনে পেলেছি।এবং কী আমাদের বাবা মেয়ের মধ্যে কথাও হয়ে গেছে।
আদ্র বাক্য হারা হয়ে গেছে।বড় ভাইয়ের কথায় তরিকুল নেওয়াজ আরো মাথা নিচু করে নিলেন।তিনি জন্ম দিয়েও চিনতে পারলেন না। আর উনার বড় ভাই ঠিকই চিনল।আসলে জন্ম না দিলে যে বাবা হওয়ায় যায় না আজ তিনি বুঝলেন।
—আদ্র বিদেশ যাওয়ার দিন আমি আর মা মিলে ওদের বিয়ে দিয়ে রাখি।আমার শর্ত অনুযায়ী আদ্র বিদেশ যায়।ও ওর কথা রেখেছে এবার বাবা হয়ে আমার কথা রাখার পালা।
আজ যেন নেওয়াজ বাড়ির মানুষ গুলোর অবাক হওয়ারই দিন।আজিজ নেওয়াজ এবার রৌদ্রকে ইশারা করলেন। রৌদ্র মাথা নেড়ে কিছু বুঝালো।
____________
—বউ হবি আমার? দ্বিতীয় বার আবার তোকে বিয়ে করতে চাই!হবি আমার অর্ধাঙ্গিনী?তুই আমার খুব শখের বউ হয়ে থাকবি।তোর আদর যত্নের কোনো অভাব রাখবো না।অনেক ভালোবাসবো তোকে।নিজের থেকেও বেশি।সারাজীবন তোর কাছে মাথা নত করতে চাই।প্লিজ হয়ে যা না মিসেস আদ্র।
আহির হাত ধরে কথা গুলো বলে গেলো আদ্র।আহি অবাক না হয়ে পারছে না।এই লোক ছোট্ট বেলায় তাকে চকলেটর লোভ দেখিয়ে বিয়ে করে নিয়েছে।এখন আবার ভালোবাসার লোভ দেখাচ্ছে ২য় বার বিয়ে জন্য। যেভাবে আবদার করছে যেন আহি জানি না হলে তাকে ছেড়ে দিবে হুম?
—কী হল কী এতো ভাবছিস?
—আবার ধোকা দিয়ে পালিয়ে জাবেন না তো?
আদ্র হেঁসে ফেলে।আহির দুগালে আলতো করে হাত রেখে চোখ চোখ রেখে বলল
—কোথাও জাব না বউয়ের আঁচল ধরে সারাক্ষণ ঘুরব। দিবি তো সেই অনুমতি।
আহি লাজুক হেঁসে জড়িয়ে। ব্যস আদ্র পেয়ে গেছে তার উওর।আগলে নিলো প্রিয়শীকে।
[অনেক কষ্ট করে লেখলাম রেসপন্স করো। কেমন হয়েছে জানিও বাকি পর্বে নতুন কিছু আসবে]
চলবে,,,,,