ফন্ট সাইজ:
থিম:
কি ভয়ংকর মায়া তোর

পর্ব 32

লেখক: আরিফা তাসনিম তামু

#কী_ভয়ংকর_মায়া_তোর
#পার্ট_৩৬
#লেখিতে_আরিফা_তাসনিম_তামু

____কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ❌🚫____

রৌদ্র গোসল করে খেয়ে অফিসে চলে গিয়েেছে ১০টার দিকে।আহিকে কলেজে যাওয়ার কথা বললে সে বলে আজকে জাবেনা।সে তার ইনা আপুইর কাছে থাকবে।রৌদ্র ও আর জোর করেনি বাকিরাও কিছু বলেনি।আদ্র অফিস যায়নি তবে কী একটা কাজ আছে বলে রেডি হয়ে বের হয়ে গেছে।বাকি পুরুষরা যে যার কাজে।বাড়িতে পুরুষ বলতে কেউই নেই।রাইসা বেগমরা দুই জা আর সাইফা আছে।উনারা চলে যেতো কিন্তু আতিয়া নেওয়াজ জোর করে রেখেছে। পারুল নেওয়াজের এসব ডং আবার পছন্দ না উনার কাছে এসব ডং ছাড়া কিছুই না।

ইয়ানার জ্ঞান নয়টার দিকেই ফিরে।জ্ঞান ফেরার পর থেকেই মেয়েটা চুপচাপ কোনো কথা বলছে না কারো সাথে।না তো কোনো খাবার মুখে নিচ্ছে। কেউ কিছু জিজ্ঞেস করলেও উওর দিচ্ছে না।আসলে ইয়ানা একপ্রকার ট্রামার মধ্যে চলে গিয়েছে।তার মস্তিষ্কে দাগ কেটে পেলেছে তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা।মেয়েটা কেমন চুপচাপ করে উপরে ছাদের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।

কেউ জোর করছে না এখন যে ওর সাথে কী হয়েছে বলতে।আদ্র নিষেধ করেছে আগে ইয়ানা সুস্থ স্বাভাবিক হোক তার পর সব জানা জাবে।রৌদ্র সেই যে ইয়ানাকে শুইয়ে দিয়ে গেলো। আর একপলকের জন্য ও দেখতে আসেনি।

____________

ইয়ানার ফ্রেন্ডরা ইয়ানাকে দেখে চলে গিয়েছে।খেয়ে যেতে জোর করলেও তারা থাকে নি।আবার আসবে বলে চলে গিয়েছে।বেলা গড়িয়ে দুপুর ১২:৩০মিনিট।আহি সাইফা ইয়ানার রুমে বসে কথা বলছে।ওরা মূলত ইয়ানার মন ভালো করতে চাইছে।আহি'র খারাপ লাগছে তার সব সময় হাসি খুশি থাকা আপুইটাকে এভাবে দেখতে তার খুবই কষ্ট হচ্ছে। ইয়ানা এখন আধশোয়া হয়ে চুপচাপ ওদের কথা শুনছে।

—ইনা আপুই তোমার কী খারাপ লাগছে.?খাবে কিছু.?

ইয়ানা আহির দিকে তাকায় দেখে মেয়েটার চোখ চিকচিক করছে কেমন।ইয়ানা কিছুক্ষণ চুপ থেকে ধীরে ধীরে বলে।

—একটু একা থাকতে চাই।

আহি আর কিছু বলে না।সাইফাকে নিয়ে চলে যায়।ওরে যেতেই ইয়ানা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে।নিজে শরীরে ক্ষত গুলা দেখলেই ঘৃণায় গা জ্বলে উঠে।

___________

কলেজের একপাশে গাছতলায় বসে হওয়া খাচ্ছে আর গুনগুন করে গান গাচ্ছে শ্রেয়া।তিহা আর তিহান ক্লাস করছে।শ্রেয়া ইচ্ছে করেই ক্লাসে যায়নি একটু পর ফাইজের ক্লাস। কিছুদিন আগে ফাইজ একটা ক্লাস পরীক্ষা নিয়েছে। আজকে সেটার কাগজ দিবে।শ্রেয়া তিহা কে বলেছে ওরটা নিয়ে আসতে ও জাবে না।আর কী ওরা জোর করেও এই ঘাড়ত্যাড়া মেয়েকে নিতে পারেনি।শ্রেয়া বসে বসে পা দোলাচ্ছে এমন সময় কোথায় থেকে দুটো ছেলে এসে ওর সামনে দাঁড়ায়। ছেলেগুলোকে শ্রেয়া চিনে এই কলেজেরই সিনিয়র ভাই।কিন্তু শ্রেয়া একটা জিনিস খুব ভালো করে খেয়াল করেছে যে ছেলেগুলো বার বার ওদের ক্লাসের সামনে দিয়ে ঘুরে।আবার ওরা যে জায়গায় গিয়ে দাঁড়াবে তাদের কয়েক হাত দূরত্বে ছেলেগুলোকেও দেখা যায়।এদের মধ্যে সিফাত নামে একটা ছেলে আছে ছেলেটার চাহনি শ্রেয়ার একটুও পছন্দ না।শ্রেয়া উঠে দাঁড়িয়ে জোর পূর্বক মুখে মেকি হাসি টেনে ভদ্রতা বজায় রেখে সালাম দিল।

— আসসালামু আলাইকুম ভাইয়া।

ছেলেগুলা সালামের উওর দিল।

সিফাত সামনে এসে দাঁড়ালো।

—ওয়ালাইকুম আসসালাম। একা একা বসে আছো যে? ক্লাসে যাবে না?”

শ্রেয়া বেজায় বিরক্ত হল এবার। সে ক্লাসে যাবে কি যাবে না একা থাকবে নাকি প্রেমিক নিয়ে বসে থাকবে সেটা তার একান্ত ব্যাপার।এই মদনাগুলোকে কোন সুখে বলতে জাবে।

—ক্লাসে গেলে তো দেখতেই পেতেন?একা থাকতে ভালো লাগছে তাই একা বসে আছি আপনাদের জন্য কী একাও বসে থাকতে পারব না?

শ্রেয়ার কন্ঠে বিরক্তি। সিফাত নামে ছেলেটি বলে

—আরেহ তা কখন বলতাম একা দেখে জিজ্ঞেস করতাম আর কী।

— জিজ্ঞেস করা শেষ এবার আমি আসি.?

সিফাত আশেপাশে চেয়ে হালকা হেসে বলে

—আরেকটু থাকো তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে!

শ্রেয়ার ভ্রু কুচকে আসে তার সাথে এই মদনের আবার কিশের কথা থাকতে পারে.?

—যা বলার তাড়াতাড়ি বলুন।আমার কাজ আছে।

—ইয়ে মানে তুমি কী কারো সাথে প্রেম করো.?

—সেটা আপনাকে কেন বলবো.?

শ্রেয়ার ত্যাড়া উওর এতক্ষণে সে বুঝে গিয়েছে এই মদনের মতলব কী।শ্রেয়ার উওর শুনে পাশ থেকে সিফাতের বন্ধু আহান ফিসফিস করে সিফাত কে বলে

—এই মেয়ে তো দেখছি পুরাই ঘাড়ত্যাড়া দোস্ত। তুই এ কার প্রেমে পড়লি মুখ দিয়ে আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে। জ্বলে জাবি ভাই ভালোই ভালোই কেটে পড়।

—তুই চুপচাপ দাড়িয়ে থাক আগুন হওয়া ভালো।আমি এই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে চাই।

—আপনাদের ফিসফিসানি বন্ধ হলে এবার আমি আসি।

শ্রেয়া হাঁটা দিল দু কদম যেতেই সিফাত পথ আটকে ধরল।এতক্ষণ বহু কষ্টে নিজের মুখ সামলে রেখেছে শ্রেয়া এবার আর পারল না।

—কিরে মাদ্রারইনলো পথ আটকালি কোন সুখে.?

সিফাত ভ্যাবাছ্যাকা খেয়ে যায়।মাদ্রারইনলো মানে কী?ওরে কী গালি দিছে নাকি।আহান হোঁ হোঁ করে হেসে উঠল।

— নেক্সট টাইম থেকে পথ আটকালে সেটিংয়ের জায়গায় দিস টিং দিস টিং করে দিব শালা সর সামনে থেকে।মাদ্রারইলো কোথাকার।মদনখোর।

বলেই শ্রেয়া ধুপধুপ পা পেলে চলে গেলো।সিফাত হা করে তাকিয়ে আছে মেয়ে মানুষের মুখের ভাষাও এমন হয় তার জানা ছিলো না।বেচারা শকট খেয়েছে।আহান হাসতে হাসতে মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি খাওয়ার অবস্থা।

___________

শ্রেয়ার কাগজ চেয়েছে তিহা।ফাইজ দেয় নাই। গম্ভীর কন্ঠে বলছে যার কাগজ সে এসে নিবে।তিহা এসে এটা বলতেই শ্রেয়ার মাথা আগুন ধরে যায়।বিরক্ত হয়ে বলে।

—লাগবে না বালের কাগজ ওই বালের স্যারকে দেখলে আমার মন চায় ঠাট্টিয়ে দুটো থা(বলতে বলতে পিচনে ফাইজ কে দেখে বোকা হেঁসে বলে) হে হে হে আমার মন চায় আসতে যেতে স্যারকে দুইবার করে সালাম দিতে।স্যারটা অনেক ভালো।

তিহা আর তিহানের ভ্রু কুঁচকে আসে শেষের কথা গুলো শুনে।ওরা কিছু বলবে শ্রেয়া পিচনে তাকাতে ইশারা করে।ওরা তাকাতেই বুঝল ব্যাপারটা।ওরা তিনজনে ফাইজ কে সালাম দেয়। আহ কত ভদ্রতা। যেন এর মতো ভদ্র মেয়ে আর একটা নেই।ফাইজ গম্ভীর কন্ঠে সালামের উওর দেয়।

ফাইজ ভ্রু কুঁচকে একবার শ্রেয়ার দিকে তাকালো।
মেয়েটার মুখে নিষ্পাপ ভাব, যেন প্রতিটা কথায় মুখ দিয়ে মধু ঝড়ে ।

ফাইজ ঠান্ডা গলায় বললো,
“কাগজ লাগবে না?”

শ্রেয়া একদম সোজা হয়ে দাঁড়ালো, সুন্দর মতে বলে

—জ্বি স্যার! লাগবে।

তিহা আর তিহান পাশ থেকে মুখ টিপে হাসছে।
এই মেয়ে মুহূর্তে মূহুর্তে রূপ বদলায়, এটা ওদের নতুন না।এখন দেখে মনে হচ্ছে ভাজা মাছ উল্টেও খেতে জানে না।

ফাইজ খাতাটা এগিয়ে দিয়ে বললো,

— খুলে দেখো।কী লেখেছো এসব?

শ্রেয়া খাতাটা নিয়ে মেলে দেখল যা সত্যি তাই তো লেখেছে।তাও এই লোক তাকে শূন্য দিল কেন.?

—একি স্যার আপনি তো আমাকে একটা নাম্বারও দেন নাই.?

— আগে কি লেখেছো পড়ে শুনাও।

— আসসালামু আলাইকুম আমার সম্মানিত স্যার।ভালো আছেন নিশ্চয়ই । আমি জানি আপনি সব সময় ভালো থাকেন।আমি আপনাকে আজকে একটা দুঃখের কথা বলতে চাই।আসলে হয়েছে কী স্যার পরীক্ষায় কী কী আসবে আমি জানতাম না।কীভাবে জানবো বলুন?প্রশ্ন তো আপনি তৈরি করেছেন আমি না।আর বেশি পড়ালেখা করলে শক্তি অপচয় হবে তাই পড়িনি।অপচয় কারী শয়তানের ভাই।আর আমি মেয়ে ভাই হতে পারবো না তাই বোন বলছি।আমি শয়তানের বোন হতে চাই না।তাই অপচয় করিনি। আপনি যদি বলে দিতেন কোনটা আসবে তাহলে আমি সেগুলা পড়তাম।কিন্তু আপনি বলেন নি ভুল কিন্তু আপনারও আছে এখানে।এতে আমি কিছু মনে করিনি কারণ মানুষ মাএই ভুল।আমিও ভুল করেছি না পড়ে।আপনিও ভুল করেছেন দোষ দুজনেরই আছে। তাই আপনার উচিত আমাকে নাম্বার দিয়ে দাওয়া।আর আমার উচিত আপনার দোষ গুলা ডেকে দাওয়া।
আমার কথা গুলো যদি যুক্তিপূর্ণ হয়ে থাকে তাহলে একের সাথে দুটো শূন্য লাগিয়ে দিয়ে ১০০ নাম্বার দিয়ে দিন।

ইতি
আপনার সবচেয়ে প্রিয় ছাএী
শ্রেয়া,,,

এক নাগালে পড়ে বড় করে শ্বাস নিয়ে থামে শ্রেয়া।শ্রেয়ার কথা গুলা গুনে তিহা আর তিহান মুখ চাওয়া চাওয়ি করছে।ফাইজ স্বাভাবিকই আছে।

—তোমার কথা গুলো বেশি যুক্তিপূর্ণ তাই তিনটা শূন্য দিয়েছি তুমি দুটো চেয়েছো। আমি তিনটা দিয়েছি কারণ কথা গুলা সত্যিই ভালো লেগেছে।দয়ালু মানুষ তো তাই একটা বেশি দিয়েছি।

বলেই ফাইজ চলে যায়।শ্রেয়া পিছনে ফাইজের গুষ্টি উদ্ধার করে ফেলছে।

________

"সন্ধ্যায় নেওয়াজ বাড়ি"

সারাদিনে বাড়িতে আসি নি আদ্র। সন্ধ্যা ৭ টা বাজে বাইরে থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে সোজা ইয়ানার রুমের দিকে গেলো।

দরজা হালকা ভেজানো।
ইয়ানা সেই আগের মতোই ছাদের দিকে তাকিয়ে শুয়ে আছে।

আদ্র আস্তে ডাকলো,

—ইয়ানা? আসবো.?

ইয়ানা চোখ ঘোরালো না।
আদ্র ভেতরে ঢুকে পাশে বসলো।

—তুই খাসনি সারাদিন। এভাবে থাকলে অসুস্থ হয়ে পড়বি।”

ইয়ানা এবার মুখ ঘুরিয়ে তাকালো।
চোখ দুটো ফোলা, লাল।

—ভাইয়া, আমি নোংরা হয়ে গেছি না?”

আদ্রের বুকটা ধক করে উঠলো।সে রৌদ্রের থেকে সব শুনেছে।ছেলে গুলোও কে সেও খুঁজছে। একটাকেও ছাড়বে না আদ্র।

—কে বলেছে তোকে এই কথা? তুই আগের মতোই আছিস। শুধু একটু কষ্ট পেয়েছিস। এটা তোর দোষ না ইয়ানা।”

ইয়ানার ঠোঁট কাঁপলো,

—কিন্তু আমার ছুঁতে ঘেন্না লাগছে নিজেকে। মনে হচ্ছে আমি নষ্ট হয়ে গেছি।”

আদ্র এক হাতে ইয়ানার মাথায় হাত রাখলো।

—“শোন, তোর শরীরে যা হয়েছে সেটা ওদের পাপ। তোর না। তুই একই আছিস। আমাদের কাছে তুই আগের মতোই আমাদের হাসিখুশি ইয়ানা।”

ইয়ানা আর ধরে রাখতে পারলো না। ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে আদ্রকে জড়িয়ে ধরলো।

_ভাইয়া…”

আদ্র বোনকে আগলে নেয় মাথা হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে।

“কাঁদ। আজ যত পারিস কাঁদ। কাঁদলে হালকা লাগবে। আমি আছি তো।”

__________

ইয়ানার ঘর থেকে বের হয়ে আদ্র আহিকে খুঁজে। সারাদিন বউটাকে দেখেনি।আসছে যে অনেকক্ষণ হয়েছে।এখনো দেখছে না।অনেকক্ষণ খুঁজাখুজি করে আদ্র নিজের রুম থেকে চেঁচিয়ে ডাকল

—বউজান কোথায় তুমি তাড়াতাড়ি রুমে আসো।

আহি সহ রাইসা বেগম আতিয়া নেওয়াজ সবাই ফারদিনা নেওয়াজের রুমে গল্প করছিলো।সবার সামনে আদ্রে এমন ডাকে আহি লজ্জা পেয়ে যায়।লোকটার কোনো আক্কেল জ্ঞান নেই।আহি যাবে না।জেদ দরে বসে থাকে এদিকে সবাই মুখ টিপে হাসছে।আহি কে বসে থাকতে দেখে আতিয়া নেওয়াজ বলে

—ছেলেটার কী লাগবে দেখে আয় তো মা। সারাদিন বাসায় আসল জা তাড়াতাড়ি।

আহি আর কী করবে শ্বাশুড়ির কথায় উঠে চলে গেলো।

_______

—আসবো.?

—এটা তোমার ঘর এখানে আসতে অনুমতি নাওয়া লাগবে না।আসো দরজা লাগিয়ে দাও।

আহি বাধ্য মেয়ের মতো তাই করল।দরজা লাগিয়ে আদ্রের সামনে দাড়িয়ে বলে

—ডেকেছেন কেন.?আর এতো জোরে চেঁচানোর কী আছে সবাই শুনে কী না কি ভাবছে।

—ভাবুক তাতে আমার কী আমি আমার বউকে ডেকেছি।

—ডেকেছেন কেন.?কিছু লাগবে.?

—তোমাকে লাগবে।

—কিহ!

—জড়িয়ে ধরো ক্লান্ত লাগছে শক্তির প্রয়োজন।

আহি কিছু বলতে নিবে তার আগেই আদ্র আহির হাত টেনে নিজের বুকের উপর ফেলে জড়িয়ে ধরে।আহিও চুপচাপ চোখ বন্ধ করে পড়ে থাকে আদ্রের বুকে।কিছু পর আহি বলে।

—দুপুরে খেয়েছেন.?

—হুম।সোফার উপর রাখা ব্যাগ গুলো খুলে দেখে পছন্দ হয় কিনা।

আহি তাকায় অনেক গুলো শপিং ব্যাগ কি আছে এতো গুলা ব্যাগে.?

—এতগুলা ব্যাগের মধ্যে কী আছে.?

—নিজেই দেখো।

আহি খুলে প্রথম ব্যাগ একটি কালো বোরকা।২য় টা খুলে সেটা তেও বোরকা আহি এক এক করে সব ব্যাগ খুলে।২০ টা বোরকা ৫০ টা ভিন্ন ডিজাইনের ভিন্ন কালারে হিজাব।এক বক্স হিজাব পিন।৩০ টা নিকাব।আহি অভাক আদ্র এতো গুলা জিনিস কার জন্য আনলো.?

—এতো গুলা বোরগা হিজাব কার জন্য আদ্র ভাই।

—তোর জন্য। পছন্দ হয়েছে.?

—আমার জন্য.? কিন্তু কেন?

আদ্র আহি দিকে এগিয়ে যায়।আহির মুখটা দুহাতের ভাজে তুলে দরে চোখে চোখ রেখে বলে।

—আজ থেকে বাইরে যাওয়ার সময় বোরকা হিজাব পড়ে যাবি।আমি চাই আমি ছাড়া তোর সৌন্দর্য আর কেউ না দেখুক।তোর সকল সৌন্দর্য আমার জন্য আমার বউ অতো সস্তা না যে তার সৌন্দর্য সবাই দেখবে।

—তাই বলে এতো গুলো.?

—একটা মাএ বউ আমার।আমার সব তো তার জন্যই।

_________

রাতে রৌদ্র বাড়ি ফিরে সবার আগে ইয়ানার রুমে যায়।আহিকে ফোন করে জেনেছে ইয়ানা সারাদিনে কিছু খায়নি।রৌদ্র দেখে দরজা বেড়ানো আছে। ভাবছে অনুমতি নিবে। পরে ভাবে যদি ঘুমে থাকে?তাই আর কিছু না ভেবে ডুকে পড়ে।ড্রিম লাইট জ্বালিয়ে শুয়ে আছে ইয়ানা।ড্রিম লাইটের হালকা আলোয় রৌদ্র দেখল ইয়ানা উপরে দিকে তাকিয়ে শুয়ে আছে।হয়তো কিছু নিয়ে ভাবনায় বিভোর না হলে সে ডুকেছে ঘরে তাও মেয়েটা টের পায়নি কেন.?

—খাও নি কেন সারাদিন.?

খাটের একপাশে দাড়িয়ে কথাটা বলে রৌদ্র। ইয়ানা উপর থেকে চোখ সরিয়ে পাশ ফিরে রৌদ্রের দিকে তাকাল।আজকে রৌদ্র দেখে রাগল না।বরং স্বাভাবিক ভাবে উওর দিল

—ইচ্ছে হয়নি তাই

—ইচ্ছে হয়নি নাকি জামাইর জন্য খাওনি।সারাদিন নাকি জামাই জামাই করে কেঁদেছ?বলি কী এতো জামাই পাগল বউ হলে তো আমার কাজেই মন বসবে না।

—এসব ফালতু কথা কে বলেছে আপনাকে.? আপনার জন্য কাঁদতে জাবো কোন দুঃখে.?

এই তো আস্তে আস্তে আগের ইয়ানার মত স্বাভাবিক হচ্ছে রৌদ্র ইচ্ছে করেই এসব বলে রাগাতে চাচ্ছে। রৌদ্র এবার গম্ভীর কন্ঠে বলে

—শুনো তোমার প্রতি আমার কোনো কালেই
ইন্টারেস্ট ছিলো না " এখন যেহেতু বিয়েটা হয়ে গেছে
কী আর করার চলো বাসর টা সেরে ফেলি"
হাঁসের বাচ্চা মুরগীর বাচ্চা গুলো ডাউনলোড
দিয়ে দিই" ওদের পড়াশোনার দেরি হয়ে যাচ্ছে বাবা
হয়ে সন্তানের এত বড় ক্ষতি কীভাবে হতে দিই বলো, ? "

চলবে,,,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 32 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন