ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রেমের রাজত্ব

পর্ব 1

লেখক: জান্নাত জাহান

নিষিদ্ধ প্রেমের রাজত্ব
‎
‎লেখিকা: জান্নাত জাহান
‎
‎প্রথম পর্ব — The Great Python
‎
‎রাশিয়া।
‎
‎চারদিকে বরফে ঢাকা এক বিশাল শহর। আকাশ থেকে ধীরে ধীরে তুষার ঝরছে। রাস্তার দুপাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলোর ডালপালা বরফের সাদা চাদরে ঢাকা।
‎
‎শহরের এক নির্জন প্রান্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল তিনতলা একটি রাজপ্রাসাদ।
‎
‎প্রাসাদটির নাম— Blackwood Palace।
‎
‎কালো মার্বেল পাথরে তৈরি বিশাল প্রাসাদটির প্রধান ফটক এতটাই উঁচু যে দূর থেকে দেখলে মনে হয় কোনো রাজ্যের দুর্গ। চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা, অসংখ্য প্রহরী, কালো পোশাক পরা কর্মী এবং দামি গাড়ির সারি।
‎
‎প্রাসাদের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে বিশাল ঝাড়বাতি, সাদা মার্বেলের মেঝে, সোনালি নকশার দেয়াল আর মাঝখানে উঠে যাওয়া রাজকীয় সিঁড়ি।
‎
‎আজ এই প্রাসাদে বিশেষ আয়োজন।
‎
‎রাশিয়ার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক অতিথিরা উপস্থিত হয়েছেন। সবার পোশাক-আশাক ও চলাফেরায় আভিজাত্যের ছাপ।
‎
‎কিন্তু এত মানুষের ভিড়েও সবার দৃষ্টি আটকে আছে একজনের অপেক্ষায়।
‎
‎কারণ এই প্রাসাদের মালিক সাধারণ কেউ নন।
‎
‎তিনি হলেন—
‎
‎অ্যালিসিও ব্ল্যাকউড।
‎
‎বয়স ঊনত্রিশ।
‎
‎লম্বা, সুদর্শন এবং ব্যক্তিত্বে ভীষণ গম্ভীর একজন পুরুষ। তার চেহারায় একধরনের কঠোর আভিজাত্য রয়েছে। ঘন কালো চুল, তীক্ষ্ণ মুখাবয়ব, আর গভীর গাঢ় বাদামি চোখ। তার চোখের পাপড়িগুলো অস্বাভাবিক রকমের ঘন। নিচের ঠোঁটের ঠিক নিচে রয়েছে একটি ছোট্ট গাঢ় তিল, যা তার গম্ভীর মুখাবয়বকে আরও আলাদা করে তুলেছে।
‎
‎তার মুখে হাসি খুব কমই দেখা যায়। তিনি সহজে কারও সঙ্গে মিশতে পছন্দ করেন না। নিজের সিদ্ধান্তে অটল, ভীষণ আত্মবিশ্বাসী এবং প্রচণ্ড রাগী। কেউ তার আদেশ অমান্য করলে তিনি তা সহজে মেনে নেন না।
‎
‎রাশিয়ার অন্ধকার জগতের এক পরিচিত নাম তিনি।
‎
‎তার আরেকটি পরিচয়—
‎
‎THE GREAT PYTHON — VIAAN LEO.
‎
‎প্রাসাদের তৃতীয় তলার বিশাল ঘর।
‎
‎ঘরের বড় কাচের জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অ্যালিসিও। পরনে কালো শার্ট ও কালো প্যান্ট। এক হাতে দামি ঘড়ি, অন্য হাতে একটি গ্লাস।
‎
‎হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।
‎
‎— স্যার, সবাই অপেক্ষা করছেন।
‎
‎গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর এল—
‎
‎— আসছি।
‎
‎কিছুক্ষণ পর সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল অ্যালিসিও।
‎
‎তাকে দেখামাত্র অতিথিদের কথাবার্তা থেমে গেল। সবাই সম্মান জানিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল।
‎
‎একজন বয়স্ক অতিথি এগিয়ে এসে বললেন,
‎
‎— মিস্টার ব্ল্যাকউড, আপনাকে ছাড়া আজকের অনুষ্ঠান অসম্পূর্ণ থাকত।
‎
‎অ্যালিসিওর মুখে কোনো পরিবর্তন হলো না।
‎
‎— অনুষ্ঠান শুরু করুন। আমার সময় নষ্ট করার অভ্যাস নেই।
‎
‎লোকটি সামান্য অপ্রস্তুত হয়ে মাথা নাড়লেন।
‎
‎কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠান শুরু হলো। চারদিকে আলো, সংগীত আর অতিথিদের কথাবার্তা।
‎
‎কিন্তু অ্যালিসিওর মন পড়ে আছে নিজের সাম্রাজ্যের কাজে।
‎
‎তার কাছে আনন্দ, উৎসব কিংবা মানুষের প্রশংসার কোনো মূল্য নেই। তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য—নিজের ক্ষমতা এবং সাম্রাজ্যকে আরও শক্তিশালী করা।
‎
‎অনুষ্ঠান শেষে সে নিজের ব্যক্তিগত অফিসে ফিরে গেল।
‎
‎বিশাল কালো টেবিলের ওপর কয়েকটি ফাইল রাখা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তার বিশ্বস্ত সহকারী একটি ফাইল এগিয়ে দিল।
‎
‎— স্যার, জাপানের কাজটির ব্যাপারে নতুন তথ্য এসেছে।
‎
‎অ্যালিসিও ফাইলটির দিকে তাকাল।
‎
‎— জাপান?
‎
‎— জি, স্যার।
‎
‎অ্যালিসিও ফাইলটি হাতে নিয়ে চেয়ারে বসল।
‎
‎কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকার পর সে বলল,
‎
‎— বিস্তারিত বলো।
‎
‎সহকারী জাপান-সংক্রান্ত কাজের তথ্য জানাতে শুরু করল।
‎
‎।কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকার পর তার ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি ফুটল।
‎— তাহলে প্রস্তুতি শুরু করো। আমাকে জাপানে যেতে হবে।
‎সহকারী মাথা নত করল।
‎— Yes, Sir.
‎অ্যালিসিও আবার ফাইলের দিকে চোখ রাখল।
‎তার সামনে নতুন একটি কাজ অপেক্ষা করছে
‎
‎বরফে ঢাকা শহরের ওপর তখনও তুষার পড়ছে।
‎
‎জাপান।
‎
‎সূর্যের কোমল আলোয় ঝলমল করছে জাপানের এক সুন্দর শহর। চারদিকে সাজানো রাস্তা, সবুজ গাছপালা, পাহাড়ের সারি আর দূরে দেখা যাচ্ছে নীল আকাশ।
‎
‎শহরের কোলাহল থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে একটি বিশাল ঘোড়ার খামার। খামারটির চারপাশে সবুজ ঘাসে ঢাকা বিস্তীর্ণ মাঠ। একপাশে ঘোড়াদের থাকার জন্য সুন্দর আস্তাবল, অন্যপাশে ঘোড়ায় চড়ার জন্য বিশাল খোলা জায়গা।
‎
‎সেই মাঠের মাঝখানে একটি সাদা ঘোড়ার পিঠে বসে আছে এক তরুণী।
‎
‎তার নাম— ইভেলিনা রোমানো।
‎
‎বয়স আঠারো।
‎
‎জাপানি এই তরুণীকে একবার দেখলে সহজে ভুলে যাওয়া কঠিন। কোমর পেরিয়ে, হাঁটু পেরিয়ে একেবারে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত নেমে এসেছে তার দীর্ঘ সোনালি চুল। বাতাসে চুলগুলো যখন উড়ে ওঠে, তখন মনে হয় যেন কোনো রূপকথার রাজকন্যা ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
‎
‎তার চোখে রয়েছে মায়াবী কোমলতা, তবে ব্যক্তিত্বে সে মোটেও দুর্বল নয়। নিজের পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে সে যথেষ্ট সচেতন। সাহসী, আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন এবং ভীষণ স্বাধীনচেতা।
‎
‎আর তার সবচেয়ে প্রিয় শখ?
‎
‎ঘোড়ায় চড়া।
‎
‎ঘোড়ার পিঠে বসে দীর্ঘ সময় মাঠের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে সে ভীষণ ভালোবাসে।
‎
‎ইভেলিনা ঘোড়াটির মাথায় আলতো করে হাত বুলিয়ে বলল,
‎
‎— Come on, my girl! Let's go!
‎
‎কথা শেষ হতেই ঘোড়াটি দ্রুত ছুটতে শুরু করল।
‎
‎ইভেলিনার দীর্ঘ সোনালি চুল বাতাসে উড়ছে। মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি।
‎
‎কিছুক্ষণ পর সে ঘোড়াটিকে থামিয়ে মাঠের একপাশে নিয়ে গেল।
‎
‎— আজকে তোমার সঙ্গে সময় কাটিয়ে সত্যিই অনেক ভালো লাগল।
‎
‎ঘোড়াটির মাথায় হাত বুলিয়ে মৃদু হেসে উঠল সে।
‎
‎ঠিক তখনই—
‎
‎দূর আকাশে ভেসে উঠল একটি কালো হেলিকপ্টার।
‎
‎অন্যদিকে—
‎
‎জাপানের আকাশপথে এগিয়ে চলেছে একটি বিলাসবহুল কালো হেলিকপ্টার।
‎
‎ভেতরে বসে আছে অ্যালিসিও ব্ল্যাকউড। তার পরনে কালো শার্ট, মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীর ভাব।
‎
‎তার পাশে বসে আছে তার তিনজন বিশ্বস্ত সহকর্মী।
‎
‎একজন জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
‎
‎— স্যার, আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমরা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে যাব।
‎
‎অ্যালিসিও নিজের হাতঘড়ির দিকে তাকিয়ে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল,
‎
‎— Good.
‎
‎কিছুক্ষণ পর হেলিকপ্টারটি নিচে নামতে শুরু করল।
‎
‎নির্ধারিত জায়গাটি ছিল একটি বিশাল খোলা মাঠ। মাঠটির পাশেই ছিল ঘোড়ায় চড়ার সেই জায়গা।
‎
‎হেলিকপ্টারটি মাটিতে অবতরণ করতেই চারদিকে বাতাসের ঝাপটা ছড়িয়ে পড়ল।
‎
‎অ্যালিসিও দরজা খুলে নিচে নামল। তার পেছনে একে একে নেমে এল তার সহকর্মীরা।
‎
‎হঠাৎ তাদের একজন পাশের মাঠের দিকে তাকিয়ে থমকে গেল।
‎
‎— Wow!
‎
‎অন্যজন অবাক হয়ে তাকাল।
‎
‎— কী হয়েছে?
‎
‎সে আঙুল দিয়ে পাশের মাঠটি দেখিয়ে বলল,
‎
‎— Wow! Horse riding with Rapunzel!
‎
‎তার কথা শুনে বাকিরাও সেদিকে তাকাল।
‎
‎দূরে একটি সাদা ঘোড়ার পিঠে বসে আছে এক তরুণী। তার দীর্ঘ সোনালি চুল বাতাসে উড়ছে। দূর থেকে দৃশ্যটি সত্যিই রূপকথার মতো লাগছে।
‎
‎অ্যালিসিওও একবার সেদিকে তাকাল। তার গভীর গাঢ় বাদামি চোখ স্থির হলো তরুণীটির দীর্ঘ সোনালি চুলে। এরপর তার মুখের দিকে একবার প্রখর দৃষ্টিতে তাকাল সে। কয়েক মুহূর্তের জন্য তার দৃষ্টি সেখানেই আটকে রইল।
‎
‎আরেকজন হেসে বলল,
‎
‎— Seriously! I've never seen hair that long!
‎
‎তৃতীয়জন মজা করে বলল,
‎
‎— Looks like Rapunzel has escaped from her tower!
‎
‎তাদের কথায় অ্যালিসিও বিরক্ত হয়ে একবার তাকাল।
‎
‎— তোমাদের কাজ শেষ? নাকি এখানে দাঁড়িয়ে চুলের দৈর্ঘ্য মাপবে?
‎
‎তিনজনই সঙ্গে সঙ্গে চুপ হয়ে গেল।
‎
‎একজন নিচু স্বরে বলল,
‎
‎— Sorry, sir.
‎
‎অ্যালিসিও আর কোনো কথা না বলে নিজের ঘড়ির দিকে তাকাল।
‎
‎— Move. We're getting late.
‎
‎সে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
‎
‎অন্যদিকে ইভেলিনা তখনও জানে না, তার কয়েক হাত দূরেই এসে পৌঁছেছে এক অচেনা মানুষ, যার নাম একদিন তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে।
‎
‎হঠাৎ হেলিকপ্টারের শব্দে ইভেলিনা ঘোড়াটিকে থামিয়ে পাশের মাঠের দিকে তাকাল।
‎
‎দূরে কালো পোশাক পরা কয়েকজন মানুষকে দেখতে পেল সে।
‎
‎কিছুক্ষণ কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে থেকে আবার ঘোড়ার দিকে মন দিল।
‎
‎— Come on, girl. Let's go home.
‎
‎ঘোড়াটি আবার ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল।
‎
‎আর অ্যালিসিও?
‎
‎সে একবারও পেছনে ফিরে তাকাল না।
‎
‎চলবে…
‎
‎

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন