ফন্ট সাইজ:
থিম:
রইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ

১৯তম পর্ব

লেখক: ইয়ুশরা রিমু

#র‌ইলো_প্রেমের_নিমন্ত্রণ

#পর্ব_১৯

#ইয়ুশরা_রিমু

[ ক'পি করা নিষিদ্ধ]

রাত ধীরে ধীরে আরও গভীর হতে লাগলো।একে একে পুরো বাড়ির প্রতিটি ঘরের আলো নিভে গেলো করিডোরজুড়ে নেমে এলো এক অদ্ভুত নীরবতা। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার একঘেয়ে ডাক, মাঝেমধ্যে রাতের হালকা বাতাসে দুলে ওঠা শিউলি আর জারুল গাছের পাতার মৃদু শব্দ সব মিলিয়ে চারপাশে যেন শান্তির এক আবরণ নেমে এসেছে।কিন্তু সেই শান্তি যেন বেলার ঘরের দরজার সামনে এসেই থেমে গেছে।

ঘরের ভেতরে এখনও টেবিল ল্যাম্পের হলদেটে আলো জ্ব'লছে।বিছানার এক কোণে হাঁটু জড়িয়ে বসে আছে বেলা। চুলের সামনের কয়েকটা এলোমেলো গোছা মুখের ওপর নেমে এসেছে। চোখ দুটো এতটাই লাল হয়ে গেছে যে, আয়নায় নিজেকে দেখলেও হয়তো সে নিজেই চিনতে পারতো না।রাতের খাবারের টেবিলের প্রতিটি মুহূর্ত বারবার ফিরে আসছে তার মনে।বেলা হঠাৎ দু'হাত দিয়ে নিজের দুই কান চেপে ধরে বলে উঠলো,

---না। আর মনে করতে চাই না।

কিন্তু মানুষের মন কি কখনও নিজের কথা শোনে?যে স্মৃতিটাকে ভুলে থাকতে চায়, সেই স্মৃতিটাই বারবার ফিরে আসে।চোখের কোণে আবারও পানি জমে উঠলো।সে খুব আস্তে বিছানা থেকে নেমে জানালার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।জানালার বাইরে পুরো বাগানটা চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে।ওই আমগাছটার নিচে দাঁড়িয়ে কতবার সায়রের সঙ্গে ঝগড়া করেছে। ছোটবেলায় কতো আনন্দই না করতো। সারাদিন সায়রের পিছু পিছু ঘুরতো। এটা সেটার বাহানা করতো।

বেলা দীর্ঘশ্বাস ফেললো।নিজের বুকের ওপর হাত রেখে ফিসফিস করে বললো,

---কেন এমন হলো? কখন যে আপনাকে এতটা নিজের করে ফেললাম?

মনে পড়ে গেল সায়রের ছোট ছোট যত্নের কথা জোর করে পানি খাওয়ানো, না খেয়ে থাকলে বকা দেওয়া, মুখ দেখেই তার মন খারাপ বুঝে ফেলা। সেই স্মৃতিগুলোই আজ তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে।নিজেকেই বোঝানোর চেষ্টা করলো,

---না । এটা ভুল উনার ওপর আমার কোনো অধিকার নেই।

কিন্তু কথাগুলো শেষ হওয়ার আগেই চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়লো।অনেকক্ষণ কান্নার পর সে ওজু করে নামাজ পড়লো। সিজদায় মাথা রেখে কাঁপা গলায় দোয়া করল,

---হে আল্লাহ, আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। ভুল যদি কেউ করে থাকে, তবে সেটা আমি। আমার মনটা শান্ত করে দিন। কষ্ট না দিয়ে সবকিছু মেনে নেওয়ার শক্তি দিন।

কিন্তু নামাজ শেষ হলেও বুকের ভেতরের অস্থিরতা কমলো না। রাতভর তার চোখে একফোঁটা ঘুম এলো না। ফজরের আজানের পর নামাজ পড়লো।সারারাত না ঘুমিয়ে আর ভালোমত না খেয়ে শরীরটাও ভেঙে পড়েছিলো।ভোরের আলো ফুটতেই সে বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লো। মনে মনে ভাবলো,

---আর পাঁচ মিনিটতারপর উঠে কলেজে জন্য রেডি হবো

বালিশে মাথা রাখতেই শরীরটা কেমন অবশ অবশ লাগতে শুরু করলো। চোখ দুটো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে এলো।

অত্যধিক ক্লান্তি আর দুর্বলতায় সে গভীর নিদ্রার মতো নিস্তেজ হয়ে রইলো।

_______________________________________________________

সকাল নয়টা বাজে। রান্নাঘরে নাজনীন সুলতানা নাস্তা বানাতে বানাতে সময় দেখে মুচকি হেসে বললেন,

---মেয়েটা আজও বুঝি বেশি ঘুমাচ্ছে!

তিনি বেলাকে ডাকতে ওর ঘরের সামনে গিয়ে বললেন,

---বেলা মা ওঠ, কলেজে যেতে হবে।

কোনো সাড়া নেই।আবার ডাকলেন, দরজায় টোকা দিলেন। তবুও ভেতর থেকে কোনো উত্তর এলো না।হাতল ঘুরিয়ে দেখলেন, দরজাটা ভেতর থেকে লক করা।মুহূর্তেই তার বুকের ভেতর অকারণ এক অস্বস্তি জমে উঠলো।

দরজার হাতলটা আরেকবার ঘুরিয়ে দেখলেন নাজনীন সুলতানা।না ভেতর থেকেই বন্ধ।তিনি আবারও দরজায় নরমভাবে টোকা দিয়ে পুনরায় ডাকলেন,

---বেলা মা ,দরজাটা খোল। অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে।

তবুও কোনো উত্তর নেই।এবার তার বুকের ভেতরটা অকারণেই ধক করে উঠলো।তিনি একটু জোরে দরজায় ধাক্কা দিলেন,

---বেলা! শুনতে পাচ্ছিস?

নিস্তব্ধতা।ভেতর থেকে কোনো শব্দ নেই।না পায়ের ষ আওয়াজ । না বিছানা নড়ার শব্দ।না কোনো উত্তর ততক্ষণে নাজনীন সুলতানার মুখের স্বাভাবিক হাসিটা পুরোপুরি মিলিয়ে গেলো।চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ ফুটে উঠলো।তিনি কাঁপা গলায় আবার ডাকলেন,

---মা একবার শুধু বল, তুই ঠিক আছিস।

তবুও কোনো সাড়া এলো না।হঠাৎ তার মনে পড়লো।বেলা কখনোই এমন করে না। বিশেষ করে সে দরজা লক করে খুব কম ঘুমায়।ঘুম যত গভীরই হোক, মায়ের দ্বিতীয় ডাকের পরই দরজা খুলে দেয়।আজ কেন খুলছে না?তার বুকের ভেতরের অস্থিরতা মুহূর্তেই কয়েকগুণ বেড়ে গেলো।

তিনি আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে রইলেন না।প্রায় দৌড়ে ডাইনিং রুমের দিকে চলে এলেন।কণ্ঠটা তখন ভ"য়ে কাঁপছে,

--- বিহানের আব্বু। বিহান! তোমরা একবার এদিকে আসো!

কথার ভেতরের আ'তঙ্ক শুনেই সবাই চমকে উঠলো।

খবরের কাগজটা নামিয়ে দ্রুত উঠে দাঁড়ালেন সারোয়ার খান।বাশার খান তাড়াতাড়ি এগিয়ে এলেন।বিহান প্রায় দৌড়ে এলো,

----কী হয়েছে আম্মু?

নাজনীন সুলতানার চোখ ইতোমধ্যেই ভিজে উঠেছে,

---অনেকক্ষণ ধরে ডাকছি বেলাকে। দরজা খুলছে না।

বিহান প্রথমে বিষয়টাকে স্বাভাবিকভাবেই নিলো।হেসে বললো,

---আরে, হয়তো গভীর ঘুমে আছে। আমি ডাকছি।

সে দ্রুত বেলার দরজার সামনে এসে জোরে বললো,

---এই পাগলি! আর কত ঘুমাবি? ওঠ!

কোনো উত্তর নেই।সে এবার দরজায় মুষ্টি দিয়ে ধাক্কা দিলো।ধুপ , ধাপ শব্দে করে আবারো ডাকলো,

---বেলা! দরজা খোল!

তবুও নিস্তব্ধতা।বিহানের মুখের হাসিটাও মিলিয়ে গেলো।ভ্রু কুঁচকে আবার বললো,

----বেলা! মজা করিস না। দরজা খুল বোন।

ঠিক তখনই নিজের রুম থেকে বের হচ্ছিলো সায়র।

কলেজে যাওয়ার জন্য শার্টের হাতা গুটাতে গুটাতে সিঁড়ি বেয়ে নামছিল সে। বেলার রুমের দরজায় এত মানুষের জটলা দেখে থেমে গেলঝ।তারপর নাজনীন সুলতানার কাঁদো কাঁদো মুখটা চোখে পড়তেই বুকের ভেতরটা অদ্ভুতভাবে কেঁপে উঠলো।দ্রুত এসে উদ্বিগ্ন গলায় বললো,

---কী হয়েছে?

সারোয়ার খান সংক্ষিপ্তভাবে বললেন,

---বেলা অনেকক্ষণ ধরে ডাকলেও দরজা খুলছে না।

কথাটা শুনে সায়রের মুখের রঙ মুহূর্তেই বদলে গেলো।সে এক সেকেন্ডও দেরি না করে বেলার দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো।দরজায় আলতো করে নক করলো।

---বেলা।

তার কণ্ঠ আগের মতোই শান্ত।যেন আশা করছে, এই ডাকেই দরজা খুলে যাবে।কিন্তু না।কোনো উত্তর এলো না।

সে আবার ডাকলো।এবার কণ্ঠে উদ্বেগ স্পষ্ট।

---বেলা দরজাটা খোল।

সায়র দরজার খুব কাছে কান নিয়ে শুনতে চেষ্টা করলো।ভেতরে কোনো নড়াচড়ার বা হাঁটাচলার শব্দও নেই।তার বুকের ভেতরটা কেমন ধক করে উঠে।বিহান এবার প্রায় চিৎকার করেই উঠলো,

---বেলা! প্লিজ! একটা কথা বল!

নাজনীন সুলতানা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলেন না।চোখের পানি মুছতে মুছতে বললেন,

---আমার মেয়েটার কিছু হয়নি তো সায়র?

সায়র তখন সম্পূর্ণ নিশ্চুপ।তার চোখ স্থির হয়ে আছে দরজার দিকে।কিন্তু বুকের ভেতরে যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে।অকারণ একটা ভয় তাকে ক্রমশ গ্রাস করছে।তার মনে পড়ে গেল, গতকালের সকল ঘটনা।সবকিছু যেন এক সুতোয় গাঁথা হয়ে তার মাথায় ফিরে এলো।সে নিজের অজান্তেই ফিসফিস করে বললো,

---না।কিছু হবে না

সায়র ধীরে ধীরে সবার দিকে তাকালো।তার মুখে আর আগের সেই স্থিরতা নেই।চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে।

চোখেমুখে স্পষ্ট উৎকণ্ঠা।খুব নিচু কিন্তু দৃঢ় স্বরে বললো,

---সবাই একটু পিছিয়ে যাও।

বিহান সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে তাকালো।দুজনের চোখ এক মুহূর্তের জন্য মিললো।কোনো কথা হলো না।তবুও দুজনেই যেন একই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে।সায়র গভীর শ্বাস নিলো।তারপর দরজার দিকে এক পা এগিয়ে গেলো।চোখের দৃষ্টিটা মুহূর্তেই কঠিন হয়ে উঠলো।দরজার ওপর হাত রেখে খুব আস্তে বললো,

---বেলা আমি শেষবারের মতো বলছি যদি শুনতে পাস, দরজাটা খুলে দে।

মমতাজ বেগম নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এতক্ষণে তিনিও বুঝে গেছেন, বিষয়টা আর স্বাভাবিক নেই। সায়র দরজার সামনে এসে একবার গভীর শ্বাস নিয়ে মনে মনে শুধু প্রার্থনা করল,

---আল্লাহ বেলার যেন কিছু না হয়।

পরের মুহূর্তেই সে সমস্ত শক্তি দিয়ে দরজায় ধাক্কা দিলো। প্রচণ্ড শব্দে পুরো করিডোর কেঁপে উঠলো, কিন্তু দরজা খুললো না। বিহানও পাশে এসে দাঁড়ালো। দুজন একসঙ্গে আবার ধাক্কা দিতেই লকের অংশ ভেঙে দরজাটা খুলে গেলো।ঘরে ঢুকেই সবাই থমকে গেলো। টেবিল ল্যাম্প এখনও জ্ব'লছে আর বিছানায় নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে আছে বেলা। মুখটা অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে, চোখ বন্ধ, এক হাত বিছানার কিনারা থেকে নিচে ঝুলে আছে।

দৃশ্যটা দেখেই নাজনীন সুলতানা চিৎকার করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। সায়র ছুটে গিয়ে আলতো করে বেলার কাঁধে হাত দিয়ে বলে,

---বেলা শুনতে পাচ্ছিস?

কোনো সাড়া নেই।

বিহানও বোনের পাশে বসে কাঁপা গলায় ডাকতে লাগলো। সায়র তাড়াতাড়ি বেলার নাকে হাত রেখে শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করলো। খুব ধীর হলেও শ্বাস চলছে বুঝতে পেরে সে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো, কিন্তু উদ্বেগ একটুও কমলো না ।সে দ্রুত বাশার খানের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় গলায় বললো,

---চাচ্চু , আর দেরি করা যাবে না। এখনই হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

বাশার খান সঙ্গে সঙ্গে বিহানকে গাড়ি বের করতে বললেন। সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো।নাজনীন সুলতানা বেলার মাথায় হাত বুলিয়ে কাঁদতে লাগলেন। আর মমতাজ বেগম নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে বেলার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। গত রাতের কথাগুলো যেন একে একে তার মনে ফিরে আসতে লাগল, কিন্তু তার চোখে মুখে কোনো অপরাধবোধের ছায়া নেই।

কোনো কথা না বলে সায়র অত্যন্ত যত্নে বেলাকে দুই হাতে তুলে নিজের বুকের কাছে আগলে নিলো। সেই মুহূর্তে তার মুখের দৃঢ়তার আড়ালে লুকিয়ে ছিলো গভীর আতঙ্ক, আর বুকের ভেতর শুধু একটাই প্রার্থনা বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছিলো,

--- বেলা যেন সুস্থ থাকে।

বাইরে তখন গাড়ির হর্ন বেজে উঠেছে। মুহূর্তের মধ্যেই শান্ত সকালের বাড়িটা উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় ভারী হয়ে উঠলো। সবাই দ্রুত বেলাকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লো।

_______________________________________________________

হাসপাতালে পৌঁছাতেই চিকিৎসকেরা দ্রুত বেলাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলেন। বাইরে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে লাগলেন সারোয়ার খান, নাজনীন সুলতানা, বিহান, বাশার খান আর সায়র। করিডোরজুড়ে তখন শুধু নিস্তব্ধতা আর উদ্বেগের ভারী আবহ।

কিছুক্ষণ পর চিকিৎসক বেরিয়ে এসে শান্ত গলায় বললেন,

---চিন্তার তেমন কোনো কারণ নেই। অতিরিক্ত মানসিক চাপ, সারাদিন ঠিকমতো না খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং শরীরের দুর্বলতার কারণে সাময়িকভাবে জ্ঞান হারিয়েছেন। কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখছি। জ্ঞান ফিরলেই বাসায় নিয়ে যেতে পারবেন। তবে এখন থেকে ওর বিশ্রাম, খাওয়া-দাওয়া আর মানসিক অবস্থার দিকে খুব ভালোভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

কথাগুলো শুনে সবার বুক থেকে যেন একটা পাথর নেমে গেল। কিন্তু সায়রের ভেতরের অস্থিরতা একটুও কমলো না। সে হাসপাতালের করিডোরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে নিজের দু'হাত শক্ত করে মুঠো করে ফেললো।

কয়েক ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে বেলার জ্ঞান ফিরলো। চিকিৎসক শেষবার পরীক্ষা করে কিছু ওষুধ লিখে দিলেন এবং বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিলেন। সবাই বেলাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে এলো।বেলাকে তার ঘরে শুইয়ে দিয়ে সায়র এক মুহূর্তও দেরি করলো না। ধীর পায়ে সে মমতাজ বেগমের ঘরের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। দরজায় হালকা নক করে ভেতরে ঢুকলো।

মমতাজ বেগম ছেলের মুখের দিকে তাকাতেই থমকে গেলেন। সায়রের চোখে আজ অদ্ভুত এক কঠোরতা, যা তিনি আগে কখনও দেখেননি।সায়র কিছুক্ষণ নীরবে মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীর কিন্তু ভীষণ দৃঢ় কণ্ঠে বললো,

---আম্মু ছোটবেলা থেকে তোমার প্রতিটা কথা মাথা পেতে মেনেছি। আজও মানছি। তোমার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কখনও দাঁড়াইনি।

সে এক মুহূর্ত থামলো। চোখের দৃষ্টি আরও কঠিন হয়ে উঠলো।সায়র এবার আরও নিচু কিন্তু তীক্ষ্ণ গলায় বললো,

---কিন্তু একটা কথা আজ পরিষ্কার করে বলে রাখছি। তোমার কোনো সিদ্ধান্তের বিনিময়ে যদি বেলার জীবনে আর একবারও এমন কিছু হয়।যদি ওর কোনো ক্ষ'তি হয়।তাহলে আমি কাউকে ছাড়বো না।কাউকে না, আম্মু প্রয়োজন হলে তোমাকেও না। কারণ আমার চোখের সামনে আর একবার বেলাকে এভাবে নিস্তেজ হয়ে পড়ে থাকতে দেখলে আমি সহ্য করতে পারবো না।

কথাগুলো বলে সায়র আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না। ঘুরে দরজার দিকে হাঁটতে লাগলো। আর মমতাজ বেগম স্থির হয়ে বসে রইলেন। ছেলের শেষ কথাগুলো বারবার তার কানে প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো। প্রথমবারের মতো তিনি উপলব্ধি করলেন বেলা সায়রের কাছে ঠিক কতটা মূল্যবান।

মুহুর্তের মমতাজ বেগমের মাথায় রাগে র'ক্ত চড়ে গেলো।ছেলের মুখে এমন কঠিন ভাষা তিনি কোনোদিন শোনেননি। কিন্তু বিস্ময়ের সেই অনুভূতি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। পরের মুহূর্তেই তার বুকের ভেতর জমে উঠল তীব্র ক্ষো"ভ। মনে মনে ভাবলো,

---এটুকুনে মেয়ে এখনো আমার ছেলেকে হাত করে ফেলেছে। মেয়েটা অজান্তেই হোক বা ইচ্ছাকৃতভাবেই হোক, সায়রের জীবনে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে। আমি তা কখনোই হতে দেব না। প্রয়োজন হলে সবাইকে বিরুদ্ধে গিয়েও এই সম্পর্কের অঙ্কুরেই ছে'দ টানবো। আমার ছেলেকে নিয়ে যে স্বপ্ন আমি এতদিন ধরে বুকে আগলে রেখেছি, সেখানে বেলার কোনো স্থান নেই ,আজও নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না। যতদিন আমি বেঁচে আছি, ততদিন বেলাকে সায়রের জীবনের অংশ হতে দেবো না।

চলবে......

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৯তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন