ফন্ট সাইজ:
থিম:
রইলো প্রেমের নিমন্ত্রণ

২১তম পর্ব

লেখক: ইয়ুশরা রিমু

#র‌ইলো_প্রেমের_নিমন্ত্রণ

#পর্ব_২১

#ইয়ুশরা_রিমু

[ক'পি করা নিষিদ্ধ]

রাত অনেকটাই গভীর হয়ে আসছে। আকাশজুড়ে অসংখ্য তারা জ্ব"লছে। বাহিরে হালকা বাতাস বইছে। এইরকম স্নিগ্ধ পরিবেশ বেলার খুব পছন্দ। একটু আগেই বাসায় ফিরেছে ওরা দুজন।নিজের ঘরে ঢুকেই বেলা বিছানার ওপর শাড়ির প্যাকেটটা খুব যত্ন করে রাখলো। কয়েক সেকেন্ড শুধু তাকিয়েই রইলো।ধীরে ধীরে প্যাকেটটা খুলতেই সাদা-হালকা লাল রঙের শাড়িটা যেন পুরো ঘরটাকেই অন্যরকম আলোয় দিলো।বেলা দু'হাতে শাড়িটা তুলে বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলো।তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই এক টুকরো হাসি ফুটে উঠলো।মনে মনে শুধু একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে,

---তোর এটা খুব মানাবে।

সায়রের বলা ছোট্ট বাক্যটা বারবার কানে বাজতে লাগলো।ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠলো , কল ধরতেই ইরা বলে উঠে,

---বেলা, ঘুমিয়ে পড়েছিলি?

ইরার কণ্ঠ শুনেই বেলা তাড়াতাড়ি ফোনটা বিছানা থেকে হাতে নিলো ভিডিও কলে ভেসে উঠলো ইরার মুখ।

---শাড়ি কিনেছিস?

বেলা হাসতে হাসতেই ক্যামেরার সামনে শাড়িটা মেলে ধরলো।ইরা একদম চিৎকার করে উঠলো,

--- ইয়া আল্লাহ! এতো সুন্দর! এটা কোথা থেকে কিনলি?

বেলা একটু ইতস্তত করে বললো,

---মার্কেট থেকে।

--- সেটা তো বুঝলাম। কিন্তু কার সঙ্গে গিয়েছিলি?তোর চয়েস এতো সুন্দর কখনোই হবে না আমার জানা আছে।

বেলা থমকে গেল।মুখে লজ্জার আভা ছড়িয়ে পড়লো।ইরা বললো,

-- আন্টির সঙ্গে?

বেলা মাথা নাড়লো।

--- তাহলে?

কিছুক্ষণ চুপ থেকে খুব আস্তে বললো,

---সাসায়র ভাইয়া নিয়ে গিয়েছিলো।

ইরা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে থেকে হঠাৎ এমনভাবে হেসে উঠলো যে বেলা আরও লজ্জায় লাল হয়ে গেলো।

---আচ্ছা! তাই বল! তাই তো বলি শাড়িটা এত সুন্দর কিভাবে?!

বেলা ভ্রু কুঁচকে বললো,

---কী বলতে চাইছিস?

---কিছু না। শুধু এটুকু বুঝলাম, স্যারের পছন্দ অসাধারণ।

বেলা মুখ ফিরিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে বলে,

--- উনিই পছন্দ করেছেন শুধু। ভাই হিসেবে পছন্দ করে দিতে পারেন না?

কথাটা মুখ থেকে বের হতেই নিজেই চুপ করে গেলো।

ইরা দুষ্টুমি ভরা গলায় বললো,

-- ওহ্! তাহলে ব্যাপারটা অনেক দূর এগিয়েছে দেখি। ভাইয়া থেকে আবার...

---ইরা!

---আচ্ছা আচ্ছা, আর বলবো না। তবে অনুষ্ঠানের দিন তোকে সবাই দেখে অবাক হয়ে যাবে।

বেলা শুধু মুচকি হেসে রইলো।কিন্তু মনের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতি ছড়িয়ে পড়লো।অনেকদিন পর সে নিজেকে সত্যিই সুখী মনে করছে।

_____________________________________________________________________

অন্যদিকে,নিজের ঘরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে সায়র।দূরের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলেও তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে শপিং মলের সেই মুহূর্ত।বেলার লজ্জায় রাঙা মুখ।শাড়িটার দিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে যাওয়া চোখ।সেসব ভাবতেই,সায়র নিজের অজান্তেই মৃদু হেসে ফেললো।

ঠিক তখনই পিছন থেকে মমতাজ বেগমের কণ্ঠ ভেসে এলো,

--- একা একা হাসছিস কেন?

সায়র চমকে উঠে পেছনে তাকিয়ে বলে,

--- কিছু না, আম্মু।

মমতাজ বেগম ধীরে ধীরে সামনে এসে দাঁড়ালেন,

--- আজ শুনলাম তুমি নাকি বেলাকে নিয়ে শাড়ি কিনতে গিয়েছিলে?

--- চাচি বলেছিলেন। তাই নিয়ে গিয়েছিলাম।

মমতাজ বেগমের মুখটা মুহূর্তেই শক্ত হয়ে গেলো,

--- আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি। ওর অতিরিক্ত কাছাকাছি হওয়ার কোনো দরকার নেই।

সায়র শান্ত গলায় বললো,

--- ও একা যেতে পারতো না।

--- পৃথিবীতে শুধু তুই-ই ছিলি ওকে মার্কেটে নিয়ে যেতে?

সায়র এবার আর কিছু বললো না।

মমতাজ বেগম ধীরে ধীরে বললেন,

--- আমি চাই না, বেলা কখনো ভুল বুঝুক। আর তুইও এমন কোনো আচরণ করিস না, যাতে বেলা বা সবাই অন্য কিছু ভাবতে শুরু করে।

সায়র কিছুক্ষণ নীরব থেকে শুধু বললো,

---আমি জানি আমার সীমা কতটুকু।

এই কথাটুকু বলেই সে নিজের ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেলো।

মমতাজ বেগম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।তার চোখেমুখে স্পষ্ট উদ্বেগ।

_______________________________________________________

চারপাশে এক অদ্ভুত নীরবতা। আকাশজুড়ে অসংখ্য তারা, মাঝখানে পূর্ণিমার চাঁদ। চাঁদের নরম আলো পুরো ছাদটাকে রূপালি আবরণে ঢেকে দিয়েছে। দূরে কোথাও রাতজাগা পাখির ডাক শোনা যাচ্ছে। হালকা বাতাসে গাছের পাতাগুলো মৃদু শব্দ তুলে দুলছে।

নিজের ঘরে শুয়ে থাকতে একদমই ভালো লাগছিলো না বেলার। বারবার বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেও ঘুম আসছিলো না। শেষমেশ ধীরে ধীরে দরজা খুলে ছাদের দিকে হাঁটলো।ছাদে পা রাখতেই তার চোখ পড়লো রেলিংয়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষের দিকে।সায়র।দু'হাত পকেটে ঢুকিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে গভীর কোনো ভাবনায় ডুবে আছে।

বেলা থমকে গেলো।মুহূর্তের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললো চুপচাপ নিচে নেমে যাবে।সে ঘুরে দাঁড়াতেই পেছন থেকে ভেসে এলো পরিচিত কণ্ঠ,

---এই দাঁড়া।

বেলার পা থেমে গেলো।কিন্তু সে পেছনে ফিরলো না।সায়র আবার বললো,

---আমাকে দেখেই পালিয়ে যাচ্ছিস নাকি?

বেলা ধীরে ধীরে ফিরে তাকালো।

---না। আমি ভাবলাম আপনি আছেন, তাই আর কি!!

---তাই চলে যাবি?

বেলা অপ্রস্তুত হয়ে মাথা নিচু করলো।

সায়র হালকা হেসে বললো,

---আমি কি এতটাই ভ"য়ংকর?

বেলা তাড়াতাড়ি মাথা নাড়লো।

---না।

---তাহলে?

---এমনিই

----এমনিই" কোনো উত্তর হলো?

বেলা এবার হেসে ফেললো।সেই হাসিটুকু দেখে সায়রের ঠোঁটেও অল্প হাসি ফুটে উঠলো।সে রেলিংয়ের দিকে ইশারা করে বললো,

---আয়, একটু দাঁড়া। তোকে কিছু বলার ছিলো।

বেলা ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। তবে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেই দাঁড়ালো।সায়র একবার তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো,

---এত দূরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন? আমি কি কা'মড়ে দিব?

বেলা লজ্জা পেয়ে আরও নিচের দিকে তাকিয়ে বললো,

--- না।

--- তাহলে?

---- কিছু না।

সায়র মাথা নেড়ে হেসে ফেললো।কয়েক মুহূর্ত দুজনেই চুপচাপ।হঠাৎ সায়র বললো,

---শাড়িটা একবার বের করে দেখেছিস?

বেলা অবাক হয়ে তাকালো।

---জি।অনেকবার।

---পছন্দ হয়েছে?

----খুব।

----তাহলে ঠিক আছে।

---আপনি কীভাবে বুঝলেন ওটাই আমার ভালো লাগবে?

সায়র কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললো,

---জানি না। দেখে মনে হলো । তোর গায়ে মানাবে।

বেলার গাল দুটো লাল হয়ে উঠলো।সে আস্তে করে বললো,

--- কিন্তু আপনি অনেক সময় নিয়েছেন শাড়ি চয়েস করতে।

সায়র মৃদু স্বরে বললো,

--- সবকিছুতে তাড়াহুড়ো করলে হয় না। কিছু জিনিস সময় নিয়ে বেছে নিতে হয়।

বাতাসে বেলার চুলগুলো মুখের ওপর এসে পড়লো। সে বিরক্ত হয়ে বারবার সরাতে লাগলো।সায়র তাকিয়ে থেকে হালকা হেসে বললো,

-- বাতাসও দেখছি তোকে আজকাল বেশ বিরক্ত করছে।

বেলা হেসে বললো,

---আমার সঙ্গেই সবার যত শত্রুতা।

---না।আমার মনে হয় বাতাসটা শুধু পরীক্ষা করছে, তোকে বিরক্ত হলে কেমন দেখায়।

বেলা অবাক হয়ে তাকালো।

---আপনি আজ এত কথা বলছেন?

--- অবাক হলি?

--- একটু।

----সবসময় বকা দিই বলেই কি শুধু বকতে পারি?

বেলা মাথা নিচু করে মুচকি হাসলো।

সায়র আর কিছু বললো না।চাঁদের আলোয় দাঁড়িয়ে থাকা লাজুক মেয়েটার মুখে ফুটে ওঠা ছোট্ট হাসিটা দেখেই যেন তার কথার উত্তর পেয়ে গেলো। সায়র আকাশের দিকে একবার তাকিয়ে বললো,

--- অনেক রাত হয়েছে। নিচে চল।

বেলা মাথা নাড়লো।দুজন পাশাপাশি সিঁড়ির দিকে হাঁটতে লাগলো।কেউ আর কোনো কথা বললো না।তবুও সেই নীরবতার মাঝেও দুজনের মনেই যেন অসংখ্য অপ্রকাশিত কথা ডানা ঝাপটাতে চাইলো।

_______________________________________________________

রাত কে'টে নতুন সকাল এলো।আজ কলেজ বন্ধ। আগামীকাল বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তাই পুরো বাড়িতেই যেন এক ধরনের হ‌ইচ‌ই আমেজ।

সকালের নাস্তা শেষ করেই বেলা নিজের ঘরে চলে এলো। জানালার পাশের পর্দা সরিয়ে দিতেই কোমল রোদ এসে ঘর ভরে দিলো। জানালার বাইরে জারুল গাছের ডালে দু-একটা পাখি লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। হালকা বাতাসে সাদা পর্দাগুলো দুলে উঠছে।বিছানার ওপর খুব যত্ন করে শাড়িটার প্যাকেটটা রেখে ধীরে ধীরে খুললো বেলা।শাড়িটা বের করতেই তার মুখে অজান্তেই একটা হাসি ফুটে উঠলো।সে আলতো করে আঙুল বুলিয়ে দিল শাড়ির নকশার ওপর।তারপর আলমারি খুলে একে একে নিজের গয়নার ছোট্ট বক্সগুলো বের করতে লাগলো।নিজের সঙ্গেই কথা বললো সে।,

--- এই ঝুমকাটা ভালো লাগবে?

এক জোড়া মুক্তোর দুল বের করলো।আবার রেখে দিলো।

তারপর রূপালি কাজ করা ছোট্ট একজোড়া ঝুমকা হাতে নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো।কানে পরে একবার নিজেকে দেখলো।মুখে মিষ্টি একটা হাসি ফুটে উঠলো।এরপর ধীরে ধীরে খোলা চুলগুলো কাঁধের সামনে এনে একবার দেখলো।আবার খোঁপা করলো।আবার খুলে ফেললো।নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললো,

--- খোলা চুলই বোধহয় বেশি ভালো লাগবে।

ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার থেকে ছোট্ট একটা কাজল বের করে চোখের পাশে ধরে দেখলো।হালকা গোলাপি লিপস্টিকটাও হাতে নিয়ে আবার রেখে দিলো।

--- না । খুব বেশি সাজবো না।

একদম হালকা থাকলেই ভালো।ঠিক তখনই ফোনে ইরা ভিডিও কল করলো।স্ক্রিনে বেলার সাজগোজ দেখে ইরা হো হো করে হেসে উঠলো।

---আরে! আজই নাকি অনুষ্ঠান?

বেলা লজ্জা পেয়ে বললো,

--- না তো।

--- তাহলে এতক্ষণ ধরে আয়নার সামনে কী হচ্ছে?

--- কিছু না।শুধু ভাবছিলাম কাল কীভাবে সাজবো।

ইরা ভুরু নাচিয়ে বললো,

---ওমা! সুন্দর করে সাজলে বুঝি বিশেষ করে কেউ দেখবে?

বেলা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করলো,

--ধুর! তুইও না!

দুজনেই হেসে উঠলো।ইরা বলতে লাগলো,

--- শোন, চুল একদম খোলা রাখবি। কানে ওই ঝুমকাটাই পরবি। বেশি মেকআপ করবি না। তুই এমনিতেই সুন্দর।

বেলা মাথা নেড়ে বললো,

--- আমিও তাই ভাবছিলাম।

দীর্ঘক্ষণ দুজন অনুষ্ঠান নিয়ে গল্প করতে লাগলো।কে কী পরবে।কোথায় কোথায় ছবি তুলবে।কার সঙ্গে সেলফি তুলবে।সব পরিকল্পনা শেষ হতে না হতেই ফোন কে'টে গেলো।বেলা আবার আয়নার সামনে এসে দাঁড়ালো।

নিজেকে একবার দেখে মৃদু হেসে খুব যত্ন করে শাড়িটা আবার ভাঁজ করে আলমারিতে রেখে দিলো।ঠিক তখনই নিচ থেকে নাজনীন সুলতানার ডাক ভেসে এলো,

---বেলা! কোথায় তুই? একটু নিচে আয় মা।

--- আসছি আম্মু!

বেলা দ্রুত নিচে নেমে এলো।ডাইনিং টেবিলে তখন নাজনীন সুলতানা বিকেলের নাস্তা সাজিয়ে রাখছেন। রান্নাঘর থেকে গরম গরম পেঁয়াজু আর আলুর চপের ঘ্রাণ ভেসে আসছে।

বাশার খানও অফিস থেকে ফিরেছেন। সোফায় বসে চা খেতে খেতে খবরের কাগজ দেখছেন।বিহান ফলের প্লেট হাতে নিয়ে বসেই বেলাকে দেখে বললো,

-- এই যে ম্যাডাম! কালকে তো দেখি একদম নায়িকা হওয়ার প্রস্তুতি চলছে!

বেলা অবাক হয়ে বললো,

---কে বললো?

--- তোর রুমে গিয়ে দেখলাম পাঁচটা ঝুমকা, তিন জোড়া চুড়ি, ক্লিপ , আর বিভিন্ন কসমেটিক বিছানার ওপর সাজানো!

বাশার খান হেসে ফেললেন।নাজনীন সুলতানাও মুচকি হেসে বললেন,

--মেয়েরা অনুষ্ঠানের আগে এমনই করে।

বিহান দুষ্টুমি করে বললো,

---কিন্তু একটা কথা বলে রাখলাম, কাল যদি সবাই তোকে চিনতেই না পারে, তখন কিন্তু দোষ আমার না!

বেলা মুখ ফুলিয়ে একটা কুশন ছুড়ে মা'রতেই সবাই একসঙ্গে হেসে উঠলো।অনেকদিন পর বাড়িটা আবার হাসির শব্দে ভরে উঠলো।সন্ধ্যা নেমে আসতেই সবাই একসঙ্গে চা-নাস্তা করলো। গল্প হলো, হাসি-ঠাট্টা হলো। রাতের খাবার শেষে নাজনীন সুলতানা আবারও বলে দিলেন,

--- কাল কিন্তু সকালে তাড়াতাড়ি উঠবি। আর সাজতে গিয়ে যেন দেরি না হয়ে যায়।

বেলা হেসে মাথা নাড়লো।তার চোখে তখন আগামীকালের জন্য একরাশ স্বপ্ন আর শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস।

_____________________________________________________________

ভোরের প্রথম আলো ধীরে ধীরে চারপাশ আলোকিত করে তুলছে। আজ কলেজের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই বাড়ির পরিবেশে অন্যরকম এক ব্যস্ততা।

শিক্ষক হওয়ায় সায়রের আজ একটু আগেই কলেজে যেতে হবে। অনুষ্ঠানের নানা দায়িত্ব তার ওপরও রয়েছে।সকালের নাস্তা শেষ করে সে পরিপাটি হয়ে নিচে নেমে এলো। কালো ফুলহাতা শার্ট, কালো প্যান্ট, কালো হাতঘড়ি।একদম পরিমিত, মার্জিত সাজ। হাতে গাড়ির চাবি ঘুরাতে ঘুরাতে বললো,

--- আম্মু ,আমি বের হচ্ছি।

মমতাজ বেগম রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বললেন,

----আচ্ছা বাবা, সাবধানে যেও।

নাজনীন সুলতানা পাশ থেকে বললেন,

---অনুষ্ঠান শেষ হলে বেলার দিকে একটু খেয়াল রেখো।

সায়র ছোট্ট করে মাথা নাড়লো।

--- জি।

এক মুহূর্তের জন্য তার দৃষ্টি সিঁড়ির দিকে গেল। মনে মনে ভাবলো,

----বেলা কি নিজের ঘরে, সাজগোজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

কিন্তু কাউকে বেলার বিষয়ে কিছু না জিগ্গেস করেই সায়র বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো।মোটরগাড়িটা ধীরে ধীরে গেট পেরিয়ে রাস্তায় মিলিয়ে গেলো।

★

এদিকে নিজের ঘরে দাঁড়িয়ে আয়নার সামনে মতো নিজেকে দেখছে বেলা।সাদা-লালের মিশেলে অপূর্ব সেই শাড়িটা নিখুঁতভাবে পরেছে সে। শাড়ির আঁচলটা সুন্দর করে কাঁধে গুছিয়ে রাখা। কোমর ছুঁয়ে নেমে আসা লম্বা কালো চুল আজ খোলা। হালকা করে কার্ল করা চুলগুলো বাতাসে দুলে উঠছে।চোখে পাতলা কাজল।ঠোঁটে খুব হালকা লাল আভা।কানে ছোট্ট রূপালি ঝুমকা।হাতে কাঁচের লাল- সোনালি চুড়ি।বাড়তি কোনো সাজ নয়। তবু তার সরল সৌন্দর্য যেন আজ অন্যরকম উজ্জ্বল।নাজনীন সুলতানা ঘরে ঢুকেই কিছুক্ষণ মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন।তারপর মুগ্ধ হয়ে বললেন,

--- মাশাআল্লাহ আমার মেয়েটাকে আজ যেন একদম রাজকন্যার মতো লাগছে।

বেলা লজ্জায় মায়ের কাঁধে মাথা রাখলো।ঠিক তখনই বিহান দরজায় এসে দাঁড়িয়ে চোখ বড় বড় করে বললো,

---এক মিনিট। এটা কি আমার বোন?

বেলা ভুরু কুঁচকে বললো,

---ভাইয়া!

বিহান হেসে বললো,

---সত্যি বলছি, আজ কলেজে কেউ যদি তোকে দেখে চিনতে না পারে, আমি কিন্তু অবাক হবো না।

বাশার খানও বাইরে থেকে মুচকি হেসে বললেন,

--- আল্লাহ তোকে সবসময় ভালো রাখুক।

বাবার কথায় বেলা মাথা নিচু করে হাসলো।নাজনীন সুলতানা এসে কপালে আলতো করে চুমু খেয়ে দিলেন।

--- নজর লাগবে না তো?

বিহান সঙ্গে সঙ্গে বললো,

---দাঁড়াও, আগে একটা ছবি তুলি।

বেশ কয়েকটা ছবি তোলার পর অবশেষে বেলা কলেজের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লো।

★

কলেজের মূল ফটকে ঢুকতেই আজ যেন পুরো ক্যাম্পাসটাই বদলে গেছে।প্রবেশপথে রঙিন বেলুন, ফুল আর আলপনা দিয়ে সাজানো হয়েছে।বড় বড় ব্যানারে লেখা,

---"বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান–২০২৬"

মাঠজুড়ে ছোট ছোট স্টল।কোথাও ফুচকার দোকান।কোথাও ঝালমুড়ি।কোথাও আইসক্রিম।স্পিকারে হালকা রবীন্দ্রসংগীত বাজছে।শিক্ষার্থীদের হাসি, গল্প, ছবি তোলা ।সব মিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।বেলা চারদিকে তাকিয়ে মুগ্ধ হয়ে গেলো।ঠিক তখনই পেছন থেকে পরিচিত একটা চিৎকার,

---বেলাআআ!

ইরা দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো তাকে।দুজনই কয়েক সেকেন্ড হেসেই চললো।ইরা একটু দূরে সরে দাঁড়িয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত বেলাকে দেখে মুখ হাঁ করে ফেললো।

--- ইয়া আল্লাহ। তুই এত সুন্দর কবে হলি?

বেলা লজ্জা পেয়ে বললো,

--- ধুর!

--- না, সত্যি বলছি। আজ তোকে দেখে মনে হচ্ছে সিনেমার নায়িকা।

বেলা হাসতে হাসতে বললো,

--- তুইও তো কম সুন্দর লাগছিস না।

ইরা আজ হালকা নীল জামদানি শাড়ি পরেছে। কানে ঝুমকা, কানে গুজা সাদা ফুল।দুজন পাশাপাশি দাঁড়াতেই আশপাশের কয়েকজন ছাত্রী তাকিয়ে মুচকি হেসে বললো,

--- তোমাদের দুজনকে দারুণ লাগছে।

ইরা গর্ব করে বললো,

--- জানি!

বেলা হেসে তার হাতে আলতো একটা চিমটি কা'টলো।তারপর শুরু হলো দুজনের অবিরাম আড্ডা।কখনও তারা পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখছে।কখনও ফুল দিয়ে সাজানো করিডোরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছে।কখনও একে অপরের শাড়ির আঁচল ঠিক করে দিচ্ছে।কখনও হাসতে হাসতে পুরনো ক্লাসরুমের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে স্কুলজীবনের গল্প করছে।একসময় তারা কলেজের বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছটার নিচে গিয়ে বসলো।হালকা বাতাসে লাল ফুলগুলো ঝরে পড়ছে।ইরা ফোন বের করে বললো,

---আয়, আগে সেলফি।

একটার পর একটা ছবি।কখনও হাসি।কখনও ভান করে রাগ।কখনও দুজন একসঙ্গে আকাশের দিকে তাকিয়ে পোজ।আবার কখনও হেসে ছবিটাই ন'ষ্ট করে ফেলছে।ছবি তুলতে তুলতে ইরা হঠাৎ বললো,

---আজকে না, আমাদের এত ছবি হবে যে রাতে বসে কোনটা আপলোড করবো সেটাই বুঝতে পারবো না।

বেলা হেসে উঠলো,

--- আগে অনুষ্ঠানটা হোক, তারপর দেখা যাবে।

ইরা চোখ টিপে বললো,

---আর যদি কেউ আজ তোকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যায়?

বেলা ভান করে রাগ দেখালো।

--- চুপ কর!

দুজন আবারও হেসে উঠলো।তারা বুঝতেই পারলো না কলেজ ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে একজোড়া তীক্ষ্ণ চোখ তাদের প্রতিটি মুহূর্ত গভীরভাবে লক্ষ্য করছে।চোখ দুটোর মালিক তানিয়া।তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে উঠলো এক রহস্যময় হাসি।

ঠিক তখনই অনুষ্ঠানের দায়িত্ব শেষ করে প্রধান ভবনের করিডোর দিয়ে হেঁটে আসছিলো সায়র।হাতে কয়েকটা ফাইল। সঙ্গে আরও দুজন শিক্ষক। অনুষ্ঠান শুরুর আগে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না, সেটাই দেখে নিচ্ছিলো সে।হাঁটতে হাঁটতেই হঠাৎ তার দৃষ্টি থেমে গেলো।কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে বেলা।সাদা-লাল সোনালি রঙের শাড়িতে মোড়ানো সরল সৌন্দর্য যেন সকালের কোমল রোদের সঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। হালকা বাতাসে তার খোলা চুলগুলো বারবার মুখের ওপর এসে পড়ছে। এক হাতে আঁচল সামলে অন্য হাতে ইরার সঙ্গে গল্প করতে করতে প্রাণ খুলে হাসছে সে। সেই হাসিতে চোখ দুটো চিকচিক করছে।

এক মুহূর্তের জন্য সায়রের চারপাশের সমস্ত শব্দ যেন মিলিয়ে গেলো।ছাত্রছাত্রীদের কোলাহল, মাইকের ঘোষণা, অনুষ্ঠানের ব্যস্ততা সবকিছুই যেন দূরে সরে গেলো।তার দৃষ্টি শুধু একজনের ওপরই স্থির হয়ে রইলো।অদ্ভুত এক শান্তি নিয়ে সে তাকিয়ে আছে।মনে পড়ে গেল সেদিন শাড়িটা হাতে নিয়ে তার বলা কথাটা,

---তোর এটা খুব মানাবে।

আজ বুঝি সেই কথাটাই সত্যি হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে আছে,

---না।

তার ধারণার চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর লাগছে বেলাকে।সায়রের ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটুকরো মুগ্ধ হাসি ফুটে উঠলো।সে নিজেও বুঝতে পারলো না, কতক্ষণ ধরে এভাবেই তাকিয়ে আছে।ঠিক তখনই পাশে থাকা একজন শিক্ষক মুচকি হেসে বললেন,

--- সায়র সাহেব, কী দেখছেন এত মন দিয়ে?

সায়র যেন হঠাৎ বাস্তবে ফিরে এলো।হালকা কেশে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করলো,

--- কিছু না।অনুষ্ঠান ঠিকঠাক চলছে কি না, সেটাই দেখছিলাম।

কথাটা বললেও নিজের মনকে সে বোঝাতে পারলো না।কারণ তার চোখ আবারও অজান্তেই বেলার দিকেই ফিরে গেলো।ওদিকে ইরা গল্প করতে করতে হঠাৎ লক্ষ্য করলো, দূরে দাঁড়িয়ে সায়র এদিকেই তাকিয়ে আছে।সে দুষ্টু হেসে বেলার কাঁধে আলতো ধাক্কা দিয়ে ফিসফিস করে বললো,

---এই কেউ কিন্তু তোকে খুব মন দিয়ে দেখছে।

বেলা অবাক হয়ে বললো

---কে?

ইরা চোখের ইশারায় সামনে দেখালো।বেলা ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকাতেই তার চোখ গিয়ে আটকালো সায়রের চোখে।দুজনের চোখ এক হলো।এক সেকেন্ড,দুই সেকেন্ড সময় যেন থমকে দাঁড়ালো।বেলার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠলো।লজ্জায় সে তাড়াতাড়ি চোখ নামিয়ে ফেললো।ঠোঁটের কোণে অজান্তেই লাজুক একটু হাসি ফুটে উঠলো।আর সায়র সে শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে রইলো।তার চোখে আজ কোনো কঠোরতা নেই।ছিল শুধু গভীর, নীরব এক মুগ্ধতা।যে মুগ্ধতার ভাষা হয়তো শব্দে বলা যায় না, শুধু চোখেই পড়ে।

____________________________________________________________

অনুষ্ঠান তখন পুরোদমে চলছে। পুরো কলেজজুড়ে আনন্দের রেশ। অডিটোরিয়ামের ভেতরে গান চলছে, বাইরে কেউ ছবি তুলছে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে ব্যস্ত। চারদিকে এত মানুষের ভিড় যে কে কোথায় যাচ্ছে, সেদিকে কারও তেমন খেয়াল নেই।

এই সুযোগটার অপেক্ষাতেই ছিল তানিয়া।দূরে দাঁড়িয়ে সে বেলা আর ইরার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। তারপর খুব আস্তে নিজের দুই বান্ধবীর কাছে গিয়ে বললো,

--- সবকিছু ঠিকঠাক তো?

একজন মাথা নেড়ে বললো,

--- হ্যাঁ। যেভাবে বলেছিস, সেভাবেই হবে।

তানিয়ার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে একটা বি'ষাক্ত হাসি ফুটে উঠলো। আজকের পর পুরো কলেজ বেলাকে অন্য চোখে দেখবে। এতদিন সবাই ওকে ভালো মেয়ে ভাবতো। আজ সেই ভাবমূর্তিটাই শেষ করে দেবো।তার এক বান্ধবী একটু দ্বিধায় বললো,

--- কিন্তু যদি ধরা পড়ে যাই?

তানিয়া ঠান্ডা গলায় উত্তর দিল,

--- ধরা পড়বো কেন? কেউ তো জানেই না সবকিছুর পেছনে আমরা আছি।

সে একটু থেমে আবার বললো,

--- কলেজের পুরোনো সাংস্কৃতিক কক্ষটা আজ প্রায় ফাঁকাই থাকবে। সবাই মাঠ আর অডিটোরিয়ামে ব্যস্ত। ওখানেই হবে সব।

তারপর সে ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে একটি নম্বরে ফোন করলো।ওপাশে ফোন ধরতেই তানিয়া মিষ্টি গলায় বললো,

--- ভাইয়া, স্যার আপনাকে একটু পরে পুরোনো সাংস্কৃতিক কক্ষে যেতে বলেছেন। নাকি অনুষ্ঠানের একটা কাজে দরকার। আপনি একটু চলে যাবেন।

ওপাশ থেকে ছেলেটি কোনো সন্দেহ না করেই রাজি হয়ে গেলো।ফোন কেটে তানিয়া তৃপ্তির হাসি হাসলো।

এরপর সে প্রথম বর্ষের এক সহজ-সরল মেয়ের কাছে গিয়ে বললো,

-- শোনো, একটা কাজ করবে?

--- জি আপু।

--- ওই যে সাদা-লাল শাড়ি পরা আপুটা দেখছো? ওর কাছে গিয়ে বলবে, সায়র স্যার আপনাকে পুরোনো সাংস্কৃতিক কক্ষে ডাকছেন। জরুরি কথা আছে।

মেয়েটি সরল মনে বললো,

--- আচ্ছা আপু।

তানিয়া মনে মনে বললো,

--- এবার শুরু হবে আসল খেলা।

কিছুক্ষণ পর সেই মেয়েটি বেলার কাছে এসে বললো,

--- আপু, সায়র স্যার আপনাকে পুরোনো সাংস্কৃতিক কক্ষে ডাকছেন। উনি বললেন, জরুরি কথা আছে।

বেলা অবাক হয়ে বললো,

--- আমাকে?

---জি আপু।

বেলা একবার চারদিকে তাকালো। দূরে কোথাও সায়রকে দেখা যাচ্ছে না।সে ভাবলো, হয়তো অনুষ্ঠানের কোনো কাজ থাকবে।ইরার দিকে ফিরে বললো,

---আমি একটু ঘুরে আসছি। স্যার ডেকেছেন।

ইরা হেসে বললো,

---আচ্ছা, তাড়াতাড়ি আয়। তারপর কিন্তু আমরা আবার ছবি তুলবো।

--- ঠিক আছে।

বেলা ধীরে ধীরে পুরোনো ভবনের দিকে হাঁটতে শুরু করলো।

এদিকে ,সায়র তখন অধ্যক্ষের সঙ্গে মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে অনুষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করছিলো।সব কাজ শেষ করে সে যখন একটু ফাঁকা হলো, তখন হঠাৎ তার মনে পড়লো ।অনেকক্ষণ হলো বেলাকে দেখা যাচ্ছে না।অকারণেই তার মনটা অস্থির হয়ে উঠলো।সে চারদিকে তাকালো।না বেলা কোথাও নেই।ঠিক তখনই সামনে ইরাকে দেখতে পেয়ে সে এগিয়ে গেলো।

-- ইরা, বেলা কোথায়?

ইরা স্বাভাবিক গলায় বললো,

--- আপনি তো ডেকেছিলেন স্যার। একটু আগে একটা মেয়ে এসে বললো, আপনি নাকি পুরোনো সাংস্কৃতিক কক্ষে ডাকছেন। বেলা সেখানেই গেছে।

সায়রের কপাল মুহূর্তেই কুঁচকে গেল।

--- আমি?

তার গলায় স্পষ্ট বিস্ময়।

---আমি তো কাউকে পাঠাইনি।

ইরার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।

--- কী? তাহলে...

সায়রের বুকের ভেতর হঠাৎ কেমন একটা অজানা আশঙ্কা জন্ম নিলো।সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না।দ্রুত পায়ে পুরোনো ভবনের দিকে হাঁটতে শুরু করলো।এদিকে বেলা নির্জন করিডোর পেরিয়ে সেই কক্ষের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।চারপাশ অস্বাভাবিক নীরব।ভেতরে কেউ আছে বলে মনে হচ্ছে না।সে আলতো করে দরজায় নক করলো।

---স্যার???

কোনো উত্তর এলো না।আবার ডাকলো।

--- স্যার, আমি বেলা।

তবুও কোনো সাড়া নেই।দরজাটা আধখোলা ছিলো।বেলা ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে চারদিকে তাকালো।কিন্তু পুরো ঘরটাই ফাঁকা।সে অবাক হয়ে ভাবলো,

--- সায়র ভাই কোথায় গেলেন?

ঠিক সেই সময় দ্রুত পায়ের শব্দ ভেসে এলো।ঘরের বাইরে দরজার পেছনে লুকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা তানিয়া সেই শব্দ শুনে ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বললো,

--- এসে গেছে তাহলে ‌।

তানিয়া আর এক মুহূর্ত দেরি করলো না। যে-ই আসুক, সেটাকেই সেই ছেলেটি ভেবে বাইরে থেকে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দিলো।ঠাস!দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দে ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা বেলা চমকে উঠলো।আর বাইরে দাঁড়িয়ে তানিয়া বিজয়ীর হাসি হেসে দ্রুত সেখান থেকে সরে গেলো।সে জানতো না। যার পায়ের শব্দ শুনে সে দরজা বন্ধ করেছে,সে সেই ছেলেটি নয়।সে ছিল সায়র।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন