ফন্ট সাইজ:
থিম:
উপন্যাস: নীল পদ্ম

পর্ব 1

লেখক: লেখিকা: মুস্তারী আক্তার মারিয়া 🌸

🚫 লেখিকার অনুমতি ছাড়া এই গল্পের কোনো অংশ কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ।

🌸 উপন্যাস: নীল পদ্ম 🌸

লেখিকা: মুস্তারী আক্তার মারিয়া

পর্ব: ০১ 💙

ভোরের পাখিদের মিষ্টি কিচিরমিচির ডাক আর মনমুগ্ধকর গ্রামীণ বাতাস—সব মিলিয়ে যেন প্রকৃতির বুকে লেখা এক মায়াবী গল্প! শহর থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত বাইশ হাট গ্রাম। গ্রামের বুক চিরে চলে গেছে ঢালাই করা রাস্তা। রাস্তার দুপাশে ছোট ছোট ঘরবাড়ি আর ছোট ছোট ঝিল, যা এই গ্রামকে আরও মনমুগ্ধকর রূপে সাজিয়ে তুলেছে।

এই গ্রামেরই মাস্টারবাড়ির কর্তার ছোট নাতনির বিয়ে ঠিক হয়েছে গ্রামের এক সাধারণ ছেলে বাশিরের সঙ্গে। বাশির আবার জমিদারবাড়ির খাস লোক। জমিদারবাড়ির সবাই তাকে ভীষণ ভালোবাসে। বাশির একজন সৎ সবজি ব্যবসায়ী। নিজের জমিতে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেই তার জীবিকা চলে।

মাস্টারবাড়িতে ভোরবেলা থেকেই বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। চারদিকে মানুষের ছোটাছুটি, কথাবার্তা আর কাজের ব্যস্ততা।

এত চেঁচামেচি শুনে মেহেরিমার মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠল। সে তখন নিজের অগোছালো চুলগুলোকে আধখোঁপা করতে ব্যস্ত। যেন দুনিয়ার কোনো কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারছে না!

হঠাৎ কানে মানুষের ব্যস্ততার গুঞ্জন ভেসে আসতেই সে যেন ঘুমের রাজ্য থেকে বাস্তবে ফিরে এল। মাথায় একটু চাপ দিতেই মনে পড়ল—আজ তার বিয়ে! তাও আবার গ্রামের এক সাধারণ ছেলের সঙ্গে!

ব্যস! আর কী!

সে বিছানা থেকে ওড়নাটা টেনেই বাড়ির পেছনের দরজা দিয়ে ভোঁদৌড় দিল, যেন কোনো দৌড় প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে! মাথার ওড়নাটা বারবার সরে যাচ্ছিল। কোমর পর্যন্ত নেমে আসা ঢেউখেলানো চুলগুলো যেন তার মতোই চঞ্চল। বাতাসে চুলগুলো দুলছিল আপন মনে।

আঠারো বছরের এই চঞ্চল তরুণী কি জানে, তার এই উন্মাদনা দেখে কারও পাথরের মতো শক্ত হৃদয়েও রক্তক্ষরণ হচ্ছে?

সে কি জানে, তাকে একনজর দেখার জন্যই একজন পুরুষ বারবার শহর থেকে ছুটে আসে?

আর সেই মানুষটি আর কেউ নয়—জমিদারবাড়ির একমাত্র ছেলে সোলেমান!

আজ তাকে আবার শহরে ফিরে যেতে হবে। গতকাল রাতে সে শুনেছিল, মেহেরিমা নাকি আজ সকালে ফার্স্ট ইয়ার থেকে বাড়ি ফিরছে। খবরটা শোনার পর যত দ্রুত সম্ভব রোগী দেখা শেষ করে সে সেদিন বিকেলেই গ্রামে চলে আসতে চেয়েছিল। কিন্তু এক রোগীর অবস্থা জরুরি হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। তাই আর আসা সম্ভব হয়নি।

শেষ পর্যন্ত রোগী দেখা শেষ করে রাত বারোটার দিকে সে গ্রামে পৌঁছেছিল।

রাত বারোটা! গ্রামের জন্য অনেক রাতই বলা যায়।

সোলেমানের ইচ্ছে, কিছুদিন পর স্থায়ীভাবে গ্রামে ফিরে আসবে। গ্রামের মানুষের সেবা করবে, তাদের পাশে দাঁড়াবে। আর সেই সঙ্গে নিজের হৃদয়ের রানিকে চিরদিনের জন্য বুকের পাঁজরে আগলে রাখবে।

কিন্তু তার সবচেয়ে বড় দুঃখ—তার হৃদয়ের রানিটি যে তার দিকে ফিরেও তাকায় না! মেয়েটি তাকে আদৌ চেনে কি না, সেটাও সে নিশ্চিত নয়।

তার হৃদয়হরিণী তো শহরের কলেজে পড়ে। অথচ সোলেমানকে জরুরি কাজের জন্য আবার শহরে ফিরতে হচ্ছে।

সে ভেবেছিল, এবার তার হৃদয়হরিণীকে নাকফুল পরিয়ে তার নামে অর্ধেক দলিল করে রাখবে। এই ছোট্ট স্বপ্নটা সে কত যত্ন করে নিজের হৃদয়ের গহিনে লুকিয়ে রেখেছে!

পকেট থেকে নাকফুলটা বের করল সোলেমান। সেটার দিকে তাকিয়ে ঠোঁটের কোণে ফুটিয়ে তুলল এক মুচকি হাসি।

তারপর নাকফুলটা আবার পকেটে রেখে সামনের দিকে হাঁটতে শুরু করল।

ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠেই সে শুনেছিল, বাশির ভাইয়ের বিয়ে নাকি খুব সাদামাটাভাবে হচ্ছে। তবে বিস্তারিত কিছু শোনার আগেই তার ফোন বেজে উঠেছিল। ফলে আর জানা হয়নি।

সকালে বাড়িতে দুধ নিয়ে যাওয়ার সময় বাশিরকে একটু মজা করেই বলেছিল—

— বাশির ভাই, তুমি বিয়ে করে নাও। পরের বার আমি করব!

কথাটা মনে পড়তেই সোলেমানের ঠোঁটে আবারও হাসি ফুটে উঠল।

এরপর সে নৌকায় উঠে শহরের উদ্দেশে রওনা দিল।

অন্যদিকে, নদীর পাড়ে এসে দাঁড়াল মেহেরিমা। পাড়ি দেওয়ার জন্য নৌকার দিকে তাকিয়ে দেখল, নৌকা আছে, কিন্তু মাঝি নেই!

রাগে তার মাথা গরম হয়ে গেল।

— ধুর বাল! নৌকা আছে, মাঝি নাই!

কথাটা বলেই সে বিরক্তিতে মুখ বাঁকাল। এত সকালে বাড়ির সবাই বিয়ের কাজে ব্যস্ত, আর এদিকে নদী পার হওয়ার জন্য মাঝির কোনো খোঁজ নেই!

ঠিক তখনই তার পাশে এসে দাঁড়াল একজন যুবক।

তার পরনে সাদা পাঞ্জাবি, মাথায় টুপি আর কালো পাড়ের লুঙ্গি। বলিষ্ঠ গড়ন, হালকা চাপদাড়ি আর ঘন কালো চোখের মণি—সব মিলিয়ে তাকে বেশ সুদর্শন দেখাচ্ছিল।

যুবকটিকে একনজর দেখতেই মেহেরিমার মনের মধ্যে অদ্ভুত এক অনুভূতি জেগে উঠল।

মনে মনে সে নিজেকেই ধমক দিল—

— মেহেরিমা, তুই তো শেষ! জীবনের প্রথম ক্রাশ নামক বাসটা কি খেয়েই ফেললি?

পরক্ষণেই নিজের মনকে আবার বোঝাতে লাগল—

— এই মেয়ে, তুই তোর স্বামীর হক অন্য কাউকে দিয়ে দিচ্ছিস! তুই না বলেছিলি, তুই তোর স্বামীর হক কাউকে দিবি না? তোর স্বামী ছাড়া অন্য কাউকে ভালোবাসবি না! তোর সব ভালোবাসা তোর স্বামীর জন্যই থাকবে!

নিজের মনের সঙ্গে এমন যুদ্ধ করতে করতে হঠাৎ সে বলে উঠল—

— আস্তাগফিরুল্লাহ! আস্তাগফিরুল্লাহ!

কথাটা একটু জোরেই বলে ফেলেছিল সে।

ফলে নিজের ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এসে বাস্তবের দিকে তাকাল মেহেরিমা।

কিন্তু তার পাশে এসে দাঁড়ানো যুবকটি কে? আর তাকে দেখেই মেহেরিমার মনে এমন অদ্ভুত অনুভূতি কেন জাগল?

তা জানতে চোখ রাখুন ‘নীল পদ্ম’ উপন্যাসের পরবর্তী পর্বে। 💙🌸

━━━━━━━━━━━━━━

💙 গল্পটি ভালো লাগলে লাইক দিয়ে পাশে থাকবেন।

🌸 আপনাদের মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না।

📢 বন্ধুদের সঙ্গে গল্পটি শেয়ার করে অন্যদেরও পড়ার সুযোগ করে দিন।

❤️ লেখিকার পাশে থাকুন, উৎসাহ দিন। আপনাদের ভালোবাসাই নতুন নতুন পর্ব লেখার অনুপ্রেরণা।

হ্যাশট্যাগ:

#নীলপদ্ম #মুস্তারীআক্তারমারিয়া #বাইশহাটগ্রাম #বাংলাউপন্যাস #গ্রামেরগল্প #প্রেমেরগল্প #রোমান্টিকউপন্যাস #বাংলাগল্প #উপন্যাসপ্রেমী #BanglaNovel #BanglaStory #NilPoddo

আসসালামু আলাইকুম আশা করি গল্পটা ভালো লাগবে আপনাদের কাছে ইনশাআল্লাহ পাখিরা 🥰🥰

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন