জানুয়ারি মাসের শীত জেঁকে বসেছে প্রকৃতিতে। গ্রামের পথে খেঁজুর গাছের মাথায় মাথায় বসেছে রসের হাঁড়ি। ঘন কুয়াশায় ধানক্ষেত চিরে যাওয়া ক্ষেত অদৃশ্য। বাড়িতে বাড়িতে পিঠাপুলির উৎসব। শহরের আমেজ অবশ্য ভিন্নরকম। ব্যস্ত সড়কের ধারে গরম গরম ধোঁয়া ওঠা চিতই পিঠার আসর। কম্বল গায়ে গুটিশুটি দিয়ে থাকা জনপদ। স্কুলে স্কুলে অ্যানুয়াল স্পোর্টস ডের আয়োজন। গ্রাম হোক বা শহর, শীত প্রকৃতিতে আসে ভিন্ন এক আয়োজন নিয়ে।
কলেজ গেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সুগন্ধা। লম্বা বিনুনী পাকানো কেশে পড়ন্ত বিকালের নরম রোদ ছুঁয়ে যাচ্ছে গলিত স্বর্ণের মতো। সালোয়ার কামিজের উপরে অ্যাপ্রোন পরনে তার। হাতে স্বচ্ছ ফাইল যার ভেতরে পেনসিল, কলম আর প্রবেশপত্র। আজ দ্বিতীয় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার শেষদিন ছিল। টানা চার ঘণ্টা লিখতে লিখতে হাতের আঙুল ব্যথা করতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই চলে গিয়েছে। এখনো কেউ কেউ ইতিউতি অপেক্ষা করছে আপনজনের আশায়। ঠিক যেমনটা অপেক্ষমাণ সুগন্ধা। গায়ের শালটা ভালোমত টেনে নিল সে। হঠাৎ করেই চাইল, যেন এই অপেক্ষার কখনো অবসান না হয়।
অথচ অবসান হলো। সড়ক বেয়ে কলেজ গেটের সামনে এসে থামল একটা ধূসর প্রাইভেট কার। দরজা খুলে বেরোল এক পুরুষ। রোদের স্বর্ণাভ আভা তার শ্যামলা ত্বকে চিকচিকে দ্যুতি ছড়িয়ে দিল। সুগন্ধাকে নজরে আসতেই চশমার ওপারে থাকা প্রাণবন্ত চোখজোড়া কোমলতায় ভরে উঠল। ঠোঁটে অনুশোচনার হাসি ঝুলিয়ে এগিয়ে এলো আদিত্য দেবনাথ।
“আই অ্যাম এক্সট্রিমলি সরি। একটা মেডিক্যাল ইমার্জেন্সির কারণে দেরি হয়ে গেল। অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছো?”
সুগন্ধা একটা নিঃশ্বাস ফেলে ডানে বামে মাথা নাড়ল। আদিত্য এক পলক আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করল তাকে। তারপর নিজের ওভারকোটটা খুলে সুগন্ধার গায়ে জড়িয়ে দিল। চমকে উঠল সুগন্ধা,
“আপনি কী করছেন? আমি অলরেডি শাল গায়ে দিয়ে আছি।”
“দেখতে পাচ্ছি, কতটা পাতলা শাল। কী শীত পড়ছে আজকাল দেখছোনা? নাউ কাম অন, গেট ইন দ্যা কার।”
সুগন্ধা মানা করার সুযোগ পেলনা। আদিত্য দরজা খুলে তাকে প্যাসেঞ্জার সিটে বসিয়ে দিল। এরপর ঘুরে এসে নিজে বসল ড্রাইভিং সিটে।
“পরীক্ষা কেমন হয়েছে?”
“ভালো।”
আদিত্যর ঠোঁটে মোলায়েম এক হাসি ফুটল। ইঞ্জিন চালু করে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে গাড়ি চালাতে শুরু করল সে। তার হাতের দিকে চেয়ে সুগন্ধার অন্তর চেপে এলো। মনে হলো, কেউ তার হৃদপিন্ডে আঁচড় দিয়েছে। এই লোকটা কত ভালো! সুগন্ধা কি কোনোদিন তাকে তার মতো করে গ্রহণ করে নিতে পারবে?
গত এক মাস আগে সুগন্ধা আর আদিত্যর বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়েছে। সুগন্ধার ফাইনাল পরীক্ষা চলায় বিয়ের তারিখ পরীক্ষা শেষের পরে দেয়া হয়েছে। এইতো, সামনের ফেব্রুয়ারি মাসেই তারা দুজন সাত পাকের বন্ধনে আবদ্ধ হতে যাচ্ছে। আর মাত্র কিছুদিন। এরপরই সুগন্ধার সমস্ত অস্তিত্বজুড়ে খচিত হবে আদিত্য দেবনাথের নাম। সিঁথিজুড়ে স্বপ্নের লাল টকটকে সিঁদুর পড়বে সে। হাতের কব্জিতে থাকবে শাখাপলা। আদিত্যর কল্যাণের উদ্দেশ্যে। অথচ বেহায়া মনটা এখনো পরে আছে সেই এক পুরুষের মাঝে, ফুলের সাম্রাজ্যে দাঁড়িয়ে তাকে একমুঠো ফুল উপহার দিয়েছিল যে। অথচ সে পুরুষ এমন এক গন্ডির ওপারে বাস করে, যে গন্ডি পেরোনোর সাধ্য তুচ্ছ সুগন্ধার নেই।
নিজের ভাবনায় ডুবে যাওয়ার কারণে খেয়াল হলোনা কখন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছে গাড়ি। খেয়াল হতেই সুগন্ধা জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে আশেপাশে দেখল। তারপর আদিত্যর দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল,
“থামুন।”
আদিত্যকে দ্বিতীয়বার বলতে হলোনা। একটা মুদিদোকানের সামনে গাড়িটা থামাল সে। সুগন্ধা গাড়ি থেকে নেমে গেল। ওভারকোটটা খুলে আদিত্যকে ফিরিয়ে দিয়ে জানাল,
“আপনি একটু বসুন। আমি পনেরো মিনিটের মধ্যে আসছি।”
আদিত্য মাথা দোলালো। সে নিজে যেতে চাইলনা। কিছু বললনা। প্রত্যেকটা মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং স্বাধীনতা পাওয়ার অধিকার আছে। সুগন্ধা এক পলক স্থির নজরে আদিত্যকে দেখে তারপর হেঁটে মুদি দোকানের পাশের গলির ভেতরে ঢুকে পড়ল। দ্রুত হেঁটে পৌঁছে গেল কাঙ্ক্ষিত বিল্ডিংয়ে। সিঁড়ি বেয়ে উঠে হিসাব করে বের করা দরজায় কড়াঘাত করল। মিনিট দুয়েকের মাঝে দরজা খুলে গেল। ওপাশে দেখা মিলল এক সদ্য তারুণ্যে পা দেয়া মেয়ের। মাথার চুলগুলো হালকা কোকড়ানো। চেহারায় তীক্ষ্ণতা এবং কোমলতার অদ্ভুত মিশ্রণ।
“কাকে চাই?”
প্রশ্নের বিপরীতে সুগন্ধা বলল,
“ইরাম কিবরিয়া। এখানেই থাকে, তাইনা? ওনাকে বলুন সুগন্ধা এসেছে।”
মেয়েটা তাকে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখে দরজা আটকে চলে গেল। ওপাশ থেকে ধুপধাপ পদশব্দ শোনা গেল। কিছুক্ষণ বাদেই দরজাটা পুনরায় খুলল। এবার ওপাশে দেখা মিলল কাঙ্ক্ষিত মুখটার। বাদামী রঙের সুতির শাড়ি পরনে দাঁড়িয়ে আছে ইরাম। তার চেহারাটা মলিন। আগের চাইতে অনেকখানি ভেঙে গিয়েছে। শরীরটাও কেমন দূর্বল দেখতে লাগছে। অথচ সুগন্ধাকে দেখে সেই মলিনতা ছাপিয়ে উজ্জ্বল হাসি ফুটল, যেমন করে রাতের আকাশে সূর্য উঁকি দেয়।
“সুগন্ধা!”
ইরাম দুই বাহুর মাঝে টেনে নিল সুগন্ধাকে। শক্তভাবে জড়িয়ে ধরল। সুগন্ধাও পাল্টা জাপটে ধরল তাকে। বুক ভেঙে আসা কান্নাটা দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়ে ঠেকাল। ভাঙা গলায় শুধাল,
“আপনি ভালো আছেন, ভাবীজান?”
“তোমাকে দেখার পর থেকে অনেক ভালো আছি। ভেতরে এসো।”
সুগন্ধার হাত ধরে বাসার ভেতরে নিয়ে গেল ইরাম। অভ্যন্তরে পা রাখতেই তীক্ষ্ণ এক কন্ঠস্বর ভেসে এলো অদূর থেকে,
“সুসু! সুসু!”
আচমকা চোখ আটকে গেল স্বপ্নীল আবেশে মোড়া দৃশ্যটায়। ভেতরের রুম থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এসেছে ইযান। হাঁটুতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, দুহাত তুলে আনন্দে নাড়ছে আর উৎফুল্ল আধো আধো বুলিতে ডাকছে, “সু…সুসু!”
সুগন্ধার ভেতরে তোলপাড় হয়ে গেল। নিগূঢ় টান অনুভব করল সে। দৌঁড়ে গিয়ে ছোট্ট ইযানকে কোলে তুলে নিল সে। তার গলা জড়িয়ে খিলখিল করে হাসল ইযান। ছলছলে চোখে সুগন্ধাও সেই হাসিতে যোগদান করল। ইযানের পিঠ চাপড়ে বলল,
“কয়লা ধুইলে যেমন ময়লা যায়না, তেমন তোরে ঘইষা ঘইষা ধুইলেও তোর স্বভাব যাইবোনা!”
“সুসু!”
“অ্যাই চোপ! তুই সুসু, তোর বাপের গুষ্টি সুসু!”
সুগন্ধা নিজের সহজাত বৈশিষ্ট্যে ফিরে এলো, আঞ্চলিক ভাষা, যেটা তার পরিচয়। এই পরিচয় সে শুধু নিজের কাছের মানুষগুলোর সামনেই দেখাতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ইযানের সাথে খুনসুঁটিতে লিপ্ত হতেই ইরাম সুগন্ধাকে বলল,
“তুমি বসো। আমি চা করে আনি।”
ইযানকে দোলাতে দোলাতে মাথা নাড়ল সুগন্ধা। দ্রুত বলল,
“আপনি বসেন তো ভাবীজান। আমি আপনার লগে কথা কইতে আসছি। সময় নাই বেশি, চইলা যামু।”
ইরাম প্রতিবাদ করতে যাচ্ছিল, কিন্তু সুগন্ধার চেহারার ভাবগাম্ভীর্য দেখে আর তর্ক করলনা। ডাইনিং টেবিলে চেয়ার টেনে দিল। সুগন্ধা বসল। ইরাম তার বিপরীত দিকের চেয়ারটা দখল করল। প্রথম এক মিনিট কেউই যেন কোনো কথা খুঁজে পেলনা। এরপর ইরামই নিজে থেকে জিজ্ঞেস করল,
“ওই বাড়ির কী খবর?”
তার কন্ঠটা বিষণ্ন শোনাল। তেমনটাই স্বাভাবিক। হাঁটুর উপর ইযানকে বসিয়ে করুণ দৃষ্টিতে তাকাল সুগন্ধা।
“ভালা না। আম্মাজান বেশিরভাগ অসুস্থ থাকে। সারিকা আপা প্রায়ই দেখতে আসে। হাসপাতালে যতটুকু সময় থাকে আম্মাজান, ততটুকুই। বাড়িতে আইলেই নিজের রুমে দরজা দিয়া বইসা থাকে। ওনারে টাইনা টুইনাও খাওয়ানো যায়না। সারিকা আপা আইলে ধমকাই যা খাওয়াইতে পারে।”
ইরাম চোখ নামিয়ে নিজের কোলের দিকে চেয়ে রইল। তার আঙুলগুলো হালকা কাঁপছে। সেগুলো জোর করে চেপে রাখল। সুগন্ধা তার কম্পন খেয়াল করে আর্তনাদ চেপে বলল,
“আপনি আসার পর থেইকা সব শেষ হইয়া গেছে, ভাবীজান। কিচ্ছু বাকি নাই আর। ওইটা বাড়ি কম, কবর মনে হয় বেশি।”
নিজেকে অপরাধী অনুভূত হলো ইরামের। ঠোঁটে ফুটল বিষাদে ডুবন্ত এক রংহীন হাসি। এই হাসিতে কোনো আনন্দ নেই। আছে শুধু চাপা দেয়া হাহাকার।
“তোমরা আমাকে ঘৃণা করো, তাইনা সুগন্ধা? ওই বাড়ির সব সুখশান্তি আমি নষ্ট করে ফেলেছি। সবকিছুর জন্য আমিই দায়ী।”
সুগন্ধার ঠোঁটজোড়া ফাঁক হলো। অথচ হাজার চাইতেও সে প্রতিবাদস্বরূপ কিছু বলতে পারলনা। কী বলবে? ইরামকে শান্তনা দেবে? শান্তনা দেয়ার মতো শব্দ নেই তার কাছে। ইরাম একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, কথা ঘুরিয়ে বলল,
“যাকগে। এবার বলো, এত তাড়া কিসের যে এক কাপ চাও খেয়ে যাওয়ার সময় নেই?”
সুগন্ধাও মাথা ঝাঁকিয়ে বাস্তবে ফিরল। ইযান তার শাল কামড়ানোর চেষ্টা করছে। তাতে বাচ্চাটাকে ভ্রুকুটি করে সে পুনরায় ইরামের দিকে তাকাল,
“উনি বাইরে বইসা আছে।”
ইরাম অবাক হলো।
“উনি?”
“আমার হবু স্বামী।”
চোখ পিটপিট করল ইরাম। কিছুক্ষণ বিশ্বাস করতে পারলনা নিজের কানকে। আপনাআপনি সুগন্ধার কাছে সরে বসল সে। মৃদু গলায় জিজ্ঞেস করল,
“কে?”
“ওনারে আপনি দেখছেন। আদিত্য দেবনাথ, আম্মাজানের জুনিয়র।”
আবছায়া স্মৃতি স্মরণে এলো ইরামের। যেদিন ইযানের কাস্টাডি কেইসের লেটার প্রথম তার কাছে এসেছিল, সেদিন একটা ছেলেকে বাসায় নিয়ে এসেছিলেন সামিয়া। চেহারা ঠিকমতো মনে না এলেও তার প্রতি সামিয়ার অদ্ভুতুড়ে আগ্রহ এবং নমনীয়তা বিস্মিত করেছিল ইরামকে। পরে জিজ্ঞেস করবে ভাবলেও সেটার আর সুযোগ হয়নি। সুগন্ধা নিজে থেকেই ইরামকে জানাল,
“ফেব্রুয়ারির সাত তারিখ বিয়া। ছোটখাট কইরা করব। আমার তো আপনজন বলতে আপনারা ছাড়া কেউ নাই। তাই, ভাবীজান আপনি যদি আসেন আমি সত্যিই খুশি হমু।”
ইরাম একটা ঢোক গিলল। তারপর হাত বাড়িয়ে সুগন্ধার হাত চেপে দিয়ে বলল,
“নতুন জীবনের অনেক শুভেচ্ছা, সুগন্ধা। কিন্তু..”
“উঁহু। কোনো কিন্তু শুনমুনা আমি। আপনি আমার অতিথি হইয়া আসবেন, ব্যাস। কথা খতম। দোহাই লাগে আর কিছু বইলেন না তো।”
ঠাস করে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ল সুগন্ধা। দেয়ালে থাকা একমাত্র দেয়ালঘড়ির দিকে চেয়ে দ্রুত বলল,
“আমার যাওয়ার সময় হইসে। আমি আসি, ভাবীজান। এই ছোট বোনের কথাটা রাইখেন।”
পরক্ষণেই ইযানের গালে চুমু দিল সুগন্ধা,
“আর এই যে আপনে, হাগুর সর্দার। পেটমোটা হইতাসেন দিনদিন, খাওন বাইড়া গেছে মনে হয়। আইসেন আপনে সুসুর বিয়ায়। এক্কেবারে ঝোলার খাওন খাওয়াইয়া দিমু, মাইয়া মাইনষের নাচন কোদনও দেখামু। বুঝছেন নাকি পোটলা?”
ইযানকে ইরামের কোলে ফিরিয়ে দিয়ে অন্তিমবার তাকিয়ে হাত নেড়ে সুগন্ধা চলে গেল। ইযান বারবার সুসু করে পিছু পিছু ডাকল। তবে সুগন্ধা আর ফিরলনা। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে তার চলে যাওয়ার পথপানে চেয়ে ইরাম ভাবুক হলো। কতগুলো দিন পেরিয়েছে? মাস তিন প্রায়? হয়ত। এর মধ্যেই সকলের জীবন কী আমূল বদলে গিয়েছে! সুগন্ধা চলে গেলেও গেলনা তার উচ্চারণ করা শেষ শব্দটা। এই শব্দ ইরামের কর্ণকুঠরে আজকাল কারণে, অকারণে, সময়ে, অসময়ে বারংবার হানা দিয়ে যায়।
—পোটলা।
দরজা আটকে ভেতরে ফিরে এলো ইরাম। বেডরুমে গিয়ে ইযানকে বিছানায় বসাতেই নিজের খেলনা দিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেল ছেলে। তার পাশে বসে একনাগাড়ে দেখে গেল ইরাম। জানালা গলে বাইরের তাপহীন রোদ চুঁইয়ে পড়ছে ভেতরে। সেই পরাবাস্তব আভায় ছোট্ট সন্তানকে দেখাচ্ছে অপার্থিব। এই ছোট্ট সত্তার জন্যই কতশত পরিকল্পনা, কত সাধনা, কত লড়াই! দিনশেষে এই হাসিমুখ দেখলে ইরাম সকল সংগ্রামের কথা ভুলে যায়। ইযান ভালো আছে, হাসছে, খেলছে। কিন্তু এই ভালো থাকার মাঝে কি আনন্দ আছে? সুগন্ধাকে দেখে সে যেভাবে উত্তেজিত হয়ে ছুটল, খিলখিলিয়ে হাসল, সেই নিগূঢ় আনন্দ ইরাম তাকে দিতে পারবে? বোধ হয় না। সেই আনন্দ সে ছেলের জীবন থেকে কেড়ে নিয়েছে বহু আগেই।
গোটা পঁচাশি দিন পেরিয়ে ইরাম আজ ভীষণ আপ্লুত হলো। উঠে গিয়ে আলমারি থেকে সযত্নে রাখা পোশাকটা বের করে নিল। কালো ট্যাংক টপ। সেটা বুকে জড়িয়ে বারান্দার দেয়াল ঘেঁষে মেঝেতে বসে পড়ল সে। চোখজোড়া বুঁজে নিল। সেই বদ্ধ চোখের পাতায় ভেসে উঠল ওই বাউন্ডুলে ছেলেটাকে ছাড়া তার প্রথম নির্ভীক লড়াইয়ের কথা।
দুই মাস অতীত:
আদালত প্রাঙ্গণ।
বিচারক ফারহানা ইয়াসমিনের হঠাৎ অসুস্থতার কারণে অরণ্য মির্জা সওদাগর বনাম ইরাম কিবরিয়া মামলার শুনানি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
খবরটা জেনে ইরাম কেমন অনুভব করবে বুঝতে পারলনা। শিশির চৌধুরীর সঙ্গে আলাপ আলোচনা শেষে সে বাড়ির পথ ধরল। পুরোটা সময় নীরব চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকল। ইরামের সাথে সে আজকাল কেইসের জন্য অতি জরুরী বাদে কোনো কথা বলেনা। সেটার কারণ সে তার প্রিয় বন্ধুর ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত, তা ইরাম জানে। সেও বিশেষ জোর খাটায়না। যে মানুষ তার প্রতি সম্মান হারিয়েছে, সেই মানুষকে জোর করে সম্মান আদায়ের কোনো প্রয়োজন নেই।
প্রাঙ্গণজুড়ে ব্যস্ততা। ইহান সামনে সামনে গিয়েছে সি এন জি খুঁজতে। পিছনে ইরাম, তার বুকে লেপ্টে আছে ইযান। মায়ের কাঁধে চুপটি করে আছে সে। ছোট্ট হাত দুখানা দুলতে এদিক সেদিক।
“ইরাম!”
জোরালো কণ্ঠের আগ্রাসী ডাকটা ইরামকে থমকাতে বাধ্য করল। মাথা ঘুরিয়ে পিছনে তাকাল সে। আশেপাশের ভিড় ঠেলে তার সামনে এসে দাঁড়াল দীর্ঘকায় মানব। অরণ্য। তার পরিপাটি অবয়ব খানিকটা অগোছালো দেখাচ্ছে। বুকে টানটান হয়ে আছে শার্ট, ফুঁসছে সে ভীষণ ক্ষোভে। সেই ক্ষোভের কারণে ফর্সা মুখটা রেঙে আছে লালচে বরণে। চকিতে এক পলক ইযানের দিকে তাকাল অরণ্য। তাতে ছেলের মাথাটা ধরে নিজের কাঁধে গুঁজে দিয়ে মুখটা লুকিয়ে ফেলল ইরাম। শক্তভাবে মোকাবেলা করল অরণ্যর দৃষ্টি। তার দুর্বোধ্য আচরণে খেঁকিয়ে উঠল অরণ্য,
“আর ইউ ইনসেইন? তুমি পাগল হয়ে গিয়েছ। বদ্ধ উন্মাদ মহিলা!”
ইরামের ঠোঁটে নাটকীয় হাসি ফুটল।
“কুল ডাউন মিস্টার মির্জা। এটা আদালত, আপনার বাপের হোটেল নয়। চিৎকার চেঁচামেচি চিড়িয়াখানায় গিয়ে করুন। বাচ্চারা মজা পেয়ে পয়সা ছুঁড়ে মারবে।”
অরণ্য দাঁতে দাঁত ঘষে ফেলল। হুমকিস্বরূপ ভঙ্গিতে ঝুঁকে এলো সে ইরামের উপর। তার ছায়া ইরামকে সম্পূর্ণ গ্রাস করে ফেলল। রাগান্বিত কন্ঠে সে বলল,
“পারিবারিক সহিংসতার মামলা? তোমার কি মনে হয়? আইন আমাকে রুখতে পারবে? সিরিয়াসলি?”
“আইন রুখতে পারবে কিনা জানিনা। তবে ইরাম কিবরিয়া আপনাকে ঠিকই রুখবে, অরণ্য মির্জা সওদাগর। আর শুধু রুখবেই না, আপনার রাতের ঘুম, দিনের শান্তি তছনছ করে দেবে। সহিংসতা এবার আমি করব আপনার সঙ্গে।”
ইরাম নিজ অবস্থানে দৃঢ়। তাকে দেখাচ্ছে যুদ্ধে সবার সামনে ঢাল নিয়ে দাঁড়ানো সেনাপতির মতো। প্রাক্তনের এমন রূপ অরণ্য স্বপ্নেও কোনোদিন দেখেছে কিনা স্মৃতি হাতড়ে মনে করতে পারলনা। পরিবর্তন অনেক প্রকার হয়। কিন্তু এ কেমন হিংস্র পরিবর্তন? তবুও অরণ্য দমলনা। দমে যাওয়া বলে কিছু তার অভিধানে নেই। মুচকি হাসল সে। একটা হাত তুলে ইরামের বুকে লেপ্টে থাকা ইযানের পিঠ ছুঁয়ে দিল সে। ইরাম ঝটকা দিয়ে সরে যেতে নিলে তার অন্য কব্জিটা শক্তভাবে ধরে ফেলল সে। স্থির থাকতে বাধ্য করল। ঝুঁকল সে, ইরামের কানের কাছে ফিসফিস করল,
“গুড ট্রাই, কবিতা। তোমার নিত্যনতুন রূপ আমাকে নতুনভাবে তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য করছে। তবে ছোট্ট রিমাইন্ডার, যতই খেলাধুলা করতে উন্মুখ থাকোনা কেন, জেনে রেখো আমার র*ক্তই তোমার ভবিষ্যত। আর তোমাকে বারংবার আমার দুয়ারেই আসতে হবে। এইযে দেখো, তুমি আমাকে এত কষ্ট দাও, এত আঘাত করো, এতবার দূরে ঠেলো, তবুও আমি তোমার মুখের উপর আমার দরজা কোনোদিন বন্ধ করিনি। আনলাইক, সাম ডি জে!”
ইরামের সমস্ত দেহে বুঝি বিদ্যুৎ খেলে গেল। চোখে জ্বলে উঠল অগ্নিশিখা। অরণ্য ইযানের পিঠ ঠেকে হাত সরিয়ে তার চিবুক চেপে ধরল। নিজের দিকে ঘোরাল। ওই টানা টানা চোখের মাঝে ইরাম ক্ষুধা দেখতে পেল। এই ক্ষুধা জিতের ক্ষুধা, নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষুধা। অরণ্য বৃদ্ধাঙ্গুলে ইরামের তিরতির করে কাঁপতে থাকা নিচের ঠোঁটে ছুঁয়ে বলল,
“তোমাকে ঘুরেফিরে, গোত্তা খেয়ে আমার কাছেই আসতে হবে। এই অরণ্যেই তোমার সূচনা, এই অরণ্যেই তোমার ইতি, মাঝপথে শুধু যাত্রাবিরতি।”
ইরাম মাথা কাত করে অরণ্যর দিকে তাকাল। স্পষ্ট অনুভব করল অরণ্য, রমণীর শরীরে কাঁপুনি খেলে যাচ্ছে। তৃপ্ত হলো সে, ভাবল, শিকার বরাবরের ন্যায় ভয় পেয়েছে। অথচ অরণ্যকে হতভম্ব হয়ে দিয়ে ইরাম হুট করে গলা ছেড়ে চিৎকার দিয়ে উঠল,
“আহহহ! আমাকে ছাড়ুন, অরণ্য প্লীজ! আমি ব্যথা পাচ্ছি!”
ইরামের কন্ঠস্বর এতটাই জোরালো হলো যে তা গোটা আদালত প্রাঙ্গণে প্রতিফলিত হলো। এতক্ষণ যাবৎ যেসব মানুষ নিজেদের কাজে মশগুল ছিল, তারা সবাই ফিরে ফিরে তাকাল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল অরণ্য। ইরামের কব্জি থেকে নিজের হাত সরিয়ে নিতে চাইলেও পারলনা। ইরাম খামচি দিয়ে তার হাতটা ধরে ফেলল। চোখেমুখে অভিনয় ফুটিয়ে আহাজারি করতে লাগল,
“অরণ্য প্লীজ! আমাকে ছেড়ে দিন, বাবু কাঁদবে। ছাড়ুন, ছাড়ুন বলছি আমাকে, ব্যথা হচ্ছে অরণ্য!”
নীরব কেইসের ফাইল দেখছিল চুপচাপ। চিৎকার শুনতেই বারান্দা থেকে লাফিয়ে নেমে ছুটে গেল। অপরদিকে সি এন জি ঠিক করে ফিরে আসতে থাকা ইহানও দৃশ্য লক্ষ্য করে দৌঁড়াল। কয়েক সেকেন্ডের মাথায় চারপাশে লোক জমে গেল। অরণ্যকে ধাক্কা দিয়ে ইরামের কাছ থেকে সরালো নীরব। ইহান পিছন থেকে এসে বোনকে আগলে নিল। ইযানকে বুকে চেপে টলটলে চোখে করুণ দৃষ্টিতে আশেপাশে তাকাল ইরাম। প্রত্যেক লোক সহমর্মিতা নিয়ে তাকাল তার দিকে। আহারে, আদালত প্রাঙ্গণে কী হেনস্থাই না করা হচ্ছিল এক অসহায় নারীকে!
“আপনি আইন ভঙ্গ করছেন! তাও আদালত প্রাঙ্গণে! ইউ হ্যাভ ডে*থ উইশ?”
নীরবের হুংকারের বিপরীতে অরণ্য চোখ পিটপিট করল। নাটকীয়তার ঘোর থেকে মাত্র বেরিয়েছে। হন্যে হয়ে আশেপাশে তাকাল সে।
“আমি! আমি কিছু করিনি! আমি তো শুধু…”
ইরাম ইযানকে ইহানের কোলে দিয়ে এগিয়ে এলো। তার চোখ গড়িয়ে অশ্রু টপটপ করে পড়ছে। কাঁপা কাঁপা হাত বাড়িয়ে দেখাল তার কব্জিতে লাল দাগ হয়ে আছে।
“এইযে। আমি তো আপনাকে কিছুই করিনি। শুধু নিজের বাচ্চাকে নিয়ে ভালো থাকতে চেয়েছি। তার বিপরীতে এমন আগ্রাসন?”
অরণ্য আঁতকে উঠল। আশেপাশে আইনজীবীরা জড়ো হয়েছে। অরণ্যর উকিল অর্চিও উপস্থিত। অরণ্য মাথা চেপে ধরে বলল,
“আই সোয়্যার! নাটক করছে ও! আমি কিছু করিনি। হ্যাঁ, হাত ধরেছি কিন্তু এত শক্তভাবে না যে দাগ হয়ে যাবে!”
“কীভাবে ধরেছেন সেটা তো দেখাই যাচ্ছে। তাছাড়া একজন মহিলা মানুষ, যার সঙ্গে আবার বাচ্চা আছে, তার হাত ধরবেনই বা কেন? আদালতের ভেতরেই এমন বর্বরতা?”
আশেপাশের ভিড় সামাল দিতে পারলনা অরণ্য। একের পর এক কটু কথায় জর্জরিত হতে লাগল। রীতিমত অসহায় হয়ে সে তাকাল ইরামের দিকে। যে চোখে আঁচল চেপে কান্নার ভং ধরেছে। অথচ, আঁচলের আড়ালে তার ঠোঁটের বাঁকা হাসিটুকু স্পষ্ট। অরণ্যর ভ্রু কুঁচকে গেল। নিজের রাগ সামলাতে না পেরে তেড়ে যাচ্ছিল সে, কিন্তু এবার অর্চির বাঁধায় পড়তে হলো। তাকে ধরে ফেলল তার উকিল,
“শান্ত হোন, অরণ্য! এখানে সিনক্রিয়েট করবেন না, প্লীজ।”
অর্চির দিকে জ্বলন্ত দৃষ্টিতে তাকাল নীরব। আঙুল তুলে বলল,
“এই ঘটনা আমি পরের শুনানিতে তুলবই। দেখে নেব, কীভাবে বাঁচান আপনার মক্কেলকে! গোটা আদালত সাক্ষী উনি আজকে কী করেছে!”
অর্চি একটা ঢোক গিললেন। স্পষ্ট ঘাবড়েছেন। কয়েক মিনিটের মাথায় ভিড় কমে এলো। বাইরে গিয়ে নিজের গাড়ির কাছে দাঁড়াল অরণ্য। মাথার চুল চেপে ধরে সটান গাড়ির দরজায় লাথি দিল,
“আহহহ!”
রাস্তার অপরপাশে সি এন জি দেখা যাচ্ছে। ইযানকে নিয়ে ভেতরে উঠেছে ইহান। ইরামও উঠে বসতে গেল, কিন্তু পরবর্তীতে কী ভেবে যেন ঘুরে তাকাল। বরাবর রাস্তার ওপাশে, অরণ্যর দিকে। অরণ্য জমে গেল। ইরাম নিজের গোলাপী জামদানির আঁচল কাঁধে ভাঁজ করে নিয়ে পায়ে পায়ে এগিয়ে এলো। আবার কিছু করবে নাকি? অরণ্য কি গাড়ি চালিয়ে এক্ষুণি চলে যাবে? কিন্তু সেটা পালিয়ে যাওয়া হবে। তাই বুঝি অরণ্য নড়তে পারলনা। স্থির চেয়ে রইল। ইরাম অরণ্যর মুখোমুখি এসে থামল। উচ্চতায় সে তার কাঁধসমান হলেও দৃষ্টি ফেলল বরাবর চোখে। ইরামের চেহারায় কিছুক্ষণ আগের সেই বেদনা নেই, অশ্রু নেই। কুমিরের কান্না সময়ের আগেই ফুরোয় বোধ হয়। এককালের কোমল চেহারায় এখন শুধুই দৃঢ়তা। ইরামের ঠোঁট ফাঁক হলো, অত্যন্ত গভীর গলায় সে বলল,
“এতকাল খেলতে নামিনি বলে ভাববেন না রাণী গুঁটি খেলতে জানেনা। আফটার অল, চেকমেটে রাজা গুঁটিকে ঘায়েল করা যায়, রাণীকে না।"
ওই কন্ঠে কী ছিল অরণ্য বলতে পারবেনা। শুধু টের পেল, তার শিরদাঁড়া বেয়ে অজানা আতঙ্কের হিমশীতল স্রোত খেলে গিয়েছে। এক পা কাছে এগোল ইরাম। হাত তুলে ঠিক একইভাবে অরণ্যর চিবুক টেনে ধরল, যেমনটা মাত্র কিছুক্ষণ আগেই অরণ্য তাকে ধরেছিল। ইরামের ঠোঁটের অদ্ভুত হাসিটা বিস্তৃত হলো,
“মনে আছে, কিছুদিন আগেও আপনার জায়গায় আমার আলাদিন ছিল। কী যেন বলেছিলেন আপনি? কোর্ট চত্বরে আপনার উপর হামলা, তাইনা? আজ পাশার দানটা তো উল্টে গেল মিস্টার মির্জা! এভাবেই উল্টাবে, একটা একটা করে। নিজের সন্তান আর স্বামীর অপমানের শোধ ইরাম কিবরিয়া আপনার থেকে সুদে আসলে আদায় করবে, জঙ্গল মির্জা!”
দাঁড়ালনা ইরাম। উল্টো ঘুরে হনহন করে চলে গেল সি এন জির দিকে। অরণ্য ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইল নিজের জায়গায়। প্রসারিত নয়নে দেখে গেল এমন এক রমণীকে, যাকে একটা সময়ে নিজের খুব পরিচিত ভাবতো সে। অথচ আজ সেই তার সবথেকে বড় অচেনা ব্যক্তি।
─────────────────────────────
বর্তমান:
সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়েছে বহু আগেই। সাইকেলের প্যাডেল চালিয়ে বাড়ির পথ ধরেছে ইহান। মাত্র ডেলিভারির কাজ শেষ করে বড় বোনকে দেখে এসেছে সে। জোর করে তাকে রাতের খাবার খাইয়ে তবেই বাড়ি পাঠিয়েছে ইরাম। সামনেই পরীক্ষা। ফিরেই পড়তে বসবে ইহান। তাই পায়ের জোর বাড়াল। একেবারে আচমকাই তার চোখে ভেসে উঠল একটা মুখ। ধারালো চাহুনি, বিরক্তিকর চেহারা আর হালকা কোকড়ানো চুল। আজও ম্যাগি নুডলস বলে ইরামের সাবলেট রাবিয়াকে এক দফা ক্ষেপিয়ে এসেছে ইহান। মেয়েটাকে রাগাতে ভালোই লাগে তার। বিপরীতে অবশ্য দুটো ঘুষি হজম করতে হয়েছে। সে যাক, ব্যাপার না। পরেরবার গেলে রাবিয়ার রুমে তেলাপোকা ছেড়ে সেই শোধ তুলে ফেলবে। যমের মতো ভয় পায় মেয়েটা তেলাপোকাকে। মনে মনে পরিকল্পনা সাজিয়ে কুটিল হাসল ইহান। বাড়িতে পৌঁছে গেল। গেট পেরিয়ে সাইকেল রেখে সে যেই না ঢুকতে যাবে, অমনি পকেটের ভেতরে রাখা ফোন ভাইব্রেট করে উঠল। সেটা বের করতেই কলার আইডি দেখা গেল।
—অশনি।
নামটা জ্বলজ্বল করছে স্ক্রিনে। একদফা গালাগাল করে ফোন রিসিভ করল ইহান। খেঁকিয়ে উঠল,
“বউ বাচ্চার জন্য পাতিলভাঙা পিরিত উৎলে পড়লে আড়ালে থাকিস কেন? শালা!”
—চলবে—
#আমার_আলাদিন
#পরিচ্ছেদ২
#জাবিন_ফোরকান
#সূচনা_পর্ব