ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোর আসক্ত আমি

পর্ব 49

লেখক: নুসরাত জাহান রাফা

### তোর আসক্ত আমি

লেখিকা: নুসরাত জাহান রাফা

পর্ব সংখ্যা: ৪৯

### মনের কথার স্বীকৃতি ❤️

শুক্রবার সকাল থেকেই মায়ার মনটা একটু অন্যরকম। আজ দুই পরিবার একসঙ্গে বসবে। শাহজাদও নিশ্চয়ই অপেক্ষা করছে। কিন্তু মায়ার মনে একটা কথা ঘুরপাক খাচ্ছে, যেটা সে অনেক দিন ধরেই শাহজাদকে বলতে চায়।

সকালে ফোন হাতে নিতেই শাহজাদের মেসেজ দেখতে পেল।

শাহজাদ: সুপ্রভাত, আজকের বিশেষ দিনের মানুষটি ঘুম থেকে উঠেছেন?

মায়া: জি, উঠেছি। আপনি কি তৈরি?

শাহজাদ: আমি তো অনেক আগেই তৈরি। অপেক্ষা শুধু বিকেলের।

মায়া: এত অপেক্ষা করতে হবে কেন?

শাহজাদ: কারণ আজ আপনাকে একটু বেশি সুন্দর করে দেখতে চাই।

মায়া: আমি কি প্রতিদিন সুন্দর থাকি না?

শাহজাদ: প্রতিদিনই থাকেন। তবে আজকের দিনটা একটু বিশেষ।

মায়া হেসে উত্তর দিল—

মায়া: আপনার কথার সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন।

শাহজাদ: পেরে উঠতে হবে না। শুধু হাসতে থাকবেন।

মায়া ফোনটা রেখে তৈরি হতে লাগল।

অন্যদিকে খান বাড়িতে রেহানা বেগম ছোট বোনকে নিয়ে ব্যস্ত। বসার ঘরে সুন্দর করে ফুল সাজানো হয়েছে। খাবারের আয়োজনও চলছে।

শাহজাদ নিচে এসে মাকে বলল, “মা, সব ঠিক আছে তো?”

রেহানা বেগম হেসে বললেন, “সব ঠিক আছে। তুই বরং এতবার ঘড়ি দেখছিস কেন?”

“এমনিই।”

ছোট বোন পাশ থেকে বলে উঠল, “ভাইয়া মায়া আপুর জন্য অপেক্ষা করছে!”

শাহজাদ বোনের দিকে তাকিয়ে বলল, “তুই নিজের কাজে মন দে।”

“আমি তো সত্যি কথাই বলেছি!”

রেহানা বেগম হেসে বললেন, “তোরা দুজনেই এবার চুপ কর।”

বিকেল হতে না হতেই মায়ারা খান বাড়িতে পৌঁছে গেল। শাহজাদ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। মায়াকে দেখেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল।

“আসসালামু আলাইকুম,” মায়া বলল।

“ওয়ালাইকুম আসসালাম। কেমন আছেন?”

“ভালো। আপনি?”

“এখন আরও ভালো।”

মায়া চোখ নামিয়ে হাসল।

রেহানা বেগম এগিয়ে এসে মায়ার মাকে স্বাগত জানালেন। সবাই বসার ঘরে বসলেন। প্রথমে সাধারণ কথাবার্তা হলো। মায়ার বাবা ও শাহজাদের বাবা পরস্পরের সঙ্গে ভদ্রভাবে কুশল বিনিময় করলেন। তাঁদের মধ্যে আগে থেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল না, তবে পরিচিত মানুষ হিসেবে সৌজন্যপূর্ণ কথাবার্তা চলল।

কিছুক্ষণ পর রেহানা বেগম আলোচনার বিষয়টি তুললেন।

“আপা, আমরা চাই ছেলেমেয়েরা নিজেদের মতামত নিজেরাই বলুক। আমাদের ভালো লাগা থাকলেও ওদের ইচ্ছাটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

মায়ার মা সম্মতি জানালেন।

মায়ার বাবা বললেন, “আমিও চাই ওরা সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিক। আমরা শুধু ওদের পাশে থাকব।”

এরপর শাহজাদের বাবা বললেন, “শাহজাদ, তুমি কী ভাবছ?”

শাহজাদ সবার দিকে তাকিয়ে শান্তভাবে বলল, “আমি মায়াকে পছন্দ করি। ওর সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে। ওর চিন্তাভাবনা আর পরিবারের প্রতি সম্মান আমাকে মুগ্ধ করে। তবে আমি চাই না ও কোনো চাপ অনুভব করুক। ওর পড়াশোনা ও নিজের স্বপ্নগুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

সবাই মন দিয়ে শুনছিলেন।

মায়ার মা মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মায়া, তুইও কিছু বল।”

মায়া একটু লজ্জা পেল। তারপর সাহস করে বলল, “শাহজাদকে আমারও ভালো লাগে। ও আমার কথা শোনে, আমার মতামতকে গুরুত্ব দেয়। আমি চাই আমাদের সম্পর্কটা এভাবেই বিশ্বাস আর সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যাক।”

শাহজাদের মুখে মৃদু হাসি ফুটে উঠল।

রেহানা বেগম বললেন, “তাহলে আমরা আপাতত দুই পরিবারের মধ্যে যোগাযোগটা আরও সুন্দরভাবে রাখি। বাচ্চারা সময় নিয়ে একে অপরকে বুঝুক। পরে সবাই মিলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।”

দুই পরিবারই এতে সম্মতি জানালেন।

আলোচনা শেষ হলে সবাই আবার গল্পে মেতে উঠলেন। শাহজাদের ছোট বোন মায়াকে নিজের ঘরে নিয়ে গেল। সেখানে সে একটি ছোট্ট উপহার বের করল।

“আপু, এটা আপনার জন্য!”

মায়া অবাক হয়ে বলল, “আমার জন্য?”

“হ্যাঁ। নিজে পছন্দ করে কিনেছি।”

উপহারের বাক্স খুলে মায়া দেখল, ভেতরে একটি সুন্দর ছোট্ট বুকমার্ক। তাতে ছোট ফুলের নকশা করা।

মায়া আনন্দিত হয়ে বলল, “এটা তো খুব সুন্দর! ধন্যবাদ।”

ছোট বোন খুশি হয়ে বলল, “আপনি বই পড়ার সময় এটা ব্যবহার করবেন।”

“অবশ্যই। তোমার দেওয়া জিনিস যত্ন করে রাখব।”

এদিকে শাহজাদ দরজার পাশে দাঁড়িয়ে বলল, “আমার জন্য কিছু নেই?”

ছোট বোন বলল, “আপনার জন্য কিছু নেই। আপনি তো সব সময় নিজের জন্য নিজেই কিনে নেন!”

মায়া হেসে ফেলল।

শাহজাদ বলল, “বুঝলাম, এই বাড়িতে আমার কোনো গুরুত্ব নেই।”

মায়া মজা করে বলল, “আপনি চাইলে আমিও আপনাকে একটা বুকমার্ক দিতে পারি।”

শাহজাদ বলল, “আপনার দেওয়া হলে অবশ্যই রাখব।”

ছোট বোন আবার বলে উঠল, “তাহলে দুজনের জন্য একই রকম কিনে দেব!”

মায়া লজ্জা পেয়ে হাসল।

কিছুক্ষণ পর মায়া বাগানে গেল। শাহজাদও সেখানে এল।

“আজকের আলোচনা নিয়ে আপনার কেমন লাগছে?” শাহজাদ জিজ্ঞেস করল।

মায়া বলল, “ভালো। সবাই আমাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়েছেন।”

“আপনি কি স্বস্তি পেয়েছেন?”

“অনেকটা।”

শাহজাদ বলল, “আজ আপনাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।”

“কী?”

“আপনি কি সত্যিই আমার সঙ্গে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবেন?”

মায়া একটু চুপ করে রইল। তারপর বলল, “হ্যাঁ, ভাবি। তবে আমি চাই আমরা দুজনেই নিজেদের দায়িত্ব বুঝে, সময় নিয়ে এগোই।”

শাহজাদের চোখে আনন্দের ঝিলিক দেখা গেল।

“আমি ঠিক এটাই শুনতে চেয়েছিলাম।”

মায়া মৃদু হেসে বলল, “আর একটা কথা বলব?”

“অবশ্যই।”

“আপনি যখন ব্যস্ত থাকেন, তখনও যদি ছোট্ট করে আমার খোঁজ নেন, আমার খুব ভালো লাগে। আমি চাই আমাদের জীবনে যত ব্যস্ততাই আসুক, আমরা যেন একে অপরের জন্য সময় রাখি।”

শাহজাদ মনোযোগ দিয়ে শুনল।

“কথা দিলাম। আর আপনিও আমার কোনো আচরণে কষ্ট পেলে আমাকে জানাবেন। আমি বুঝতে চেষ্টা করব।”

মায়া বলল, “আপনার সঙ্গে কথা বললে আমার মনটা হালকা হয়ে যায়।”

শাহজাদ মুচকি হেসে বলল, “আমারও তাই হয়।”

কিছুক্ষণ পর সে বলল, “আজ আপনাকে একটা প্রশংসা করব?”

“আবার কী?”

“আজ আপনাকে খুব সুন্দর লাগছে। তবে তার চেয়েও সুন্দর আপনার মনের কথাগুলো।”

মায়া লজ্জা পেয়ে বলল, “আপনি একদম বদলাবেন না!”

“কেন?”

“কারণ আপনার এই কথাগুলো শুনে আমার হাসি থামানো যায় না।”

শাহজাদ হেসে বলল, “তাহলে আমার চেষ্টা সফল।”

সন্ধ্যা শেষে মায়ারা বাড়ি ফিরে গেল। যাওয়ার সময় শাহজাদের ছোট বোন মায়াকে আবার আসার কথা মনে করিয়ে দিল। মায়াও কথা দিল, সুযোগ হলে আবার আসবে।

রাতে শাহজাদ মেসেজ করল।

শাহজাদ: আজকের দিনটা কেমন কাটল?

মায়া: খুব ভালো। আজ মন থেকে অনেক কথা বলতে পেরেছি।

শাহজাদ: আমিও। আপনার কথাগুলো আমার খুব ভালো লেগেছে।

মায়া: আজ একটা বিষয় বুঝেছি।

শাহজাদ: কী?

মায়া: সুন্দর সম্পর্ক শুধু ভালোবাসা দিয়ে হয় না। সেখানে সম্মান, বিশ্বাস আর বোঝাপড়াও থাকতে হয়।

শাহজাদ: একদম ঠিক বলেছেন। আর আমি চাই, আমাদের সম্পর্কের মধ্যে সবগুলোই থাকুক।

মায়া: আমিও চাই।

শাহজাদ শেষ মেসেজটি লিখল—

শাহজাদ: তাহলে আজ থেকে আমরা আরও সুন্দরভাবে একে অপরকে জানার চেষ্টা করব। কোনো তাড়াহুড়ো নয়, শুধু বিশ্বাস নিয়ে সামনে এগোব।

মায়া উত্তর দিল—

মায়া: ঠিক আছে। শুভরাত্রি।

শাহজাদ ফোন রেখে জানালার বাইরে তাকাল। তার মনে হচ্ছিল, আজকের দিনটি তাদের জীবনে একটি সুন্দর স্মৃতি হয়ে থাকবে।

দুই পরিবারই তাদের সম্পর্ককে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। সামনে আরও কিছু সিদ্ধান্ত বাকি, কিন্তু আজ অন্তত দুজনেই বুঝতে পেরেছে—তাদের অনুভূতিগুলো একতরফা নয়।

আর শাহজাদ মনে মনে ঠিক করল, মায়ার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি দিনকে যত্ন করে সুন্দর করে তুলবে।

চলবে... ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 49 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন