ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

১৬তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ১৬

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

⛔সকল প্রকার কপি কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। চাইলে শেয়ার দিয়ে পাশে থাকতে পারেন।)⛔

*********

মুহুর্তের মধ্যেই একটা ছোটোখাটো ঝড়ের সৃষ্টি হলো যেনো। কৌশিকের আকাশ সমান রাগ চারিদিকে প্রখর উত্তাপ ছড়ালো। বাম হাতের মুঠোয় সিফাতের কলার চেপে ধরে নাক বরাবর আরও একটা ঘুসি মে'রে দিলো কৌশিক। দ্বিতীয় বার ঘুসিতে সিফাতের নাক দিয়ে র*ক্ত বের হতে লাগলো। হ্যাংলা পাতলা দেহটা এক হাতেই কিছুটা উঁচু করে ফেলেছে কৌশিক। বেচারা পায়ের আঙ্গুলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়েছে। কন্ঠে আতঙ্ক,

"আশ্চর্য! আমাকে মারছেন কেনো কৌশিক ভাই?"

বলতে বলতে আরও দুটো ঘুসি পড়লো সিফাতের চোয়াল বরাবর। ভয়ে তটস্থ হয়ে থরথরিয়ে কাঁপছে তুবা। কৌশিক মা*রা*ত্মক রাগী সেটা তুবা জানে। কিন্তু এর আগে কখনো স্ব চোখে মা*রপিট করতে দেখেনি তুবা। হুট করেই কৌশিকের এহেন রুপ তুবাকে ভেতর থেকে গুলিয়ে দিয়েছে। অবস্থা বেগতিক দেখে মৌমিতা ছুটে গেলো ওদের দিকে। কৌশিককে ধরে টেনে সরিয়ে দিলো সিফাতের থেকে। ছাড়া পেতেই মাটিতে ছিটকে পড়ে গেলো সিফাত। ইতিমধ্যে ছেলেটার অবস্থা কাহিল। হঠাৎ আক্রমণে নিজেকে বাঁচানোর সুযোগ পায়নি। ক্রমাগত ঘুসিতে নিরেট দেহটা নেতিয়ে পড়েছে।

মৌমিতা শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে ধরে রেখেছে কৌশিককে। তবে সুঠাম দেহী একটা পুরুষকে কোনো মেয়ের পক্ষে ধরে রাখা কি সম্ভব? একদমই না। তবুও মৌমিতা আপ্রাণ চেষ্টা করছে নিজের ভাইকে সংযত করার। ঠিক সেই মুহুর্তে গর্জে উঠলো কৌশিক,

"মৌ ছাড় আমাকে।"

"একদম না। অনেক বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিস ভাই। বাড়িতে আজ তুলকালাম কান্ড ঘটবে।"

"জা'হা'ন্নামে যাক বাড়ি। আই ডোন্ট কেয়ার। কিন্তু এই শা*লাকে আজ আমি বুঝিয়েই ছাড়বো, আমার জিনিসের দিকে নজর দিলে পরিণাম কি হয়!"

"ভাই না।"

শেষ রক্ষা করতে পারলো না মৌমিতা। কৌশিক ছুটে গেলো মৌমিতার বাঁধন থেকে। মাটিতে বসে হাঁপাতে থাকা সিফাতের কলার ধরে টেনে তুলল। ভয়ে সিফাতের দেহে কাঁপুনি ধরে গেছে। একেই তো কৌশিক ওর চেয়ে বয়সে বড়। তার ওপর স্বাস্থ্যের দিক থেকেও সিফাত চুনোপুঁটি। সে কি আর এমন দৈত্য দানবের সাথে লড়াইয়ে জিততে পারে? এরই মাঝে কৌশিক সিফাতের কলার চেপে ধরে আরও একটা ঘুসি মেরে হুঙ্কার ছাড়লো,

"সহজ কথা সহজ ভাবে বুঝিস না তাই না? ওকে। শেষবারের মতো বোঝাচ্ছি। আমার তুবার থেকে দশ হাত দূরে থাকবি। এই মাপের যদি এক ইঞ্চিও এদিক সেদিক হয়, কসম! জানে মে*রে ফেলবো তোকে।"

সিফাত কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেললো। ভয়ে, উত্তেজনায় বোধ জ্ঞান লোপ পেলো। মৌমিতা অতিষ্ট ভঙ্গিতে কপাল চাপড়ালো। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো লোকজন জড়ো হয়ে গেছে। উপায় না পেয়ে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নীরবকে উদ্দেশ্য করে চেঁচিয়ে উঠলো,

"বলদের মতো দাঁড়িয়ে দেখছিস কি বেয়াদব? ওদের থামা। আজ বাবা আমাদের কঠিন শাস্তি দেবে।"

মৌমিতার ধমক শুনে স্বাভাবিক হলো নীরব। ছুটে গেলো কৌশিককে ছাড়াতে। একই সাথে সংবিৎ ফিরে পেলো তুবাও। এতোক্ষণ পাথর হয়ে জমে ছিলো। হুঁশ ফিরতেই নীরবের সাথে সাথে তুবাও ছুটলো। সোজা দুজনের মাঝে গিয়ে দাঁড়ালো তুবা। ধাক্কা দিয়ে সিফাতকে সরিয়ে দিলো। ছেলেটা ধাক্কা খেয়ে আবারও চিত হয়ে পড়ে গেলো মাটিতে। তুবা এক সেকেন্ডও সময় ব্যায় করলো না। সঙ্গে সঙ্গে জড়িয়ে ধরলো কৌশিককে। একদম শক্ত করে, শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে। ভীত মুখটা লুকালো কৌশিকের বুকে। ভয়ার্ত কন্ঠে আওড়ালো,

"প্লিজ প্লিজ থেমে যায় কৌশিক ভাই। প্লিজ থামুন। আমার খুব ভয় করছে।"

কৌশিক থমকালো। চমকালো। চোখের দৃষ্টি নত হলো। বুকের সাথে লেপ্টে থাকা তুবার দেহের কম্পন স্পষ্ট টের পেলো। অতিমাত্রায় ভয়ে ঠকঠকিয়ে কাঁপছে মেয়েটা। তবুও ভয়ের সাথে লড়াই করে থামাতে এসেছে কৌশিককে। কৌশিক হকচকিয়ে গেলো। ভুলে বসলো মা*রা*মা*রির কথা। তুবাকে ভয়ে কাঁপতে দেখে মস্তিষ্ক এলোমেলো হয়ে গেলো। টেনে তুবার মুখটা নিজের বুক থেকে তুললো কৌশিক। কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো,

"এই এই জান! তাকা আমার দিকে। তুই আমাকে ভয় পাচ্ছিস কেনো?"

"আপনি মা*রপিট করছেন কেনো?"

তুবার গলা কাঁপছে। সেই সাথে তাল মিলিয়ে কাঁপছে ছোট্ট দেহটাও। কৌশিক লম্বা করে শ্বাস টানলো। রাগটা কোনোমতে গিলে নিলো। থরথরিয়ে কাঁপতে থাকা তুবাকে এক হাতে আগলে নিলো। নরম কন্ঠে বললো,

"স্যরি স্যরি জান! ভুল হয়ে গেছে। তোর সামনে আর কোনোদিন মা*রপিট করবো না। প্রমিস।"

পরপরই কৌশিক সিফাতের দিকে তাকিয়ে তর্জনী তাক করে শাসিয়ে বলল,

"লিসেন! লাস্ট ওয়ার্নিং! আমার তুবার থেকে দূরে থাকবি।"

ব্যাস! শেষ কথা এতটুকুই ছিলো। এরপর এক হাতে তুবাকে আগলে ধরে সেখান থেকে চলে গেলো কৌশিক। পেছন পেছন মৌমিতা আর রিয়াও ছুটলো। রয়ে গেলো কেবল মনভাঙা প্রেমিক সিফাত আর নীরব। ছেলেটার চোখটা ছলছল করছে। ওর আর বুঝতে বাকি নেই কাহিনি কি। কৌশিক তুবার মধ্যে যে প্রেম জনিত সম্পর্ক আছে সেটা এবার সিফাতের কাছে স্পষ্ট। তবে অনুভুতির মৃত্যুতে বড্ড জ্বলছে বুকটা। সেই মুহুর্তে নীরব হাত রাখলো সিফাতের কাঁধে। নিচু কন্ঠে বললো,

"যেটা তোমার নয় সেটা নিয়ে আর ভেবো না সিফাত। ভাই হিসেবে পরামর্শ দিচ্ছি। তুবাকে ভুলে যাও। ও অন্য কারো ব্যাক্তিগত সম্পদ।"

বিপরীতে মৃদু হাসলো সিফাত। সেই হাসিতে একবুক ব্যথা প্রকাশ পেলো। কণ্ঠটাও ব্যথাতুর,

"তুমি কখনো ভালোবেসেছো নীরব? যেদিন কাউকে ভালোবাসবে, সেদিন বুঝবে।"

এটুকু বলেই ধীরে সুস্থে পা বাড়ালো বাড়ির দিকে। নীরব নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো সদ্য মন ভাঙা প্রেমিকটার দিকে। ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠলো তাচ্ছিল্যের হাসি। নীরব বিড়বিড় করে আওড়ালো,

"তোমার কষ্ট একটু হলেও বুঝি সিফাত। ভালো যে আমিও কাউকে বাসি। আমার ভালোবাসাও এক তরফা। ওই নি*ষ্ঠু*র মানবী পদে পদে কষ্ট দেয় আমাকে। আজ তিনদিন তার সাথে কথা নেই, যোগাযোগ নেই। মনের মধ্যে সবসময় হারানোর ভয় দাপিয়ে বেড়ায়। কিন্তু কিচ্ছু করতে পারি না। তুমি আমাকে ভালোবাসা বোঝাচ্ছো?"

আপন মনে বিড়বিড় করলো নীরব। তার বুকের হাহাকার না কেউ শুনলো। আর না কেউ বুঝলো। নীরব উদাস চোখে আকাশ পানে তাকালো। রাতের স্বচ্ছ আকাশে তাকিয়ে প্রতিজ্ঞা করলো,

"তোকে আমি ছাড়বো না রিমি। ঢাকায় একবার ফিরতে দে। খুব খারাপ কিছু আছে তোর ভাগ্যে। আমাকে ইগনোর করা তোর উচিত হয়নি। এবার তুই শাস্তি পাবি। কঠিন শাস্তি।"

-

-

বাড়িতে ফিরেই সাওয়াল জবাব শুরু। সিফাতের এমন বেহাল দশা দেখে আহাজারি করে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছেন শামিমা বেগম। তার স্বামীও বেশ বিচলিত। ছেলেকে বেশ কয়েকবার জিজ্ঞেস করেছেন এসব কিভাবে হলো? কিন্তু সিফাত নিরুত্তর। কেমন যেনো অনুভুতিহীনের মতো চুপচাপ বসে রয়েছে। নাকের অবস্থা বেজায় খারাপ। অনবরত র*ক্ত ঝরছে। ছেলের থেকে কোনো জবাব না পেয়ে আঁচল দিয়ে ছেলের নাক চেপে ধরলেন শামিমা।

কৌশিক আরাম করে চেয়ারে বসে চা খাচ্ছে। সামনে কি হচ্ছে না হচ্ছে সে দিকে তার কোনো হেলদোল নেই। ভাবটা এমন, যেনো কিছুই হয়নি। সবকিছু স্বাভাবিক। ছেলের এমন গা ছাড়া ভাব সহ্য হলো না জামাল সাহেবের। তিনি তেতে উঠে বললেন,

"তুমি এমন শান্ত হয়ে বসে আছো কেনো? বলবে কি, ওর এই অবস্থা কি করে হলো?"

"ভুল রাস্তায় পা বাড়িয়েছিল। স্লিপ করে পড়ে গেছে। ফলাফল! ওর এই হাল।"

একদম গা ছাড়া ভাব নিয়ে জবাব দিলো কৌশিক। নিজের কথা শেষ করে আবারও চায়ের কাপে চুমুক দিলো। ভাবটা এমন, যেনো এই মুহুর্তে চা খেতে না পারলে ভুমিকম্পে বাড়িঘর ভেঙে যাবে। তাই বাড়ি বাঁ*চাতে তার চা খাওয়া আবশ্যক। জামাল সাহেবের এখানেই আপত্তি। ছেলের এই দায়সারা ভাবসাব তিনি মোটেই মানতে পারেন না। মনে মনে রাগ নিয়ে পূর্বের তুলনায় দ্বিগুণ গর্জে উঠলেন,

"এটা কোনো জবাব হলো? তুমি ছিলে কি করতে? তুমি থাকতে ছেলেটার এই অবস্থা কি করে হলো?"

"আমি কি করতাম?"

"কি করতে মানে? ওদের মধ্যে সবার বড়ো তুমি। তোমার ভরসায় আমি ছেড়েছিলাম সবাইকে। ওদের সুরক্ষা কি তোমার দায়িত্ব ছিলো না?"

"আমি কোনো বাচ্চা এডপ্ট নেইনি বাবা যে, তার দায়িত্ব পালন করবো। এখানে সবাই ম্যাচিউর।"

"যদি সিফাতের জায়গায় তোমার বোনদের মধ্যে কেউ হতো তাহলে? তাহলেও কি এই কথা বলতে?"

"আমার বাড়ির মেয়েদের গায়ে হাত দিয়ে কেউ সেখান থেকে বেঁ*চে ফিরতে পারবে না বাবা। মে*রে সেখানেই পুঁতে রেখে দেবো।"

শান্ত কন্ঠে জবাব দিলো কৌশিক। জামাল সাহেব এবার বেজায় ক্ষেপে গেলেন। মনে মনে প্রস্তুতি নিলেন ছেলেকে আচ্ছা মতো কিছু কথা শোনাবেন। ভাবনা মোতাবেক তর্জনীও ছেলের দিকে তাক করলেন। তবে শাসানোর আর সুযোগ পেলেন না। তার আগেই কৌশিক খালি কাপটা টি টেবিলে রেখে উঠে দাঁড়ালো। লম্বা লম্বা পা ফেলে সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে বললো,

"মুভ নিয়ে আমার ঘরে আয় তো তুবা। বড্ড মাথা ধরেছে।"

বলতে বলতে সোজা সিঁড়ি মারিয়ে উপরে উঠে গেলো। জামাল সাহেব ভড়কে গেলেন। শাসানোর জন্য তোলা আঙ্গুলটা গুটিয়ে নিলেন। পরপরই গলা উঁচিয়ে চেঁচিয়ে উঠলেন,

"হ্যা মাথা তো ধরবেই। এমন অসভ্যের মতো ভং ধরে থাকলে মাথা ধরবে না? শুধু ধরা কেনো? ধর থেকে মাথা খসে পড়ে যাবে বেয়াদব ছেলে।"

কনকচাঁপা বেগম এগিয়ে এলেন। ছেলের পক্ষ নিয়ে বললেন,

"সবসময় আমার ছেলের দোষ ধরবেন না তো। হয়ে গেছে হয়তো কোনো দুর্ঘটনা। তাতে আমার ছেলের কি দোষ?"

"ও থাকতে এই ঘটনা কেনো ঘটলো? এটাই ওর দোষ।"

দুই স্বামী স্ত্রীর মুখের দিকে হতভম্ব নজরে তাকিয়ে রইলো সিফাত। মনে মনে তাচ্ছিল্য হাসলো। হাহ্! কি প্রশ্ন। "ও থাকতে এই ঘটনা কেনো ঘটলো?" অথচ এই "ও" টা ছিলো বলেই এই ঘটনা ঘটলো।

-

-

সাওয়াল জবাবের পালা মোটামুটি শেষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মৌমিতা মনগড়া এক কাহিনি শুনিয়ে দিয়েছে যে, অন্ধকারে হাঁটতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেছিলো সিফাত। বাড়ির বড়রা বিশ্বাস করবেনা করবেনা করেও বিশ্বাস করে নিয়েছে। আপাতত এই চ্যাপ্টার ক্লোজ দেখে তুবা স্বস্তির নিঃশ্বাস ছেড়ে কৌশিকের ঘরের দিকে পা বাড়ালো। যাওয়ার পথে জামাল সাহেবের ঘর থেকে মুভ মলমটাও নিয়ে গেলো। দড়জার কাছাকাছি এসে দুই আঙ্গুলের টোকায় ঠকঠক শব্দ করলো। সঙ্গে সঙ্গে ভেতর থেকে ভেসে এলো কৌশিকের দৃঢ় কন্ঠ,

"আমার ঘরে ঢুকতে তোর নক করার প্রয়োজন নেই তুবা। কৌশিকের সবকিছু তোর জন্য উন্মুক্ত।"

তুবা মাথা নিচু করে লাজুক হাসলো। এরপর দড়জা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো। কৌশিক বিছানায় বসে মাথা নিচু করে ছিলো। তুবা ঘরে ঢুকতেই চোখে মেলে তাকালো। তুবা আঁতকে উঠলো কৌশিকের চোখের দিকে তাকিয়ে। লাল রক্তবর্ণ ধারণ করেছে চোখ দুটো। তুবা হকচকিয়ে গেলো। দ্রুত পায়ে ছুটলো কৌশিকের কাছে। দুই হাতে কৌশিকের মুখ আগলে ধরলো। বিচলিত কন্ঠে শুধালো,

"এমন কেনো লাগছে আপনাকে? আপনি ঠিক আছেন?"

কৌশিক সামান্য হাসলো। বিনা দ্বিধায় তুবার কোমর জড়িয়ে ধরলো। মুখ গুঁজে দিলো নরম বক্ষভাজে। তুবা চমকে উঠলো। আচমকা কেঁপে উঠলো পুরো শরীর। হঠাৎ গভীর ছোঁয়ায় দেহের শক্তি খুইয়ে বসলো। লজ্জায় আড়ষ্ট হয়ে নুইয়ে গেলো। হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানি বেড়ে গেলো হাজার গুণ। ধরাস ধরাস করে দামামা বাজতে লাগলো। সেই শব্দ স্পষ্ট কানে পৌঁছালো কৌশিকের। মুচকি হাসলো কৌশিক। মাথাটা সামান্য উঁচু করলো। দেখতে পেলো তুবা চোখ খিঁচে বন্ধ করে রেখেছে। এতে কৌশিকের মুখের হাসি প্রসস্ত হলো। কৌশিক দুষ্টুমির ছলে ফিসফিস করে বলল,

"সাধারণ ছোঁয়াতে এমন করলে হবে জান? তাহলে গভীর ছোঁয়া কিভাবে সহ্য করবি?"

তুবা জবাব দিতে পারলো না। গাল দুটো লাল হয়ে এলো। দুই হাতে কামিজের হাঁটুর দিকের অংশ খামচে ধরলো। কৌশিক ঠোঁট কামড়ে হাসলো। এরপর তুবাকে ছেড়ে দিলো। খাটের সাথে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসলো। ব্যাথাতুর কন্ঠে বললো,

"একটু মাথা টিপে দে তো জান। তোর হাতের ছোঁয়া না পেলে বোধহয় এই ব্যথা থামবে না।"

এই পর্যায়ে তুবা চোখ খুলল। ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছেড়ে আটকানো দমটা স্বাভাবিক করলো। এরপর ধীরে সুস্থে কৌশিকের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো। আঙ্গুলের ডগায় মুভ নিয়ে কপালের দুই পাশে লাগিয়ে দিলো। এরপর আলতো হাতে মাথার দুই পাশে চাপতে লাগলো। আবেশে চোখ বন্ধ করে নিলো কৌশিক। একদম শান্ত হয়ে গেলো। এক পর্যায়ে তুবা মিনমিন করে বলল,

"আপনি বলেছিলেন রাতে আমাকে নিয়ে ঘুরতে বের হবেন। এই আবদার কিন্তু পূরণ করেননি।"

"আজ রাতে যাবি?"

"আজ তো কত কাহিনি ঘটে গেলো। আজ থাক।"

"তাহলে?"

"আগামীকাল নিয়ে যাবেন?"

"তুই চাইলেই নিয়ে যাবো।"

"মনে থাকে যেনো। আর হাতে গোনা তিনদিন আমরা আছি এখানে। কাল কিন্তু মিস করা চলবে না।"

তুবার কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে ফট করে বন্ধ চোখের পাতা মেলে ধরলো কৌশিক। ঘাড় পেছনে বাকিয়ে তুবার মুখোমুখি হলো। মুহুর্তেই তুবার ঘাড়ে হাত রেখে টেনে নিজের দিকে নিয়ে আসলো। সেকেন্ডের ব্যবধানে শব্দ করে চুমু খেলো তুবার ঠোঁটে। এবং সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দিলো। এরপর স্বাভাবিক কন্ঠে বললো,

"মনে থাকবে।"

ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব তুবা। কয়েক সেকেন্ড লাগলো তার ঘটনা বুঝতে। এরপর লজ্জায় লাল হয়ে এক কদম পিছিয়ে গেলো মেয়েটা। এলোমেলো কন্ঠে বললো,

'আপনি একটা অসভ্য।"

তুবা আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়ালো না। ছুটে বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে। শোনা গেলো কৌশিকের উচ্চ স্বরে অট্টহাসি।

-

-

তিরতির করে রাত পেরিয়ে ভোরের আগমন। ধরনীর বুক থেকে আঁধার কেটে গিয়ে আলো ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির গিন্নিরা রান্না বান্নার কাজে ব্যাস্ত। রান্নাঘরের টুংটাং শব্দ পুরো বাড়ি জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। সেই শব্দের খানিকটা তুবার কানে ভেসে এলো। গভীর ঘুম ছুটে গেলো তুবার। একটু নড়েচড়ে কাত ঘুরে আবারও ঘুমালো। তৎক্ষনাৎ কানে ঝংকার তুলল বোনদের অট্রহাসি। তুবার ঘুম এবার পুরোপুরি ছুটে গেলো। চোখ মুখ কুঁচকে উঠে বসলো। হাই তুলতে তুলতে নিচে নেমে এলো। এই সাত সকালে তার বোনদের হাসির কারণ খতিয়ে দেখতে হবে। ঘর থেকে বেরিয়ে বারান্দা থেকে নিচে নজর দিতেই তুবার চোখের বাকি ঘুম টুকু উড়ে গেলো। মুহুর্তেই তুবার চোখে মুখে আমাবস্যার আঁধার নামলো।

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন