ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ প্রণয়ে (সিজন-2)

২৬তম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া জাওদা

#নিষিদ্ধ_প্রণয় (সিজন ২)

#পর্বঃ২৬

#কলমে_সোনালিকা_আইজা

আজ সকাল থেকেই আবহাওয়া বেজায় গরম। ভ্যাপসা গরমে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। আজ বোধহয় সূর্য মহাশয় বেজায় ক্ষেপে আছে। অকারণ রাগ ঝারছে পৃথিবীবাসীদের ওপর। রাগের উত্তাপে ঝলসে দিচ্ছে মানব দেহ।

ঘামে ভেজা মুখটা রুমাল দিয়ে মুছে সেটা আবার ব্যাগে রাখলো তুবা। গলার কাছটা ঘামে ভিজে চিপ চিপে হয়ে আছে। নীল সাদা রঙের স্কুল ইউনিফর্মটাও ঘামে ভিজে শরীরের সাথে লেপ্টে গেছে। ক্লাসরুমে ফ্যানের নিচে বসেও শান্তি পাচ্ছে না। কেমন হাসফাস হাসফাস লাগছে। ভাগ্যিস ক্লাসে এখনও টিচার আসেনি। নাহলে পড়ায় মনোযোগ দিতো কিভাবে? তুবাকে এমন মোচড়ামুচড়ি করতে দেখে পানির বোতলের মুখ খুলে এগিয়ে দিলো রিমি। নিজেও টিস্যু দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বলল,

"পানি খা। ভালো লাগবে।"

তুবা জবাব দিলো না। রিমির হাত থেকে পানির বোতলটা নিয়ে ঢকঢক করে পুরো বোতলের পানি পেটে চালান করে দিলো। এরপর বোতলটা রিমিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

"এতো ভ্যাপসা গরম কেনো বল তো? বৃষ্টি আসবে নাকি?"

"হতেই পারে। কাল রাতে আবহাওয়ার খবর দেখলাম। টানা এক সপ্তাহ বৃষ্টি হওয়ার কথা।"

তুবার চোখ মুখ অন্ধকার হয়ে গেলো। এমনিতেই বেশ অনেকদিন স্কুল মিস দিয়ে ফেলেছে। এখন বৃষ্টি বাদল শুরু হলে আবারও মিস দেয়া লাগবে। সামনে পরিক্ষা। এভাবে ফাঁকিবাজি করলে রেজাল্টে বড়সড় একটা রসগোল্লা পাবে। এরপর ওর মা বাঁশ বাগান থেকে চিকন কঞ্চি কেটে এনে পিঠের ওপর ভাঙবে। ভাবতেই বুক চিরে দীর্ঘ শ্বাস বেরিয়ে এলো তুবার। ঠিক এমন সময় সেখানে আগমন ঘটলো নীরবের। হাতে তিনটে টাইগারের ক্যান। দেখেই বোঝা যাচ্ছে মাত্রই ফ্রিজ থেকে বের করে আনা। লম্বা লম্বা পায়ে সোজা তুবার পাশে দাঁড়িয়ে দুটো ক্যান বেঞ্চের ওপর রাখলো নীরব। এরপর একটা ক্যান রিমির দিকে ঠেলে দিয়ে অন্য টার মুখ খুলে তুবার সামনে ধরলো। তুবার ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মুখের দিকে একবার তাকিয়ে ওর মাথায় আলতো করে হাত রাখলো নীরব। চিন্তিত স্বরে প্রশ্ন করলো,

"ঠিক আছিস তুই?"

"খুব গরম লাগছে।"

নীরবের কপালে দুই তিনটা চিন্তার ভাজ পড়লো। দুজই ভাই বোনের মধ্যে বয়সে পার্থক্য খুব বেশি নয়। হিসাব করলে, নীরব গুনে গুনে তুবার চাইতে সাত মাসের বড়। তবে দিন মাস যতই হোক, ভাইয়ের দায়িত্ব সবসময় বেশি। এই যেমন এই মুহুর্তে বোনের চিন্তায় কপালে ভাজ পড়েছে ছেলেটার। ভাবতে ভাবতে নীরব আঁড়চোখে তাকালো রিমির দিকে। মেয়েটার অবস্থাও করুন। ফর্সা দুই গাল লাল হয়ে গেছে। নীরব হুট করেই তুবার হাত ধরে বলল,

"চল লাইব্রেরিতে যাই। আজ ক্লাস করবো না। এখানে থাকলে তোর মাথা ব্যথা শুরু হয়ে যাবে।"

নীরবের প্রস্তাবের বিপরীতে ছোটো ছোটো চোখে তাকালো তুবা। কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে রিমি বলল,

"হাঁদারাম! সামনে পরিক্ষা। ক্লাস মিস দিলে পরিক্ষায় ডাব্বা পাবো আমরা।"

"তোর মাথা যে পুরো ফাঁকা সেটা আবারও প্রমান করলি। নোট নিয়ে নেবো বন্ধুর থেকে এবার চল।"

রিমি গো ধরে বসে রইলো। নীরবের ওপর থেকে রাগ এখনও কমেনি ওর। সেই রাগের রেশ ধরেই জেদি কন্ঠে বললো,

"যাবো না। তুই যা।"

রাগে চোয়াল জোড়া শক্ত হয়ে গেলো নীরবের। শক্ত চোখে তাকালো রিমির দিকে। তুবা শুধু দুজনকে ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখছে। কাহিনি বুঝতে পেরে ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। রিমির হাত টেনে ধরে যেতে যেতে বললো,

"গরমে আমার মাথা ধরে গেছে। চলতো, একটু হাওয়া খেয়ে আসি।"

তুবার টানাটানিতে অনিচ্ছার স্বত্বেও যেতে হলো রিমির। তবে যাওয়ার পূর্বে ঘাড় ঘুরিয়ে রবিনকে ডেকে বলল,

"আজকের ক্লাসের নোটটা দিও তো রবিন। আমি বাইরে আছি।"

বিপরীতে রবিন হেঁসে মাথা দোলালো। তুবা আর দেরি করলো না। এক প্রকার টানতে টানতেই রিমিকে নিয়ে ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলো। পেছনে দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলো নীরব। অত্যাধিক রাগে চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে। মাথার দুই পাশ দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে ঘাম ঝরছে। এক পলক রবিনের দিকে শক্ত চোখে তাকিয়ে হনহন করে হাঁটা দিলো লাইব্রেরির দিকে।

-

-

ক্লাস টাইম হওয়ায় পুরো লাইব্রেরি এখন ফাঁকা। তাছাড়া এটাই শেষ ক্লাস। এরপর স্কুল ছুটি হয়ে যাবে। পুরো লাইব্রেরি ফাঁকা পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়লো তুবা। দৌড়ে চলে গেলো খোলা জানালার দিকে। দক্ষিণ দিকের বিশাল বড় জানালার কাছে দাঁড়াতেই এক মুঠো শীতল হাওয়া শরীরে আছড়ে পড়লো। প্রশান্তিতে চোখ বন্ধ করে নিলো তুবা। এই লাইব্রেরি রুমটাকে নিজের ছায়ায় আবৃত করে রেখেছে একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ। গাছটা বহু বছরের পুরনো। ডালপালা শাখাপ্রশাখা বেশি হওয়ায় বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে ছায়া পড়ে। বর্তমানে গাছটা টকটকে লাল রঙের ফুলে সেজে আছে। তুবার খুব পছন্দ কৃষ্ণচূড়া ফুল। ফুলে সজ্জিত গাছের দিকে তাকালে মুগ্ধ হয়ে যায়।

এই যেমন এখন মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে। বেখেয়ালে কখন যে কাধের ব্যাগটা টেবিলের কোণায় ফেলে দিয়েছে সেটাও খেয়াল করেনি। চোখ ধাঁধানো রক্ত লাল কৃষ্ণচূড়া বরাবরই তুবার মনোযোগ কাড়ে। এরই মাঝে রিমি একটা বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে প্রশ্ন করলো,

"আজ কৌশিক ভাই আসবে তোকে নিতে?"

তুবার ধ্যান ভাঙলো। তবে নজর সরালো না। গাছভর্তি লাল ফুলগুলোর দিকে তাকিয়ে জবাব দিলো,

"আজ বোধহয় আসতে পারবে না। সকালে খুব সাজগোছ করে বেরিয়েছে। বলল জরুরি কোনো কাজ আছে। তবে কি কাজ সেটা বলেনি।"

"মানে, আজ সে ভার্সিটিতে যায়নি?"

"নাহ্!"

"তাহলে ফিরতে নিশ্চয়ই দেরি হবে!"

"হয়তো।"

এই পর্যায়ে লাফিয়ে উঠলো রিমি। তড়িঘড়ি করে হাতের বইটা টেবিলে রেখে চেঁচিয়ে উঠলো,

"তাহলে চল ঘুরতে যাই। শুধু তুই আর আমি। খুব মজা হবে।"

তুবা ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। ঘাড় ঘুরিয়ে রিমির দিকে শান্ত চোখে তাকিয়ে বলল,

"এই গরমে? ফ্যানের বাতাসেও টিকতে পারছি না। এখন বাইরে গেলে বেগুন পোড়া হয়ে বাড়ি ফিরতে হবে।"

কথা বলার এক পর্যায়ে আচমকা তুবা নিচের পেটে সামান্য ব্যথা অনুভব করলো। সঙ্গে সঙ্গে পা বাড়ালো ওয়াশরুমের দিকে। যেতে যেতে বললো,

"একটু দাঁড়া তো। আমি আসছি।"

রিমি জবাব দিলো না। হয়তো না বলতেই কারণটা বুঝে গেছে। তাই চুপচাপ বেঞ্চে বসে বইটা পড়তে শুরু করলো। সেকেন্ডের ব্যবধানে আচমকা সেখানে হাজির হলো নীরব। রিমির হাত থেকে বইটা কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিলো একদিকে। হঠাৎ নীরবের এহেন কান্ডে হকচকিয়ে উঠে দাঁড়ালো রিমি। অবাক হয়ে তাকাতেই দৃষ্টি গোচর হলো নীরবের আগুন লাল মুখ। রিমির রাগ হলো। রাগে দাঁত খিঁচে মৃদু চেচিয়ে উঠলো,

"এসব কি ধরনের অসভ্যতা নীরব?"

নীরব হুট করেই রিমির গাল চেপে ধরলো। একদম শক্ত করে, শরীরের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে। অত্যাধিক রাগে গর্জে উঠে বলল,

"রবিনের সাথে কি তোর? হ্যা? রবিনের সাথে কি?"

"কি সব আলতু ফালতু প্রশ্ন?"

"এটা আমার উত্তর নয়।"

নীরবের দফায় দফায় ধমকে রাগ বাড়লো রিমির। এক ঝারি মেরে নীরবের হাত সরিয়ে দিয়ে বলল,

"এমন কেনো করছিস তুই?"

"আমার জবাব চাই রিমি।"

"বেশ, শোন তবে। তোর সাথে আমার যা, রবিনের সাথেও তাই। জবাব পেয়েছিস?"

ধীরে ধীরে নীরবের চোয়াল লোহার মতো শক্ত হয়ে গেলো। কয়েক সেকেন্ড রিমির দিকে শক্ত চোখে তাকিয়ে রইলো। এরপর আচমকাই রিমিকে দেয়ালের সাথে ঠেসে ধরে ওষ্ঠপুট নিজের দখলে নিয়ে নিলো। হঠাৎ নীরবের এহেন আচরণে ভড়কে গেলো রিমি। থমকে গেলো হৃৎস্পন্দন। অসার হয়ে আসলো পা দুটো। মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরন জ্বলে উঠলো। রিমি সজোরে ধাক্কা দিলো নীরবের বুক বরাবর। কিন্তু এক চুলও নড়াতে পারলো না। ছাড়া পাওয়া জন্য মরিয়া হয়ে উঠলো রিমি। শেষে কোনো উপায় না পেয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো।

রিমির কান্নার আওয়াজ কানে আসতেই হুট করে ওকে ছেলে দিলো নীরব। এক আঙ্গুলে ঠোঁট মুছতে মুছতে বলল,

"ভবিষ্যতে তিড়িং বিড়িং করার আগে আজকের দিনটা মনে করবি। তাহলে মনে পড়ে যাবে আমি তোর কি।"

দাঁতে দাঁত চেপে কথাগুলো বলেই হনহন করে বাইরের দিকে হাঁটা দিলো নীরব। রিমি হতভম্ব হয়ে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে রইলো। এরপর দুই হাতে মুখ চেপে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। রাগে, দুঃখে, ঘৃণায় শরীর জ্বলে গেলো। রিমি কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে বেরিয়ে গেলো লাইব্রেরি থেকে। লম্বা বারান্দায় আসতেই মুখোমুখি হলো রাইমার। রাইমা ছোট্ট একটা প্লাস্টিকের পাখা দিয়ে বাতাস করছিল। চোখে মুখে চমৎকার হাসি। রিমিকে এমন কাঁদতে কাঁদতে দৌঁড়াতে দেখে প্রশ্ন করলো,

"আরে রিমি! তুমি কাঁদছো কেনো?"

রিমি জবাব দিলো না। হাতের তালু দিয়ে চোখ মুছে ছুটে বেরিয়ে গেলো।

এর মিনিট পাঁচেক পর ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসলো তুবা। তবে বাইরে এসে পুরো লাইব্রেরি ফাঁকা দেখে বেশ অবাক হলো। রিমিকে খুঁজতে খুঁজতে দরজার কাছে আসতেই দেখা হলো চল্লিশোর্ধ্ব বয়সী একজনের সাথে। তিনি এই স্কুলের লাইব্রেরিয়ান। পারিবারিক সুত্রে তুবাকে বেশ ভালো করেই তিনি। তিনি দড়জার সামনে তুবাকে দেখে বলে উঠলেন,

"আরে মামনি। তোমাকেই খুঁজছি। তোমার হাসবেন্ড তো গার্লস কমনরুমে অপেক্ষা করছে তোমার জন্য। কি সব সারপ্রাইজ নাকি প্ল্যান করেছে। আমাকে বলল তোমাকে খুঁজে পাঠিয়ে দিতে।"

স্বামী নামটা শুনেই দিন দুনিয়ার কথা ভুলে বসলো তুবা। মুখে ফুটে উঠলো চওড়া হাসি। সঙ্গে সঙ্গে দিক বেদিক ভুলে ছুট লাগালো কমনরুমের দিকে।

-

-

সারাদিনের ভ্যাপসা গরমের পর আকাশ নিজের রুপ বদলে নিয়েছে। সুবিশাল আকাশ জুড়ে থোকা থোকা মেঘরাশি উড়ে বেড়াচ্ছে। কালচে মেঘগুলো একে অপরের সাথে মিশে বিশাল মেঘমালায় রুপ নিচ্ছে। মনে হচ্ছে আজ বৃষ্টি হবে। আকাশের গতিবিধি তো তাই বলে।

দিন পেরিয়ে ধরণীর বুকে আঁধার নেমেছে কিছুক্ষণ আগে। সারাদিন ছোটাছুটির পর ক্লান্ত দেহটা টেনে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলো কৌশিক। হাতে একটা স্বচ্ছ ফাইল। ভেতরের কাগজপত্র গুলো ফাইল ভেদ করে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। গরম থেকে বাঁচতে শার্টের দুই তিনটা বোতামও খুলে রেখেছে। এমনই এলোমেলো ক্লান্ত মুখে বসার ঘরে পা রাখলো কৌশিক। তবে সামনে নজর ফেলতেই ওর সমতল ভ্রুতে কয়েকটা ভাজ পড়লো। পুরো পরিবার একসাথে ড্রয়িংরুমে উপস্থিত। তবে সবচেয়ে বেশি কৌশিকের নজর কাড়লো ময়না বেগম। তিনি সোফায় বসে আঁচলে মুখ চেপে কাঁদছেন। তাকে ঘিরে দুই জা বসে শান্তনা দিচ্ছে। অপরদিকের সোফায় নীরব মাথা নিচু করে বসে আছে। এই ভরসন্ধ্যায় আবার রিমিকেও দেখা যাচ্ছে।

হুট করেই বাড়ির এমন ছন্নছাড়া পরিবেশ ঠিক বোধগম্য হলো না কৌশিকের। মনের ভেতর কৌতুহল হুহু করে বাড়লো। সেই কৌতুকলের রেশ ধরেই ক্লান্ত অথচ গম্ভীর কন্ঠে প্রশ্ন করলো,

"কি হয়েছে? চাচি কাঁদছে কেনো?"

কৌশিকের আওয়াজ পেয়ে একজোটে সবাই তাকালো দড়জার দিকে। ভাইকে দেখে মৌমিতা যেনো দেহে প্রাণ ফিরে পেলো। দুরন্ত পায়ে ছুটে গিয়ে কৌশিকের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,

"তুবা স্কুল থেকে বাড়ি ফেরেনি ভাই। ওকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।"

কথাটা সোজা মস্তিষ্কে গিয়ে সজোড়ে আঘাত লাগলো কৌশিকের। কয়েক সেকেন্ডের জন্য মাথা কাজ করা বন্ধ করে দিলো যেনো। একদম অনুভুতিহীনের মতো শূন্য চোখে তাকিয়ে রইলো। সেকেন্ডের ব্যবধানে মস্তিষ্ক সচল হতেই বুকের ভেতর ছ্যাত করে উঠলো কৌশিকের। হাতের ফাইলটা শব্দ করে মেঝেতে পড়ে গেলো। চোখে মুখে অবিশ্বাস,

"খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে মানে কি? স্কুলেই তো ছিলো।"

"স্কুলে ছিলো। কিন্তু ছুটির পর আমরা ওকে পাইনি ভাইয়া। তখন থেকেই খুঁজে যাচ্ছি। কিন্তু কোথাও নেই।"

মৃদু কন্ঠে বলে উঠলো রিয়া। কথা শেষ হতেই দুই হাতে চোখ মুছলো। কৌশিকের দম আটকে আসলো। বুকের ঠিক মাঝ বরাবর শ্বাস আটকে গেলো। দম নিতে না পেরে হাসফাস করে উঠলো। হাঁপানোর মতো করতে করতে এক হাতে বুক ডলল। ভেতরটা ভিষণ জ্বলছে। মনে হচ্ছে হৃদপিণ্ডে কেউ জ্বলন্ত কয়লা ঢেলে দিয়েছে। এক অদৃশ্য হাত শক্ত করে গলা চেপে ধরে রেখেছে। কৌশিক হাসফাস করতে করতে আচমকাই পাশে রাখা ফুলের টবটা লাথি মেরে ফেলে দিলো। কাঁচের টবটা পাকা ফ্লোরে পড়তেই ঝনঝন শব্দে ছড়িয়ে পড়লো চারদিকে। কৌশিক হুঙ্কার ছেড়ে গর্জে উঠলো,

"সেই বিকাল থেকে তুবাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আর এই কথা আমি এখন শুনছি?"

কৌশিকের তর্জন গর্জনে কেঁপে উঠলো পুরো ভুঁইয়া মঞ্জিল। জামাল সাহেব গমগমে সুরে বললেন,

"এমন চোটপাট দেখানোর মানে কি? আমরা এমনিতেই চিন্তায় আছি। আর চিন্তা বাড়িও না।"

"বসে বসে চিন্তা না করে খুঁজতে তো বের হতে পারতে।"

"তোমার মনে হয় আমি খুঁজিনি? স্কুল সহ চেনাজানা সব জায়গায় খুঁজেছি। না পেরে থনায় পর্যন্ত গিয়েছি। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা না হলে ওরা কেনো কেইস ফাইল করবে না। বুঝতে পারছো কত চাপের মধ্যে আছি আমি?"

কৌশিক আর বাপের সাথে তর্ক করে সময় ব্যায় করলো না। যেভাবে ক্লান্ত শরীরে বাড়িতে ঢুকেছিল, ঠিক সেভাবেই দৌড়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলো।

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন