ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছয় ভন্ডের বাঁদরামি

✅ পর্ব 1:)✅

লেখক: জান্নাত আফরিন মায়া

❌#কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ #❌
📖উপন্যাস : ছয় ভন্ডের বাঁদরামি 📖✅
✍️লেখিকা :জান্নাত আফরিন মায়া ✍️
পর্ব নাম্বার :1:)💯
শেখ মঞ্জিল।
সকল ৮:১৫ মিনিট।
মায়ার মা মায়া কে ডাকছেন,,
*** মায়া...মায়া.... উঠবি নাহ? বেলা কত হলো খেয়াল আছে তোর?
মায়া ঘুমু ঘুমু চোখ খোলার চেষ্টা করে বলল,
*** উফফ... মা.. এতো সকালে ডাকছো কেন?
মায়ার মা এবার রেগে গিয়ে বললেন।
*** এখন সকল ৮:১৫ বাজে।
মায়া, বিছানা থেকে তরিঘরি করে উঠে বসলো।
*** কিহ? এতো বেলা হয়ে গেছে তুমি একটু আগে ডাকলে নাহ কেন?
মায়ার মা এবার রুমের দরজার দিকে যেতে যেতে বলল,
*** ডাকছি সেই কখন থেকে মহারানির, কান পর্যন্ত তো গেলোই নাহ।
এতটুকু বলেই মায়ার মা ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।
মায়া তেড়ি ঘড়ি করে বাথরুমে চলে গেল।
-----+-----+-----+------+-----+----+------+-----+------
এবার মায়ার পরিচয় দেওয়া যাক।
মায়ার বাবা রাকিব সাহেব।
মা নাজমিন বেগম।
ভাই সুমন শেখ তূর্য।
মায়ার পুরো নাম :মেহেরিমার শেখ মায়া।
মায়ার বাবা চাচা দুই ভাই তাদের কোনো বোন নাই ।
মায়ার চাচা সফিক সাহেব।
চাঁচি রাবেয়া বেগম।
তাদের এক ছেলে এক মেয়ে।
ছেলে জিহাদ শেখ জুনায়েদ।
মেয়ে সুমাইয়া শেখ নূর।
সুমাইয়া আর মায়া একোই বয়স ১৭ বছর এবার SSC দিবে।
শেখ বাড়ির চোখের মনি এই দুই মেয়ে কিন্তু প্রচন্ড বাঁদর।
মায়া পুরো ২০ মিনিট নিয়ে বাথরুম থেকে বেরলো।
ঠিক তখনই তার ফোনের রিংটোন বেজে উঠল।
----কচু বনে হেগে গেলো কালো কুকুরে.....!!
মায়া তাঁরা তারি ফোন রিসিভ করল।
ওপাশ থেকে নেহা চিলিয়ে বলে উঠলো,,
***কিরে শালি সুমুন্দির মাইয়া কখন আসবি? আমরা সেই কখন থেকে তোর আর তোর বাঁদর বোন এর জন্য অপেক্ষা করছি।
মায়া একটা বড় শ্বাস নিয়ে বলল,
***একটু দারা জানু আমি আসছিস।
বলে ফোন কেটে দিলো।
তাঁর পর তৈরি হবে ড্রয়িং রুমে এল। দেখল নূর বসে বসে আঙ্গুর চিবাচ্ছে।
মায়া তার মা আর চাঁচি কে উদ্দেশ্য করে বলল,
***মা.... আমি আর নূর কলেজে চলে যায়ছি কলেজে important ক্লাস আছে।
ঠিক তখন সোপায় বসা তার বাবা রাকিব সাহেব বলল,
***মা.. কিছু খেয়ে যা ও। তোমার ভাইয়া তোমাদের৷ ড্রাফ করে দিয়ে আসবে।
মায়া আর কিছু বলল নাহ সে তার বাবা কে অনেক বেশি সম্মান করে তাই তার মুখের উপর না বলতে পারল না।
মায়া আর নূর ডাইনিং টেবিলে বসে পরলো।
সামনে তার ভাই বসে খায়ছে তার খাওয়া প্রায় শেষ বলল চলে।
*** বনু তাঁরা তারি খাওয়া শেষ কর আমার অফিসে গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং আছে।
এটা বলেই সুমন চলে গেল।
তার পর মায়া ১৫ মিনিট নিয়ে খাওয়া শেষ করে দুই বোন ভাই এর কাছে গেল।
সুমন বলল,
*** এবার গিয়ে গাড়িতে বস।
মায়া আর নূর দুই জন ভদ্রমেয়ের মতো উঠে বসল।
গাড়ি চলতে শুরু করল ঢাকা শহরের এই চুলের জট পাকানো জামের মতো রাস্তা দিয়ে।
কিছু সময় এর মধ্যে গাড়িটা। রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এর সামনে এসে থামল।
এই কলেজটি উত্তরার ৬ নাম্বার সেক্টরে উপস্থিত অবস্থিত এবং এখানে পড়া লেখার মানও (SSC)
পরীক্ষার ফলাফলের দিক থেকে ঢাকা বোর্ডের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটা।
গাড়ি থেকে নামার আগে সুমন ওদের দুই বোন এর হাতে দুই টা ১০০০ টাকার নোট ধরিয়ে দিয়ে বলল,
*** কিছু কিনে খাস।
বলেই গাড়ি ঘুরিয়ে চলে গেল।
মায়া আর নূর গেট দিয়ে ঢুকতে চার জন এক সাথে এসে ওদের সামনে দাড়াল।
নেহা বলল,
**** কিরে বেডি এতো দেরি কেন জানিস তোর জন্য আমাদের ও দেরি হলো।
মায়া কিছু বলবে তার আগেই নূর বলল,
*** য়ুউ একটু দেরি হলে কিছু হবে নাহ।
বলে গাছাড়া ভাব নিয়ে ভিতরে ঢুকে গেল।
কেউ আর কিছু বলল নাহ।
মায়া নূর রিক্ত নেহা রিফাত ফাহিম সবাই এক সাথে ক্লাস রুমের সামনে গিয়ে দারাল।
মায়া একটা ঢোক গিলে বলল,
***may I come in sir
স্যার সবার দিকে এক বার তাকিয়ে বলল।
*** কয় মিনিট লেট?
রিক্ত বলল,
*** জী ১৫ মিনিট।
স্যার বলল,
***এতো দেরি কেন?
নেহা বলল,
*** স্যার ওই... ইয়ে... মানে... রাস্তায় একটা বিরাল আহত হয়ে গেছিলো তাই ওই টাকে একটু সাহায্য করছিলাম।
একেবারে ডাহা মিথ্যা কথা বলল নেহা।
এবার স্যার বলল,
*** ভেতরে আসো।
বলেই তিনি তার লেকচার শুরু করলেন।
মায়া নেহা নূর রিক্ত রিফাত ফাহিম সবাই ভিতরে ঢুকে গেল।
সবাই ক্লাস মন দিয়ে করছে , আর মায়া তার খাতায় একটা ব্যাঙের ছবি আকছে।
রিক্ত তো বলল,
***কি রে টিক টিকি কি আঁকিস?
মায়া কিছু বলতে যাবে তার আগেই নূর বলল,
*** তোর ভবিষ্যৎ আকছে।
রিফাত বলল,
***বাহ মায়া তোকে তো অ্যাওয়ার দেওয়া উচিত। কি সুন্দর রিক্তর ভবিষ্যৎ বউকে আঁকলি।
মায়া গর্বের হাসি হেসে বলল।
***আমার অনেক ট্যালেন্ট তোরা তো কখনো খেয়াল করিস না।
***ফাহিম বলল থাক বইন তোর ট্যালেন্টার দেখাস না।
এভাবেই ছয়জন পুরো ক্লাস টা বাঁদরামি করে শেষ করল।
দুপুর ১:০২ মিনিট।
সবাই ক্যাম্পাসে বসে আছে ।
মায়া নূর নেহা রিফাত ফাহিম সবাই বক বক করছে রিক্ত সব শুনছে।
রিক্ত কিছু টা ঠান্ডা পরিস্থিতি বুঝে কথা বলে সব সময়। অনেক সুন্দর পরিচিতি সামলাতে পারে।
রিক্তর গায়ের রং মেয়েদের মতো অনেক বেশি ফর্সা এখানে সবার থেকে রিক্ত বেশি ফর্সা। চুলগুলো বাবরি কাটা । চোখগুলো শান্ত স্থির ওর চোখের মনি গুলো কেমন যেন বাদামির আর কালো মিশ্রণ এ। নেহা আর রিক্ত ভাই বোন কিন্তু নেহা রিক্তর মতো এতোটা ফর্সা না ও গায়ের রং উজ্জল শ্যামলা চুল গুলো কোমর ছুই ছুই এমন চোখ গুলো টানা টানা। ওর থুতনির নিচে একটা তিল ।
ফাহিম ও অনেক টাই ফর্সা চুল গুলো সব সময় এলো মেলো হয়ে কপালে পড়ে থাকে এতেই যেন ওকে অনেক মায়াবী লাগে চোখের মনি গুলো কালো।
রিফাত এর গায়ের রং শ্যাম বর্ণের। চুলগুলো সব সময় পরিপাটি করে রাখে চোখের মনি গুলো বাদামি । ডান ব্রুতে একটা কাটা দাগ।
নূর এর গায়ের রং উজ্জ্বল ফর্সা চোখ গুলো কিছু টা চোট চোট কিন্তু ওর মুখের সাথে মানানসই। উপরের ঠোটের ভিতর একটা তিল আছে যেটা দেখে মনে হয় মানুষের তিল থাকে নিচের ঠোটে আর ওর উপর ঠোটে থেকেও এত সুন্দর। ওর চুল গুলো কোমরের কিছুটা নিচ অব্দি।
মায়ার গায়ের রং হলুদ ফর্সা। চোখ গুলো ডাগ ডাগ মায়া ভরা ওর চাহনি দেখলে মনে হয় কি সরলতায় ঘেরা দুটি চোখ। ঠোঁটগুলো একদম গোলাপের পাপড়ির মত লাল ঠোঁটের পাশে একটা তিল আছে অনেক ছোট কাছ থেকে না দেখলে বোঝা যায় না। হাসলে গালে টোল পরে। চেহারায় কিছুটা বাচ্চা বাচ্চা ভাব। চুলগুলো হাঁটু সমান। ওদের মধ্যে সবার চুল অনেক লম্বা কিন্তু ওর গুলো একটু বেশি।
ফাহিম বলল,
****মায়া একটা গান ধর তো তোর সাথে তাল মিলাবে রিক্ত।
কারণ মায়া আর রিক্ত অনেক সুন্দর গান গাইতে পরে।
মায়া কথা বাড়ালো না গান ধরল।
***এমনও সুন্দর ও পাখি..হৃদয়ে হৃদয়ে রাখি...!!
ছুটলে পাখি ধরা দিবে না...!!
তার পড়ের লাইন রিক্ত বলল,
***এমনও সুন্দর ও পাখি... হৃদয়ে হৃদয়ে রাখি...!!
ছুটলে পাখি ধরা দেবে না...!!
মায়া আবার বলল,
***এগো ছুটলে পাখি ধরা দিবে না....!!
এগো ছুটলে পাখি ধরা দিবে না...
না না না গো বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচে না...!!
তার পর রিক্ত বলল,
*** না না না আমি রবো না রবো না গৃহে বন্ধু বিনে প্রাণ বাঁচে নহ...!!
দুই জন মিলে গান টা শেষ করল।
তাদের আসে পাসে অনেক মানুষ এসে জমা হয়েছে গান শুনে।
তার পর সবাই উঠে চলে গেলো ।
বিকেল ৪:০০ টা সবাই রাস্তা দিয়ে হাঁটছে।
মায়া একটা উপন্যাস এর বই পরছে আর হাটছে সবাই কথা বলছে আরও শুধু হু হু করছে।
হঠাৎ মায়া কোন একটা লাইন পড়ে হু হু করে কেঁদে উঠলো।
মায়ের আকর্ষিক কান্না তে সবাই হতবাক হয়ে গেল।
রিক্ত বলল,
*** কি রে টিক টিকি কি হয়ছে তোর?
ফাহিম উদ্বিগ্ন হয়ে বলল,
***তুই তো একটু আগেও ভালো ছিলি তহলে এখন হঠাৎ কাদচ্ছিস কেন?
নেহা বলল,
***জানটুস কান্না করস কেন বল কি হইছে?
রিফাত বলল,
*** আব্বে বইন কান্দোস ক্যে তোর জামাই মারা গেছে?
সবাই কে নূর থামিয়ে দিয়ে বলল।
*** তোরা থাম বি? তোরা তো জানিসই যেও নতুন নতুন উপন্যাস পড়বে আর ওই টা sad ending হলে কেঁদে কেটে বুক ভাসাবে ।
সবাই এবার শান্ত হলো।
চলবে....
আসসালামু আলাইকুম 💝সবাই কেমন আছো 🥀
উপন্যাস টা কেমন হয়ছে জানাবে ওকে। ভালো
হলো বলবে আর খারাপ হলেও বলবে তাহলে আরেকটু ভালো করার চেষ্টা করব।।
আজকের মতো টাটা বায় বায়

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ✅ পর্ব 1:)✅ শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন