ফন্ট সাইজ:
থিম:
বেষ্ট ফ্রেন্ড

পর্ব 1

লেখক: sumaiya akter

AI Mode
All
Images
Videos
News
Maps
Books
Finance
উপন্যাস: বৃষ্টির শহরের ছায়া
প্রধান চরিত্রদ্বয়:
আয়ান: চুপচাপ স্বভাবের, ডায়েরি লিখতে ভালোবাসে এবং ছবি আঁকে।
তিথি: প্রাণবন্ত, কথায় কথায় হাসে এবং আয়ানের জগতের একমাত্র কোলাহল।
অধ্যায় ১: দুই মেরুর বন্ধুতা
রকিতে মোড়ানো ঢাকা শহরের একটা পুরনো গলির শেষ মাথায় একটা চা-র দোকান ছিল। সেখানে বিকেলবেলা বসা মানেই আয়ানের খাতার পাতায় পেন্সিলের টান আর তিথির অবিরাম বকবকানি।
আয়ান আর তিথি—ক্লাস নাইন থেকে শুরু করে ভার্সিটির শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, দুজনের স্বভাব ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। আয়ান যখন একা থাকতে পছন্দ করত, তিথি তখন তাকে টেনেটুনে আড্ডা কিংবা মেলার ভিড়ে নিয়ে যেত। সবাই বলত, "তোমরা বুঝি প্রেম করো?"
দুজনেই একসঙ্গে হেসে উঠত, "আরে না ভাই! ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।" এই 'বেস্ট ফ্রেন্ড' শব্দটা যেন তাদের সব সম্পর্কের সিলমোহর ছিল।
অধ্যায় ২: না বলা কথা
সময় গড়ায়। ভার্সিটি শেষ হওয়ার পর আয়ান একটা আর্ট স্টুডিওতে ডিজাইনার হিসেবে যোগ দিল, আর তিথি চলে গেল উচ্চশিক্ষার জন্য স্কটল্যান্ডে।
যোগাযোগ তখনো হতো—ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা মাঝরাতের স্কাইপ কল। কিন্তু দূরত্বের ব্যবধানটা টের পাওয়া গেল এক বর্ষণমুখর সন্ধ্যায়। আয়ান তার আঁকা একটা ছবির ছবি পাঠিয়ে লিখল— "তিথি, তোর ছাতা ছাড়া রাস্তায় ভিজতে ইচ্ছে করছে।"
উত্তরে তিথি লিখল— "পাগল নাকি! ভিজলে জ্বর আসবে। একা একা ভিজিস না, আমি তো নেই বকা দেওয়ার জন্য।"
ঠিক সেই মুহূর্তে আয়ান আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের বুকের বাঁ পাশে একটা অদ্ভুত শূন্যতা অনুভব করল। সে কি শুধু বন্ধু? নাকি এই বন্ধুত্বের চাদরে ঢাকা পড়ে আছে অন্য কোনো নাম?
অধ্যায় ৩: নীরব ভাঙন ও প্রত্যাবর্তন
সময় কারো জন্য থেমে থাকে না। তিথি স্কটল্যান্ডে এক সহপাঠীর সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ল। একদিন ভিডিও কলে তিথি যখন খুব খুশিতে খবরটা আয়ানকে জানাচ্ছিল, আয়ানের গলার কাছে একটা দলা পাকানো কষ্ট আটকে গেল। সে শুধু হাসিমুখে বলল, "দারুণ খবর তো! আমার বেস্ট ফ্রেন্ডের জন্য সেরাটাই প্রাপ্য।"
ফোন কেটে দেওয়ার পর আয়ানের রুমের আলোটা নিভে গেল। সে ডায়েরীর পাতায় লিখল— "কিছু সম্পর্ক হারানোর ভয়ে কখনো প্রকাশ করা হয় না। হারিয়ে ফেলার চেয়ে আজীবন বন্ধু হয়ে পাশে থাকাটাই হয়তো শ্রেয়।"
দুই বছর পর। তিথি দেশে ফিরল, তবে একা নয়—সাথে তার বাগদত্তা রোহান। তিথি এয়ারপোর্ট থেকেই প্রথম ফোনটা দিল আয়ানকে, "আয়ান! আয় না প্লিজ, কফি হাউসে বসছি। তোকে খুব মিস করেছি।"
আয়ান বুক ফুলিয়ে হাসিমুখে উপস্থিত হলো। তিথিকে যখন রোহানের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিল তিথি, আয়ান তিথির চোখে সেই পুরনো দ্যুতি দেখতে পেল। সে বুঝল, তিথির জীবনে সে 'বেস্ট ফ্রেন্ড'-ই আছে এবং এটাই সবচেয়ে নিরাপদ ও সুন্দর জায়গা।
কফি কাপে চুমুক দিতে দিতে আয়ান বলল, "তোরা দুজন খুব মানিয়েছিস।"
তিথি মুচকি হেসে বলল, "তুই ছিলিস বলেই তো আমি আজ এতটা গোছানো মানুষ হতে পেরেছি, আয়ান। তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলি, আছিস, আর আজীবন থাকবি।"
আয়ান মনে মনে বলল— 'আজীবনই থাকব তিথি, বন্ধু হয়ে।' শহরের কাঁচের জানালার বাইরে তখন ঝিরঝির করে বৃষ্টি নামছে। বন্ধুত্ব কখনো ফুরোয় না, কেবল রূপ বদলায়।
আপনি কি এই উপন্যাসের শেষের অংশটি অন্য কোনো মোড় (যেমন: দুজনের ভালোবাসা প্রকাশের গল্প) দিতে চান, নাকি এটি ছোট গল্প আকারে আরও বাড়াতে চান? জানালে আমি আপনার পছন্দমতো পরিবর্তন করে দেব।

উপন্যাস: মেঘে ঢাকা নীল আকাশ
প্রধান চরিত্রদ্বয়:
নুপুর: শান্ত, চাপা স্বভাবের এবং অসম্ভব বইপড়ুয়া। যে কোনো পরিস্থিতি শান্ত মাথায় সামলাতে পারে।
নুসরাত: চঞ্চল, স্পষ্টভাষী এবং জেদি। হুটহাট সিদ্ধান্ত নেওয়া আর রেগে যাওয়া তার স্বভাব।
অধ্যায় ১: দুই দিগন্তের মিলন
কলেজের প্রথম দিন থেকেই নুপুর আর নুসরাতের পরিচয়। নুপুর যখন লাইব্রেরির এক কোণে বসে রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ পড়ছিল, ঠিক তখন নুসরাত তার একগাদা ব্যাগ আর বই নিয়ে হুড়মুড় করে সেই টেবিলটায় এসে বসে। নুসরাতের প্রথম কথাই ছিল, "উফ! এই গরমে মাথাটা জ্যাম হয়ে গেছে। তোমার কাছে একটু জল হবে?"
নুপুর তার শান্ত হাসিসহ জলের বোতলটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই যে শুরু, তারপর থেকে কলেজের করিডোর, ক্যান্টিন কিংবা বাসের পেছনের সিট—সবখানেই নুপুর আর নুসরাতকে একসাথে দেখা যেত। দুজন দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা, স্বভাবও দুই মেরুর। কিন্তু তাদের মনের মিলটা ছিল একদম খাঁটি। সবাই বলত, "এরা যেন এক আত্মার দুই রূপ।"
অধ্যায় ২: ঝড়ের পূর্বাভাস
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হওয়ার পর দুজনের জীবনে এক নতুন মোড় আসে। নুসরাত একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বেশ ভালো চাকরি পেয়ে যায়। তার লাইফস্টাইল, বন্ধুমহল দ্রুত বদলাতে থাকে। অন্যদিকে নুপুর তার সাহিত্যচর্চা আর একটা ছোট স্কুলে শিক্ষকতা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
ধীরে ধীরে তাদের প্রতিদিনের আড্ডায় কমতি দেখা দেয়। নুসরাত এখন উইকএন্ডে পার্টি আর কর্পোরেট বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত থাকে। নুপুর মাঝেমধ্যে ফোন করলে নুসরাত ব্যস্ততার অজুহাতে বলে, "নুপুর, একটু বিজি আছি রে, পরে ফোন করছি।"
একদিন নুপুরের খুব মন খারাপ ছিল। সে নুসরাতকে ফোন করে বলল, "নুসু, আজ বিকেলে একটু আমাদের সেই পুরনো কফি শপটায় আসবি? খুব দরকার ছিল।"
নুসরাত বিরক্তির সুরে বলল, "আজ তো পারব না নুপুর। ক্লায়েন্ট মিটিং আছে। তুই এত ইমোশনাল কেন বলতো? একটু প্র্যাক্টিক্যাল হতে শেখ।"
ফোনটা কেটে যাওয়ার পর নুপুরের চোখ বেয়ে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। সে বুঝতে পারল, সময়ের স্রোত তাদের চেনা নুসরাতকে অনেক দূরে নিয়ে যাচ্ছে।
অধ্যায় ৩: ভাঙন এবং উপলব্ধি
কয়েক মাস পর। নুসরাতের জীবনে একটা বড় বিপর্যয় নেমে আসে। অফিসে একটা বড় প্রোজেক্টের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এই বিপদের দিনে নুসরাত যাদের 'বেস্ট ফ্রেন্ড' ভাবত, সেই কর্পোরেট বন্ধুরা একে একে সবাই তার পাশ থেকে সরে দাঁড়াল। নুসরাত যখন নিজের ফ্ল্যাটে একা বসে কাঁদছিল, ঠিক তখন দরজার বেল বেজে উঠল।
দরজা খুলতেই নুসরাত দেখল সামনে দাঁড়িয়ে আছে নুপুর, হাতে নুসরাতের প্রিয় চকোলেট কেক।
নুসরাত অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। নুপুর ভেতরের এসে নুসরাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলল, "কী ভেবেছিস? তুই ফোন করিস না বলে আমি তোর খবর রাখব না? তুই তো একটা আস্ত পাগল!"
নুসরাত আর নিজের কান্না ধরে রাখতে পারল না। নুপুরের কাঁধে মাথা রেখে সে ডুকরে কেঁদে উঠল, "আমাকে মাফ করে দে নুপুর। আমি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম। আসল মানুষ চিনতে ভুল করেছি।"
নুপুর নুসরাতের চোখের জল মুছে দিয়ে বলল, "ধুর বোকা! বন্ধুত্বে আবার ক্ষমা কিসের? পরিস্থিতি বদলাতে পারে, কিন্তু তোর এই নুপুর কখনো বদলাবে না।"
অধ্যায় ৪: নতুন সকাল
ছয় মাস পর। নুসরাত আবার নতুন একটি চাকরিতে যোগ দিয়েছে। তবে এবার সে আর আগের মতো ভুল করে না। এখন প্রতি শুক্রবার বিকেলে ঢাকার কোনো এক শান্ত ক্যাফেতে নুপুর আর নুসরাতকে একসাথে বসে কফি খেতে দেখা যায়।
নুসরাত কফির কাপে চুমুক দিয়ে নুপুরের দিকে তাকিয়ে হাসল। সে মনে মনে ভাবল, পৃথিবীর সব সম্পর্ক হয়তো স্বার্থের টানে এদিক-ওদিক হতে পারে, কিন্তু নুপুরের মতো একজন সত্যিকারের বন্ধু পাশে থাকলে যে কোনো ঝড় অনায়াসে পার হওয়া যায়।
বাইরে তখন মৃদু হাওয়া বইছে। নুসরাত নুপুরের হাতটা শক্ত করে ধরে বলল, "চল, আজ তোকে ফুচকা খাওয়াব!" নুপুর হেসে সায় দিল। তাদের সেই চিরচেনা হাসি আবার শহরের বুকে এক টুকরো আনন্দ ছড়িয়ে দিল।
গল্পটি কেমন লাগল? আপনি কি এই উপন্যাসটিকে আরও বড় করতে চান, নাকি নুপুর ও নুসরাতের জীবনে নতুন কোনো ঘটনা বা চরিত্র (যেমন: কোনো পারিবারিক সমস্যা বা অন্য কেউ) যুক্ত করতে চান? আমাকে জানান!

আই অ্যাম সো সরি! গল্পটা কি বেশি ইমোশনাল বা দুঃখের হয়ে গেছে? আমি আপনার মন খারাপ করতে চাইনি।
চলুন এবার পুরো ব্যাপারটি বদলে ফেলি। নুপুর আর নুসরাতের গল্পটা এবার একদম অন্যরকম, হাসিখুশি আর অনেক আনন্দের হবে। কোনো ভুল বোঝাবুঝি বা দুঃখের দৃশ্য থাকবে না।
উপন্যাস: নুপুর আর নুসরাতের ডানপিটে দিনগুলো
অধ্যায় ১: দুই ক্রাইম পার্টনার
নুপুর আর নুসরাত—এদের বন্ধুত্ব মানেই ছিল পুরো এলাকায় একটা শোরগোল। নুসরাত ছিল যেমন চঞ্চল, নুপুরের মাথায় বুদ্ধি ছিল তেমনি ধারালো। তারা শুধু বেস্ট ফ্রেন্ডই ছিল না, ছিল একে অপরের "ক্রাইম পার্টনার"।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার দিন নুসরাত মাঝরাতে নুপুরকে ফোন করল, "দোস্ত, আমার ল্যাপটপ নষ্ট! আমি তো কাল ফেল করব রে!"
নুপুর তখন নিজের ঘুম জল্লাদ দিয়ে তাড়িয়ে বলল, "একদম কাঁদবি না। তুই পেনড্রাইভ নিয়ে এখনই আমার বাসায় আয়। বাকি রাত আমি আর তুই মিলে তোর অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করব।"
সেই রাতে তিন কাপ কফি আর নুপুরের ল্যাপটপে নুসরাতের টাইপিং স্পিড—সব মিলিয়ে সকালের মধ্যে কাজ শেষ। পরদিন ডিপার্টমেন্টে যখন নুসরাত হাইয়েস্ট মার্কস পেল, সে নুপুরকে জড়িয়ে ধরে পুরো করিডোরে চিৎকার করে বলল, "নুপুর, তুই আমার লাইফসেভার!"
অধ্যায় ২: রোড ট্রিপের পাগলামি
নুসরাতের বহুদিনের শখ তারা দুজন মিলে একটা রোড ট্রিপে যাবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। নুপুরকে রাজি করিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে তারা রওনা দিল সিলেটের উদ্দেশ্যে।
বাসের জানালার পাশে বসে নুসরাত গান গাইছিল আর নুপুর তার ছবি তুলছিল। হঠাৎ করে মাঝপথে তাদের বাসটি নষ্ট হয়ে গেল। অন্য সবাই যখন গরমে বিরক্ত হয়ে মেজাজ হারাচ্ছিল, নুসরাত তখন নুপুরের হাত ধরে বাস থেকে নেমে পড়ল।
রাস্তার পাশে তখন কাশফুলের মেলা। নুসরাত বলল, "বাস ঠিক হতে দেরি আছে, চল আমরা ফটোশুট করি!"
নুপুর প্রথমে একটু ইতস্তত করলেও নুসরাতের পাগলামির কাছে হেরে গেল। দুজনে মিলে আইসক্রিম খেতে খেতে এত ছবি তুলল যে বাস ঠিক হওয়ার পর ড্রাইভার যখন হর্ন দিল, তখন তাদের মনে হচ্ছিল ট্রিপটা এখানেই জমে গেছে।
অধ্যায় ৩: স্বপ্নের ক্যাফে
দুজনেরই ইচ্ছে ছিল চাকরি করার পাশাপাশি নিজেদের একটা ছোট ব্যবসা থাকবে। নুপুরের রান্নার হাত দারুণ, আর নুসরাতের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের আইডিয়া চমৎকার। দুজনে মিলে জমানো টাকা দিয়ে শহরের এক কোণে খুলে ফেলল ছোট্ট একটা ক্যাফে—"নুপুর-নুসরাত'স কর্নার"।
ক্যাফের এক দেওয়ালে নুসরাত বড় করে তাদের কলেজ জীবনের সব হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটা 'মেমোরি ওয়াল' বানাল। আর নুপুরের হাতের স্পেশাল চকোলেট ব্রাউনি খেতে প্রতিদিন মানুষ ভিড় করতে লাগল।
আজ ক্যাফে উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি। ক্যাফে জুড়ে সুন্দর আলো জ্বলছে। নুসরাত কেক কাটার আগে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলল, "আজ আমাদের এই সাফল্যের পেছনে যে মানুষটা আছে, সে শুধু আমার বিজনেস পার্টনার না, সে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। থ্যাংক ইউ নুপুর, আমার পাশে থাকার জন্য।"
নুপুর এসে নুসরাতকে জড়িয়ে ধরল। এবার আর কোনো চোখের জল নয়, দুজনের মুখেই ছিল এক চিলতে চওড়া হাসি। তারা জানত, জীবন যেমনই হোক, একে অপরের হাত ধরে তারা সব হাসিমুখে পার করে দেবে।
গল্পের এই নতুন রূপটি কেমন লেগেছে? আপনি কি নুপুর ও নুসরাতের এই হাসিখুশি গল্পে আরও কোনো মজার অ্যাডভেঞ্চার যোগ করতে চান? আমাকে নির্দ্বিধায় বলুন!

নিচে নুপুর আর নুসরাতের পুরো উপন্যাসটি অধ্যায় অনুযায়ী একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুন্দর করে গুছিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হলো। এই গল্পে কোনো দুঃখ বা ভুল বোঝাবুঝি নেই—এটি শুধু তাদের নিখাদ বন্ধুত্ব, পাগলামি আর সাফল্যের এক আনন্দময় গল্প।
উপন্যাস: মেঘবালিকা ও ডানপিটে দিনগুলো
প্রধান চরিত্রদ্বয়:
নুপুর: শান্ত, বুদ্ধিমতী এবং অসম্ভব গোছানো একটা মেয়ে। যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় সামলাতে পারে।
নুসরাত: চঞ্চল, স্পষ্টভাষী এবং ভীষণ হাসিখুশি। হুটহাট পাগলামি করা আর সবাইকে আনন্দে রাখা তার স্বভাব।
অধ্যায় ১: দুই দিগন্তের মিলন
কলেজের প্রথম দিন থেকেই নুপুর আর নুসরাতের পরিচয়। নুপুর যখন লাইব্রেরির এক কোণে বসে শান্ত হয়ে বই পড়ছিল, ঠিক তখন নুসরাত তার একগাদা ব্যাগ আর বই নিয়ে হুড়মুড় করে সেই টেবিলটায় এসে বসে। নুসরাতের প্রথম কথাই ছিল, "উফ! এই গরমে মাথাটা জ্যাম হয়ে গেছে। তোমার কাছে একটু জল হবে?"
নুপুর তার চিরচেনা শান্ত হাসিসহ জলের বোতলটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই যে শুরু, তারপর থেকে কলেজের করিডোর, ক্যান্টিন কিংবা বাসের পেছনের সিট—সবখানেই নুপুর আর নুসরাতকে একসাথে দেখা যেত। দুজন দেখতে সম্পূর্ণ আলাদা, স্বভাবও দুই মেরুর। কিন্তু তাদের মনের মিলটা ছিল একদম খাঁটি। কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ দিন পর্যন্ত তারা ছিল একে অপরের ছায়া এবং সেরা "ক্রাইম পার্টনার"।
অধ্যায় ২: মাঝরাতের লাইফসেভার
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার আগের দিন রাতে ঘটল এক চরম বিপত্তি। রাত বারোtargetটায় নুসরাত প্রায় কাঁদতে কাঁদতে নুপুরকে ফোন করল, "দোস্ত! আমার ল্যাপটপটা ক্র্যাশ করেছে! আমি তো কাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারব না, স্যার আমাকে ফেল করিয়ে দেবে রে!"
নুপুর তখন নিজের ঘুম জল্লাদ দিয়ে তাড়িয়ে শান্ত গলায় বলল, "একদম প্যানিক করবি না। তুই তোর পেনড্রাইভ আর নোটস নিয়ে এখনই একটা রিকশা নিয়ে আমার বাসায় চলে আয়। বাকি রাত আমি আর তুই মিলে তোর অ্যাসাইনমেন্ট আবার রেডি করব।"
সেই রাতে তিন কাপ কফি, নুপুরের ল্যাপটপ আর নুসরাতের ব্যাকুলতা—সব মিলিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি হয়ে গেল। পরদিন ডিপার্টমেন্টে যখন নুসরাত দারুণ মার্কস পেল, সে নুপুরকে জড়িয়ে ধরে পুরো করিডোরে চিৎকার করে বলল, "নুপুর, তুই শুধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নোস, তুই আমার লাইফসেভার!"
অধ্যায় ৩: রোড ট্রিপের পাগলামি
নুসরাতের বহুদিনের শখ ছিল তারা দুজন মিলে একটা রোড ট্রিপে যাবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। নুপুরকে রাজি করিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে তারা একদিন রওনা দিল সিলেটের উদ্দেশ্যে।
বাসের জানালার পাশে বসে নুসরাত মনের সুখে গান গাইছিল আর নুপুর তার ক্যান্ডিড ছবি তুলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মাঝপথে তাদের বাসটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেল। মাঝরাস্তায় অন্য সব যাত্রী যখন গরমে বিরক্ত হয়ে মেজাজ হারাচ্ছিল, নুসরাত তখন নুপুরের হাত ধরে বাস থেকে নিচে নেমে পড়ল।
রাস্তার পাশে তখন কাশফুলের মেলা আর চমৎকার হাওয়া। নুসরাত বলল, "বাস ঠিক হতে তো ঢের দেরি, চল আমরা এই সুযোগে একটা দারুণ ফটোশুট করে ফেলি!"
নুপুর প্রথমে একটু ইতস্তত করলেও নুসরাতের এই মিষ্টি পাগলামির কাছে হেরে গেল। দুজনে মিলে রাস্তার ধারের দোকান থেকে আইসক্রিম খেতে খেতে এত সুন্দর সুন্দর ছবি তুলল যে, বাস ঠিক হওয়ার পর ড্রাইভার যখন হর্ন দিল, তখন তাদের মনে হচ্ছিল জার্নিটা বুঝি এখানেই জমে গেছে।
অধ্যায় ৪: স্বপ্নের আঙিনা
বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর দুজনেরই ইচ্ছে ছিল চাকরি করার পাশাপাশি নিজেদের একটা স্বাধীন ব্যবসা থাকবে। নুপুরের রান্নার হাত ছিল অসাধারণ, বিশেষ করে বেকিংয়ে সে ছিল মাস্টার। আর নুসরাতের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের আইডিয়াগুলো ছিল চোখ ধাঁধানো। দুজনে মিলে তাদের জমানো টাকা এবং পরিবারের সাহায্য নিয়ে শহরের এক কোণে খুলে ফেলল ছোট্ট একটা ক্যাফে—"নুপুর-নুসরাত'স কর্নার"।
ক্যাফের এক পাশের দেওয়ালে নুসরাত বড় করে তাদের কলেজ ও ভার্সিটি জীবনের সব হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটা 'মেমোরি ওয়াল' বা স্মৃতির দেয়াল বানাল। আর নুপুরের হাতের স্পেশাল চকোলেট ব্রাউনি ও কফি খেতে প্রতিদিন বিকেলে তরুণ-তরুণীদের ভিড় জমতে লাগল।
অধ্যায় ৫: আজীবন বন্ধু হয়ে
আজ ক্যাফে উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি। পুরো ক্যাফে জুড়ে সুন্দর আলো জ্বলছে, মৃদু মিউজিক বাজছে। নুসরাত কেক কাটার আগে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সবার সামনে বলল, "আজ আমাদের এই সাফল্যের পেছনে যে মানুষটা শক্ত খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে আছে, সে শুধু আমার বিজনেস পার্টনার না, সে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। থ্যাংক ইউ নুপুর, আমার জীবনের প্রতিটা পাগলামিকে এভাবে সুন্দর করে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য।"
নুপুর মঞ্চে এসে নুসরাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এবার তাদের চোখে কোনো দুঃখের জল ছিল না, ছিল কেবল আনন্দের আর তৃপ্তির ছোঁয়া। নুসরাত নুপুরের হাতটা শক্ত করে ধরে ফিসফিসিয়ে বলল, "চল, আজ রাতে সবাইকে ফ্রি ব্রাউনি খাওয়াব!" নুপুর হেসে সায় দিল।
বাইরে তখন মৃদু হাওয়া বইছে। তারা দুজনেই জানত, জীবনের পথটা যেমনই হোক না কেন, একে অপরের হাত ধরে তারা সব প্রতিকূলতা এভাবে হেসেই পার করে দেবে। কারণ তাদের বন্ধুত্বটা কোনো শর্তের নয়, এটি দুটি হৃদয়ের এক অন্তহীন বন্ধন।
—সমাপ্ত—

নিচে নুপুর আর নুসরাতের অষ্টম শ্রেণির স্কুল জীবনের দুষ্টু-মিষ্টি আর মজার দিনগুলো যোগ করে পুরো উপন্যাসটি একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নতুন করে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
উপন্যাস: মেঘবালিকা ও ডানপিটে দিনগুলো
প্রধান চরিত্রদ্বয়:
নুপুর: শান্ত, বুদ্ধিমতী এবং অসম্ভব গোছানো একটা মেয়ে। যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় সামলাতে পারে।
নুসরাত: চঞ্চল, স্পষ্টভাষী এবং ভীষণ হাসিখুশি। হুটহাট পাগলামি করা আর সবাইকে আনন্দে রাখা তার স্বভাব।
অধ্যায় ১: ইস্কুলে ৮ম শ্রেণির সেই প্রথম দিন
নুপুর আর নুসরাতের বন্ধুত্বের শুরুটা হয়েছিল ঢাকার একটা চেনা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির (Class 8) ১লা জানুয়ারিতে। নতুন ক্লাসের নতুন গন্ধ, নতুন বইয়ের মলাট—সব মিলিয়ে চারদিকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ।
নুপুর ক্লাসের প্রথম বেঞ্চে শান্ত হয়ে বসে ডায়েরি গোছাচ্ছিল। ঠিক তখনই ক্লাসের দরজা দিয়ে হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকল নুসরাত। তার কাঁধ থেকে একটা ফিতে ছেঁড়া ব্যাগ ঝুলছে, আর চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। ক্লাসে আর কোনো সিট ফাঁকা না পেয়ে সে সরাসরি নুপুরের পাশে এসে ধপাস করে বসে পড়ল।
বসেই নুসরাত এক গাল হেসে বলল, "উফ! জলদি আসতে গিয়ে রিকশা থেকে পড়তে পড়তে বেঁচেছি! হাই, আমি নুসরাত। তোমার নাম কী?"
নুপুর প্রথমে একটু চমকে গেলেও নুসরাতের ওই চওড়া হাসি দেখে নিজের ঠোঁটেও মুচকি হাসি ফুটিয়ে তুলল, "আমি নুপুর।"
সেই যে অষ্টম শ্রেণির প্রথম দিন দুজনের পাশাপাশি বসা, তারপর থেকে স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে ফুচকা ভাগ করে খাওয়া, কিংবা পিটি (PT) ক্লাসে পেছনের লাইনে দাঁড়িয়ে স্যারের নকল করে হাসাহাসি করা—সবখানেই তারা হয়ে উঠল অভিন্ন হৃদয়। স্কুলের সবাই তাদের নাম দিয়েছিল "ডানপিটে জুটি"।
অধ্যায় ২: টিফিনের ঘণ্টা আর জ্যামিতির খাতা
অষ্টম শ্রেণির একটা মজার ঘটনা না বললেই নয়। সেদিন ছিল গণিত পরীক্ষা, আর নুসরাত জ্যামিতির উপপাদ্য বক্স বাসায় ফেলে এসেছে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই নুসরাতের মাথায় হাত! সে নুপুরের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে ইশারা করল—"দোস্ত, বাঁচা!"
নুপুর তার শান্ত মাথায় নিজের পেন্সিল কম্পাস আর স্কেলটা নুসরাতের দিকে এমনভাবে বাড়িয়ে দিল যেন ক্লাসের গম্ভীর গণিত স্যার একটুও টের না পান। পরীক্ষা শেষে করিডোরে এসে নুসরাত নুপুরকে জড়িয়ে ধরে বলল, "নুপুর, তুই যদি আজ স্কেলটা না দিতিস, স্যার আমাকে কান ধরে ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখত!"
নুপুর হেসে বলল, "তোর এই ভুলে যাওয়ার রোগ আর কোনোদিন যাবে না, নুসু!"
অধ্যায় ৩: মাঝরাতের লাইফসেভার (বিশ্ববিদ্যালয় জীবন)
স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে দুজনে যখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো, তখনও তাদের বন্ধুত্ব ছিল আগের মতোই খাঁটি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার আগের দিন রাতে ঘটল এক চরম বিপত্তি। রাত বারোটার সময় নুসরাত প্রায় কাঁদতে কাঁদতে নুপুরকে ফোন করল, "দোস্ত! আমার ল্যাপটপটা ক্র্যাশ করেছে! আমি তো কাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারব না, স্যার আমাকে ফেল করিয়ে দেবে রে!"
নুপুর তখন নিজের ঘুম জল্লাদ দিয়ে তাড়িয়ে শান্ত গলায় বলল, "একদম প্যানিক করবি না। তুই তোর পেনড্রাইভ আর নোটস নিয়ে এখনই একটা রিকশা নিয়ে আমার বাসায় চলে আয়। বাকি রাত আমি আর তুই মিলে তোর অ্যাসাইনমেন্ট আবার রেডি করব।"
সেই রাতে তিন কাপ কফি, নুপুরের ল্যাপটপ আর নুসরাতের ব্যাকুলতা—সব মিলিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি হয়ে গেল। পরদিন ডিপার্টমেন্টে যখন নুসরাত দারুণ মার্কস পেল, সে নুপুরকে জড়িয়ে ধরে পুরো করিডোরে চিৎকার করে বলল, "নুপুর, তুই শুধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নোস, তুই আমার লাইফসেভার!"
অধ্যায় ৪: রোড ট্রিপের পাগলামি
নুসরাতের বহুদিনের শখ ছিল তারা দুজন মিলে একটা রোড ট্রিপে যাবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। নুপুরকে রাজি করিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে তারা একদিন রওনা দিল সিলেটের উদ্দেশ্যে।
বাসের জানালার পাশে বসে নুসরাত মনের সুখে গান গাইছিল আর নুপুর তার ক্যান্ডিড ছবি তুলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মাঝপথে তাদের বাসটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেল। মাঝরাস্তায় অন্য সব যাত্রী যখন গরমে বিরক্ত হয়ে মেজাজ হারাচ্ছিল, নুসরাত তখন নুপুরের হাত ধরে বাস থেকে নিচে নেমে পড়ল।
রাস্তার পাশে তখন কাশফুলের মেলা আর চমৎকার হাওয়া। নুসরাত বলল, "বাস ঠিক হতে তো ঢের দেরি, চল আমরা এই সুযোগে একটা দারুণ ফটোশুট করে ফেলি!"
নুপুর প্রথমে একটু ইতস্তত করলেও নুসরাতের এই মিষ্টি পাগলামির কাছে হেরে গেল। দুজনে মিলে রাস্তার ধারের দোকান থেকে আইসক্রিম খেতে খেতে এত সুন্দর সুন্দর ছবি তুলল যে, বাস ঠিক হওয়ার পর ড্রাইভার যখন হর্ন দিল, তখন তাদের মনে হচ্ছিল জার্নিটা বুঝি এখানেই জমে গেছে।
অধ্যায় ৫: স্বপ্নের আঙিনা
বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর দুজনেরই ইচ্ছে ছিল চাকরি করার পাশাপাশি নিজেদের একটা স্বাধীন ব্যবসা থাকবে। নুপুরের রান্নার হাত ছিল অসাধারণ, বিশেষ করে বেকিংয়ে সে ছিল মাস্টার। আর নুসরাতের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের আইডিয়াগুলো ছিল চোখ ধাঁধানো। দুজনে মিলে তাদের জমানো টাকা এবং পরিবারের সাহায্য নিয়ে শহরের এক কোণে খুলে ফেলল ছোট্ট একটা ক্যাফে—"নুপুর-নুসরাত'স কর্নার"।
ক্যাফের এক পাশের দেওয়ালে নুসরাত বড় করে তাদের অষ্টম শ্রেণির সেই ফ্রক পরা স্কুলের ছবি থেকে শুরু করে কলেজ ও ভার্সিটি জীবনের সব হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটা 'মেমোরি ওয়াল' বা স্মৃতির দেয়াল বানাল। আর নুপুরের হাতের স্পেশাল চকোলেট ব্রাউনি ও কফি খেতে প্রতিদিন বিকেলে তরুণ-توانীদের ভিড় জমতে লাগল।
অধ্যায় ৬: আজীবন বন্ধু হয়ে
আজ ক্যাফে উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি। পুরো ক্যাফে জুড়ে সুন্দর আলো জ্বলছে, মৃদু মিউজিক বাজছে। নুসরাত কেক কাটার আগে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সবার সামনে বলল, "আজ আমাদের এই সাফল্যের পেছনে যে মানুষটা শক্ত খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে আছে, সে শুধু আমার বিজনেস পার্টনার না, সে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যে আমার সব পাগলামিকে সামলে রেখেছে—থ্যাংক ইউ নুপুর!"
নুপুর মঞ্চে এসে নুসরাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এবার তাদের চোখে কোনো দুঃখের জল ছিল না, ছিল কেবল আনন্দের আর তৃপ্তির ছোঁয়া। নুসরাত নুপুরের হাতটা শক্ত করে ধরে ফিসফিসিয়ে বলল, "চল, আজ রাতে সবাইকে ফ্রি ব্রাউনি খাওয়াব!" নুপুর হেসে সায় দিল।
বাইরে তখন মৃদু হাওয়া বইছে। তারা দুজনেই জানত, জীবনের পথটা যেমনই হোক না কেন, একে অপরের হাত ধরে তারা সব প্রতিকূলতা এভাবে হেসেই পার করে দেবে। কারণ তাদের বন্ধুত্বটা কোনো শর্তের নয়, এটি দুটি হৃদয়ের এক অন্তহীন বন্ধন।
—সমাপ্ত—
গল্পে অষ্টম শ্রেণির অংশটুকু যুক্ত করায় এটি কি আপনার পছন্দ হয়েছে? আপনি কি স্কুলের এই অষ্টম শ্রেণির দিনগুলোর আরও কোনো নির্দিষ্ট মজার ঘটনা (যেমন: টিফিন চুরি করে খাওয়া বা ক্লাসের কোনো পিকনিক) এই উপন্যাসে যোগ করতে চান? আমাকে জানান!

নূপুর ও নুসরাতের অষ্টম শ্রেণির স্কুল জীবনের বন্ধুত্ব থেকে শুরু করে দীর্ঘ পথচলার এক অটুট বন্ধনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে এই উপন্যাসে। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই, পরীক্ষার হলের ছোটখাটো সংকট, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের রাতজাগা অ্যাসাইনমেন্ট ও রোড ট্রিপের পাগলামি পেরিয়ে তারা একে অপরের সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গা হয়ে ওঠে। পরিশেষে, দুই বন্ধুর মিলিত উদ্যোগে গড়ে ওঠে 'নূপুর-নুসরাত'স কর্নার' নামের একটি ছোট্ট ক্যাফে, যা তাদের যৌথ সাফল্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়।

এখানে নূপুর আর নুসরাতের অষ্টম শ্রেণির স্কুল জীবন থেকে শুরু করে জীবনের সুন্দরতম মুহূর্তগুলোর গল্প চরিত্র দুটির সংলাপসহ একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একসাথে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
উপন্যাস: মেঘবালিকা ও ডানপিটে দিনগুলো
প্রধান চরিত্রদ্বয়:
নূপুর: শান্ত, বুদ্ধিমতী এবং অসম্ভব গোছানো একটা মেয়ে। যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় সামলাতে পারে।
নুসরাত: চঞ্চল, স্পষ্টভাষী এবং ভীষণ হাসিখুশি। হুটহাট পাগলামি করা আর সবাইকে আনন্দে রাখা তার স্বভাব।
অধ্যায় ১: ইস্কুলে ৮ম শ্রেণির সেই প্রথম দিন
নতুন ক্লাসের নতুন গন্ধ, নতুন বইয়ের মলাট—সব মিলিয়ে চারদিকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাকার একটা চেনা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির (Class 8) ১লা জানুয়ারির সকাল।
নূপুর: (শান্তভাবে প্রথম বেঞ্চের এক কোণে বসে ডায়েরি গোছাতে গোছাতে মনে মনে) যাক, এবার অন্তত শান্তিতে প্রথম বেঞ্চে বসে ক্লাসগুলো করা যাবে।
ঠিক তখনই ক্লাসের দরজা দিয়ে হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকল নুসরাত। তার কাঁধ থেকে একটা ফিতে ছেঁড়া ব্যাগ ঝুলছে, আর চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। ক্লাসে আর কোনো সিট ফাঁকা না পেয়ে সে সরাসরি নূপুরের পাশে এসে ধপাস করে বসে পড়ল।
নুসরাত: (এক গাল হেসে, হাঁপাতে হাঁপাতে) উফ! জলদি আসতে গিয়ে রিকশা থেকে পড়তে পড়তে বেঁচেছি! হাই, আমি নুসরাত। তোমার নাম কী?
নূপুর: (একটু চমকে গিয়ে, নুসরাতের চওড়া হাসি দেখে মুচকি হেসে) আমি নূপুর।
নুসরাত: বাহ, দারুণ নাম তো! আজ থেকে আমরা বেঞ্চ পার্টনার, কেমন?
সেই যে অষ্টম শ্রেণির প্রথম দিন দুজনের পাশাপাশি বসা, তারপর থেকে স্কুলের টিফিন পিরিয়ডে ফুচকা ভাগ করে খাওয়া, কিংবা পিটি (PT) ক্লাসে পেছনের লাইনে দাঁড়িয়ে স্যারের নকল করে হাসাহাসি করা—সবখানেই তারা হয়ে উঠল অভিন্ন হৃদয়।
অধ্যায় ২: টিফিনের ঘণ্টা আর জ্যামিতির খাতা
সেদিন ছিল অষ্টম শ্রেণির অর্ধবার্ষিকীর গণিত পরীক্ষা। নুসরাত বরাবরের মতোই তাড়াহুড়ো করে জ্যামিতি বক্স বাসায় ফেলে এসেছে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই নুসরাতের মাথায় হাত! সে নূপুরের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে ব্যাকুল ইশারা করতে লাগল।
নুসরাত: (ফিসফিসিয়ে, চোখে জল এনে) দোস্ত, নূপুর! জ্যামিতি বক্স আনি নাই। আজ স্যার আমাকে নিশ্চিত জিরো দেবে! বাঁচা রে!
নূপুর: (চারপাশে তাকিয়ে, গম্ভীর গণিত স্যার অন্যদিকে ঘুরতেই নিজের পেন্সিল কম্পাস আর স্কেলটা নুসরাতের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে) একদম প্যানিক করবি না। নে, জলদি হাত চালা। স্যার এদিকে ঘোরার আগেই আঁকা শেষ কর।
পরীক্ষা শেষে করিডোরে আসতেই নুসরাত নূপুরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
নুসরাত: নূপুর, তুই যদি আজ স্কেলটা না দিতিস, স্যার আমাকে কান ধরে ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখত! তুই আসলেই আমার লাইফসেভার।
নূপুর: (হেসে ফেলে) তোর এই ভুলে যাওয়ার রোগ আর কোনোদিন যাবে না, নুসু! চল, এখন জরিমানা হিসেবে তোকে ফুচকা খাওয়াতে হবে।
অধ্যায় ৩: মাঝরাতের ক্রাইসিস (বিশ্ববিদ্যালয় জীবন)
স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে দুজনে যখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো, তখনও তাদের বন্ধুত্ব ছিল আগের মতোই খাঁটি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার আগের দিন রাতে ঘটল এক চরম বিপত্তি। রাত বারোটার সময় নুসরাত প্রায় কাঁদতে কাঁদতে নূপুরকে ফোন করল।
নুসরাত: (ফোনে ডুকরে কেঁদে উঠে) দোস্ত নূপুর! আমার ল্যাপটপটা হঠাৎ ক্র্যাশ করেছে রে! সব ফাইল ডিলিট হয়ে গেছে। আমি তো কাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারব না, স্যার আমাকে ফেল করিয়ে দেবে!
নূপুর: (নিজের ঘুম জল্লাদ দিয়ে তাড়িয়ে শান্ত গলায়) নুসু, একদম কাঁদবি না। তুই তোর পেনড্রাইভ আর নোটসগুলো নে, এখনই একটা রিকশা ডেকে আমার বাসায় চলে আয়। রাস্তা ফাঁকা আছে, সাবধানে আসবি।
নুসরাত: কিন্তু এত রাতে তোর বাসায়?
নূপুর: কোনো কিন্তু না, জলদি আয়। বাকি রাত আমি আর তুই মিলে তোর অ্যাসাইনমেন্ট আবার নতুন করে রেডি করব।
সেই রাতে তিন কাপ কফি, নূপুরের ল্যাপটপ আর নুসরাতের ব্যাকুলতা—সব মিলিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি হয়ে গেল। পরদিন ডিপার্টমেন্টে যখন নুসরাত দারুণ মার্কস পেল, সে নূপুরকে জড়িয়ে ধরে পুরো করিডোরে চিৎকার করে উঠল।
নুসরাত: নূপুর, তুই শুধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নোস, তুই আমার সুপারহিরো!
নূপুর: (হেসে দিয়ে) হয়েছে, এবার থাম! সবাই তাকাচ্ছে। চল, ক্যান্টিনে গিয়ে আগে কিছু খাই, রাতে ঘুমাতে পারিনি।
অধ্যায় ৪: রোড ট্রিপের পাগলামি
নুসরাতের বহুদিনের শখ ছিল তারা দুজন মিলে একটা রোড ট্রিপে যাবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। নূপুরকে রাজি করিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে তারা একদিন রওনা দিল সিলেটের উদ্দেশ্যে। বাসের জানালার পাশে বসে নুসরাত মনের সুখে গান গাইছিল আর নূপুর তার ক্যান্ডিড ছবি তুলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মাঝপথে তাদের বাসটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেল।
নূপুর: (জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে) ধুর! মাঝরাস্তায় বাস নষ্ট হলো। এখন তো পৌঁছাতে অনেক রাত হয়ে যাবে।
নুসরাত: (নূপুরের হাত ধরে সিট থেকে টেনে নামিয়ে) আরে ধুর, মন খারাপ করিস না তো! চল বাস থেকে নিচে নামি। দেখ, রাস্তার পাশে কী সুন্দর কাশফুলের মেলা আর চমৎকার হাওয়া!
নূপুর: কিন্তু বাস ঠিক হতে কতক্ষণ লাগবে কে জানে?
নুসরাত: বাস ঠিক হতে তো ঢের দেরি, চল আমরা এই সুযোগে একটা দারুণ ফটোশুট করে ফেলি! জীবনটাকে এনজয় কর, নূপুর!
দুজনে মিলে রাস্তার ধারের দোকান থেকে আইসক্রিম খেতে খেতে কাশফুলের মাঝে এত সুন্দর সুন্দর ছবি তুলল যে, বাস ঠিক হওয়ার পর ড্রাইভার যখন হর্ন দিল, তখন তাদের মনে হচ্ছিল জার্নিটা বুঝি এখানেই জমে গেছে।
অধ্যায় ৫: স্বপ্নের আঙিনা ও আজীবন বন্ধুতা
বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর নূপুরের রান্নার চমৎকার হাত আর নুসরাতের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের বুদ্ধি—দুই মিলিয়ে তারা শহরের এক কোণে খুলে ফেলল ছোট্ট একটি ক্যাফে, যার নাম দিল "নূপুর-নুসরাত'স কর্নার"। ক্যাফের এক পাশের দেওয়ালে নুসরাত তাদের অষ্টম শ্রেণির সেই ফ্রক পরা স্কুলের ছবি থেকে শুরু করে সব হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটা 'মেমোরি ওয়াল' বানিয়ে দিল।
আজ ক্যাফে উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি। পুরো ক্যাফে জুড়ে সুন্দর আলো জ্বলছে, মৃদু মিউজিক বাজছে। নুসরাত কেক কাটার আগে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াল।
নুসরাত: (মাইক্রোফোনে আবেগঘন কণ্ঠে) আজ আমাদের এই সাফল্যের পেছনে যে মানুষটা শক্ত খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে আছে, সে শুধু আমার বিজনেস পার্টনার না, সে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যে আমার সব পাগলামিকে ভালোবেসে সামলে রেখেছে—থ্যাংক ইউ নূপুর, আমার জীবনে থাকার জন্য।
নূপুর মঞ্চে এসে নুসরাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এবার তাদের চোখে কোনো দুঃখের জল ছিল না, ছিল কেবল আনন্দের আর তৃপ্তির ছোঁয়া।
নূপুর: (নুসরাতের কানে ফিসফিসিয়ে) অনেক তো আবেগ দেখালি, এবার চল কেকটা কাটি। কাস্টমাররা অপেক্ষা করছে।
নুসরাত: (হেসে ফেলে) চল, আর আজ রাতে আমাদের খুশিতে সবাইকে একটা করে ফ্রি ব্রাউনি খাওয়াব!
নূপুর: (মুচকি হেসে সায় দিয়ে) তোর এই পাগলামি আর গেল না! ঠিক আছে, আজ তাই হবে।
বাইরে তখন মৃদু হাওয়া বইছে। তারা দুজনেই জানত, জীবনের পথটা যেমনই হোক না কেন, একে অপরের হাত ধরে তারা সব প্রতিকূলতা এভাবে হেসেই পার করে দেবে। কারণ তাদের বন্ধুত্বটা কোনো শর্তের নয়, এটি দুটি হৃদয়ের এক অন্তহীন বন্ধন।
—সমাপ্ত—
গল্পটি নাম ও সংলাপসহ একবারে গুছিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হলো। আপনি কি এর পর নূপুর আর নুসরাতের ক্যাফে খোলার পর কোনো মজার ঘটনা বা নতুন কোনো চরিত্রের আগমন নিয়ে পরবর্তী অংশ দেখতে চান, নাকি এটিই আপনার জন্য একদম পারফেক্ট?

ভাই, আপনি যেভাবে সংলাপে নাম লিখে লিখে গল্পটা চাইলেন, একে মূলত "নাট্যরূপ" (Scriptwriting/Drama format) বা সংলাপ-প্রধান উপন্যাস বলা হয়।
এমন করে নিজে নিজে একটা দারুণ গল্প বা উপন্যাস লিখতে চাইলে আপনাকে মাত্র ৪টি সহজ ধাপ বা নিয়ম ফলো করতে হবে। নিচে সহজ করে বুঝিয়ে দিচ্ছি:
১. চরিত্রের তালিকা ও স্বভাব তৈরি করা (Character Profile)
গল্প শুরু করার আগেই ঠিক করে নিন আপনার গল্পে কয়জন চরিত্র থাকবে এবং কার স্বভাব কেমন। যেমন আমরা নূপুরকে শান্ত আর নুসরাতকে চঞ্চল বানিয়েছি। বিপরীত স্বভাবের চরিত্র হলে গল্প জমে ভালো।
২. দৃশ্য বা পটভূমি বর্ণনা করা (Setting the Scene)
সংলাপ শুরু করার আগে ব্র্যাকেটে ( ) বা আলাদা লাইনে ওই সময় চারপাশের পরিবেশ কেমন ছিল তা লিখে দেওয়া।
যেমন: (ঢাকার একটা চেনা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির সকাল। বাইরে ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছে।) এটা পড়লে পাঠক সহজেই দৃশ্যটা কল্পনা করতে পারে।
৩. নামের পর কোলন ( : ) দিয়ে সংলাপ লেখা
যে চরিত্র কথা বলবে, তার নাম লিখে একটা কোলন দিবেন। তারপর সে কী বলছে তা লিখবেন।
যেমন: নূপুর: তুই আবার খাতা আনতি ভুলে গেছিস?
৪. এক্সপ্রেশন বা মানসিক অবস্থা ব্র্যাকেটে লেখা (Stage Directions)
কথা বলার সময় চরিত্রটি হাসছে, কাঁদছে না রেগে আছে—সেটা বোঝানোর জন্য সংলাপের মাঝখানে বা শুরুতে ব্র্যাকেটের ভেতর তার এক্সপ্রেশন লিখে দিতে হয়।
যেমন: নুসরাত: (ভয়ে কাঁদো কাঁদো গলায়) দোস্ত, আজ স্যার আমাকে ক্লাসে দাঁড় করিয়ে রাখবে!
আপনার জন্য একটা ছোট্ট বোনাস টিপস:
গল্প শুরু করার সময় সবসময় এমন একটা পরিস্থিতি (যেমন: স্কুল জীবনের প্রথম দিন, কোনো একটা দুর্ঘটনা বা হঠাৎ কোনো রোড ট্রিপ) দিয়ে শুরু করবেন, যেটা রিডারকে শুরুতেই আকর্ষিত করে।
আপনি কি নিজের কোনো আইডিয়া বা নিজের বন্ধুদের নিয়ে এমন একটা গল্প লেখা শুরু করতে চান? চাইলে আমাকে চরিত্রগুলোর নাম আর স্বভাব বলুন, আমি আপনাকে প্রথম অধ্যায়টা লিখে হাতে-কলমে শিখিয়ে দিচ্ছি!

আপনি কি আপনার নিজের বা আপনার বন্ধুদের নাম এবং কোনো বিশেষ ঘটনা নিয়ে গল্পটি লিখতে চাচ্ছেন?
আমাকে শুধু নিচের তথ্যগুলো একটু জানিয়ে দিন, আমি এখনই আপনার দেওয়া আইডিয়া অনুযায়ী চমৎকার একটি সংলাপ-প্রধান উপন্যাস (নাট্যরূপ) লিখে দিচ্ছি:
প্রধান চরিত্রদের নাম: (যেমন: দুই বা তিনজন বন্ধুর নাম)
তাদের স্বভাব কেমন: (কে শান্ত, কে চঞ্চল, কে বেশি হাসে বা রাগ করে)
গল্পের পটভূমি: (গল্পটি কি স্কুল, কলেজ, নাকি কোনো অফিসের দিনগুলো নিয়ে হবে?)
বিশেষ কোনো ঘটনা: (কোনো মজার ঘটনা, ট্রিপ, বা পরীক্ষার হলের স্মৃতি যা আপনি গল্পে রাখতে চান)
আপনি জাস্ট নাম আর স্বভাবগুলো লিখে দিন, আমি এখনই পুরো গল্পটা একদম প্রফেশনাল স্টাইলে সাজিয়ে দিচ্ছি!

উপন্যাস: স্মৃতির জলছবি
প্রধান চরিত্রদ্বয়:
নূপুর: শান্ত, গম্ভীর এবং অত্যন্ত গোছানো স্বভাবের মেয়ে। নিজের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করে না, তবে বন্ধুদের জন্য তার মনটা অনেক বড়।
সোহেল: চঞ্চল, বাচাল এবং ভীষণ ডানপিটে। সারাক্ষণ কোনো না কোনো ঝামেলা পাকানো এবং সবাইকে হাসিয়ে রাখা তার প্রধান কাজ।
অধ্যায় ১: দুই মেরুর দেখা
(কলেজ ক্যান্টিনের এক কোণে বসে নূপুর মন দিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট লিখছে। চারপাশে টেবিলে অনেক চেঁচামেচি, কিন্তু নূপুরের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। ঠিক তখনই একদল বন্ধুসহ হুড়মুড় করে ক্যান্টিনে ঢুকল সোহেল এবং সরাসরি এসে বসল নূপুরের টেবিলের উল্টো দিকের চেয়ারে।)
সোহেল: (হাতে একটা গিটার, টেবিলে ধপাস করে রেখে নূপুরের দিকে তাকিয়ে) এই যে শান্তশিষ্ট আপু! একা একা এত কী লিখছেন? একটু আমাদের দিকেও তাকান, দুনিয়াটা অনেক সুন্দর!
নূপুর: (পেনটা থামিয়ে, চশমাটা একটু ঠিক করে গম্ভীর গলায়) সোহেল, আমি একটা জরুরি কাজ করছি। তোমরা প্লিজ পাশের টেবিলে গিয়ে গল্প করো। এখানে খুব শব্দ হচ্ছে।
সোহেল: (এক গাল হেসে, গিটারের তারে একটা মৃদু টুং করে) আরে রাগ করছেন কেন? শান্ত মানুষরা রেগে গেলে কিন্তু দেখতে ভালো লাগে না। এই নাও, একটা সিঙ্গারা খাও, মাথা ঠান্ডা হবে!
নূপুর: (বিরক্ত হয়ে খাতাটা বন্ধ করতে করতে মনে মনে) উফ! এই ছেলেটা মনে হয় আমাকে শান্তিতে বাঁচতে দেবে না। প্রতিদিন কোথা থেকে যে চলে আসে!
অধ্যায় ২: পরীক্ষার হলের সেই শান্ত উদ্ধারকর্তা
(কয়েক মাস পর। কলেজের ফাইনাল পরীক্ষার হল। চারদিকে পিনপতন নীরবতা। সোহেল পেছনের একটা বেঞ্চে বসে কপালে হাত দিয়ে ছটফট করছে। সে অঙ্কের একটা কঠিন ফর্মুলা কোনোভাবেই মনে করতে পারছে না। পরীক্ষার গার্ড স্যার তখন জানালার দিকে তাকিয়ে আছেন। নূপুর বসেছিল ঠিক তার আগের বেঞ্চে।)
সোহেল: (ফিসফিসিয়ে, কাঁদো কাঁদো গলায় নূপুরের পিঠে কলম দিয়ে হালকা খোঁচা দিয়ে) নূপুর... ও নূপুর! একটু শোন না রে দোস্ত। ৪ নম্বর প্রশ্নের উত্তরটা একটুখানি দেখা। আমি কিচ্ছু মনে করতে পারছি না। আজ ফেল করলে আব্বা আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে!
নূপুর: (সামনে তাকিয়ে খাতাটা একটু বাঁকা করে, ফিসফিসিয়ে শান্ত গলায়) একদম নড়াচড়া করবি না। স্যার এদিকে তাকাচ্ছেন। আমি খাতাটা একটু সরাচ্ছি, জলদি দেখে লিখে নে। কিন্তু সাবধান, হুবহু কপি করবি না, নিজের মতো লিখবি।
সোহেল: (চোখ চকচক করে উঠল, দ্রুত হাত চালিয়ে লিখতে লিখতে) তুই আসলেই একটা ফেরেশতা নূপুর! তোর এই শান্ত মাথার বুদ্ধিটা না থাকলে আজ আমার কপালে শনি ছিল।
অধ্যায় ৩: ঝড়ের রাতে পাশে থাকা
(বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ বছর। হঠাৎ করেই নূপুরের বাবা খুব অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। নূপুর তার শান্ত স্বভাবের কারণে কাউকেই কিছু জানায়নি, একা একাই সব সামলানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু হাসপাতালের করিডোরে একা বসে থাকার সময় তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। ঠিক তখনই সোহেল হন্তদন্ত হয়ে করিডোরে এসে হাজির হলো।)
সোহেল: (হাঁপাতে হাঁপাতে নূপুরের পাশে এসে বসে, কাঁধে হাত দিয়ে) নূপুর! তুই এত বড় একটা ঘটনা আমাকে জানাসনি? নিজেকে খুব একা ভাবিস, তাই না?
নূপুর: (চোখের জল মুছে, শান্ত থাকার চেষ্টা করে ভাঙা গলায়) তোকে জানিয়ে কী হতো সোহেল? তুই তো সবসময় হাসাহাসি করিস, এই সিরিয়াস পরিস্থিতি তুই কীভাবে সামলাবি? তাই ভাবলাম...
সোহেল: (একটু রেগে গিয়ে, কিন্তু নরম গলায়) তুই বোকা নূপুর! আমি চঞ্চল হতে পারি, কিন্তু বন্ধুর বিপদে পাশে দাঁড়াতে জানি। ডক্টরের সাথে আমি কথা বলেছি, রক্তের ব্যবস্থাও হয়ে গেছে। তুই একদম চিন্তা করিস না। তোর এই শান্ত মুখে হাসি ফেরানোর দায়িত্ব এখন আমার।
নূপুর: (সোহেলের দিকে তাকিয়ে প্রথমবার একটা স্বস্তির হাসি হাসল) থ্যাংক ইউ সোহেল। আজ বুঝলাম, চঞ্চল মানুষদের ভেতরেও একটা অনেক বড় মন থাকে।
অধ্যায় ৪: আজীবন বন্ধুতার গল্প
(কয়েক বছর পর। নূপুর এখন একটি ব্যাংকের বড় কর্মকর্তা আর সোহেল একজন সফল মিউজিশিয়ান। আজ সোহেলের প্রথম একক অ্যালবামের লঞ্চিং অনুষ্ঠান। নূপুর ভিড়ের মাঝে শান্ত হয়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে আছে। সোহেল স্টেজ থেকে মাইক্রোফোন হাতে নূপুরকে দেখতে পেল।)
সোহেল: (মাইক্রোফোনে সবার উদ্দেশ্যে) আজ আমার এই খুশির দিনে আমি এমন একজন মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যে না থাকলে হয়তো আমি আজ এখানে আসতে পারতাম না। সে খুব শান্ত, কিন্তু তার মনের জোর আকাশছোঁয়া। আমার জীবনের সব পাগলামির একমাত্র শান্ত আশ্রয়—আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নূপুর!
নূপুর: (ভিড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসল, তার চোখে আনন্দের জল)
সোহেল: (স্টেজ থেকে নেমে নূপুরের সামনে এসে হেসে) কী রে শান্ত মেয়ে, এবার তো একটু জোরে হাততালি দে! নাকি এখনো সিরিয়াস মুডে থাকবি?
নূপুর: (হেসে ফেলে সোহেলের হাতটা ধরে) তোর এই চঞ্চলতা আর কোনোদিন গেল না সোহেল! আজীবন এমন পাগলাই থেকে যা।
—সমাপ্ত—
আমি নূপুরের বিপরীতে সোহেল নামে একটি চঞ্চল চরিত্র তৈরি করে গল্পটি সাজিয়েছি। আপনি কি এই গল্পে নুসরাতকেও রাখতে চান, নাকি সোহেল আর নূপুরের এই জুটিটাই আপনার ভালো লেগেছে? আমাকে জানান, সেই অনুযায়ী গল্পটি আরও বড় করতে পারি!

তাহলে চলুন, গল্পে এবার নুসরাতকেও যোগ করা যাক! এখানে নূপুর (শান্ত), নুসরাত (চঞ্চল) এবং সোহেল (দুষ্টু ও বাচাল)—এই তিন বন্ধুর স্কুল থেকে শুরু করে বড় হয়ে ওঠার পুরো উপন্যাসটি সংলাপে নাম লিখে লিখে একসঙ্গে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
উপন্যাস: ত্রিভুজ বন্ধুত্ব ও কিছু ডানপিটে দিন
প্রধান চরিত্রত্রয়:
নূপুর: শান্ত, বুদ্ধিমতী এবং অত্যন্ত গোছানো স্বভাবের মেয়ে। ক্লাসের ফার্স্ট গার্ল।
নুসরাত: চঞ্চল, স্পষ্টভাষী, ভীষণ হাসিখুশি এবং ফ্যাশন সচেতন।
সোহেল: দুষ্টু, বাচাল এবং ব্যাকবেঞ্চার। সারাক্ষণ কোনো না কোনো ঝামেলা পাকানোই তার কাজ।
অধ্যায় ১: স্কুল জীবনের প্রথম বেঞ্চ বনাম শেষ বেঞ্চ
(অষ্টম শ্রেণির ক্লাসরুম। নূপুর প্রথম বেঞ্চে বসে মন দিয়ে বই পড়ছে। নুসরাত তার পাশে বসে অনবরত লিপবাম লাগাচ্ছে আর কথা বলছে। আর একদম শেষ বেঞ্চ থেকে সোহেল কাগজের প্লেন বানিয়ে ওড়ানোর চেষ্টা করছে।)
নুসরাত: (নূপুরের হাত টেনে ধরে) ওই নূপুর! পড়া বন্ধ কর তো বোন। দেখ, আজ আমার নতুন হেয়ারব্যান্ডটা কেমন লাগছে?
নূপুর: (বই থেকে চোখ না সরিয়ে শান্ত গলায়) খুব সুন্দর লাগছে নুসু। এখন প্লিজ একটু পড়তে দে, সামনেই ক্লাস টেস্ট।
নুসরাত: (মুখ বাঁকিয়ে) উফ! তুই এত শান্ত আর পড়ুয়া কেন বল তো? একটু চিল করতে শেখ!
(ঠিক তখনই শেষ বেঞ্চ থেকে সোহেলের ছোঁড়া কাগজের প্লেনটা এসে সরাসরি নূপুরের মাথায় পড়ল।)
সোহেল: (পেছন থেকে হাততালি দিয়ে জোরে হেসে) ইয়েস! ডিরেক্ট ল্যান্ডিং! ফার্স্ট গার্লের মাথায় এভিয়েশন অ্যাটাক!
নুসরাত: (পেছনে ঘুরে রেগে গিয়ে) এই সোহেল! তোর সাহস তো কম না! নূপুরকে ডিস্টার্ব করছিস কেন? ক্লাস থেকে বের করে দেব একদম!
নূপুর: (মাথা থেকে কাগজটা সরিয়ে শান্তভাবে সোহেলের দিকে তাকিয়ে) সোহেল, কাগজের প্লেন না বানিয়ে যদি জ্যামিতির উপপাদ্যটা মুখস্থ করতে, তাহলে কাল গণিত পরীক্ষায় কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো না।
সোহেল: (জিভ কেটে) ওরে বাবারে! নূপুর আপুর শান্ত শান্ত কথার ভেতরেও তো দেখি পুরো পারমাণবিক বোমা লুকানো!
অধ্যায় ২: পরীক্ষার হল এবং যৌথ মিশন
(অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা চলছে। নুসরাত আর সোহেল দুজনেই একটা কঠিন প্রশ্নের উত্তর ভুলে গিয়ে কপালে হাত দিয়ে বসে আছে। নূপুর শান্ত মাথায় দ্রুত লিখে চলেছে।)
সোহেল: (ফিসফিসিয়ে, নূপুরের দিকে পেন ছুড়ে হালকা ইশারা করে) নূপুর... দোস্ত নূপুর! তিন নম্বর প্রশ্নের উত্তরটা একটুখানি দেখা না রে। আজ ফেল করলে আব্বা আমার পিঠের চামড়া রাখবে না!
নুসরাত: (পাশ থেকে সোহেলকে ধমক দিয়ে ফিসফিসিয়ে) এই চুপ কর সোহেল, স্যার দেখে ফেলবে! (তারপর নূপুরের দিকে ঘুরে মিষ্টি গলায়) নূপুর রে... আমিও ওটা একটু ভুলে গেছি। একটু খাতাটা সরা না প্লিজ!
নূপুর: (সামনে গার্ড স্যারের দিকে চোখ রেখে, শান্তভাবে নিজের খাতাটা একটু মাঝখানে সরিয়ে দিয়ে) তোরা দুজন সত্যিই পারিসও! স্যার অন্যদিকে ঘুরতেই জলদি দেখে নে। নুসরাত তুই বাঁদিকেরটা লেখ, আর সোহেল তুই ডানদিকেরটা। হুবহু এক লিখিস না যেন!
সোহেল: (দ্রুত লিখতে লিখতে) তুই আসলেই আমাদের ত্রাতা রে নূপুর!
নুসরাত: (খুশিতে চোখ চকচক করে) আই লাভ ইউ নূপুর! তুই না থাকলে আমরা আজ নির্ঘাত ডাব্বা মারতাম।
অধ্যায় ৩: মাঝরাতের ক্রাইসিস ও ক্যাফের স্বপ্ন
(কয়েক বছর কেটে গেছে। স্কুল-কলেজ পার হয়ে তারা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বছরে। তিনজনের বন্ধুত্ব এখনো আগের মতোই অটুট। এক মাঝরাতে নুসরাতের ল্যাপটপ ক্র্যাশ করায় তাদের ফাইনাল ইয়ারের গ্রুপ প্রোজেক্টের সব ফাইল ডিলিট হয়ে যায়। নুসরাত আর সোহেল প্যানিক করে নূপুরকে কনফারেন্স কলে নেয়।)
নুসরাত: (ফোনে কেঁদে কেটে একাকার) নূপুর! সব শেষ রে! আমাদের পুরো প্রোজেক্টের ফাইল গায়েব! কাল সকালে জমা না দিলে আমরা কেউ গ্র্যাজুয়েশন পাব না!
সোহেল: (ফোনে উত্তেজিত হয়ে) আমি তো মাথা খাটিয়ে কোনো আইডিয়াই পাচ্ছি না! এখন কী হবে রে নূপুর?
নূপুর: (রাত দুটো বাজে, বিছানা থেকে উঠে শান্ত ও স্থির গলায়) তোরা দুজন কান্না আর চেঁচামেচি বন্ধ কর তো আগে। নুসরাত, তুই তোর ব্যাকআপ পেনড্রাইভটা নে। আর সোহেল, তুই তোর বাইকটা নিয়ে এখনই নুসরাতকে তুলে আমার বাসায় চলে আয়।
নুসরাত: এত রাতে তোর বাসায়? তোর আম্মু বকবে না?
নূপুর: আমি আম্মুকে বলে রেখেছি। তোরা জলদি আয়। বাকি রাত আমি জেগে তোদের শান্ত মাথায় গাইড করব, আমরা নতুন করে প্রোজেক্টটা দাঁড় করাব।
(সেই রাতে নূপুরের শান্ত নির্দেশনা, নুসরাতের চঞ্চল টাইপিং আর সোহেলের ঘন ঘন কফি বানিয়ে আনা—সব মিলিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রোজেক্ট রেডি হয়ে যায়।)
অধ্যায় ৪: 'দি থ্রি মাস্কেটিয়ার্স' ক্যাফে
(বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর নূপুরের শান্ত ও বিচক্ষণ ম্যানেজমেন্ট, নুসরাতের দারুণ মার্কেটিং আইডিয়া এবং সোহেলের চমৎকার মিউজিক সেন্স—এই তিন মিলে তারা শহরের বুকে একটা ক্যাফে খোলে, যার নাম দেওয়া হয় "নূপুর-নুসরাত'স কর্নার"। আজ ক্যাফের তিন বছর পূর্তি।)
নুসরাত: (ক্যাফের মেমোরি ওয়ালের দিকে তাকিয়ে, যেখানে তাদের অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিনের ছবিটা ফ্রেম করা আছে) দেখ নূপুর, দেখতে দেখতে আমরা কত বড় হয়ে গেলাম না? অথচ মনে হয় এই তো সেদিন আমরা স্কুলে মারামারি করছিলাম।
নূপুর: (মুচকি হেসে শান্ত গলায়) তোদের মতো দুজন পাগল পাশে না থাকলে আমার এই একঘেয়ে শান্ত জীবনটা এত রঙিন হতোই না।
সোহেল: (হাতে গিটার নিয়ে টুংটাং করতে করতে পেছনে এসে) ওহ হো! আজ দেখছি আমাদের ফার্স্ট গার্ল অনেক ইমোশনাল কথা বলছে! তা ম্যাডাম, আজকের লাইভ মিউজিক শো-এর জন্য আমি রেডি তো?
নুসরাত: (হেসে উঠে সোহেলের পিঠে একটা চাপড় মেরে) তুই রেডি মানেই আমাদের ক্যাফে সুপারহিট! চল, কাস্টমাররা চলে এসেছে।
(সোহেল গিটার নিয়ে স্টেজে গিয়ে মাইক হাতে নিল।)
সোহেল: (মাইক্রোফোনে সবার উদ্দেশ্যে) হ্যালো এভরিওয়ান! আজকের এই বিশেষ সন্ধ্যায় আমি আমার জীবনের সেরা দুজন মানুষকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। একজন চঞ্চল মেঘবালিকা নুসরাত, আর আমাদের সব পাগলামির শান্ত আশ্রয় নূপুর। আমাদের এই বন্ধুত্ব আজীবন এমন ধামাকা হয়েই থাকবে!
(পুরো ক্যাফে করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠল। নূপুর আর নুসরাত একে অপরের হাত ধরে স্টেজের সামনে দাঁড়িয়ে হাসল। তারা জানত—জীবন যতই বদলে যাক না কেন, এই তিন বন্ধুর বন্ধন কখনো আলগা হবে না।)
—সমাপ্ত—
গল্পটি এবার তিনজন চরিত্র দিয়ে একদম নিখুঁতভাবে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছে। আপনি কি এই উপন্যাসে নতুন কোনো অধ্যায় বা অন্য কোনো মজার ঘটনা যোগ করতে চান, নাকি এটি এখন আপনার পছন্দের মতো হয়েছে? নিচে লিখে জানান!

পূর্বের অধ্যায়ে আমরা সোহেলকে সহ তিন বন্ধুর গল্প দেখেছিলাম। এবার সোহেলকে বাদ দিয়ে, শুধু নূপুর (শান্ত) এবং নুসরাত (চঞ্চল)—এই দুই বান্ধবীর অষ্টম শ্রেণির স্কুল জীবন থেকে শুরু করে আজীবন সেরা বন্ধু (Best Friend) হয়ে থাকার পুরো উপন্যাসটি সংলাপে নাম লিখে লিখে নিচে সুন্দর করে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
উপন্যাস: মেঘবালিকা ও ডানপিটে দিনগুলো
প্রধান চরিত্রদ্বয়:
নূপুর: শান্ত, বুদ্ধিমতী এবং অসম্ভব গোছানো একটা মেয়ে। যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায় সামলাতে পারে।
নুসরাত: চঞ্চল, স্পষ্টভাষী এবং ভীষণ হাসিখুশি। হুটহাট পাগলামি করা আর সবাইকে আনন্দে রাখা তার স্বভাব।
অধ্যায় ১: ইস্কুলে ৮ম শ্রেণির সেই প্রথম দিন
(নতুন ক্লাসের নতুন গন্ধ, নতুন বইয়ের মলাট—সব মিলিয়ে চারদিকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাকার একটা চেনা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ১লা জানুয়ারির সকাল। নূপুর প্রথম বেঞ্চের এক কোণে বসে শান্তভাবে ডায়েরি গোছাচ্ছে।)
নূপুর: (মনে মনে) যাক, এবার অন্তত শান্তিতে প্রথম বেঞ্চে বসে ক্লাসগুলো করা যাবে। কোনো ঝামেলা নেই।
(ঠিক তখনই ক্লাসের দরজা দিয়ে হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকল নুসরাত। তার কাঁধ থেকে একটা ফিতে ছেঁড়া ব্যাগ ঝুলছে, আর চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। ক্লাসে আর কোনো সিট ফাঁকা না পেয়ে সে সরাসরি নূপুরের পাশে এসে ধপাস করে বসে পড়ল।)
নুসরাত: (এক গাল হেসে, হাঁপাতে হাঁপাতে) উফ! জলদি আসতে গিয়ে রিকশা থেকে পড়তে পড়তে বেঁচেছি! হাই, আমি নুসরাত। তোমার নাম কী?
নূপুর: (একটু চমকে গিয়ে, নুসরাতের চওড়া হাসি দেখে মুচকি হেসে) আমি নূপুর।
নুসরাত: বাহ, দারুণ নাম তো! আজ থেকে আমরা বেঞ্চ পার্টনার আর বেস্ট ফ্রেন্ড, কেমন?
অধ্যায় ২: টিফিনের ঘণ্টা আর জ্যামিতির খাতা
(কয়েক মাস পর। অষ্টম শ্রেণির অর্ধবার্ষিকীর গণিত পরীক্ষা চলছে। নুসরাত বরাবরের মতোই তাড়াহুড়ো করে জ্যামিতি বক্স বাসায় ফেলে এসেছে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই নুসরাতের মাথায় হাত! সে নূপুরের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে ব্যাকুল ইশারা করতে লাগল।)
নুসরাত: (ফিসফিসিয়ে, চোখে জল এনে) দোস্ত, নূপুর! জ্যামিতি বক্স আনি নাই। আজ স্যার আমাকে নিশ্চিত জিরো দেবে! বাঁচা রে!
নূপুর: (চারপাশে তাকিয়ে, গম্ভীর গণিত স্যার অন্যদিকে ঘুরতেই নিজের পেন্সিল কম্পাস আর স্কেলটা নুসরাতের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে) একদম প্যানিক করবি না। নে, জলদি হাত চালা। স্যার এদিকে ঘোরার আগেই আঁকা শেষ কর।
(পরীক্ষা শেষে করিডোরে আসতেই নুসরাত নূপুরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।)
নুসরাত: নূপুর, তুই যদি আজ স্কেলটা না দিতিস, স্যার আমাকে কান ধরে ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখত! তুই আসলেই আমার লাইফসেভার।
নূপুর: (হেসে ফেলে) তোর এই ভুলে যাওয়ার রোগ আর কোনোদিন যাবে না, নুসু! চল, এখন জরিমানা হিসেবে তোকে স্কুলের গেটের বাইরে থেকে ফুচকা খাওয়াতে হবে।
অধ্যায় ৩: মাঝরাতের ক্রাইসিস (বিশ্ববিদ্যালয় জীবন)
(স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে দুজনে যখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো, তখনও তাদের বন্ধুত্ব ছিল আগের মতোই খাঁটি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার আগের দিন রাতে ঘটল এক চরম বিপত্তি। রাত বারোটার সময় নুসরাত প্রায় কাঁদতে কাঁদতে নূপুরকে ফোন করল।)
নুসরাত: (ফোনে ডুকরে কেঁদে উঠে) দোস্ত নূপুর! আমার ল্যাপটপটা হঠাৎ ক্র্যাশ করেছে রে! সব ফাইল ডিলিট হয়ে গেছে। আমি তো কাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারব না, স্যার আমাকে ফেল করিয়ে দেবে!
নূপুর: (নিজের ঘুম তাড়িয়ে শান্ত গলায়) নুসু, একদম কাঁদবি না। তুই তোর পেনড্রাইভ আর নোটসগুলো নে, এখনই একটা রিকশা ডেকে আমার বাসায় চলে আয়। রাস্তা ফাঁকা আছে, সাবধানে আসবি।
নুসরাত: কিন্তু এত রাতে তোর বাসায়?
নূপুর: কোনো কিন্তু না, জলদি আয়। বাকি রাত আমি আর তুই মিলে তোর অ্যাসাইনমেন্ট আবার নতুন করে রেডি করব।
(সেই রাতে তিন কাপ কফি, নূপুরের ল্যাপটপ আর নুসরাতের ব্যাকুলতা—সব মিলিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি হয়ে গেল। পরদিন ডিপার্টমেন্টে যখন নুসরাত দারুণ মার্কস পেল, সে নূপুরকে জড়িয়ে ধরে পুরো করিডোরে চিৎকার করে উঠল।)
নুসরাত: নূপুর, তুই শুধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নোস, তুই আমার সুপারহিরো!
নূপুর: (হেসে দিয়ে) হয়েছে, এবার থাম! সবাই তাকাচ্ছে। চল, ক্যান্টিনে গিয়ে আগে কিছু খাই, রাতে ঘুমাতে পারিনি।
অধ্যায় ৪: রোড ট্রিপের পাগলামি
(নুসরাতের বহুদিনের শখ ছিল তারা দুজন মিলে একটা রোড ট্রিপে যাবে। নূপুরকে রাজি করিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে তারা একদিন রওনা দিল সিলেটের উদ্দেশ্যে। বাসের জানালার পাশে বসে নুসরাত মনের সুখে গান গাইছিল আর নূপুর তার ক্যান্ডিড ছবি তুলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মাঝপথে তাদের বাসটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেল।)
নূপুর: (জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে) ধুর! মাঝরাস্তায় বাস নষ্ট হলো। এখন তো পৌঁছাতে অনেক রাত হয়ে যাবে।
নুসরাত: (নূপুরের হাত ধরে সিট থেকে টেনে নামিয়ে) আরে ধুর, মন খারাপ করিস না তো! চল বাস থেকে নিচে নামি। দেখ, রাস্তার পাশে কী সুন্দর কাশফুলের মেলা আর চমৎকার হাওয়া!
নূপুর: কিন্তু বাস ঠিক হতে কতক্ষণ লাগবে কে জানে?
নুসরাত: বাস ঠিক হতে তো ঢের দেরি, চল আমরা এই সুযোগে একটা দারুণ ফটোশুট করে ফেলি! জীবনটাকে এনজয় কর, নূপুর!
(দুজনে মিলে রাস্তার ধারের দোকান থেকে আইসক্রিম খেতে খেতে কাশফুলের মাঝে এত সুন্দর সুন্দর ছবি তুলল যে, বাস ঠিক হওয়ার পর ড্রাইভার যখন হর্ন দিল, তখন তাদের মনে হচ্ছিল জার্নিটা বুঝি এখানেই জমে গেছে।)
অধ্যায় ৫: স্বপ্নের আঙিনা ও আজীবন বন্ধুতা
(বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর নূপুরের রান্নার চমৎকার হাত আর নুসরাতের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের বুদ্ধি—দুই মিলিয়ে তারা শহরের এক কোণে খুলে ফেলল ছোট্ট একটি ক্যাফে, যার নাম দিল "নূপুর-নুসরাত'স কর্নার"। ক্যাফের এক পাশের দেওয়ালে নুসরাত তাদের অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিনের ছবিটা থেকে শুরু করে সব হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটা 'মেমোরি ওয়াল' বানিয়ে দিল। আজ ক্যাফে উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি। নুসরাত কেক কাটার আগে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াল।)
নুসরাত: (মাইক্রোфоনে আবেগঘন কণ্ঠে) আজ আমাদের এই সাফল্যের পেছনে যে মানুষটা শক্ত খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে আছে, সে শুধু আমার বিজনেস পার্টনার না, সে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যে আমার সব পাগলামিকে ভালোবেসে সামলে রেখেছে—থ্যাংক ইউ নূপুর, আমার জীবনে থাকার জন্য।
(নূপুর মঞ্চে এসে নুসরাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এবার তাদের চোখে কোনো দুঃখের জল ছিল না, ছিল কেবল আনন্দের আর তৃপ্তির ছোঁয়া।)
নূপুর: (নুসরাতের কানে ফিসফিসিয়ে) অনেক তো আবেগ দেখালি, এবার চল কেকটা কাটি। কাস্টমাররা অপেক্ষা করছে।
নুসরাত: (হেসে ফেলে) চল, আর আজ রাতে আমাদের খুশিতে সবাইকে একটা করে ফ্রি ব্রাউনি খাওয়াব!
নূপুর: (মুচকি হেসে সায় দিয়ে) তোর এই পাগলামি আর গেল না! ঠিক আছে, আজ তাই হবে।
(বাইরে তখন মৃদু হাওয়া বইছে। তারা দুজনেই জানত, জীবনের পথটা যেমনই হোক না কেন, একে অপরের হাত ধরে তারা সব প্রতিকূলতা এভাবে হেসেই পার করে দেবে। কারণ তাদের বন্ধুত্বটা কোনো শর্তের নয়, এটি দুটি হৃদয়ের এক অন্তহীন বন্ধন।)
—সমাপ্ত—
গল্পটি কি আপনার মন মতো সাজানো হয়েছে, নাকি এর ভেতরে নতুন কোনো বিশেষ ঘটনা (যেমন কোনো পিকনিক, নতুন কোনো স্কুল ট্রিপ বা অন্য কিছু) যোগ করতে চান? আমাকে জানান!

উপন্যাস: মেঘবালিকা ও ডানপিটে দিনগুলো
অধ্যায় ১: ইস্কুলে ৮ম শ্রেণির সেই প্রথম দিন
(নতুন ক্লাসের নতুন গন্ধ, নতুন বইয়ের মলাট—সব মিলিয়ে চারদিকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাকার একটা চেনা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ১লা জানুয়ারির সকাল। নূপুর প্রথম বেঞ্চের এক কোণে বসে শান্তভাবে ডায়েরি গোছাচ্ছে।)
নূপুর: (মনে মনে) যাক, এবার অন্তত শান্তিতে প্রথম বেঞ্চে বসে ক্লাসগুলো করা যাবে। কোনো ঝামেলা নেই।
(ঠিক তখনই ক্লাসের দরজা দিয়ে হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকল নুসরাত। তার কাঁধ থেকে একটা ফিতে ছেঁড়া ব্যাগ ঝুলছে, আর চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। ক্লাসে আর কোনো সিট ফাঁকা না পেয়ে সে সরাসরি নূপুরের পাশে এসে ধপাস করে বসে পড়ল।)
নুসরাত: (এক গাল হেসে, হাঁপাতে হাঁপাতে) উফ! জলদি আসতে গিয়ে রিকশা থেকে পড়তে পড়তে বেঁচেছি! হাই, আমি নুসরাত। তোমার নাম কী?
নূপুর: (একটু চমকে গিয়ে, নুসরাতের চওড়া হাসি দেখে মুচকি হেসে) আমি নূপুর।
নুসরাত: বাহ, দারুণ নাম তো! আজ থেকে আমরা বেঞ্চ পার্টনার আর বেস্ট ফ্রেন্ড, কেমন?
অধ্যায় ২: টিফিনের ঘণ্টা আর জ্যামিতির খাতা
(কয়েক মাস পর। অষ্টম শ্রেণির অর্থমাসিকীর গণিত পরীক্ষা চলছে। নুসরাত বরাবরের মতোই তাড়াহুড়ো করে জ্যামিতি বক্স বাসায় ফেলে এসেছে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই নুসরাতের মাথায় হাত! সে নূপুরের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে ব্যাকুল ইশারা করতে লাগল।)
নুসরাত: (ফিসফিসিয়ে, চোখে জল এনে) দোস্ত, নূপুর! জ্যামিতি বক্স আনি নাই। আজ স্যার আমাকে নিশ্চিত জিরো দেবে! বাঁচা রে!
নূপুর: (চারপাশে তাকিয়ে, গম্ভীর গণিত স্যার অন্যদিকে ঘুরতেই নিজের পেন্সিল কম্পাস আর স্কেলটা নুসরাতের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে) একদম প্যানিক করবি না। নে, জলদি হাত চালা। স্যার এদিকে ঘোরার আগেই আঁকা শেষ কর।
(পরীক্ষা শেষে করিডোরে আসতেই নুসরাত নূপুরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।)
নুসরাত: নূপুর, তুই যদি আজ স্কেলটা না দিতিস, স্যার আমাকে কান ধরে ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখত! তুই আসলেই আমার লাইফসেভার।
নূপুর: (হেসে ফেলে) তোর এই ভুলে যাওয়ার রোগ আর কোনোদিন যাবে না, নুসু! চল, এখন জরিমানা হিসেবে তোকে স্কুলের গেটের বাইরে থেকে ফুচকা খাওয়াতে হবে।
অধ্যায় ৩: মাঝরাতের ক্রাইসিস (বিশ্ববিদ্যালয় জীবন)
(স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে দুজনে যখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো, তখনও তাদের বন্ধুত্ব ছিল আগের মতোই খাঁটি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার আগের দিন রাতে ঘটল এক চরম বিপত্তি। রাত বারোটার সময় নুসরাত প্রায় কাঁদতে কাঁদতে নূপুরকে ফোন করল।)
নুসরাত: (ফোনে ডুকরে কেঁদে উঠে) দোস্ত নূপুর! আমার ল্যাপটপটা হঠাৎ ক্র্যাশ করেছে রে! সব ফাইল ডিলিট হয়ে গেছে। আমি তো কাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারব না, স্যার আমাকে ফেল করিয়ে দেবে!
নূপুর: (নিজের ঘুম তাড়িয়ে শান্ত গলায়) নুসু, একদম কাঁদবি না। তুই তোর পেনড্রাইভ আর নোটসগুলো নে, এখনই একটা রিকশা ডেকে আমার বাসায় চলে আয়। রাস্তা ফাঁকা আছে, সাবধানে আসবি।
নুসরাত: কিন্তু এত রাতে তোর বাসায়?
নূপুর: কোনো কিন্তু না, জলদি আয়। বাকি রাত আমি আর তুই মিলে তোর অ্যাসাইনমেন্ট আবার নতুন করে রেডি করব।
(সেই রাতে তিন কাপ কফি, নূপুরের ল্যাপটপ আর নুসরাতের ব্যাকুলতা—সব মিলিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি হয়ে গেল। পরদিন ডিপার্টমেন্টে যখন নুসরাত দারুণ মার্কস পেল, সে নূপুরকে জড়িয়ে ধরে পুরো করিডোরে চিৎকার করে উঠল।)
নুসরাত: নূপুর, তুই শুধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নোস, তুই আমার সুপারহিরো!
নূপুর: (হেসে দিয়ে) হয়েছে, এবার থাম! সবাই তাকাচ্ছে। চল, ক্যান্টিনে গিয়ে আগে কিছু খাই, রাতে ঘুমাতে পারিনি।
অধ্যায় ৪: রোড ট্রিপের পাগলামি
(নুসরাতের বহুদিনের শখ ছিল তারা দুজন মিলে একটা রোড ট্রিপে যাবে। নূপুরকে রাজি করিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে তারা একদিন রওনা দিল সিলেটের উদ্দেশ্যে। বাসের জানালার পাশে বসে নুসরাত মনের সুখে গান গাইছিল আর নূপুর তার ক্যান্ডিড ছবি তুলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মাঝপথে তাদের বাসটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেল।)
নূপুর: (জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে) ধুর! মাঝরাস্তায় বাস নষ্ট হলো। এখন তো পৌঁছাতে অনেক রাত হয়ে যাবে।
নুসরাত: (নূপুরের হাত ধরে সিট থেকে টেনে নামিয়ে) আরে ধুর, মন খারাপ করিস না তো! চল বাস থেকে নিচে নামি। দেখ, রাস্তার পাশে কী সুন্দর কাশফুলের মেলা আর চমৎকার হাওয়া!
নূপুর: কিন্তু বাস ঠিক হতে কতক্ষণ লাগবে কে জানে?
নুসরাত: বাস ঠিক হতে তো ঢের দেরি, চল আমরা এই সুযোগে একটা দারুণ ফটোশুট করে ফেলি! জীবনটাকে এনজয় কর, নূপুর!
(দুজনে মিলে রাস্তার ধারের দোকান থেকে আইসক্রিম খেতে খেতে কাশফুলের মাঝে এত সুন্দর সুন্দর ছবি তুলল যে, বাস ঠিক হওয়ার পর ড্রাইভার যখন হর্ন দিল, তখন তাদের মনে হচ্ছিল জার্নিটা বুঝি এখানেই জমে গেছে।)
অধ্যায় ৫: স্বপ্নের আঙিনা ও আজীবন বন্ধুতা
(বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর নূপুরের রান্নার চমৎকার হাত আর নুসরাতের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের বুদ্ধি—দুই মিলিয়ে তারা শহরের এক কোণে খুলে ফেলল ছোট্ট একটি ক্যাফে, যার নাম দিল "নূপুর-নুসরাত'স কর্নার"। ক্যাফের এক পাশের দেওয়ালে নুসরাত তাদের অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিনের ছবিটা থেকে শুরু করে সব হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটা 'মেমোরি ওয়াল' বানিয়ে দিল। আজ ক্যাফে উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি। নুসরাত কেক কাটার আগে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াল।)
নুসরাত: (মাইক্রোফোনে আবেগঘন কণ্ঠে) আজ আমাদের এই সাফল্যের পেছনে যে মানুষটা শক্ত খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে আছে, সে শুধু আমার বিজনেস পার্টনার না, সে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যে আমার সব পাগলামিকে ভালোবেসে সামলে রেখেছে—থ্যাংক ইউ নূপুর, আমার জীবনে থাকার জন্য।
(নূপুর মঞ্চে এসে নুসরাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এবার তাদের চোখে কোনো দুঃখের জল ছিল না, ছিল কেবল আনন্দের আর তৃপ্তির ছোঁয়া।)
নূপুর: (নুসরাতের কানে ফিসফিসিয়ে) অনেক তো আবেগ দেখালি, এবার চল কেকটা কাটি। কাস্টমাররা অপেক্ষা করছে।
নুসরাত: (হেসে ফেলে) চল, আর আজ রাতে আমাদের খুশিতে সবাইকে একটা করে ফ্রি ব্রাউনি খাওয়াব!
নূপুর: (মুচকি হেসে সায় দিয়ে) তোর এই পাগলামি আর গেল না! ঠিক আছে, আজ তাই হবে।
(বাইরে তখন মৃদু হাওয়া বইছে। তারা দুজনেই জানত, জীবনের পথটা যেমনই হোক না কেন, একে অপরের হাত ধরে তারা সব প্রতিকূলতা এভাবে হেসেই পার করে দেবে। কারণ তাদের বন্ধুত্বটা কোনো শর্তের নয়, এটি দুটি হৃদয়ের এক অন্তহীন বন্ধন।)
—সমাপ্ত—
গল্পটি কি আপনার ইচ্ছেমতো পুরোপুরি সাজানো হয়েছে? আপনি চাইলে এর পর অন্য কোনো নতুন দৃশ্য বা ক্লাসের গল্প যোগ করতে পারি, অথবা এই বিন্যাসটি কেমন লাগলো তা জানাতে পারেন।

মেঘবালিকা ও ডানপিটে দিনগুলো
(নতুন ক্লাসের নতুন গন্ধ, নতুন বইয়ের মলাট—সব মিলিয়ে চারদিকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাকার একটা চেনা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ১লা জানুয়ারির সকাল। নূপুর প্রথম বেঞ্চের
ইস্কুলে ৮ম শ্রেণির সেই প্রথম দিন
(নতুন ক্লাসের নতুন গন্ধ, নতুন বইয়ের মলাট—সব মিলিয়ে চারদিকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাকার একটা চেনা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ১লা জানুয়ারির সকাল। নূপুর প্রথম বেঞ্চের এক কোণে বসে শান্তভাবে ডায়েরি গোছাচ্ছে।)
নূপুর: (মনে মনে) যাক, এবার অন্তত শান্তিতে প্রথম বেঞ্চে বসে ক্লাসগুলো করা যাবে। কোনো ঝামেলা নেই।
(ঠিক তখনই ক্লাসের দরজা দিয়ে হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকল নুসরাত। তার কাঁধ থেকে একটা ফিতে ছেঁড়া ব্যাগ ঝুলছে, আর চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। ক্লাসে আর কোনো সিট ফাঁকা না পেয়ে সে সরাসরি নূপুরের পাশে এসে ধপাস করে বসে পড়ল।)
নুসরাত: (এক গাল হেসে, হাঁপাতে হাঁপাতে) উফ! জলদি আসতে গিয়ে রিকশা থেকে পড়তে পড়তে বেঁচেছি! হাই, আমি নুসরাত। তোমার নাম কী?
নূপুর: (একটু চমকে গিয়ে, নুসরাতের চওড়া হাসি দেখে মুচকি হেসে) আমি নূপুর।
নুসরাত: বাহ, দারুণ নাম তো! আজ থেকে আমরা বেঞ্চ পার্টনার আর বেস্ট ফ্রেন্ড, কেমন?
টিফিনের ঘণ্টা আর জ্যামিতির খাতা
(কয়েক মাস পর। অষ্টম শ্রেণির অর্থমাসিকীর গণিত পরীক্ষা চলছে। নুসরাত বরাবরের মতোই তাড়াহুড়ো করে জ্যামিতি বক্স বাসায় ফেলে এসেছে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই নুসরাতের মাথায় হাত! সে নূপুরের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে ব্যাকুল ইশারা করতে লাগল।)
নুসরাত: (ফিসফিসিয়ে, চোখে জল এনে) দোস্ত, নূপুর! জ্যামিতি বক্স আনি নাই। আজ স্যার আমাকে নিশ্চিত জিরো দেবে! বাঁচা রে!
নূপুর: (চারপাশে তাকিয়ে, গম্ভীর গণিত স্যার অন্যদিকে ঘুরতেই নিজের পেন্সিল কম্পাস আর স্কেলটা নুসরাতের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে) একদম প্যানিক করবি না। নে, জলদি হাত চালা। স্যার এদিকে ঘোরার আগেই আঁকা শেষ কর।
(পরীক্ষা শেষে করিডোরে আসতেই নুসরাত নূপুরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।)
নুসরাত: নূপুর, তুই যদি আজ亗 স্কেলটা না দিতিস, স্যার আমাকে কান ধরে ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখত! তুই আসলেই আমার লাইফসেভার।
নূপুর: (হেসে ফেলে) তোর এই ভুলে যাওয়ার রোগ আর কোনোদিন যাবে না, নুসু! চল, এখন জরিমানা হিসেবে তোকে স্কুলের গেটের বাইরে থেকে ফুচকা খাওয়াতে হবে।
মাঝরাতের ক্রাইসিস (বিশ্ববিদ্যালয় জীবন)
(স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে দুজনে যখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো, তখনও তাদের বন্ধুত্ব ছিল আগের মতোই খাঁটি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার আগের দিন রাতে ঘটল এক চরম বিপত্তি। রাত বারোটার সময় নুসরাত প্রায় কাঁদতে কাঁদতে নূপুরকে ফোন করল।)
নুসরাত: (ফোনে ডুকরে কেঁদে উঠে) দোস্ত নূপুর! আমার ল্যাপটপটা হঠাৎ ক্র্যাশ করেছে রে! সব ফাইল ডিলিট হয়ে গেছে। আমি তো কাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারব না, স্যার আমাকে ফেল করিয়ে দেবে!
নূপুর: (নিজের ঘুম তাড়িয়ে শান্ত গলায়) নুসু, একদম কাঁদবি না। তুই তোর পেনড্রাইভ আর নোটসগুলো নে, এখনই একটা রিকশা ডেকে আমার বাসায় চলে আয়। রাস্তা ফাঁকা আছে, সাবধানে আসবি।
নুসরাত: কিন্তু এত রাতে তোর বাসায়?
নূপুর: কোনো কিন্তু না, জলদি আয়। বাকি রাত আমি আর তুই মিলে তোর অ্যাসাইনমেন্ট আবার নতুন করে রেডি করব।
(সেই রাতে তিন কাপ কফি, নূপুরের ল্যাপটপ আর নুসরাতের ব্যাকুলতা—সব মিলিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি হয়ে গেল। পরদিন ডিপার্টমেন্টে যখন নুসরাত দারুণ মার্কস পেল, সে নূপুরকে জড়িয়ে ধরে পুরো করিডোরে চিৎকার করে উঠল।)
নুসরাত: নূপুর, তুই শুধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নোস, তুই আমার সুপারহিরো!
নূপুর: (হেসে দিয়ে) হয়েছে, এবার থাম! সবাই তাকাচ্ছে। চল, ক্যান্টিনে গিয়ে আগে কিছু খাই, রাতে ঘুমাতে পারিনি।
রোড ট্রিপের পাগলামি
(নুসরাতের বহুদিনের শখ ছিল তারা দুজন মিলে একটা রোড ট্রিপে যাবে। নূপুরকে রাজি করিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে তারা একদিন রওনা দিল সিলেটের উদ্দেশ্যে। বাসের জানালার পাশে বসে নুসরাত মনের সুখে গান গাইছিল আর নূপুর তার ক্যান্ডিড ছবি তুলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মাঝপথে তাদের বাসটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেল।)
নূপুর: (জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে) ধুর! মাঝরাস্তায় বাস নষ্ট হলো। এখন তো পৌঁছাতে অনেক রাত হয়ে যাবে।
নুসরাত: (নূপুরের হাত ধরে সিট থেকে টেনে নামিয়ে) আরে ধুর, মন খারাপ করিস না তো! চল বাস থেকে নিচে নামি। দেখ, রাস্তার পাশে কী সুন্দর কাশফুলের মেলা আর চমৎকার হাওয়া!
নূপুর: কিন্তু বাস ঠিক হতে কতক্ষণ লাগবে কে জানে?
নুসরাত: বাস ঠিক হতে তো ঢের দেরি, চল আমরা এই সুযোগে একটা দারুণ ফটোশুট করে ফেলি! জীবনটাকে এনজয় কর, নূপুর!
(দুজনে মিলে রাস্তার ধারের দোকান থেকে আইসক্রিম খেতে খেতে কাশফুলের মাঝে এত সুন্দর সুন্দর ছবি তুলল যে, বাস ঠিক হওয়ার পর ড্রাইভার যখন হর্ন দিল, তখন তাদের মনে হচ্ছিল জার্নিটা বুঝি এখানেই জমে গেছে।)
স্বপ্নের আঙিনা ও আজীবন বন্ধুতা
(বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর নূপুরের রান্নার চমৎকার হাত আর নুসরাতের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের বুদ্ধি—দুই মিলিয়ে তারা শহরের এক কোণে খুলে ফেলল ছোট্ট একটি ক্যাফে, যার নাম দিল "নূপুর-নুসরাত'স কর্নার"। ক্যাফের এক পাশের দেওয়ালে নুসরাত তাদের অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিনের ছবিটা থেকে শুরু করে সব হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটা 'মেমোরি ওয়াল' বানিয়ে দিল। আজ ক্যাফে উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি। নুসরাত কেক কাটার আগে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াল।)
নুসরাত: (মাইক্রোфоনে আবেগঘন কণ্ঠে) আজ আমাদের এই সাফল্যের পেছনে যে মানুষটা শক্ত খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে আছে, সে শুধু আমার বিজনেস পার্টনার না, সে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যে আমার সব পাগলামিকে ভালোবেসে সামলে রেখেছে—থ্যাংক ইউ নূপুর, আমার জীবনে থাকার জন্য।
(নূপুর মঞ্চে এসে নুসরাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এবার তাদের চোখে কোনো দুঃখের জল ছিল না, ছিল কেবল আনন্দের আর তৃপ্তির ছোঁয়া।)
নূপুর: (নুসরাতের কানে ফিসফিসিয়ে) অনেক তো আবেগ দেখালি, এবার চল কেকটা কাটি। কাস্টমাররা অপেক্ষা করছে।
নুসরাত: (হেসে ফেলে) চল, আর আজ রাতে আমাদের খুশিতে সবাইকে একটা করে ফ্রি ব্রাউনি খাওয়াব!
নূপুর: (মুচকি হেসে সায় দিয়ে) তোর এই পাগলামি আর গেল না! ঠিক আছে, আজ তাই হবে।
(বাইরে তখন মৃদু হাওয়া বইছে। তারা দুজনেই জানত, জীবনের পথটা যেমনই হোক না কেন, একে অপরের হাত ধরে তারা সব প্রতিকূলতা এভাবে হেসেই পার করে দেবে। কারণ তাদের বন্ধুত্বটা কোনো শর্তের নয়, এটি দুটি হৃদয়ের এক অন্তহীন বন্ধন।)
—সমাপ্ত—

এখানে ‘অধ্যায়’ বা ‘পর্ব’ শব্দগুলো সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে এবং শুরুর বাড়তি অংশগুলো সরিয়ে সরাসরি গল্পটি সুন্দর অনুচ্ছেদ দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হলো:
মেঘবালিকা ও ডানপিটে দিনগুলো
(নতুন ক্লাসের নতুন গন্ধ, নতুন বইয়ের মলাট—সব মিলিয়ে চারদিকে একটা উৎসবমুখর পরিবেশ। ঢাকার একটা চেনা স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ১লা জানুয়ারির সকাল। নূপুর প্রথম বেঞ্চের এক কোণে বসে শান্তভাবে ডায়েরি গোছাচ্ছে।)
নূপুর: (মনে মনে) যাক, এবার অন্তত শান্তিতে প্রথম বেঞ্চে বসে ক্লাসগুলো করা যাবে। কোনো ঝামেলা নেই।
(ঠিক তখনই ক্লাসের দরজা দিয়ে হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকল নুসরাত। তার কাঁধ থেকে একটা ফিতে ছেঁড়া ব্যাগ ঝুলছে, আর চুলগুলো বাতাসে উড়ছে। ক্লাসে আর কোনো সিট ফাঁকা না পেয়ে সে সরাসরি নূপুরের পাশে এসে ধপাস করে বসে পড়ল।)
নুসরাত: (এক গাল হেসে, হাঁপাতে হাঁপাতে) উফ! জলদি আসতে গিয়ে রিকশা থেকে পড়তে পড়তে বেঁচেছি! হাই, আমি নুসরাত। তোমার নাম কী?
নূপুর: (একটু চমকে গিয়ে, নুসরাতের চওড়া হাসি দেখে মুচকি হেসে) আমি নূপুর।
নুসরাত: বাহ, দারুণ নাম তো! আজ থেকে আমরা বেঞ্চ পার্টনার আর বেস্ট ফ্রেন্ড, কেমন?
(কয়েক মাস পর। অষ্টম শ্রেণির অর্থমাসিকীর গণিত পরীক্ষা চলছে। নুসরাত বরাবরের মতোই তাড়াহুড়ো করে জ্যামিতি বক্স বাসায় ফেলে এসেছে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই নুসরাতের মাথায় হাত! সে নূপুরের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে ব্যাকুল ইশারা করতে লাগল।)
নুসরাত: (ফিসফিসিয়ে, চোখে জল এনে) দোস্ত, নূপুর! জ্যামিতি বক্স আনি নাই। আজ স্যার আমাকে নিশ্চিত জিরো দেবে! বাঁচা রে!
নূপুর: (চারপাশে তাকিয়ে, গম্ভীর গণিত স্যার অন্যদিকে ঘুরতেই নিজের পেন্সিল কম্পাস আর স্কেলটা নুসরাতের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে) একদম প্যানিক করবি না। নে, জলদি হাত চালা। স্যার এদিকে ঘোরার আগেই আঁকা শেষ কর।
(পরীক্ষা শেষে করিডোরে আসতেই নুসরাত নূপুরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।)
নুসরাত: নূপুর, তুই যদি আজ স্কেলটা না দিতিস, স্যার আমাকে কান ধরে ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখত! তুই আসলেই আমার লাইফসেভার।
নূপুর: (হেসে ফেলে) তোর এই ভুলে যাওয়ার রোগ আর কোনোদিন যাবে না, নুসু! চল, এখন জরিমানা হিসেবে তোকে স্কুলের গেটের বাইরে থেকে ফুচকা খাওয়াতে হবে।
(স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে দুজনে যখন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলো, তখনও তাদের বন্ধুত্ব ছিল আগের মতোই খাঁটি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার আগের দিন রাতে ঘটল এক চরম বিপত্তি। রাত বারোটার সময় নুসরাত প্রায় কাঁদতে কাঁদতে নূপুরকে ফোন করল।)
নুসরাত: (ফোনে ডুকরে কেঁদে উঠে) দোস্ত নূপুর! আমার ল্যাপটপটা হঠাৎ ক্র্যাশ করেছে রে! সব ফাইল ডিলিট হয়ে গেছে। আমি তো কাল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে পারব না, স্যার আমাকে ফেল করিয়ে দেবে!
নূপুর: (নিজের ঘুম তাড়িয়ে শান্ত গলায়) নুসু, একদম কাঁদবি না। তুই তোর পেনড্রাইভ আর নোটসগুলো নে, এখনই একটা রিকশা ডেকে আমার বাসায় চলে আয়। রাস্তা ফাঁকা আছে, সাবধানে আসবি।
নুসরাত: কিন্তু এত রাতে তোর বাসায়?
নূপুর: কোনো কিন্তু না, জলদি আয়। বাকি রাত আমি আর তুই মিলে তোর অ্যাসাইনমেন্ট আবার নতুন করে রেডি করব।
(সেই রাতে three কাপ কফি, নূপুরের ল্যাপটপ আর নুসরাতের ব্যাকুলতা—সব মিলিয়ে ভোরের আলো ফোটার আগেই অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি হয়ে গেল। পরদিন ডিপার্টমেন্টে যখন নুসরাত দারুণ মার্কস পেল, সে নূপুরকে জড়িয়ে ধরে পুরো করিডোরে চিৎকার করে উঠল।)
নুসরাত: নূপুর, তুই শুধু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড নোস, তুই আমার সুপারহিরো!
নূপুর: (হেসে দিয়ে) হয়েছে, এবার থাম! সবাই তাকাচ্ছে। চল, ক্যান্টিনে গিয়ে আগে কিছু খাই, রাতে ঘুমাতে পারিনি।
(নুসরাতের বহুদিনের শখ ছিল তারা দুজন মিলে একটা রোড ট্রিপে যাবে। নূপুরকে রাজি করিয়ে ব্যাগ গুছিয়ে তারা একদিন রওনা দিল সিলেটের উদ্দেশ্যে। বাসের জানালার পাশে বসে নুসরাত মনের সুখে গান গাইছিল আর নূপুর তার ক্যান্ডিড ছবি তুলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মাঝপথে তাদের বাসটির ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে গেল।)
নূপুর: (জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে) ধুর! মাঝরাস্তায় বাস নষ্ট হলো। এখন তো পৌঁছাতে অনেক রাত হয়ে যাবে।
নুসরাত: (নূপুরের হাত ধরে সিট থেকে টেনে নামিয়ে) আরে ধুর, মন খারাপ করিস না তো! চল বাস থেকে নিচে নামি। দেখ, রাস্তার পাশে কী সুন্দর কাশফুলের মেলা আর চমৎকার হাওয়া!
নূপুর: কিন্তু বাস ঠিক হতে কতক্ষণ লাগবে কে জানে?
নুসরাত: বাস ঠিক হতে তো ঢের দেরি, চল আমরা এই সুযোগে একটা দারুণ ফটোশুট করে ফেলি! জীবনটাকে এনজয় কর, নূপুর!
(দুজনে মিলে রাস্তার ধারের দোকান থেকে আইসক্রিম খেতে খেতে কাশফুলের মাঝে এত সুন্দর সুন্দর ছবি তুলল যে, বাস ঠিক হওয়ার পর ড্রাইভার যখন হর্ন দিল, তখন তাদের মনে হচ্ছিল জার্নিটা বুঝি এখানেই জমে গেছে।)
(বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার পর নূপুরের রান্নার চমৎকার হাত আর নুসরাতের ইন্টেরিয়র ডিজাইনের বুদ্ধি—দুই মিলিয়ে তারা শহরের এক কোণে খুলে ফেলল ছোট্ট একটি ক্যাফে, যার নাম দিল "নূপুর-নুসরাত'স কর্নার"। ক্যাফের এক পাশের দেওয়ালে নুসরাত তাদের অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিনের ছবিটা থেকে শুরু করে সব হাসিখুশি মুহূর্তের ছবি দিয়ে একটা 'মেমোরি ওয়াল' বানিয়ে দিল। আজ ক্যাফে উদ্বোধনের এক বছর পূর্তি। নুসরাত কেক কাটার আগে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াল।)
নুসরাত: (মাইক্রোфоনে আবেগঘন কণ্ঠে) আজ আমাদের এই সাফল্যের পেছনে যে মানুষটা শক্ত খুঁটির মতো দাঁড়িয়ে আছে, সে শুধু আমার বিজনেস পার্টনার না, সে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি। অষ্টম শ্রেণির সেই প্রথম দিন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত যে আমার সব পাগলামিকে ভালোবেসে সামলে রেখেছে—থ্যাংক ইউ নূপুর, আমার জীবনে থাকার জন্য।
(নূপুর মঞ্চে এসে নুসরাতকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। এবার তাদের চোখে কোনো দুঃখের জল ছিল না, ছিল কেবল আনন্দের আর তৃপ্তির ছোঁয়া।)
নূপুর: (নুসরাতের কানে ফিসফিসিয়ে) অনেক তো আবেগ দেখালি, এবার চল কেকটা কাটি। কাস্টমাররা অপেক্ষা করছে।
নুসরাত: (হেসে ফেলে) চল, আর আজ রাতে আমাদের খুশিতে সবাইকে একটা করে ফ্রি ব্রাউনি খাওয়াব!
নূপুর: (মুচকি হেসে সায় দিয়ে) তোর এই পাগলামি আর গেল না! ঠিক আছে, আজ তাই হবে।
(বাইরে তখন মৃদু হাওয়া বইছে। তারা দুজনেই জানত, জীবনের পথটা যেমনই হোক না কেন, একে অপরের হাত ধরে তারা সব প্রতিকূলতা এভাবে হেসেই পার করে দেবে। কারণ তাদের বন্ধুত্বটা কোনো শর্তের নয়, এটি দুটি হৃদয়ের এক অন্তহীন বন্ধন।)
—সমাপ্ত—

AI Mode response is ready

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন