ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রণয়ের প্রহেলিক

পর্ব 1

লেখক: মিরা রাহমান

#প্রণয়ের প্রহেলিক
#মিরা রাহমান
#পর্ব সংখ্যা ১

"এই রুহি? তোর বফ এর নাকি বিয়ে ঠিক হয়েছে?

রাফার এমন কথায় মোবাইল স্ক্রল করা বন্ধ হলো রুহি'র।এরপরেও রুহি কিচু বললো না্আবার মোবাইল স্ক্রল করতে লাগলো।

তারা বর্তমানে রেস্টুরেন্টে আছে।অবশ্য এখানে আসার কারণটা রাফারা জানে না।রুহি বলেনি।এই অব্দি হাজারবার জিজ্ঞেস করলেও রুহি তাদের একটা প্রশ্নেরও উত্তর করে নি। তখনি আগমন ঘটলো একটা ছেলের।এসেই তাদের টেবিলের সামনে এসে গলা খাকারি দিলো।রাফা সহ সারা, নূর ,সাফি,আয়ান,রিক গল্প বাদ দিয়ে উপরের দিকে তাকালো।কেমন চেনা চেনা ঠেকলো তাদের কাছে।পরক্ষণেই মনে পড়লো আরে এ তো নিশাদ। রুহি'র বফ।সারা রুহির দিকে তাকালো।দেখলো এখনো রিলস দেখছে।ও কি জানতো নিশাদ আসবে এখনে?কিন্তু নিশাদ আসবে কেনো?ওর তো বিয়ে ঠিক হয়েছে।আর রুহি'রও রুচি এতো খারাপ না যে একটা বিয়ে ঠিক হওয়া ছেলের সাথে পুনরায় সব ঠিক হবে।তাদের জানামতে রুহি আর নিশাদের মধ্যে কিছু নিয়ে ঝগড়া হয়।তারপরেই শুনে নিশাদের বিয়ে ঠিক হয়েছে।

" Sit down mr. Nishad Talukdar"

রুহি'র কন্ঠে ধ্যান ভাঙলো রাফার।নিশাদের দিকে তাকালো।সাদা শার্ট কালো প্যান্ট ইন করে পড়া।বাম হাতে রোলেক্সের ঘড়ি। হালকা ব্রাউন চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করা। পায়ে ব্ল্যাক ক্যাজুয়াল স্নিকর্স সু।

"Chear?"

"Opsss....প্লিজ আপনি ওই টেবিল থেকে একটু চেয়ার টেনে বসুন।"

রুহি নিশাদের দিকে তাকালো না।মোবাইলে দৃষ্টি রেখেই নিশাদকে বললো।নিশাদ চোয়াল শক্ত করে পাশে থেকে চেয়ার টান দিয়ে বসলো।এদিকে রাফারা নিরব দর্শক।
"আমাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলে নিজে এত লেট করে আসলেন।ফিয়ান্সের সাথে কি প্রেম আলাপ জুড়েছিলেন মিস্টার নিশাদ?পুরো ১৩ মিনিট লেইট। "
"তোমাকে একা আসতে বলেছিলাম"

"কি এমন গুরুত্বপূর্ণ কথা যে আমাকে একা আসতে হবে? যাইহোক তাড়াতাড়ি বলুন। আমার সময় নেই। "
"সামনে আমার বিয়ে মানে অক্টোবর মাসের ১৯ তারিখ...."

"তো আমাকে দাওয়াত দিতে এসেছেন আমি জানি এবং আমি যাবো আপনার বিয়েতে। এবং দামি গিফ্টও নিবো নো টেনশন"
"আমি...."
"আপনার এই ফালতু কথা শোনার আমার সময় নেই ব্রো আসছি। "
বলেই চেয়ার থেকে ওঠে ব্যাগটা নিয়ে হাটা দিলো রুহি।তার পেছন পেছন সারা রাও চললো।যেখানে রহি নেই সেখানে সারাদের থাকার কোন মানেই নেই। নিশাদ শান্ত চোখে শুধু দেখলো।
_____________★____________
পড়ন্ত বিকেল। চারদিকে বিকেলের স্নিগ্ধ কমলাভ মিষ্টি হালকা রোদের হাতছানি। আকাশে পাখিদের নীড়ে যাবার তারা।
বিকেলের সোনালী রশ্মিতে ঝলমল করছে দু'তলা বিশিষ্ট ইংরেজিতে গোটা গোটা অক্ষরে লেখা ❝Chowdhory Mantion❞
ঢাকায় যৌথ পরিবারের লিস্ট চৌধুরী ম্যানশনও আছে।এখনকার দিনে এরকম যৌথ পরিবার দেখাই যায় না।চৌধুরী ম্যানশনের সামনে দুটো রিক্সা এসে থামলো।রিক্সা থেকে নেমে দাড়ালো রুহি,সাফি,সারা আর রাফা।
রুহি রিক্সা ভারা মিটিয়ে চৌধুরী বাড়ির দিকে চললো।
____★____
রাত ৯টা। রুহি বেলকনিতে তোয়ালে শুকাতে দিয় নিজের রুমে আসলো।হালকা হালকা শেষ রাতের দিকে শীত পড়ে। যেহেতু এখন অক্টোবর মাসের ৮ তারিখ। তখনি রুমানা বেগমের ডাক ভেসে আসলো।নিচে খেতে ডাকছে।পাশ থেকে ওড়না টা নিয়ে হাটা ধরলো খাবার খাওয়ার উদ্দেশ্যে।
"তুই এখন গোসল করেছিস কেনো?ঠান্ডা লাগানোর শখ জেগেছে? "
মায়ের ঝাঝ মাখানো কন্ঠের প্রশ্নে ছোট করে উত্তর দিলো রুহি "না"
"তাহলে গোসল করিছিস কেনো এত রাতে?"
"গরম লাগছিলো তাই"
"তাই বলে....."
"আহ রুমানা থাম তো। করুক গোসল খাওয়া শেষে রুমে গিয়ে হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে চুল শুখালেই হবে। মেয়েটাকে খেতে দে।নয়তো না খেয়েই চলে যাবে।"
আমেনা বেগমের ধমকে না চাইতেও চুপ করলো রুমানা বেগম। চুপচাপ সালেহা বেগমের সাথে খাবার বেড়ে দিতে লাগলো।সবার খাওয়া যাখন অর্ধেক তখন আফতাব সাহেবের ফোনে কল আসলো।সবাই খাওয়া বাদ দিয়ে সেদিকে দৃষ্টি দিলো শুধুমাত্র রুহি বাদে।সে নিজের খাওয়াতেই মনোযোগ দিলো।আফতাব সাহেব পকেট থেকে মোবাইল বের করে পরিচিত দেখলো ভিডিও কল এসেছে।কল ধরলো তিনি।
"আসসলামু আলািকুম বাবা"
গম্ভীর পুরুষালি কন্ঠে কেউ ওপাশ থেকে সালাম দিলো।আফতাব সাহেব খানিকটা হেসে জাবাব দিলো-
"ওয়ালাইকুমুস-সালাম"
"কেমন আছো?"
"আলহামদুলিল্লাহ ভলো।তুমি কেমন আছো?"
"আমিও আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি।একটা কথা বলার ছিলো।"
"কী কথা?কোনো জরুরি?"
"না তেমন না তবে জরুরী না যে এমনও না"
"আচ্ছা বল কি কথা?"
"আমি পরশুদিন দেশে ফিরবো।টিকেট কেটে ফেলেছি আর সব প্যাকিংও করা শেষ"
ফোন লাউড স্পিকারে দেওয়া ছিলো। আমেনা বেগম রুহিকে মাছ বেড়ে দিচ্ছিলেন।ওই কথা শুনে তার হাত থমকে গেলো। রুহি'রও খাবার মুখে দেওয়ার সময় হাত থেমে গেলো।জোসনা বেগম ফোনটা টান দিয়ে নিয়ে বললেন-"আমার দাদুভাই?তুমি দেশে আইবা আগে কইবা না? কত বছর পরে আইবা কোনো বাজারই তো করা হয় নাই।"
"রিলাক্স দাদুন।আমি কালকেই আসছি না। আর কোনো কিছুই করতে হবে না।তারপর বলো তোমার কী অবস্থা শরীরের?"
"তা কইলে হইবো নাকি? আর শইল্লের কথা কী কমু?বুইড়া হইছি বয়স তো আর কম হয় নাই।কহন আলৃলাহ ডাক দেয়।"
"উফফ দাদুন এমন কথা আর বলবে না।কিছু হবে না।আমি দেশে এসে তোমাকে ভালো ডক্টর দেখাবো চিন্তা করো না তো।"
জোসনা বেগম কিছু বলল না। শুধু হাসলো। এরমধ্যেই আমেনা বেগম সহ বাড়ির সকলেই বাড়ির মেঝো ছেলের সাথে কথা বলতে লাগলো।শুধু রুহি, সারা,রাফা,সাফি বাদে।সে অর্ধেক খেয়ে উপরে চলে গেলো সাথে রাফারাও।
"রুহি?"
"কীচ্ছে?"
"তোর সাথে নিশাদের ঝগড়া লাগার কারণ কী? আর ওর হঠাৎ বিয়ে করারই কারণ কী?"
"কোনো কারণ নেই"
সারা অবাক হয়ে বললো-"কোনো করণ নেই মানে?"
"মানে হচ্ছে আমি নিজেই ওর সাথে সব নষ্ট করেছি।তোদের কী মনে হয় ওর মতো চরিত্রহীনের সাথে আমি সব জানার পরেও রিলেশনে থাকবো?আর এমনিতেও আমি ওর সাথে কখনো সিরিয়াস ছিলামই না"
সবাই আবারো অবাক হলো।সাফি বললো-
"ছিলি না মানে?আর তুই সব নষ্ট করেছিস মানে কী?"
"কী বালের মানে মানে করছিস?বাংলা ভাষা বুঝিস না?"
চিল্লিয়ে উঠলো রুহি। সারা বললো-"এই তুই কাহিনী সব শুরু থেকে বল তো।আমার মাথা আউলিয়া যাইতাছে।ঝেরে কাশ"
"তোদের একমাস আগে বললাম না নিশাদ সিলেট যাচ্ছে?"
"হুম বিজনেস ট্যুরে গিয়েছিলো" সমস্বরে উত্তর করলো সবাই।
"উহুম।ও কোনো বিজনেস ট্যুরে যায় নি।ও ওর গার্লফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে দিয়েছিলো।"
"কিন্তু তুই জানলি কীভাবে?" রাফা বললো।
"আমাকে সিন্থিয়া বলেছে"
"সিন্থিয়া জানে কীভাবে"
রুহি কটমট করে সাফির দিকে তাকালো।এ ছেলে এতো বোকা কেনো?রুহিকে কটমট করে তাকাতে দেখে গলা খাকারি দিলো সাফি।
"আম্মা গোওওওওওও।আমারে মাইরা ফেললো।বাঁচাওওওওওওআমারেএএএএএএ।।"
"কত্তাআআআআআআ বের হ আমার রুম থেকেএএএএ"
নেক্সট পার্ট দিবো??🙂🙌"উফফ দাদুন এমন কথা আর বলবে না।কিছু হবে না।আমি দেশে এসে তোমাকে ভালো ডক্টর দেখাবো চিন্তা করো না তো।"
জোসনা বেগম কিছু বলল না। শুধু হাসলো। এরমধ্যেই আমেনা বেগম সহ বাড়ির সকলেই বাড়ির মেঝো ছেলের সাথে কথা বলতে লাগলো।শুধু রুহি, সারা,রাফা,সাফি বাদে।সে অর্ধেক খেয়ে উপরে চলে গেলো সাথে রাফারাও।
"রুহি?"
"কীচ্ছে?"
"তোর সাথে নিশাদের ঝগড়া লাগার কারণ কী? আর ওর হঠাৎ বিয়ে করারই কারণ কী?"
"কোনো কারণ নেই"
সারা অবাক হয়ে বললো-"কোনো করণ নেই মানে?"
"মানে হচ্ছে আমি নিজেই ওর সাথে সব নষ্ট করেছি।তোদের কী মনে হয় ওর মতো চরিত্রহীনের সাথে আমি সব জানার পরেও রিলেশনে থাকবো?আর এমনিতেও আমি ওর সাথে কখনো সিরিয়াস ছিলামই না"
সবাই আবারো অবাক হলো।সাফি বললো-
"ছিলি না মানে?আর তুই সব নষ্ট করেছিস মানে কী?"
"কী বালের মানে মানে করছিস?বাংলা ভাষা বুঝিস না?"
চিল্লিয়ে উঠলো রুহি। সারা বললো-"এই তুই কাহিনী সব শুরু থেকে বল তো।আমার মাথা আউলিয়া যাইতাছে।ঝেরে কাশ"
"তোদের একমাস আগে বললাম না নিশাদ সিলেট যাচ্ছে?"
"হুম বিজনেস ট্যুরে গিয়েছিলো" সমস্বরে উত্তর করলো সবাই।
"উহুম।ও কোনো বিজনেস ট্যুরে যায় নি।ও ওর গার্লফ্রেন্ড এর সাথে দেখা করতে দিয়েছিলো।"
"কিন্তু তুই জানলি কীভাবে?" রাফা বললো।
"আমাকে সিন্থিয়া বলেছে"
"সিন্থিয়া জানে কীভাবে"
রুহি কটমট করে সাফির দিকে তাকালো।এ ছেলে এতো বোকা কেনো?রুহিকে কটমট করে তাকাতে দেখে গলা খাকারি দিলো সাফি।
"আম্মা গোওওওওওও।আমারে মাইরা ফেললো।বাঁচাওওওওওওআমারেএএএএএএ।।"
"কত্তাআআআআআআ বের হ আমার রুম থেকেএএএএ"
____★____
পরিচয়ঃ মরহুম লতিফ চৌধুরীর স্ত্রী জোসনা বেগম। তারা ৫ সন্তান ও সন্ততির জননী। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। তাদের বড় ছেলে আকবর চৌধুরী স্ত্রী আমেনা বেগম। তাদের তিন সন্তান। প্রথম ছেলে আসিফ চৌধুরী বয়স ২৪। তার স্ত্রী আফিয়া চৌধুরী এবং সন্তান আনিসা চৌধুরী বয়স দুই। মেজো ছেলে ইরাবান নীলাভ চৌধুরী বয়স ২২ বছর। ছোট মেয়ে ইমামা চৌধুরী বয়স ২০।
লতিফ চৌধুরীর দ্বিতীয় ছেলে শরিফুল চৌধুরী স্ত্রী সালেহা বেগম তারা তিন সন্তানের জননী। প্রথম সন্তান ইশতিয়াক চৌধুরী বয়স ২০।মেঝো মেয়ে সারা চৌধুরী বয়স ১৫। ছোট ছেলে সাফি চৌধুরী বয়স ১৫। (সারা ও সাফি জমজ)।
লতিফ চৌধুরীর তৃতীয় সন্তান রফিকুল চৌধুরী স্ত্রী রুমানা চৌধুরী। বড় মেয়ে ইশারায়া রুহি চৌধুরি বয়স ১৫। মেঝো মেয়ে রাফা চৌধুরী বয়স ১৪। ছোট মেয়ে রুশা চৌধুরী বয়স ১৩।
লতিফ চৌধুরীর চতুর্থ সন্তান নাফিজা হক।স্বামী নুরুল হক। তাদের দুই সন্তান। বড় সন্তান ছেলে আরাফ হক বয়স ১৯। মেঝ মেয়ে ইরাবা নূর হক বয়স ১৫।
লতিফ চৌধুরীর পঞ্চম সন্তান আরাহা রাহমান। স্বামী আরিফ রাহমান। তাদের তিন সন্তানের। আহান রহমান বয়স উনিশ। মেজো মেয়ে আরিফা রাহমান বয়স ১৮। ছোট মেয়ে ইশা রহমান বয়স ১৩।
____★____
মাঝখানে কেটে গেছে একটা দিন। আজকে চৌধুরী বাড়িতে যেন ঈদ লেগেছে। বাড়ির সবাই খুশি। কেননা আজকে বাড়ির মেঝো ছেলে লন্ডন থেকে ফিরবে। জোসনা বেগমের যেন খুশি ধরেই না তিনি আজকে বাড়ির সব তদারকি করছেন।নীলাভের সব পছন্দের খাবার রান্না করা হচ্ছে বাড়িতে।
"আরে সারা তোরা কোথায় যাচ্ছিস আজকে? "
"দাদন আমরা কলেজে যাচ্ছি "
কি বলিস আজকের সবাই বাড়িতে তোরা কলেজ যাবি কেন?আজকে যেতে হবে না।
"না দাদুন যেতে হবে।" নয়তো ভন্ডামি করবে কে আমরা তো আবার ভন্ডামি ছাড়া থাকতে পারিনা (লাস্টের কথাটা রুহি বিড় বিড় করে বলল)
"থাক মা যাক ওরা আজকে। দুদিন পর পরীক্ষা পড়ার প্রতি তো সিরিয়াস কখনো ছিলই না। এখন একটু হচ্ছে হোক। "
রুমানা বেগম বলে উঠলেন। জোসনা বেগম আর কিছু বললেন না। রুহিরা খাওয়া শেষ করে বের হয়ে পড়লো কলেজের উদ্দেশ্যে।
___★___
কলেজের ক্যাম্পাসে মাঠের কর্নার বসে আছে রুহি, রাফা, সারা, নূর, আয়ান আর রিক । বসে বসে বাদাম খাচ্ছে সবাই। আর উল্টাপাল্টা কথা বলে হাসিতে ঢলে পড়ছে একজন আরেকজনের গায়ের উপরে। রুহি ঘড়িতে টাইম দেখে-"বলল আর বিশ মিনিট আছে এক কাজ কর আয় সবাই মিলে গানের কলি খেলি"
নূর ও রুহির সাথে তাল মিলিয়ে বলল -"হ্যাঁ ভালোই হবে আয় খেলি। এমনি তেও আমি গতকালকে একটা গান শিখেছি"
সারা বললো -"তাই নাকি তাই কি গান শিখেছিস একটু বলতো দেখি আমরাও শুনি কেমন গান"
নূর গলা পরিষ্কার করল। তারপর সুর তুলল -
« সন্ধ্যাবেলা বেগুন খেতে করতে গেলাম চুরি
বেগুন ওয়াল ওমনি আমার হাতটা নিলো ধরি
ধইরা নিয়া ভইরা দিল বেগুন আমার থলিতে
আর যাব না বেগুন তুলিতে ও
রুহিরে আর যাব না বেগুন তুলিতে »
"নূরের বাচ্চাআআআআআআআআআআ তুই গান কইবি ভালো কথা। আমার নাম তুই নিলি কেন? এখানে তো সারা, রাফা, সাফি, আয়ান,রিক ওরা আছে তুই আমার নামই নিলি কেন?" বলেই লিথি দিয়ে মাঠে শুয়িয়ে দিলো।
"বিকজ আমি তোকে বেশি ভালোবাসি রুহি "নূর হাসতে হাসতে জবাব দিল। এদিকে বাকিরা হাসতে হাসতে একজন আরেকজনের উপর ঢলে পড়ছে
"তোর ভালোবাসার গুষ্টি কিলাই "
তখনই পাশ থেকে কাশের শব্দ শোনা গেল। সবাই উপর থেকে তাকিয়ে দেখলো রাহুল স্যার। তারা সবাই চোখ বড় বড় করে রাহুল স্যার আবার নূরের দিকে তাকালো তারপর সমস্বরে সবাই একসাথে হু হা হেসে উঠলো। ততক্ষণ রাহুল স্যার চলে গেছে। আর নূর তো লজ্জায় সারার পেছনে লুকিয়ে পড়েছে।
___★___
রুহি,সারা,রাফা,সাফি তিনজন একসাথে রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছে। এমনিতে তারা রিক্সা দিয়ে গেলেও আজকে হেটে যাচ্ছে। তাদের কলেজ থেকে বাড়িতে যেতে সময় লাগে ২০ মিনিট। চারজনের হাত দিয়েই ৫০ টাকা দামের কোন আইসক্রিম। চারজনে খাচ্ছে আর উল্টাপাল্টা বকবক করে হাসাহাসি করে একজন আরেকজনের উপর ঢলে পড়ছে। রাফার সারা ছিল রাস্তার কর্ণারে।তখনই একটা কালো মার্সিডিজ বেঞ্চ রাস্তার পাশ দিয়ে যায়। অমনি রাস্তার পাশে গর্তে থাকা পচা পানি রুহি আর সারার গায়ে লাগে। হাতের কোন আইসক্রিম টাও ভয়ের চোটে পড়ে যায়। মুহূর্তের রুহির মেজাজ গরম হয়ে গেল। মার্সিডিজ বেঞ্জ কে উদ্দেশ্য করে গালি দিল -
"ওই সা'উ'য়ার নাতি দেখে গাড়ি চালাতে পারিস না? গাড়ি চালাতে না পারলে গাড়ি চালাতে আসিস কেন? তোর বাপের রাস্তা যে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে যাবি।?"
তখনি গাড়ি টাকে পিছে আসতে দেখল। গাড়িটা রুহিদের এক কদম আগে দাঁড়ালো। তারপর গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলো সাদা শার্ট কালো, প্যান্ট ইন করা, পায়ে Black high top sneakers, বাম হাতে রোলেক্সের কালো দামি ঘড়ি,হালকা ব্রাউন চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করা হয়েছে। চোখে ব্ল্যাক সানগ্লাস। লোকটা এসেই রুহি'র সামনে এসে দাড়ালো।রুহিকে উদ্দেশ্য করে বললো-"What did you say again?"
রুহি' মাথা এম্নেই গরম ছিলো।এই প্রশ্ন যেনো আগুনে ঘি ঢাললো।বললো দাঁতে দাঁত চেপে-"বলেছি গাড়ি দেখে চালাতে পারেন না?গাড়ি চালাতে আসেন কেনো?আপনার বাপের রাস্তা যে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে গাড়ি চালাবেন?"
ছেলেটা চো চোখের চশমা খুলে ফেললো।ওমনি ঘন পাপরিওয়ালা ব্রাউন চোখ নজরে পড়লো।রুহি'র নজর এক মুহূর্তের জন্য সেখানে নিবদ্ধ হলো।
-"কী বললেন? আবার বলুন তো?"
রুহি'র ধ্যান ভাংলো।
"আগে তো আপনাকে কানা মনে করেছিলাম এখন দেখি আপনি বয়রাও"
-"উহু যা বলতে বলেছি তাই বলুন।"
"চোখে....."
"উহু সবার লাস্টে কী বলেছেন তাই বলুন...?"
রুহি ভ্রু কুচকে ফেললো।এবারও দাঁতে দাঁত চেপে বললো-"রাস্তা কী আপনার বাপের......."
ঠাসসস....পুরো কথা শেষ কীতে পারলো না রুহি।তার আগেই সামনে দাড়ানো দীর্ঘ সুটাম দেহীর লোকটা ঠাটিয়ে থাপ্পর মারলো।মুহূর্তেই রুহি'র মাথা ঘুরে উঠলো।চারপাশ অন্ধকার ঠেকলো।চাপার দাঁত মনে হয় সব নরে উঠেছে।
-"আমাকে নিয়ে কথা বলবেন ভালো কথা বাট ফ্যামিলি কিংবা বাবাকে নিয়ে কথা বললে সেটা মোটেও ঠিক হবেনা আপনার জন্য এবং আমি এটা পছন্দও করি না।"
জেদি রুহি এবারও তর্ক করলো-" How dear you? বলবো ১০০ বার বলবো আপনি কে আমাকে থাপ্পর মারার আমাকে শাসন করার? "
"কেউ না বাট পরের বার বাবাকে নিয়ে কথা বললে ১ টা থাপ্পড়ের জায়গায় একশটা পড়বে। মাইন্ড ইট.. "
বলেই আবার সানগ্লাস টা চোখে দিয়ে গারিতে উঠে বসে আর চলে যায়।এদিকে রুহি এখনো গালে হাত দিয়ে রক্ত লাল চোকে তাকিয়ে আছে চলে যাওয়া গাড়িটির দিকে।সারা,রাফা,সাফি ওদের মাথাও যেনো কিছু ঢুকেনি।সবাি তম মেরে দাড়িয়ে আছে।
____★____
রিক্সা থেকে নেমে দাড়ালো রুহি'রা।তকন সারা একটা রিক্সা দাড় করায় আর তাতে করেই চলে আসে।রুহি এখনো গালে হাত দিয়ে আছে।চোখ লাল হয়ে গেছে। হলুদ ফর্সা মুখও লাল হয়ে আছে।এত জোরে মার খেয়েছে অথচ ওর চোখ থেকে এক ফোটা অশ্রু গরায়নি। রুহি চুপচাপ ভেতরে চলে যায়। রাফা'রাও রুহি'র পেছনে যায়।সাফি ভারা মিটিয়ে তারপর যায়।
"কিরে রুহি?তোর কী হয়েছে? চোখ-মুখ লাল কেনো?আর গালে হাত দিয়ে আছিস কেনো দেখি?"
বলেই সালেহা বেগম গাল থেকে হাত সরাতেই আঁতকে উঠেন।হায় হায় করে বলেন-"এই রুহি?গালে এটা কীসের দাগ? কে মেরেছে তোকে?এই সার যা ফ্রিজ থেকে আইস কিউব নিয়ে আয়"
ধমকে উঠলেন সালেহা বেগম।সারা চোখ মুখ কুঁচকে আইস কিউব নিয়ে আসতে গেল।
"এই রুহি বলছিস না কেন থাপ্পড় দিয়েছে আজকে ক্লাসে পড়া পারিস নি?"
রুহি কিছু বলল না চোখ মুখ শক্ত করে নিচের দিকে তাকিয়ে রইল।
"আম্মু এটা অনেক বড় কাহিনী তোমাকে পরে বলবো আগে রুহি ফ্রেশ হয়ে নিক" ছাড়া বলে উঠলো বরফ সালেহা বেগমের হাতে দিয়ে। সালেহা বেগম সম্মতি জানালো। রুহির ডান গালে আইস কিউব লাগিয়ে চারজনকে উপরে পাঠিয়ে দিল গোসল করার জন্য।
____★____
রাত বাজে ৯ টা। ডাইনিং টেবিলে সবাই বসে আছে। সারারাও বসে আছে মাত্র রুহি নেই।রুহি গোসল সেড়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিল। তারপর আর দুপুরে খাওয়া হয়নি রুহি'র। সারা'রা খেয়েছে।অবশ্য সারা খাওয়ার আগে রুহিকে ডেকে এসেছে। তবে রুহি ঘুমের মধ্যে বকে দিয়েছে সারা কে। এবং বলেছে তাকে যেন তাকে ডিস্টার্ব না করে।
"আম্মু আজকে একটা চেয়ার বেশি বেশি লাগছে কেন? কেউ কি এসেছে? "
রাফার প্রশ্নে রুমানা বেগম বললেন -"ওমা তোরা কি ভুলে গেলি নাকি আজকে তোদের মেজো ভাই বিদেশ থেকে এসেছে? ওর জন্যই তো একটা চেয়ার বেশি রাখা হয়েছে। এই তোরা দেখা করিস নি ওর সাথে?"
"রাফারা বোকা হয়ে গেল। হায় হায়, তাদের তো মনেই নেই আজকে যে তাদের মেজো ভাই আসবে। সাফি জিহ্বায় কামড় দিয়ে বলল-" মেঝো মা আমরা তো ভুলেই গিয়েছিলাম আজকে যে মেঝো ভাই। আসবে। ভাইয়া কোথায় খেতে আসবেনা? "
"তা মনে থাকবে কেন? সারাদিন তো শুধু আজাইরা থাকিস আর উল্টাপাল্টা কাজ করিস এগুলো কি আর মনে থাকবে।ছেলেটা কত বছর পরে বিদেশ থেকে আসলো কোথায় ওর সাথে একটু দেখা করে আসবে তাও করলি না।"
"আহ সালেহা বাচ্চা পোলাপান শুধু শুধু বকা দিস না তো। আর নীলাভ ও তো সেই যে দুপুরে খেয়ে ঘুমাতে গেল আর ওঠেনি। এই রুশা যা তো নীলাভ কে ডেকে নিয়ে আয়।"
ওমনি রুশা গেল নীলাভা কে ডাক দিতে। তবে বেশিদূর যেতে হলো না। দুই কদম আগােতই দেখা গেল নীলাভ আসছে।
"ওই তো ভাইয়া আসছে" রুশা উৎফুল্ল কন্ঠে বলে উঠলো সবার উদ্দেশ্যে। রাফারা সিড়ির দিক তাকিয়ে থমকে গেল। চোখ বড় বড় করে একজন আরেকজনের দিকে তাকালো। নীলাভের পেছনে রুহি আসছে। রুহি একটু তাড়াতাড়ি আসতে গিয়ে নীলাভ এর সাথে ধাক্কা লাগে। রুহি প্রথমে মনে করেছে হয়তো সাফি। তাই সাফির উদ্দেশ্যে বলল "দেখে চলতে পারিস না বেয়াদব?"
বলে সামনে তাকাতেই তার চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল। চিল্লিয়ে উঠে বলল "আপনি?"
নীলাভও রুহির দিকে তাকিয়ে বলে উঠলো " ইউ ? "
"এই আপনি আমাদের বাড়িতে কী করছেন হ্যা? তখন আমাকে মেরে শান্তি হয়নি?যে এখন আমাদের বাড়ি অব্দি এসে গেছেন?"
"আমিও তো একই প্রশ্ন তোমাকে করতে পারি।তুমি কর করছো আমাদের বাড়িতে?তুমি বুঝি থাপ্পড়ের শোধ নিতো আমাদের বাড়িতে এসেছো?"
"আজব তো আমাদের বাড়িতে আমি থাকবো না?"
"তো আমিও আমাদের বাড়িতেই আছি।"
একমাত্র রাফারা ব্যাতীত আর কেউ ওদের এই ঝগরার মানে বুঝলো না।আমেনা বেগম বললেন-"আরে কী হয়েছে? কে কাকে থাপ্পড় মেরেছে আর কে কার শেধ তুলবে?"
"বড় আম্মু?ওনি কে?আর ওনি আমাদের বাড়িতে কী করছে?"
"আরে ও-ই তো আমার মেঝো ছেলে ইরাবান নীলাভঅ চৌধুরী"
"কীইইইইইইইইইইই?"
রুহি সহ রাফা রাও চিল্লিয়ে ওঠলো। আমেনা বেগমের একটা কথায়-ই যেনো রুহি সহ রাফাদের মসথসয় বিনা মেঘেই বাজ ফেললো। রুহি অবাক হয়ে নীলাভ এর দিকে তাকালো।যে কীনা আগে থেকেই চোখ-মুখ কুচকে রুহি'র দিকে তাকিয়ে আছে।
চলবে।
তোমরা প্লিজ আমাকে সাপোর্ট কইরো আর কমেন্ট কইরো।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন