ফন্ট সাইজ:
থিম:
🖤 প্রেম,প্রহেলিকা ও প্রতিশোধ 🥀

পর্ব 1

লেখক: সুমাইয়া ইসলাম।

🖤 প্রেম, প্রহেলিকা ও প্রতিশোধ 🥀
লেখিকা: সুমাইয়া ইসলাম

পার্ট ১: তিন বংশের পরিচয়

বাংলাদেশের তিন প্রভাবশালী বংশ—চৌধুরী, খান ও ইসলাম। অর্থ, প্রতিপত্তি আর আভিজাত্যে কেউ কারও চেয়ে কম নয়। কিন্তু তাদের অতীতের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক রহস্য, যা বদলে দেবে তিন পরিবারের জীবন।

👑 চৌধুরী বংশ

চৌধুরী পরিবারের ছেলে ইরফান চৌধুরী। রাগী, জেদি, গম্ভীর ও অহংকারী। অপমানের জবাব দিতে সে কখনো ভুল করে না।

একদিন বাবা বললেন,
— শুক্রবার একটা অনুষ্ঠানে যেতে হবে।

ইরফান বিরক্ত হয়ে বলল,
— যাব না!

বাবা রেগে বললেন,
— তোর এই স্বভাব একদিন বিপদ ডেকে আনবে!

ইরফান হেসে বলল,
— বিপদই আমাকে দেখে রাস্তা বদলায়!

🖤 খান বংশ

খান পরিবারের দুই ছেলে আরিয়ান খান ও ইহান খান।

আরিয়ান দুষ্টু, সুদর্শন এবং ঘুমপ্রিয়। এক সকালে মা তাকে ডাকতে ডাকতে বিরক্ত হয়ে গেলেন।

— আরিয়ান, ওঠ! সকাল হয়ে গেছে!

— আম্মু, পাঁচ মিনিট!

ইহান হেসে বলল,
— ভাইয়া, তোমার বিয়ের পর ভাবি তোমাকে ডাকতে ডাকতেই বুড়ি হয়ে যাবে!

আরিয়ান বালিশ ছুড়ে বলল,
— আগে তোর বিয়ে হোক!

তাদের হাসি-ঠাট্টার আড়ালেও লুকিয়ে আছে একটি প্রশ্ন—চৌধুরী পরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের মধ্যে এমন কী রহস্য রয়েছে?

🌸 ইসলাম বংশ

ইসলাম পরিবারের দুই মেয়ে—আরমিন ইসলাম ও সুমাইয়া ইসলাম।

আরমিন শান্ত স্বভাবের, আর সুমাইয়া চঞ্চল, জেদি ও দুষ্টুমিতে সবার সেরা।

একদিন সুমাইয়া চিৎকার করে বলল,
— আপু! আমার কালো ওড়না কোথায়?

আরমিন বলল,
— আমি কীভাবে জানব?

সুমাইয়া কোমরে হাত দিয়ে বলল,
— আমার ওড়না হারিয়েছে, আর তুমি জানো না? ব্যাপারটা সন্দেহজনক!

আরমিন হেসে বলল,
— তুই একদিন নিজের কথাতেই নিজেকে ফাঁসাবি!

সুমাইয়া জবাব দিল,
— আমি ফাঁসি না, মানুষকে হাসি!

দুই বোনের হাসিতে বাড়ি মুখর হয়ে উঠল।

কিন্তু তারা জানত না, তাদের জীবনে আসতে চলেছে ভালোবাসা, ঝগড়া আর অভিমানের নতুন অধ্যায়।

আরমিনের জীবনে আসবে আরিয়ান খান, আর সুমাইয়ার জীবনে আসবে ইরফান চৌধুরী।

অন্যদিকে, চৌধুরী পরিবারের মেয়ে ইনায়ার জীবনে প্রবেশ করবে ইহান খান। তাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে থাকবে তিন বংশের অজানা অতীতের সঙ্গে।

🥀 একটি আমন্ত্রণ

এক সন্ধ্যায় ইসলাম বাড়িতে সুমাইয়ার বাবা জানালেন,
— শুক্রবার চৌধুরী বাড়ির অনুষ্ঠানে যেতে হবে।

সুমাইয়া ফোন থেকে মুখ তুলে বলল,
— সেখানে কি বিনা পয়সায় খাবার দেবে?

আরমিন হেসে উঠল।

বাবা গম্ভীর হয়ে বললেন,
— সবকিছু নিয়ে মজা করতে নেই।

সুমাইয়া প্রশ্ন করল,
— হঠাৎ সেখানে যাওয়ার কারণ কী?

বাবা শুধু বললেন,
— পুরোনো সম্পর্ক ধরে রাখতে হয়।

কথাটা বলে তিনি চলে গেলেন। সুমাইয়ার মনে সন্দেহ জাগল—বাবা কি কিছু লুকাচ্ছেন?

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানের কথা শুনে ইরফান বিরক্ত। আরিয়ান আবার খুশি, কারণ তার কাছে অনুষ্ঠান মানেই নতুন খাবার!

ইহান হেসে বলল,
— ভাইয়া, তুমি দাওয়াতে যাচ্ছ, নাকি খাবারের প্রতিযোগিতায়?

আরিয়ান গম্ভীরভাবে বলল,
— খাবারের গুরুত্ব সবাই বোঝে না!

কেউ জানত না, এই একটি অনুষ্ঠান তিন পরিবারের ভাগ্য বদলে দেবে।

সেখানে শুরু হবে সুমাইয়া ও ইরফানের প্রথম ঝগড়া, আরিয়ান ও আরমিনের মিষ্টি খুনসুটি এবং ইহান ও ইনায়ার অদ্ভুত সম্পর্ক।

কিন্তু ভালোবাসার পাশাপাশি জেগে উঠবে পুরোনো রহস্য ও প্রতিশোধের আগুন।
.
.
.
.

শুক্রবার, সন্ধ্যা সাতটা।

চৌধুরী ভিলা আজ আলোয় ঝলমল করছে। শহরের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা একে একে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হচ্ছেন।

🌸 ইসলাম ভিলা

— আপু! আমার কালো ওড়না কোথায়? — সুমাইয়া চিৎকার করল।

আরমিন বিরক্ত হয়ে বলল,
— তোর ওড়না কি আমার কাছে রেখেছিস?

সুমাইয়া হেসে বলল,
— তোর জামাই লুকিয়ে রেখেছে নাকি?

আরমিন বালিশ ছুড়ে মারতেই সে দৌড়ে পালাল।

কিছুক্ষণ পর দুই বোন তৈরি হয়ে নিচে নামল। বাবা তাদের নিয়ে চৌধুরী ভিলার উদ্দেশে রওনা হলেন।

গাড়িতে বসে সুমাইয়া জিজ্ঞেস করল,
— আব্বু, সেখানে বিরিয়ানি থাকবে তো?

বাবা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
— তোর মাথায় শুধু খাবার!

সুমাইয়া গম্ভীর হয়ে বলল,
— পেট খালি থাকলে প্রেমও আসে না!

আরমিন হেসে বলল,
— তোকে আবার কে প্রেম করবে?

সুমাইয়া আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলল,
— আমার মতো মেয়েকে পটাতে ছেলেদের প্রতিযোগিতা হবে!

কিন্তু সে জানত না, আজই এমন একজনের সঙ্গে দেখা হবে, যে তার সব অহংকারকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।

👑 চৌধুরী ভিলা

কালো শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামল ইরফান চৌধুরী। গম্ভীর মুখ আর রাগী চোখ দেখে বোঝা যায়, তার মেজাজ ভালো নেই।

বাবা বললেন,
— অতিথিদের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলবি। কোনো ঝামেলা চাই না।

ইরফান ঠান্ডা গলায় বলল,
— আমি অকারণে ঝামেলা করি না।

পাশ থেকে বোন ইনা বলে উঠল,
— হ্যাঁ, তুমি শুধু ঝামেলার কারণ খুঁজে নাও!

ইরফান চোখ রাঙাতেই ইনা হেসে পালিয়ে গেল।

কিছুক্ষণ পর খান পরিবারের দুই ভাই, আরিয়ান ও ইহান, উপস্থিত হলো।

আরিয়ান খাবারের টেবিল দেখে বলল,
— এই বাড়ির সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক আছে!

ইহান মাথায় হাত দিয়ে বলল,
— ভাইয়া, তুমি দাওয়াতে এসেছ, নাকি খেতে?

— দুটোই!

তাদের কথায় ইনা হেসে ফেলল। ইহান তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।

— সুন্দর মানুষ রাগ করলেও সুন্দর লাগে, — ইহান বলল।

ইনা ভ্রু কুঁচকে বলল,
— ফ্লার্ট করছেন?

— আপনার সঙ্গে কথা বলার অনুমতি চাইছি।

— স্বপ্ন দেখতে থাকুন!

ইহান মনে মনে হাসল। মেয়েটাকে তার বেশ মজার মনে হলো।

❤️‍🔥 প্রথম দেখা, প্রথম ঝগড়া

সুমাইয়া ও আরমিন অনুষ্ঠানে ঢুকেই খাবারের টেবিল খুঁজতে লাগল।

আরমিন বলল,
— একটু ভদ্রভাবে চলবি। এটা আমাদের বাড়ি নয়।

সুমাইয়া ফিসফিস করে বলল,
— ভদ্রতা পেটে যায় না, আপু!

কথা বলতে বলতে পেছনে ঘুরতেই সামনে দাঁড়ানো একজনের সঙ্গে ধাক্কা লাগল। সুমাইয়ার হাতে থাকা জুস গিয়ে পড়ল লোকটির কালো শার্টে।

লোকটি আর কেউ নয়, ইরফান চৌধুরী!

ইরফান রেগে বলল,
— চোখে দেখতে পাও না?

সুমাইয়া মুখ তুলে বলল,
— পাই। কিন্তু আপনার মতো পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা খাব, ভাবিনি!

— কী বললে?

— কানেও সমস্যা? ডাক্তার দেখান!

দূরে দাঁড়িয়ে আরিয়ান হাসি চেপে বলল,
— দোস্ত, আজ বিনা টিকিটে নাটক দেখছি!

ইহান মুচকি হেসে বলল,
— প্রথম দেখাতেই ঝগড়া!

ইরফান গম্ভীর গলায় বলল,
— তুমি জানো, আমি কে?

সুমাইয়া হেসে উত্তর দিল,
— জানার ইচ্ছা নেই। শার্টের দাম বেশি হলে সাবান কিনে দিতে পারি!

চারপাশের কয়েকজন হেসে উঠল।

ইরফান রেগে বলল,
— তোমার সাহস তো কম নয়!

— সাহস নিয়ে জন্মেছি, কারও কাছ থেকে ধার করিনি!

কথাটা বলেই সুমাইয়া আরমিনের হাত ধরে চলে গেল।

ইরফান তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।

আরিয়ান কাছে এসে বলল,
— মেয়েটা কিন্তু আগুন!

ইরফান দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
— ওকে আমি ছাড়ব না।

আরিয়ান হেসে বলল,
— বিয়ে করে, নাকি প্রতিশোধ নিয়ে?

ইরফান চোখ রাঙাতেই আরিয়ান সরে পড়ল।

অথচ ইরফান নিজেই বুঝতে পারল না, মেয়েটির দুষ্টু চাহনি কেন বারবার তার মনে পড়ছে।

🥀 অতীতের রহস্য

অনুষ্ঠানের নির্জন এক কোণে ইসলাম পরিবারের কর্তা চৌধুরী পরিবারের প্রধানকে বললেন,

— এত বছর পরও কি আপনি অতীত ভুলতে পারেননি?

চৌধুরী সাহেব গম্ভীর হয়ে বললেন,
— কিছু অতীত কখনো ভোলা যায় না। বিশেষ করে যখন তার সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক জড়িয়ে থাকে।

— কিন্তু আমাদের সন্তানদের তো কোনো দোষ নেই।

— সত্যিটা চিরকাল লুকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

দূরে দাঁড়িয়ে এক অচেনা ব্যক্তি তাদের কথা শুনছিল। সে ফোনে একটি মেসেজ পাঠাল—

“তিন পরিবার একসঙ্গে। এবার প্রতিশোধের প্রথম চাল দেওয়ার সময়।”

মেসেজ পাঠিয়ে লোকটি অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।

অন্যদিকে, সুমাইয়া খাবার খেতে খেতে আরমিনকে বলল,

— আপু, ওই রাগী ছেলেটার মাথায় মরিচের গুঁড়া বেশি!

আরমিন হেসে বলল,
— তুই আবার ঝগড়া করেছিস?

— ঝগড়া নয়, পরিচয় হয়েছে!

আরমিন মাথায় হাত দিল। সুমাইয়া হাসতে লাগল।

সে জানত না, যাকে আজ এত অপছন্দ করেছে, একদিন সেই মানুষটিই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আর ইরফানও জানত না, এই চঞ্চল মেয়েটিই একদিন তার অহংকারকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।

কিন্তু তাদের সামনে অপেক্ষা করছে তিন পরিবারের অতীত, গোপন রহস্য আর প্রতিশোধের এক ভয়ংকর খেলা।

চলবে...💬📚

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন