ফন্ট সাইজ:
থিম:
লাভ বাই দ্যা ভিলেন

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩১ (৩)

লেখক: লিজা মনি

প্রভাতের অদ্যপ্রকাশ সেই ক্ষণে সম্পন্ন হয়। যখন গভীর রাতের স্তব্ধতা ধীরে ধীরে সরে গিয়ে পূর্বাকাশে আলো-আঁধারের সূক্ষ্ম দ্বৈততা স্পষ্ট হতে শুরু করে। তখন দিগন্তরেখা অনিন্দ্য রক্তিম কিরণে আলোকিত হয়ে এক প্রকার অচেনা মহিমার ইঙ্গিত বহন করে যেন প্রকৃতি সুপ্ত পৃথিবীকে ধীর লয়ে পুনর্জাগরণের আহ্বান জানায়।

শিশিরসিক্ত পাতাগুলোর উপর আলোর প্রথম স্পর্শ এমন এক স্বচ্ছ জ্যোতি সৃষ্টি করে যা মনে হয় যেন নিঃশব্দে গঠিত কোনো স্বর্গীয় আচ্ছাদন পৃথিবীর বুকে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাখিরা সেই আবির্ভাবমুহূর্তেই নিজেদের সুমধুর কাকলিতে পরিবেশকে আন্দোলিত করে তোলে। আর তাদের সুরেলা ধ্বনি প্রভাতের আকাশে এমনভাবে প্রতিধ্বনিত হয় যে মনে হয় যেন অদৃশ্য কোনো সংগীতজ্ঞ আকাশের গম্বুজে নবদিবসের আরম্ভসঙ্গীত রচনা করছে।

বাতাসের নিম্নগত খসখসে স্রোতও তখন এক ধরনের অপরিচিত পবিত্রতা ধারণ করে। প্রতিটি কণিকা নবোদিত সূর্যালোকের শুচি আভায় অভিষিক্ত হয়ে নীরব আশীর্বাদের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। দূরবর্তী নদীর জলে সূর্যের প্রথম কিরণ প্রতিফলিত হয়ে আকাশের রঙকে আরও গভীর ও গম্ভীর করে তোলে।জলরাশির বুকেই প্রভাতের আসল রহস্য নিঃশ্বাস ফেলে লুকিয়ে রয়েছে।

এই সমস্ত দৃশ্য-সংমিশ্রণে প্রভাত এমন এক দ্যুতিময় শুভক্ষণে রূপান্তরিত হয়।যা মানুষকে মনে করিয়ে দেয় জীবন প্রতিদিন নতুনভাবে আরম্ভ হওয়ার অদৃশ্য কিন্তু গভীর অধিকার নিয়ে পৃথিবীর বুকে স্থিত থাকে।

সকালের মিষ্টি এই মুহূর্তে নিক গম্ভীর মুখে বসে আছে। ড. ইসাবেলা এনিকে পরীক্ষা করছে। এনি লজ্জায় চোখ বন্ধ করে আছে। আগে যতবার ড. ইসাবেলা এসেছিলো ততদিন সে অজ্ঞান অবস্তস্থায় ছিলো। সামনা-সামনি সাক্ষাত হয় নি কোনোদিন। ড. ইসাবেলা এনিকে ভালোভাবে পরখ করে। সামান্য ভয় নিয়ে নিকের উদ্দেশ্যে বলে,

” ম্যামকে কিছুদিন রেস্টে থাকতে দিন স্যার।

নিক কপালে ভাঁজ ফেলে বলে,

” পুরো দিন রুমের ভিতরে থাকে। কোনো কাজ করে না। রেস্ট আর কিভাবে দিব?

ড. ইসাবেলা চোখের পাতা নাড়িয়ে ঠোঁট ভিজালেন। মেকি হাসি দিয়ে বলে,

” এইসব রেস্ট নয়। কয়েকটা দিন ওনার কাছে আসবেন না।

নিক কপাল কুচকে তাকায়। ড. ইসাবেলার দিকে এক পলক তাকিয়ে ধমকে উঠে,

” আউট!

ড. ইসাবেলা কেঁপে উঠে নিকের ধমকে। এনি চোখ মেলে তাকায় হিংস্র পুরুষটার দিকে। এনি চোখ দিয়ে ইশারা করে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য। ড. ইসাবেলা আর দাড়ালো না। দ্রুত সম্ভব রুম ত্যাগ করে। ড. ইসাবেলা চলে যেতেই নিক চোয়াল শক্ত করে সেদিকে তাকিয়ে বলে,

” বালের ড. হয়েছে। চিকিৎসা করতে এসে বলে কাছে যাবেন না। কাছে আমি ইচ্ছে করে যায় নাকি? এই মেয়ে নিজেই তো কাছে যেতে বাধ্য করে।

এনি শুনলো নিকের কথাটা। কিন্তু কথাটা তার সহ্য হলো না। বিছানার চাদর টেনে বলে,

” আমি আপনাকে বাধ্য করি? অসভ্য, নির্লজ্জ জানোয়ার আপনি। লজ্জা নেই আপনার? এইসব পার্সোনাল বিষয়ে ড. নিয়ে চলে আসেন?

নিক কপাল কুচকে ফেলে। এনির দিকে তাকিয়ে ঠোঁট কামড়ে বলে,

” পার্সোনাল?

এনি থতমত খেয়ে যায়। শুষ্ক ঠোঁট ভিজিয়ে বলে,

” এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই না। আপনার লজ্জা না থাকতে পারে। কিন্তু আমার আছে। রুম থেকে বেরিয়ে যান এখন।

নিক চোখ ছোট ছোট করে বলে,

” আমার রুমে শুয়ে থেকে আমাকে রুম থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আদেশ করো কোন সাহসে?

এনি দৃষ্টি নত করে ফেলে। এই প্রশ্নের উত্তর নেই তার কাছে। নিক ডিভানের মধ্যে বসে। এনি রাগে নিজের চুল খামছে ধরে। নিক সেদিকে তাকিয়ে বলে,

” চুমুর পরিমান কি কম ছিলো? পোষায় নি তোমার? সাপের মত এমন ফুঁশ-ফুঁশ করছো কেনো?

এনি চোয়াল শক্ত করে নিকের দিকে তাকায়। নিকের অধরে লেগে আছে বাঁকা হাসি। এনি কিছুটা গম্ভীরতা পালন করে বলে,

” পিল দিন আমাকে?

নিক দাঁতে দাঁত পিষে। চোখে হিংস্রতা অথচ শান্ত কন্ঠে বলে,

” নো বেবিগার্ল।

” কেনো? কি চাইছেন আপনি?

” কিছুই না।

” তাহলে পিল দিচ্ছেন না কেনো?

” টাকা নষ্ট করতে ইচ্ছুক নয়।

এনি রক্তলাল চোখে বলে,

” বাহানা খুঁজবেন না। বুঝতে চাইছেন না কেনো? আমি আপনার অস্তিত্ব নিজের মধ্যে রাখতে চাই না।

” তোমাকে দিয়েছে কে আমার অস্তিত্ব?

এনি অবাক হয়ে তাকায়। ঠোঁট কামড়ে কিছুক্ষণ বড় বড় নিশ্বাস ফেলে বলে,

” নির্লজ্জ লোক। এখন কি এইটা ভেঙ্গে ভেঙ্গে বুঝাব আপনাকে। অসভ্যতামি না করে আমাকে আমার মেডিসিন দিয়ে দিন।

নিক গ্রিবাদেশ নাড়িয়ে বলে,

” তোমার চিত্রা মাসি দিয়ে যাবে না বেবিগার্ল?

এনি চমকে উঠে নিকের কথায়। অবাক হয়ে বলে,

” আপনি জানতেন সব কিছু?

নিক ডিভান থেকে উঠে দাঁড়ায়,

” আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে এই মহিলা। আগে জানলে রুহটা আমার হাতেই যেত। ভাগ্য মন্দ অন্যের হাতে গিয়েছে। নিজের হাতে মারতে পারি নি।

এনি চাদর খামছে ধরে বলে,

” তাহলে খুনিদের শাস্থি কেনো দিয়েছেন?

” রে***প করেছে তাই? আমার বাড়ির স্টাফকে মারার রাইট অন্যকে দেয় নি।

” জানোয়ার আপনি। ধ্বংস হবেন একদিন। মিলিয়ে নিয়েন আমার কথা।

নিক অদ্ভুতভাবে হেসে বলে,

” ধ্বংসের শেষ প্রান্তে যেদিন দাড়াব। সেদিন সেই খাদ থেকে তুমি আমাকে নিয়ে আসবে।

এনি তাচ্ছিল্য হেসে বলে ,

” কত কনফিডেন্স। মানুষরুপী জানোয়ারকে নাকি আমি বাঁচাব।

নিক কিছু বলতে গিয়েও থেমে যায়। তার দৃষ্টি যায় এনির হাতের দিকে। দুই পা এগিয়ে হাতটা চেপে ধরে। ক্ষতস্থানে তাকিয়ে বলে,

” এই ক্ষতস্থান কিসের?

এনি নিজের হাতের দিকে তাকায়। রান্না করার সময় গরম পাত্রে ছেকা লেগেছিলো। ফলে জায়গাটা কিছুটা কালো হয়ে গিয়েছে। এনি হাত ঝাঁটকা দিয়ে সরিয়ে বলে,

” পুরো জায়গা ঝলসে যাক তাতে আপনার কি?

নিক চোয়াল শক্ত করে ফেলে। রিজেকশন তার একদম পছন্দ নয়। ক্ষুব্দতা নিয়ে এনির হাতটা পুনরায় চেপে ধরে। এনি নাক -মুখ খিচে ফেলে। ক্ষতের জায়গায় কিছুক্ষন তাকিয়ে বলে,

” পুড়েছে কিভাবে?

” গরম পাত্রে ছেকা লেগেছে।

নিক চোখ গরম করে তাকিয়ে বলে,

” গরম পাত্র ধরতে গিয়েছো কেনো?

এনি রাগে চেঁচিয়ে উঠে,

” রান্না কি ফ্রিজে বসিয়ে করব? আর পুড়েছে তাতে আপনার কি? আমার শরীরের আঘাত দেখলে তো প্রচুর আনন্দ অনুভব করেন। এতেও খুশি হন।

নিক এনির চোয়াল চেপে ধরে বলে,

” ফা*ক অফ বেবিগার্ল। গলার আওয়াজ উপরে উঠে কোন সাহসে। অসুস্থ তাই আঘাত করতে চাইছি না। আনন্দ আসে তখন যখন নিজে ক্ষত করি। হার্ড রোমান্সের সাথে মানিয়ে নিতে হবে। কারন আমি সাধারনভাবে স্পর্শ করতে পারি না। এই শরীরে ক্ষত হবে আমার স্পর্শ। অন্য কোনো কারনে ক্ষত হলে সেটা সহ্য করব না।

নিক কথাগুলো বলে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। কাবার্ড খুলে কিছু একটা বের করে। পুনরায় এনির সামনে এসে বসে পড়ে। ডান হাতটা হালকা স্পর্শে নিজের উড়ুর উপর রাখে। মলমের কৌটা থেকে সামান্য মলম নিজের বৃদ্ধা আঙ্গুলে লাগিয়ে ক্ষতস্থানের চারদিকে লাগিয়ে দিতে থাকে। মুখটা গম্ভীর। ফর্সা মুখটা কেমন লাল হয়ে আছে। এনি ব্যাথা মুখ খিঁচে ফেলে। নিক সেখানে সামান্য ফুঁ দিয়ে আরেকটু মলম হাতে নিয়ে নেয়। এনি তাকায় নিকের মুখের দিকে। কতটা ভালো মনে হচ্ছে লোকটাকে। নিকের এমন ব্যবহারে প্রচুর অবাক হয়। চাবুকের আঘাত, আর ও ভিবিন্ন আঘাতে কতবার ব্যাথায় ছটফট করেছে। রাতে ঘুমাতে পারত না যন্ত্রনায়। কই তখন তো মলম লাগাতে আসে নি। এখন কেনো এমন বেপোরোয়াভাবে মেডিসিন দিয়ে দিচ্ছে। এনি নিশ্বাস টেনে কপাল কুচকে ফেলে। নিকের দিকে তাকিয়ে বলে,

” এই মলমের গন্ধটা প্রচুর পরিচিত।

নিক গম্ভীর। যেন কারোর কথা সে শুনে নি। এনি ছটফটিয়ে বলে,

” এই মলম কোথা থেকে এসেছে ? আপনার কাছে আসলো কিভাবে? এই গন্ধটা অতি পরিচিত। প্রতিদিন সকালে নিজের শরীর থেকে এই মলমের গন্ধ পেতাম। যখন ঘুমে থাকতাম তখন হয়ত ক্ষতে চিত্রা মাসি লাগিয়ে দিয়ে যেত। কিন্তু আপনার কাছে আসলো কিভাবে?

নিক হাত ছেড়ে দিয়ে বিরিক্তির চোখে তাকায় এনির দিকে। চোখের নিচে কেমন কালো হয়ে যাচ্ছে। দবদবে ফর্সা মুখে এইটা খুবই বেমানান। নিককে বিরক্ত হতে দেখে এনি গম্ভীর নিশ্বাস ফেলে। নিক এখনও এনির হাতে ফুঁ দিয়ে দিচ্ছে। এনি রিয়্যাকশন দিতে ভুলে গেছে। এইটা কি সেই নিক জেভরান? যে কাল ও তাকে মানসিক যন্ত্রনা দিয়ে মেরে ফেলছিলো প্রায়। নিকের ঘাড় পর্যন্ত চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে। ঠোঁটের পাশের তিলটা আরও আকর্ষনীয়। এনি সেদিকে তাকিয়ে আচমকা বলে,

” আমার জীবনে যখন এসেছেন তখন কাল বৈশাখী ঝড়ের মত কেনো আসলেন? একজন নায়ক হয়ে কেনো অস্তিত্বে মিশলেন না। যদি ভালো হতেন কবেই প্রেমে পড়ে যেতাম। বাট আফসোস চরম লেভেলের ঘৃনা করি আপনাকে। ভালোবাসেন আমাকে নিক জেভরান?

নিক ঠোঁট কামড়ে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যে তার চেহারের রং পরিবর্তন হতে থাকে। নিক ভ্রুঁ ভাঁজ করে বলে,

” তোমাকে আমার প্রেমিক পুরুষ মনে হয় যে, ভালোবাসার জন্য জনতার কাছে হাত পাতবে? আমি ভিলেন ব্লাড রোজ। আমার আর তোমার মধ্যে যে আসবে তার দেহকে খন্ড-বিখন্ড করতেও আমার হাত কাঁপবে না। বরং পৈশাচিক আনন্দ লাভ করব।

” কেনো এত বর্বরতা আপনার মধ্যে? আমাকে হাজার জন পুরুষ দেখলে এত রেগে যান কেনো? পাচার কেন্দ্রে এত জন পুরুষের লালসা থেকে কেনো আমকে বাঁচিয়েছেন? কেনো নিলাম কেন্দ্র থেকে তুলে আনলেন? আর কেনোইবা নিজের কাছে রেখে শারিরীক -মানসিকভাবে আঘাত করছেন?

নিক এনির হাতটা সরিয়ে দিয়ে ঈগল চোখে তাকায় এনির দিকে,

” প্রশ্ন করতে ভয় করছে না?

” উত্তর জানতে চাইছি। আর আঘাত করবেন না জানি? আমি অসুস্থ।

নিক ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,

” ত্যারামি করলে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আমার অত্যাচার তোমাকে বহন করতে হবে। আমার কথা অনুযায়ী চলো। পৃথিবীর সমস্ত সুখ তোমার পদতলে এনে রাখব।

” আপনার কোন কথাটা শুনতে বলছেন? চার দেয়ালের মধ্যে যাতে আজীবন বন্ধী থাকি? আলো -বাতাস কিছুর সংস্পর্শে যাতে না যায়? আদ’ও এইভাবে জীবন পার করা যায়? আমি মুক্ত আকাশে ঘুড়ে বেড়ানো পাখি গ্যাংস্টার বস। বন্ধী দশা আমার জন্য নয়। এই রুম আমার কাছে মৃত্যুর থেকে ও কষ্টদায়ক। আপনি সুস্থ মানুষ নন। রেগে গেলে আপনি হিংস্র হায়েনাতে রুপান্তরিত হন। এই উত্তাপ আমি সহ্য করতে পারি না। আমি সাধারন জীবন থেকে বাঁচতে চাই। হালাল জীবন -যাপন করতে চাই। আপনার এই নিষিদ্ধ দুনিয়ায় বাঁচতে পারব না। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে মরে যাব একদিন।

এনি আর বলতে পারলো না। নিক এনির গলাটা চেপে ধরে নিজের কাছে নিয়ে আসে। চোখ চোখ রেখে চোয়াল শক্ত করে বলে,

” সব কিছু তকে গ্রহন করতে হবে। তর দিকে কেউ তাকালে আমি সহ্য করতে পারি না। তর দিকে তাকিয়ে আমি নিজেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছি। মেয়ে জাতিকে ঘৃনা করি আমি। অথচ একই রুমে দিনের পর পর দিন এক মেয়ের সাথে কাটাচ্ছি। আই কিপ ব্রেকিং অল মাই ওন রুলস অ্যাগেইন অ্যান্ড অ্যাগেইন। গার্লস বিকাম রুইন্ড ক্যারেক্টারলেস। ইয়েট আই টায়েড হার টু মাই ফাকিং লাইফ। দেয়ার’স নো এস্কেপ এনিমোর।

এনি চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলে,

” আপনার মা ও কিন্তু একজন মেয়ে?

নিকের চোখে রেক্ত ভেসে উঠে। মুহূর্তেই শান্ত গ্যাংস্টার বস অশান্ত রুপ ধারন করে। হাতের চাপ আরও শক্ত করে বলে,

” খবরদার এই চরিত্রহীন মহিলাকে আমার মা বানাবে না। একজন পতিতালয়ের ব্যাশ্যা আমার মা হতে পারে না।

নিক গর্জে উঠে। এনি কেঁপে উঠে। নিকের কথায় ব্যাথা ভুলে গিয়ে বলে ,

” নিজের মাকে নিয়ে এত বাজে মন্তব্য কেনো করছেন? জন্মদাত্রী আপনার।

নিক ঘন -ঘন শ্বাস টানে। কেমন ক্ষ্যাপা বাঘ হয়ে উঠেছে। এনি ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে। নিক এনির দুই বাহু চেপে ধরে বলে,

” এই মহিলা আমার বাবার খুনী, আবার বোনের খুনী, আমার দাদা-দাদীর খুনী। আমার কোনো মা নেই। পুনরায় মা সম্মোধন করলে জিহ্বা কেটে ফেলব।

” এই কারনে মেরে ফেলেছেন নিজের মা-কে?

নিক কপাল কুচকে বলে,

” কিভাবে জানো?

” আপনি নিজেই বলেছেন। মাতাল অবস্থায় বার বার বলছিলেন নিজের মাকে খুন করেছেন। এই হাতে মায়ের রক্ত লেগে আছে।

নিক চোখ বন্ধ করে বড় করে নিশ্বাস টেনে বলে,

” ভুলে যাও এইসব। দ্বীতিয়বার যাতে এইসব রিপিট করতে না দেখি।

এনি নিকের অস্থির মুখের দিকে তাকায়। আচমকা নিকের ঘাড় চেপে ধরে নিজের মুখের কাছে নিয়ে আসে। ঠোঁটের পাশের তিলটাতে হাত ছুঁইয়ে মিঁষ্টি সুরে বলে,

” প্লিজ বলুন না। কেনো মেরেছিলেন উনাকে?

নিক কপাল কুচকে ফেলে। এত কাছে এনিকে দেখে অস্থির হয়ে উঠে। পুরুষত্ব মনটা জেগে উঠতে চাইছে। এনির কোমড় চেপে ধরতে গিয়েও আটকে যায়। ড. ইসাবেলার কথা মনে হতেই হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে। রে নিক ঘন ঘন নিশ্বাস টেনে এনিকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেয়। বিছানা থেকে উঠে আর এক মুহূর্ত দাড়ালো না। বড় বড় পা ফেলে রুম থেকে বেরিয়ে যায়। এনি বেকুবের মত তাকিয়ে থাকে নিকের দিকে। এত সুন্দর নাটক করেও কথা বের করতে পারলো না।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩১ (৩) শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন