ফন্ট সাইজ:
থিম:
লাভ বাই দ্যা ভিলেন

লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৪ (২)

লেখক: লিজা মনি

আরিশ এক নাগারে কথাগুলো বলে সামনে তাকায়। এরপর বড় বড় পা ফেলে মিনার থেকে বেরিয়ে যায়। এনি স্তব্দ হয়ে আছে। কি বলে গেলো এইসব! এমন মনে হচ্ছে পুরো কাহিনী চোখের সামনে ভাসছে। নিজেই ট্রমার মধ্যে চলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।।এর অতীত তো আমার থেকেও ভয়ানক। পুরো শরীর শিরশির করছে। স্তব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। মাথা ব্যাথা করছে প্রচন্ড। পানি খাওয়া প্রয়োজন এই মুহূর্তে। আতঙ্কে গলা শুকিয়ে আসছে। হঠাৎ কারোর পায়ের শব্দে দাঁড়িয়ে যায়। ভয়ে শরীরে কাটা দিয়ে উঠে। পায়ের নিচে শিরশির করে উঠে। আবছা আলোতে ঢাকা পুরোটা মিনার। মনে হচ্ছে কেউ একজন তার দিকে তাকিয়ে আছে। একটা ছায়া তাকে অপলকভাবে দেখছে। তার শরীরের প্রতিটা ভাঁজ নিঁখুতভাবে পর্যবেক্ষন করছে। এমন অনুভব তার সেদিন হয়েছিলো যেদিন সে রান্না করেছিলো। তবে জ্বরের কারনে এতটা খেয়াল করে নি। তবে আজ সে পুরো-পুরিভাবে সুস্থ। প্রতিটা পদক্ষেপ এনি অনুভব করতে পারছে। এনি কিচেন থেকে বেরিয়ে আসে। বিরাট বড় ড্রয়িং রুমে সে একা দাঁড়িয়ে। দেয়ালে কত কিছু ভয়ানকভাবে আর্ট করা। কালো আর লালের মিশ্রন দেয়ালগুলো কেমন ছমছমে হয়ে উঠে। আকস্মিক একটা ঠান্ডা স্পর্শে তার জামা ভেদ করে কোমড় ছুঁয়ে যায়। ব্যাপারটা এত দ্রুত হয়েছে যে এনি চোখের পলক ও ফেলতে পারে নি। ভয়ে কাটা দিয়ে উঠে শরীর। কারোর অবয়ব তার বুঝতে বাকি নেই। কারন অবয়বটা একদম তার পিঠ ঘেষে গিয়েছে। এনি ভয়ে এখান থেকে নড়তেও ভুলে গিয়েছে। মুখ চেপে ধরে মনের অজান্তেই বিরবির করে উঠে,

” এত বড় বাড়িতে আমাকে একা রেখে চলে যেতে বুক কাঁপলো না আপনার!

এনি ভয়ে একই জায়গায় ঘাপটি মেরে দাঁড়িয়ে থাকে। নিশ্বাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে ধীরে ধীরে। পায়ের নিচের অংশ শিরশির করছে। দুই -তিন মিনিটের মধ্যে আর পায়ের শব্দ শুনা যাচ্ছে না। আর কারোর অস্তিত্ব অনুভব করতে পারছে না। এনি ধীরে ধীরে মুখ থেকে হাত সরায়। ঠোঁট ভিজিয়ে কাঁপা শরীরটা কোনোরকম টেনে সামান্য পিছিয়ে যায়। ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকায়। আবছা অন্ধকার, শুনশান নিরবতায় যেন পরিবেশটা ছমছমে হয়ে উঠে। এনি শুকনো ঢোক গিলে শরীরটা সামান্য নরমাল করে। চার-পাশে ভয় নিয়ে দৃষ্টি ঘুরায়। কারোর অস্তিত্ব নেই। এত এত বডিগার্ডের মধ্যে কার সাহস হলো মিনারে ডুকার! তাও আবার গ্যাংস্টার বসের মিনারে। এনির শরীর থরথর করে কাঁপছে। প্রেত-আত্না বলতে কিছু নেই সেটা সে মনে -প্রানে বিশ্বাস করে। কিন্তু এখন হৃদয় যেন অন্য কথা বলছে। মনে হচ্ছে একটা ছায়া তাকে ঘিরে ফেলেছিলো। কেউ একজন ছিলো। হয় মানুষ নাহয় অন্য কিছু! এনি আর দাড়ালো না। কোনোদিকে খেয়াল না করে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নিজের রুমের দিকে যেতে থাকে। মেহেরের রুমে উকি দিয়ে দরজাটা লাগিয়ে দেয়। নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগাতেও ভুলে যায়। শরীর থেকে ওড়না-টা খুলে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে দেয়। কপাল থেকে টিপ-টিপ করে ঘাম ঝরছে। হার্টবিট প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। টেবিলের উপর থেকে পানির গ্লাস নিয়ে পুরোটা পানি গিলে ফেলে। অসাড় হয়ে আসা শরীরটাকে নিয়ে কোনোরকম বিছানার উপরে নিয়ে হেডবোর্ডে হেলান দিয়ে গুটিঁশুটি হয়ে বসে পড়ে। কোমড়ের মধ্যে স্পর্শ করা সেই ঘৃন্য ছোঁয়ার কথা মনে হতেই ভয়ে শিউরে উঠে। মনে বলছে পুরোটা মিনার ঘুরে দেখতে। কে আছে এই মিনারে? কার এত স্পর্ধা হয় তাকে এমন অশালীন স্পর্শ করার। এই স্পর্শ নিত্যান্ত অশালীন ছিলো। ঘৃনায় গা গুলিয়ে আসে এনির। মাথাটাকে হেলে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে।

আরিশ একাধারে নিকের ফোনে কল দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটা কলেই কেটে দেওয়া হচ্ছে। আরিশ রেগে কিছুটা বিশ্রি গালি উচ্চারন করে। নিকের ফোন থেকে মেসেজ আসে,

” বাল এত ফোন দিচ্ছিস কেনো? মুডে আছি ডিস্ট্রাব করিস না।

মেসেজের দিকে তাকিয়ে আরিশের চোয়াল ঝুলে আসে। পুরো শরীরে এখনও ব্যান্ডেজ করা। এই ক্ষত-বিক্ষত শরীর নিয়ে মুডে আছে? কোন মুডে থাকার কথা বলছে! আরিশ কপাল কুচকে কিছুক্ষন চুপ থেকে। আচমকা কপালের ভাঁজ সোজা হয়ে আসে। ড্রাইভিং সিটে বসতে বসতে দাঁত পিষে বলে,

” শালা কন্ট্রোলল্যাস। ভবিষ্যতে জং ধরবে দেখে নিস।

আরিশ বির বির করতে করতে গাড়ির স্ট্রিয়ারিং ঘুরায়। রাতের শুনশান নিরবতা পেরিয়ে বুলেট প্রুফ গাড়টি আপন গতিতে চলতে থাকে। আরিশের কপালে এখনও চিন্তার ভাঁজ। শালা সত্যি যদি কন্ট্রোলল্যাস হয়ে কিছু করে ফেলে। পুরো শরীরের ক্ষত এখনও তাজা হয়ে আছে। পানির স্পর্শ পেলে আরও সমস্যা হবে। কিন্তু কে গিয়ে বলে দিয়ে আসবে এই কথা! এখন যদি মিনারে গিয়ে ওর রুমে যায়, তাহলে আমার ভবিষ্যতে লাল বাত্তি ধরিয়ে দিবে। গাড়িটা ধীরে ধীরে বাগান বাড়ির সামনে এসে থামে।

আরিশ গাড়ি থেকে নেমে দ্রুত ফিঙ্গার টাচ করে ভেতরে প্রবেশ করে। ভিতরে ডুকতেই বিরক্তিতে চোখ সরিয়ে ফেলে। নাজলী ডিভানে পা তুলে বসে আইসক্রিম খাচ্ছে। আরিশ দেখেও যেন দেখলো না। মেজাজ এমনিতেই চটে আছে। তাই কোনো বাক্য ব্যয় না করে নিজের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যেতে থেকে। আরিশকে এত শান্ত দেখে নাজলী ঠোঁট বাঁকায়। আরিশের এত শান্ত ব্যবহার নাজলী হজম করতে পারছে না। এত শান্ত জীবন তো ক্রিমিনালের বাচ্চাকে সে দিবে না। পদে -পদে বিরক্ত করে জীবনটাকে বিষিয়ে তুলবে। এরপর সময় হলে গলাও টিপে ধরতে পারে। নাজলী গলা কেঁশে হাসি দিয়ে বলে,

” স্বামী জান!

” জান

” হেই বেইবি

“হানি

” সুইটহার্ট

” হ্যান্ডসাম বয়

” আমার চকলেটের ডিব্বা!

” মাই রেড ফ্লাগ হাজবেন্ড!

” কুত্তার বাচ্চা! ক্রিমিনালের বাচ্চা, শুনতে পাচ্ছিস না।

আরিশ প্রায় সিঁড়ি পার করে ফেলছিলো। নাজলীর একটা কথাও সে কানে তুলে নি। কিন্তু শেষে এমন সম্মোধন শুনবে কল্পনা ও করে নি। গালিগুলো মস্তিষ্কে আসতেই চোয়াল শক্ত হয়ে আসে। রাগে কাঁপতে থাকে পুরো শরীর। ঘাড় ঘুরিয়ে অগ্নি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। নাজলী বিরক্তি নিয়ে তাকিয়ে আছে আরিশের দিকে। আরিশ দাঁত পিষে ঠান্ডা অথচ ভয়ানক কন্ঠে বলে,

” সাহস বেড়েছে?

নাজলী দুই কদম এগিয়ে এসে বলে,

” এইটা আমার প্রথম থেকেই ছিলো। ক্রিমিনালের বউ আমি। সাহসী না হলে – কি চলবে স্বামীজান।

” যাস্ট সেট -আপ স্টুপিট গার্ল। এইসব ফাঁকিং হাজবেন্ড সম্মোধন করলে থাপরিয়ে সোজা করব।

আরিশ কর্কশ মেজাজে ধমকে উঠে। নাজলী সামান্য কেঁপে উঠলেও নিজেকে সামলে নেয়। অধরে বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলে,

” সেই থাপ্পরটা কে ভালোবেসে গ্রহন করব। কত সাধনার পর আপনার হাতের ছোঁয়া পাব ভাবতেই শিউরে উঠছি।

আরিশ কপাল কুচকে বলে,

” ভালোবেসে! ভালোবেসে ফেললে নাকি আমাকে?

নাজলী চোখ ছোট ছোট করে আরিশের পুরো শরীর স্ক্যান করতে থাকে। শাদা শার্টের সাথে কালো প্যান্ট। এক হাতে ব্লেজার ভাঁজা করে রাখা। জেল দিয়ে সেট করা সিলকি চুলগুলো,খাড়া নাক, হালকা চাপ দাড়ি। ফর্সা মুখশ্রীর সাথে গোলাপি ঠোঁট। এইটা মোটেও গোলাপি নয়। মুলত এইটা কোন কালার সেটা ঠাহর করিতে পারলো না। এক দেখাতে যে কেউ এই পুরুষটাকে সুদর্শন বলবে। সে যতই বুড়ো -বুড়ো বলোক না কেন লোকটা মারাত্নক সুন্দর। আফিমের মত যে কোনো রমনীকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে যাবে। তার জানা মতে গুন্ডা, মাস্তানরা বেশিরভাগ বয়স্ক আর কালো, ভুড়িওয়ালা হয়। এইসব আমাবশ্যার জগতে নিক আর আর আরিশের মক্ত দবল রোগী কোথা থেকে আসলো। নাজলী আর কিছু দেখলো না। আরিশের কুচকে যাওয়া চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,

” ভালোবাসার মত এতটাও সুদর্শন নন আপনি।

দবল রোগীর মত ফর্সা হলেই হয় না। একটু সুন্দর হতে হয়।

আরিশ জানত এমন ত্যারা উত্তর এই দিবে। এই মেয়ে তাকে নিয়ে প্রশংসা করবে ভাবাটাও ঠিক নয়। আরিশ ঠোঁট কামড়ে ধরে বলে,

” রাইট, সুন্দর হওয়ার জন্য দবদবে ফর্সা হলেই হয় না। আর ঘোড়ার লেজের মত লাল চুল হলেই হয় না। দেখতে এলিয়েন এলিয়ে দেখা যায়।

নাজলী চোয়াল চেপে ধরে বলে,

” কাকে বললেন এই কথাগুলো?

” মিররের সামনে দাড়ালে প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠবে। তখন কষ্ট করে দেখে নিও।

মিরা রাগে ফুঁশ-ফুঁশ করতে করতে বলে,

” আপনার কাছে এইগুলো ঘোড়ার চুল মনে হলেও এই চুলের প্রেমে হাজারও যুবক পড়েছে। আ….

আরিশ রাগান্বিতে চোখে চায় নাজলীর দিকে। চোখ দুইটা জ্বলে উঠে ক্রোধে। এক -পা – এক – পা করে সামনে এগিয়ে আসতে থাকে। নাজলী অনেকটা জায়গা পিছিয়ে যায়। আরিশ নাজলীর দৃষ্টিতে দৃষ্টি রেখে এগিয়ে আসে। নাজলী একসময় ডিভানের উপর বসে পড়ে। আরিশ আর এগিয়ে গেলো না। সামান্য ঝুঁকে ভেতরে রাগটাকে ধামা-চাপ দিয়ে বলে,

” রাস্তার প্রস্টিটিউট ছিলে -নাকি? যে ছেলে দেখত সেই ছেলেই প্রেমে পড়ে যেত।

নাজলীর চোখ ছলছলে করে উঠে। চোখে পানি চলে আসে। ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকে বলে,

” লিমিট ক্রস করে ফেলছেন।

আরিশ গম্ভীরতা টেনে বলে,

” বাহহ, সত্যিকথা বললেও চোখে পানি চলে আসে।

নাজলী আর নিজেকে সামলাতে পারে নি। এক ঝটকায় আরিশের কলার চেপে ধরে। আরিশ চোখের পলক ফেলার আগেই নাজলী আকস্মিক আরিশের গলায় কামড়ে ধরে। আরিশ চোখ-মুখ খিঁচে ফেলে। নাজলী প্রায় দশ সেকেন্ডের মত একই জায়গায় দাঁত বসিয়ে রাখে। মুখে নোনতা কিছু অনুভব হতেই আরিশকে ছেড়ে দেয়। কামড় দেওয়া জায়গায় বার বার লম্বা নখগুলো দিয়ে আঘাত করে বলে,

” প্রস্টিটউট কেনো বললি আমাকে? তদের মত ক্লাবে নাচা-নাচি করি? নাকি পুরুষ নিয়ে ফুর্তি করি? চরিত্রের সার্টিফিকেট দেওয়ার আপনি কে? নাজলী কি সেটা আপনার ধারনার ও বাহিরে। দুর্বল নারী ভাবলে জীবনের চরম মুল্য চুকাবেন।

আরিশ নাজলীর হাতটা খপ করে ধরে ফেলে। রাগে কাঁপছে সে নিজেও। তুই-তুই কারি তার একদম পছন্দ নয়। তার উপর কামড়ে রক্তাক্ত করে ফেলেছে এইটুকু মেয়ে। কামড় দেওয়া জায়গা থেকে রক্ত বের হচ্ছে। নাজলী যেন এতে প্রচন্ড খুশী হয়েছে। আরিশ নাজলীর বাহু শক্ত করে ধরে চোয়ালটা চেপে ধরে,

” তুই-তুইকারি করছিস কোন সাহসে? দাঁতে এত শক্তি এসেছে কোথা থেকে? ভয় করে নি, যদি আমি পাল্টা আক্রমন করি।

নাজলী কান্নারত চোখে বলে,

” রাস্তার প্রস্টিটিউট কেনো বললেন?

আরিশ চিবুকটা ধরে নাজলীর তেজী মুখটার দিকে তাকালো। কেন জানি কন্ঠটা নরম হয়ে আসে,

” শরীর জ্বালা করছে।

নাজলী এক ঝটকায় আরিশের হাত সরিয়ে ফেলে। কন্ঠে কাঠিন্যতা বজায় রেখে বলে,

” খদ্দের সেজে প্রস্টিটিউটদের কাছে যাওয়া আপনাদের স্বভাব। প্রস্টিটিউট সেজে খদ্দেরকে খুশী করা আমাদের স্বভাব নয়। অবশ্য নোংরার কীট কি করে বুঝবে মৌমাছির মর্ম।

আরিশ নাজলীর গলাটা চেপে ধরে ডিভানের সাথে চেপে ধরে। রাগে ফুঁশ-ফুঁশ করছে। নাজলী চোখে -চোখে রাখে। আরিশ ঠোঁট এগিয়ে নিয়ে যেতেই নাজলী হাত দিয়ে নিজের ঠোঁট ঢেকে ফেলে। নিজের কাজে বাঁধা পেয়ে ক্রিমিনাল লিডার আরও ক্ষেপে যায়। হিংস্র গলায় বলে,

” হাত সরা ।

নাজলী আরও ভালোভাবে চেপে ধরে। মুচড়া-মুচড়ি শুরু করে ছাড়া পাওয়ার জন্য। আরিশ তীব্র ক্রোধে নাজলীর হাতটা জোর করে সরিয়ে নেয়। এরপর এক হাতে প্যান্টের ব্যল্ট খুলতে থাকে। আরিশকে প্যান্টের ব্যাল্ট খুলতে দেখে নাজলীর অন্তরাত্না কেঁপে উঠে। লোকটা প্যান্ট খুলছে কেনো? নাজলী আর ভাবতে পারলো না। আরিশ এক ঝটকায় ব্যাল্ট দিয়ে নাজলীর হাত বেঁধে ফেলে। নাজলী গলা কাটা মুরগির ন্যায় ছটফট করতে থাকে।

” কুত্তার বাচ্চা ছাড় বলছি।

আরিশ নাজলীর জামার একাংশ কাঁধ থেকে নামিয়ে ধমকে উঠে ,

” হারামজাদী চুপ থাক।

আরিশের মুখে এমন অনাকাঙ্খিত শব্দে থতমত খেয়ে যায়। নাজলী কাঁপা গলায় বলে,

” ক… কি করছেন? জামা খুলছেন কেনো?

” তর ধেমাগ কমাচ্ছি।

নাজলী আরও ছটফট করে উঠে,

” আমাকে এখান থেকে যেতে দিন। ধেমাগ এমনিতেই কমে যাবে। ছাড়ুন বলছি।

” চুপ!

আরিশ ধমকে উঠে। নাজলী পা নাড়িয়ে বলে,

” লুচ্চার বাচ্চা ছাড়তে বলেছি আমি।

আরিশ চোয়াল শক্ত করে নাজলীর পা নিজের পায়ের ভাঁজে নিয়ে বলে,

” লুচ্চামি কাকে বলে সেটা তকে শিখাচ্ছি। ক্রিমিনাল লিডার আরিশের সাথে গলাবাজি করার ফল তো তকে পেতেই হবে।

নাজলী ভয়ে শুকনো ঢোক গিলে বলে,

” আমাকে স্পর্শ করলে ট্রাস্ট মি ভবিষ্যত মামায় ঠাডা পড়বে।

” ঠাডা তো অনেক আগেই ফেলে দিয়েছো।

” জীবনেও বাবা হতে পারবেন না।

” চুপ!

আরিশ নাজলীর ঠোঁট নিজের ঠোঁটের ভাঁজে নিয়ে নেয়। নাজলী এখনও সর্বশক্তি দিয়ে ছুটাছুটি করছে। আরিশ নাজলীর ঠোঁটে চুমু খাচ্ছে কম, এতক্ষনে জমিয়ে রাখা ক্রোধটাকে ঢেলে দিচ্ছে।

বিশালাকার লাল – কালোতে আবৃত মিনারের আবছা আলোয় ভিতরে কেউ প্রবেশ করে। ছায়া মানবটা ধীরে ধীরে একটা রুমের সামনে যায়। বাম হাতের সাহায্যে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে। কোনোদিকে না তাকিয়ে তৃষ্ণার্তদের ন্যায় বিছানায় দিকে যায়। খুব সাবধানতার সাথে আগলাতে চাচ্ছে মেয়েটাকে। কিন্তু আদ’ও গ্যাংস্টার বসের স্পর্শে কি কোমলতা আছে? তার স্পর্শ মোটেও নরম নয়। মেয়েটির চুল সরিয়ে গলায় ঠোঁট ছুয়ায় শক্তভাবে। ঘুমের মধ্যেই এনি ধরফরিয়ে উঠে।

এই স্পর্শ তার অতি -পরিচিত। কিন্তু এত রাতে এখানে কি করছে? কেমন আছেন উনার শরীর? কেনো যেন মনে হচ্ছে এই বুকটা তার আশ্রয়স্থান। এতক্ষনে জমিয়ে রাখা ভয়টাকে বিসর্জন দিতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু এই বুকের মালিক একটা নরকের কীট। যে অমানুষে পরিনত হয়ে আছে। কিন্তু এই লোক এখানে কি করছে? উনার তো বেড রেস্টে থাকার কথা। সেদিনে আঘাতে ক্ষত -বিক্ষত হওয়া রক্তাক্ত বক্ষটা এনির চোখে ভেসে উঠে। বিশ্রিভাবে রক্ত ঝরছিলো বুক থেকে। অথচ লোকটা কেমন নির্বাক। সত্যি এই লোকের কোনো হার্ট নেই। এনি নিকের বাহু থেকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠে।

” উমম… নড়ে না ব্লাড রোজ।

নিকের মাদক কন্ঠে এনির শরীর শিরশির করে উঠে। এনি বিরক্তি নিয়ে চোখ খিঁচে ফেলে। কখন নিকের অতীত নিয়ে ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছিলো খেয়াল নেই। রাত কয়টা বাজে তার ধারনাও নেই।

” কি পাগলামো করছেন।

” তৃষ্ণার্ত আমি। নড়া-চড়া করো না। আদর করতে সমস্যা হয়।

” এমন আদরের কি প্রয়োজন যেখানে ক্ষণেক্ষণে রক্তাক্ত হতে হয়।

” গ্যাংস্টার বসের স্পর্শে কোমলতা নেই ফা** ব্লাড রোজ। যা পাবে সেটা শুধুই ক্ষত।

এনি এখনও চোখ বন্ধ করে আছে। নিকের এমন অদ্ভুত ব্যবহারে রেগে যাচ্ছে। কিন্তু নিকের শক্তির সামনে সে সবসময় তুচ্ছ। নিকের অবাধ্য হাত ধীরে ধীরে গভীর হতে থাকে। ঠোঁটের স্পর্শ ঘাড় থেকে ধীর ধীরে নিচে নামতে থাকে। এক হাতে জামাটা টেনে খুলে ফেলে। এনি হতভম্ভ হয়ে যায় এত দ্রুত আক্রমনে। নিকের হাত বক্ষের দিকে এগিয়ে আসতে এনি শক্তভাবে হাত চেপে ধরে। কিন্তু অবাধ্য নিকের সামনে বর্তমানে এনির শক্তি কিছুই না। এনির হাতটা সরিয়ে ফেলে। ধীরে -ধীরে নিকের স্পর্শ শক্ত হতে থাকে। নিক খামছে দিয়ে ধরে এনির পেটের নরম অংশ। এতটা ক্রোধ নিয়ে ধরেছে যে রক্ত বের হয়ে এসেছে। আকস্মিক ব্যাথা এনি সহ্য করতে পারলো না। বালিশের এক অংশ চেপে ধরে চিৎকার করে উঠে। কিন্তু নিকের কাছে এই চিৎকারটা সহ্য হলো না। এক ঝটকায় এনিকে ঘুরিয়ে ফেলে। বিছানার সাথে চেপে ধরে এনির উপরে উঠে আসে। গাল দুইটা শক্তভাবে চেপে ধরে দাঁত পিষে বলে,

” কে এসেছিলো? আমার অনুপস্থিতিতে কে এসেছিলো রুমে?

এনি ব্যাথায় নাক-মুখ খিঁচে ফেলে। ফুঁপিয়ে কান্না করে উঠে মেয়েটা। এনির কান্না এই মুহূর্তে সহ্য হচ্ছে না নিকের। গাল থেকে হাত সরিয়ে গলা চেপে ধরে গর্জে উঠে,

” বান্দির বাচ্চা কথা বলছিস না কেনো? কে স্পর্শ করেছে তকে? কাকে স্পর্শ করতে দিয়েছিস?

এনি কোনোমতে কান্না আটকে রেখে নিকের দিকে তাকায়। হাত সরানোর ব্যার্থ চেষ্টা করে বলে,

” ব্যাথা পাচ্ছি। হাত সরান।

নিক আরও ক্ষেপে যায়। হাতের দৃঢ়তা আরও শক্ত করে হিংস্র হায়েনার ন্যায় ক্ষেপে উঠে,

” কান্না করলে থাপরিয়ে কানের তালা ঝুলিয়ে দিব। সত্যি করে বল কাকে ছুঁতে দিয়েছিস?

” কেউ স্পর্শ করে নি।

নিক চোয়াল শক্ত করে ফেলে,

‘ মিথ্যা বলা শিখেছিস? চোখে চোখ রেখে মিথ্যা বলতে বুক কাঁপলো না। কাল থেকে আমি তর কাছে আসে নি। সামান্য ছুঁই নি পর্যন্ত। কোমড়ের এই নখের আচর এসেছে কোথা থেকে? তাজা রক্ত এখনও লেগে আছে।

এনির গলা শুকিয়ে আসে। শরীরে এতক্ষত চিহ্ন যে এখন আঘাত পেলেও হুশ থাকে না। ঠোঁট ভিজিয়ে নিকের হিংস্র চোখের দিকে তাকায়। এনি নিকের হাত চোয়াল থেকে সরিয়ে বলে,

‘ অন্ধকারের মধ্যে কে স্পর্শ করেছে বুঝব কিভাবে?

নিক ফুঁশে উঠে,

” আমার আমানত জিনিসের উপর অন্য কাউকে স্পর্শ করতে কেনো দিলি। সামান্য সময় নিজেকে নিরাপদে রাখতে পারলি না। নিচে নেমেছিস কেনো?

এনি চোখের দৃঁষ্টি নামিয়ে ভয়ে কাঁপা গলায় বলে,

” প.. পানি খেতে।

নিক ঘনঘন নিশ্বাস টেনে বলে,

” আর একটা মিথ্যা কথা উচ্চারন করলে জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলব। আর কোথায়, কোথায় টাচ করেছে?

এনি মিনমন সুরে বলে,

“শুধু কোমড়েই।

নিক নিজের চুল খামছে ধরে চেঁচিয়ে উঠে,

” শালার জিন্দেগীহ! কেনো জড়িয়েছিলাম এত দুর্বলতা!

নিক ছন্নছাড়া হয়ে চার-পাশে তাকায়। ঠোঁট কামড়ে ধরে নিশ্বাস টানে। চোখ দুইটা জ্বলে উঠে তীব্র ক্রোধে। ধ্বংসলীলায় মেতে উঠতে চাইছে এই মুহূর্তে। এনির নিকের বুকের দিকে তাকায়। সাদা ব্যান্ডেজ এখন ও শরীরে জড়ানো। এনির চাহনির মধ্যেই নিক এনির হাতটা শক্তভাবে চেপে ধরে। এনি নিকের দিকে তাকায়। নিক বিছানা থেকে নেমে এনিকে এক ঝটকায় নামিয়ে ফেলে। এনি নিকের দিকে আবারও তাকায়। অন্তরাত্না শুকিয়ে আসছে তার। এই হিংস্র মানবটাকে তার অনেক চিনা হয়ে গিয়েছে।

নিক এনির হাত চেপে ধরে হিরহির করে টেনে নিয়ে যাচ্ছে নিচে। এনি যন্ত্রনায় ছটফট করে উঠে,

” ক…কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আমাকে?

নিকের কোনো উত্তর নেই। শুধু গ্যাংস্টার বসের নিশ্বাসের শব্দ শুনা যাচ্ছে।। নিক ফিঙ্গারের সাহায্যে একটা,কাউচের উপর টাচ করে। সাথে সাথে কাউচটা দুই পাশ দিয়ে খুলে যায়। এনি অবাক হয়ে যায়। সে-তো ভেবেছিলো এইটা শেষ দেয়াল। কিন্তু এইদিকে তো ভয়ানক সুরঙ্গ পথ। এনি ভয়ে নিকের হাত চেপে ধরে। কি আশ্চর্য সিংহের গুহায় ডুকে সিংহকে চেপে ধরছে ভয় নিবারনে।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে লাভ বাই দ্যা ভিলেন পর্ব ৩৪ (২) শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন