ইসরাতুল মিনা মির্জা একে একে কয়েকটি ভর্তার বক্স ফ্রিজ থেকে বের করলেন। বক্স ভরা ভর্তা দেখে নীলা আর ইকরার চক্ষু চড়কগাছ। তারা দুজন কল্পনাই করতে পারেনি মিহাল আর মুনভি কাজে এত ভালো পারদর্শী হবে।নীলা মনে মনে বলল ____
বাবাহ্ পেয়ারে লাল দেখি শুধু কথায় নয় কাজেও এক্সপার্ট। ইম্প্রেসিভ! তারিফ না করে পারলাম না। উনাকে পুরস্কার দেওয়া উচিত।
ইকরাও মনে মনে বলছে____
জেন্টালম্যান নিতান্তই একজন জেন্টলম্যান। কত সুন্দর বন্ধুকে নিয়ে কাজগুলো করে ফেলল। উনার বউ যে হবে সে আসলেই অনেক লাকি হবে।
ইসরাতুল মিনা মির্জা দুটি ছোট চামচ দুজনের হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললেন_____
ভর্তাগুলো খেয়ে দেখো কেমন হয়েছে।
নীলা আর ইকরা সময়ে নষ্ট না করে একটি একটি করে ভর্তা চেকে দেখলো। খাওয়ার সময় কোন রকমের এক্সপ্রেশন দেখালো না। ড্রয়িং রুম থেকে মিহাল এবং মুনভি ভয় এবং দুশ্চিন্তা উভয় সমেত তাকিয়ে আছে এই দিকে। নীলা এবং ইকরা একে একে সবগুলো পদের ভর্তা খেয়ে তারপর ইকরা বলল___
পারফেক্ট। অনেক মজার হয়েছে।
এবং নীলা বললো ___
একদম মায়েদের বানানো ভর্তার স্বাদ। মারাত্মক হয়েছে।
ইসরাতুল মিনা মির্জা সহ মিহাল এবং মুনভির সবার মুখেই হাসি ফুটে উঠল।
মুনভি খুশি হয়ে মিহালের কাঁধে হাত রেখে বলল ___
ভাই ভর্তা মনে হয় সত্যিই অনেক ভালো হয়েছে। ইকরা বলল পারফেক্ট হয়েছে এবং নীলা বলেছে একদম মায়েদের বানানো ভর্তার স্বাদ।
মিহাল নীলার দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে থেকে বলল__
আরে ভাই তুই ভুল শুনছিস।নীলা আসলে বলতে চেয়েছিল ভর্তা বানানো মিহাল কে বিয়ে করে আমি মা হতে চাই। কিন্তু আমার মায়ের সামনে এই কথাটি না বলে ঘুরিয়ে অন্য কথা বলেছে।
মিহালের কথা শুনে মুনভির কপালে হাত।সে দাঁতে দাঁত চেপে বলল___
আর এই কথাটি কি নীলা তোর কানের কাছে এসে বলেছে?
মিহাল কাঁধ ঝাঁকিয়ে জবাব দিল___
না আমি নিজেই নীলার মনের কথা বুঝে ফেলেছি।ভালোবাসি তো তাই নীলার মন কে পড়তে পারি। নীলা আমার চোখে খোলা বইয়ের মতোন।কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই বইয়ের ভাষা চাইনিজ।পড়তে হিমশিম খেতে হয়।
মুনভি কি বলবে বুঝতে পারছে না।মিহালের মাথা ঘাটতি মেরে বলল___
লাথি খাবি? আর নীলা তোকে কেন বিয়ে করার কথা ভাববে? সে তো এমনিতেই বিবাহিত। তাই দিবা স্বপ্ন দেখা বন্ধ কর।
মিহাল মুনভির দিকে তাকিয়ে চোখ পাকিয়ে বলল___
ঘুষি খাবি?
মুনভি দাঁত বের করে হাসি দিয়ে মাথা নাড়িয়ে নাড়িয়ে বলল__
জি না সোনার চাঁদ।জুতা খাবো।তাও আমার দু’জনেই। এবং তোর মাই আমাদের জুতার বারি দিবে। যদি দুটি মেয়ের সামনে নিজের বেঁচে থাকা মান ইজ্জতের কবর দিতে না চাস তাহলে চুপচাপ আমার সাথে সাথে চল।
মিহালের হুঁশ ফিরল।সে আর কথা না বলে মুনভির সাথে চলে গেলো রান্না ঘরে।গিয়ে দেখলো মিহাল তার মা নীলা এবং ইকরার সাথে কানাকানি কিছু একটা প্লেন করছে। কিন্তু কি প্লেন করছে তা সে এবং মুনভি বুঝতে পারলো না। এবং জিজ্ঞেস করার ও সাহস পেল না। নয়তো পরে দেখা যাবে তার মা উল্টো তাকে কথা শুনিয়ে দিয়েছে।
পিঠা বিক্রি করে রাত ৮ টায় অ্যাপার্টমেন্টে ফিরেছে নীলা এবং ইকরা। দুজনে বেশ ক্লান্ত।আজ প্রথম দিনেই বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। কত টাকা বিক্রি হয়েছে এখনো হিসাব করেনি তারা। আজকের দিন নীলা এবং ইকরা উভয়েই কখনো ভুলতে পারবেনা। যে যে যার যার রুমে চলে গেল ফ্রেশ হবার জন্য। গোসল করে তারপর দুজন মিলে টাকার হিসাব নিয়ে বসবে। নীলা গোসল করে রুমে আসতেই দেখলো তার ফোন বাজছে। বাংলাদেশ থেকে আননোন নাম্বারে কল এসেছে। সে ভাবলে হয়তো পরিচিত কেউ কল করেছে। তাই দেরি না করে ফোন ধরে সালাম দিয়ে জিজ্ঞেস করল____
কে?
ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ইরফান বলে উঠলো___
নীলা আমি ইরফান।কেমন আছিস? ভুলেই তো গিয়েছিস আমাকে।
নীলার চোখে মুখে বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠল ইরফানের কণ্ঠস্বর শুনে। সে নির্দ্বিধায় বলে দিল___
তোমাকে কখনো মনে রাখিনি। মনে না রাখলে ভুলে যাব কি করে।
ইরফানের মুখে অন্ধকার নেমে এলো এমন কথা শুনে। সে ভেবেছিল তার কাছ থেকে ফোন পেয়ে নীলা আগের মতই খুশি হবে। কিন্তু নীলা তার ভাবনায় এক বালতি পানি ঢেলে দিল।
নীলা আবার বলে উঠলো ____
যদি প্রয়োজনীয় কিছু বলার থাকে তাহলে তাড়াতাড়ি বল নয়তো ফোন রেখে দাও আমি অনেক ব্যস্ত।
ইরফানের ইগো হার্ট হলো। সে ভেবেছিল নীলাকে ঠকানোর পর নীলা দুর্বল হয়ে পড়বে। অথচ এখন সে নিজেই দুর্বল হয়ে পড়ছে কিন্তু নীলা প্রতিনিয়ত স্ট্রং হয়ে যাচ্ছে। তাই নীলাকে পুরনো কত মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য বলল___
মনে আছে কোন এক সময় তুমি আমার জন্য পাগল ছেলে। আমাকে ছাড়া তো কিছুই বুঝতে না।যতই আকাশে উড়না কেন আমাকে তো আর পেলে না। ইটস ইউর লস।
ইরফানের কথা শুনে নীলার ভীষণ হাসি পেল। কিছু কোন শব্দ করে হাসলো সে। নীলার হাসির শব্দ শুনে ইরফান অবাক হয়ে গেল।নীলা হঠাৎ থুতু ফেলার মত শব্দ করে বলতে লাগলো___
তোমার মত থার্ড ক্লাস ছেলে যে কিনা বিয়ের আগেই নিজের শরীর বিলিয়ে দেয় এবং জীবনে কখনো কোন উন্নতি করতে পারেনি, এমন মানুষকে হারিয়ে আমার কোন লস হয়নি। বরং আমাকে হারিয়ে উল্টো তোমার লস হয়েছে। তুমিতো আমার টাকায় চলতে। তোমার তো এখন সেই লজ্জায় মরে যাওয়া উচিত। আমি তো এটাই ভাবি কি করে এখনো নির্লজ্জের মত তুমি বেঁচে আছো। তোমার সাথে কথা বলতে আমার রুচিতে বাধে। আমাকে কল করবে না আর।
বলেই নীলা ফোন কেটে দিল। অন্যদিকে ইরফান অপমান সহ্য করতে না পেরে ফোন মেঝেতে ছুড়ে মারল। তার ফোন এতক্ষণ লাউডস্পিকারে ছিল আরশি সকল কথা বার্তাই শুনছিলো।নীলার এমন তীক্ষ্ণ কথা শুনে যেমন অবাক হলো তেমনি ইরফানের চুপসে যাও মুখ দেখে তার ভীষণ হাসি পেল। তাই মুখ চেপে হাসি ধরে রেখে বারান্দায় চলে গেল। অন্যদিকে ইরফানের রাগে ফুঁসতে লাগলো।