(🚫অতিরিক্ত রোমান্টিকতা এলার্ট। যারা অনেক বেশি রোমান্টিক গল্প পছন্দ করেন। গল্পটা তাদের জন্য)
"উফ! ব্যথা পাই কৌশিক ভাই। ছাড়ুন।"
"কেনো? আমি ছুলে ব্যথা লাগে? আর অন্য ছেলেরা ছুঁলে খুব ভালো লাগে তাই না তুবা?"
রাগী কন্ঠে কথাগুলো বলেই তুবার হাতটা আরও শক্ত করে চেপে ধরলো কৌশিক। ব্যথায় তুবার জানটা বেরিয়ে যাচ্ছে যেনো। অস্থির চিত্তে হাতটা মোচড়া মুচড়ি করতে লাগলো। কিন্তু কৌশিকের শক্ত হাতের বাঁধন থেকে বিন্দু মাত্র ছাড়া পেলো না। বিয়ে বাড়ির রঙবেরঙা লাইটের আলোতে তুবার ব্যথাতুর মুখশ্রী স্পষ্ট ফুটে উঠলো। সেই আলোতেই জ্বলে উঠলো তুবার লাল হয়ে যাওয়া হাতটা। কৌশিকের শক্ত হাতের চাপে কব্জিতে লালচে দাগ পড়েছে।
আজ তুবার চাচাতো বোন মৌমিতার বিয়ে। তুবার বড় চাচা জামাল ভূঁইয়া জমকালো আয়োজন করেছেন মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে। সেই সুবাদে একত্রিত হয়েছে আত্মীয় স্বজন সকলে। মৌমিতার সাথে সাথে আজ তুবাও খুব করে সেজেছে। গৌরবর্ণ গায়ে লাল জামদানী শাড়ি চোখ ধাঁধাঁতে যথেষ্ট। চঞ্চল পায়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে পাত্রপক্ষের সাথে আসা পাত্রের এক বন্ধুর নজরে পড়ে তুবা। তখন থেকেই ছেলেটা তুবার আশেপাশে ঘুরঘুর করছে। ভিড়ের মাঝে তুবার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে।
বিয়ে বাড়ির শত ব্যাস্ততার মধ্যেও বিষয়টা নজর এড়ায়নি কৌশিকের। এবাড়ির বড় কর্তার একমাত্র ছেলে সে। আজ তারই বোনের বিয়ে। তুবা হলো কৌশিকের ছোটো চাচার মেয়ে। মেজো চাচার ছেলে নিরবের সাথে ডেকোরেশনের কাজ দেখছিল কৌশিক। এমন সময় নজর যায় বাগানের দিকে। তুবার আগে পিছে কোনো অচেনা ছেলেকে ঘুরতে দেখে কৌশিকের শান্ত মেজাজ মুহুর্তেই বিগড়ে যায়। বেখেয়ালি তুবা ছোটাছুটি করতে গিয়ে ঘাসের ওপর রাখা ইটের টুকরোর সাথে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে লাগে। ছেলেটা সঙ্গে সঙ্গে তুবার হাত ধরে ফেলে। ব্যাস! এটুকুই যথেষ্ট ছিলো কৌশিকের রাগ সপ্তম আসমানে তুলতে। ঝড়ের গতিতে এসে ছেলেটার হাত থেকে টান দিয়ে ছাড়িয়ে নেয় তুবাকে। ছেলেটা কিছু বলার আগেই তুবার হাত শক্ত করে চেপে ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায় নিজের সাথে।
লম্বা চওড়া কৌশিকের সাথে পা মেলাতে হিমসিম খেয়ে যায় তুবা। ব্যাথাতুর কন্ঠে বলে,
"ব্যথা লাগছে কৌশিক ভাই।"
কিন্তু কৌশিক থামে না। তুবাকে টানতে টানতে সোজা নিজের ঘরে নিয়ে আসে। ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে ঠাস করে ভেতর থেকে দড়জা আটকে দেয়। ভয়ে তুবার অন্তরাত্মা কাঁপছে। বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন। কেউ যদি দুজনকে একসাথে ঘরে ঢুকতে দেখে ফেলে? যদিও সবাই বিয়ের আয়োজন নিয়ে বাগানের সাইডে আছে। তবুও তুবা ভয় পায়। ভয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলে,
"দ..দড়জা কেনো বন্ধ করলেন?"
"তোকে শিক্ষা দেবো বলে।"
"আম...আমি কিছু করিনি কৌশিক ভাই।"
আচমকা কৌশিক তুবার হাত ধরে টান দিয়ে নিজের সাথে মিশিয়ে নেয়। একহাতে কোমর পেচিয়ে ধরে তুবাকে নিজের বুকে চেপে ধরে। অন্য হাতে শক্ত করে চেপে ধরে তুবার গাল। কাঁপতে থাকা তুবার ভয়ার্ত চোখের দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
"তোকে বলেছি না? ছেলেদের থেকে দূরে থাকবি?"
"আমি তো ওনাকে চিনি না।"
"তাহলে তোর হাত ধরলো কেনো?"
"আম...আমি সত্যিই জানি না। উনি তো...."
তুবার কথা শেষ করতে দিলো না কৌশিক। আচমকা তুবার কাঁপতে থাকা ঠোঁটে আক্রমণ করে বসলো। এক হাতে কোমর চেপে ধরে অন্য হাতে শক্ত করে তুবার ঘাড় চেপে ধরলো। দুজনের মধ্যে এখন এক ইঞ্চিরও দুরত্ব নেই। কৌশিক নিজের সমস্ত রাগ তুবার ঠোঁটের ওপর ঝাড়তে লাগলো। অসহায় তুবা ছাড়া পাওয়ার জন্য ছটফটিয়ে উঠলো। কিন্তু কৌশিকের থেকে ছাড়া পেলো না। বরং তুবার মোচড়ামুচড়িতে কৌশিকের রাগ আরও বাড়লো। ছটফটে তুবার ছটফটানি থামাতে শাড়ির আঁচল ভেদ করে কোমরে হাত রাখলো কৌশিক। পুরুষলী শক্ত হাতে খামচে ধরলো নরম কোমল কোমর। বাঁকা কোমরে ঠান্ডা হাতের স্পর্শ পেয়ে তৎক্ষনাৎ স্থীর হয়ে গেলো তুবা। একদম বরফের মতো জমে শক্ত হয়ে গেলো।
কৌশিকের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি। সে ঠোঁটের ছোঁয়া আরও গভীর করলো। এবার আর রাগে নয়। বরং এবার তার ছোঁয়ায় প্রকাশ পেলো অশেষ ভালোবাসা। নিজের শক্ত পুরুষলী হাতে, কৌশিক ছুঁয়ে দিলো তুবার নরম দেহ। তুবাও চোখ বন্ধ করে অনুভব করলো কৌশিকের উন্মাদনা। কারণ সে জানে, কৌশিকের থেকে সে একদম ছাড়া পাবে না। বরং ছোটাছুটি করতে গেলে কৌশিক আরও রেগে যাবে। তাই চুপচাপ চোখ বন্ধ করে নিজেকে সপে দিলো কৌশিকের কাছে।
অনুভুতির সাগরে ভেসে দুজন কখন যে বিছানায় চলে গেছে, কেউই বুঝতে পারেনি। শুরুটা রাগের সাথে হলেও এখন কৌশিকের মধ্যে বিন্দু মাত্র রাগ নেই। বরং তার চোখে রয়েছে অস্থিরতা। কাছে পাওয়ার ব্যাকুলতা। তুবার ওপর নিজের শরীরের পুরো ভর ছেড়ে দিয়ে দুই হাতে ভর দিয়ে মাথা উঁচু করলো কৌশিক। তুবা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। গোলাপের পাপড়ির মতো ঠোঁট জোড়া তিরতির করে কাঁপছে। এতে যেনো কৌশিক আরও বেশি বেসামাল হয়ে পড়লো। আবারও আঁকড়ে ধরলো তুবার ঠোঁট। ঠোঁট থেকে গলা, ঘাড়, কানের লতিতে আলতো করে চুমু খেলো কৌশিক। চুমু খেতে খেতে এক টানে বুকের ওপর থেকে আঁচল সরিয়ে ফেললো। তুবার যেনো মরি মরি অবস্থা। দুই হাতে বিছানার চাদর খামচে ধরে হাঁপাতে লাগলো তুবা। জোরে জোরে নিঃশ্বাস টানার ফলে তার বুকটা ক্রমাগত ওঠানামা করছে।
কৌশিকের মাথায় যেনো এবার রক্ত চড়ে গেলো। নারী দেহের প্রতিটা বাক তাকে করুন সুরে আহবান জানাচ্ছে। নিজের সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে তুবার বক্ষ ভাঁজে মুখ গুজলো কৌশিক। অত্যাধিক উত্তেজনায় কেঁপে উঠলো তুবা। থরথরিয়ে কেঁপে উঠলো তার পুরো দেহ। শিরদাঁড়া বেয়ে বয়ে গেলো এক শীতল শ্রোত। কৌশিকের ঠোঁট জোড়া এক বিন্দুও থেমে নেই। তুবার বক্ষ ভাজ থেকে নেমে গেলো নরম উদরে। গভীর উদরের কেন্দ্র বিন্দুতে মুখ ডুবিয়ে দিলো। সহসা দেহ জুড়ে বিদ্যুতের ঝলকানি খেলে গেলো তুবার। কোমর বাঁকিয়ে গুঙিয়ে উঠলো। কন্ঠস্বর অস্পষ্ট,
"ক...কৌশিক ভাই! প্লিজ থামুন।"
"উহু!"
উদরে মুখ ডুবিয়েই জবাব দিলো কৌশিক। যেনো কোনো ঘোরের মধ্যে আছে সে। গাঢ় চুম্বনে ভিজিয়ে দিচ্ছে তুবার কেন্দ্রবিন্দু। প্রতিটি ছোঁয়ায় স্পষ্ট ব্যাকুলতা। তুবা নিজের সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে ফেললো। এক হাতে খামচে ধরলো কৌশিকের নরম সিল্কি চুল। অস্পষ্ট স্বরে গুঙিয়ে উঠলো,
"প্লিজ!"
তুবাকে নড়াচড়া করতে দেখে দুই হাতে কোমর চেপে ধরলো কৌশিক। গভীর কন্ঠে বললো,
"প্লিজ জান! আর একটু।"
আধার রাতের চেয়েও গভীর ছিলো সেই কন্ঠস্বর। তুবাকে বেসামাল করে দিলো সেই ভারি কন্ঠ। দেহের কাঁপুনি ধীরে ধীরে সুখের সাগরে পরিণত হলো। এক অদেখা, ভয়ানক সুখ। তুবার মনে হলো, সময় থমকে যাক। এই প্রহর কখনো না ফুরাক।
ঠিক কতটা সময় তুবার উদরে মেতে ছিলো সেটা জানে না কৌশিক। সাউন্ড বক্সের আওয়াজে তার হুঁশ ফেরে। চেতনা ফেরার মতো তড়িৎ মাথা তুলে তাকায়। তুবা চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে। দুই চোখের কার্ণিশ বেয়ে অঝোরে অশ্রু ঝরছে। এই পর্যায়ে কৌশিককে ভিষণ চিন্তিত দেখালো। সে কি একটু বেশিই বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে? তড়িঘড়ি করে উঠে বসলো কৌশিক। কান্নারত তুবাকে টান দিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো। দুই হাতের আজলে তুবার মুখটা ধরে বললো,
"কাঁদছিস কেনো?"
"আপনি খুব খারাপ।"
কাঁদতে কাঁদতে জবাব দিলো তুবা। কৌশিকের ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি দেখা গেলো। কন্ঠ স্বর বরফের মতো ঠান্ডা,
"আমার কথা শুনলেই আর খারাপ রুপ দেখাতাম না।"
"আমি কি ইচ্ছে করে কিছু করেছি নাকি?"
"তোর ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়। একটা ছেলে তোকে ছুঁয়েছে। এটা যে আমার নিয়মের বাইরে তুবা। আমি ব্যাতিত তোকে দ্বিতীয় কোনো পুরুষ ছুঁতে পারবে না। আমি সেটা মানবো না। "
তুবা আবারও কেঁদে ফেললো। কৌশিকের ঠোঁটের হাসি আরও প্রসস্ত হলো। সে ভ্রু উঁচিয়ে বললো,
"এখনও কাঁদবি? কাঁদলে কিন্তু আবারও ঠোঁটে কষে চুমু দেবো।"
তুবা এবার রেগে যায়। কৌশিকের বুকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুসি মারতে মারতে বলে,
"খারাপ লোক। পঁচা লোক।"
কৌশিক তুবার হাত দুটো মুচড়ে পেছনে পেচিয়ে ধরে। মুখের কাছে মুখ নামিয়ে বলে,
"মুড বদলে গেছে। এজন্য বেঁচে গেলি। নাহলে, আজকে তোর ভার্জিনিটি হরন করে নিজের নামের সিলমোহর বসিয়ে দিতাম। তারপর আমার জিনিসের দিকে কে চোখ তুলে তাকায় সেটাও দেখে নিতাম।"
কথাগুলো বলেই তুবার ঠোঁটে শক্ত করে চুমু খেলো কৌশিক। লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেললো তুবা। এই লোকটার হুটহাট গভীর ছোঁয়া তুবাকে বেসামাল করে দেয়। নেহাতই গোপনে বিয়েটা করে রেখেছে। সেই অধিকার থেকে লোকটা বারবার কাছে আসে। কিন্তু তাদের বিয়ের কথা পরিবারের কাছে অজানা। কেউ যদি দুজনকে একসাথে দেখে ফেলে তাহলে নিশ্চয়ই খারাপ ভাববে। তুবা মোচড়াতে মোচড়াতে বলে,
"ছাড়ুন! কেউ দেখে ফেললে কি ভাববে?"
"কি ভাববে?"
"মানে? নিশ্চয়ই খারাপ ভাববে।"
"ভাবুক। হু কেয়ারস? বিনা অধিকারে ছুঁইনি।"
"অধিকারের কথা এখনও কেউ জানে না।"
"জানিয়ে দেবো?"
তুবা চমকে মাথা তুলে তাকায়। চোখে মুখে তার মারাত্মক ভয়। কৌশিকের মুখ চেপে ধরে ভয়ার্ত কন্ঠে বলে,
"মা আমাকে মেরে ফেলবে।"
"তোর মনে হয় আমি সেটা হতে দেবো?"
"জানি না। কিন্তু এখন প্লিজ ছাড়ুন। বাড়ি ভর্তি লোকজন। এবার কিন্তু সত্যিই বাড়াবাড়ি হচ্ছে।"
কৌশিক নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো কিছুক্ষণ। এরপর ধীরে সুস্থে হাতের বাঁধন আলগা করলো। ছাড়া পেতেই হুড়মুড়িয়ে উঠে দাঁড়ালো তুবা। দড়জার দিকে যেই পা বাড়াবে তৎক্ষনাৎ কৌশিক ডেকে উঠলো,
"এই শোন।"
চলতে গিয়েও তুবা থেমে গেলো। তৎক্ষনাৎ ঘুরে তাকালো পেছনে। কৌশিক ততক্ষণে তুবার পেছনে চলে এসেছে। তুবার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে দুই হাত বুকে গুঁজলো কৌশিক। তীঘ্ন চোখে তাকিয়ে কাঠকাঠ কন্ঠে বললো,
"সবার আগে ঘরে গিয়ে শাড়ি খুলবি। মুখের সাজ তুলে ফেলে সাধারণ সালোয়ার কামিজ পড়বি। পরীর মতো সেজে অন্য ছেলেদের সামনে আসার প্রয়োজন নেই। তোর সৌন্দর্য শুধু মাত্র আমার জন্য। আর যদি আমার কথার একটুও নড়চড় হয়, তাহলে আজকের অসমাপ্ত কাজ তৎক্ষনাৎ সমাপ্ত করবো। সোজা বাসর সেরে হাতে বাচ্চা ধরিয়ে দেবো। এতো ইনসিকিউরিটি নিয়ে আর বাঁচতে পারবো না আমি। ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।"
বিনিময়ে তুবা আঁড়চোখে চাইলো। একটু আগের কথা মনে পড়তেই পা থেকে মাথা পর্যন্ত আবারও শিরশির করে উঠলো। দুই পা টলে উঠলো। যেনো পায়ের শক্তি ফুরিয়ে গেছে। তুবার অপ্রস্তুত মুখ দেখে কিছুটা আন্দাজ করে নিলো কৌশক। মাথাটা সামান্য ঝুকিয়ে ফিসফিস করে বললো,
"নাকি এখনই বাসরটা সেরে ফেলবো? তুই চাইলে এখনই করতে পারি। আমি কিন্তু ফুল মুডে আছি। এই দেখ, আমার শরীর কাঁপছে।"
#নিষিদ্ধ_প্রণয়
#সূচনা_পর্ব
#সোনালিকা_আজিম
চলবে?