ফন্ট সাইজ:
থিম:
মেঘ বালিকার প্রেমে

পর্ব 1

লেখক: হুমাইয়া

# মেঘবালিকা

# প্রথম পর্ব
# লিখিকা : হুমাইয়া

# বৃষ্টির দিনে প্রথম দেখা

[ গল্পটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক,,,আমি নুতুন লিখিকা সবাই লাইক কমেন্ট করে পাশে থাকবেন। ভুল ত্রুটি ক্ষমা করবেন,,, ]

সকাল থেকেই আকাশটা মেঘলা। জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে নূরাইশা। হাতে এক কাপ চা। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে সে আনমনে গুনগুন করে গান গাইছে।

— নূর! তুই এখনো তৈরি হোসনি?

রাইসার চিৎকারে নূরাইশার ভাবনার ছেদ পড়ল।

— এই তো হচ্ছি!

— তোর এই এই তো হতে হতে একদিন বিয়ের অনুষ্ঠানও মিস হয়ে যাবে!

নূরাইশা হেসে বলল,

— এত চিন্তা করিস না। আমার বিয়েতে তোকে দাওয়াত দেব।

— আগে একটা ভালো ছেলে খুঁজে বের কর। তারপর দাওয়াতের কথা ভাবিস।

নূরাইশা বালিশটা তুলে রাইসার দিকে ছুড়ে দিল।

দুজনের হাসাহাসির মধ্যেই সকালটা কেটে গেল।

অন্যদিকে শহরের অভিজাত একটি অফিসের কেবিনে বসে আছে আরহাম মাহতাব।

কালো শার্টের হাতা কনুই পর্যন্ত গোটানো। সামনে ল্যাপটপ, পাশে কয়েকটি ফাইল। চোখে-মুখে বিরক্তির ছাপ।

— স্যার, ক্লায়েন্টরা আপনার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।

আরহাম ফাইল থেকে চোখ না তুলেই বলল,

— পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করতে বলুন।

— জি, স্যার।

কর্মচারী বেরিয়ে যেতেই ফোন বেজে উঠল।

স্ক্রিনে মায়ের নাম দেখে কল রিসিভ করল।

— বলো, মা।

— আজ সন্ধ্যায় বাসায় তাড়াতাড়ি ফিরবে।

— কেন?

— তোমার বাবার বন্ধুর মেয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাব।

আরহাম ভ্রু কুঁচকে বলল,

— মা, আবার শুরু করলে?

— আমি কিছু শুরু করিনি। তোমার বয়স আটাশ হয়েছে। এবার বিয়ে নিয়ে ভাবো।

— আমার বিয়ের চিন্তা তোমাকে করতে হবে না।

— তোমার চিন্তা না করলে কার চিন্তা করব?

আরহাম কোনো উত্তর দিল না। ফোন রেখে আবার কাজে মন দিল।

বিকেল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শেষ করে নূরাইশা ও রাইসা গেটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।

হঠাৎ আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামল।

— সর্বনাশ! এখন কীভাবে যাব?

রাইসা বলল,

— দাঁড়া, গাড়ি ডাকছি।

নূরাইশা রাস্তার পাশের একটি দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়াল।আাশে পাশে তাকিয়ে দেখল কেনো গাড়ি নেয়।

ঠিক তখনই একটি কালো গাড়ি এসে সামনে থামল।

গাড়ি থেকে নেমে এল লম্বা, সুদর্শন এক যুবক। কালো শার্ট, হাতে দামি ঘড়ি,চোখে সানগ্লাস । ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ির দরজাটা বন্ধ করল।

নূরাইশা একটু পেছনে সরে দাঁড়াতে গিয়ে বিপত্তি ঘটাল। রাস্তার জমে থাকা পানি ছিটকে তার পোশাকে লাগল।

— এই যে! একটু দেখে চলতে পারেন না?দেখবেন বা কেমন করে দেখে তো মনে হয় কানা। চোখে দেখেন না। দিলেন তো আমার পোশাকের বারোটা বাজিয়ে।

যুবকটি ফোন থেকে চোখ সরাল।

— আমাকে বলছেন?

— এখানে আর কে আছে? যে তাকে বলবো আজব পাবলিক।

— স্টুপিট, কী হয়েছে?

— আপনার গাড়ির পানি এসে আমার পোশাক নষ্ট করে দিয়েছে!আর আপনি বলছেন কি হয়েছে

যুবকটি একবার পোশাকের দিকে তাকাল।

— বৃষ্টির পানি। ইচ্ছে করে তো ফেলিনি।এমন ভাবে বলতেছো যেনো আমি কলস ভরে পানি এনে তোমার উপর ফেলেছি।

— তাই বলে সরি বলবেন না?

— সরি।

নূরাইশা একটু থমকে গেল। সে ভাবেনি লোকটি এত সহজে ক্ষমা চাইবে।

কিন্তু পরক্ষণেই যুবকটি বলল,

— এবার যেতে পারি?

নূরাইশার রাগ আবার বেড়ে গেল।

— যান! কে আপনাকে আটকে রেখেছে?

যুবকটি আর কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে পড়ল।

গাড়ির ভেতরে বসে থাকা আদনান পুরো ঘটনাটা দেখছিল।

— বাহ! মেয়েটা তোকে বেশ ভালোই কথা শুনিয়ে দিল।

আরহাম গম্ভীর গলায় বলল,

— তোর কাজ নেই? এখন আমার পেছনে কেনো লাগছিস।

— আছে। তবে তোর মুখটা দেখে মনে হচ্ছে আজকের দিনটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

— আদনান!

— আচ্ছা বাবা, চুপ করলাম।

গাড়ি চলতে শুরু করল।

রাত।

নূরাইশা নিজের ঘরে বসে ডায়েরি লিখছিল।

হঠাৎ রাইসার ফোন এল।

— হ্যালো, কী করছিস?

— ডায়েরি লিখছি।

— আজকের সেই লোকটার কথা লিখছিস নাকি?

— কোন লোক?

— যে তোর পোশাক নষ্ট করেছিল!

নূরাইশা হেসে বলল,

— ধুর! ওসব মানুষের কথা মনে রাখার সময় আমার নেই।আর এমন কোনো স্মরণীয় ঘটনা ও ঘটে নি যেটা লিখে রাখবো। তবে আমি ভাবি নি এত তাড়া তাড়ি সরি বলবে। কথায় আছে,, চোর হলে ও স্বভাব ভালো 😄

কিন্তু কথাটা বলেই তার মনে পড়ল লোকটির গম্ভীর মুখ।

নিজের অজান্তেই সে বিড়বিড় করল,

— অদ্ভুত মানুষ একটা!

অন্যদিকে মাহতাব ভিলায় রাতের খাবারের টেবিলে বসেছে আরহাম।

মা নাসরিন বেগম ছেলের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— কাল আমাদের সঙ্গে একটা জায়গায় যেতে হবে।

— কোথায়?

— তোমার বাবার বন্ধুর বাড়ি।

— মা, আমার কাজ আছে।আর বাবার বন্ধুর বাড়ি আমার না। তোমারা যাও আমার কি কাজ ওখানে।সবচেয়ে বড় কথা আমার সময় নেই।

— কাজ প্রতিদিনই থাকবে। পরিবারকেও সময় দিতে হয়।এমন তো না আমরা সবসময় তোমাকে বিরক্ত করি। কাল আমাদের সাথে যাচ্ছো এটাই ফাইনাল আর কোনো কথা আমি শুনতে চাচ্ছি না।

আরহাম দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— ঠিক আছে। যাব।তবে বেশি ক্ষণ থাকতে পারবোনা এটা মনে রেখো। ১ ঘন্টার মতো থাকবো এর বেশি না। আমার টায়াড লাগছে আমি উপরে গেলাম ফ্রেশ হতে আমার জন্য কফি পাঠাও।

নাসরিন বেগম ছেলের মুখে সম্মতি শুনে খুশি হলেন।আরহামের চলে যাওয়া দেখলেন,,, আগে তেমাকে নিয়ে নি এরপর দেখো কিকরি। এবার আর কেনে কথা শুনবোনা...
আরহাম ফ্রেশ হয়ে কফিটা নিয়ে বেলকোনিতে চলে গেলো সেখানে বসে প্রকৃতি দেখতে দেখতে কফিটা শেষ করে।
হঠাৎ করে সকালের ঘটনা টা মনে পড়ে গেলো,, হেসে ফেলে তবে তা বোঝার উপায় নেই.. আনমনে বলে ফেলে( মেঘপরি)

কিন্তু আরহাম তখনো জানে না, আগামীকাল তার জীবনে এমন একজন মানুষের প্রবেশ ঘটবে, যার জন্য একদিন নিজের সমস্ত জেদ ভুলে যেতে হবে।

আর সেই মানুষ টি কে হতে পারে..?

# চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন