আমি এই বিয়ে করতে পারবো না আব্বু , তুমি বুঝার চেষ্টা করো,,,,
" আমি কিছু বুঝতে চাই না আরহাম,,আমি যেটা বলেছি ওই টাই হবে কথার হের ফের হবে না,,,
এই কথা বলে শহিদুল খান নিজ ঘরের দিকে পা রাখতে যাবে এমন সময় পিছন থেকে ধাম করে একটা শব্দ হয় শহিদুল খান পিছন ফিরে আরহামের দিকে তাকায় ছেলে টার রাগে থরথর করে কাঁপছে। পাসে ছিরে ছুটে পড়ে আছে অসংখ্য কাঁচের টুকরো । শহিদুল খান যিদ্দি কন্ঠে বললো,,,,
" তুমি যতোই রাগ দেখাও না কেন এই বিয়ে টা ভাঙতে পারবে না,, বিয়ে তে কোন বন্ধু কে নিয়ে যাবে তাদের যানাও,,,
" এখন তুমি জোর করছো আব্বু,, তোমার এই জিদের জন্য একটা মেয়ের জীবন নষ্ট হতে পারে এটা তুমি বুঝতে পারছ,,, আমি কিন্তু ওই মেয়েকে বউ মর্যাদা বা বউ অধিকার দিবো না কখনো,,,,
এই বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। শহিদুল খান ও চিন্তা পরে যান । সে কি কোনো ভুল করছে ? অবশ্যই না মেয়েটা তার ছেলের জন্য যথেষ্ট ঠিক আছে। তিনি আর চিন্তা করতে পারছেন।
**********************************
" এই জিম কোথায় যাচ্ছিস ?? এই বলে লামহা ও ওর পিছু পিছু ছুটলো ।
" আইসক্রিম নিয়ে আসি দাঁড়া । বলেই ভো দোড় ।
দুই বান্ধবী রাস্তার কোনা দিয়ে হাঁটছে আর আইসক্রিম খাচ্ছে।
" কিরে জিম তোর নাকি দুই দিন পর বিয়ে ?? আর তুই রাস্তায় পুন্ডামি করে বেরাচ্ছিস ।
এবার জিমের মুখোমন্ডলে বিরক্তির ছাপ দেখা গেলো । সে বিরক্তি মাখা কন্ঠে বলল,,
" ধুর ,, আমি বিয়ে করতে চাই না এখনি কিন্তু আম্মুর মুখের দিকে তাকিয়ে বিয়ে তে রাজি হইতে হইছে,,,
" ছেলে টা দেখতে কেমন রে জিমু??
" মেগি মসলা কেবল আমি কি বললাম তোরে ?? আমি বিয়ে তে রাজি না জোর করে হচ্ছে তাহলে ছেলে কে দেখবো কিভাবে আর ছেলে কে দেখারো ইচ্ছে নেই আমার।
"কথা বলতে বলতে তারা তাদের বাসায় চলে আছে । জিম সবে কলেজে উঠেছে । এরই মধ্য তার মা ওর বিয়ে ঠিক করেছে । বয়স কতই বা হবে ১৭/১৮ । এটাই মেনে নিতে পারছে না জিম । এসব চিন্তা করতে করতে বাসায় ঢুকলো জিম তার মা সাথী বেগম রান্না করছে রান্নাঘরে সে যায় তার মায়ের কাছে আর বলে,,,
" মা আমি এখনি বিয়ে করতে চায় না। কাঁদো কাঁদো ভঙ্গিতে বলল জিম ।
" দেখ মা আমি যা করছি তোর ভালোর জন্যই করছি আর কতদিন এখানে থেকে কষ্ট করবি । তুই তো জানিস তোর বাপ টা কেমন। তোর বাপ তো একটা জানোয়ার। এসব বলতে বলতে সাথী বেগম কান্না করতে থাকে। জিম তার মাকে সামলায় আর বলে,,,
"মা তুমি কান্না করছো কেনো? তুমি জানো তোমার কান্না আমার সয্য হয় প্লিজ কেঁদো না..আমি বিয়ে করবো..
এইটুকু বলে জিম নিজের ঘরে চলে যায়..
__________________________
২ দিন পর
"মা বলো কবুল"
জিম একবার তার মার দিকে তাকালো। সাথী বেগম মেয়ে কে আশ্বাস দিলেন যে যা হবে ভালো হবে ইনশাআল্লাহ। জিম কিছুক্ষণ চুপ থেকে এক নিঃশ্বাসে বলল-কবুল, কবুল, কবুল।
আলহামদুলিল্লাহ.....
সবাই এক সাথে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠলো।
___________________________
কখন থাইকা বসে আছে বাসর ঘরে কারো আসার নাম গন্ধ নেই। ইস বিরক্তি লাগছে এখন জিমের কাছে তাও আবার তার নতুন জামাইয়ের ভাবি রা কি সব বলে গেছে ছিঃ ছিঃ এসব মনে পরলেও কেমন লাগছে। আচ্ছা লোকটা কি বুড়ো? নাকি আগের কোনো বউ ছিলো ? যে তাদের এতো ঘরোয়া ভাবে বিয়ে হলো । আল্লাহ এসব আর চিন্তা করতে পারছে না জিম । জিমের ধ্যান ভাঙ্গে দরজার খুলার সাউন্ড শুনে । জিম দরজার ওইদিকে তাকালো।আর তার মুখ হা হয়ে গেছে। অবাক হয়ে মনে মনে বলল-
(মনে মনে)" ওরে আল্লাহ রে একি আমার জামাই? ইস ,এতো সুন্দর,এতো কিউট,এতো হ্যান্ডসাম, জিম তুই তো জিতে গেছিস ,,
"এই যে সিস্টার এইরকম বেহায়ার মত কি দেখছেন ?আর আপনি আমার বিছানায় কি করেন? একটু রেগে বলল।
জিম (মনে মনে)- জিম তুই জিতছিস না। এই অসভ্য লোক তোকে বোন বলছে । ) কি-কিছু না আসলে..
"কি আসলে? আপনি কি ভাবছেন আমি আপনাকে নাচতে নাচতে বিয়ে করে এসেছি.? নো ওয়ে ,, আপনাদের মতো মেয়েদের কে বিয়ে করে শুনি টাকা লোভে বিয়ে দিয়েছে আপনার মা তাই না । এতো লোভ কেন আপনাদের মেডেল ক্লাস মেয়েদের? যেই বড়লোক ছেলে দেখলেন আর বিয়ে করে নিলেন নাচতে নাচতে?
"এই যে মিস্টার। মুখ সামলে কথা বলবেন।কাকে লোভি মেয়ে বলছেন? হ্যাঁ? আপনাকে যেমন জোর করে বিয়ে দিছে তেমন আমারে ও আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিয়ে দেওয়া হইছে।
কথা টুকু বলেই জিম থামলো । মাথা টা গরম করে দিছে লোক টা। দেখতে সুন্দর হলে কি আস্ত একটা বদমাইশ।
আরহাম এবার আর বলার কিছু খুঁজে না পেয়ে বলল..
" বেড থেকে নামো।
"কেন নামবো?
"কারন এটা আমার বেড।
"নামবো না (ঘার ত্যরামি করে বলল)
"তুমি কি নামবে? নাকি আমি ..
কথা শেষ করার আগে জিম জিদ্দি গলায় বলল..
"আমি ওই বাংলা সিনেমার নায়িকার মতো বলবো না যে -আপনি বেড ঘুমান আমি নিচে পাটি বিছিয়ে ঘুমাবো। ভেবে থাকলে ভুল ভাবছেন।
" I don't care... তোমার যা করার করতে পারো । শুধু আমার বেড ছাড়ো ।
" গু খান ।
বলেই জিম বেড হাত পা বিছিয়ে শুয়ে পরে ।
" মুখের ভাষার যা ছিড়ি। আল্লাহ আমার জীবন টা নষ্ট করে দিলো আমার খাটাশ বাপে....
এসব বিরবির করতে করতে সোফায় যেয়ে শুয়ে পরে।তার আবার সকালে ভার্সিটি আছে । সে ইংলিশ শিক্ষক। এন্ড শহিদুল খানের বিজনেস দেখে ...
____________________________
" কিরে মামা কালকের রাত টা কেমন কাটলো শুনি?
নয়নের এমন কথা শুনে আরহাম কটমটিয়ে নয়ন দিকে তাকায় যেন চোখ দিয়েই গিলে খাবে। নয়ন আরহামের এমন চাহনি দেখে তারা তারি বলল....
"আরে ভাইজান আপনি রাগ করছেন কেনো। আমি তো মজা করলাম একটু । এই হাসান ওরে বল না এভাবে না তাকাতে । আমার আত্মার পানি থাকে না। সালা অনেক খারাপ।
" তা এমন মজা করোছ কেন শুনি । এতো যদি ভয় পাস।
" ভালো লাগে এই বুম্বাই মরিচ রে জালাইতে।
"অনেক হইছে এখন চল মিটিং আছে একটা । আর আরহাম তুই তোর ক্লাস শেষ করে আয়।
" ওকে বায় ।
বলে আরহাম চলে যায়। এই একটা মানুষ যে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে আইসা ফোনে বিজি থাকে । নয়ন আর হাসান খুনসুটি করে ।
চলবে,,,,,