(তুই আমার শেষ ভালো বাসা)পর্ব ১
লিখনিতে: সাদিয়া আফরিন
────୨ৎ────
খুশিতে ধৈ ধৈ করছে চৌধুরী বাড়ি,
বড় মেয়ের আজকে বিয়ে "সুমাইয়া চৌধুরী" পাশেই বসে আছে "মাসুম মৃধা"
মাসুমের কত দিনের ইচ্ছে পূরণ হলো আজকে, তার পরিকে সে নিজের করে পেয়েছে,মাসুম সুমাইয়া কে পরি বলে, বলবেই না কেনো? সুমাইয়া যেই পরিমাণের সুন্দর তাকে পরিই বলা উচিৎ।
সুমাইয়া কে অজানা এক অনুভূতি ঝাপটে ধরছে। বেশ খুশি সুমাইয়া।
বেশ কিছুক্ষন আগেই তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
সুমাইয়ার ছোট বোন "আফরিন চৌধুরী"
আফরিন ও খুব খুশি আজকে,কিন্তু আয়নের জন্য খুব খারাপ লাগছে তার,
আয়ন আফরিন এর চাচাতো ভাই
আয়ন সুমাইয়া কে "ভালোবাসতো"
এটা আফরিন বুঝেছে সুমাইয়ার প্রতি আয়ন এর আগ্রহ দেখানো সুমাইয়ার খেয়াল রাখা অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা,আফরিন বুঝে ছিলো আয়ন সুমাইয়া কে ভালো বাসে
একদিন আফরিন জিজ্ঞেস করেছিলো আয়ন কে, বেশ কিছুক্ষন চুপ থেকে আয়ন বলে ছিলো "হ্যাঁ বাসি" আফরিনের সন্দেহ ঠিক হওয়ায় গোলা খাদে নামিয়ে বলে "আপু কে তুমি এই কথা বলতেছো না কেন? পরে যদি আপু কারো সঙ্গে রিলেশনে যায় তখন তোমার কি হবে?"
পরে আয়ন বলে ছিলো "বলে দেও বলাটা সহজ কিন্তু বলে দেওয়া টা না!"
এই কথা বলেই জায়গা প্রস্থান করেছিলো।
আজকে সকাল থেকে আয়ন বাড়িতে নেই কেউ জানেও না আয়ন কোথায়।
আয়ন কখনো বলে নাই সুমাইয়া কে,
ভালো বাসলে তারা তারি বলে দিতে হয় নয়তো কখন কার হয়ে যাবে বলার উপায় নেই!
এই ভেবে আফরিন বড় একটা শ্বাস ফেলে।
.......
আর কিছুক্ষণ পরে চলে যাবে মাসুম রা,
আয়ন কে আনিশা আফরিন দুজনেই অনেক বার কল দিছে কিন্তু আয়নের ফোন বন্ধ।
আয়নের জন্য অনেকক্ষণ অপেক্ষা করেছিলো মাসুম রা কিন্তু আয়ন আসে নি,
তাই বেশ কিছুক্ষন আগে মাসুম রা চলে গেছে
আনিশা আফরিন খুব টেনশনে আছে যদি কিছু করে ফেলে আয়ন,এসব ভাবছে
আফরিন আর আনিশা মেকআপ ক্লিন করছে, আনিশা আফরিন এর চাচাতো বোন আয়ন এর ছোট বোন আয়নের বড় ভাই এর নাম"আরিয়ান চৌধুরী"
__________________
আফরিনের বাপ চাচা দুইজন,ফুপু ও আছে,
তার ফুপুর নাম ' নাজমিন '
তারা জয়েন্ট ফ্যামিলি,অবশ্য এখন এত জয়েন্ট ফ্যামিলি দেখা যায় না,
নাহিন চৌধুরীর বড় তার তিন ছেলে মেয়ে বড় ছেলের নাম ' আরিয়ান চৌধুরী ' মেজো ছেলের নাম ' আয়ন চৌধুরী ' ছোট মেয়ের নাম ' আনিশা চৌধুরী ' আর তার স্ত্রী এর নাম "সানজিদা চৌধুরী"
নয়ন চৌধুরী ছোট তার দুই মেয়ে বড় মেয়ের নাম 'সুমাইয়া চৌধুরী '
নাহিন চৌধুরী আর নয়ন চৌধুরী দুজন মিলে কোম্পানি চালায়,
আরিয়ানের বয়স ২৭,সে নিজের একটি বিজনেস করে,
আয়নের বয়স ২১,নিজের ভাইয়ের সাথেই বিজনেস করে,,
আনিশা Hsc পরীক্ষা দিলো কিছু দিন আগেই।
আফরিন ও আনিশার সাথেই পড়ে,সেও কিছু দিন আগে Hsc পরীক্ষা দিয়েছে।
আফরিনের বয়স ১৭ আনিশার ও ১৭ বছর কিন্তু তিন মাসের ছোট আনিশা আফরিনের
নয়ন চৌধুরীর স্ত্রীর নাম"সালমা চৌধুরী"
সুখে শান্তির পরিবার তাদের।
___________________
সব গুছাতে গুছাতে বেশ রাত হয় তাদের ঘুমাতে,
৩ টা বেজে ৫৪ মিনিট কিন্তু এখনো আফরিন আর আনিশা সজাগ।
এখনো বাড়ি ফিরেনি আয়ন।
আফরিন আর আনিশা ভাবলো আয়ন কে কল দিবে যেই ভাবনা সেই কাজ আফরিনের ফোন দিয়ে কল দিলো
রিং হচ্ছে কিন্তু কল ধরেনি আয়ন
আবার কল দিলো কল টা রিসিভ করলো আয়ন।
আফরিন বললো "ভাইয়া কই তুমি? বাসায় আসো না কেন? তারা তারি বাসায় আসো,সারাদিন কোথায় ছিলে তুমি আনিশা আর আমি কত চিন্তা করতেছিলাম ফোন বন্ধ করে রেখে ছিলে কেনো হুম?
আয়ন বলে "আমাকে বলতে তো দিবি নাকি?
আমি বাসার সামনেই আছি এসে দরজাটা খুল"আয়নের কণ্ঠে প্রাণ নেই,
আফরিন আর আনিশা গিয়ে দরজা খুলে দেয়,
দরজা খুলতেই দেখলো আয়ন দাঁড়িয়ে আছে আয়ন কিছুনা বলে চলে যেতে নিলে আনিশা ডেকে বললো "খাবার খাবে না ভাইয়া?"
কিছু না বলে আয়ন ঘরে চলে যায় চুপ চাপ।
আয়নের পরেই আসে আরিয়ান, মূলত আরিয়ান ই আয়ন কে এনেছে আরিয়ান আসতেই আনিশা বললো "ভাইয়া তুমি আয়ন ভাইয়া কে এনেছো?"
গম্ভীর হয়ে আরিয়ান বলে "হুম"
আফরিন আর আরিয়ানের চুলো চুলি সম্পর্ক,এমনিতে আরিয়ান যতই রাগী যতই গম্ভীর, ঘারতেরা হোক,এমনি তে ছেলে হিসেবে খুব ভালো।
আফরিন আনিশা দুজনেই বসে আছে,আর কিছুক্ষণ পর আজান দিবে তখন নামাজ পড়বে তারা দুজন,তাই আর ঘুমালো না আফরিন আর আনিশা।
মাত্রই নামাজ আদায় করে দুজন শুলো,
সকালে উঠতে হবে, কিন্তু তারা দুজনেই ৯ টার
আগে উঠতে পারে না।
কালকে তো তারা মাসুম দের বাসায় যাবে,
____________________
১০ টার উপরে বাজে কিন্তু এখনো ঘুম থেকে উঠেনি আনিশা আর আফরিন,
কালকে রাতে দেরি করে ঘুমানোর জন্য এখনো উঠেনি তারা দুজন, তাই নাজমিন এসে তাদের ডেকে উঠালেন, ঘুমে ডুলছে দুজনে
তাদের দুজনের ঘুম ভাঙিয়ে আবার চলে গেলেন নাজমিন, দুজনেই গিয়ে ফ্রেশ হলো।
এক সাথে নিচে নামলো নাস্তা করবে,
সানজিদা চৌধুরী তাদের খাবার দিলেন খেতে,
খাওয়ার মাঝেই শুনতে পেলো আরিয়ান আর সালমা চৌধুরীর কণ্ঠ আরিয়ান কে সালমা চৌধুরী বলছেন "তোর কাজ টাই গুরুত্ব পূর্ণ? কালকের বিয়েতেও তো তুই ছিলি না অন্তত আজকে ওদের বাসায় যা"
আরিয়ান দ্রুত পায়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে গম্ভীর হয়ে বললো "দেখো ছোট আম্মু আমি আমার কাজ ভালো বাসি আমি সেটাকে গুরুত্ব দিবো এটাই স্বাভাবিক, আর আমার কোলাহল পছন্দ না, যাবো না আমি।"
কথা গুলো বলতে বলতে আফরিন আর আনিশার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো "তোরা তো যাবি,হিজাব ছাড়া যাবি না, আয়ন নাকি যাবে না, এখানে সেখানে চলে যাইস না,"
আফরিন মুখ ভেংচি কেটে বলে"বুঝি না,এত কাজ করে কি পান,এত টাকা কামিয়ে কি খাডাই খাবেন নাকি আজব"
আরিয়ান কেমন করে যেনো তাকালো আফরিন এর দিকে,
আরিয়ান আগের ন্যায় গম্ভীর হয়ে বললো "stupid, বাদর বেশি কথা বলিস কেন"
বলে চলে গেলো,বাহিরে সিয়াম অপেক্ষা করছে তার জন্য,সিয়াম তার অ্যাসিস্টেন্ট, বলতে গেলে আরিয়ান যা বলবে তাই করবে যেমন "সিয়াম বস সিয়াম বসবে বলবে সিয়াম দাড়া সিয়াম দাঁড়াবে,"
সালমা চৌধুরী আর সানজিদা চৌধুরী তাদের কাহিনী দেখে দীর্ঘ শ্বাস ফেলে,এসব নতুন না,
আনিশা আফরিন কে আস্তে করে বললো "আমি বুঝি না তোর সাথে ভাইয়ার কি শত্রুতা,
সানজিদা চৌধুরী এসে বললেন "খাবার খেয়ে গোসল করে নিবা মানে রেডি হবে, সাজতে তো তোদের সময় লাগে আগে আগে থেকেই রেডি হয়ে থাকবি।
তারা কিছু না বলে চুপ চাপ খাবার খেয়ে উঠলো, একটু জিরিয়ে আফরিন গেলো গোসলে আফরিনের গোসল করতে বেশ দেরি হয় কিন্তু আজকে তেমন দেরি করলো না, ত্রিশ মিনিটের ভিতরে বের হলো,শ্যামলা গায়ে জলপায় কালার ড্রেস টা মানিয়েছে বেশ, আনিশার ড্রেস টাও সেম ই আনিশা ও গোসল করে আসলো আফরিন বেশ ভালো মেকআপ করতে পারে, আনিশা কে হালকা পাতলা সাজিয়ে দিলো, আনিশা আফরিন দুজনেই ভারি মেকআপ পছন্দ করে না, হালকা পাতলা সাজ ই পছন্দ করে, তাদের হালকা পাতলা সাজলেই সুন্দর লাগে,আনিশা কে সাজিয়ে আফরিন নিজেও একটু সেজে নিলো, আনিশা আর আফরিন ড্রেস এর সাথে ম্যাচ করে হিজাব বেঁধে নিলো দুজনে।
প্রায় দুপুর ১ টা বেজে গেছে,আফরিন আর আনিশা নিচে আসলো,
তাদের দুজন কে দেখে সবাই বলতেছে তাদের দুজনকে অনেক সুন্দর লাগতেছে আসলেই আজকে তাদের দুজন কে বেশ সুন্দর লাগছে।
তখন আনিশা দেখলো সিঁড়ি দিয়ে নামতেছে আরিয়ান, আরিয়ান কে দেখে আনিশা আফরিন কে বললো "চল আয়ন ভাইয়ার কাছে যাই"
আফরিন বললো"হুম চল দেখে আসি"
দুজন মিলে যায়, আয়নের রুমের সামনে দাঁড়িয়ে আছে তারা,আফরিন আস্তে আস্তে বললো" ভাইয়া আসবো?"
দরজা চাপানো
আফরিন আবার জোরে করেই বললো "ভাইয়া আসবো?"
আয়ন আস্তে করে বললো "আয়"
আনিশা আর আফরিন গিয়ে দেখলো টেবিলের সামনে চেয়ারে বসে আছে চেয়ারে মাথা ঠেকিয়ে রেখেছে চোখের উপর হাত, সামনে থাকা টেবিলের সামনে একটি চিঠির খাম,
আফরিন বললো "আয়ন ভাইয়া তুমি যাবা না কেন? চলো যাই"
আয়ন বললো "শোন উঠে দাঁড়ালো আয়ন আনিশা আর আফরিনের সামনে দাঁড়িয়ে হাতে চিঠির খাম নিয়ে আফরিনের হাতে দিয়ে বললো"এটা সুমাইয়া কে দিস,যা এবার"
আফরিন বড় একটা শ্বাস ফেললো রুম থেকে, এসে পরে দুজন।
সিঁড়ি দিয়ে নামতেছে দুজন,আর কিছুক্ষণ পর বের হবে তারা আফরিন আর আনিশা সোফায় বসে আছে।
বোরিং লাগছে,আফরিনের ইচ্ছে নেই মাসুম দের বাসায় যাবার,এমনি শরীল টা একটু অসুস্থ।
সুমাইয়া কে বাড়িতে নিয়ে একটা রুমে বসানো হয়,অস্বস্তি লাগছে,একটু পর পর মানুষ এসে তাকে দেখছে,একটু পর তার শাড়ি পাল্টানো হয়,
সুমাইয়ার রিলেশন করে বিয়ে করলেও সে তার শশুর শাশুড়ি কে তেমন চীনে না,মাসুমের বড় ভাইয়ের বউ তাসলিমা বেগম সবার সাথে পরিচয় করায়,,
সুমাইয়ার শাশুড়ির নাম মাফিয়া বেগম,
শ্বশুরের নাম মান্নান
তার তিন ছেলে কোনো মেয়ে নেই
বড় ছেলের নাম মুন্না
মেজো ছেলের নাম মামুন
ছোট ছেলের নাম মাসুম যার সাথে সুমাইয়ার বিয়ে হয়েছে,,
.......
চলবে,
#সাদিয়া আফরিন (আফরিন)
#তুই আমার শেষ ভালো বাসা