ফন্ট সাইজ:
থিম:
মনের কথা~

পর্ব 1

লেখক: ঊর্মি জাহান

উপন্যাস:#মনের কথা~
লিখিকা: ঊর্মি জাহান .
.
.
.
সকাল সকালই সরকার বাড়িতে হুলুস্তুরি লাগিয়ে দিয়েছে আদনান সরকার এর মেজো মেয়ে 'হাফসা সরকার' ।আজকে তার কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান ।যেই মেয়ে কে সকাল আট টায় ঘুম থেকে টেনে উঠাতে হয় ।সেই মেয়ে আজকে সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে উঠে পড়েছে।কোন সকাল থেকে সে রেডি হতে ব্যস্ত ।আলমারি থেকে সব নতুন পোশাক নিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগলো।

আর তার এই সব পাগলামি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে আদনান সরকারের বড় মেয়ে 'হায়াত সরকার' আর ছোট ছেলে 'রোহান সরকার' ! অবশেষে তার দুইটা জামা পছন্দ হলো ।তাই হাফসা বলল "আপু দেখতো এখান থেকে কোনটা আমাকে মানাবে "।হায়াত কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল" কালো জামাটা তোকে বেশি মানাবে"। মাঝখান থেকে রোহান বলে উঠলো "তুই যাই পরীস না কেন তোকে দেখতে পেতনির মতই লাগবে "।

হায়াতের কথা শুনে মুখে যা একটু হাসি ফুটল রুহানের কথা শুনে হাসি মিলিয়ে গেল। আর রাগে ফুসতে ফুঁসতে বলল" তুই মনে হয় সকালে নাস্তা করস নাই আয় আমার কাছে তোকে কিল ঘুষি দিয়ে নাস্তা করাই"।তখন হাফসা হাত থেকে জামাটা বিছানায় রেখে তাকে মারার জন্য তারা করল।

তখনই দরজা দিয়ে প্রবেশ করল তাদের মা 'তানিয়া সরকার' "এখানে কি শুরু হচ্ছে ? সকাল সকালই তোরা ঝগড়া শুরু করে দিয়েছিস"!

"মা দেখো না তোমার ছোট ছেলে আমাকে পেতনি বলছে"। "তো আমি কি ভুল কিছু বললাম"? 'তানিয়া' ধমক দিয়ে বলল "থাম তোরা, আর 'হাফছা' কখন থেকে রেডি হতে শুরু করেছিসএখনো রেডি হসনি ? 'হায়াত' তুই কি ইউনিভার্সিটিতে যাবি না"?

"যাবো তো মা, হাফছা কে নিয়েই যাবো। আজকে তাদের কলেজে অনুষ্ঠান। আমাদের ক্লাস হবে না"।"আচ্ছা তোরা দুইজন রেডি হয়ে নিচে আয়। তোদের বাবা বসে আছে কখন থেকে"।

'হাফসা' বলল "কেন বাবা কি অফিসে যায়নি"? 'তানিয়া' বলল "না যায়নি।তোদের সাথে খেয়ে তারপর যাবে। তোরা তাড়াতাড়ি নিচে আয়"।

কিছুক্ষণ পর তারা দুইজনে খাবার শেষ করে,বাসা থেকে বের হলো। তারা দুই বোনই অসম্ভব সুন্দরী, আজকে যেন তাদেরকে আরো বেশি সুন্দর মনে হচ্ছে।হাফসা সরকারের উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ২ ইঞ্চির মতো, গায়ের রং শ্যাম বর্ণ, আর মাথার চুল গুলো কোমর ছাড়িয়ে পড়ে, সে হাসলে তার গালে মিষ্টি একটা টোর পরে ।এর মধ্যে কালো থ্রি পিসটা তাকে যেন আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে তার বড় বোন হায়াত সরকার ।সে হাফসা থেকে বয়সে বড় হলেও উচ্চতার দিক দিয়ে হাফসা থেকে একটু ছোট। তার চুলগুলো কোমরে কোমর ছুঁয়েছে আর তার ছোট বোনের মত গালে টোল না পড়লেও তার চোখ দুটো ভীষণ মায়াবী। তার গায়ের রং হাফসা থেকে একটু ফর্সা, বলা চলে উজ্জ্বল শ্যাম বর্ণ।

হাফসার চঞ্চল চোখ দুটি এদিক অধিক তাকিয়ে রিকশা খুঁজছে। তখন হায়াত একটি রিক্সাওয়ালাকে বলল" মামা কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজ যাবেন"? রিক্সাওয়ালা বললো "হ্যাঁ যাবো, কিন্তু দুইজনের ১০০ টাকা দিতে হবে"। তাদের বাড়ি থেকে কলেজের ভাড়া মাত্র ৳40 টাকা। হায়াত বলল "মামা ভারা তো ৪০ টাকা এত বেশি চান কেনো"। তখন রিক্সা ওয়ালা বলল "আমার রিক্সা আমি যত ইচ্ছা তত ভাড়া চামু। অনেকক্ষণ ধইরাই তো দেখতাছি একটি রিকশাও তো পান নাই। কখন থেকেই দাঁড়াইয়া আছেন, জাইলে যাইবেন না জেলে নাই । রিক্সা ওয়ালা কথা গুলো হায়াতকে ধমকের সুরে বলল। রিক্সা ওয়ালার এরকম ব্যবহার দেখে হায়াতের মুখ চুপসে গেলো। তার বড় বোনের সাথে রিক্সাওয়ালার এরকম বাজে ব্যবহার দেখে হাফসার মাথা গরম হয়ে গেল। তখন হাফসা তেজী কন্ঠে রিক্সা ওয়ালাকে বলল"চালান তো রিক্সা তাহলে এত 'attitude' কোথা থেকে আসে। আপনাদের মত বাঙালিদের জন্যই দেশের এই অবস্থা।দেশের একটু বিপদ দেখতে না দেখতেই জিনিস পত্রের দাম বাড়িয়ে দেন।আমার তো মনে হয় আপনাদের মত কিছু শ্রেণীর লোক যদি জানতে পারে, আগামীকাল কেয়ামত হবে তাহলে আজকেই জায়নামাজের দাম বাড়িয়ে দিবে"।হাফসা আরো কিছু বলতে যাবে তখনই হায়াত হাত বাড়িয়ে অন্য আরেকটি রিক্সা থামাল । তারপর হাফসা এসে ঐ রিকশা ওয়ালা কে বলল "মামা কলেজ গেটের ভাড়া কত"? তার উত্তরের রিকশা ওয়ালা বললো ৫০ টাকা। প্রথমে হায়াত রিক্সায় উঠে বসলো তারপর হাফসা রিক্সায় এক পা দিয়ে গাঁড় ঘুরিয়ে প্রথম রিকশা ওয়ালার দিকে তাকিয়ে এমন ভাব নিয়ে হাসি দিল যেন সে বিশ্ব জয় করে ফেলেছে।

রিক্সাটা কলেজের কাছাকাছি আসার পর তাদের পিছন থেকে দুটো কালো প্রাইভেট কার আসলো। প্রাইভেট কার দুটো এমন স্পিডে চলছিল মনে হচ্ছে তাদের গাড়ির সামনে যে আসবে তাকে পিষে চলে যাবি। রিকশায় বসে থেকে তারা দুই বোন এই গাড়ি চলে যাওয়ার বিষয় টি লক্ষ্য করলো। তখন হাফসা বলল "আপু দেখছোস এই কারণে আমি বড়লোকদের দেখতে পারিনা। এমন ফুল স্পিডে কেউ গাড়ি চালায়"। তখন হায়াত বলল "বাদ দে তো এসব"। তারা কথা বলতে বলতে রিক্সাটি কলেজ গেটের সামনে এসে পড়ল।

কলেজের উপর বড় অক্ষরে লেখা 'কালিগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজ '। তারা ভারা মিটিয়ে কলেজের ভিতরে প্রবেশ করতেই হায়াতের বান্ধবী নওরিন তাদের দুইজনকে রিসিভ করল। নওরিন আবার তাদের কলেজ বা ইউনিভার্সিটি কাউন্টের ক্যাপ্টেন। তাই কলেজের অনুষ্ঠানে সে টুকটাক ভালোই দায়িত্ব পালন করে। তারা তিনজন কথা বলতে বলতে যখন কলেজ মাঠ এর মাঝখানে আসলো তখন হায়াতের চোখে পড়ল রাস্তায় দেখা সেই কালো দুটি গাড়ি। হায়াত তখন সঙ্গে সঙ্গে চোখ সরিয়ে ফেলল। কিছুক্ষণ পর অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেল শিক্ষার্থীদের নৃত্য ও গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির শুরু হলো।

এখানে সবার বক্তব্য শেষে একটি ছেলেকে ডাকলো বক্তব্য দেওয়ার জন্য। ছেলেটি মঞ্চে উঠে বক্তব্য দিতে শুরু করলো। ছেলেটির উচ্চতা ছিল ৫ ফুট১১ ইঞ্চি, পরনে ছিল মেরুন কালার শার্ট আর কালো ব্লেজার সাথে কালো প্যান্ট,পায়ে কালো বুট জুতো হাতে একটি ঘড়ি।

হাফসা ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলল "দেখে মনে হচ্ছে কোন জমিদার বাড়ির ছেলে "। পাশে থেকে হাফসার বান্ধবী হিমা বলল "খান বাড়ির ছোট ছেলে কোন জমিদারের পুত্র থেকে তো কম না"। তখন হায়াত বলল "খান বাড়ির ছেলে মানে বুঝলাম না"! হায়াতের বান্ধবী নওরীন বলল "তুই রিয়াদ খানকে চিনিস না। ভাই ও পুরা কলেজ ইউনিভারসিটির মধ্যে ভাইরাল"।

হাফসা তখন হাসতে হাসতে বলল "কি এমন আকাম করছে যে পুরা ইউনিভার্সিটি আর কলেজের মধ্যে ভাইরাল"। নওরিন হাফসার দিকে তাকিয়ে বলল "ভুলেও ওর নামে খারাপ কথা বলিস না কলেজ আর ইউনিভার্সিটি সব মেয়েরা তার জন্য পাগল"। হায়াত বলল "কোন ইয়ারে পড়ে ছেলেটা"? নওরিন অবাক এর সুরে বলল কি তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে তুই আমার ক্রাশের খবর জানোস না"? "তোর ক্রাশ মানে এই ছেলে তোর ক্রাশ"?"ও আমাদের সাথেই পড়ে আমরা এক ইয়ারে পড়ি" হায়াত বলল "কই আমি তোরে একবারও দেখিনি"। "আরে আমাদের ইউনিভার্সিটিতে সাইন্স, কমার্স আর মানবিক শাখার আলাদা আলাদা ক্লাস। তাই হয়তো তোর সাথে দেখা হয় না ।আর এমনিতেও তুই তো ক্লাস থেকে বেশি বেরই হোস না"। হিমা বলল "আমি তো শুনেছি 'রিয়াদ খান' আমাদের কলেজের সবথেকে বড়লোক"।

তার কথা শুনে নওরিন আবার বলল "রিয়াদ খান হচ্ছে খান বাড়ির সব থেকে ছোট ছেলে। আমি শুনছি এটা নাকি তাদের আসল বাড়ি না। কালিগঞ্জে তাদের গ্রামের বাড়ি। তাদের আসল বাড়ি হল গাজীপুরের জয়দেবপুর উপজেলায় ক্যান্টনমেন্ট কলেজের আবাসিক এলাকায় তাদের বিশাল বড় বাড়ি আছে যা একনামে সবাই চিনে 'খান বাড়ি' "।

.
চলমান

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন