নিজেকে ফিরে পাওয়া~
লেখনিতে- নীদ্রিতা জাহান
পর্ব~১
ভারী সুন্দর করে সাজানো হয়েছে মির্জা বাড়ি,,, সাজাবেই না কেন,,, আজ যে মির্জা বাড়ির বড় কন্যার বিয়ে। যত্নে আদরে ২৩ বছর ধরে বড় করা মেয়ে কে নাকি, পরের ঘরে দিয়ে দিতে হবে,,তবে কিছু তো করার নেই, এটাই যে প্রকৃতির নিয়ম। প্রতি টা মেয়েকেই একদিন পরের ঘরে যেতে হয়।বসে বসে এসব ভাবছিলো আরশি, সে এই বাড়ির ছোট কন্যার প্রিয় একজন মানুষ,,বেস্ট ফ্রেন্ড বলা হয় যাকে,, আরশি আর তুশি এসেছিলো মেহেরের বড় বোনের বিয়েতে ,, এসেছিলো বললে ভুল হবে জোর করে আনা হয়েছে,এখন তৈরি হয়ে বসে আছে আরশি,,বর পক্ষ এখনো আসে নি,, কনের ও এতক্ষণে সাজা শেষ, তার দুই বান্ধবী হয়তো সেখানে,,
আরশিও যায় তাদের কাছে,, গিয়ে দেখে মেহের এবং তুশি দুই জনই মেহেরের বড় বোনের কাছে বসে আছে, মেহেরের বড় বোনের নাম মিহিতা মানে মিহিতা মির্জা। নাম টার কেন জানি আরশির ভীষণ প্রিয়,, নিজের ভাবনা এক পাশে রেখে আরশি গিয়ে দাড়ায় মিহিতার সামনে,,মুগ্ধতা নিয়ে বলল,,
~তোমাকে ভীষণ সুন্দর লাগছে আপু মাশাআল্লাহ, আমারই না নজর লেগে যায়।
তার বিপরীতে মিহিতা একটা মিষ্টি হাসি উপহার দিয়ে বলে,,
~তোমাকেও দারুণ লাগছে মিষ্টি মেয়ে।
মিহিতা আরশিকে মিষ্টি মেয়ে বলে ডাকে,,মেয়ে টা দেখতে মিষ্টি তাই এই নামে ডাকেই,,, ওই দিকে বর আসছে বলে ডাকতে থাকা একটি মেয়ে,, তাই আর কথা না বাড়িয়ে,, আরশি,মেহের,তুশি তিন জন আর বাকি কয়এক জন মেয়ে নিয়ে গেট ধরতে চলে গেলো,,আরশি ঝগড়া পারে ভালো,, বাকিরাও পারে,,তবে আজকে আরশি পিছনে দাড়িয়েছে সামনে তুশি,মেহের আরো কয় একজন,তারা ৫০ হাজার টাকা চেয়েছে তা শুনে, বরের এক বন্ধু বলে,,
~আপনারা কি গেট ধরার নামে ডাকাতি করতে চাইছেন, কি সাংগাতীক মহিলারে বাবা,,
এটা শুনে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে মেহের রাগী ভাব নিয়ে বলে,,
~এটা কোনো ডাকাতি না এটা শালী দের অধিকার বুঝছেন,, আপনি আবার বুঝবেন কি করে, আপনি তো মাথা মোটা,,
একটু ভাব নিয়ে বলল শেষের কথা টা মেহের,,
নিজের নামে এমন কথা শুনে ছেলে টা বলে,,
~কি আমি মাথা মোটা, আপনার সাহস দেখি কম নয়, চিনেন আমি কে?
মেহের ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে বলে,,
~আপনি কে সেটা জেনে আমার লাভ কি বলুন? যদি আমার কোনো লাভ থাকে তাহলে বলতে পারেন,, বিয়াই সাহেব।
~ আমি আপনার সাথে কি করতে পারি, আপনি ধারনাও করতে পারছেন,,
~এসব এখন ধারনা চাইছিও না,, আমাদের টাকা দিন আমারও চলে যাচ্ছি,শুধু শুধু মাথা মোটা দের সাথে ঝগড়া করতে চাইছি না।
ছেলে টা থতমত খেয়ে যায়, পিচ্চি মেয়ে টা থাকে বার বার অপমান করছে ভাবা যায়,
এরি মধ্যে আরেক টা ছেলে বলে,,
~আচ্ছা ঝগড়া করে কোনো লাভ নেই ২০ দিচ্ছি, আপনাদেরও হবে আমাদেরও হবে,,
পিছন থেকে ছেলেটার কথার উওর দেয় আরশি শান্ত কন্ঠে বলে,,
~না হবে না। আমার মাএ ৫০ হাজার চাইছি আর আপনারা ২০ হাজার দিচ্ছেন,, আমাদের চাওয়ার অর্ধেক ও হয় নি,, তাই আমরা এটা মানবো না,, ৩৫ দেন আর চাইবো না।
হঠাৎ অন্য কারো কন্ঠ পেয়ে বর পক্ষ সবাই পিছন থেকে বের হয়ে সামনে আসা আরশি দিকে তাকায়,,, মেয়েটার চোখ ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছে না, তবে চোখ গুলাও ভালো করে দেখা যাচ্ছে না,,তবে মেয়েটির কন্ঠ মাশাআল্লাহ, প্রেমে পড়ার মতো।
বর তার এক বন্ধু কে বলে যত চাইছে দিয়ে দিতে, আর কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকবে, এই মেয়ে গুলো যে তাদের মন মতো টাকা না দিলে ছাড়বে না, তা বুঝে গিয়েছে সে, তার বউ টাকে সে এখনো দেখলো না। তার কত অপেক্ষা করবে ,, এর পর সব ঝামেলা শেষ করে মেহের দের ৩৫ হাজার টাকা দাওয়া হয়,,টাকা পেয়ে বর কে সসম্মানে স্টেজে বসানো হয়,, একটু পর কনে কেও আনা হয়। এরপর মেহের রা তােদের বাকি কাজ গুলো করার জন্য, যে যার মতো কাজে লেগে গেলো,,আরশিকে উপরে পাঠানো হয় ফুল আনার জন্য,, বর কে হাত ধোঁয়ানো হবে তার জন্য পানি তে কিছু ফুল দিবে বলে, মেহের আগে থেকে নিজের রুমে কিছু ফুল রাখে। সেই গুলোই আনার জন্য আরশি কে পাঠানো হয়,, এরিমধ্যে বর, কনে এবং তাদের ফ্রেন্ড কাজিন রা সবাই খেতে বসে,, আরশি তাদের সাথে খাবে না তাই সে ফুল আনতেই গিয়েছে,,,
_________
ফুল নিয়ে রুম থেকে বের হতেই কিছুর সাথে ধাক্কা খেয়ে ফুল সহ পড়ে যায় আরশি,,
~ও মা গো
বলে চিৎকার করে উঠে, তারপর উপরে তাকিয়ে দেখে একটা ছেলে,, ছেলে বললে ভুল হবে সে একজন,, পরিপূর্ণ পুরুষ,,
মেহের লোক টাকে রাগ দেখিয়ে নিচে বসা থাকতেই বলে
~এইযে মানুষ রুপে বটগাছ, চোখে কি দিয়েছেন, হ্যা আপনার জন্য আমার কোমর টা শেষ হয়ে গেলো,,,আপনার নামে আমি মামলা দিবো..
আরশি এসব কথা শুনে ব্রু কুঁচকে তাকিয়ে আছে আরহাম,, সে কখন পেললো,মেয়েটা কোথায় থেকে এসে নিজেই ধাক্কা খেয়ে পড়লো এখন তার দোষ,,
আরহাম এসেছিলো ফ্রেশ হতে খাওয়ার সময় তার গায়ে ভুলে একটু আমি পড়ে,,তাই মেহের তাকে উপরের এক রুম দেখিয়ে দিলো ফ্রেশ হতে,, এরি মধ্যে তার বার বার কল আসায় মেহেরের রুমের পাশে দাড়িয়ে কথা বলছিলো সে, ওই সময় আরশি এক হাতে ফুল অন্য হাতে মোবাইল এ কিছু করতে করতে বের হয়, তাই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ধাক্কা টা খায় এতে কারো দোষ নেই,,
আরহাম একটু রাগ দেখিয়ে বলে
~দেখুন মিস আপনি নিজে থেকে পড়েছেন, এতে আমার কোনো দোষ নেই,,সো বিনা কারণে আমাকে রাগ দেখাবেন না। আর যদি দোষের কথা বলা হয়, সেটা আপনার দোষ
কথা শেষ করে দম পেলে আরহাম, আরশি রাগ জেনো বেরেই চলছে, তবে আরশি আর কিছু বললো না। আস্তে আস্তে নিজে থেকে উঠে দাঁড়ালো, আরহাম এর দিকে একপলক তাকিয়ে সামনের দিকে হাঁটা দিলো,,, জেনো এখানে কিছুই হয় নি।
আরহাম অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে,কি মেয়ে রে বাবা নিজে থেকে পড়লো, নিজে রাগ দেখিয়ে ঝগড়া করলো,, এখন কিছু না বলে চলে গেলো, এই জন্য হয়তো মানুষ বলে মেয়েদের মন বুঝা এত সহজ নয়রে,,
পর্ব 1
পর্ব সম্পন্ন!
আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।
আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?
প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।
Google Play থেকে অ্যাপ নামান