ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিষিদ্ধ ভালোবাসা

পর্ব 1

লেখক: মীম

নিষিদ্ধ ভালোবাসা
লেখিকা: মিম আক্তার
সকাল আটটা পেরিয়ে গেছে।
জানালার ফাঁক দিয়ে রোদের আলো এসে পড়েছে ঘরের মেঝেতে। বাইরে পাখির ডাক, পাশের বাড়ির মানুষের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে নতুন একটা সকাল শুরু হয়েছে। অথচ তামান্না আক্তার মিমের ঘুমের কোনো খবর নেই।
— মিম! এই মেয়ে, আর কত ঘুমাবি? কলেজে যাবি না?
রান্নাঘর থেকে কহিনুর বেগমের চিৎকার ভেসে এলো।
কিন্তু মিমের কোনো সাড়া নেই।
কিছুক্ষণ পর ছোট্ট আরিফা ঘরে ঢুকল। তার লম্বা চুলগুলো এলোমেলো, বড় বড় মায়াবী চোখে ঘুমের রেশ। বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে সে মিমের গাল টিপে বলল,
— মাম্মা, ওঠো না!
মিম চোখ না খুলেই বলল,
— আর পাঁচ মিনিট, মা।
— না! তুমি প্রতিদিন পাঁচ মিনিট বলো। তারপর অনেক দেরি হয়।
মিম এবার এক চোখ খুলে তাকাল।
— বাহ! আমার ছয় বছরের মেয়েটা দেখি বেশ বড় হয়ে গেছে!
আরিফা কোমরে হাত রেখে বলল,
— আমি বড় হয়েছি। তুমি ছোট!
মিম হেসে তাকে টেনে বুকে জড়িয়ে নিল।
— আচ্ছা, আমার ছোট্ট মায়ের কথাই শুনলাম। উঠছি।
আরিফা খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠল।
মিমের বয়স বাইশ। ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্রী। হাসিখুশি, প্রাণবন্ত, একটু দুষ্টু আর অসম্ভব কথা বলতে ভালোবাসে। তার ছোট্ট পৃথিবীটা পরিবার, বন্ধু আর আরিফাকে ঘিরেই।
আরিফা তার বড় বোন কাজলের মেয়ে। কাজলের বিয়ে হয়েছে কয়েক বছর আগে। দশ বছরের আলিফ মাদ্রাসায় পড়ে, আর ছয় বছরের আরিফা মিমের কাছেই থাকে। মেয়েটা মিমকে এতটাই ভালোবাসে যে মাম্মা ছাড়া অন্য কিছু বলতেই চায় না।
মিমও তাকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রাখে।
---
পরিবারের সকাল
ডাইনিং টেবিলে বসে আছেন আনোয়ার হোসেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন সৎ মানুষ। সংসারের দায়িত্ব সামলাতে সামলাতে জীবন পার করে দিয়েছেন। মেয়েদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কোনো কমতি নেই।
কহিনুর বেগম খাবার পরিবেশন করছেন।
মিম এসে চেয়ারে বসতেই বাবা বললেন,
— মা, আজ আবার দেরি হলো?
মিম মুখে হাসি এনে বলল,
— বাবা, আমি তো সময়মতোই উঠেছিলাম। কিন্তু তোমার নাতনি আমাকে ছাড়ল না।
আরিফা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করল,
— মিথ্যা কথা! মাম্মা ঘুমাচ্ছিল।
সবাই হেসে উঠল।
কহিনুর বেগম বললেন,
— তুই না একটু বড় হবি? সারাক্ষণ শুধু হাসি-ঠাট্টা।
— মা, বড় হয়ে গেলে যদি হাসতে ভুলে যাই?
আনোয়ার হোসেন মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।
— হাসিখুশি থাকিস মা। জীবনে কষ্ট আসবে, কিন্তু নিজের হাসিটা হারিয়ে ফেলিস না।
মিম বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,
— তুমি থাকতে আমার কষ্ট আসবে কেন?
বাবা কিছু বললেন না। শুধু মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
---
কলেজের বন্ধুরা
কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে মিমের জন্য অপেক্ষা করছিল ফয়সাল।
ফয়সাল মিমের খালাতো ভাই। একই কলেজে পড়ে। সম্পর্কের দিক থেকে ভাই হলেও দুজনের বন্ধুত্বটা একেবারে আলাদা। সারাক্ষণ খুনসুটি, ঝগড়া আর হাসাহাসিতে মেতে থাকে তারা।
ফয়সালের হাতে মোবাইল। স্ক্রিনে ফ্রি ফায়ারের গেম চলছে।
মিম পেছন থেকে এসে তার কানে বলল,
— এই যে গেমের জামাই, কেমন আছিস?
ফয়সাল চমকে উঠে বলল,
— আরে! হার্ট অ্যাটাক করাবি নাকি?
— গেমের মধ্যে এত ডুবে থাকিস কেন? বউ পালিয়ে যাবে একদিন।
— তোর মতো বউ হলে তো পালাবেই!
মিম চোখ বড় করে তাকাল।
— কী বললি?
— কিছু না। বললাম, তুই অনেক সুন্দর!
— এই তো, ভালো ছেলে!
দুজনের হাসির শব্দে আশপাশের কয়েকজন তাকিয়ে দেখল।
ক্যান্টিনে মাহি, রত্না আর আখি বসে ছিল। মিমকে দেখেই মাহি ডাক দিল,
— এই মেয়ে, এত দেরি কেন?
মিম চেয়ার টেনে বসে বলল,
— রাস্তার মানুষজন আমাকে দেখে থেমে যায়, তাই।
রত্না হেসে বলল,
— নিজের প্রশংসা করার জন্য তোকে পুরস্কার দেওয়া উচিত।
আখি বলল,
— পুরস্কার হিসেবে এক কাপ চা খাওয়ানো হোক।
মিম হাত তুলে বলল,
— এই প্রস্তাবে আমি রাজি!
ঠিক তখনই তাদের কাছে এসে দাঁড়াল স্মৃতি।
— কী রে, এত হাসাহাসি কিসের?
স্মৃতি এসে মিমের পাশে বসতেই মিম তার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।
— কী রে, এত দেরি করলি কেন?
স্মৃতি ব্যাগটা পাশে রেখে বলল,
— বাসা থেকে বের হতেই আম্মু একগাদা কাজ ধরিয়ে দিল। মনে হয় আমাকে দিয়ে সংসারের সব কাজ করিয়ে তবেই ছাড়বে!
মাহি হেসে বলল,
— তোর তো আবার রাজকীয় জীবন। কাজ করতে হয় নাকি?
স্মৃতি মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— রাজকীয় জীবন কোথায়? বাসায় একজন বড় ভাই থাকলে বুঝতি। সারাক্ষণ তার শাসন সহ্য করতে হয়।
মিম আগ্রহ নিয়ে সামনে ঝুঁকে পড়ল।
— আচ্ছা, তোর ভাইয়ের কথা বল তো। তুই সবসময় বলিস, তোর ভাই নাকি খুব শাসন করে!
স্মৃতি হেসে ফেলল।
— শাসন করবে না? আমি একটু দেরি করে বাসায় ফিরলেই ফোনের পর ফোন। কোথায় আছি, কার সঙ্গে আছি, কখন ফিরব—সব হিসাব দিতে হয়।
ফয়সাল পাশ থেকে বলল,
— ভাইটা কি পুলিশের চাকরি করে নাকি?
— না। তবে তার সামনে পড়লে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মতোই লাগে!
সবাই হেসে উঠল।
মিম একটু কৌতূহলী হয়ে বলল,
— তোর ভাই কি তোকে খুব ভালোবাসে?
স্মৃতির মুখের হাসিটা এবার অন্য রকম হয়ে গেল। চোখে ফুটে উঠল মুগ্ধতা।
— অনেক। আমার জীবনে ভাইয়ার মতো মানুষ আর নেই। নিজের কথা কখনো ভাবে না। আমার কোনো সমস্যা হলে সবার আগে ভাইয়া পাশে দাঁড়ায়। আমি অসুস্থ হলে সারারাত জেগে থাকে। আবার কোনো ভুল করলে এমন বকা দেয়, মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে রাগী মানুষটা আমার ভাই!
মিম মুগ্ধ হয়ে শুনছিল।
— তাহলে তো তুই অনেক ভাগ্যবতী।
— জানিস, ভাইয়া বাইরে থেকে যতটা গম্ভীর, ভেতরে ততটাই নরম। কাউকে সহজে বিশ্বাস করে না। কিন্তু যাদের ভালোবাসে, তাদের জন্য সবকিছু করতে পারে।
ফয়সাল চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বলল,
— বাহ! তোর ভাইয়ের তো দেখি অনেক গুণ। বিয়ে করিয়ে দে, আমরাও একটু উপকার পাই!
স্মৃতি চোখ রাঙিয়ে বলল,
— আমার ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে তোর এত চিন্তা কেন?
— না মানে, ভাবির সঙ্গে পরিচিত হব!
মিম হেসে বলল,
— আগে ভাবি খুঁজে বের কর। তারপর পরিচয় করিয়ে দিস।
স্মৃতি এবার মিমের দিকে তাকিয়ে বলল,
— তুই একদিন আমাদের বাসায় আয় না। ভাইয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব।
মিম একটু থেমে বলল,
— সত্যি? তোর ভাই আমাকে চিনবে তো?
— চিনবে না কেন? আমি তোকে নিয়ে অনেক কথা বলেছি।
— কী বলেছিস?
— বলেছি, আমার একটা পাগলি বান্ধবী আছে। সারাক্ষণ কথা বলে, হাসে, আর সবাইকে বিরক্ত করে!
মিম মুখ গম্ভীর করে বলল,
— বাহ! আমার এত সুন্দর পরিচয় দিয়েছিস?
— আরে, সত্যিটাই তো বলেছি!
আবারও হাসিতে ভরে উঠল ক্যান্টিন।
কিন্তু মিমের মনে স্মৃতির ভাইকে নিয়ে কৌতূহলটা রয়ে গেল। কেমন মানুষ তিনি? এত গম্ভীর কেন? বোনের প্রতি এত যত্নশীল মানুষটি নিশ্চয়ই ভেতরে খুব ভালো।
---
হোসেন ভিলা
শহরের অভিজাত এলাকায় বিশাল এক বাড়ি।
বাড়িটির সামনে উঁচু দেয়াল, বড় লোহার গেট, নিরাপত্তারক্ষী আর ভেতরে সাজানো সুন্দর বাগান। বাড়ির নাম—হোসেন ভিলা।
বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ঘরে বসে আছেন লোকমান হোসেন। একসময় তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। বর্তমানে রাজনীতির অঙ্গনে তাঁর প্রভাব আরও বিস্তৃত। এলাকার মানুষ তাঁকে সম্মান করে, আবার কেউ কেউ ভয়ও পায়।
তাঁর সামনে বসে আছে ছাব্বিশ বছর বয়সী এক যুবক।
সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, হাতে দামি ঘড়ি। চেহারায় গাম্ভীর্য, চোখে এক অদ্ভুত স্থিরতা। কথাবার্তায় সংযত, কিন্তু উপস্থিতিতে এমন একটা ব্যক্তিত্ব আছে, যা সহজেই মানুষের দৃষ্টি কেড়ে নেয়।
সে আর কেউ নয়—আজমির হোসেন রাজু।
পরিবারের কাছে রাজু। রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি আজমির হোসেন নামে।
লোকমান হোসেন কাগজপত্রের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— আগামী সপ্তাহের সভাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কয়েকটা ইউনিয়নের মানুষ আসবে। তাদের সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলতে হবে।
রাজু শান্ত গলায় বলল,
— শুধু সভা করলেই হবে না, বাবা। মানুষের সমস্যাগুলো বুঝতে হবে। এলাকায় এখনো অনেক কাজ বাকি।
লোকমান হোসেন ছেলের দিকে তাকালেন।
— রাজনীতি শুধু মানুষের জন্য কাজ করার জায়গা নয়, আজমির। এখানে নিজের অবস্থানও ধরে রাখতে হয়।
— নিজের অবস্থান কাজ দিয়েই তৈরি করতে চাই।
— তুমি এখনো অনেক কিছু বোঝো না।
রাজু এবার বাবার চোখের দিকে তাকাল।
— হয়তো বুঝি না। তবে একটা কথা জানি, সারাজীবন আপনার পরিচয়ে চলতে চাই না। নিজের পরিচয় নিজেই তৈরি করব।
লোকমান হোসেন কিছুক্ষণ ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন।
ছেলের এই আত্মবিশ্বাস তাঁকে আনন্দিত করে, আবার কখনো কখনো চিন্তিতও করে তোলে।
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
— ভাইয়া, ভেতরে আসব?
স্মৃতির কণ্ঠ শুনে রাজুর মুখে সামান্য হাসি ফুটল।
— আয়।
স্মৃতি ঘরে ঢুকে বাবাকে সালাম দিল।
— আব্বু, তুমি এখনো কাজ করছ?
লোকমান হোসেন মৃদু হেসে বললেন,
— তোমার ভাইয়ের সঙ্গে একটু কথা বলছিলাম।
স্মৃতি রাজুর পাশে এসে দাঁড়াল।
— ভাইয়া, তুমি কি আজ বাসায় থাকবে?
— কেন?
— এমনি। তোমার সঙ্গে একটু কথা ছিল।
রাজু বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— বলো।
— এখন না। পরে বলব।
রাজু মৃদু হেসে মাথা নাড়ল।
— ঠিক আছে। তবে বেশি রাত করে বাইরে থাকবে না।
স্মৃতি মুখ বাঁকিয়ে বলল,
— আবার শুরু হলো!
রাজু গম্ভীর হওয়ার ভান করে বলল,
— দরকার হলে কলেজে পাহারা বসিয়ে দেব।
— লাগবে না। আমি নিজেই নিজের খেয়াল রাখতে পারি।
— সেটা তোমার কাজ, আর তোমার খেয়াল রাখা আমার কাজ।
কথাটা শুনে স্মৃতি হাসল।
কিন্তু রাজুর ফোনে হঠাৎ একটি মেসেজ এলো।
অচেনা নম্বর।
রাজু ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই তার মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।
মেসেজে লেখা—
“রাজনীতি নিয়ে এত আত্মবিশ্বাস ভালো নয়, আজমির হোসেন। অতীত কখনো কাউকে ছেড়ে কথা বলে না।”
কয়েক মুহূর্ত স্থির হয়ে রইল সে।
স্মৃতি ভাইয়ের মুখের পরিবর্তন খেয়াল করল।
— ভাইয়া, কী হয়েছে?
রাজু দ্রুত ফোনের স্ক্রিন বন্ধ করে রাখল।
— কিছু না। তুমি যাও, আমি একটু বাইরে যাব।
স্মৃতি আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।
কিন্তু রাজুর চোখে তখন অন্য এক যুদ্ধের ছায়া।
---
মিমের ছোট্ট পৃথিবী
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা।
মিম বারান্দায় বসে আরিফার চুল আঁচড়ে দিচ্ছিল। আরিফা ছোট্ট একটা পুতুল নিয়ে খেলছে।
— মাম্মা, আমার চুলে বেণি করে দাও।
— আচ্ছা, আমার রাজকন্যা। দুটো বেণি করব?
— না, একটা। আর সুন্দর করে রিবন লাগিয়ে দেবে।
মিম চুল বাঁধতে বাঁধতে বলল,
— আজকে মাম্মার একটা নতুন বান্ধবীর সঙ্গে দেখা হয়েছে।
আরিফা সঙ্গে সঙ্গে তাকাল।
— তার নাম কী?
— স্মৃতি।
— সে কি আমার সঙ্গে খেলবে?
— খেলবে তো। তুই গেলে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব।
আরিফা খুশি হয়ে বলল,
— আমি তার সঙ্গে পুতুল খেলব।
মিম হেসে ফেলল।
ঠিক তখনই মিমের ফোনে মেসেজ এলো।
স্মৃতি লিখেছে—
“কাল বিকেলে আমাদের বাসায় আসবি। তোকে নিয়ে অনেক গল্প করব। আর ভাইয়ার সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেব। না করবি না কিন্তু!”
মিম মেসেজ পড়ে মুচকি হাসল।
সে উত্তর দিল,
“আচ্ছা, যাব। তবে তোর ভাই যদি খুব রাগী হয়, তাহলে কিন্তু পালিয়ে আসব!”
কিছুক্ষণ পর স্মৃতির উত্তর এলো,
“আমার ভাইকে দেখে ভয় পাবি না। তবে প্রথম দেখায় একটু গম্ভীর মনে হতে পারে।”
মিম হাসতে হাসতে ফোনটা পাশে রাখল।
সে জানে না, আগামীকাল তার জীবনে কী অপেক্ষা করছে।
---
অন্য এক পৃথিবী
রাত প্রায় দশটা।
হোসেন ভিলার ছাদে দাঁড়িয়ে আছে রাজু। দূরের শহরের আলো দেখা যাচ্ছে। হাতে ফোন, চোখে চিন্তার ছাপ।
কিছুক্ষণ পর তার বন্ধু রাফি এসে পাশে দাঁড়াল।
রাফি রাজুর দীর্ঘদিনের বন্ধু। স্বভাবটা হাসিখুশি, কথায় কথায় মজা করে। রাজুর গম্ভীর স্বভাবের ঠিক বিপরীত।
— কী রে, আবার মুখ এমন করে রেখেছিস কেন? মনে হচ্ছে দেশের সব সমস্যার দায়িত্ব তোর কাঁধে!
রাজু তাকাল না।
— কিছু বলবি?
— বলব তো। কালকের মিটিংয়ের ব্যাপারে কথা আছে।
— বল।
রাফি কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— একটা খবর পেয়েছি। আমাদের বিপক্ষের লোকজন তোর বিরুদ্ধে নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করছে।
রাজু এবার তার দিকে তাকাল।
— কারা?
— নাম এখনো নিশ্চিত না। তবে ভেতরের কেউ তথ্য দিচ্ছে বলে সন্দেহ হচ্ছে।
রাজু ঠান্ডা গলায় বলল,
— প্রমাণ ছাড়া কাউকে সন্দেহ করবি না।
রাফি দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
— তুই সবসময় এত ঠান্ডা মাথায় থাকিস কীভাবে?
— মাথা গরম করে সমস্যার সমাধান হয় না।
রাফি হেসে বলল,
— এই জন্যই তোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করি। তুই রাগ করলেও মনে হয় সভা বসিয়ে রাগ করছিস!
রাজুর মুখে সামান্য হাসি ফুটল।
কিন্তু সেই হাসি বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।
ফোনে আবার একটি মেসেজ এলো।
এবার লেখা—
“নিজের অতীত ভুলে যেও না, আজমির হোসেন। সব হিসাব একদিন সামনে আসবে।”
রাজু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইল।
তার চোখে এবার স্পষ্ট সতর্কতা।
কোন অতীতের কথা বলা হচ্ছে?
কে তাকে অনুসরণ করছে?
আর কে জানে এমন কিছু, যা সে এতদিন সবার কাছ থেকে আড়াল করে রেখেছে?
---
দুটি ভিন্ন পৃথিবী
একজনের জীবন হাসি, বন্ধুত্ব আর ছোট্ট আরিফাকে ঘিরে।
অন্যজনের জীবন রাজনীতি, ক্ষমতা আর অজানা অতীতের ভারে ঢাকা।
তারা দুজন দুই ভিন্ন জগতের বাসিন্দা। একজন সাধারণ পরিবারের প্রাণচঞ্চল মেয়ে, যে ছোট ছোট আনন্দে নিজের পৃথিবী সাজিয়ে রাখে। অন্যজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান, যার প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ক্ষমতা, দায়িত্ব আর অসংখ্য মানুষের প্রত্যাশা।
মেয়েটির নাম তামান্না আক্তার মিম।
ছেলেটির নাম আজমির হোসেন রাজু।
কিন্তু মিম এখনো জানে না, স্মৃতির মুখে যে রাজুর প্রশংসা শুনে তার মনে অদেখা একজন মানুষের প্রতি ভালো লাগা তৈরি হচ্ছে, সেই রাজুই রাজনৈতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ আজমির হোসেন।
তারা কেউ জানে না, খুব শিগগিরই তাদের পথ এক জায়গায় এসে মিলবে।
আর সেই প্রথম দেখা শুধু একটি পরিচয় হয়ে থাকবে না; হয়ে উঠবে এমন এক গল্পের শুরু, যেখানে ভালোবাসার পাশাপাশি থাকবে রাজনীতি, ষড়যন্ত্র, বন্ধুত্ব, বিশ্বাসঘাতকতা, প্রতিশোধ আর কিছু ভয়ংকর গোপন সত্য।
যে মেয়েটি এখনো অচেনা রাজুর নাম শুনে মুচকি হাসে, একদিন সেই মেয়েটিই হয়তো তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে।
আর যে ছেলেটি নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চায়, সে কি জানে—তার জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্যের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে এমন একজন, যার পৃথিবী এখনো নিষ্পাপ হাসিতে ভরা?
কিছু মানুষ জীবনে আসে ভালোবাসা হয়ে, আবার কিছু মানুষ আসে জীবনের সব হিসাব বদলে দিতে।
কিছু গল্পের শুরু হয় পরিচয় দিয়ে, আর কিছু গল্পের শুরু হয় ভাগ্যের অদৃশ্য ষড়যন্ত্রে।
চলবে... 🖤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন