ফন্ট সাইজ:
থিম:
বৃষ্টি ভেজা ভালোবাসা

পর্ব ১

লেখক: Tahia Islam

প্রথম পর্ব:
সকাল ৮টা ৩০ মিনিট।
ঢাকার ব্যস্ত শহর তখন ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। রাস্তার পাশে চায়ের দোকানে মানুষের ভিড়, বাসের হর্ন আর মানুষের ছুটে চলা—সব মিলিয়ে এক ব্যস্ত সকাল।
কিন্তু রহমান পরিবারের বাড়িতে তখন অন্যরকম পরিস্থিতি।
— মেহের! আর কতক্ষণ ঘুমাবি? বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবি না?
রান্নাঘর থেকে মায়ের চিৎকার।
মেহের কম্বলের ভেতর থেকে মুখ বের করে বলল,
— মা, আজকে আমার শরীরটা ভালো নেই।
মা রাগী গলায় বললেন,
— পাঁচ মিনিট আগে তোকে ফ্রিজ থেকে কেক খেতে দেখলাম!
মেহের চোখ বন্ধ রেখেই উত্তর দিল,
— মা, অসুস্থ মানুষেরও তো খিদে লাগে!
পাশের ঘর থেকে ছোট ভাই মিশু হেসে উঠল।
-আপু তোর অসুখের নাম কেক-জ্বর।
মেহের বালিশ চুড়ে মারল!
-এই মিশু তোর পরীক্ষা সামনে, পড়তে বস!মিশু বলল,
— আগে তুই বিছানা থেকে ওঠ!
শেষ পর্যন্ত মায়ের ধমকে মেহের বিছানা ছাড়ল।
সকাল ১০টা — বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস
মেহের দৌড়ে ক্যাম্পাসে ঢুকল। এক হাতে ব্যাগ, অন্য হাতে কফি।
তিশা দূর থেকে চিৎকার করল,
— এই মেহের! তুই আবার লেট!
মেহের হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,
— রাস্তায় জ্যাম ছিল।
তিশা চোখ ছোট করে বলল,
— তোর বাসা থেকে এখানে আসতে দশ মিনিট লাগে। কীসের জ্যাম?
— আমার জীবনের জ্যাম!
তিশা হাসতে হাসতে বলল,
— তোর সঙ্গে থাকলে আমার জীবনটাই জ্যাম হয়ে যাবে।
দুজন হাসতে হাসতে ক্লাসের দিকে যাচ্ছিল।
হঠাৎ সামনে থেকে একটা ছেলে দ্রুত হেঁটে আসছিল।
ধাক্কা!
মেহেরের কফি গিয়ে পড়ল ছেলেটির সাদা শার্টে।
ছেলেটি থমকে দাঁড়াল।
— What the hell!
মেহেরও ভয় পেয়ে গেল। কিন্তু মুখে সেটা প্রকাশ করল না।
— সরি!
ছেলেটি তাকিয়ে বলল,
— শুধু সরি বললেই হবে?
মেহের শার্টের দিকে তাকিয়ে বলল,
— চাইলে ওয়াশিং পাউডারের নাম বলে দিতে পারি!
ছেলেটি অবাক।
— মানে?
— দাগ উঠানোর জন্য বললাম।
পাশে দাঁড়িয়ে তিশা মুখ চেপে হাসছে।
ছেলেটি বিরক্ত হয়ে বলল,
— আপনার কি কোনো সেন্স নেই?
মেহের সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— আছে তো! তবে আজকে একটু ছুটিতে আছে।
ছেলেটি আর কিছু না বলে চলে গেল।
তিশা এবার আর হাসি আটকাতে পারল না।
— তুই শেষ! জানিস ছেলেটা কে?
— কে? কফি কোম্পানির মালিক?
— আরিয়ান রহমান!
— তাতে কী হয়েছে?
— বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ছেলে!
মেহের কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল,
— জনপ্রিয় হলে কি শার্টে কফি পড়বে না?
সকাল ১১টা — ক্লাসরুম
শ্রাবণ ক্লাসে ঢুকে পেছনের বেঞে বসল!
তার বন্ধু রাফি শার্টের দাগ দেখে বলল!
বাহ কফির শিল্পকর্ম! 🙂
শ্রাবণ বিরক্ত হয়ে বলল,
-একটা মেয়ে কফি ফেলে দিয়েছে!
রাফি ভ্রু নাচিয়ে বলল,
ওহ্,মেয়ে!
-রাফি!
-আচ্ছা, আচ্ছা নামটা বল আমি বিয়ের দাওয়াতের কার্ড ছাপাব!
শ্রাবণ এবার তার দিকে কলম ছুড়ে মারল!
রাফি হেসে বলল,
-প্রেম শুরু হওয়ার আগেই এত রাগ! সামনে কি হবে আল্লাহ জানেন!
দুপুর ১১টা ক্যাফেটেরিয়া
মেহের আর তিশা এক টেবিলে বসে ফুচকা খাচ্ছিল!মেহের একটা ফুচকা মুখে দিয়ে বলল,
— তিশা, একটা কথা বলি?
— বল।
— শ্রাবণ ছেলেটা এত রাগী কেন?
— তুই আবার ওকে নিয়ে ভাবছিস কেন?
— ভাবছি না। জানতে চাচ্ছি। মানুষের চরিত্র সম্পর্কে গবেষণা করছি।
তিশা হেসে বলল,
— গবেষণা করতে করতে প্রেমে পড়ে যাস না যেন!
মেহের ফুচকা খেতে খেতে বলল,
— ওই ছেলের সঙ্গে প্রেম? তার চেয়ে আমি সারাজীবন সিঙ্গেল থাকব!
ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা কণ্ঠ শোনা গেল—
— খুব ভালো সিদ্ধান্ত।
মেহের ঘুরে তাকিয়ে দেখল শ্রাবন দাঁড়িয়ে আছে।
মেহেরের মুখের ফুচকাটা প্রায় গলায় আটকে গেল।
শ্রাবন ঠান্ডা গলায় বলল,
— আমাকে নিয়ে গবেষণা শেষ হলে জানাবেন।
মেহের কাশতে কাশতে বলল,
— অবশ্যই! রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে।
রাফি পাশে দাঁড়িয়ে হেসে বলল,
— ভাই, রিপোর্টে আমার নামটাও দিয়েন। আমি সাক্ষী।
তিশা আর রাফি একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে উঠল।
বিকেল ৩টা — লাইব্রেরি
মেহের একটা বই খুঁজছিল। কিন্তু বইয়ের তাক এত উঁচু যে সে কিছুতেই বইটা নিতে পারছিল না।
সে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে বইটা ধরার চেষ্টা করল।
ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা হাত এসে বইটা নামিয়ে দিল।
মেহের ঘুরে তাকাল।
শ্রাবন!
মেহের বইটা হাতে নিয়ে বলল,
— ধন্যবাদ।
শ্রাবন বলল,
— এবার অন্তত কাউকে কফি ঢেলে দেবেন না।
মেহের মুচকি হেসে বলল,
— আপনি কি আমার ওপর রাগ করে আছেন?
— না।
— তাহলে এমন মুখ করে থাকেন কেন? মনে হয় আপনার জন্মদিনেও কেউ কেক খেতে দেয়নি।
শ্রাবন হাসি চেপে বলল,
— আপনি কি কখনো চুপ থাকেন?
মেহের গম্ভীর হয়ে বলল,
— হ্যাঁ। যখন ঘুমাই।
শ্রাবন এবার সত্যিই হেসে ফেলল।
দুজনেই কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইল।
মেহের মনে মনে ভাবল, ছেলেটা হাসলে খারাপ লাগে না!
কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে নিজের মনকে ধমক দিল!
— মেহের! খবরদার! এই ছেলের সঙ্গে কোনো বন্ধুত্বও না!
বিকেল ৫টা — বাড়ি ফেরার পথে
আকাশ কালো হয়ে এসেছে। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলো।
মেহের রাস্তার পাশে একটা দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়াল।
তার কাছে ছাতা নেই।
ঠিক তখন একটা গাড়ি এসে তার সামনে থামল।
গাড়ির জানালা নামতেই দেখা গেল আরিয়ান।
— উঠুন। আপনাকে বাসার কাছে নামিয়ে দেব।
মেহের অবাক হয়ে বলল,
— আপনি?
— না, আপনার কফির দাগ!
মেহের হেসে ফেলল।
— আপনার মুখে হাসি দেখলে মনে হয় পৃথিবীতে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে!
শ্রাবন বলল,
উঠবেন নাকি বৃষ্টির সঙ্গে বন্ধুত্ব করবেন?
মেহের একটু ইতস্তত করে গাড়িতে উঠল।
গাড়ির ভেতরে কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর মেহের বলল,
— আপনার গাড়িতে গান বাজে না?
— আপনি গান শুনবেন?
— না, গাড়ির সঙ্গে গল্প করব!
আরিয়ান মাথা নাড়ল।
— আপনার মতো মানুষ আমি জীবনে দেখিনি।
মেহের জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল,
— আমিও আপনার মতো রাগী মানুষ দেখিনি।
শ্রাবণ এবার হালকা হেসে ফেলল।
কিন্তু কেউই জানত না, এই বৃষ্টির বিকেলটা তাদের জীবনের গল্পে বিশেষ একটা জায়গা নিয়ে নেবে।
রাত ১০টা — শ্রাবণের ঘর
শ্রাবণ বিছানায় শুয়ে ফোন দেখছিল।
হঠাৎ রাফির মেসেজ এল।
রাফি: ভাই, আজকে কাকে বাসায় পৌঁছে দিলি?
শ্রাবন: তোকে কেন বলব?
রাফি: বুঝেছি। কফি ম্যাডাম!
শ্রাবন: ঘুমা।
রাফি: ভাবি কেমন আছে?
শ্রাবন: তোর মাথা ঠিক আছে?
রাফি: না ভাই, তোর প্রেমের চিন্তায় মাথা নষ্ট!
শ্রাবণ ফোনটা পাশে রেখে দিল।
কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার ফোন হাতে নিল।
মেয়েটার হাসিটা অদ্ভুতভাবে মনে পড়ছে।
অন্যদিকে মেহেরও নিজের ঘরে বসে তিশাকে মেসেজ দিচ্ছিল।
মেহের: জানিস, আজকে শ্রাবন আমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে।
তিশা: ওহহহ! প্রেম শুরু?
মেহের: চুপ! ও শুধু মানুষ হিসেবে সাহায্য করেছে।
তিশা:আচ্ছা শুধু মানুষ হিসাবে সাহায্য করেছে, কিন্তু তোর মুখে হাসি কেন?
মেহের ফোনটা রেখে দিল।
তারপর জানালার বাইরে তাকাল।
বৃষ্টি তখনও পড়ছে।
মনে মনে বলল,
"কিছু মানুষ জীবনে হঠাৎ আসে। তাদের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার কোনো পরিকল্পনা থাকে না। অথচ একসময় তারাই গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হয়ে যায়।"
কিন্তু মেহের জানত না, আগামীকাল তার জন্য আরও বড় একটা চমক অপেক্ষা করছে।
পরের দিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নোটিশ বোর্ডে এমন একটি ঘোষণা আসবে, যা শ্রাবন ও মেহেরকে বাধ্য করবে একসঙ্গে কাজ করতে!
প্রথম পর্ব শেষ। ❤️
পরের পর্বে থাকবে আরও বেশি ফানি মুহূর্ত, আরিয়ান-মেহেরের ঝগড়া, বন্ধুত্বের শুরু এবং একটা মজার বিপদ!
অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ

আপনারা যদি চান তাহলে ২য় পর্ব দিবো ইনশাআল্লাহ

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব ১ শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন