উপন্যাস মাই লেডি
লেখিকা সামিয়া ইসরাত সামু
পর্ব ১
(কেলেফোনিয়া) রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে কালো রঙা দুটো বাইক তার পিছনে পনেরোটা (black Mercedes) বাইকে থাকা দুই রমণী এমনভাবে বাইক চালাচ্ছে যে যেকোন মুহূর্তে তাদের খুবই ভয়ানক ভাবে এক্সিডেন্ট হতে পারে কিন্তু এতে যেন তাদের কোন ফারাকই পড়ে না তারা তাদের মত করে বাইক রেসিং করছে
সামু দেখিস আজকে আমি জিতব সব সময় তুই জিতলেও এবার রমণী আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই পেছনে থাকা রমণী হঠাৎ করে তার বাইকের স্পিড বাড়িয়ে দিলাম সামনেই ছিল ফিনিশিং লাইন সে একটা নে ফিনিশিং লাইন পার করে ফেলল আলভেনা তা দেখে অবাক হয়েছে রইল তার এখন হাত-পা ছরিয়ে কাঁদতে মন চাচ্ছে কিন্তু তার সাথে এসব শোভা পায় না কেলেফোনিয়ার সবচেয়ে বড় মাফিয়া হয়ে সে যদি এখনো এরকম করে তাহলে তার এটিটিউড কোথায় যাবে সামু এবারও তুই জিতলে ধুর বাল ভেবেছিলাম এইবার তোকে হারিয়ে দেবো ধুর কিছু হলো না
শুধু শুধু হারালাম (সামিয়া ইসরাত সামু)
হেই (আলভেলা কায়সার )তুই হেরে গেছিস এতগুলো বছর বাইকে হাত দেই না কিন্তু তারপরেও তুই আমার সাথে পারলি না পারব কি করে তোর সাথে তো কেউই পারবে না শুধু আমার ভাই ছাড়া
সামু রাগী রাগী ভাব দেখে বলল তোর ভাইয়ের কথা একদম বলবি না শয়তানটা কেন এখন শয়তান হয়ে গেল আমার ভাই যে তোকে এত বছর ধরে ভালোবাসি হ্যাঁ আমি বলবো না যে তুই আমার ভাইকে ভালোবাসিস না তুইও বাসিস কিন্তু তুই রাজি হচ্ছিস না কেন আমি সেটাই বুঝতে পারছি না রুকু যারা সবার কারো বাংলাদেশে গিয়ে আমি তোর ভাই কে বিয়ে করব বাংলাদেশ ছাড়া চলবে না ।হ্যাঁ হ্যাঁ তোর ১৫ বছর বয়সে এই দেশে আসলি তারপর আবার এইখানে পাঁচ বছর থেকে পুরো ক্যালিফোর্নিয়া কেই নাড়িয়ে দিলি তোর জন্য
পুরো ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষ আতঙ্কে থাকতো তারপরে আবার পেলি ইতালি ওইখানে আবার সাত বছর থেকে ওইখানের মাফিয়া হয়ে আসলি বাহ বাহ বেশ ভালো তারপর আবার প্রতিবছর এক ট্রাক করে বাংলাদেশ থেকে উপন্যাসের বই নিয়ে আসিস। ইয়ে সাব কিয়া দেখনা পার রাহা হ্যায় । মাফিয়ারা ও বুঝি এমন হয় তা তুই কেমন সারাদিন পড়াশোনা আর রাতের বেলা খুন
সামু নিজের পুরো কথা শেষ করতে পারল না তার আগেই ১৫ টি মার্সিডিজ এসে তাদের সামনে থামলো গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসলো সশস্ত্র বডিগার্ড কিন্তু তাদেরকে দেখে মনে হচ্ছে না যে তারা বর্ডিগার্ড কারণ তাদের পরনে সাদা শার্ট আর কালো লুঙ্গি যদিও নিচে প্যান্ট আছে
তাও বেচারা বডিগার্ড সামুর হাতে পরে তাদের জয় আমির সাজতে হলো বেচারাগুলো
কিন্তু এই লুঙ্গি পরার অত্যাচার থেকে দুই রমণী বেঁচে গেছে ইনায়া আর আরিশা তাদের পরনে কালো কোট প্যান্ট
ইনায়া আর আরিশা সামু আর আলভেনার কাছে এগিয়ে এলো
বস টিকিট বুক করে নিয়েছি আর আপনারা দুইজন ভালো করে মাথার ঢুকিয়ে নেন যে আপনারা ছদ্মবেশে যাচ্ছেন বাংলাদেশ ওইখানে কোন বিলাসিতা চলবে না ইনায়া আর আরিশার মুখে এমন কথা শুনে সামু তাদের দিকে চোখ বাঁকিয়ে তাকাতে তারা চুপ হয়ে গেল আলভেনা আবার বলল ভাইয়া কিন্তু এক্ষুনি চলে আসবে অলভেনার কথা শেষ হওয়ার আগেই তাদের সামনে এসে থামলো bmw কার সাথে সাথেই কার থেকে বেরিয়ে আসলো এক সুদর্শন যুবক গায়ের রং ধবধবে সাদা গালে ক্লিন্সের দাড়ি চোখে কালো চশমা কালো লেদার জ্যাকেট আর কালো কালারের একটা প্যান্ট পরনে চোখ থেকে সানগ্লাসটা খুলতেই ভেসে উঠলো তার সবুজ রাঙা চোখ জোড়া
এরিসান হাত দিয়ে নিজের বাদামি বর্ণের চুলগুলো পেছনে ঠেলে এগিয়ে আসতে থাকে তাদের দিকে। সে কোন কথা না বলে সে যা তাদের সামনে এসে থামে তো আজকে কি যাওয়া হবে? না এখানে দাঁড়িয়ে থাকবে
তার কথা শুনে যেন সামুর ঘুর ভাঙলো সে এতক্ষন একটা নিশাত তো দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল এরিশানের দিকে। সামু নিজের মুখটাকে অতি কষ্টে গম্ভীর করে
হ্যাঁ চলো ততক্ষণে আলভেনা আর বাকি সব গার্ডরা গাড়িতে উঠে পড়েছে আলভেনা বাইক নিয়ে সাথে বডিগার্ড দের নিয়ে ওদেরকে একা ছেড়ে এখান থেকে চলে গেল সাথে চিল্লিয়ে তাদের দুজনের উদ্দেশ্য করে বলল আমরা যাচ্ছি তোমরা তাড়াতাড়ি চলে এসো বলে সে বাইক নিয়ে এখান থেকে চলে গেল পিছনে পিছনে ছুটলো 15 টি মার্সিডিস
মাই লেডি অবশেষে তোর দর্শন মিললো বলেয় সামু দিকে একটু ঝুকে এসে বলে । । । । । । । ।
এবার তোকে বিয়ে না ক রে ছাড়ব না আমি প্রতি উত্তরে একটু বাঁকা হেসে সামু বলল । । । । । । ।
বাংলাদেশে আগে যাই তারপরে বিয়ে করব
সামুর কাছ থেকে এমন উত্তর পেয়ে এরিশান
একটু হাসল তারপর প্রতি উত্তর করল বাংলাদেশ গিয়ে
আমাদের সর্বপ্রথম কাজ হবে বিয়ে করা প্রতি উত্তরে সামু বলল ঠিক আছে
এরিশান আর কিছু বলল না সে সামুর হাত ধরে টানতে শুরু করল বাইকের কাছে গিয়ে সামু কে বাইকে উঠতে বলল কোন কথা না বলেই সামু উঠে পড়ল । । । । । । ।
এরিসান ও আর কিছু না বলে বাইকে উঠে বসে সামুকে বলল তার পিঠে হাত রাখতে কিন্তু সামু তার পিঠে হাত না রেখে দুই হাত দিয়ে দুই দিক দিয়ে তার পেট জড়িয়ে ধরল
এটা দেখে এরিশান মুচকি হাসলে
তারপর বাইকে জুড়ে একটা টান দিল এয়ারপোর্ট তারা সবাই বাংলাদেশে যাচ্ছে এক ছদ্মবেশী রুপে বাংলাদেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজ করে গেছে তাদের সবার তাই তারা ছদ্মবেশে রূপে কোন ইমারজেন্সি ফ্লাইট ছাড়াই বেরিয়ে গেছে কোন সুরক্ষা রাখেনি তারা
চলবে!...