#নীল_আগুনের_শহর
#পর্ব_৯
#অ্যানা_জাহান_মায়া
আরবিন ঠান্ডা গলায় বলল,
"এত বছর পর তোমার সাথে আবার দেখা হলো প্রহরী। আমি তো এটা কখনো আশাই করিনি!"
ইলহাম এক পা পিছিয়ে গেল। তাঁর কণ্ঠে চাপা ক্ষোভ।
"তুমি এখানে আসার সাহস কি করে পেলে আরবিন?"
আরবিন হাসলো। কিন্তু সে হাসিতে কোনো উষ্ণতা নেই।
"এই শহর, এই আগুন, এই দরজা কোনো কিছু আমাকে আটকাতে পারবে না। তুমি সেটা ভালো করেই জানো!"
আরিশা দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে স্তব্ধ। ইলহাম আরিশার দিকে তাকিয়ে বলল,
"তোমাকে আটকাতে না পারলেও অন্য কিছু তো করতে পেরেছি!"
আরবিন ইলহামের কথায় ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো,
"তুমি কিসের কথা বলছো?"
ইলহাম হঠাৎ আচমকা আরিশার হাত ধরে নিজের পাশে এনে দাঁড় করালো।
"তোমার হৃদয়ের রাণী আরিশার কথা বলছি!"
আরবিন দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
"ওকে কিছু করলে তোমার জন্য ভালো হবে না প্রহরী!"
"প্রহরী, প্রহরী কথাটা অনেক শুনেছি। আর শুনতে চাই না আরবিন।"
ইলহামের কথায় আরবিন হাসলো।
"সে তুমি যতই চেষ্টা করো না কেন? প্রহরী নামটা তোমার গায়ে থাকবেই।"
আরবিন ছায়াগুলোকে আদেশ করলো। ইলহামের কাছ থেকে আরিশাকে নিয়ে আসার জন্য।
"আরবিন ওদের থামাও। নয়তো ভালো হবে না তোমার জন্য।"
আরবিন ইলহামের কথায় কোনো কর্ণপাত করলো না। যেই ছায়াগুলো আরিশার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ওমনিই ইলহাম একটা অদৃশ্য দরজা মধ্যে গিয়ে উধাও হয়ে গেল। আরবিনও সেই অদৃশ্য দরজার মধ্যে গিয়ে উধাও হয়ে গেল।
আরবিন একটা অচেনা শহরে গিয়ে উপস্থিত হলো। চারদিকে লাল আগুনের ছড়াছড়ি। হঠাৎ কোথা থেকে কিছু লোক এসে হাজির হলো আরবিনের সামনে। মানুষ নয় তারাও ছায়া। তবে ভিন্ন ধরনের দেখতে তারা।
একজন আরবিনকে তাদের সাথে যাওয়ার অনুরোধ করলো। আরবিন কেন যেন যেতে রাজী হয়ে গেল। একটা অচেনা প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরবিন। যেটা লাল আগুনের তৈরি। প্রাসাদের ভেতরে যেতেই আরবিন অবাক হয়ে গেল।
সেখানে আরিশার বাবা আদ্রিশ বন্দী অবস্থায় আছে। পাশে একজন মহিলাও বন্দী হয়ে রয়েছে। তবে মহিলাকে আরবিন চিনতে পারলো না। আরবিন চারদিকে আরিশা খোঁজার চেষ্টা করছে কোথাও আরিশা নেই।
"তুমি কি আরিশাকে খুঁজছো?"
পেছনে তাকাতেই আরবিন দেখলো একটা অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে। মুখ দেখা যাচ্ছে না ভালো করে।
"চমকে উঠলে নাকি আরবিন?"
আরবিন স্তব্ধ। সেই লোকটাকে জিজ্ঞেস করলো,
"কে আপনি?"
"এত তাড়াতাড়ি আমাকে ভুলে গেলে?"
লোকটার কণ্ঠে আক্ষেপ। ধীরে ধীরে লোকটা সামনে হাজির হলো। সে আর কেউ নয় এ্যালডার।
"আপনি!"
আরবিনের চোখে বিস্ময়।
"আপনি স্বাধীনভাবে রয়েছেন। তাহলে আরিশার বাবা বন্দী কেন?"
আরবিনের প্রশ্নে এ্যালডার চমকানোর নাটক করলো।
"তুমি তাহলে এতটাই বোকা আরবিন? আমার আগে জানা ছিল না!"
"যা বলবেন পরিষ্কার ভাবে বলুন।"
"এখানে তেজ দেখিয়ে কোনো লাভ নেই আরবিন। এটা ইলমেরা বা নীল আগুনের শহর কোনটাই নয়। এটা লুমেরা শহর। যা লাল আগুনের তৈরি আর অনেক ভয়ানক।
আরবিন যেন এই এ্যালডারকে কিছুতেই চিনতে পারছে না। হঠাৎ সেখানে ইলহাম এসে হাজির হলো। তবে একা।
"প্রহরী, আরিশা কোথায়?"
আরবিন গর্জে উঠল। আরবিনের চিৎকারে ইলহাম কিছুটা ভয় পেয়ে গেছে।
"শান্ত হও আমার বাচ্চা।"
একটা মেয়েলি কণ্ঠ আরবিনকে যেন আচমকা থামিয়ে দিলো। পেছনে তাকিয়ে দেখলো লাল রঙের পোশাক পরিহিত এক রমনী। সেই রমনীকে দেখে সব ছায়ারা মাথা নত করলো।
এ্যালডার এবং ইলহামও মাথা নত করলো। শুধু আরবিন করলো না। তাঁর মুখ থেকে একটা শব্দই
বের হলো,
"মা..."
"তাহলে আমাকে চিনতে পেরেছো আরবিন?"
সেই রমনী আরবিনের দিকে তাকিয়ে কথাটা বললো।
"আভ্রিলা, তুমি কি এখন ছেলেকে দেখে একজন ভালো মা হওয়ার চেষ্টা করছো নাকি?"
এ্যালডারের কথাগুলো শুনে সেই রমনী হাসলো।
"আমি ভালো মা হতে পেরেছি কিনা জানিনা। তবে আমি আভ্রিলা একদিনের জন্য হলেও তো ছেলের
জন্য কেঁদেছি? শুধু তাকে একবার দেখার জন্য।"
আভ্রিলার চোখে পানি।
চলবে...