ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীল আগুনের শহর

১৪তম পর্ব

লেখক: অ্যানা জাহান মায়া

#নীল_আগুনের_শহর

#পর্ব_১৪

#অ্যানা_জাহান_মায়া

আরবিনের চোখ ভিজে উঠল। শেষবারের মতো আবার ছাই হয়ে যাওয়া মায়ের দেহাংশের দিকে তাকালো। কিছুক্ষণ পরই সেই ছাই হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। লুমেরা শহরের রাণী চিরদিনের মতো হারিয়ে গেল।

হঠাৎ কিছু কিছু জায়গায় লাল আগুন জ্বলে উঠল। যেন তারাও তাদের রাণীকে বিদায় জানালো। আদ্রিশ ও লুমিনাও মুক্তি গেল। আরবিনের সেই ছায়াগুলো সেখানে উপস্থিত হলো। তারা কোনো খবর নিয়ে এসেছে।

তারা আরবিনকে জানালো ইলহাম গোলাপ ফুলের বাগানে গিয়েছে। নীল রঙের গোলাপ ফুলের বাগান। তারা নাকি বলতে শুনেছে ইলহাম ওই গোলাপ ফুলের বাগানে আরিশাকে বন্দী করে রেখেছে।

"আমার এত কাছে আছে আরিশা! অথচ আমিই জানি না? এটা তো ঠিক না! চল সেখানে এখনই।"

আরবিন ছায়াদের নিয়ে সেই বাগানে চলে গেল। বাগানে পৌঁছাতেই আরবিন অবাক হয়ে গেল। সেখানে কেউ নেই। ছায়াগুলোর দিকে রাগান্বিত চোখে তাকালো।

আরবিনকে এভাবে তাকাতে দেখে ছায়ারা ভয় পেল।

কালো আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠল। যেন শরীর থেকে বেরিয়ে আসবে। যখন আরবিন রেগে যায় তখনই কালো আগুন জেগে উঠে তাঁর শরীরে। আরবিনের মন চাচ্ছে সবগুলো শেষ করে দিতে। কিন্তু করলো না।

কারণ তাঁর ভয় হচ্ছে। যদি ইলহাম আরিশার কোনো ক্ষতি করে? বা মেরে ফেলে? আরিশাকে মারা এখন এতটাও কঠিন কাজ না। কারণ সে এখন শক্তিহীন। সামনে আঘাতেই মৃত্যু ঘটে যেতে পারে।

"আরিশা, তুমি যেখানেই থাকো না কেন আমি তোমাকে উদ্ধার করবোই!"

____________________

আরিশা জঙ্গলেের মাঝে একটা প্রাসাদ দেখতে পেল।

ব্লু বার্ডকে নিয়ে সেখানে নেমে পড়ল। কালো রঙের একটা বড় প্রাসাদ। চারদিকে কালো আগুনের ছড়াছড়ি। কেমন অদ্ভুত আর শান্ত এই জায়গাটা।

"এটা আবার কোন শহর? আরবিনের নয়তো?"

ভাবতে লাগল আরিশা। প্রবেশ করতে যাবে ভেতরে তখন বাইরে ছিটকে পড়ল সে।

"একি! আমি ভেতরে কেন ঢুকতে পারছি না?"

আরিশা কয়েকবার চেষ্টা করলো। কিন্তু প্রত্যেকবারই ব্যর্থ হলো।

"তার মানে এখানকার ব্যবস্থা হয়তো খুব কড়া! সাধারণ কেউ এখানে প্রবেশ করতে পারবে না। কিন্তু আমি ভেতরে যেতে না পারলে শক্তি ফিরে পাবো কি করে?"

একটু থেমে আরিশা আবার বলল,

"কিছুক্ষণ অপেক্ষা করি। হতে পারে ভেতরে যাওয়ার কোনো রাস্তা পেয়ে গেলাম!"

সেই প্রাসাদের চারপাশে আরিশা ঘুরতে লাগল। সম্পূর্ণ প্রাসাদ ঘুরে ঘুরে দেখছে। আরিশা একটা জিনিস খেয়াল করলো এখানকার সবকিছু কালো রঙের। তবে কিছু একটাতে তাঁর চোখ আটকে গেল।

একটু দূরে একটা ঝর্ণা বইছে। সাথে একটি অদ্ভুত সুন্দর গাছ। আর এই দুটোই নীল রঙের।

"আশ্চর্য! এখানে যা আছে সবই তো কালো রঙের। তাহলে এই ঝর্ণা আর গাছ কেন নীল রঙের? কি সম্পর্ক আছে আরবিনের রাজ্যের সাথে?"

আরিশা অবাক দৃষ্টিতে সেই দিকে তাকিয়ে আছে। এই ব্যাপারটা সে কিছুতেই বুঝতে পারছে না। তবে একটা জিনিস তাঁর জানা এখনও বাকি। সেটা হলো তাঁর বাবা কেন আরবিনকে পছন্দ করে না।

"পেছনে কিছুর শব্দ হচ্ছে বলে মনে হলো?"

আরিশা পেছনে তাকিয়ে দেখল আশেপাশের কিছু গাছ পড়ে আছে। কিন্তু ব্লু বার্ড কোথাও নেই। আরিশা চারপাশে তাকে খুঁজতে লাগল। একটা পর্যায়ে দেখতে পেল সেই কালো প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।

আরিশা অবাক চোখে তাকিয়ে আছে সেই দিকে। মনে মনে ভাবছে ব্লু বার্ড ভেতরে কিভাবে গেল? যেখানে সে এতবার চেষ্টা করেও পারেনি। পরক্ষণেই তাঁর মনে পড়ল সে এখন শক্তিহীন সাথে দুর্বল। কিন্তু ব্লু বার্ড?

সে তো তাঁর চেয়েও শক্তিশালী একটা পাখি। না হলে আভ্রিলার সেই আগুনের খাঁচা ভাঙল কি করে? আভ্রিলা নিশ্চয় কোনো দুর্বল খাঁচা বানাইনি আরিশার জন্য। আর সেই খাঁচাটাও ব্লু বার্ড ভাঙতে পেরেছে।

তাহলে আরবিনের রাজ্যের সেই অদৃশ্য বাঁধা ভাঙা আর এমন কি কঠিন কাজ? আরিশা এক পা সামনে এগিয়ে দিলো। এবার সে কোনো ঝামেলা ছাড়ায় ভেতরে প্রবেশ করলো। আরিশা ব্লু বার্ডকে নিয়ে সোজা ভেতরে গেল।

ভেতরটা খুব অন্ধকার। ভালো করে কিছু দেখা যাচ্ছে না। তবুও আরিশা ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে গেল। একটু এগোতেই দেখল চারপাশটা আলোকিত হচ্ছে। দেয়ালের বিভিন্ন ছবিগুলোও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

দেয়ালের একটা জায়গায় কালো অক্ষরে লেখা আছে মিরায়া। নামটার চারদিকে কালো আগুন জ্বলছে। তার পাশে আছে একটা সুদর্শন ছেলের ছবি। সাথে তাঁর বাবা, মাও আছে। ছবিটা ভালো করে লক্ষ্য করলো কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে।

"আরবিন!"

আরিশা এবার পুরোপুরি ভাবে নিশ্চিত হলো এটাই আরবিনের রাজ্য। আর ইলহামের কথা অনুযায়ী তাঁর শক্তি এখানেই আছে। কিন্তু আরিশা জিনিস খেয়াল করলো। ইলমেরা আর মিরায়া এই দুটো নাম প্রায় এক।

"কোনো ভাবে কি এই দুটোর মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে?"

আরিশা নিজেই চিন্তা করছে। হঠাৎ তাঁর পায়ের সাথে কিছু একটার ধাক্কা লাগল। পায়ের দিকে তাকিয়ে দেখলো একটা চাবি। কিন্তু এই চাবিটা কিসের? আরিশা বুঝতে পারছে না।

____________________

আরবিন অনুভব করলো তাঁর রাজ্যে কেউ প্রবেশ করছে। কিন্তু কে করেছে? কার এত সাহস? আরবিন গর্জে উঠল। ছায়াদের দিকে তাকিয়ে বলল,

"কার এত সাহস আমার অনুমতি ছাড়া আমার রাজ্যে প্রবেশ করে? এর শাস্তি তাকে পেতে হবে। ধ্বংস করে দিবো তাকে।"

ছায়াগুলো ভয়ে চুপ করে রইলো।

"কার এত দুঃসাহস? কে হতে পারে?"

আরবিন রেগে যাচ্ছে। তাঁর শরীরের কালো আগুনগুলো জ্বলে উঠেছে। ছায়াদের বলল,

"যাও খোঁজ নাও এখনি। না হলে সবকটাকে শেষ করবো।"

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন