ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি শুধুই আমার বউ

পর্ব 15

লেখক: Oyshe Chowdhury

তুমি শুধুই আমার বউ

লেখিকা: Oyshe Chowdhury

পর্ব: ১৫

সকাল সাতটা।

বাড়ির সবাই তখনো পুরোপুরি ঘুম থেকে ওঠেনি। কিন্তু রুশোর ঘরে সকাল থেকেই ব্যস্ততা। বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে শার্টের হাতা ঠিক করতে করতে সে ফোনে কথা বলছিল।

— আমি বলেছি, বিষয়টা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনো রকম অবহেলা চাই না।

ওপাশ থেকে কিছু একটা বলা হলো।

— ঠিক আছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি রাখবে। আমি পৌঁছানোর আগেই সবকিছু গুছিয়ে চাই।

ফোন কেটে রুশো ঘড়ির দিকে তাকাল। তারপর টেবিল থেকে গাড়ির চাবি তুলে নিল।

ঠিক তখন দরজায় টোকা পড়ল।

— ভাইয়া, আসব?

— এসো।

রাদিফ ঘরে ঢুকল। আজ তার মুখেও হাসি নেই। পরনে ফরমাল শার্ট, হাতে একটা ফাইল।

রুশো তাকে দেখে বলল,

— বসো।

রাদিফ চেয়ারে বসে ফাইলটা টেবিলের ওপর রাখল।

— গত রাতের কলটা নিয়ে কিছু খোঁজ নিয়েছি।

রুশো তার দিকে তাকাল।

— কী পেয়েছ?

— নম্বরটা সাধারণ কোনো নম্বর নয়। কয়েকবার ব্যবহার হয়েছে, কিন্তু যার নামে রেজিস্ট্রেশন, তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

রুশো কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

— যে লোকটা ফোন করেছিল, সে আমাদের সম্পর্কে কিছু জানে। সেটা নিশ্চিত। কিন্তু কতটুকু জানে, সেটা এখনো পরিষ্কার নয়।

রাদিফ বলল,

— আমারও তাই মনে হচ্ছে। তবে একটা বিষয় লক্ষ করেছি। গত কয়েকদিনে আমাদের অফিসের কিছু তথ্য বাইরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

— সম্ভাবনা দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।

— জানি।

রুশো টেবিলে রাখা ফাইলটা খুলল।

— তুমি আজ অফিসের পুরোনো হিসাবগুলো আবার দেখবে। যাদের দায়িত্বে ছিল, তাদের সবার সঙ্গে কথা বলবে। তবে কাউকে বুঝতে দেবে না যে আমরা কিছু সন্দেহ করছি।

রাদিফ মাথা নাড়ল।

— ঠিক আছে।

রুশো এবার একটু থেমে বলল,

— আর বাড়ির ব্যাপারটাও খেয়াল রাখবে।

রাদিফ তার দিকে তাকাল।

— বাড়ির ব্যাপার বলতে?

— মা-বাবা, আইরা—সবাই। অযথা কাউকে ভয় দেখানোর দরকার নেই। কিন্তু সতর্ক থাকবে।

রাদিফের চোখের দৃষ্টি কঠিন হয়ে গেল।

— বুঝেছি, ভাইয়া।

রুশো ঘড়ি দেখে উঠে দাঁড়াল।

— চলো। নিচে যাই।

ডাইনিং রুমে তখন সকালের নাশতার আয়োজন চলছে।

রুশোর বাবা পত্রিকা পড়ছিলেন। মা চায়ের কাপ হাতে বসে আছেন। আইরা সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে মাকে সালাম দিল।

— আসো মা। ঘুম ভালো হয়েছে?

— জি।

আইরা বসতেই রাদিফ পাশের চেয়ারটা টেনে বলল,

— ভাবী, আজকে আপনার জন্য একটা খবর আছে।

আইরা খাবার নিতে নিতে বলল,

— আবার কী করেছেন?

— আমি কিন্তু কিছু করিনি। আজকে আমি খুব ভালো মানুষ।

আইরা তার দিকে তাকাল।

— এই কথাটাই সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক।

রাদিফ হেসে উঠল।

রুশো টেবিলে বসে কফি হাতে নিল। রাদিফকে হাসতে দেখে বলল,

— সকাল সকাল শুরু করেছ?

রাদিফ এবার একটু শান্ত হয়ে বলল,

— না ভাইয়া। ভাবীর সঙ্গে কথা বলছি।

— খাওয়ার সময় খাও।

— জি।

মা দুজনের দিকে তাকিয়ে বললেন,

— রুশো, তুই সবসময় রাদিফকে ধমকাস কেন? ছেলেটা একটু হাসিঠাট্টা করলেই সমস্যা?

রুশো শান্ত গলায় বলল,

— মা, আমি কি ওকে সারাক্ষণ ধমকাই?

রাদিফ সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,

— না মা। ভাইয়া আমাকে খুব ভালোবাসেন। শুধু প্রকাশের পদ্ধতিটা একটু আলাদা।

আইরা হেসে ফেলল।

রুশো এবার রাদিফের দিকে তাকাল।

— তোমার প্রকাশের পদ্ধতিটা বন্ধ করো। নাশতা শেষ করো।

রাদিফ মুখ নিচু করে খেতে লাগল।

কিছুক্ষণ পর আইরা রুশোর দিকে তাকিয়ে বলল,

— আপনি আজ তাড়াতাড়ি বের হবেন?

— হ্যাঁ।

— দুপুরে ফিরবেন?

— জানি না। কাজের ওপর নির্ভর করছে।

আইরা আর কিছু বলল না।

রুশোর মা বললেন,

— আজ বিকেলে আমি বাজারে যাব। আইরা, তুমি আমার সঙ্গে যাবে?

আইরা খুশি হয়ে বলল,

— যাব। অনেক দিন বাইরে যাওয়া হয় না।

রুশো সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— ড্রাইভারকে সঙ্গে নেবেন।

আইরা তার দিকে তাকাল।

— আমি কি একা যেতে পারব না?

রুশো খাবার থেকে চোখ না তুলেই বলল,

— আমি শুধু বলেছি, ড্রাইভার সঙ্গে থাকবে।

আইরা কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু রুশোর মা হেসে বললেন,

— আচ্ছা বাবা, ড্রাইভার থাকবে। এবার তোরা খাওয়া শেষ কর।

সকাল দশটা।

রুশো অফিসে পৌঁছে সরাসরি নিজের কক্ষে গেল। রাদিফও তার সঙ্গে এসেছে। দুজনের মুখেই কাজের ব্যস্ততা।

রুশো চেয়ারে বসে কম্পিউটার চালু করল।

— ফাইলগুলো নিয়ে এসেছ?

রাদিফ ফাইল এগিয়ে দিল।

— এই নিন।

রুশো একের পর এক কাগজ দেখতে লাগল। বেশ কিছুক্ষণ পর একটি জায়গায় এসে তার হাত থেমে গেল।

— এই হিসাবটা কে তৈরি করেছে?

রাদিফ কাগজের দিকে তাকাল।

— আমাদের হিসাব বিভাগের একজন কর্মী।

— তাকে আমার কক্ষে পাঠাও।

রাদিফ উঠে দাঁড়াল।

— এখনই পাঠাচ্ছি।

কিছুক্ষণ পর একজন কর্মী ঘরে এল। রুশো তাকে বসতে বলল না। নিজেই কাগজটা সামনে রেখে প্রশ্ন করল,

— এই হিসাবটা তুমি তৈরি করেছ?

— জি, স্যার।

— এখানে এই পরিমাণ টাকার হিসাব কেন নেই?

লোকটি একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলল,

— স্যার, সম্ভবত ভুল হয়েছে।

রুশো তার দিকে স্থির চোখে তাকাল।

— সম্ভবত?

— জি... আমি আবার যাচাই করে দেখছি।

রুশো কাগজটা টেবিলে রাখল।

— তোমাকে সময় দেওয়া হচ্ছে। সব কাগজ যাচাই করে আজকের মধ্যে আমাকে রিপোর্ট দেবে। কোনো তথ্য গোপন করলে সেটা ভালো হবে না।

— জি, স্যার।

লোকটি চলে গেল।

রাদিফ দরজা বন্ধ করে বলল,

— আপনার কী মনে হয়?

রুশো বলল,

— এখনো কিছু মনে করার সময় হয়নি। তথ্যগুলো মিলিয়ে দেখতে হবে।

রাদিফ মাথা নাড়ল।

তারপর দুজন আবার কাজে মন দিল।

দুপুর একটা।

বাড়িতে রুশোর মা আইরাকে নিয়ে বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। আইরা নিজের ঘর থেকে নেমে এসে বলল,

— মা, আমি তৈরি।

— চলো তাহলে।

দুজন গাড়িতে উঠল। ড্রাইভার গাড়ি চালাতে শুরু করল।

বাজারে পৌঁছে রুশোর মা কয়েকটি প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে লাগলেন। আইরা পাশে পাশে ঘুরে সব দেখছিল। অনেক দিন পর বাইরে এসে তার বেশ ভালো লাগছিল।

একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে সে একটা সুন্দর শাড়ি দেখল।

মা তার দৃষ্টি লক্ষ করে বললেন,

— পছন্দ হয়েছে?

আইরা একটু লজ্জা পেয়ে বলল,

— সুন্দর তো।

— তাহলে দেখে নাও।

আইরা শাড়িটা হাতে নিয়ে দেখল। রঙটা তার পছন্দ হয়েছে, কিন্তু দাম শুনে আবার রেখে দিল।

মা জিজ্ঞেস করলেন,

— নেবে না?

— না। দরকার নেই।

— পছন্দ হয়েছে যখন, নিয়ে নাও।

আইরা মাথা নাড়ল।

— থাক। এমনিই দেখছিলাম।

রুশোর মা কিছু না বলে শাড়িটা কিনে ফেললেন।

আইরা অবাক হয়ে বলল,

— মা! আপনি কিনলেন কেন?

— আমার মেয়ের পছন্দ হয়েছে। তাই কিনলাম।

আইরা আর কিছু বলতে পারল না। শুধু মৃদু হেসে শাড়িটা হাতে নিল।

বাজার থেকে বের হওয়ার সময় রুশোর মায়ের ফোন বেজে উঠল।

তিনি কল রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বাড়ির একজন কর্মী জানাল, বাড়িতে একটা পার্সেল এসেছে।

মা বললেন,

— ঠিক আছে, রেখে দাও। আমরা ফিরছি।

কল কেটে তিনি আইরাকে বললেন,

— বাড়িতে নাকি একটা পার্সেল এসেছে।

আইরা গাড়িতে উঠে বসল।

— কার জন্য?

— সেটা তো জানি না।

গাড়ি বাড়ির পথে রওনা হলো।

বিকেল চারটা।

রুশো অফিস থেকে বের হওয়ার আগে রাদিফকে বলল,

— আজকে তুমি বাড়ি চলে যাও। আমি একটু বাইরে যাব।

রাদিফ ভ্রু কুঁচকে তাকাল।

— কোথায়?

— একটা মিটিং আছে।

— আমি যাব?

— না। তুমি অফিসের কাজ শেষ করো।

রাদিফ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

— ভাইয়া, সাবধানে যাবেন।

রুশো তার দিকে তাকাল।

— আমি নিজের খেয়াল রাখতে জানি।

— জানি। তবুও বললাম।

রুশো আর কথা না বাড়িয়ে বেরিয়ে গেল।

রাদিফ কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নিজের ফোন বের করে একজনকে কল করল।

— আমি যে তথ্যগুলো চেয়েছিলাম, সেগুলো পেয়েছ?

ওপাশ থেকে উত্তর এল।

রাদিফের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল।

— ঠিক আছে। কাউকে কিছু বলবে না। আমি নিজে দেখে নেব।

কল কেটে সে আবার কাজে মন দিল।

সন্ধ্যা।

আইরা নিজের ঘরে বসে নতুন শাড়িটা দেখছিল। শাড়িটা বেশ সুন্দর। সে একবার গায়ে জড়িয়ে আয়নার সামনে দাঁড়াল।

ঠিক তখন রাদিফ দরজায় এসে দাঁড়াল।

— বাহ! ভাবী, আজ তো বেশ সুন্দর লাগছে!

আইরা ঘুরে তাকাল।

— আপনি আবার অনুমতি ছাড়া ঘরে ঢুকেছেন?

রাদিফ দরজার দিকে তাকিয়ে বলল,

— দরজা খোলা ছিল।

— তাই বলে ঢুকে পড়বেন?

— আচ্ছা, পরেরবার দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে অনুমতি নিয়ে ঢুকব।

আইরা শাড়িটা ভাঁজ করতে করতে বলল,

— কী দরকার ছিল?

রাদিফ সোফায় বসে বলল,

— আপনার জন্য একটা খবর আছে।

— আবার কী?

— ভাইয়া আজ একটু দেরি করে ফিরবেন।

আইরা স্বাভাবিক গলায় বলল,

— আচ্ছা।

রাদিফ তার মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

— আপনি কি ভাইয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন?

আইরা সঙ্গে সঙ্গে তাকাল।

— না তো!

— আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করলাম।

— আপনার এত প্রশ্ন কেন?

রাদিফ হেসে বলল,

— আপনার মুখের ভাব দেখে মনে হলো।

আইরা একটা কুশন তুলে তার দিকে তাক করল।

— বের হন।

রাদিফ হাসতে হাসতে উঠে দাঁড়াল।

— যাচ্ছি, যাচ্ছি। তবে একটা কথা, ভাবী।

— কী?

— ভাইয়া যদি দেরি করেন, রাতের খাবার কিন্তু আমার সঙ্গে খাবেন।

আইরা বলল,

— আগে আপনি নিজের খাবার খেতে শিখুন। সারাক্ষণ কথা বললে খাবার ঠান্ডা হয়ে যায়।

রাদিফ হাসতে হাসতে বেরিয়ে গেল।

রাত সাড়ে আটটা।

বাড়ির সবাই ডাইনিং রুমে বসেছে। রুশো এখনো ফেরেনি। রাদিফও আজ একটু চুপচাপ।

রুশোর বাবা জিজ্ঞেস করলেন,

— রুশো এখনো আসেনি?

রাদিফ বলল,

— একটা মিটিং আছে। ফিরতে দেরি হবে।

মা একটু চিন্তিত হয়ে বললেন,

— এত রাত পর্যন্ত কাজ করা কি দরকার?

রাদিফ স্বাভাবিক গলায় বলল,

— কাজের বিষয়, মা। ফিরবে।

আইরা খাবার নিতে নিতে বলল,

— আপনি খাচ্ছেন না কেন?

রাদিফ তার দিকে তাকাল।

— খাচ্ছি তো।

— না, আপনি শুধু খাবার নাড়াচাড়া করছেন।

রাদিফ একটু হেসে বলল,

— আজকে ক্ষুধা কম।

আইরা আর কিছু বলল না।

খাওয়া শেষে সবাই উঠে গেল।

রাত প্রায় দশটা।

রুশো বাড়িতে ফিরল। তার মুখে ক্লান্তির ছাপ। দরজায় ঢুকতেই মা এগিয়ে এলেন।

— এত দেরি হলো কেন বাবা?

রুশো বলল,

— কাজ ছিল, মা।

— খেয়েছিস?

— না। খেয়ে নেব।

মা খাবারের ব্যবস্থা করতে চলে গেলেন।

রুশো নিজের ঘরে যাওয়ার আগে বসার ঘরে আইরাকে দেখতে পেল। সে সোফায় বসে বই পড়ছিল।

রুশো থেমে বলল,

— এখনো ঘুমাওনি?

আইরা বই থেকে চোখ তুলে বলল,

— না।

— কী করছ?

— বই পড়ছি।

রুশো একটু কাছে এসে বলল,

— সারাদিন বই পড়ো?

আইরা মুচকি হেসে বলল,

— আপনার মতো সারাদিন রাগ করি না তো। তাই অন্য কিছু করতে হয়।

রুশো তার দিকে তাকিয়ে রইল।

— তোমার কথার শেষ নেই।

— আপনার রাগেরও শেষ নেই।

রুশো কিছু বলতে গিয়েও থেমে গেল। তারপর বলল,

— খেয়েছ?

— হ্যাঁ।

— ঠিকমতো?

আইরা অবাক হয়ে বলল,

— জি। কেন?

— এমনিই জিজ্ঞেস করলাম।

সে আর দাঁড়াল না। নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।

আইরা বইয়ের দিকে তাকালেও তার মন আর বইয়ে বসছিল না।

রাত এগারোটা।

রুশো নিজের ঘরে বসে ফোনে কিছু দেখছিল। হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল।

— ভাইয়া?

রাদিফ।

— এসো।

রাদিফ ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করল। তার হাতে একটা কাগজ।

— একটা তথ্য পেয়েছি।

রুশো ফোনটা নামিয়ে রাখল।

— কী তথ্য?

রাদিফ কাগজটা টেবিলে রাখল।

— আজকে যে অচেনা নম্বর থেকে ফোন এসেছিল, সেই নম্বরের সঙ্গে আমাদের পুরোনো একটা ঘটনার যোগসূত্র পাওয়া গেছে।

রুশোর চোখ সরু হয়ে এল।

— কোন ঘটনা?

রাদিফ কাগজের দিকে তাকিয়ে বলল,

— কয়েক বছর আগের একটা ব্যবসায়িক বিরোধ। তখন যারা আমাদের বিরুদ্ধে ছিল, তাদের একজনের নাম আবার সামনে এসেছে।

রুশো কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

— নিশ্চিত?

— পুরোপুরি না। তবে মিল আছে।

রুশো ধীরে ধীরে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল।

— তাহলে পুরোনো বিষয়গুলো আবার খুঁজে দেখতে হবে।

রাদিফ বলল,

— আমি কাল থেকেই কাজ শুরু করব।

রুশো জানালার দিকে তাকিয়ে বলল,

— না। আজ রাত থেকেই।

রাদিফ মাথা নাড়ল।

দুজনেই বুঝতে পারল, বিষয়টা আর সাধারণ কোনো ফোনকলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

কিন্তু বাড়ির অন্য কেউ যেন এখনই কিছু বুঝতে না পারে।

রুশো ফোনটা হাতে তুলে নিল।

— আর একটা কথা, রাদিফ।

— বলুন।

— আইরার আশপাশে খেয়াল রাখবে। ও যেন কোনোভাবেই এসবের মধ্যে না জড়ায়।

রাদিফ এবার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসল।

— বুঝেছি। ভাবীকে নিয়ে আপনি বেশ চিন্তিত দেখছি।

রুশো সঙ্গে সঙ্গে তার দিকে তাকাল।

— রাদিফ!

রাদিফ দুই হাত তুলে বলল,

— আচ্ছা, আচ্ছা। আর কিছু বলছি না।

কিন্তু ঘর থেকে বের হওয়ার সময় তার মুখে মৃদু হাসি ছিল।

রুশো কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল।

সে নিজেও জানে না, কেন আইরার নিরাপত্তার কথা ভাবলেই তার ভেতরে অদ্ভুত একটা অস্থিরতা তৈরি হয়।

হয়তো দায়িত্ববোধ।

অথবা এমন কোনো অনুভূতি, যার নাম সে এখনো দিতে চায় না।

চলবে…

প্রিয় পাঠক-পাঠিকারা,

১৫তম পর্বটি কেমন লাগল? রুশোর জীবনের পুরোনো শত্রুদের বিষয়টি ধীরে ধীরে সামনে আসছে। আপনাদের কী মনে হচ্ছে, এই অচেনা ফোনকলের পেছনে কারা থাকতে পারে? সুন্দর মন্তব্য করে জানাবেন। গল্পটি ভালো লাগলে লাইক করবেন। আপনাদের প্রতিটি মন্তব্যই লেখার অনুপ্রেরণা। ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 15 শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন