ফন্ট সাইজ:
থিম:
কয়রা

পর্ব 1

লেখক: জান্নাত

আমি কায়রা, আমি আমার এই ১৭ বছর জীবনে খুব সুন্দর ভাবে বড় হয়েছি বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে ছিলাম আমি ছিলাম বলছি কারণ এখন আর তারা এই পৃথিবীতে নেই আমার বাবা-মা কেউ আমার থেকে কেড়ে নিয়েছে সময়টা ২০২২ আমার তখন ১৭ বছর বয়স উচ্চতর লম্বা গায়ের রং ফর শরীর স্বাস্থ্য স্বাভাবিক আমার বাবা বাহিরের দেশ থেকে প্রোডাক্টস এনে বাংলাদেশের সেল করত আর্থিক দিক দিয়ে সচ্ছল এবং ভালই ছিল নিজেদের দোতলা বাড়ি ছিল এটা আমার দাদার বাড়ি বাবা বড় ছেলে হওয়ার কারণে বাড়িতে বাবা পেয়েছে এবং আরো একটি বাড়ি ছিল দাদার সেই বাড়িটি চাচা পেয়েছে। আমার চাচা আমাদের সাথে এরকম একটা যোগাযোগ রাখেনি দাদা দাদি মারা যাওয়ার পর তারা তাদের মত থাকতো আর আমরা আমাদের মতই থাকতাম আমার মা একজন গৃহিণী সংসার কাজ এবং আমাকে সামলানো ছিল তার দায়িত্ব বাবা ব্যবসার কাজে প্রায় বাহিরের দেশে চলে যেতেন আর আসতেন এক সপ্তাহ ৮ দিন ৯ দিন পরপর মা আর আমি বাড়িতে একাই থাকতাম সেই সময়টাতে আমাদের বাড়িটা ছিল প্রায় গ্রাম সাইডে দোতলা বাড়ি এবং পাশেই বাগান রয়েছে যেখানে আমি বিকেল বেলা আমার বান্ধবী দের নিয়ে খেলতাম বাইরে অবশ্য অনেক পুরানো দাদা পেয়েছিলেন বাড়িটা তার বাবা কাছে থেকে আমি তখন একদিন বিকেলবেলা আমি তখন সাদা কালো রঙের একটা থ্রি পিস পড়েছিলাম আমার চুলের বেশ যত্ন করতে না আমার মা সব সময় তেল লাগিয়ে দিতেন যাতে চুলগুলো ঘন বড় থাকে আমার মায়ের চুল ও বেশ বড় সেই অনুযায়ী আমার চুল প্রায় কোমর ছাড়িয়ে নিয়েছে আমার বাবা আমার জন্য বাগানে একটি দোলনার ব্যবস্থা করেছিলেন সেই দোলনায় আমি বিকালবেলা বুঝতাম আমার বান্ধবী আসে। ওর নাম রিহি ও আর আমি মিলে দোলনায় বসে দুল খাচ্ছিলাম সময়টা তখন বিকেল প্রায় পাঁচটা আমার চুল তখন খোপা করাই ছিল আর রিহির চুল ছোট ছিল ওর চুল ঝুঁটি করা ছিল তা আমরা দুজন পাগলের মত দোল খাচ্ছিলাম আর হাসছিলাম অনেক আগের একটা কথা মনে পড়ে যাওয়ার কারণে সেটা ভেবেই হাসা হাসতে হাসতে দোল খাচ্ছিলাম কখন যে আমার চুল খুলে গেছে তা আমি নিজেও জানি না দোলনার উপরে উঠতেই আমার চুল গুলো মাটি স্পর্শ করছিল আমি অনেক হাচ্ছিলাম অনেক খুশি ছিলাম লোকে বলে না বেশি হাসলে কাঁদতে হয় ঠিক ওই মুহূর্ত আমার জীবনটাকে বদলে দিয়েছিল আমি যদি জানতাম সামান্য এইটুকু একটা একটা মুহূর্ত আমার জীবনটাকে একদম ছারখার করে দিবে তাহলে আমি কখনোই ওখানে যেতামই না হঠাৎ করে রেখে আমি বললাম আমার প্রচন্ড পেটে ব্যথা করছে রে আমি বাসায় চলে যাচ্ছি বাসায় এসে কোনো কিছু না বলেই শুয়ে পড়ি মা এসে বলল কি হয়েছে তোর আমি তখন বললাম প্রচন্ড পেট ব্যথা করছে জানি না একটু আগেই ঠিক ছিলাম হঠাৎ করে পেট ব্যাথা করছেমা তখন বলে ঠিক আছে একটা গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট খেয়ে নে তাহলে ব্যথা কমে যাবে আমিও সেই সময়টাতে গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট খেয়ে ফেলি কিন্তু ব্যথা কমার বদলে আরো দ্বিগুণ বেড়ে গেল আমি এক পর্যায়ে কাঁদতে শুরু করলাম তাও আবার চিৎকার করে রিহি সবটাই দেখছিল আর ভয়ে কাঁপছিল আমার এই অবস্থা দেখে আমার মা কাঁদতে লাগলো কি হয়েছে তোর রিহিকে বললো কি হয়েছে ওর রহি বললো এতক্ষণ তো আমরা ভালোই ছিলাম হঠাৎ করে ও বললো আমার প্রচন্ড পেটে ব্যথা করছে এরপর দৌড় ঘরে চলে আসে মা তখন বলে তুমি বাসায় চলে যাও এমনিতেই সন্ধ্যা হয়ে গেছে তোমার মা চিন্তা করবে রিহি বাসায় চলে যায় ওই দিকে কাঁদতে কাঁদতে আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে চিৎকার দিয়ে কাঁদছি মনে হয় না কোনো মহিলার পোশোক এসব ব্যথায়ও কেউ এভাবে চিৎকার করে কাঁদতে পারে আমার চিৎকার আর মা সহ্য করতে না পেরে দৌড়ে যায় ডাক্তারকে নিয়ে আসার জন্য এবং কিছুক্ষণ পর ডাক্তার কে নিয়ে আসে ডাক্তার এসে আমাকে দেখে কিন্তু তিনি কোন রোগ ধরতে পারে না এরপরও তিনি আমাকে একটা ব্যথা কমার ইনজেকশন দিয়ে চলে যায় আমি ঘুমিয়ে পড়ি ঘুমের মধ্যে আমি স্বপ্নে দেখি আমি আমাদের বাগানে বসে কাঁদছি আমার পাশে দুটো লাশ রাখা সাদা কাফনের কাপড় দিয়ে ঢাকা তাদের মুখ দেখা যাচ্ছে না কে তারা আমি খুব কাঁদছি আমি খুব কাঁদছি এবং আস্তে আস্তে মুখের কাপড় সারা তেই আমার পায়েল নিচ থেকে মাটি সরে গেল এটা আর কেউ না এটা আমার বাবা আর মা তারা মারা গেছে কিন্তু এক শয়তানি হাসি দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে তাদের চোখের দিকে একদম নীল হয়ে গেছে এই দৃশ্য দেখে আমি চিৎকার দিয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়ি দেখলাম মা আমার পাশে বসে আছে। আমার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে বলছে কায়দা ঠিক আছিস তুই আমি আমার পেটে হাত দেই এবং দেখে আমার পেটটা বেশ গরম হয়ে আছে ঠিক তখনই ব্যথায় চিৎকার করে উঠি আমার চিৎকার শুনে মা বলে আবারো ব্যথা করছে তিনি আবারো দৌড়ে যায় সেই ডাক্তারের কাছে ডাক্তার বলে আমি যতটুকু সম্ভব করেছি এরপরেও আমি আর পারব না আপনারা বেশি সিরিয়াস অবস্থা হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান আমার মা আমাকে একা একা কোথায় নিয়ে যাবে মা-বাবাকে ফোন করে বিষয়টা জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এতো দূর থেকে আসা সম্ভব না পাশের বাড়ির ১ আন্টি আমাকে চিৎকার শুনে আমাদের বাড়িতে চলে আসে তারা ভাবছিল হয়তো এই বাড়িতে মারা গেছে তাই এভাবে কাঁদছে কিন্তু এসে যখন দেখল আমি পেট ব্যথায় চিৎকার করে কাঁদছি তখন তারা কানে হাত দেয় আর মায়ের থেকে সবটা জানার পর বলে আমাদের এখানকার ১ জন ভালো হুজুর আছে কায়রার গায়ের রং ফর্সা হয়তো বা কোনো জ্বীনে আছর করছে জ্বীনে আছর করলে তো পেট ব্যথা করে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন