ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়ে প্রেমের বর্ষন🌷

পর্ব 1

লেখক: আয়েশা সিদ্দিকা

#হৃদয়ে প্রেমের বর্ষণ🌷

"আম্মু আমি এখন বিয়ে করবো না!"

"আমি কেনো কথা শুনতে চাই না মিরহান!"

"আম্মু তুমি প্লিজ বোঝার চেষ্টা করো,আমি তো বিয়ে করবো বলছি কিন্তু এখন না!আর ওই মেয়েকে তো ,
মিরহানের কথা শেষ করতে না দিয়ে মনোয়ারা বেগম বলে উঠলেন;

"আমি তোমার মুখ থেকে না শুনতে চায় না।আমি ওনাদের কে কোথা দিয়েছি। তুমি কি চাও আমার সম্মানটা ধূলোয় মিশে যাক!"

"আচ্ছা ঠিক আছে, আমি বিয়ে করবো,এখন আমাকে একা থাকতে দাও!"

মনোয়ারা বেগম আর কোনো কথা না বলে সেখান‌ থেকে চলে যান। ওনার ছেলে‌ রাজি হয়েছে এটাই অনেক।
আর মিরহান ভাবতে থাকে তাকে শেষমেশ ওই ঝোগড়াটে মেয়েটাকে বিয়ে করতে হবে।সে একটা হতাশার শ্বাস ফেলে।

__________________
"কীহহ ওই গোমরামুখোর সাথে তোমারা আমার বিয়ে ঠিক করেছো?"

"অতে জোরে চিল্লানোর কী আছে?"আর এইসব কি ‌নাম ইউজ করছো? থাপ্পড় দিয়ে দাঁত ফেলে দিবো বেয়াদব।"

"আম্মু তুমি আমাকে বকছো কোনো?"

"তো তুমি বকা খাওয়ার মতো কাজ করছো কেন?"ওকে বিয়ে করতে তোমার সমস্যা?"

"উনি নিজেই তো সমস্যা। আমি উনাকে বিয়ে করবো না!"

"আমি জানি না সেটা তুমি তোমার বাবা কে গিয়ে বলো!"

এই কথা বলে‌ রাবেয়া খাতুন রুম থেকে বের হয়ে যান!
আর এইদিকে বেচারা আভিরার মুখটা পেঁচার মতো হয়ে যায়।সে তার বাবাকে ভয় পায়।তখনি তার ভাইয়ের কথা মনে পড়ে, তার ভাইকে বললে নিশ্চয়ই তার মতের বিরুদ্ধে যাবে না।সে এক দৌড়ে তার ভাইয়ের রুমের সামনে যায়।

"ভাইয়া দরজাটা গুলো। তোমার সাথে কথা আছে।"

আহিয়ান বোনের ডাক পেয়ে দরজাটা খুলে।বোনকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে;

"কী হয়েছে এই রকম চিৎকার করছিস কেনো বাড়িতে কী ডাকাত এসেছে।"

"উফফ ভাইয়া!"আচ্ছা তুমি কী জানতে তোমার ওই গোমড়ামুখো বন্ধুর সাথে বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছে?"

"হ্যাঁ! কি হয়েছে এখন সেটা বল।"

"আমি ওনাকে বিয়ে করতে পারবো না। তুমি বাবাকে বলে দাও!"

"দেখ বাবা বিয়ে ঠিক করেছে মানে , আমি সেখানে কোনো কথা বলতে পারবো না। বাবা যা করছে তোর ভালোর জন্যই করছে।এখন যা এখান থেকে!"

আভিরা আর কিছু বললো না সেখান থেকে চলে যায়।
আহিয়ান বুঝলো তার বোন অভিমান করেছে কিন্তু কিছু করার নেই,সে ভালোর জন্যই এমন করছে!
________________
"কিরে দোস্ত তুই নাকি বিয়ে করছিস!"বিশ্বাস হচ্ছে না।

"তোর বিশ্বাস দিয়ে আমি কী করবো?"

"ওহ্ আমি তো আবার ভুলেই গিয়েছি তুই ত্যাড়া কথার লোক।"

মিরাব কথাটা বলার সাথে সাথে তার কাঁধে থাপ্পড় দেয় মিরহান।
বাকিরা সবাই এদের কান্ড দেখে হেসে দেয়।
ইশাল বলে;
"আরে থাম তোরা।মিরহান আজকে কিন্তু আমাদের ট্রিট দিতে হবে।"

শাওন বলে ওঠে;
"হ্যাঁ ঠিক বলেছিস।এই বেটা তো আমাদের জানায়নি সে বিয়ে করবে।আহিয়ান না বললে তো আমারা জানতামই না!"

"তোরা এমন ভাব করছিস যেনো আমি তোদের জানাতাম না!"মিরহান

"হ্যাঁ বাসর রাতে বলতি।"ফাইজ বলে।
মিরহান গম্ভীর কণ্ঠে বলে ওঠে"তোদের ফালতু কথা শোনার টাইম নাই,কী খেতে চাস বল।"

"কাচ্চি খাব চল!"মিরাব

সবাই হাঁটা ধরে কাচ্চি ডাইনের উদ্দেশ্যো।মিরহান আসিয়ান কে ও ফোন করে তাদের সাথে আসতে বলে।
_________________

সবাই খাওয়ার পর কিছুক্ষন গল্প করে যে যার বাড়ির দিকে রওনা দেয়। অনেক রাত হয়েছে।শুধু মিরহান আর আহিয়ান রয়ে যায়। তারা দুজনই চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে।আহিয়ান আড়চোখে একবার মিরহান এর দিকে তাকাই,মিরহান আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।তা দেখে আহিয়ান বললো;
"আমি কিন্তু তোর সম্নুধি হচ্ছি।"

মিরহান মুচকি হেসে বললো;

"হ্যাঁ অবশেষে"!
তারপর দুজনে দুজনকে বিদায় দিয়ে চলে যায়।
_________________
সকালে আভিরা ঘুম ভাঙ্গে তার মায়ের চিৎকার চেঁচামেচিতে।রাতে দেরি করে ঘুমানোর ফলে সে কিছুতেই চোখ মেলে তাকাতে পারছে না। কোনো রকম ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে বাহিরে যায়,দেখতে পায় তার মা রান্নার আয়োজন করছে।তাকে দেখে তার মা বলে ওঠে;

"এতক্ষণ ঘুমানো লাগে তোর?"আমি সেই কখন থেকে ডাকছি তোকে!

"উফফ মা কথা বলো না তো খিদে পেয়েছে আমায় কিছু খেতে দাও!"

"দিচ্ছি!আর শোন তোর ফ্রেন্ডদের আসতে বল। তোর ফুফু আর চাচা চাচীদের আসতে বলেছি।"

আভিরা কিছু না‌ বলে শুধু মাথা নাড়ল। সে জানে এখন কিছু বলেও লাভ হবে না। তার মা তাকে পাত্তা দিবে না! সে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়লো। কী হবে তার সাথে যাকে পছন্দ করেনা যার সাথে ঠিক মতো কথাও বলেনা। শুধু ঝগড়া করে তার সাথে কীভাবে সারাজীবন থাকবে। তার কিছুই ভালো লাগছে না।

দুপুরের আগেই আভিরার চাচা আর ফুফুরা চলে এসেছে।তার কাজিনরা সবাই এসেই তার রুমে আড্ডা বসিয়েছে।
আভিরার বড় চাচ্চু মুজাহিদ আহমেদ, তার স্ত্রী মারিয়াম তাদের এক মেয়ে ইশরাহ আহমেদ।ইশরাহ আর আভিরা একই কলেজে পড়ে।
তার বাবা নওয়াজ আহমেদ মেজ।আর ছোট চাচ্চু জারিফ আহমেদ যিনি এখনো বিয়ে করেননি।
তার ফুফুরা দুজন।বড় জন আয়রিন‌ যার দুই ছেলে মেয়ে।মেহের আর মাওরা। দুজনেই‌ অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছাত্রী। তার ছোট ফুফু রুহায়না তার দুই ছেলে।ফাহাদ এবং ফুয়াদ।
তারা অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।
_____________________
"কিরে আমার আগেই দেখি তোর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে!"ইশরাহ

তার কথার মাঝে আহিয়ান এসে উপস্থিত হয়।ইশরাহ এর কথা শুনে আহিয়ান বলে;

"তোর দেখি বিয়ে করার অনেক শখ!চাচ্চুকে কী গিয়ে বলবো তোকে ও বিয়ে দিতে!"

"না মানে.. আমি এমনিতেই বলছি !"ইশরাহ

"ওহ্ ...আমি আরও ভাবলাম তোর বিয়ে করার শখ।"

"না তেমন কিছু না!"

"আচ্ছা ভাইয়া মিরহান ভাইয়ারা আসতে আর কতক্ষন?"ফাহাদ

"এইতো এসে যাবে এখনই!"

"ওহ্ !"ফাহাদ

"আচ্ছা তোরা সবাই বস আমি আসছি!"

"ভাইয়া..!"আভিরা

বোনের ডাকে আহিয়ান থেমে যায়, পেছনে ফিরে দেখতে পায় তার বোনের কান্না করছে।সে দ্রুত তার বোনের কাছে যায়।

"কী হয়েছে কান্না করছিস কেনো বনু?"

"ভাইয়া আমি তোমাদের ছেড়ে যাব না!"

আভিরার কথা শুনে বুঝতে পারে মিরহানদের বাসায় যাবে না বলছে।সে বোনকে জড়িয়ে ধরে বলে;

"কে বলেছে আমাদের ছেড়ে যেতে। বিয়েটা এখন হচ্ছে কিন্তু তুই এখানেই থাকবি। তোর এইচএসসির পরে অনুষ্ঠান করা হবে ঐ সময় যাবি!"

সবাই তাদের ভাই বোনের ভালোবাসা দেখছে।আভিরার মা তাদের ডাকতে আসছিল মিরহান রা এসেছে।আভিরাকে নিয়ে যেতে বলতে। কিন্তু ওদের ভাই বোনের ভালোবাসা দেখে তিনি মুচকি হেসে চোখ মুছতে মুছতে ঐখান থেকে চলে যান।

"অনেক কান্না কাটি করেছিস এখন চল মিরহানরা চলে এসেছে মনে হয়!" আহিয়ান

বলে আভিরা কে নিয়ে হাঁটা ধরে। তাদের পিছনে বাকিরা ও আসতে থাকে।
______________________
মিরহান গম্ভীর মুখে বসে আছে। তার গায়ে সাদা রঙের একটা পাঞ্জাবি।হাতে রোলেক্স এর ঘড়ি। চুলগুলো জেল দিয়ে সেট করা।সে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ করে তার মায়ের আওয়াজে দেন ভাঙ্গে।
সামনের দিকে তাকাতেই সে থমকে যায়!

"কী ভাইয়া এভাবে কী দেখছো, নজর লেগে যাবে তো ভাবীর!মিহিরা

মিহিরার কথায় মিরহানের দেন ভাঙ্গে।সে অপ্রসুস্থত হয়ে পড়ে।
সে এদিকে ওদিকে তাকিয়ে গলা খাঁকারি দেয়।

আহি আভিরা কে এনে বসিয়ে দেয় মিরহানের সামনের সোফায়।

চলবে...?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন