পার্ব১:নতুন শহর, নতুন স্কুল
সালটা ২০২৩
তখন আমি ক্লাস ফোরে পড়ি।আমি আমার বড় বোন আর মা বাবা আর্মি সে জন্যা আমাদের কাছে বেষি একটা আশা হয় না। দুই বোন আর মা-বাবা নিয়ে আমাদের ছোট্ট সংসার।আমি ছিলাম ছোট।পড়াশোনার জন্য আমারা কাশিয়ানীতে চলে এলাম।নতুন জায়গা,নতুন স্কুল, নতুন মানুষ সবকিছুই যেন নতুন একটা পৃথিবীর মতো লাগছিলো। আমি ভর্তি হলাম কাশিয়ানী মডেল স্কুলে আর আমার আপু। আমাদের স্কুলের পাশের হাইস্কুলে,ক্লাস সিক্সে।স্কুলের নাম Kasiani G.C.pilot haischool শুরুতে দিনগুলো বেশ ভালই কাটছিলো।নতুন জায়গা,নতুন মানুষ-সবকিছুর মধ্যে একটা অদ্ভুত আনন্দ ছিলো
তখন জানতাম না,সেই বছরই আমার জীবনে এমন একজন মানুষ আসবে,যার কথা বহুদিন আমার মনের মধ্যে লুকিয়ে থাকবে।
পর্ব২: ১০মার্চ২০২৩
লেখিকা:আখি আক্তার
ইনশাআল্লাহ চলবে
এটি বাস্তব জীবনের একটি ঘটনা
রোজার মাস।
সেদিন আমি প্রথমবার আমাদের বাড়িওয়ালার বড় ছেলেকে দেখি।
তার নাম-(ইসতিয়াক শেখ সামি][সেকেন্ড নায়ক]
দেখতে সুন্দর, গায়ের রং হালকা কালো,চোখে চশমা, চুল গুলা সিলকি,পারাশোনায় এক নাম্বার, মনটা অনেক ভালো। সামিকে প্রথম দেখার সেই মুহূর্ত হয়তো অন্য কারো কাছে খুব সাধারণ একটা ঘটনা ছিলো। কিন্তু আমার কাছে সেটা ছিলো অন্যরকম।
তখন আমি খুব ছোটো।ভালোবাসা কি,সেটা হয়তো ঠিকমতো বুঝতাম না।শুধু জানতাম ছেলেটাকে আমার ভালো লেগেছে।
অনেক বেশি ভালো লাগে।
সেদিনের তারিখটা আমি আজও ভুলতে পারিনি
১০.০৩.২০২৩
সেদিন থেকে সামি আমার মনের একটা গোপন জায়গা দখল করে নিলো-
কেউ জানতো না,
একদম কেউ না। সামি ছিলো আমার একতরফা ভালোবাসা। আমার গোপন গল্পের প্রথম চরিত্র।
পর্ব৩:তিন ফ্রেন্ড
ইনশাআল্লাহ চলবে
সময় থেমে থাকে নি।
আমি ক্লাস ফাইভে উঠলাম। তখন আমার একটা ছেলে বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো নাম দিব্য মজুমদার।
দিব্য শুধু আমার ফ্রেন্ড ছিল না,সে সামিরও বন্ধু ছিল। তাই সামির খবর দিব্যের মধ্যেমে আমার কাছে আসতো।
আমার একটা মেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ড ছিলো নাম তহুরা আহাম্মেদ সাবা।
আমার তিনজন ছিলাম ভালো ফ্রেন্ড, আমি, সাবা আর জ্যেতি।
ও আমার পরিচয়টা দিতেই ভুলে গেছি
আমার নাম আখি আক্তার
বাসা গোপালগঞ্জ
দেখতে মোটামুটি ভালোই খারাপ না
গায়ের রং শ্যামলা
মায়াবি একজোড়া চোখ
চুল গুলা মাজার একটু নিচে
আর ব্যাবহার হুম যে যেমন আমি তার সাথে তেমনই কথা বলি
ও হ্যা গল্পে ফেরা জাক।
অন্য দিকে দিব্যদেরও ছিলো তিনজনের একটা দল।দিব্য,সাকিব আর আমির চাঁদ। একদিন খেয়াল করলাম সাকিব শুধু সাবার দিকে তাকিয়ে থাকে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম সাকিব সাবাকে পছন্দ করে। সাবা আবার সাকিবকে আগে থাকেই পছন্দ করতো।এরপর আমি আর দিব্য কি করলাম?সাবা আর সাকিবের একটা সম্পর্ক তৈরি করে দিলাম।
পর্ব ৪:গোপন কথার বছর
ইনশাআল্লাহ চলবে
২০২৪ সালও কেটে গেল।
সময় যত এগোছিলো,আমার মনের গোপন কথাটা ততো গভীর হচ্ছিল। আমি তখনও আমি কাউকে বলিনি যে আমি সামিকে পছন্দ করি।
২০২৪ সাল থেকে আমার আপু একটা রিলেশনে ছিলো তার একটা বন্ধু আবার আমাকে পছন্দ করতো। আমি তখন এসব কিছু ভাবিনি।
কারন, আমার নিজের ভেতরেই তখন অন্য একজনে জায়গা ছিলো।তাতো তোমরা এতোখোনে বুঝতেই পেরেছো।
আমার আপু আর সামি একওই ক্লাসে পরতো।
আগেই বল রাখি আমার আপু দেখতে আনেক সুন্দর। সবদিক থেকেই সে পারফেক্ট। আমার আপু ছিলো ক্রাশ গাল।সবাই তাকে পছন্দ করতো।
একদিন আপু আমাকে বললো-
সামি নাকি রিলেশন করে!
কথাটা শুনে আমার ভেতরটা হঠাৎ খালি হয়ে গেলো।
তিন বছর ধরে যাকে নিজের মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছি,সে যদি অন্য কারো হয়ে যায়?
আমি কষ্ট পেলাম, অনেক কষ্ট। তবুও কাউকে কিছু বললাম না।
কারন,
আমার ভালো লাগাটা ছিল একান্তই আমার।
পর্ব ৬:মুনতাহা
ইনশাআল্লাহ চলবে
পরে জানতে পারলাম, সামির ক্লাসের একটা মেয়ে তাকে পছন্দ করে। তার নাম মুনতাহা।
প্রথমে নিজেকে বোঝালাম হয়তো কিছুই হয়নি।
কিন্তু পরে জানতে পারলাম সামি আর মুনতাহার মধ্যে সম্পর্ক আছে।সেদিন মনে হলো আমি মনে হয় ভেতর থেকে ভেঙে গেছি।
আমি কাঁদলাম, অনেক কাঁদলাম।
কারন এটা শুধু কাউকে পছন্দ করা ছিলো না।
প্রায় তিন বছর যাকে মনের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছি তাকে অন্য কারও সঙ্গে দেখার কষ্টটা আমি সে দিন বুঝতে পারেছি।
আমাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার শেষ দিন আমি সামি আর মুনতাহা কে এক সঙ্গে দেখলাম।
সে দিন আমার মনে হলো-
কিছু স্বপ্ন ভাঙ্গার কোনো শব্দ হয় না।
শুধু বুকের ভেতরটা চুপচাপ ভারী হয়ে যায়।
সামি ছিলো খুব ভালো ছাত্র আর আমি ছিলাম মোটামুটি।
কখনো -৷ কখনো পড়া বুঝতে না পারলে সামি আমাকে বুঝিয়ে দিতো।
সেই ছোট - ছোট মূহুর্ত গুলো হয়তো আমার কাছে আনেক বড় ছিলো।
পর্ব ৬:চলে যাওয়ার দিন
ইনশাআল্লাহ চলবে
এরপর আমাদের জীবনে এক হঠাৎ পরিবর্তন এলো।
কিছু পারিবারিক সমস্যার কারনে আম্মু সিদ্ধান্ত নিলো। কাশিয়ানী ছেরে আমারা নানু বাড়ি চলে যাবো।তারিখটা ছিলো-১০/১২/২০২৫
বাড়ি ছাড়ার সময় মনে হচ্ছিল, আমি শুধু একটা বড়ি বা শহর ছেরে যাচ্ছি না।
আমি আমার পরিচিত একটা পৃথিবী ছেড়ে যাচ্ছি।
সামিকে শেষ বার দেখার সময় আমি অনেক কেঁদেছিলাম।
কারন হয়তো মনে হয়েছিলো তাকে আর কখনো দেখা হবে না।
আর অদ্ভুত ব্যাপার হলো,যাওয়ার কিছুদিন আগে সামি আমাকে ওর সাথে রিলেশনে যেতে বলেছিলো।
যে মানুষটাকে একদিন একতরফা ভালোবেসেছি,সেই একদিন আমাকে তার অনুভুতির কথা বলে ছিলো।
কিন্তু তখন পরিস্থিতি আমাদের পক্ষে ছিলো না।
কখনো - কখনো মানুষকে পাওয়ার খুব কাছে গিয়েও জীবন অন্য দিকে নিয়ে যায়।
পর্ব৭:নানুর বাড়ির অন্তর
ইনশাআল্লাহ চলবে
নানুদের বাড়িতে যাওয়ার কিছুদিন পরে, আমার একটা মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হলো।
তার নাম সুনালি,
অল্প সময়ের মধ্যেই আমাদের খুব ভালো একটা বন্ধুত্ব হয়ে যায়।সেখানে ছিলো একটা ছেলে তার নাম অন্তর।
আমি তখন ভাবলাম,হয়তো আমি সামিকে ভুলে যেতে পারবো।হয়তো নতুন কাউকে পছন্দ করলে। কিন্তু বুঝলাম সামিকে ভুলতে পারা আমার পক্ষে অসম্ভব
পর্ব ৮-----.
ইনশাআল্লাহ চলবে