ফন্ট সাইজ:
থিম:
অদ্ভুত মোহ

পর্ব 1

লেখক: jui moni

"আম্মু আম্মু কই তুমি"
জুই চেঁচিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামছে মেয়ের চেঁচানো শুনে রুম থেকে বের হয়ে আসল রিয়া চৌধুরী চিন্তিত কন্ঠে বলল
"কি হয়েছে"
জুই তার মায়ের দিকে তাকিয়ে রুড কন্ঠে বলল
"তোমরা বিডিতে ফিরে যাচ্ছ"
রিয়া চৌধুরী এবার দৈর্ঘ্য শ্বাস ফেল স্বাভাবিক হয়ে বলল
"হুম আর এক সপ্তাহ পরেই"
জুই এর মাথায় এবার যেন আকাশ ভেঙ্গে পরল ধপ করে বসে পড়ল সোফাই মেয়েকে বসতে দেখে তিনিও বসল জুঁই এর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল
"জুই দেখো আমাদের আমেরিকাতে আশা হয়েছে ১২ বছর আর এই বারো বছরে একবারও দেশে ফিরা হয়নি তোমাদের স্কুল তোমার পাপার বিজনেস এর জন্য তোমার দাদু ভাই নানু ভাই সবাই বারবার করে বলছে আল্লাহ না করুক কারো কিছু হয়ে যাই তোমাদের ভিডিও কলে ব্যাতীত দেখেনি তোমার পাপা তোমার সব ইচ্ছা পূরন করেছে আর তুমি তোমার পাপার এই একটা ইচ্ছা কে পূরন করতে পারবা না বলো"

এতোটুকু বলে থামলেন তিনি ওদের কথায় মাঝে মিরা খান এলেন তিনি জুঁই এর মাথায় হাত বুলাতে লাগল জুঁই মাথা উচু করে ভেজা চোখে তাকালো মিরা খান এর দিকে ভাঙ্গা কন্ঠে বলল
"মনি তুমি না বলতে আমার সবাই তোমার সব তবে আজ একা ফেলে চলে যেতে চাইতো কেনো"

মিরা খান এর চোখ ভিজে গেল তিনি জানেন
এদের ছাড়া থাকতে পারবে না কিন্তু এখন কি করার যেতে তো হবেই জন্মভুমিতে তাই নিজেকে সামলে বলল
"আমি এখনো বলছি তোমারাই আমার সব কিন্তু আমাদের তো যেতেই হবে আর তোমরাও
তো বাড়ে আর ১ বছর পর এখন আর কয়েক টা দিন থাকো তুমি রুসা আর রিহান তারপর পড়াশোনা শেষ করে চলে যাবে আর আমরা তোমাদের তিনজনের জন্য অপেক্ষা করব"
এই টুকু বলতে বলতে রুসা এলো মিরা খান কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলো জুঁই চুপ হয়ে বসে আছে রিয়া চৌধুরীও চোখের পানি ফেলছেন সবাইকে বুঝিয়ে চলল আর এরা বুঝার এদের একটু মন দিয়ে বুঝালেই বুঝে যাবে তাই আর কষ্ট হলো না
দেখতে দেখতে কেটে গেল ৫দিন পাঁচ দিনে তারা অনেক টা গুছিয়ে নিয়েছে আজ চলে যাবে তাই সবার মুখ ভার করে খেতে বসেছে আদি চৌধুরী আর রাকিব খান এর কড়া নিষিদ্ধ যাওয়ার সময় যাতে কেউ না কাঁদে তাই সবাই চুপচাপ খেতে বসেছে বিকেল৩ টার ফ্লাইট রিয়া চৌধুরী আর মিরা খান কাজের লোকদের বুঝিয়ে দিচ্ছে কে কি খাই কার কি পছন্দ কার কি অপছন্দ সব বলে বলে দিচ্ছে কাজের লোকদের বুঝিয়ে জুঁই রুসা আর রিহান কেউ বুঝিয়ে দিচ্ছে কাজ
বিকাল ৩ টা সবাই এসে দাঁড়িয়েছে এয়ারপোর্টে এখুনি প্লেন ছাড়বে তাই সবাইকে বলে বলে দিচ্ছে যেন সব সময়ের খাবার যেন খেয়ে নেয় আর কলেজ মিশ না দেয় বলেই প্লেন ছেড়ে দিল প্লেন টা আকাশের উপরে উঠে গেলো তিনজন দৈর্ঘ্য শ্বাস ফেলে বাসার উদেশ্য রওনা হলো
দেখতে দেখতে কেটে গেল এক সপ্তাহ একদিন দুপুরে সবাই ঘুমি এছে রিহান ঘুম থেকে উঠে নিচে আসতেই দেখলো কেউ নেই তাই ভাবল এখনো দুইজন ঘুম থেকে উঠে নি তাই মাথায় শয়তানি
বুদ্ধি এলো আবার উপরে গিয়ে গেল রুসার রুমে এক গ্লাস পানি নিয়ে ঢেলে দিল মুখে ঘুমের ঘরে লাফিয়ে উঠল রুসা রিহানকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বালিশ ছুড়ে মারল রিহান দৌড়ে বের হয়ে গেল রুসার রুম থেকে এবার জুঁইয়ের রুমে গিয়ে জুঁই এর সাথেও একি করল জুঁই লাফিয়ে উঠে বসে আরেকটু হলেই নিচে পড়ে যেত চোখ খুলে তাকায় রিহানকে ৩২পাটি দাঁত বের করে হাসতে দেখে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল চেঁচিয়ে উঠল
"কারো ভালো সহ্য হয় না তোমার"
জুঁইয়ের কথা শুনে রিহানা আবার হেসে বলল
"বিশেষ করে আদিহা চৌধুরী জুই এবং মাহিয়া চৌধুরী রুসার"
জুই তেড়ে আস্তে নিলে ভৌ দৌড় দেয় জুঁই ও দৌড় দেয় নিচে এসে রিহান সোফাতে বসে হারাচ্ছে জুঁই ও সেম জুঁই রিহান কে মারছে দেখে রুসা সিঁড়ি বেয়ে নামতে নামতে হেসে বলল
"আমার হয়েও দুইটা দিস"
দেখতে দেখতে কেটে গেল ১ বছর
১৩ বছর পর বাড়ি ফিরছে চৌধুরী বাড়ির মেয়ে ও ছেলে আর খান বাড়ির এক মেয়ে "আদিহা চৌধুরী জুই"ও "আদ্রিয়ানা চৌধুরী রিহান"আর খান বাড়ির মেয়ে "মাহিয়া খান রুসা" এয়ার পোর্ট থেকে বের হতেই নজরে পরল একটা রিকশা রুসাকে রিকশা যে তুলে দিয়ে রিহান আর জুঁই আরেকটা রিকশা যে উঠল রুসাকে অনেক করে বলেও চৌধুরী বাড়িতে যাই নি সে সোজা খান বাড়িতে গেছে রিকশা যে উঠে জুঁই রিহানের কাঁধে মাথা রেখে চোখ বুঝল রিহান ও সযত্নে বোনের মাথায় হাত বুলিয়ে দিল যতই ঝগড়া করুক বোনকে কখনো অযত্ন অসম্মান করে না খুব যত্নের রাখে যতই হোক একমাত্র বোন বলে কথা রিহানা হটাৎ রিকশা ওয়ালা কে বলল
"এখানে দাড়ান মামা"
রিহানের কথা শুনে রিকশা ওয়ালা রিকশা থামালো জুঁই ও মাথা তুলে তাকালো ভাবল বাসায় চলে এসেছে কিন্তু রাস্তায় রিকশা থামাতে দেখে কপাল কুঁচকে তাকালো রিহানের দিকে রিহানা বলল
"নেমে দাড়া"
জুই বলল
"এখানে কেনো নামবো বাসায় তো যাইনি"
জুঁইয়ের কথা শুনে রিহান ওর মাথা। একটা চাট্টি মেরে বলল
"আরে একটা জামা কাপড় তো আনিস নি কি পড়বি বল"।
জুই বলল
"ওহ এখানে জামাকাপড় নিবাস"
রিহান কিছু বলল না চুপচাপ নেমে দাঁড়ালো রিকশা ও ওয়ালা কে এখানে দাঁড়াতে বলে বোনের
হাত ধরে পাড় হতে যাবে তেমনি একটা ক্ষিপ্ত গতিতে বাইক চলে আসল আর একটুর জন্য লেগে যাই আর জুঁই চেঁচিয়ে উঠল
"আআআআআআআআআআআ"
রিহান বোনকে জড়িয়ে ধরল মাথায় হাত বুলিয়ে দিল আর শান্তনা দিয়ে বলল
"কিছু হয়নি ভয় পাস না আমি আছি"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন