ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমাতেই পূর্ণতা

পর্ব 1

লেখক: ইসরাত জাহান রিমি

🌸 তোমাতেই পূর্ণতা 🌸

পর্ব ১ —

সকাল ৭টা ৩০ মিনিট।

— ইরু! এই ইরতিজা ইবনাত ইরা! আর কত ঘুমাবি? স্কুলে যাবি না?

রান্নাঘর থেকে নওশীন আরার চিৎকারে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল।

কিন্তু যার জন্য এত চিৎকার, সে তখনও কম্বলের নিচে আরাম করে ঘুমাচ্ছে।

হঠাৎ ঘরের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল সামির কবির।

— বাহ! আমাদের বাড়ির ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানী এখনো ঘুমাচ্ছে! উঠো ম্যাডাম, সূর্যও তোমার আগে উঠে গেছে!

ইরা চোখ না খুলেই বলল,

— ভাইয়া, সূর্যকে বলো আমার হয়ে আজ স্কুলে যেতে। ও তো এমনিতেই প্রতিদিন ওঠে!

সামির কপালে হাত দিয়ে বলল,

— আল্লাহ, এই মেয়েকে আমার ঘাড়ে কেন দিলে?

ইরা এবার চোখ খুলে মিষ্টি করে হাসল।

— কারণ তুমি পৃথিবীর সেরা ভাইয়া! এখন যাও, তোমার জন্য দোয়া করছি।

— কী দোয়া?

— যেন তুমি আমার রুম থেকে বের হয়ে যাও!

সামির বালিশটা তুলে নেওয়ার আগেই ইরা লাফ দিয়ে উঠে বসল।

— আম্মুউউ! তোমার ছেলে আমাকে নির্যাতন করছে!

— চুপ কর, ফাজিল মেয়ে! — সামির চেঁচিয়ে বলল।

ইরা জিভ বের করে বলল,

— ফাজিল হলেও তোমার আদরের ছোট বোন!

নওশীন আরা ঘরে ঢুকে দুজনকে দেখে মাথা নাড়লেন।

— তোমরা দুই ভাইবোন একদিন আমার মাথার চুল সব সাদা করে দেবে!

ইরা মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে বলল,

— আম্মু, চিন্তা করো না। চুল সাদা হলে তোমাকে একদম রাজকুমারীর মতো লাগবে!

— আগে স্কুলে যা, তারপর তোর রাজকুমারী বানানো দেখব!

সবাই হেসে উঠল।

🌷 _________

দশ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে ইরা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে নিচে নেমে এল। এক হাতে টোস্ট, অন্য হাতে ফোন।

ফোনের ওপাশে তার প্রাণের বান্ধবী আলভিনা নূর—ডাকনাম আলভি।

— হ্যালো, মিস নাম্বার ওয়ান! আজও কি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্নে গোল্ড মেডেল জিতেছিস? — আলভি জিজ্ঞেস করল।

ইরা গম্ভীর গলায় বলল,

— না রে, আজ স্বপ্নে দেখলাম আমি স্কুলের প্রিন্সিপাল। আর তুই আমার অফিসের পিয়ন!

— কীইই! দাঁড়া, স্কুলে আয়। তোর চুল ধরে এমন টান দেব, তুই নিজেই নিজের পদত্যাগপত্র লিখবি!

ইরা হেসে কুটিকুটি।

— আগে স্কুলে তো আয়, পিয়ন ম্যাডাম!

— তুই নিজেকে কী ভাবিস, হ্যাঁ?

— আমি? আমি নিরীহ, ভদ্র, শান্ত একটা মেয়ে!

আলভি কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলল,

— তোর এই মিথ্যা কথা শুনে আমার ফোনের চার্জ পর্যন্ত শেষ হয়ে যাচ্ছে!

ইরা হাসতে হাসতে বলল,

— আচ্ছা, রাখি। স্কুলে দেখা হবে। আর শোন, আমার জন্য চকলেট আনবি।

— টাকা দিবি?

— বন্ধুত্বের মধ্যে টাকা আনছিস কেন?

— কারণ তুই আমার বান্ধবী, ব্যাংক না!

দুজন আবার হেসে উঠল।

ইরা কবির পরিবারের মেয়ে। তাদের নিজস্ব কোম্পানি আছে, বড় বাড়ি আছে, গাড়ি আছে। কিন্তু ইরার দুষ্টুমি সামলানোর মতো সম্পদ পৃথিবীর কোনো পরিবারেরই নেই!

পড়াশোনায় সে ক্লাসের প্রথম ছাত্রী। পরীক্ষার খাতায় তার নম্বর দেখলে শিক্ষকরা খুশি হন, আর তার কাণ্ডকারখানা দেখলে একই শিক্ষকরা মাথায় হাত দেন।

🏫 _______''

অন্যদিকে, খান পরিবারের বাড়ি।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে শার্টের হাতা ঠিক করছিল আরশ খান। বাদামি চোখ, শান্ত মুখ, আর কথাবার্তায় এমন এক গাম্ভীর্য—যে কারণে তাকে দেখলেই অনেকে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।

আরশ একজন বিজ্ঞান শিক্ষক। পাশাপাশি পরিবারের ব্যবসার দায়িত্বও সামলায়।

তার বন্ধু রায়ান ঘরে ঢুকেই বলল,

— দোস্ত, তুই শিক্ষক না কি আদালতের বিচারক? তোকে দেখে মনে হয়, কেউ হোমওয়ার্ক না করলে সরাসরি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিবি!

আরশ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল,

— তোর কথা শেষ?

— না, আরও আছে।

— তাহলে বাইরে গিয়ে বল।

রায়ান বুকের ওপর হাত রেখে নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,

— বন্ধুত্বের এই অপমান আমি কোনো দিন ভুলব না!

আরশ গাড়ির চাবি হাতে নিয়ে বলল,

— কালকের ধার দেওয়া টাকাটা ফেরত দিলেই অপমানের ক্ষত কিছুটা কমবে।

রায়ান সঙ্গে সঙ্গে চুপ।

— চল, স্যার। গাড়ি বের করা হয়েছে!

আরশ হালকা হেসে বলল,

— টাকা ফেরত দেওয়ার সময় তোর মুখটা এমন মিষ্টি থাকে না কেন?

— বন্ধুত্বে টাকা-পয়সা আনিস না, ভাই!

— তাহলে তুই আমার কাছ থেকে টাকা ধার নিস কেন?

রায়ান আর কোনো উত্তর খুঁজে পেল না।

খান পরিবারও শহরের ধনী ও সম্মানিত পরিবারগুলোর একটি। আরশের বাবা আদনান খান একজন সফল ব্যবসায়ী, আর তার মা মাহিরা সুলতানা পরিবারের সবাইকে ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখেন।

আরশ যতই গম্ভীর হোক, বাড়িতে তার ছোট ভাই আফনান আর বড় বোন আয়েশার সঙ্গে তার খুনসুটি লেগেই থাকে।

💥 স্কুলে প্রথম বিপত্তি

স্কুলের গেট দিয়ে ঢুকেই ইরা আলভিকে বলল,

— আজকে আমি একদম ভালো মেয়ে হয়ে থাকব।

আলভি অবিশ্বাসের চোখে তাকাল।

— তোর মুখে এই কথা শুনে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা হচ্ছে!

— এই যে! আমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলিস কেন?

— চরিত্র না, তোর ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তুলছি!

দুজন হাসতে হাসতে করিডোর দিয়ে যাচ্ছিল। এমন সময় ইরা পেছনে তাকিয়ে কথা বলতে বলতে সামনে থাকা একজনের সঙ্গে ধাক্কা খেল।

ধপাস!

ইরার ডায়েরি, কলম আর বই মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ল।

— ও মা! রাস্তার মাঝখানে পাহাড় কে রাখছে? — ইরা বলে উঠল।

সামনে দাঁড়ানো মানুষটি শান্ত গলায় বললেন,

— পাহাড়টা কথা বলতে পারে না। কিন্তু তুমি চাইলে নিজের চোখ দুটো ব্যবহার করতে পারো।

ইরা মুখ তুলে তাকিয়ে দেখল—নতুন বিজ্ঞান শিক্ষক আরশ খান!

আলভি পাশে দাঁড়িয়ে মুখ চেপে হাসছে।

ইরা তাড়াতাড়ি বইগুলো তুলতে তুলতে বলল,

— সরি, স্যার। আসলে আমার চোখ সামনে ছিল, কিন্তু মনটা একটু অন্যদিকে ছিল।

— সেটা তো বুঝতেই পারছি। এবার থেকে মন আর চোখ একই দিকে রাখার চেষ্টা করবে।

— জি, স্যার!

আরশ মেঝেতে পড়ে থাকা ডায়েরিটা তুলে ইরার হাতে দিলেন।

— ক্লাসে দেখা হবে।

তিনি চলে যেতেই আলভি ফিসফিস করে বলল,

— বাহ! প্রথম দিনেই নতুন স্যারের কাছে পরিচিত হয়ে গেলি!

ইরা চোখ বড় করে বলল,

— আরেকটা কথা বললে তোর টিফিন আমি খেয়ে ফেলব!

— আমার টিফিনে কিন্তু বিরিয়ানি!

— তাহলে তোর সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব আরও গভীর হলো!

📚 বিজ্ঞান ক্লাসে মহাবিপদ

ক্লাসে ঢুকে আরশ বোর্ডে লিখলেন—“মহাকর্ষ বল”।

তারপর ছাত্রছাত্রীদের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন,

— বলো তো, কোনো বস্তু ওপর থেকে নিচে পড়ে কেন?

ক্লাসে পিনপতন নীরবতা।

আলভি নিচু গলায় ইরাকে বলল,

— বলিস না, পৃথিবী জিনিসপত্র জমা করে রাখতে ভালোবাসে!

ইরা মুখ চেপে হাসল।

কিন্তু আরশের চোখ এড়াল না।

— ইরতিজা ইবনাত ইরা, তুমি উত্তর দাও।

ইরা উঠে দাঁড়াল।

— স্যার, পৃথিবী বস্তুগুলোকে নিজের দিকে টানে। এটাকে মহাকর্ষ বল বলে।

আরশ মাথা নাড়লেন।

— ঠিক। এবার বলো, তুমি হাসছিলে কেন?

ইরা এক সেকেন্ডও দেরি করল না।

— স্যার, বিজ্ঞান আমাকে আনন্দ দেয়!

পেছন থেকে আলভির চাপা কাশি শোনা গেল।

আরশ ভ্রু তুললেন।

— খুব ভালো। তাহলে আনন্দের সঙ্গে পরের প্রশ্নটার উত্তরও দাও।

ইরার মুখের হাসি একটু একটু করে মিলিয়ে গেল।

আরশ আরেকটি প্রশ্ন করলেন। ইরা সেটারও সঠিক উত্তর দিল।

— ভালো। তুমি পড়াশোনায় মনোযোগী, এটা বজায় রাখবে। তবে ক্লাসে অন্যদেরও মনোযোগ দিতে দেবে।

— জি, স্যার!

ইরা বসে পড়তেই আলভি ফিসফিস করে বলল,

— বিজ্ঞান তোকে আনন্দ দেয়, তাই না? এবার থেকে প্রতিদিন বিজ্ঞান বই বালিশের নিচে রেখে ঘুমাবি!

ইরা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।

— বন্ধুত্বের নামে তুই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় বিপদ!

— ধন্যবাদ। তোর কাছ থেকে প্রশংসা পেয়ে ভালো লাগল!

🍕 টিফিনের সময় কাণ্ড

টিফিনের সময় ইরা আর আলভি স্কুলের বাগানে বসে খাবার খাচ্ছিল।

ইরা নিজের লাঞ্চবক্স খুলে দেখল, ভেতরে তার প্রিয় চিকেন স্যান্ডউইচ।

আলভি মুগ্ধ হয়ে বলল,

— বান্ধবী, একটা কথা বলি?

— বল।

— তোর খাবারগুলো দেখতে এত সুন্দর কেন?

— কারণ আমার আম্মু আমাকে ভালোবাসে।

— আর আমার আম্মু?

— তোকে ভালোবাসে, কিন্তু তোর ভাগ্যকে একটু পরীক্ষা করছে!

আলভি ইরার লাঞ্চবক্স থেকে একটা স্যান্ডউইচ তুলে নিল।

ইরা সঙ্গে সঙ্গে চেঁচিয়ে উঠল,

— এই! আমার খাবার!

— বন্ধুত্বে ভাগাভাগি থাকে।

— তাহলে তোর বিরিয়ানিও ভাগ করে খাব!

আলভি থমকে গেল।

— আচ্ছা, তুই একটা খা। কিন্তু সব খেয়ে ফেলিস না!

দূর থেকে রায়ান তাদের এই কাণ্ড দেখছিল। সে আরশকে বলল,

— স্যার, আপনার স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খাবার ভাগাভাগির ওপর গবেষণাও করে!

আরশ শান্তভাবে বললেন,

— অন্তত তারা মহাকর্ষ বলের মতো খাবার মেঝেতে ফেলে দিচ্ছে না।

রায়ান হেসে বলল,

— স্যার, আপনার রসবোধ আছে দেখছি!

— তোমার চেয়ে একটু বেশি।

— এই অপমানের বিচার চাই!

🏡 বাড়িতে ফিরে

স্কুল থেকে ফিরে ইরা ব্যাগ ছুড়ে সোফায় বসে পড়ল।

নওশীন আরা জিজ্ঞেস করলেন,

— আজ স্কুলে কী করেছিস?

ইরা নিরীহ মুখে বলল,

— কিছুই না, আম্মু। একদম শান্ত ছিলাম।

সামির পাশ থেকে বলল,

— আম্মু, আজ স্কুলের গেটেই নতুন স্যারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে!

— ভাইয়া! তুমি আমার গোয়েন্দাগিরি করছ কেন?

— কারণ তুই নিজেই একটা চলন্ত সংবাদপত্র!

নওশীন হেসে ফেললেন।

— ইরা, নতুন শিক্ষক কেমন?

— ভালো। একটু গম্ভীর, কিন্তু পড়ান ভালো।

— তাহলে মন দিয়ে পড়াশোনা করবি। দুষ্টুমি করবি, কিন্তু কাউকে বিরক্ত করবি না।

ইরা মায়ের কাঁধে মাথা রেখে বলল,

— আচ্ছা, আম্মু। তুমি আছ তো, আমি বেশি দুষ্টুমি করব না।

সামির সঙ্গে সঙ্গে বলল,

— এই কথাটা রেকর্ড করে রাখা উচিত!

ইরা একটা কুশন ছুড়ে মারল।

— ভাইয়া, তুমি চুপ করো!

সন্ধ্যায় পুরো পরিবার একসঙ্গে রাতের খাবার খেল। ফারহান কবির সারাদিনের কাজের গল্প করলেন, সামির তার অফিসের মজার ঘটনা শোনাল, আর ইরা স্কুলের কাহিনি বলতে বলতে সবাইকে হাসিয়ে দিল।

এটাই তাদের পরিবারের সবচেয়ে সুন্দর ব্যাপার—ব্যস্ততা যতই থাকুক, একসঙ্গে বসে হাসার সময় তারা ঠিকই বের করে নেয়।

🌙 দিনের শেষ

রাতে পড়ার টেবিলে বসে ইরা বিজ্ঞান বই খুলল।

ঠিক তখনই আলভির মেসেজ এল—

“কালকের হোমওয়ার্ক করেছিস?”

ইরা উত্তর দিল,

“অবশ্যই!”

আলভি লিখল,

“ছবি পাঠা।”

ইরা বইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। হোমওয়ার্কের খাতা তখনও একদম ফাঁকা!

সে সঙ্গে সঙ্গে লিখল,

“দোস্ত, আমার ফোনের চার্জ শেষ। পরে কথা বলি।”

আলভির উত্তর এল,

“মিথ্যাবাদী! তোর ফোনে ৯৮% চার্জ দেখাচ্ছে!”

ইরা হতাশ হয়ে বিছানায় গড়িয়ে পড়ল।

— হায় আল্লাহ! এই মেয়ের হাত থেকে আমাকে বাঁচাও!

তারপর আবার উঠে খাতা খুলে বসল।

কারণ ইরা দুষ্টু হতে পারে, ফাজিল হতে পারে, কিন্তু পড়াশোনায় সে কখনো হাল ছাড়ে না।

আর এভাবেই চলতে থাকে ইরতিজা ইবনাত ইরার হাসি, দুষ্টুমি আর স্বপ্নে ভরা জীবন।

অন্যদিকে, আরশ খান নিজের মতো করে স্কুলের কাজ শেষ করে পরদিনের ক্লাসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি চান, তাঁর ছাত্রছাত্রীরা ভালো মানুষ হয়ে উঠুক এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করুক।

তাদের জীবন এখন আলাদা পথে চলছে—একজন স্কুলের দুষ্টু অথচ মেধাবী ছাত্রী, আর অন্যজন তার দায়িত্বশীল শিক্ষক।

সামনে আসবে আরও মজার দিন, নতুন বন্ধুত্ব, পারিবারিক আনন্দ আর জীবনের নানা সুন্দর অধ্যায়।

চলবে… 💗

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে পর্ব 1 শেষ করেছেন।

উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন